Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪
সাঞ্জেনা শাজ

মেহরাদের চুমুর প্রখরতা আর তীব্র হৃৎস্পন্দনের দরুন উঠানামা করে করছে শুভ্রতার নারীসুলভ দেহের খাজ। শরীর অজানা লাভুডাভুয় অবশ প্রায়। হাত দুটো খামচে ধরে আছে মেহরাদের চওড়া কাধ।
সেদিকে খেয়াল নেই মেহরাদের। প্রথমে যতটা নরম আশ্লেষে শুরু হয়েছিল এ মিলনপল এখন ক্ষনে ক্ষনেই তা তীব্রতর হচ্ছে। মেহরাদের হাত দুটো শুভ্রতার সাড়া পিঠময়ে ব্যাস্ত। নারিদেহের রন্দ্রে রন্দ্রে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠা নারীসত্ত্বার কাছে ক্রমান্যয়েই হেরে যাচ্ছে শুভ্রতা।
মেহরাদের তীব্র আলিঙ্গনের পাশাপাশি তার ছোট্ট দেহখানাও সায় দিতে ব্যাস্ত প্রতিটি আশ্লেষী ছোঁয়ায়। দূর থেকে একটি গাড়ি এগিয়ে আসছে বোধকরি, এই নিরিবিলি জায়গায়। সেই গাড়ির মিউজিক সিস্টেমেই ফুল ভলিউমে বাজছে,,

🎵zara zara mehekta hai,
Zara zara behakta hai,
Aaj toh mera tan badan,
Main pyaasa hoon, mujhe bhar le apni baahon mein…… 🎵🎵🎵
একেই বুঝি বলে আগুনে ঘি ডেলে দেওয়া! অনুভূতিরা যখন তুঙ্গে ঠিক সে সময় কর্কশ শব্দে বেজে উঠলো মেহরাদের মোবাইল ফোনটা। হুশ ফিরলো যেন দু’জনারিই।
অসন্তুষ্ট অভিব্যক্তি নিয়ে মেহরাদ শুভ্রতাকে ছেড়ে মোবাইল হাতে নিবে সেই সুযোগে মেহরাদের কোল থেকে নেমে সিটে গিয়ে বসলো শুভ্রা। লজ্জায় আরক্তিম মুখটা ঘুরিয়ে রাখলো বাইরের দিকে।
নিস্তব্ধ নীরব এক জায়গায় থেমে আছে মেহরাদের গাড়িটা। জানালার কাচ গুলো উঠানো ছিল বিদায় বাইরে থেকে ভিতরের সব কিছু অদৃশ্য ছিল। এযাত্রায় শুভ্রতা গাড়ির কাচ নামিয়ে দিল। আর ফিরে তাকালোনা মেহরাদের দিকে।
মেয়েটা বেশ লজ্জা সংকোচে আছে ভেবে মেহরাদও আর কিছু বললো না। তবে ফোনটাও রিসিভ করলো না। সাইলেন্ট করে ছুড়ে রাখলো এক প্রকার। ফালতু মোবাইল সময় অসময়ে বাজে,বেটা বেদ্দপ!
চোখে তীব্র অসন্তুষ্টি, অতৃপ্তি নিয়ে গাড়ি ঘোড়াল মেহরাদ। শুভ্রতাকে কলেজে পৌছে দিতে হবে আগে। তারপর তার মিটিং এর ব্যাবস্থা।

মেহরাদের গাড়িটা কলেজের সামনে এসে থামলো। ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে হয়তো! ক্যাম্পাস প্রায় খালিই বলা চলা। আর শুরু হবেনা? ঘড়িতে এখন এগারোটা বেজে গিয়েছে। ক্লাস শুরু হয় সেই দশটায়! আর দুটো ক্লাস করতে পাড়বে হয়তো শুভ্রতা।
পিছনের সিট থেকে ব্যগটা টেনে সামনে আনলো শুভ্রতা। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মেহরাদের দিকে তাকালো। তার দিকেই তাকিয়ে মেহরাদ। তাকে তাকাতে দেখে সরু ঘারটা চেপে সামনে আনলো মেহরাদ।
বিরক্ত হলো শুভ্রা।কপালে দুই তিনটে ভাজ ফেললো বিরক্তিতে। সব সময় এমন করে! কথায় কথায় চুল টানবে, এই ঘার চেপে ধরবে, চাপা চুপা চেপে ধরবে। সয়তান লোক একটা!
“চোখ মুখ কুচকালি কেন? হুম? গতকাল রাতের কথা মনে নেই? এইসব চোখ মুখ কুচকানো, মুখ মুচড়ানো আমার সামনে চলবেনা। একদম না। আর চাইলে করতেই পারিস যদি আমার চুমু খেতে মন চায়। এজ ইউর উইশ! আমি এটার জন্য যখন তখন এভেইলেবেল। একচুয়ালি এটা আমার খুবিই প্রিয়। এই যে দেখ…” বলেই আবারও শুভ্রতার ঠোঁটে ঠোঁট ছুয়িয়ে আসলো তড়িৎ বেগে।
শুভ্রতা হতবম্ব! ঘারে চেপে ধরা হাতটাকে সড়াতে চেয়ে বললো,,

“সব সময় এগুলো ঘুরে আপনার মাথায় হে?আপনি একটা… আপনি..একটা….”
“কি আপনি একটা.. ”
“লুইচ্চা..”
“লুইচ্চা, লাফাঙ্গা,পাগলা সব তোর জন্য। এতে কোন খারাপ কিছু দেখছিনা আমি জান। বরং আমি সম্পূর্ণ লুইচ্চা গিরি করার আগেই তুই আমায় এই তকমা দিয়ে দিলি এতে বুকে ব্যাথা হচ্ছে রে খুব। লুইচ্চা গিরিটা সম্পূর্ণ করার প্রয়োজন ছিল!” আফসোসের স্বর মেহরাদের।
শুভ্রতা নিজের হাত দিয়ে মেহরাদের মুখ চেপে ধরলো। চোখ বড় বড় করে বললো,
“আমি ভুল করে বলে ফেলেছি এই শব্দটা। আর আপনি কতো বার বললেন এটা! আপনি তো এমন ছিলেন না আগে মেহরাদ ভাই। ” লজ্জায় হতবাক সে।
এই লোকটা এতটা বেপরোয়া খোলামেলা কথা বলছে তার সাথে এ দু’দিন। আগে কক্ষনো এরকম হয়নি। বরংচ বলা যায়, বিয়ের আগে তাদের এসব প্রেম নিয়ে আদান-প্রদানও হয়নি। হটাৎ এক ধমকা হাওয়ার ন্যায় কি যেনো ভাসিয়ে নিয়ে গেল তাদের কাজি অফিসের দৌর গোড়ায়। সব তখন এলোমেলো অশান্ত। সব যেন আপনা-আপনিই হয়ে গেল! সব স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হয়!
“আগে ভাই ছিলাম, এখন স্বামী। আগে এমন থাকবোনা এটাই স্বাভাবিক! ” ভাবলেশহীন ভাবে বললো মেহরাদ। শুভ্রতার চেপে রাখা হাতটায় বার কয়েক চুমু খেল।
শুভ্রতার হাত শিরশির করছে। লোকটা তাকে সব অবস্থাতেই নাজেহাল করে তোলে। হাত সড়িয়ে নিল সে।
ঘার থেকে হাত সড়াতে বলে উঠলো,

“কলেজে যাবোত, ছাড়ুন। ”
“এভাবেই চলে যাবি হেহ? নিজের দিকে খেয়াল নেই? ”
শুভতা ভ্রু কুচকালো। কিভাবে যাবে সে? প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো মেহরাদের দিকে। মেহরাদ ঘার থেকে হাত সড়িয়ে শুষ্ক ঠোঁট জোড়া ভেজাল। শুভ্রতার প্রশ্নাত্মক চাহনির মধ্যেই হাত বাড়িয়ে ইনারের দৃশ্যমান লাল রঙা ইনারের ফিতাটা ডেকে দিল নিজ হাতে।
শুভ্রতা ছিটকে দূরে সড়ে গেল। কখন ক্রস বেল সড়ে গেছে সে বলতেই পাড়বেনা। মূহুর্তেই মেয়েটা কেপে উঠলো। হৃৎপিণ্ড ধকধক করা শুরু করেছে। এই অনুভূতি এরকম অসহ্যনীয় কেন? এগুলো এমন মাথা চাড়া দিয়ে উঠে কেন উনি সামনে আসলে? উফফ!অসহ্য অনুভূতি একটা!
মেহরাদের পছন্দ হলো না শুভ্রতার এরকম ছিটকে দূরে যাওয়া। গায়ের সিটবেল্ট খুলে শুভ্রতার দিকে এগিয়ে আবারও পা টেনে কাছে আনলো। একেবারে লজ্জায় আড়ষ্ট শুভ্রতার মুখের কাছে গিয়ে হিসহিসিয়ে বললো,
“আমার দেখার জিনিস আমি ঢেকে দিলাম এতেও লজ্জা পাচ্ছিস! তোর এই লজ্জা আমার ভাঙ্গানোর সুযোগ কবে হবে রে শুভ্রা? কবে তোর গায়ের শম্ব্রম আমার হাতে অনাবৃিত হবে? আ’ম এগারলি ওয়েটিং ফর ইট। সো এগারলি….

” বলেই নাকে নাল ঘষলো।
মেহরাদের তপ্ত শ্বাসে শুভ্রতার পুরো মুখশ্রী জ্বলসে যাচ্ছে। চোখের পাতা গুলো তিরতির করে কাপছে। এই মুহূর্তে এখান থেকে না গেলে আরও কিছু হয়ে যেতে পারে। মেহরাদকে আচমকা ধাক্কা দিয়ে ব্যাগ নিয়ে দরজা খুলে বেড়িয়ে গেল শুভ্রা। তবে মেহরাদের ধমকে আবারও থেমে গেল দরজার পাশে বাইরে।
ড্রাইবিং সিট থেকে নামলো মেহরাদ। গায়ে ফর্মাল ড্রেস-আপের শার্টের হাতা ফোল্ড। পায়ে চকচক করা শুজ। হাতে ব্র‍্যন্ডেড ঘড়ি। হাতের বেইনস গুলো উকি দিয়ে আছে। শুভ্রতা এগুলো দেখলেই সব সময় গলে গলে পরে মুমের মতো। মন শুধু বার বার চিৎকার করে বলে উঠে— হাউ ম্যানলি!!
শুভ্রতার হাত ধরে রাস্তা পের করে কলেজের ভিতরে নিয়ে গেল মেহরাদ। শুভ্রতার মুখে এক প্রপ্তির হাসি। একটা মেয়ের আর কি চাই?
ক্যান্টিনের কাছে নিয়ে গেল হাত ধরে। ক্যান্টিন থেকে শুভ্রার পছন্দ মতো স্নেকস কিনে দিলো, পানির বোতল সহ আরও টুকিটাকি কিছু।
রৌদ্রের ঝলকানিতে চোখ গুলো কিছুটা কুচকে রেখেছে মেহরাদ। ঘেমে গিয়েছে ইতিমধ্যে। ওনার আবার রৌদ্রে এলার্জি। সকলের জানা তাদের। হাতের ঘড়ি চেক করলো মেহরাদ। শুভ্রার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“সোহানার ক্লাস শেষ হতে আর কতোক্ষন লাগবে? ”
“এইতো আর মিনিট পাচেকের মতো হয়তো!শেষ প্রায়। আপনি চলে যান। রৌদ্রে সমস্যা হচ্ছে তো আপনার। আপনার মিটিং ওতো ক্যানসেল হয়ে গেলো বোধহয় !”
“আমাকে নিয়ে তোর চিন্তা করতে হবেনা। এখানে একা একা থাকতে হবেনা তোকে। সোহানা আসলেই আমি যাবো। ” শুভ্রতার এক হাত এখনো এক হাতে চেপে ধরা মেহরাদের।
অফিস থেকে কল আসছে বারবার। মিটিং দুটো খুব ইম্পোর্টেন্ট। হোক! তার শুভ্রার থেকে বেশি না! সে শুভ্রতার হাত ধরে হাটতে হাটতে কল এটেন্ড করলো। এক হাতে ফোন চেপে ধরা কানে, আরেহ হাতে শুভ্রার ছোট্ট হাত খানা বন্ধি।
শুভ্রতা পাশাপাশি ছোট্ট ছোট্ট কদমে হাটছে আর চেয়ে চেয়ে দেখছে ফোনে ব্যাস্তরত মেহরাদকে। তার চোখ ভরে উঠতে চাইলো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে এ লোকটাকে চাইবে। শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত চাইবে। সব যুক্তি তর্কের বাইরে গিয়ে চাইবে। বিষয় যদি হয় মেহরাদ ভাইকে ভালোবাসা নিয়ে তাহলে সে নির্বোদ! একেবারেই নির্বোদ! ওনাকে ছাড়া কিচ্ছুই চাইনা তার। কিচ্ছুই না!

** এতো নং সিটি কর্পোরেশনের বর্তমানে মেয়ের পদে আছেন খান বাড়ির একমাত্র উত্তর সুরী ‘রায়হান খান ‘। বছরের পর রাজনৈতিক মাঠে খানদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো। তালুকদার দেরও ছিল একটা সময়। বলা চলে তালুকদার আর খানদের ভালোই রেশ ছিল নিজেদের মধ্যে বিপরীত পক্ষ হতে।
তবে সময়ের তালে তালে তালুকদাররা রাজনীতি ছেড়ে পারিবারিক ব্যবসায় মননিবেশ করলো। তবুও কিছুটা রেষ আছে এখনো রাজনীতিতে। তবে সকলের আগেচড়েই তা। না দেখার মতো।
এই রেশারেশির মধ্যেই যুগ খানিক আগে ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তারপর থেকে সম্পর্কে তিক্ততা আরও বাড়ল। তবে বর্তমানে সময়ের তালে তালে এখন কিছুটা কম। অনেকটাই কম।
মা’য়ের অনুরোধে রায়হান এসেছিল শত ব্যাস্ততা পায়ে ঠেলে তালুজদার বাড়ির দাওয়াত রক্ষার্থে। থেকেও গিয়েছে। কিন্তু এখন আর সম্ভব না। পার্টি অফিসে যেতে হবে তার। ছেলেরা অপেক্ষা করছে তার জন্য।
মা’আর ফুপির সহ বাকি সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে গেল তালুকদার বাড়ি থেকে। শুভ্রতার সাথে দেখা হলো না বলে মনে কিছুটা আক্ষেপ জমলো। মেয়েটা এত্তো আদুরে! যখন ভাসা ভাসা চোখ গুলো দিয়ে তাকিয়ে থাকে কারো দিকে চেয়েই থাকতে মন চায়।
গাড়িয়ে উঠে বসলো রায়হান। মা’য়ের উদ্দেশ্যে বলে গেল ; বিকেলে গাড়ি পাঠিয়ে দিবে সে যেনো চলে যায়। দ্বিমত করলে বাবাকে আর সে মানাতে যাবেনা।
রায়হানের বাবা ‘খলিল খান’ স্ত্রী, ছেলেকে এখানে পাঠাতে নিম রাজি ছিল। মূলত দিতে চায়নি এ বাড়িতে। তাও রায়হান বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিয়ে এসেছে। কারণ, তার মা’য়ের আবার শুভ্রতা খুব আদরের। ফুপিও। তাই সে নিয়ে এসেছে।

“তোর ভাসুর কি বললো রে রিমা রায়হান আর শুভ্রতার বিয়ের বিষয় নিয়ে? ” উদ্ভিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করলো রায়হানের মা রাহেলা বেগম। এই পুতুলের মতো মেয়েটাকে যে সে কবে নিজের কাছে নিয়ে রাখতে পারবে!
বরাবরই মে’য়ের সখ ছিল ওনার। কিন্তু রব সে ইচ্ছে পূরণ করেনি। রায়হান ব্যাতিত আর কোন সন্তানের জননী হতে পারেনি সে।
“কি বলবে ভাবি। আবার এড়িয়ে গিয়েছে। বলেছে শুভ্রতার পরিক্ষার পর আলোচনা করবে। ”
“সে-কি! আমি তোর ভাইকে বলে এসেছি এ বিষয়ে কথা বলে যাবো তোর সাথে। এখন কি বলবো গিয়ে বলতো! আচ্ছা থাক! কিছু একটা বলবো নে ম্যানেজ করে। কিন্তু বাগদানটা হয়ে গেলে ভালো হতো। জমানাতো ভালো না। মেয়েটা যদি কাউকে মন টন দিয়ে বসে তখন?” চিন্তিত হয়ে বললেন তিনি।

“ও আবার কাকে মন দিবে ভাবি! কি যে বলোনা। তুমি চিন্তা করোনা। শুভ্রতার বাবা আসলে পাকা কথা সাড়য়ে নেব এবার যেকোনো মূল্যেই। ভাইকে থাকতে বলবে কিন্তু সবকিছুতে। ”
“থাকবে থাকবে। খুব খুশি হবে তোর ভাই দেখে নিস। ”
তাদের কথার মাঝখানেই জাহানারা বেগম আর সুরাইয়া বেগম আসলেন ড্রয়িং রুমে। তাদের সাথে বসে আলাপ আলোচনায় যোগ দিলেন। জাহানারা বেগমের উদ্দেশ্যে রাহেলা বেগম বললেন,
“মেহরাদের জন্য মেয়ে টেয়ে দেখছেন না ভাবি? ছেলেটার তো ভালোই বয়স হয়েছে। ”
সুরাইয়া বেগমের কথা শুনে হতাশার শ্বাস ফেললেন জাহানারা বেগম। হতাশার সুরে বললেন,
“সে আর বলতে ভাবি! ছেলেটাকে আরও বছর দু’এক আগে থেকেই বলে আসছি বিয়ের জন্য ছেলে কোন রা’মাত করে না। বিয়ের নাম শুনলেই নাক কারে তুলে রাখে। যেনো অখাদ্যই না তাকে পরিবেশন করছি। ”

“কাউকে পছন্দ টছন্দ আছে কি-না জিজ্ঞেস করে দেখতেন। ”
“করিয়েছি আপা। মেয়ের জামাইকে দিয়ে করিয়েছি। আমাদের রোজার হাসবেন্ড জাবের তো মেহরাদেরিই বন্ধু। দু’জনকে দিয়েই বার কয়েক জিজ্ঞেস করিয়েছি। ছেলে না-কি ধমকে ধামকে থামিয়ে দিয়েছে। আর কি করা যায় বলেন আপা!” একরাশ আফসোস তার কন্ঠে।

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩

মানুষের বাড়ির ছেলেদের দেখে দাড়ি মুছ না গজাতেই বিয়ে বিয়ে করে পাগল হয়ে যায়। আর তার আরেক হয়েছে! বিয়ের জন্য বলে বলেও রাজি করানো যায়না। কি জ্বালা! কি মসিবত!
এরপর বিয়ের টপিক চেঞ্জ করে কথা রেলগাড়ীর মতো চলতে চলতে এদিক থেকে কতো দিক গেলো হিসেব নেই।

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৫