Home হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২১

হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২১

হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২১
সাবা খান

ঘন আঁধার রাতে চারদিক নিগূঢ় নিস্তব্ধ। শুধু দেখা যাচ্ছে দূরের আকাশে মেঘের স্তূপ, আর মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ক্ষীণ ঝলকানি। আর এই অন্ধকারের বুক চিরে একটা হেলিকপ্টার ছুটে চলছে দ্রুত গতিতে। তার প্রপেলারের শব্দ নিস্তব্ধ রাতটাকেও ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। হেলিকপ্টারের ভেতরে অদ্ভুত এক ভারী নীরবতা। সেই নীরবতার মাঝখানে বসে আছে ঈশানী। তার সামনে টিস্যুর বক্সটা প্রায় খালি। একটার পর একটা টিস্যু ব্যবহার করতে করতে শেষ করে ফেলেছে সে। তবুও তার কান্না থামছে না। চোখ দুটো লাল হয়ে ফুলে গেছে, নাক টানছে বারবার, ঠোঁট কাঁপছে। ঈশানী মাথা হেলিয়ে জানালার দিকে তাকায় নজরে পড়ে বাইরে শুধু অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না সাথে অদূরে ড্যাসেলটা দাউদাউ করে জ্বলছে। এদিকে রমণী মনে মনে নিজের জীবনের হিসাব মিলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, মস্তিষ্কে একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে,

“আমার জীবনে আসলে আছে কে?”
পরমুহূর্তেই সে নিজেই নিজের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে। মা বাবা? নাহ, ছোটবেলাতেই তো হারিয়ে ফেলেছে তাদের। তার বাবার মুখটা পর্যন্ত ঠিকমতো মনে নেই। কখনো কখনো চেষ্টা করে মনে করার কিন্তু স্মৃতিটা ঝাপসা হয়ে যায়। তারপর ভাই, নাহ তার ভাই ও তাকে ছেড়ে চলে গেছে। ভাইয়ের কুকীর্তি গুলো শুনে সে বহু চেষ্টা করেছে ভাইকে ঘৃণা করার কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। আর আরজে তো তার কোনদিনও হয়নি। একটার পর একটা মানুষ তার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। সে ফিসফিস করে নিজের মনেই বলে,
–“সবাই চলে যায়, সবাই…..”
তার চোখ থেকে আবারো জল গড়িয়ে পড়ে। রওনাকের কথা মনে পড়তেই তার বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। মনে মনে ফের আওড়ায়,

–“আমি ভেবেছিলাম, একটা বন্ধু পেয়েছি। কেউ তো আছে, আমার পাশে।
তার গলা আটকে আসছে কান্নায়। তারপরও ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
–“কিন্তু সেও….”
রমণী বাক্য শেষ করতে পারল না। সে মাথা নিচু করে ফেলে। তার হাত দুটো কাঁপছে। একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মনে মনে হিসাব করতে থাকে জীবনের প্রাপ্তি? একটা শূন্যতা যেন তার ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে,
–“আমার কিছুই নেই, একদম কিছুই….”
কিন্তু হঠাৎ কিছু একটা ভেবে সে থেমে যায়। পরমুহূর্তে ঠোঁটে হালকা হাসি টেনে বলে,
–“না…না, শূন্য কিভাবে হবে?

আরভি আছে, সানা আছে, এসপি আছে, ওরা তো আছে, ওরাই তো আমার সব”
কিন্তু পরমুহূর্তেই সেই হাসিটা মিলিয়ে যায়। আবারও চাপা কান্নায় ভেঙে পড়ে রমণী।
কিন্তু রমণীর এদিকে কোন খেয়ালই নেই যে, এই পুরো সময়টাতে তার পাশের সিটে বসে থাকা মানব নীরবে তাকিয়ে আছে তার দিকে একদৃষ্টিতে। সে আর কেউ না রিজভী।রিজভীর চোখে অদ্ভুত একটা দৃষ্টি। কঠিন আবার কোথাও যেন নরমও। সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তারপর কিছু একটা ভেবে হঠাৎ মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ভিতর থেকে একটা বিরক্তির শ্বাস বেড়িয়ে আসে। মনে মনে নিজেকেই নিজে গালি দেয়,

–“ধুর… কেন তাকাচ্ছি আমি…”
–“রিজভী কেন তুই নিজেকে সামলাতে পারিস না?”
তার চোয়াল শক্ত হয়ে আসে, সে জানে তার এভাবে তাকানো উচিত না। কিন্তু অবাধ্য চোখ আবার চলে যায় পাশে বসা মানবীর দিকে। তার অশ্রু, তার ভাঙা মুখ, তার একাকীত্ব, সবকিছু তার চোখে পড়ছে। রিজভী চোখ বন্ধ করে হারিয়ে যায় পুরনো স্মৃতিগুলোতে। প্রথম কাতারেই পড়ে,

“থার্ড পার্সন” শব্দটা যেন তার মাথায় হাতুড়ির মতো আঘাত করে। সে এই জিনিসটাকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে, প্রচণ্ডভাবে। কেননা সে নিজের চোখে দেখেছে, একটা তৃতীয় মানুষের কারণে কিভাবে একটা পরিবার ভেঙে যায়। তার বাবার মুখটা ভেসে ওঠে, তার মা, তাদের ঝগড়া, প্রতিদিনের চিৎকার, অভিযোগ সব। রিজভী তখন টিনএজের ছিল। সে মা বাবার মধ্যে কোন কথা বলতো না। শুধু দূর থেকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। তার বাবা শুরুতে এমন ছিল না। তারা দুজনেই একই ভার্সিটিতে পড়ে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। কিন্তু জীবনের শেষ সময়টাতে ইকবাল জাওয়ানের সংস্পর্শে এসে সব পাল্টে গেছে। তার বাবা আলভী তুৎমিশ জড়িয়ে পড়ে পরকীয়া নামক ব্যাধিতে। রিজভীর শ্বাস ভারী হয়ে যায়। সে মনে মনে নিজেকেই বলে,

“আমি কখনো কারো জীবনের তৃতীয় মানুষ হব না, কখনো না”
তার আঙুল মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যায়। যেদিন প্রথম সে ঈশানীর চোখে আরজের জন্য সেই অনুভূতিটা দেখেছিল সেদিনই সে বুঝে গিয়েছিল, এখানে তার কোনো জায়গা নেই। সেদিন থেকেই সে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল। চুপচাপ দূরে সরে গিয়েছিল। তারপর যখন সে দেখল রওনাকের চোখেও সেই একই অনুভূতি
ঈশানীর জন্য তখন সে আরো দূরে সরে যায়
পুরোপুরি ভাবে। আর সাথে মনে মনে নিজেকে বুঝায়,

–“আমি কোনোদিন তৃতীয় মানুষ হব না। আমি কারো ভালোবাসার মাঝে ঢুকব না।আমি সেই ভুলটা করব না, যেটা আমার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে”
রিজভী একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চোখ খুলে আবার তাকায় ঈশানীর দিকে। বিপরীতে সে এখনো কাঁদছে। রিজভীর বুকের ভেতর কিছু একটা নড়ে ওঠে। একটা অদ্ভুত টান যেটাকে সে সবসময় চাপা দিয়ে রেখেছে। সে নিজেই বিরক্ত হয়ে যায় নিজের ওপর। সে মাথা নিচু করে জোর করে নিজেকে সংবরণ করে তারপরও চোখজোড়া যেন অবাধ্য হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
কিয়ৎক্ষণের নীরবতা শেষে রিজভী নিজের ভেতরের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে ধীরে ধীরে নিজের হাতটা বাড়িয়ে খুব আলতো করে ঈশানীর মাথায় হাত রাখে। বিপরীতে রমণী একটু চমকে উঠে তাকায় তার দিকে। চোখ দুটো ভেজা, লাল, অশ্রু জমে আছে এখনও।তাকাতেই নিঃশব্দে তার চোখের কোণা থেকে আরেক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে। রিজভীর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। সে আর কিছু না ভেবে অন্য হাতটা তুলে আলতো করে মুছে দেয় সেই জল। সান্ত্বনার সুরে আওড়ায়,

–“সবাই সবকিছু পায় না, ঈশা। এই দুনিয়ায় কেউই পুরোটা পায় না”
সে একটু থেমে রমণীর চোখে চোখ গেঁথে বলে,
–“সবকিছু যদি সবার জীবনে থাকত, তাহলে স্রষ্টার দরকারই পড়ত না। আমরা চাইতাম না, প্রার্থনা করতাম না, আশা করতাম না। অপূর্ণতা না থাকলে, মানুষ মানুষই থাকত না। এই কষ্টগুলো, এই হারিয়ে ফেলা, এগুলোই আমাদের মানুষ বানায়”
এতক্ষণ ধরে কাদতে থাকা এবার ঈশানী চুপ করে যায়। তার কান্না থেমে গেছে। রিজভী ফের বলে,
–“তুমি ভাবছো তোমার কেউই নেই। যারা তোমাকে ছেড়ে গেছে, তারা তোমার ছিলই না হয়তো। কিন্তু যারা এখনও আছে…”
সে একটু ঝুঁকে এসে বলে,

–“ওরাই আসল, ওদের জন্যই তোমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, ভেঙে পড়লে চলবে না। কারণ তুমি একা না, তুমি কখনোই একা ছিলে না”
ঈশানীর চোখ আবার ভিজে ওঠে। সে ধীরে ধীরে বলে,
–“কিন্তু কেন সবসময় আমার সাথেই এমন হয়?
আমি কি এতটাই খারাপ?
যাদের আমি নিজের ভাবি, তারা কেন চলে যায়?
আমি ক্লান্ত, রিজভী ভাই, খুব ক্লান্ত, আর পারছি না। সবকিছু ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে।কিছুই ভালো লাগে না”
রিজভী একটু সামনে ঝুঁকে নরম কণ্ঠে শুধালো,

–“এই যে তুমি এখনও কাঁদছো এটাও একটা শক্তি। যারা ভেঙে পড়েও কাঁদতে পারে তারা আবার দাঁড়াতে পারে। যারা একেবারে অনুভূতিহীন হয়ে যায় তারাই আসলে হারিয়ে যায়”
তার প্রতুত্তরে রমণী আর কিছু না বলে চুপচাপ ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়ে জানলার বাইরে তাকায়। বাইরে এখনো অন্ধকার। দুই দিনের ক্লান্তি, মানসিক চাপ, কান্না সব মিলে তার শরীর আর টিকতে পারছে না। ধীরে ধীরে সে জানলার পাশে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কিয়ৎকাল পরেই নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়ে। রিজভী এখনো একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে একটু নড়ে বসে মনে মনে একবার ভাবে কাঁধটা এগিয়ে দেবে পরমুহূর্তেই আবারও ভাবে নাহ, থাক।তার মাথায় আবারও সেই প্রশ্নটা আসে,
“আমি কি থার্ড পার্সন?
নাহ, আমি তো কারো কাছ থেকে ওকে কেড়ে নিচ্ছি না। তাহলে…”
এই ভেবে রিজভী আলগোছে আস্তে ঈশানীর মাথাটা তার কাঁধে রাখে। তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা মৃদু হাসি ফুটে ওঠে। হেলিকপ্টারটা তখনও ছুটে চলছে ব্ল্যাক ম্যানশনের দিকে।

বঙ্গোপসাগরের কালো জলরাশি গভীর রাতের অন্ধকারে আরও ভয়ংকর, আরও রহস্যময় হয়ে ওঠেছে। আর সেই অন্ধকারের বুক চিরে তিনটি কালো হেলিকপ্টার ছুটে চলছে ব্ল্যাক ম্যানশনের দিকে। মাঝের হেলিকপ্টারটায় পিছনের সিটে বসে আছে আরজে তার কোলে ঘুমন্ত আরভি। ছেলেটার ছোট্ট মুখটা শান্ত, দুদিনের আতঙ্ক আর ক্লান্তির পর এ যেন একটুখানি নিরাপত্তা। আরজের এক হাত শক্ত করে জড়িয়ে আছে তাকে। তার চোখ বন্ধ মাথা সিটে ঠেকানো। কিন্তু হঠাৎ সে ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকায় পাশের রমণীর দিকে। সানা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। আরজে একবার নিজের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হেসে প্রশ্ন করে,

–“বাই দ্য ওয়ে, তুমি এখানে কিভাবে এসেছো?'”
প্রশ্ন টা শুনতেই সানা চমকে উঠে। মনে মনে ভাবে, সে কীভাবে বলবে সে আরজের ঘড়িতে ট্যাকার লাগিয়েছে। তাই গলা খাঁকারি দিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে বলে,
–“ইয়ে.. মানে.. কিভাবে আর, গুগল ম্যাপ দেখে এসেছি”
আরজে অবাক হওয়ার ভান করে বলে,
–“গুগল ম্যাপ! বাহ, আজকাল গুগল ম্যাপে হাসবেন্ডের লোকেশনও থাকে?”
–“আরে যেখানে কিম জনের লোকেশন যেখানে থাকে সেখানে আপনি কে?”
–“আচ্ছা তো ম্যাডাম আপনার সেই গুগল লোকেশন চেক করে যদি বলতেন শেখ হাসিনা কোথায় আছে তাহলে দেশ বড়ই উপকৃত হতো”
বিপরীতে রমণী তার দিকে বিরক্তি মাখা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দন্ত চেপে বলে,
–“সানা যার তার উপকার করে না। তবে হ্যাঁ, কোটি টাকা দিলে অন্য কথা। তখন শুধু হাসিনা না, বঙ্গবন্ধুর লোকেশন বলে দিতে পারি”
এই বলে রমণী মুখ ঘুরিয়ে আবার বাহিরে তাকায়। আরজে হঠাৎ গলা খাঁকারি দেয় হাতের ঘড়িটা ঠিক করতে করতে শান্তভাবে বলে,

–“নেক্সট টাইম যদি লোকেশন ট্র্যাকার লাগাতে হয়, তাহলে ঘড়িতে নয়….”
সানা তড়াক করে তার দিকে তাকায়। আরজে নির্লিপ্ত কণ্ঠে চালিয়ে যায়,
–“ওটা খুব কমন জায়গা, দুই-তিন সেকেন্ডেই ধরা পড়ে যায়। অন্য কোথাও লাগালে, হয়তো দুই তিন মিনিট সময় লাগত, ম্যাডাম”
সানা তেরচা চোখে তাকিয়ে ভাবে, তার মানে এই লোক জানতো। তারপরও তার সাথে নাটক করছে এতক্ষণ। সানা কিছু একটা ভেবে জিজ্ঞেস করে,
–“আপনি আপনার মায়ের খবর জানেন?”
আরজে সরু চোখে রমনীর দিকে তাকায়। সানা তার মায়ের খবর জিজ্ঞেস করছে, এটা তার বিশ্বাস হচ্ছে না। আর এই দুই দিন সে ছেলের পিছনে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে কারো কোন খবরই রাখেনি। তাই ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করে,
–“কেন, কি হয়েছে মমের?”
প্রত্যুত্তরে রমণী ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে জানলার দিকে তাকিয়ে বলে,
–“গেলেই দেখতে পারবেন?”

“জাওয়ান ম্যানশনের বেজমেন্ট” উপরের রাজকীয় প্রাসাদের নিচে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার নরকের মতো। লম্বা করিডোর, অন্ধকারে ডুবে থাকা, মাঝে মাঝে লাল রঙের ডিম লাইট ঝিকমিক করছে। ইন্টারপোল অফিসাররা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিটা কক্ষের দিকে, এগুলোর ভিতরে কি আছে তা দেখার জন্য। সিতারা তাদেরকে প্রতিটা দরজার পাসওয়ার্ড দিয়ে দিয়েছে।
প্রথম দরজায় পাসওয়ার্ড দিতে দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে যায়। আর ভেতরে ঢুকতেই সবাই থমকে যায় সামনের দৃশ্য দেখে। সবার চোয়াল ঝুলে পড়ার উপক্রম কেননা সামনের দেওয়ালে লেখা,
“সাইলেন্ট চেম্বার”
ঘরের মাঝখানে একটা চেয়ার দুলছে মৃদুভাবে আর সেই চেয়ারের সাথে বাঁধা একটা মানুষের কঙ্কালসার দেহ, মুখটা শুকিয়ে গেছে, ঠোঁট ফেটে র*ক্ত শুকিয়ে লেগে আছে। চারপাশে দেয়ালে সাউন্ডপ্রুফ প্যাডিং। একজন অফিসার ফিসফিস করে বলে,

–“মনে হচ্ছে, এখানে চিৎকার করলেও কেউ শুনত না”
চেয়ারের পাশে একটা স্ক্রিন জ্বলজ্বল করছে,
যেখানে ইংরেজিতে লেখা, “চব্বিশ ঘণ্টার সাইলেন্স এক্সপেরিমেন্ট”
মানে এখানে এই চেয়ারে কাউকে টর্চার করা হতো কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত সে কোন রকমের শব্দ করতে পারবে না। তারা প্রমান নিয়ে তড়িঘড়ি করে তার পরের কক্ষে চলে যায়।
দরজা খুলতেই আলো ঝলসে ওঠে। সবাই চোখ হাত দিয়ে ঢেকে ফেলে তারপর ধীরে ধীরে সেই আলো কমে আসে। নজরে আসে মেঝেতে পড়ে থাকা কয়েকটা পোড়া দাগ। মাঝখানে লোহার বেড, তার সাথে সংযুক্ত অসংখ্য তার। আর বেডের মাঝখানে একটা ডামি নয়, সত্যিকারের মানুষকে বেঁধে রাখা এখানে। মেশিনটা এখনো অন। একজন অফিসার এগিয়ে গিয়ে সুইচ বন্ধ করতে গিয়ে হাত কাঁপিয়ে ফেলে। তারা চারপাশে তাকাতেই চোখে পড়ে দেয়ালে লেখা, “ইলেকট্রো শক ইউনিট”

মানে এখানে এই বেডে মানুষ কে আটকে রেখে শরীরে ইলেকট্রনিক শট দিয়ে তাদের ব্যাথা সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হতো। নিঃসন্দেহে এটা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হতো। তারপরের কক্ষের দরজাতেই লেখা, ‘ফ্রিজিং সেল” দরজা খুলতেই ঠান্ডা বাতাস বেড়িয়ে আসে ভেতর থেকে। ভেতরে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে। মেঝেতে বরফের উপর পড়ে আছে কয়েকটা জমাট বাঁধা দেহ। চোখ দুটো খোলা যেন মৃত্যুর আগে শেষ আতঙ্ক এখনো জমে আছে সেখানে। একজন অফিসার পিছিয়ে ফিসফিস করে,
–“এগুলো কোন মানুষের কাজ হতেই পারে না”

এই কক্ষে মানুষকে আটকে রাখা হতো তারা কতটা ঠান্ডা সহ্য করতে পারে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেটা দেখার জন্য। এগুলো সোফিয়ার একটা অদ্ভুত সখ ছিল। তারপরের রুমটার উপরে লেখা, “হাঙ্গার পিট” ভিতরে একটা গগভীর গর্তের মতো। ইন্টারপোল অফিসাররা সাবধানে এগিয়ে যায়। তাদের সাথে ক্যামেরার টিম। তারা ক্যামেরা নিচে ঝুম করতেই নজরে আসে নিচে কয়েকটা হাড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কোণায় একটা ক্যামেরা লাগানো। কক্ষের এককোনায় সেই ক্যামেরার ভিডিও চলছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন মানুষকে দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা হচ্ছে। শেষে সে নিজেই নিজের হাত কামড়ে খেতে শুরু করে। একজন অফিসার আর সহ্য করতে না পেরে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

তারা একে একে যত গুলো রুম খুলছে তত অবাক হচ্ছে। এগিলো কোন মানুষের কাজ বলে তাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তার মধ্যে একটা কক্ষ এমন যেখানে চারদিকেই আয়না। মাঝখানে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো মানুষকে। চারপাশে স্পিকার লাগানো। যেখান থেকে বাজতো বিকৃত কণ্ঠস্বর, অপমান, গালি। যাতে তাদের
মানসিক ভাবে ভাঙতে পারে। দেয়ালে নখের আঁচড়, হয়তো কেউ বের হতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। এই কক্ষে তালহাকেও আনা হয়েছিল। এমন অগণিত কক্ষ রয়েছে এখানে। তবে শেষ দরজাটা খুলতেই সবচেয়ে বেশি চমকে উঠে। কেননা কক্ষে ছোট ছোট বিছানা, মেঝেতে খেলনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিন্তু খেলনার পাশে শিকল। দেয়ালে আঁকা বাঁকা কাঁপা কাঁপা হাতের দাগ, হয়তো কোনো বাচ্চা হয়তো সাহায্য চাইছিল। এরপর তারা এগিয়ে যায় আরও ভেতরে, ডার্ক সেল গিলোর দিকে।

এখানে আলো আরও কম, শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। ভেতরে ঢুকতেই নজরে পড়ে কতগুলো ডাক্তার এখনো গবেষণা ও পরীক্ষায় ব্যস্ত। হয়তো তারা এখনো জানে না রেইড পড়েছে। কীভাবে জানবে, তারা তো এখান থেকে বের হয় না বললেই চলে। তালহা ঐদিন এই ডাক্তারের টিমের সাথেই ভিতরে প্রবেশ করেছিল। তাদের সাথে সাইনটিস্ট ও আছে যারা বিভিন্ন গবেষণায় লেগে আছে।
অফিসাররা নিঃশব্দে সম্পূর্ণ বিষয় টা ক্যামেরা বন্দী করে ফেলে, মানুষকে বেঁধে রেখে তাদের মাথায় ইলেকট্রোড লাগানো, ব্রেনের উপর পরীক্ষা চলছে। একটা স্ক্রিনে গ্রাফ উঠছে নামছে। একজন বিজ্ঞানী হঠাৎ অফিসার দের দেখা মাত্রই পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক টা দেরি হয়ে গেছে। ইন্টারপোল অফিসাররা চারদিক থেকে বন্দুক তাক করে সবাইকে গ্রেফতার করে ফেলে। শেষে তারা পৌঁছায় এই কক্ষ টার পাশের কক্ষে, যেটা সোফিয়ার ব্যক্তিগত গবেষণাগার।

দরজা খুলতেই সব অফিসাররা মুহূর্তে জমে যায়। কেননা ভেতরে যা চলছে, তা কোনো স্বাভাবিক জগতের কিছু না। কাঁচের কেসের ভেতরে বাচ্চারা, তাদের শরীরে ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে
“ম্যানবিস্ট ড্রাগ”
সোফিয়া এখানে এটা পরীক্ষা করে দেখছে, কেন মানুষ এই ড্রাগস টা জন্মের সাথে সাথে নিতে পারবে না?
কেন এটাকে পাঁচ বছর পর নিতে হয়। তাই বারবার ভিতরের ক্যামিকেল পাল্টে তাদের উপর এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছে। যার কারণে কিছু বাচ্চার শরীর বিকৃত হয়ে গেছে, কারো শিরা ফুলে উঠেছে, কারো চোখ রক্তলাল, কারো মুখ কুঁচকে গেছে, কারো মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। একজন মহিলা অফিসার আর দাঁড়াতে না পেরে সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। ভিতরে কয়েকজন ডক্টর ছিল সবাই কে হাতকড়া পড়ানো হয়। এক কোণে একটা কম্পিউটার সেটআপ, যেখানে বসে সোফিয়া সব রেজাল্ট দেখত। ইন্টারপোলের টেক টিম এগিয়ে এসে এটাকে চলু করে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে,

“ম্যানবিস্ট প্রজেক্ট, গ্লোবাল নেটওয়ার্ক”
এদিকে এই সব কিছু রেকর্ডিং হচ্ছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া গুলোর ক্যামেরায়। মিসেস দিলরুবা খানম জানতেন, এই দেশের মিডিয়া গুলো সোফিয়ার হাতে তাই তারা তার বিরুদ্ধে কোন নিউজ করবে না। এজন্য তিনি ইন্টারন্যাশনাল টিমের সাথে মিডিয়াও পাঠিয়েছে। চারদিকে ক্যামেরার লাল আলো জ্বলছে। লাইভ সম্প্রচার চলছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। একজন বিদেশি সাংবাদিকদের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে আছে। তার পিছনে, ভয়ংকর সব দৃশ্য, মানুষের আর্তনাদ, স্ট্রেচারে পড়ে থাকা বিকৃত শরীর, কাঁচের ভেতরে সংরক্ষিত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, সে একবার ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে একটা ফাঁকা ঢুক গিলে ইংরেজিতে আওড়ায়,

–“দিস… দিস ইজ বিয়ন্ড এনিথিং আই হ্যাভ এভার সিন ইন মাই এনটাইয়ার ক্যারিয়ার। আ’ম স্ট্রাগলিং টু ইভেন ফাইন্ড ওয়ার্ডস টু ডিসক্রাইব হোয়াট ইজ হ্যাপেনিং হিয়ার। সোফিয়া জাওয়ান নোন টু এভরিওয়ান অ্যাজ আ সিম্বল অফ হিউম্যানিটি, বাট ইন রিয়েলিটি শি ইজ নট জাস্ট ডেঞ্জারাস, শি ইজ সামথিং ফার ওর্স।
(এটা…এটা আমার পুরো ক্যারিয়ারে দেখা যেকোনো কিছুর থেকেও অনেক ভয়ংকর। আমি শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না এখানে কী হচ্ছে সেটা বর্ণনা করার জন্য। সোফিয়া জাওয়ান যাকে সবাই মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে চেনে, কিন্তু আসলে সে শুধু বিপজ্জনক না সে তার থেকেও ভয়ংকর কিছু)
সাংবাদিক এত দক্ষ হয়েও আজ কথা বলতে তার গলা কাঁপছে। সে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে একটু থেমে ফের বলে,
–“শি ইজ নট জাস্ট এ সাইকোপ্যাথ,
আই রিপিট, শি ইজ নট জাস্ট এ সাইকোপ্যাথ। আই ক্যাননট… আই সিম্পলি ক্যাননট ডিসক্রাইব দিস ইন ওয়ার্ডস, হোয়াট ইজ শি?”

(সে শুধু একজন সাইকোপ্যাথ না, আমি আবার বলছি, সে শুধু একজন সাইকোপ্যাথ না। আমি কোনোভাবেই এটা শব্দে প্রকাশ করতে পারছি না, সে কি। আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে সে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছে, পশুর মতো। তারা মানুষের শরীরে পশুর ডিএনএ ঢুকিয়েছে, তাদের ভিতরের মানবতা ধ্বংস করে দিয়েছে। এই বেজমেন্ট, মনে হচ্ছে পুরো একটা দেশকে গিলে ফেলেছে। কেননা সে শুধু মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করেনি, পুরো সিস্টেমকেই নিয়ন্ত্রণ করছে এখান থেকে। সবকিছু, আইন, ক্ষমতা, সব তার হাতের মুঠোয় ছিল)
সাংবাদিক একবার ক্যামেরা থেকে চোখ সরিয়ে পিছনের দৃশ্যের দিকে তাকায়। নজরে আসে একজন অফিসার বমি করছে। সে আবার ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে,
–“শি ইজ নট উম্যান দ্য ওয়ে ইউ থিঙ্ক,
শি ইজ আ সিস্টেম, বিল্ট টু কন্ট্রোল এভরিথিং”
ক্যামেরা ধীরে ধীরে ঘুরতে শুরু করে, আর সেই নরকের বাস্তবতা পুরো পৃথিবীর সামনে উন্মুক্ত হয়ে যায়।

এদিকে বেজমেন্টের সেই অংশে যেটার অস্তিত্বই কেউ জানে না, সেটা যেন পৃথিবীর বাইরে আরেকটা অন্ধকার জগত।দেয়ালগুলো মোটা ইস্পাত আর কংক্রিটের স্তরে মোড়া, প্রতিটা করিডোরে লুকানো সেন্সর, প্রতিটা মোড়ে সিকিউরিটি ক্যামেরা। চারপাশে এতো কড়া সিকিউরিটি যে, এখানে কেউ ঢুকতে পারবে না, আর ঢুকলেও বের হতে পারবে না। এই গভীর গোপন অংশটাই সোফিয়া জাওয়ানের শেষ আশ্রয়। ভেতরে প্রবেশ করতেই বোঝা যায়, এটা শুধু একটা বাঙ্কার না, এটা একটা বিলাসবহুল আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্ল্যাট। বিশাল হলরুম, সফট লাইটিং, দামী সোফা, মাল্টিস্ক্রিন মনিটর, আলাদা মেডিকেল ইউনিট, এমনকি প্রাইভেট কিচেনও আছে এখানে। সবকিছু এমনভাবে সাজানো, যেন এখানে বছরের পর বছর থাকা যায়। খাবারের স্টোরেজ রুমে রয়েছে প্যাকেটজাত খাবার, ক্যানড ফুড, পানি। কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছরের খাবার মজুদ রাখা হয়েছে এখানে। সোফিয়া সব হিসাব করেই এই জায়গাটা বানিয়েছিল। কারণ, সে ধারণা করেছিল, যদি লরেন্সের মতো তার জীবনেও এমন একটা দিন আসে যখন পুরো পৃথিবী তার বিরুদ্ধে যাবে তখন সে এখানে লুকাবে।
আর এই মুহূর্তে সে বসে আছে কন্ট্রোল রুমের সামনে। চারপাশে স্ক্রিনে ভেসে ওঠছে, ব্যাংকিং সার্ভার, অফশোর অ্যাকাউন্ট, ক্রিপ্টো ওয়ালেট, ডিজিটাল লেনদেনের লগ সবকিছু। বাইরে তার বিরুদ্ধে এত কিছু হচ্ছে কিন্তু তার চোখ দেখে বুঝা যাচ্ছে সেগিলোর একাংশও তার উপর প্রভাব ফেলতে পারছে না। বরং সে এখানে বসে একটার পর একটা অর্ডার দিয়ে চলছে,

–“জিহাদ, এই ফাইলটা ক্লিয়ার করো”
–“আব্বাস, দুবাইয়ের অ্যাকাউন্টটা শিফট করো, এখনই”
আর জিহাদ আর আব্বাস একে একে তার আদেশ মতো কাজ করছে, স্ক্রিনে একটার পর একটা কোড চলছে। সোফিয়া নিজেই নিজের সাম্রাজ্যের সব প্রমাণ মুছে দিচ্ছে। একটা ফাইলও যেন বেঁচে না থাকে, যেটা তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে। সে ঠান্ডা মাথায় সবটা হ্যান্ডেল করছে।
হঠাৎ তার কানে আসে বাইরে থেকে গুলির শব্দ। সোফিয়ার আঙুল থেমে যায় কিবোর্ডে। সে ভ্রু কুঁচকে মনে মনে ভেবে অবিশ্বাসের সুরে আওড়ায়,
–“অসম্ভব…এই পর্যন্ত তো কেউ আসতে পারবে না”
এই বলে সে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে জিহাদ আর আব্বাসকে নিয়ে বেরিয়ে আসে কন্ট্রোল রুম থেকে। বাইরে আসতেই সোফিয়া থমকে যায়, চোখে মুখে ফুটে ওঠে তীব্র বিস্ময়। কেননা তার চোখের সামনেই তার আলফা টিম লড়ছে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারপোল অফিসারদের সাথে। ইন্টারপোল অফিসাররা চেষ্টা করছে সামনে এগোতে কিন্তু তার আলফা টিমের কারনে কেউই সফল হতে পারছে না। আলফা সেনাদের দক্ষতার সাথে অফিসাররা কোনমতেই পেরে ওঠছে না। সোফিয়ার ঠোঁটের কোণে ধীরে একটা হাসি ফুটে ওঠে। কিন্তু তার মাথায় ঘুরছে অন্য প্রশ্ন,
–“এরা এখানে ঢুকল কিভাবে?”
তার চোখ সরু হয়ে আসে,

–“এই জায়গাটার ব্যাপারে আরজেও জানে না। তাহলে… কে?”
তার ভাবনা শেষ হওয়ার আগেই আরেকদল গার্ড ঢুকে পড়ে, সারহাদের গার্ড রা। তারা এক মুহূর্ত দেরি না করে সরাসরি আলফা টিমের ওপর হামলা চালায়। তবুও সোফিয়ার আলফা টিমের সাথে পেরে ওঠছে না। কেউই সোফিয়ার কাছাকাছি আসতে পারছে না সোফিয়ার। সোফিয়া দাঁড়িয়ে পিছন থেকে অর্ডার দিচ্ছে,
–“লেফট ফ্ল্যাঙ্ক ক্লিয়ার করো”
–“কভার ফায়ার দাও, ফাস্ট…”

তাদের আক্রমণের চাপে ইন্টারপোল অফিসাররা পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। সারহাদের লোকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধের মোড় ঘুরছে আবার সোফিয়ার দিকে ঘুরে যায়। এরমধ্যে সারহাদ কক্ষে প্রবেশ করে। সোফিয়া তার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে ত্রুুর হাসি। সে সারহাদের দিকে বন্দুক তাক করে বাঁকা হেসে বলে,
–“গেম ওভার, সারহাদ চৌধুরী…”

হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২০ (৫)

সে গুলি করার আগেই একটা ঠান্ডা একটা ধাতব স্পর্শ করে তার কপালের পাশে, একটা বন্দুক। তার শরীর মুহূর্তে থেমে যায়। চোখ ধীরে ধীরে ঘুরিয়ে তাকায় পিছনে। সামনের ব্যক্তিকে দেখে তার শ্বাস ভারী হয়ে ওঠে।
কারণ যে দাঁড়িয়ে আছে তার পিছনে বন্দুক তাক করে সে অপ্রত্যাশিত।

হ্রদয়ামিলন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ২২