Home হ্যালো 2441139 হ্যালো 2441139 পর্ব ৩১

হ্যালো 2441139 পর্ব ৩১

হ্যালো 2441139 পর্ব ৩১
রাজিয়া রহমান

বিমানবন্দরে রজনী এর আগেও অনেক বার এসেছে। কখনো তার ভাগ্য হয় নি ভেতরে প্রবেশ করার।ডোমেস্টিক ফ্লাইটে আজকে তারা কক্সবাজার যাচ্ছে।
রজনীর বুকের ভেতর কেমন যেনো লাগে। বিয়ের পর সিরাজুল ইসলাম হানিমুনে তাকে নিয়ে কক্সবাজার যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।
রজনী তখন সদ্য বিবাহিতা।
রজনীগন্ধার মতো সুন্দরী রজনী। মনে মনে হাজারটা প্ল্যান করে ফেলেছে। সমুদ্রের পাড়ে শাড়ি পরে স্বামীর হাত ধরে হাটবে।

বিচে বসে দুজন মিলে বাদাম খাবে।রজনী বাদামের খোসা ছাড়িয়ে দিবে।সমুদ্রের বুকে সূর্যটা কিভাবে মিলিয়ে যায় দুই চোখ ভরে সেই বিদায়ের দৃশ্য দেখবে।
দুজন মিলে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার করবে।
কতো কতো স্বপ্ন ছিলো দুই চোখে।
বুকের ভেতর যেনো হাজারটা ফানুশ উড়ছিলো।কিংবা হাজারটা প্রজাপতি মন বাগানে খুশির গান গাইছে।
রাতে রজনী ব্যাগপত্র সব গুছিয়ে নিলো।সকালের ট্রেনে তার চট্টগ্রাম যাবে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে শিরিন, শিরিনের হাজব্যান্ড,তারিন তিন জনেই তৈরি হয়ে আছে ব্যাগপত্র গুছিয়ে।
তারিনের তখনও বিয়ে হয় নি।
মহুয়া বেগম সিরাজুল ইসলামকে নির্দেশ দিলেন তাদের ও সাথে নিয়ে যেতে।
মা ভক্ত সিরাজুল ইসলাম অমত করতে পারলেন না।রজনী তখনও বুঝতে পারলো না সমস্যাটা।
কিন্তু সমস্যা শুরু হলো যখন কক্সবাজার পৌঁছায়।
হোটেল রুম বুক করা হলো তিনটা।
যেতে যেতে রাত হয়ে যায়।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

রাতে তারিন এসে ভাইয়ের কাছে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো।সে একা কিভাবে ঘুমাবে এরকম হোটেল রুমে?
নিরাপত্তা কি?মা তাকে বলে দিয়েছে ভাবীর সাথে ঘুমাতে।সে একা ঘুমাবে না।
রজনী শুকনো মুখে স্বামীর দিকে তাকায়।
সিরাজুল ইসলাম সাথে সাথে বললেন,”অসুবিধা নেই।তুই আর তোর ভাবী এখানে ঘুমা,আমি ওই রুমে ঘুমাবো।”
সারারাত রজনীর দুই চোখ জ্বলছিলো।কাঁদে নি রজনী মোটেও।সে বুঝে গিয়েছিলো মহুয়া বেগম তাকে এভাবেই ক্ষত-বিক্ষত করে যাবেন।
কক্সবাজারের তিন দিন রজনীর সময় কেটেছে তারিনকে পাহারা দিতে দিতে।তারিন বিচে চলে যায় হুটহাট, রজনীকে পাহারাদারের মতো তার পাশেপাশে থাকতে হয়। তারিন সাঁতার জানে না।
সে সমুদ্রে নেমে যায়।

রজনী তাই চোখে চোখে রাখে।
সিরাজুল ইসলাম হোটেল রুমে বসে টিভি দেখেন সর্বক্ষণ।
রজনীর আর সমুদ্র বিলাস করা হলো না,বিচে বসে সূর্যাস্ত দেখা হলো না,শাড়ি পরে সমুদ্রের পাড়ে হাটা হলো না।
যতটা স্বপ্ন নিয়ে রজনী কক্সবাজার এসেছিলো ততটা ক্ষত নিয়ে বাড়ি ফিরে।
বছর কয়েক পর আবারও সিরাজুল ইসলাম স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার যাবেন বলে জানান সবাইকে।
তখন মিরাজুল ইসলাম ও বিয়ে করেছেন।
মহুয়া বেগম বললেন, তিনি ও যাবেন।সমুদ্র দেখতে ইচ্ছে করছে তার ও।
রজনীকে বললো তার ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিতে।
রজনীর বুকে পাহাড় চেপে বসে।
মহুয়া বেগম গেলে তাকে ২৪ ঘন্টা তার আশেপাশে থাকা লাগবে।তিনি হোটেলের খাবার খাবেন না।
রজনীকে তার জন্য আলাদা রান্না করতে হবে।
রজনী উঠে বললো, সে যাবে না।তার শরীর ভালো লাগছে না।রজনী যাবে না বলায় মহুয়া বেগম বললেন তিনি ও যাবেন না।

সিরাজুল ইসলাম রজনী আর মহুয়া বেগম ছাড়া পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে গেলেন।
আজ বহু বছর পর অতীতের স্মৃতি মনে পড়ে রজনীর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো।
অথচ আজকে আর আগের মতো সেই অনুভূতি নেই।
সমুদ্র দেখার আকুলতা নেই।
বুকের ভেতর হাজার প্রজাপতির উড়াউড়ি নেই।অথচ এখন ডিস্টার্ব করার কেউ নেই।
কেনো যখন সময় থাকে তখন পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে না?
কেনো সময় চলে গেলে সব পাওয়া যায়?
তখন কি মনের সেই আনন্দ থাকে?

সিরাজুল ইসলাম রজনীর হাত ধরে হাটছেন।অথচ রজনীর মন আজ একটুও আন্দোলিত হচ্ছে না।
লজ্জায়,আবেশে কান লাল হয়ে যাচ্ছে না।
অথচ একটা সময় ছিলো চাতক পাখির মতো প্রতীক্ষা করতো কখন সিরাজুল ইসলাম তার হাত ধরবে।
মহুয়া বেগমের রুমে জরুরি সভা বসেছে।শিরিন,নিরা,মিরা,মিনি,নার্গিস সবাই উপস্থিত। মহুয়া বেগমের মুখ থমথমে। তেমনই থমথমে নার্গিসের মুখ।
নার্গিস শুরুতেই বলে উঠলো,”আমি সারাদিন এতো রান্নাবান্না করতে পারবো না।সবার এতো রকম ফুটফরমাশ আমি শুনতে পারবো না।রান্নাবান্না বড় আপা করবেন। ঝুনি এগিয়ে দিবে সবকিছু। ”
শিরিন আর্তনাদ করে বললো, “শুনলেন আম্মা?আপনার ছোট ছেলের বউ কি বলছে শুনছেন আপনি? আমি কি রান্না করমু?আমি জমিদার বংশের মেয়ে। কামের মেয়ে না আমি।ছোট বংশের মাইয়ার সাহস কতো আমারে রানতে বলে?”

নার্গিস চটলো না।সে জানে,তাকে দিয়ে কেউ কিছু করাতে পারবে না।
তাই ঠান্ডা গলায় বললো, “আমার যা বলার বলে দিছি।আমি রান্নাঘরের কোনো কাজ করতে পারবো না।লাগলে আমার পোলাপানের জন্য হোটেল থেকে খাবার আনবো।”
মহুয়া বেগম বললেন, “বাড়িতে যে এতো অতিথি, তারা?”
“আমার দিকের যারা তাদের জন্য আমি খাবার এনে দিবো।সবার চিন্তা তো আমার না আম্মা।”
মহুয়া বেগম কি বলবেন বুঝতে পারছেন না।ছোট ছেলেকে বলে লাভ বিশেষ হবে না।
মহুয়া বেগম নার্গিসকে উদ্দেশ্য করে বললো, “তুমি এতো স্বার্থপর কবে হলে?”
নার্গিস হাসে।আজ আর রাগ হয় না তার। মিষ্টি হেসে বললো, “আম্মা,আমি কিন্তু শুরুতে এরকম ছিলাম না।বরং নিচু পরিবার থেকে বউ হয়ে এসেছি,সবসময় হীনমন্য ছিলাম।আপনি আমাকে শিখিয়েছেন এসব।আপনি আমাকে বুঝিয়েছেন আমি ছোট বউ,আমার কোনো কাজ করতে হবে না।সবসময় বড় ভাবীর নামে আমার কানে বিষ ঢেলেছেন।আমাকে হাতে কলমে আপনি এরকম করেছেন সবার অলক্ষ্যে। এমনকি আপনার ছেলেরেও।আমি চাইলেই আপনার ছেলেকে বলতে পারি আপনি যে আমাকে এসব শিখিয়েছেন।”
মহুয়া বেগম আর কথা বাড়ান না।

শিরিন বললো, “আম্মা,আপনি বড় ভাইদের সবাইরে এই বাড়ি থেকে বের করে দেন।আপনার অনুমতি ছাড়া ওরা এরকম সিদ্ধান্ত নেয় কিভাবে!”
মহুয়া বেগম বিরক্ত হলেন মেয়ের কথায়।
রজনী নেই এখনো ২৪ ঘন্টা হয় নি,এখনই তিনি এরকম বিপদে পড়েছেন,রজনীকে এই বাড়ি থেকে বের করে দিলে তিনি নিনেই তো ভাতে মরবেন।
রাতের বেলা নার্গিস সত্যি সত্যি নির্জনকে দিয়ে হোটেল থেকে খাবার আনিয়ে নিলো।মহুয়া বেগম রুমে বসে শুনতে পেলেন সেই খবর।
শিরিন এসে জানিয়ে গেছে। রাগে শিরিন কাঁপছে।

মা’কে এসে বললো, “তোমার ছোট ছেলের বউ যে একটা আস্ত বেয়াদব মেয়ে তুমি জানো?ও হোটেল থেকে তেহারি নিয়ে আসছে শুধু ওদের জন্য। ভালো না লাগলেও বলতে হচ্ছে, বড় ভাবী তো কোনো দিন এরকম কিছু করে নি মা।আমরা সবাই রাতে কি খাবো সেই চিন্তা একবার ও করে নি উনি।”
নিরা বললো, “মা,ওরা তেহারি এনেছে আমরা কাচ্চি আনবো।তুমি টাকা দাও।”
শিরিন টাকা বের করে দিলো।
মহুয়া বেগম অবাক হয়ে দেখলেন কিছুক্ষণ পর নিরা চার প্যাকেট কাচ্চি নিয়ে এসেছে।
নার্গিস যে রান্না করবে না মহুয়া বেগম জানেন।নিজের মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বললেন,”বাড়িতে যে এতো অতিথি, ওরা কি খাবে?নার্গিস রানতাছে না তাই তুই ও রানবি না?”
“মা,আমি এতো মানুষের জন্য রান্নাবান্না করতে পারবো না। আমি এই বাড়ির মেয়ে,কাজের লোক না।এরকম হলে আমি আমার শ্বশুর বাড়ি চলে যামু।এতো মানুষের কাজ আমি করতে পারবো না।”
মহুয়া বেগম অথৈ জলে পড়লেন।

তার নিজের খাবার দাবারে অনেক রকম বিধিনিষেধ আছে।সব খাবার তিনি খান না সবসময়।
অনেক অনেক দিন পর বুকের ভেতর কেমন অপরাধবোধ জন্ম নিচ্ছে তার?
রজনীকে কষ্ট দেওয়ার জন্য তিনি সবসময় নার্গিসকে ব্যবহার করেছেন। দুই বউকে সবসময় প্রতিপক্ষ বানিয়ে রেখেছেন।
আজ দেখেন, তিনি আসলে সবার প্রতিপক্ষ হয়ে গেছেন।
প্রায় ত্রিশ / বত্রিশ বছর পর মহুয়া বেগম রান্না করতে এলেন।
আজ এতো অসহায় লাগছে তার।দিনশেষে তার পাশে কেউ নেই।

পিয়াসা জড়সড় হয়ে বসে আছে আষাঢ়ের পাশে।কেমন দমবন্ধ অনুভূতি হচ্ছে তার। এই লোকটার থেকে সে দূরে দূরে থাকতে চায়।অথচ ভাগ্য তাকে বারবার কেনো কাছাকাছি নিয়ে আসে।
অনেকটা সময় পর আষাঢ় গাড়ি থামায় একটা রেস্টুরেন্টের সামনে।মা যেহেতু বাড়িতে নেই,পিয়াসাকে দেখে রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আষাঢ়ের নিজের।
আষাঢ় গাড়ি থেকে নেম পিয়াসাকে গাড়ির দরজা খুলে দিলো।
আষাঢ়ের সাথে পিয়াসার কিছুতেই খেতে ইচ্ছে করছে না।
এই লোকটাকে সে ভীষণ ভাবে অপছন্দ করে।
রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই কয়েকটা টেবিল থেকে ১০/১২টা মেয়ে ছুটে আসলো।পিয়াসাকে ঠেলেঠুলে সরিয়ে দিয়ে সবাই মিলে আষাঢ়কে ঘিরে ধরলো।

সবার ধাক্কাধাক্কিতে পিয়াসা দরজার সামনে চলে গেলো।
ভাইয়া একটা সেলফি বলে মৌমাছির মতো ঘিরে ধরলো সবাই আষাঢ়কে।
এদিক ওদিক তাকিয়ে আষাঢ় পিয়াসাকে না খুঁজে পেয়ে সবাইকে সরিয়ে বললো, “প্লিজ,আমার কইতরকে আগে ভেতরে আসতে দিন।”
পিয়াসার হাত ধরে আষাঢ় ভেতরে নিয়ে আসলো।লজ্জায় পিয়াসা মাথা নিচু করে ভেতরে এলো।তারপর একটা চেয়ার টেনে পিয়াসাকে বসিয়ে দিলো আষাঢ়।
পুরো ব্যাপারটা ভিডিও করে কেউ একজন ফেসবুকে আপলোড করে দিলো।
ক্যাপশন ছিলো, “অবশেষে সবার ফেভারিট আষাঢ় ভাইয়ার প্রিয়তমার দেখা পাওয়া গেলো।”
খাওয়া দাওয়া করে বাসায় ফেরার পথে পিয়াসা ফেসবুকে ঢুকে।
ফেসবুকে ঢুকে পিয়াসার হার্টবিট বেড়ে গেলো।

এই ভিডিওটা ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে পিয়াসার চেহারা স্পষ্ট না।
পিয়াসা নিজের বুকের ধুকপুকানি নিজে শুনতে পাচ্ছে। চকিতে আষাঢ়ের দিকে তাকায় পিয়াসা।আষাঢ় ড্রাইভিং এ ব্যস্ত।
পিয়াসার হুট করেই কেমন হাসি পাচ্ছে । এই বন্যটাকে সে ভালোবাসতে যাবে কিসের জন্য!
তাছাড়া এই লোক আগে থেকেই তো এনগেজড।
বাসায় ফিরতে বেশি রাত হলো না।আষাঢ় পুরো পথ আর পিয়াসার সাথে কথা বলে নি।রেস্টুরেন্ট থেকেই পিয়াসা কেমন মুখ কালো করে আছে।

তার জন্য পিয়াসা বিব্রত হবে এটা সে কখনোই চায় না।
বাসায় ফিরে পিয়াসা দেখলো রান্নাঘর থেকে শব্দ আসছে।আজকে তো রজনী আন্টি নেই।কে রান্না করছে!
কৌতূহলী হয়ে পিয়াসা এগিয়ে যায় রান্নাঘরের দিকে।
রান্নাঘরে ঢুকেই পিয়াসা চমকে উঠে। দাদী রান্না করছে!
পিয়াসার কেমন মায়া লাগে বয়স্ক মানুষটার জন্য।
এই যে কাঁপা কাঁপা হাতে বটিতে আলু কুটছেন তিনি।চুলায় মাছ ভাজতে দিয়েছেন। মাছ পুড়ে যাচ্ছে তার কোনো হুঁশ নেই।
পিয়াসা এগিয়ে গিয়ে চুলে বন্ধ করে দেয়।রান্নাবান্নার কাজ মা কখনো তাকে শেখায় নি।কখনো সুযোগ হয় নি পিয়াসার ওভাবে শেখার।

একটা চামচ দিয়ে পিয়াসা মাছ উল্টে দিয়ে চুলা অন করে দিলো।
তারপর মহুয়া বেগমের সামনে বসে বললো, “দাদী,আমি করি?আমি কিন্তু পারি না,আমাকে মা কখনো শেখায় নি এসব।আমার শিখতে ইচ্ছে করছে। আপনি আমাকে একটু দেখিয়ে দেন,আমি করে দিই আপনাকে।”
মহুয়া বেগমের মনে হলো এ জীবনে আপন আসলে কে?
নিজের মেয়ে,নাতনি,পুত্রবধূ কেউ-ই তো একবার উঁকি দিয়ে দেখতে এলো না।অথচ অচেনা এই মেয়েটা যাকে তিনি চরম অপছন্দ করেন সে এগিয়ে এলো তাকে সাহায্য করতে।
সময় বদলানোর সাথে সাথে কি একটা সময় গিয়ে আপন পরের সজ্ঞা ও বদলে যায়!
চেনা মানুষ এভাবেই দূরে চলে যায়?
মহুয়া বেগমের সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে।আজকে তার খাওয়া হয় নি ভালো করে। রজনী থাকলে এতো অনিয়ম হতো না।নিজের মেয়ে ও খেয়াল করে নি তার মা যে সকাল থেকে না খাওয়া।
পিয়াসা মহুয়া বেগমের গা কাঁপতে দেখে এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে। তাকে কোনো মতে ধরে নিয়ে সোফায় বসিয়ে দেয়।

কাকে ডাকবে খুঁজে পায় না পিয়াসা।
সবার রুমের দরজা বন্ধ। রজনী আন্টি যাওয়ার সাথে সাথে এই বাড়ির কোলাহল ও যেনো হারিয়ে গেছে নিমিষেই!
পিয়াসা ছুটে যায় আষাঢ়ের রুমে।
এই রুমে পিয়াসা না আসলেও চিনে।
রুমের ভেজানো দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পিয়াসা।
বাহিরে থেকে ফিরে আষাঢ় গোসল করলো।খালি গায়ে একটা তোয়ালে পড়ে বের হয়ে আলমারিতে নিজের টি-শার্ট খুঁজছে।পিয়াসা এসে পড়ে সেই মুহূর্তে।
পিয়াসাকে দেখে আষাঢ় আপন মনে বললো, “অবশেষে কইতর তার খোপে এলো!ওয়েলকাম কইতর।”
পিয়াসা ভ্রু কুঁচকে বললো, “কি বলছেন এসব?কইতর পালতে পালতে কি মাথা হ্যাং হয়ে গেছে না-কি! আমি কইতর না,মানুষ। পিয়াসা আমি।”

আষাঢ় হেসে বললো, “আমার রুমে হঠাৎ কি মনে করে! আমাকে মিস করছিলে?”
“আপনার মতো বন্য কাউকে আমি মিস করতে যাবো কোন দুঃখে?”
আষাঢ় পিয়াসার হাত টেনে নিজের কাছে টেনে আনে।পিয়াসার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো, “কোনো একদিন যদি এই বন্য মানুষটাকেই জীবন তোমার করে দেয়?”
পিয়াসা ধাক্কা দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নিতে চায়।আষাঢ় খুব শক্ত করে ধরে আছে।পিয়াসা নিজেকে এক চুল ও সরাতে পারে না।

আষাঢ় হেসে বললো, “বৃথা চেষ্টা করো না আমার রঙিলা কইতর,এই খোপে একবার যখন ধরা দিয়েছো,আজীবনের জন্য আর ছাড়বো না আমি।আষাঢ় যাকে চায়,তাকে নিজের করে রেখে দেয়।”
পিয়াসার কেমন নিশ্বাস আটকে আসছে।এই লোকটা এমন ঝাপটে ধরে আছে কেনো তাকে?
“আমাকে ছাড়ুন প্লিজ,আমার দমবন্ধ লাগছে।”

হ্যালো 2441139 পর্ব ৩০

“ছাড়ার জন্য তো ধরি নি।তুমি নিজে যখন ধরা দিয়েছো আমি তো ছাড়বো না।”
পিয়াসা কাঁদো কাঁদো গলায় বললো, “আমি ইচ্ছে করে আসি নি এখানে।বিশ্বাস করুন দাদী কেমন করছে।তাই এসেছি আপনাকে ডাকতে।”
আষাঢ় হেসে ফেলে পিয়াসার ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে।

হ্যালো 2441139 পর্ব ৩২