Home হৃৎস্পন্দন হৃৎস্পন্দন পর্ব ৮

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৮

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৮
সাঞ্জেনা শাজ

জুম্মার দিন সকলে মসজিদ থেকে সালাত আদায় করে বাড়ি আসলো। মেহরাদের গায়ে সাদা পাঞ্জাবি। সালাত শেষ করে আসতে আসতে পাঞ্জাবির হাতা ফোল্ড করে নিয়েছে। সাদা পাঞ্জাবিতে পুরুষটিকে যেন আরো সুদর্শন লাগছে।
সকলে এসে ড্রয়িং রুমে বসলো। সাথে শাফিও আছে। তালুকদার বাড়ির চার পুরুষ সদস্য একসাথে, শায়ন তালুকদার বাদে। আস্তে আস্তে বাড়ির গিন্নিরাও নেমে আসলো একে একে। খাবার খেতে বসবে সকলে একসাথে। তারা চলে গেলেন ডাইনিং এর কাছে খাবার পরিবেশনের জন্য।
সোহানা, শুভ্রতা নামলো উরে উরে এক প্রকার। এদের খুশির শেষ নেই। খাবার সেড়েই রেডি হতে চলে যাবে। বিকেলে তাদের নিয়ে বের হবে বলেছে মেহরাদ ভাই। The Westin Dhaka -তে যাবে তারা। একটু ঘুরাঘুরি, ফটোগ্রাফি ব্যাপারটা জমে যাবে একদম। সোহানা তো কতো ঝল্পনা কল্পনা সেড়ে ফেলেছে ইতিমধ্যে, শুভ্রতাও তাই।
তারা এসে বাবা আর ভাইদের সাথে সোফাতেই বসলো। যদিও শুভ্রতার মধ্যে কিছুটা আড়ষ্টভাব রয়েছে। সে আড়চোখে মেহরাদ ভাইকে দেখছে আর চোখ সড়িয়ে নিচ্ছে। লোকটাকে সব কিছুতেও এত্তো ভালো লাগে। শুভ্রতা ক্ষনে ক্ষনে ডুবে মরে।

“যাওয়ার সময় এসিটেন্ট রুবেলকে নিয়ে যেও সাথে করে। যাবে তো ও? ” আলতাফ তালুকদার জিজ্ঞেস করলেন মেহরাদকে।
“হুম। ওখানেই প্রেজেন্ট থাকবে ও। ”
“আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি মিটিং এ থাকাকালীন ও না-হয় ওদের দিকে খেয়াল রাখতে পারবে। ”
“উঁহু, তার প্রয়োজন নেই। আদনান কে আসতে বলেছি। ও থাকবে, এটাই এনাফ। রুবেলকে মিটিং এ প্রয়োজন।”
‘ আদনান শেখ ‘ মেহরাদের বন্ধু। সেইসাথে তালুকদার বাড়ির সাথে শেখ বাড়ির সম্পর্কও বেশ ভালো। পাশাপাশিই বাড়িই। সকলেরই চেনাজানা আগে থেকে।
মাথা নাড়ালেন আলতাফ তালুকদার। ছেলেটা আগে থেকেই সব ঠিক করে রাখে। এবার কি বলবেন তিনি?তার যে গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলার আছে। আকরাম সাহেব বুঝলেন ভাইয়ের উসখুস করতে থাকা আচরণের কারণ। তিনিই মেহরাদের উদ্দেশ্যে বললেন,,

“মিস্টার চৌধুরী ওনার মেয়ের জন্য প্রপোজাল রেখেছিল। মিটিং এর সাথে বিষয়টা একটু খেয়াল রাখলে পারতে!”
কপালে ভাজ ফেলে বাবা আর চাচার দিকে তাকালো মেহরাদ। মেঝো চাচা ঠিক কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে সে বুঝতে পেরেছে। আর বুঝতে পেরেই অপর সোফায় বসে থাকা শুভ্রতার দিকে তাকালো। যে সোহানার সাথে কথা বলায় ব্যাস্ত। এদিকে তার খেয়াল নেই।
“ইটস নট পসিবল চাচ্চু। প্রফেশনালিজমের বাইরে আমি আর কিচ্ছুর দিকে নাজার আন্দাজ করবো না। এইরকম বিষয়ে তো নেবার। ইটস সো ওকয়ার্ডিং বাবা। তোমার উনাকে ফার্স্টেই ডিরেক্ট না করার উচিৎ ছিল।” গম্ভীর ভারী স্বরে বললো মেহরাদ।
আলতাফ তালুকদার, আকরাম তালুকদার দু’জনাই তেতো নিশ্বাস ফেললো। ছেলেটা কি বিয়ে টিয়ে করবেনা? সন্যাসী হবে? আকরাম তালুকদার এবার ভিতরের তেতো ভাবটা কথায় ঢেলে দিলেন,,

“তুমি কি এ বিষয়ে কিছু ভাববে না? বয়স বাড়ছে না-কি কমছে তোমার?নিজের কোন পছন্দ থাকলেও তো বলছো না! আশ্চর্যকর তোমার কাজকারবার দেখছি। ”
ওনাদের এ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় এবার নজর গেল সোহানা আর শুভ্রতার। শেষের কথায় তেমন কিছু বুঝলো না। উৎসুক হয়ে তাকিয়ে রইলো তাদের দিকে।
মেহরাদ শুভ্রতার চাহনি ধরতে পেরেছে। কিন্তু তাকায়নি ওর দিকে। কোন দিকেই তাকায়নি। বসা থেকে উঠতে উঠতে ভাবলেশহীন ভাবে বললো,,
“পছন্দ সম্পর্কে জানতে পারলে আরও আশ্চর্য হবে। সো যেটা যেভাবে আছে সেভাবেই থাকতে দাও আপাতত। আমার সময়ে আমি জানিয়ে দিবো। ”
চলে গেল ড্রয়িং রুমে ছেড়ে মেহরাদ। ভ্রু কুচকে বাকি দুই তালুকদার তাকিয়ে রইলো মেহরাদের দিকে। ছেলেটা কি বলে গেল!
সোহানাও কিছু বুঝলো না। কিন্তু শুভ্রতা কাঠ হয়ে হয়ে বসে রইলো, নড়াচড়া হীন। আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের কথা মনে পড়লেই তার সব আনন্দ, খুশি সব কিছুতে ভাটা পড়ে যায়। দুমড়ে মুচড়ে যায় অন্তস্তল। অন্তস্তল থেকে ধ্বনিত হয় –আপনাকে ছেড়ে আমি কি নিয়ে বাচবো মেহরাদ ভাই? আমি তো যতদিন বাচবো আপনাই-ই ভালোবেসে যাবো।

সকলে রেডি হয়ে বসে আছে ড্রয়িং রুমে। শুভ্রতা এখনো আসেনি। মেহরাদও গিয়েছে গাড়ি বের করতে ওঁদেরও আসতে বলেছে। কিন্তু শুভ্রতার জন্য বসে আছে তারা।
শুভ্রতা নিচে নামলো তড়িঘড়ি করে। তার লেট হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। মেহরাদ ভাই রেগে ফায়ার হয়ে যেতে পারে এর বেশি দেরি হলে। তার-ই বা কি দোষ! সে একবার রেডি হয়েছিলো, কালো রঙা কুর্তি পড়ে। কিন্তু মেহরাদ ভাইয়ের রুমে উকি দিয়ে দেখলো উনি সাদা শার্ট পড়েছে আজ। তাই-ই তো সে-ও আবার দৌড়ে গিয়ে খুযে খুজে সাদা কুর্তি টা বের করে পড়ে এসেছে। ঘুরতে যাওয়ার চেয়েও মেহরাদ ভাইয়ের সাথে মেচিং ড্রেস পড়তে পেরে তার আকাশে উরতে মন চাচ্ছে।
সোহানা ভ্রু কুচকে তাকালো শুভ্রতার দিকে। মেয়েটাকে শুভ্র ফুলের মতোই সুন্দর লাগছে। কিন্তু আপাতত এসবে সে ধ্যায়ান দিলোনা। সে মেয়েটাকে বলেছিল তাদের মতো কালো ড্রেস পড়তে। আর এটা কি করে এসেছে?ধবধবে সাদা পড়ে এসেছে। সে কিছুটা চেচিয়েই বললো,
“শুভ্রতার বাচ্চা এতক্ষণ লেট করে এই ধবধইব্বা সাদা জামা পড়ে আসছোস? তুকে না কালো ড্রেসের কথা বলে দিলাম! এই কি আমি আর আপু পড়েছি। তুর টা তো মিললো না। ”
শুভ্রতা সিড়ি বেয়ে নেমে আমতা আমতা করলো। সে কি বলবে এখন! শান্তা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে মুচকি মুচকি হাসছে। সে বুঝে গিয়েছে শুভ্রতা মেহরাদ ভাইয়ের সাথে মেচ করে পড়ে এসেছে। সে হাসি বন্ধ করে সোহানাকে সামলালো,,

“এই না রে, শুভ্রতা ভালো করেছে। আমরা দু’জন কালো পড়েছি, ভাইয়া আর শুভ্রতা সাদা পড়েছে এটাই ভালো হয়েছে। দু’জন দু’জন মিল থাকবে। ”
তাদের কথার মাঝখানেই বাহিরে গাড়ির হর্ন বেজে উঠলো। শাফি এসে মন খারাপ করে বললো,
“তোমরা এখনো যাচ্ছো না কেন?আমি হলে ভাইয়ার আগেই গাড়িতে উঠে বসে থাকতাম। ”
বেচারার পেটে একটু গড়বড় দেখা দিয়েছে। তাই ব্যাটা যেতে পারছেনা। এ দুঃখে সে খুবিই দুঃখীত। শান্তা, শুভ্র‍তা এসে শাফির মাথায় হাত ভুলিয়ে দিল। বললো –সে আসার আগ পর্যন্ত রুমে থেকে লেপটপটা এনে দেখতে। মন খারাপ না করতে। তারা আসতে খাবার প্যাক করে নিয়ে আসবে। মেহরাদ ভাই আগেই বলেছে সকলের পছন্দ মতো খাবার নিয়ে আসবে।
গাড়ির কাছে যেতে যেতে শান্তা সোহানাকে টেনে তার দিকে নিয়ে আসলো। সে সোহানাকে নিয়ে আগে বাগেই পিছনে উঠে বসে পড়ল। শুভ্রতার উদ্দেশ্যে বললো,,

“শুভ্রতা তুই সামনে বসে পর। আমরা পিছনে বসে গিয়েছি। তুকে আর পিছিনে আসতে হবেনা। ”
বুক ধুকপুক নিয়ে শুভ্রতা এগিয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো মেহরাদের পাশে। মেহরাদের চোখে সানগ্লাস, কানে ব্লুটুথ সেট করা অলরেডি। এক হাত হুইলে চাপা যে হাতে চকচক করা ঘড়িটা। শুভ্রতা ডিপডিপ করা হৃদয় নিয়ে মেহরাদের দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। তাকাতেই তার মন আরও বেচেইন হলো। লোকটাযে তো ভালো লাগে কেন?এই ভালো লাগার শেষ কোথায়? এ মানুষটার প্রতি তার মুগ্ধতা আদও শেষ হবার?
মেহরাদ শুভ্রতার দিকে ঘার ঘুরিয়ে তাকালো। চশমার আড়ালেও শুভ্রতার মুগ্ধতায় ভরা ভাসা ভাসা চোখ গুলো দেখল। তার মনে হয় একটা হার্টবিট মিস হলো! মেয়েটার চোখে তার জন্য মুগ্ধতা দেখলে তার হৃৎস্পন্দন থমকে যায় সবসময়। মেয়েটার না বলা কথা গুলো সবসময় চোখে ফুটিয়ে দেয়। তাকে পাগল করে। নেশাগ্রস্তদের মতো উন্মাদ করে তুলে।
ঘার ঘুরিয়ে নিল মেহরাদ, গাড়ি স্টার্ট দিল। পিছন থেকে সোহানা বলে উঠলো,,
“ভাইয়া মিউজিক দেই?”
“ওকে৷ ”
মোবাইল থেকে গান প্লে করে দিল সোহানা। স্লো ভলিউমে সফ্ট মিউজিক প্লে করে দিল । তার এখন ইনজয়েবল লাগছে খুব। খুব এক্সাইটেড সে।

হোটেলে পৌছে তারা দেখলো মেহরাদের এসিটেন্ট রুবেল দাঁড়িয়ে আছে বাহিরে তাদের জন্য। সে আগেই রিজার্ভেশন দিয়ে রেখেছিল। মিস আয়রা আসেনি এখনো।
গাড়ি পার্ক করে এক সাথে সকলে নেমে গেল গাড়ি থেকে। রুবেল তাদের নিয়ে গেল রিজার্ভড করা টেবিলে। এর একটু দূরেই আরেকটা টেবিল রিজার্ভড করা মিটিংয়ের জন্য। মেহরাদিই বলে দিয়েছে কাছাকাছি করার জন্য।
“আমার কি কোন ওয়ার্নিং দেওয়ার প্রয়োজন আছে সোহানা? শুড আই?” নির্দিষ্ট জায়গায় ওদের বসিয়ে জিজ্ঞেস করলো মেহরাদ। সে জানে এখানে সবচেয়ে বেশি তাফাল্লিং করা মেয়ে সোহানা। এ মেয়েটা শুভ্রতাকেও ছাড়িয়ে। তাই-ই ওয়ার্ন করা।
আনত মুখে ভাইকে না করলো সোহানা। সে কি বেশিই দুষ্ট, যে এখানেও দুষ্টুমি করবে?তবে কয়েকটা ফটোগ্রাফি করবে সুন্দর সুন্দর। এতে বাধা দিলেও সে মানবেনা।
হাতের ঘড়ি দেখলো মেহরাদ। এসিটেন্ট রুবেলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,,

“ইজ মিস আয়রা হিয়ার? ”
“নো স্যার। ”
“ওকেই। ওয়েটারকে ডাকুন। ”
ওয়েটার আসলে সকলের পছন্দ মতো খাবার অর্ডার দিয়ে দিল মেহরাদ। শুভ্রতার ঝালে সমস্যা তবুও মেয়েটা স্পাইসি খাবারের জন্য আবদার করে বসেছে। মেহরাদ অপূর্ন রাখলো না তা। সামান্য চোখ পাকিয়ে তার সাথে আইস্ক্রিমেরও অর্ডার দিয়ে দিলো।
শান্তা চেয়ে চেয়ে দেখছে তার মেহরাদ ভাইকে। ভাই হিসেবে মেহরাদ ভাই তাদের কাছে নিজের ভাইয়ের চেয়েও বেশি ক্যায়ারিং লাভিং। কিন্তু এখন? শুভ্রতার জন্য এজ এ হাসবেন্ড! ডেমন প্রোটেক্টিব, সো মাচ ক্যায়ারিং। এই যে শুভ্রতার সামনের পানির বোতলের কেপ টা খুলে দিয়ে বোতলটা এগিয়ে দিল। সেই সাথে চোখ হুশিয়ারি লুক দিয়ে হাত থেকে মোবাইলটা কেড়ে নিল। শুভ্রতা মোবাইল ঘাটতে নিয়েছিল।

মিস আয়রা আসতে আরও মিনিট দশেক লাগলো। ততক্ষণে মেহরাদের বন্ধু আদনান এসে পড়েছে। যেহেতু সকলের সাথে আগের থেকেই ভালো করে পরিচিত তাই তারা বসে বসে এটা সেটার আলাপ করছে।
তবে সোহানার অবস্থা ভিন্ন। কপালে কয়েক স্তরের রেখা। এই লোককে ভাইয়া কেন আসতে বলেছে? বিনা কারনেই কেন যেন তার এ লোকটাকে পছন্দ না। বাড়িতে গেলেও সে মিনিটে দশবার মুখ ঝামটা দিয়ে দিতো। এখন আবার এখানে হাজির! সব জ্বালা জ্বালা তারিই মনে হচ্ছে এ দুনিয়ায়। আশ্চর্য!!
হিলের খট খট আওয়াজে এগিয়ে আসলো এক রমনী। এসে থামলো মেহরাদের বরাবর। গায়ে এক সুন্দর শাড়ির অবস্থান হয়েছে। দেখতে যথেষ্ট সুন্দর। মুখে সাবলীল হাসি। ‘হ্যালো মি. তাশদীদ মেহরাদ তালুকদার ‘ বলে হাত বাড়িয়ে দিল রমনী।
মেহরাদ হেন্ড শেক করলো, জাস্ট সেকেন্ডের জন্য। তার এটা পছন্দ হয়নি। তবুও করতে হলো, প্রফেশনালিজম।

“প্লিজ বি সিটেব মিস আয়রা। আ’ম কামিং। ”
রুবেলকে ইশারায় অন্য টেবিলে নিয়ে যেতে বললো মেহরাদ। এসিস্ট্যান্ট রুবেলও তাই করলো। আদনানের কাছে ওদের দায়িত্ব দিয়ে মিটিং এর উদ্দেশ্যে গেল মেহরাদ।
এদিকে চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়ে রয়েছে শুভ্রতা। মেয়েটার সাথে হাত মিলানো তার হৃদয়ে দহনের হলাকা লাগিয়ে দিয়ে গেছে। তার মধ্যে ঘি ডাললো সোহানা। উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বললো,,

“আরেহ উনি তো বেশ সুন্দর। বড় বাবা ওনার কথাই বলেছিল মনে হয় তখন শুভ্রতা! ”
“কিসের কথা সোহানা?” শান্তা জিজ্ঞেস করলো।
“ওনার বাবা প্রপোজাল দিয়েছে ভাইয়া আর ওনার বিয়ের। আমি তখন বুঝিনি বুঝলা আপু। পরে রান্নাঘড়ে গিয়ে শুনি বড় মা আর মা কথা বলছে এ বিষয়ে। তখন জানলাম। আমার কিন্তু ভাবি হিসেবে বেশ পছন্দ হয়েছে রে। ”
শুভ্রতার মন এক আকাশ বিষাদে ছেয়ে গেল। ভিতরে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা দহনের সাথে গলা চেপে আসলো। লোকটা কতো সাবলীল সুন্দর ভাবে হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে মেয়েটার সাথে। মেয়েটাও হেসে হেসে কথা বলছে। মুখে লাজুক লাজুক হাসি। এটা মিটিং কম ডেট মনে হচ্ছে বেশি তার কাছে। তার চোখের সামনে তার প্রিয়তম পুরুষের। তার হাসবেন্ডের।

শুভ্রতার বুকের দহন চোখ পর্যন্ত পৌছে গেল। চোখে জ্বালা পোড়া শুরু হয়ে গেল। শান্তা দেখলো শুভ্রতার থমকে যাওয়া। স্থীর চাহনি সামনের টেবিলের দিকে। সে বুঝলো শুভ্রতার ভিতরের অবস্থা। মৃদু স্বরে শুভ্রতাকে ডেকলো।
হুশ ফিরে শুভ্রতার। নিচের দিকে তাকায় সাথে সাথে। দু ফোটা চোখের পানি গড়িয়ে পরে টুপ করে। মাথাটা ঝুকিয়ে নেয় আরেকটু। তাদের বিয়েটা যদি পরিবার না মানে, ভেঙে দিতে বাধ্য করে। তখন কি সে মেহরাদ ভাইকে এরকম ভাবেই অন্য নারীর সাথে দেখবে? সে বাচতে পাড়বে এর পর? কক্ষনো না, কক্ষনো না!
গলা ধরে আসছে তার। ঢকঢক করে বোতল থেকে পানি খেল। কিন্তু নিজেকে স্বাভাবিক করতে পারছেনা। সে জানে এগুলো তার আজেবাজে চিন্তা ভাবনা। এরকমটা কক্ষনো হবেনা। মেহরাদ ভাই করতে দিবেনা। কিন্তু সে মানতে পারছেনা। মনসাপটে বার বার ভাসছে এগুলো।
মিটিংয়ের পাশাপাশি শুভ্রতাদের দিকে তাকাচ্ছে মেহরাদ। শুভ্রতার মাথা নুয়িয়ে রাখা দেখে কিঞ্চিৎ ভ্রু কুচকালো। কি হলো মেয়েটার?

“মি: মেহরাদ, আই থিংক আপনি জানেন আমাদের মিটিং এর পিছনে আরেকটা রিজন আছে? ” আয়রা জিজ্ঞেস করলো স্বগতোক্ত স্বরে।
সম্পূর্ণ নাম -আয়রা আয়মান চৌধুরী। বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করে নিজেদের কোম্পানিতে জয়েন করেছে। মা বাবার আহ্লাদী হওয়ায় কোন কিছুতেই তেমন বাধা নেই তার। এই যে তালুকদার বাড়ির বড় ছেলেটাকে তার পছন্দ হয়েছে সেই কবেই। পাপাকে জানাতে সাথে সাথেই প্রপোজাল রেখেছিল তালুকদার নিবাসে। এখন পরবর্তী বিষয়াদি দেখার বিষয়। তার আবার নীতি খারাপ, যা তার ভালো লাগে ছলে বলে কৌশলেও লাগবে। মানে লাগবেইইই।
শুভ্রতার নাক ফুলে ফেঁপে উঠছে। আর সহ্য করতে পারছেনা সে এ মেয়ের হাসি হাসি কথাবার্তা। মস্তিষ্ক যেন কিলবিল করছে। রাগান্বিত লাল মুখশ্রী নিয়ে সে তাকিয়ে রইলো সেই টেবিলের দিকে। হাতে থাকা পানির বোতল টা চিরা চ্যাপ্টা হচ্ছে।

শুভ্রতার তাকিয়ে থাকার মধ্যেই আবারও তাকালো মেহরাদ। চোখাচোখি হলো দু’জনার। সাথে সাথেই অদ্ভুত এক বেচেইনি গ্রাস করে নিল মেহরাদের অন্তস্তল। মেয়েটার চোখ মুখ এরকম রক্তিম হয়ে আছে কেন?
আঙুল দ্বারা নাক চুলকালো একটূ মেহরাদ। সে বোধহয় বুঝতে পেরেছে শুভ্রতার এ চাহনির কারণ। একটু চাপা হেসে ডানে বামে মাথা নাড়াল মন্থন গতিতে। সামনে বসে থাকা রমনীর দিকে না তাকিয়েই উঠে দাড়িয়ে বললো,,
“এক্সকিউজ মি। জাস্ট ওয়াট এ মিনিট। ” কোন প্রতিউত্তর শোনার আগেই শুভ্রাদের টেবিলের দিকে এগুলো। কিন্তু মেহরাদকে আসতে দেখে শুভ্রতা চট করে উঠে দাড়ালো। হাতে চিরা চ্যাপ্টা হওয়া বোতলটা এখনো অবস্থিত। কাউকে কিছু না বলেই ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৭

শান্তা বোকার মতো তাকিয়ে দেখল। মেহরাদ আসছে দেখে মেহরাদকে কিছু বলবে তার আগেই মেহরাদ শুভ্রতার পিছু পিছু, যেতে যেতে বললো,,
“আমি ওঁকে দেখছি। ম্যানেজ হেয়ার। ”

হৃৎস্পন্দন পর্ব ৯