৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১১
রুপান্জলি
—- পাপ্পা!! ইউ নো? তুমি দিনকে দিন বড্ড বোরিং হয়ে যাচ্ছো।
,,, রমনা পার্কের জগিং এড়িয়াতে ছুটছে দুই বাবা মেয়ে, যদিও সাথে সেই অবহেলিত প্রোফেসরটাও রয়েছে। তবে তাতে অর্পনার কিছু যায় আসেনা। তার কাজ হচ্ছে জগিং করা, সে তার পাুপ্পার সাথে জগিং করছে। এখন সাথে কে এলো, না এলো তাতে তার কি আসে যায়? মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে ভ্রু কুচকালেন আরশাদ জামান। পরপর কিছু একটা ভেবে হেসে বললেন — আসলে, জীবনে চিল করার মতো কোনো রিজন পাচ্ছিনা তাই আরকি। তবে তুমি চাইলে আমাকে একটা রিজন দিতে পারো।
,,,অর্পনা বাবার সাথে সমান তালে দৌড়ে বললো — সেটা কিরকম?
,,,এইযে এতো বড়ো একটা মেয়ে বিয়ে না করে বাবার টেনশন বাড়াচ্ছো, সেই টেনশনটা কমিয়ে দাও।
,,, বাবার কথায় হুট করেই থেমে গেলো অর্পনা, হাপাতে হাপাতে ঘাসের উপর বসে পরলো। আরশাদ জামান মেয়ের ক্লান্ত মুখের দিকে তাকিয়ে নিজেও থেমে গেলেন মেয়ের সামনে হাটু গেড়ে বসতে নিতেই আদ্রিয়ান এসে অর্পনার দিকে স্যালাইনের পানি এগিয়ে দিলো। অর্পনা সেটা নিলো, কয়েক ঢোক খেয়ে স্যালাইন পট-টা নিজের কাছেই রেখে দিলো।কোনো এক কাঙ্ক্ষিত আশায় আরশাদ জামান আর থেমে থাকলেন না, আদ্রিয়ান আর অর্পনাকে স্পেস দিতে দৌড়াতে দৌড়াতে দূরে চলে গেলেন। উনি যেতেই অর্পনার মুখোমুখি বসে পরলো আদ্রিয়ান, পকেট থেকে রুমাল বের করে অর্পনার ঘামার্ত মুখশ্রী মুছে দিতে চাইলে অর্পনা থামিয়ে দিয়ে বললো —
,,,প্লিজ বারাবারি করবেন না,, অতিরিক্ত করা আমার পছন্দ না।
,,,আদ্রিয়ান রুমালটা সরিয়ে নিলো, পরপর ছোট্ট করে হেসে বললো — কেনো পছন্দ না জানেম? আমি কি খুব খারাপ? নাকি দেখতে খারাপ?
,,, অর্পনা ঠোট বাকিয়ে হাসলো,, এতোদিন যাবত বাবার পরে তার কাছে সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ ছিলো আদ্রিয়ান কাইসার। যদিও সেই লিস্টে আরেকজন যুক্ত হয়েছে আর সেটা হলো দ্বীপ জোহান মির্জা। যদিও মানুষটাকে সে সামনাসামনি দেখেনি তবে বর্ননা পড়েই বুঝেছে লোকটা বেশ সুন্দর হবে। বাবা বাঙালি আর মা বিদেশিনী হওয়ার দরুন আদ্রিয়ানের সৌন্দর্য পারিমাপ করা দায়। লম্বায় ৬ ফিট, প্রতিনিয়ত ঝিম করার দরুন তার ফিটন্যাস অসাধারন,, বাদামি রঙা চোখের মনি, চোকা নাক, চেহারায় কেমন বিদেশি বিদেশি ভাব স্পট। এমন একটা ছেলেকে চাইলেও অসুন্দর বলে আক্ষা দেওয়া যায়না বরং মানতেই হবে তার মতো সুন্দর ছেলে বাংলাদেশে খুব কম ই আছে,, তারমানে এই নয় যে অর্পনার তাকে ভালোবাসতে হবে। সৌন্দর্য দেখে কখনো ভালোবাসা হয়না,, হলে ভালো লাগা হতে পারে। সেটুকু ভালো লাগা আদ্রিয়ানের প্রতি অবশ্যই রয়েছে,, তবে সেটা ভালোবাসায় পরিনত হওয়ার কোনো চান্স নেই। ভালোবাসা হচ্ছে একটা নিষিদ্ধ অনুভুতি যা আল্লাহ চাইলে সেকেন্ডের মাঝে হয়ে যেতে পারে। কারোর প্রতি তিব্র মায়া কাজ করাকেই বোধয় ভালোবাসার এন্ট্রি গেইট বলা হয়,, যা আদির জন্য কখনোই অনুভব করেনি অর্পনা। অর্পনার দীর্ঘ ভাবনার ঘোর কাটলো আদ্রিয়ানের গলা খাকারিতে। আদ্রিয়ান আবারও প্রশ্ন করলো — আমি দেখতে খুব খারাপ?
,,,, অর্পনা ঘাসের ফুল ছিরে সেগুলোকে দূরে ছুড়ে মেরে বললো — আপনাকে ঠান্ডা মাথায় কিছু কথা বলি আদি?
,,,আরিয়ান কিছু বললো না, চুপ করে তাকিয়ে রইলো। অর্পনা বলতে থাকলো — ভালোবাসা কি আমি জানিনা, তবে আপনার প্রতি আমার তেমন কোনো অনুভুতি কাজ করেনা। আমি জানি, এখানে আপনার প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে তবে ভালোবাসা তো জোরের কিছু নয় বলুন। আপনি নতুন করে জীবন সাজান, অন্য কাউকে ভালোবাসুন। আমাকে প্রতিদিন যেই এফোর্ট টা দেন, সেই এফোর্টের অর্ধেক পরিমান ও যদি অন্য কোনো মেয়েকে দেন, তাহলে সে আপনাকে মাথায় করে রাখবে। আমাকে ভুলে যান, আমি টুটাল্লি সিরিয়াস, আপনার প্রতি আমার সেই ফিলিংসটা আর কোনোদিন আসবেনা। ভাববেন না আপনার ফুপির জন্য আপনাকে আমি মানতে নারাজ। হে!! উনার জন্য হয়তো আমি আপনাকে মামাতো ভাই কিংবা ভালো বন্ধু হিসেবে মানতে পারবোনা। তবে ভালোবাসা অন্য বিষয়। এই দুটো বছরেও যখন আপনাকে ভালোবাসতে পারিনি বা সেসব ফিল করতে পারিনি, সেহেতু আর সেসব সম্ভব না। বয়স তো কম হলোনা এবার বিয়েটা করে নিন।
,,,, আদ্রিয়ান মলিন হাসলো,, তার যন্ত্রণা টা কেউ বুঝতে চাচ্ছেনা। ভালোবাসলে কি ভুলা যায়? ভালোবাসা ভুলা গেলেও মায়া কখনো ছাড়া যায়না। মানুষ শতবার প্রেমে পরতে পারে, কিন্তু মায়া শুধু একজনের উপরেই আসে। অর্পনা হচ্ছে আদির সেই মায়া,, এই মায়া যে ত্যাগ করার নয়। আদ্রিয়ান মলিনতা ত্যাগ করে মুচকি হেসে বললো — ভালোবাসতে হবেনা, চলো বিয়ে করি। সারাজীবন আমি আর তুমি আলাদা থাকবো, কেউ কাউকে স্পর্শ করবোনা। তুমি তোমার জীবনে সকল স্বাধীনতা পাবে,, আমি কখনো তোমার বিষয়ে নাক গলাবোনা। তুমি শুধু আমার হও জানেম,, আমি তোমায় রানীর মতো করে রাখবো।
,,,সহসা ঠান্ডা মেজাজ টা বিগরে গেলো অর্পনার। খবিশের ছানা একটা, সে বলে কি? আর এই লোক শুনে কি? অর্পনা হাতে থাকা স্যালাইনের পড টা আদ্রিয়ানের কোলে ছুড়ে মেরে বললো — ভালোয় ভালোয় বললাম ভাল্লাগেনা? থাক তবে, বেয়াদবের হাড্ডি। তদের মতো ছেলেদের দেখলে একটা কথাই মনে হয় অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ। তর ফুপি যেখানে এক সাগর ভালোবাসা রেখে অন্য জনের হাত ধরতে পেরেছে , তুই সেখানে ভালোবাসা বিহীন আমাকে কোন রাজ্যের রানী বানিয়ে রাখবি, সেসব আমার জানা আছে।
,,,বলতে বলতে পার্কের এক্সিট গেইটের দিকে হাটা দিলো। এরকম ভালোবাসা সে চায়না যেই ভলোবাসায় কোনো জোর জবরদস্তি কিংবা অধীকার নেই। “”তোমার যেমন ইচ্ছা তেমনি চলবে”” বলা ছেলেদের তার কাছে নাটকবাজ মনে হয়। গল্পে যেমন শেয়াল মামা ভুজুম ভাজুম দিয়ে মুরগীকে কাছে এনে খপ করে গিলে নেয়, এই ছেলেগুলো তেমন টাইপ হয়। ভালোবাসা শব্দটা তো দ্বীপ জোহান মির্জার সাথে এক্সিস্ট করে। পারুকে অন্যের সাথে ভাগ করবেনা বলে পারুর হাত পা ভেঙে হলেও নিজের সাথে মিশিয়ে রাখতে চায়। ভালোবাসা পেতে পাগলামি করে। কোনো অধীকার না পাওয়া সত্তেও অধীকার খাটায়। ভালোবাসাটা এরকমি,, ভালোবাসলে নিজ থেকেই অধীকার তৈরি হয়ে যায়।
,,, সিভান মামা কিন্তু ভালোই চা বানায়, সত্যি না?
,,, কথাটা বলে চায়ের কাপে শব্দ করে চুমুক দিলো পল্লব। ওর কথার প্রেক্ষিতে অরুণ বললো — সিভান মামার একটা মেয়ে আছে, বিয়ে করবি? বাপের মেয়ে, নিশ্চয়ই বাপের মতো চা বানাতে পারবে। সারাজীবন এমন মজার মজার চা খেতে পারবি, মামার সাথে বিয়ের বিষয়ে কথা বলবো?
,,,পল্লব অরুনের পিঠে কনুই মেরে বললো — আমার বিয়ের বয়স হইছে হাদারাম? আর ঐ মেয়ে আমার হাটুর সমান, এখনো ফ্রগ পরে ঘুরে বেরায়।
,,,তাতে কি মামা, মেয়ে অনেক বুঝদার, তরে একটু ও প্যারা দিবেনা। ( অরুন)
,,, রাত্রি চায়ের কাপ পাশে রেখে মুখ বাকিয়ে বললো– নিজের যে বিয়ের সখ জেগেছে সেটা মুখ ফুটে বললেই হয়, অন্যকে বিয়ে কর বিয়ে কর বলে খোচাতে হবে কেনো?
,,, তকে বলেছি আমার বিয়ের সখ জেগেছে? ( অরুন)
,,,বলতে হবে কেনো? মানুষের আচার আচরণ দেখলেই বুঝা যায় ( রাত্রি)
,,, কি এমন করেছি তর সাথে? যে তর মনে হলো আমার বিয়ের সখ জেগেছে?( অরুন)
,,,আমার সাথে করবি কেনো? আমি তো খারাপ। কি করেছিস দেখলাম তো সকালে। ( রাত্রি)
,,, কি দেখেছিস? কি করেছি আমি? ( অরুণ)
,,, রাত্রি এবার অন্য দিকে তাকিয়ে বললো — বলবো কেনো? নিজে জানেনা? সে কার সাথে কি করেছে? আমায় কেনো বলতে হবে?
,,, রাত্রির কন্ঠটা কেমন শুনালো, যেনো অরুনের প্রতি খুব অভিমান জমেছে। রাত্রির বলা কথাটা কর্ন কূহর হতেই অরুন কিছুটা রাগান্বিত স্বরে বললো — রাত্রি!! কি আবোল তাবোল বকছিস? আমার নামে ব্লেইম দিতে দিতে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে?
,,, রাত্রি ফের অভিমানি স্বরে বললো — হে, আমি তো খারাপ, সারাদিন সাজগোজ করি আর তকে ব্লেইম দেই। পড়া লেখা করিনা, কোরিয়ান ড্রামা নিয়ে পরে থাকি, সাবজেক্টে সাবজেক্টে ফেইল করি। সব ধরনের খারাপ গুন তো আমার মাঝেই পাওয়া যায়।
,,, রাত্রির বলা কথাগুলো শুনে যেনো আরও রাগ বাড়লো অরুনের। সে কি এমন করেছে যে এই মেয়ে এভাবে কথা বলছে? অরুন এদিক ওদিক তাকিয়ে শান্ত স্বরেই বললো— আগ বাড়িয়ে কথা বলিস কেনো? এখন তকে আমি এসব বলছি? সবসময় খালি বাড়াবাড়ি।
,,, অরুনের শান্ত স্বরেও রাত্রি অশান্ত বিহেব করে বললো—- হ্যা আমি তো বাড়াবাড়ি ই করি,, খারাপ তো। খারাপরা এমনি হয়।
,,, ওদের ঝগড়া আর মান অভিমানের পাল্লা দেখে পল্লব বিরক্ত হয়ে ধমকে বললো — ভাই থাম!! তরা দেখি জামাই বউয়ের মতো ঝগড়া শুরু করে দিয়েছিস। কি ব্যাপার বলতো? দুজন দুজনের মাঝে কুচ কুচ হোতাহে? কাজি ডাকবো? বিয়ে পরায় দেই?
,,,পল্লবের এহেন কথা শুনে অরুন কিছুটা অপ্রস্তুত হলো, সে একবার রাত্রির দিকে তাকালো। সে মেয়ে এখন মুখ গুমড়া করে চা খাচ্ছে। কি হয়েছে কে জানে? সে তো এমন কিছুই করেনি যার জন্য রাত্রি অভিমান করবে। আর করলেই বা কি? রাত্রি কেনো অভিমান করতে যাবে? ঐ মেয়ে তো তাকে সহ্যই করতে পারেনা, সারাদিন ঝগড়া করে। সেসব ভেবেই অরুন পল্লবের পিঠে ঘুষি দিয়ে খাপ ছাড়া ভঙ্গিতে বললো — পাগল তুই? ওর সাথে আমার যায়? ওয়াক!! রুচি এতোও খারাপ হয়নি।
,,,এতোক্ষন অন্য দিকে তাকিয়ে থাকলেও অরুনের বিকৃতি করা কথাটুকুন শুনে রাত্রি কেমন করে যেনো অরুনের দিকে তাকালো। সেই তাকানোতে অরুনের কি হলো কে যানে? সেও অসহায় দৃষ্টিতে রাত্রির দিকে তাকালো। যেনো জানতে চায়, এই অভিমানের কারন কি? রাত্রি অরুনের থেকে চোখ সরিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললো — হুম জানি!! আমার মতো মেয়েদের, তর মতো ব্রিলিয়ান্টরা গুনেও না। আমি ও যাইনি তর মতো ছেলের সাথে প্রেম করতে,, আমার কি ছেলের অভাব পরছে নাকি? এখনি ইশারা করলে শত শত ছেলেরা এসে লাইন ধরবে।
,,, রাত্রির মুখে অন্য ছেলের কথা সহ্য হলোনা অরুনের। সে আবারও রাগ ঝরা কন্ঠে সুধালো– সুন্দরী বলে ভাব নিচ্ছিস? কে যাচ্ছে তর সৌন্দর্য দেখতে?
,,,রাত্রি মনিল হেসে বললো — সুন্দর কই? সব তো পেক-আপের আস্তরন ।
,,, অরুন কিছুটা মজার ছলেই বললো– মেকাপ যে করিস, সেটা অস্বীকার করতে পারবি?
,,, রাত্রি পরাজয় স্বীকার করে বললো– তা কেনো করবো? আমি নিজেইতো স্বীকার করলাম, আমি মেকাপ সুন্দরী । আমার মতো মেকাপ সুন্দরীকে দেখতে আসিস কেনো? তর তো ও আছে, ওকে গিয়ে দেখ।
,,, অরুন সত্যি ই বুঝতে পারছেনা সে কি করেছে। সে তো এমন ছেলে নয়, আর না কখনো কোনো মেয়ের দিকে নজর দিয়েছে। তাহলে রাত্রি এসব বলছে কেনো? অরুন অর্পনা আর ইরার দিকে তাকিয়ে অসহায় কন্ঠে বললো — অর্পন, ইরা!! তরা কিছু বল, কখন থেকে কার কথা বলে যাচ্ছে ও ? ( রাত্রির দিকে তাকিয়ে) এই কি দেখেছিস তুই? খোলসা করে বল!! মেজাজ খারাপ করিস না।
,,, রাত্রি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে, অর্পনা প্রতিবারের ন্যায় বন্ধু বান্ধবদের কথোপকথন শুনছে আর চা খাচ্ছে। এগুলো নতুন নয়, দুজন যতটা ঝগড়া করে তার চেয়ে বেশি একজন আরেকজনের সাথে অভিমান করে। এদের অভিমানের কারন আজো পর্যন্ত ধরা দেয়নি। তাই আপাতত অর্পনা কিছুই বলতে চায়না। আগে এরা একে-অপরকে বুঝুক, সে মাঝখানে ঢুকে কি করবে? এমনিতেও তার এসব জটিল বিষয় গুলো পছন্দ না। অর্পনাকে চুপ থাকতে দেখে ইরা ভ্রু উচিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললো — আমি কি বলবো? তরা তরাই তো ঝগড়া করে দুনিয়া ফাটিয়ে দিচ্ছিস। যাই হোক রাত্রি, মামা!! তুই বল, কি দেখেছিস সকালে?
,,,রাত্রি মুখ মলিন রেখেই বললো– আমি এই বিষয়ে কিছুই বলতে চাইনা ইরা । যে করেছে তাকে জিজ্ঞেস কর, সে কি করেছে?
,,,, অর্পনা এবার মুখ খুললো — থাক কাউকেই কিছু বলতে হবেনা। অরুন যদি কোনো মেয়ের সাথে কিছু করে থাকে করলে করুক। তাতে তো আমাদের কোনো আপত্তি নেই, তাই না? শুন অরুণ, বিয়ে করতে চাইলে জানাবি আঙ্কেল আন্টিকে বুঝানোর জন্য আমরা তো আছি ই। কি বলিস রাত্রি? তুই যাবি তো আঙ্কেল আন্টিকে রাজি করাতে?
,,,ইরা ও সম্মতি জানিয়ে বললো — যাবেনা কেনো? আমরা সবাই যাবো, প্রয়োজনে আঙ্কেল আন্টির হাতে পায়ে ধরে রাজি করাবো। এটুকু উপকার করতে না পারলে বন্ধু হলাম কোন সার্থে?
,,,,পল্লব অরুনের কাধে হাত রেখে আফসোসের স্বরে বললো– কিন্তু মামা!! তুই প্রেম করছিস আর আমাদের জানালি ও না? খষ্ঠ পেলুম, ইহা একখান বৃহৎ আকারের খষ্ঠ।
,,,অরুনের মেজাজ খারাপ হচ্ছে,, কি বলছে সবাই মিলে? কোনো কিছু না করেও এসব মানা যায়? সব দোষ এই রাত্রিটার। সারাদিন তার পিছনে লেগে থাকা বাদে বোধহয় আর কোনো কাজ নেই। অরুন আবারও রাত্রির দিকে তাকালো,, এখনো মন খারাপ করে বসে আছে। এই মেয়ের অভিমান ভাঙাতে এখন কতো কি করতে হবে, আল্লাহ মালুম। অরুণের তাকিয়ে থাকার মাঝেই রাত্রি অরুনের দিকে তাকালো,, দুজনার চোখাচোখি হতেই রাত্রি আবারও চোখ নামিয়ে নিলো। অরুণ ওর ভাবনাকে ভুল প্রমান করার আশায় একটু খোচা মেরেই বললো —
,,,তদের বান্ধবীর চোখে সমস্যা আছে, কি থেকে কি দেখছে কে জানে? হয়তো কিছুই দেখেনি। আমাকে অকারনে প্যারা দেওয়ার জন্য কাহিনি বানাচ্ছে।
,,,পল্লব অরুনকে হালকা পিন্চ মেরে বললো — ওর কথায় তুই কেন প্যারা খাস মামা? অয় তো তর গার্লফ্রেন্ড কিংবা বউ না। ফ্রেন্ডের ভুল বুঝায় আর না বুঝায় কি এসে যায়?
,,,, অরুন রাত্রির দিকে চোখ রেখেই বললো — প্যারা তো খাবোই। আজ সে নিজে আমার নামে বদনাম রটাচ্ছে, কাল অন্য কেউ রটাবে, এভাবে বদনাম হতে হতে আমি জাতির প্লে বয় না হয়ে যাই।
,,,রাত্রির চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো, সে অরুনের দিকে তাকিয়ে ভাঙা কন্ঠে বললো– স,সরি!! আর কারোর বিষয়ে নাক গলাবো না। যার যেভাবে খুশি চলুক, আমি বলার কে?
,,, মান অভিমানের পাল্লা চলতে চলতে এখন গুরুতর হতে যাচ্ছে, তাই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ভার নিলো অর্পনা। সে চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে বললো —
,,, এই ফকিরের দল, চল একটু ভার্সিটির পিছনের কলপাড়ে যাবো।
,,,কেন মামা? ঐখানে কি কাজ? ( পল্লব)
,,,চল, হাত মুখ ধুবো, বড্ড গরম লাগছে। ( অর্পনা)
,,, ইরা অবাক হয়ে বললো — এখন তো শীত কাল। এই সময় তর গরম লাগছে? বুঝলাম না ব্যাপার টা।
,,, ফ্রেন্ডশিপের রুল্স গুলো ভুলে গেছিস মনে হয়। অরুন!! ওদের মনে করিয়ে দে।
,,,অরুনের আর মনে করাতে হলো না। সুর সুর করে চারজন টেবিল ছেড়ে উঠে দাড়ালো। ওদের কান্ডে মনে মনে হাসলো অর্পনা। এই চারজন তার মাঝে কি পেয়েছে কে জানে? সামান্য রুল্সের কথা তুলতেই সবাই কেমন বাক্য ব্যায় ছাড়াই তার সাথে যেতে রাজি হয়ে গেলো। পাঁচ জন মিলে ক্যাম্পাস, ভার্সিটি পেরিয়ে কল পাড়ে পৌছালো। কল পাড়ের কাছে যেতেই অর্পনার মনটা কেমন করে উঠলো। সে পারু আর দ্বীপকে অনুভব করার উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছে। দ্বীপ তো এই কলটাই পারুর জন্য চেপেছিলো আর পারু হাত মুখ ধুয়েছিলো। ইস্স!!
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ১০
ও যদি আর তিনটা বছর আগে ভার্সিটিতে পা রাখতো, তাহলে নিশ্চয়ই ওদের সামনাসামনি দেখতে পেতো? আচ্ছা!! ওয়েট। পারু যদি অর্পনার তিন বছরের সিনিয়র হয় তাহলে হিসেব মতো পারুর আগের বছর মাস্টার্স কম্প্লিট হওয়ার কথা। তারমানে এক বছর আগেও পারু এই ভার্সিটিতেই ছিলো, তাহলে তার কথা কখনো অর্পনা শুনলো না কেনো? দু বছরে কতো অনুষ্ঠান গেলো, কতো রেগ হলো, কই পারু বলতে কোনো নাম তো তারা শুনেনি? সিনিয়র হিসেবে একবার না একবার তো দেখা হওয়া উচিত ছিলো, তাইনা? অর্পনার কৌতুহল বাড়লো। পারু আর দ্বীপের জন্য মনটা কেমন ছটফট করে উঠলো। মন চাচ্ছে এখোনি বাড়ির দিকে ছুটে যেতে আর দ্বীপ পারুর প্রেম কথন পড়ে শেষ করতে।
