৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪০
রুপান্জলি
মাঝে কেটেছে কয়েকটা দিন। অর্পনা ফজরের নামাজ পরে রুম থেকে বের হলো। আজ দুদিন ধরে দ্বীপ বাড়িতে নেই,, জয়পুর হাট গিয়েছে। ওখানে মসজিদ, মাদ্রাসা, আশ্রম সবকিছুর কাজ একসাথে চলছে। তাই সেদিকের হিসেব নিকেস কিংবা কাজের ধরন চেক করার জন্য যাওয়াটা প্রয়োজন ছিলো। আর সবচেয়ে বড়ো কথা, দ্বীপের ভালোবাসার মানুষ সেখানে শায়িত আছে,, তাকে দেখতে যাবে,, তার সাথে সময় কাটাবে,, এটা আহামরি কোনো ব্যাপার না। অর্পনার কখনো এসব নিয়ে আপত্তি ছিলোনা। আর না সে পারুর সাথে হিংসা করে। হিংসা হয় সমানে সমানে,, দ্বীপ তো কখনো তাকে সেই জায়গাটাই দেয়নি। আর দিলেও বা কি? পারুকে হিংসা করা যায় না,, অর্পনা পারুকে খুব সম্মান করে। সেসব ভাবতে ভাবতে সিঁড়ি পেড়িয়ে নিচে নেমে,, রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে এলো। এই পৃথিবীতে বোধহয় সেই একমাত্র বউ যে কিনা সারাদিন গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে,, মন চাইলে ঘর থেকে হয় নয়তো হয়না। মেধা বাড়ির মেয়ে হওয়া সত্তেও বাড়ির বউয়ের দায়িত্ব পালন করে। মা এবং শ্বাশুড়িকে সাহায্য করে,, অথচ অর্পনা পরের বাড়ির মেয়ে হয়েও নির্লিপ্ত ভাবে চলাফেরা করে। নাহ্!! এভাবে কি জীবন কাটানো যায়? শ্বশুর শ্বাশুড়িরা মিলে চাচ্ছে ওদের সংসারটা ঠিক করতে,, সম্পর্কটা একটা বোঝাপড়ায় আনতে। অর্পনার এতে কোনো মতামত নেই,, সে আর ভালোবাসার আশা করেনা,, মানুষ মারা যাবার পর তাকে কাঠের খাটিয়ায় নেওয়া হোক কিংবা লোহার খাটিয়ায়,, শেষ সীমানা সেই কবর পর্যন্তই। কতোদিনি বা আছে সে? যে যেভাবে খুশি চালিয়ে নিক। তার কোনো আপত্তি কিংবা অভিযোগ নেই৷ অর্পনাকে রান্নাঘরে দেখে রোমানা বেগম এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন — অর্পনা!! এখানে কি করছো? কিছু লাগবে তোমার? কফি দিবো?
,,, ঠোঁট প্রসারিত করে হাসলো অর্পনা,, কিছুটা এগিয়ে গিয়ে নরম স্বরে বললো — না না,, আমার কিছু লাগবেনা। আসলে ঘরে বসে একা একা বোর হচ্ছিলাম। আমি সবার জন্য চা কফি করি?
,,, রোমানা বেগম সাথে সাথে নাকোচ করে বললো — তুমি কেনো করবে মা? আমরা আছিনা? তুমি নয়তো পরশীকে ডেকে দাও,, আজকেও মনে হয় নামাজ পরেনি। বেয়াদবটাকে থাঁপারে ঠিক করতে হবে।
,,, মেধা ফ্রিজ থেকে ডিম বের করতে করতে বললো — বকা ঝকা করোনাতো আম্মু, মেয়েটার মাত্র এক্সাম শেষ হলো,, ঘুমাচ্ছে ঘুমাক।
,,, চোখ পাকিয়ে মেধার দিকে তাকালেন রোমানা বেগম,, ধমকের স্বরে বললেন — নামাজ রেখে কিসের ঘুম? ওর ঘুম আমি বের করবো। মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়ে বিধর্মীদের মতো চলা ফেরা,, মরার পর আল্লাহ মাফ করবেন? ননদকে লাই না দিয়ে নিজের মতো বানাতে পারোনা? দিনকে দিন তার অহমিকা আকাশ ছাড়াচ্ছে,, সারাক্ষণ বাপ ভাইদের ক্ষমতার বরাই করে।
,,,রোমানা বেগমের বকাঝকার মাঝে নিচে নেমে এলো পরশী, পিঠের নিচ সমান চুলের বেনুনি ঘুরাতে ঘুরাতে বললো — সকাল হতে দেরি আমার বদনাম পারতে দেরি নেই। শত্রুর বাড়িতে থাকি,, কবে যে বিয়েটা হবে? কবে এই শত্রুর মেলা থেকে মুক্তি পাবো?
আজকেও দু রাকাত নফল নামাজ পরেছি,, যদি এবার আমার জীবনে একটা প্রিন্সের আগমন ঘটে। প্রিন্স!! তুমি কোথায়? আমাকে এই শত্রুর রাজ্য থেকে উদ্ধার করে তোমার রাজ প্রাসাদে নিয়ে যাও। প্লিজ!! ( নাটকীয় ভঙ্গিতে)
,,, পরশীর কথা শুনে কটমট করে তাকালো মেধা,, এই মেয়েটার মুখ অটো মেশিনের মতো চলতেই থাকে চলতেই থাকে। ভাইদের মতো মুখ চোরা হয়েছে,, বড়ো ছোট মানেনা,, যা খুশি বলে ফেলে। এখোনি আম্মু ধমক দিলো বলে। রোকেয়া বেগম সত্যি সত্যি ই ধমক দিতে নিয়েছিলেন কিন্তু তার আগেই সদর দরজা দিয়ে বাড়ির তিনপুরুষের আগমন ঘটলো। ওদের আসতে দেখে এগিয়ে এলো মেধা,, বিহানের কাছে পৌঁছাতেই প্রতিদিনকার ন্যায় বিহান ওর চোখে মুখে দোয়া পরে ফুঁ দিলো। অর্পনা তাকিয়ে রইলো সেদিক পানে,, ভালোবাসা বুঝি এতোটাই সুন্দর হয়? এরকম ভাবে ভালোবাসতে তো টাকা পয়সার প্রয়োজন পরেনা শুধু একটা নিষ্পাপ মনের প্রয়োজন। অর্পনা ভাবে,, ওই মেয়েগুলো কারা? যাদেরকে মানুষ প্রথম দেখায় ভালোবেসে ফেলে? মায়ায় জড়িয়ে যায়? ভালোবাসার জন্য কাঙাল হতে হয়না? তারা কি খুব সুন্দরী হয়? নাকি ভাগ্যবতী? নিশ্চয়ই ভাগ্যবতি হয়,, নয়তো সে আর পারু তো দেখতে একই রকম। ঠোঁট ব্যতিত অন্য কোনো তফাৎ খুজে পাওয়া যায়না,, তাহলে সে কেনো তার মায়ায় পডলো না? কেনো ভালোবাসলো না? অর্পনার এভাবে তাকিয়ে থাকাটা বোধহয় অনেকেই লক্ষ করেছে। শাহিন মির্জা সোফায় বসে গলা খাকারি দিয়ে পরশীকে উদ্দেশ্য করে বললেন — পরশী মা, যাও বড়ো আব্বুকে নিয়ে আসো।
,,,, বাবার আদেশে আবারও বেনি দুলাতে দুলাতে উপরে গেলো পরশী। অর্পনা নজর সরিয়ে রান্নাঘরে ডুকলো,, উদ্দেশ্য চা কফি বানানো। মির্জা বাড়ির রান্নাঘর বড্ড খোলামেলা,, বসার ঘর থেকে স্পট দেখে যায়। শাহিন মির্জা ফোন বের করে দ্বীপকে ভিডিও কল করলেন। সাথে সাথে ওপাশ থেকে কল ধরলো দ্বীপ, সে এখন গাড়িতে বসে আছে। ওকে গাড়িতে দেখে শাহিন মির্জা সহাস্যে প্রশ্ন করলেন — আব্বায় কি ফিরছেন? নাকি অন্য কোনো জায়গায় যাচ্ছেন?
,,, দ্বীপের কল বুঝতে পেরে মাহিন মির্জা ও তরিহরি করে ভাইয়ের পাশাপাশি বসলেন। বিহান ও এগিয়ে গেলো সেদিকে,, ফোনে বেক কেমেরা দিয়ে অর্পনার দিকে তাক করে বাবার পাশে আরাম করো বসলো। অর্পনা চা বানাতে বানাতে একবার সেদিকে তাকালো,, হয়তো উত্তর জানতে চাচ্ছে। সারা রাতে হাজার খানিক কল করেছে দ্বীপ কিন্তু অর্পনা ধরেনি। ধরতে ইচ্ছাও করেনি। সেই রেশ ধরেই বোধয় ওপাশ থেকে লোকটা বললো —
—- একজনার খুব সাহস বেড়েছে ,, যা খুশি করে বেড়াচ্ছে। নিজেকে রানী ভিক্টোরিয়া মনে করছে,, মন ভরা অহংকার আর আত্মগরিমা। তার সেই আত্মগরিমা ভঙ্গ করার জন্য হলেও আমার ফিরা উচিৎ ,, তাকে রেডি থাকতে বলো,, ১১ টার মধ্যে দেখা হচ্ছে।
,,, লাউড স্পিকার থাকায় সবটা শুনলো অর্পনা। বিহান দুহাত টানা দিয়ে হামি দিতে দিতে বললো — আমাদের রানি ভিক্টোরিয়া এখন কাজের বেটি রহিমা হয়ে গিয়েছে। বুয়া!! আমার কফিতে একটু বাড়িয়ে চিনি দিবেন,, খেতে ভালো হলে নিজের পকেট থেকে টাকা নিয়ে আপনাকে বখশিশ দিবো।
,,, অর্পনা শান্ত দৃষ্টিতে বিহানের দিকে তাকালো পরপর বিহানের জন্য বরাদ্দ করা কাপে গুনে গুনে ১২ চামচ চিনি দিয়ে গরম পানি ঢেলে দিলো। মেধা বিষয়টা খেয়াল করতেই শব্দ করে হেঁসে ফেললো। অর্পনা মেধার দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো যেনো কিছু না বলে। মেধাও মাথা ঝাকিয়ে শায় জানিয়ে সবজি কাটায় মন দিলো। দ্বীপ মনোযোগ দিয়ে দেখছে তার বউকে,, দেখতে দেখতে বললো– আমার বউকে দিয়ে কাজ করাচ্ছো তোমরা? সু বেড!! আমি এতো কষ্ট করে ইনকাম করছি কার জন্য? ঘন্টায় লাখ লাখ টাকা ট্রান্সফার হচ্ছে একাউন্টে। এই টাকা দিয়ে কি হবে? আমার বউ হয়ে যদি সে হাত পুড়িয়ে রান্না করে?
,,, দ্বীপের কথায় পরশী আর বিহান হই হই করে উঠলো। পরশী হুইল চেয়ার ঠেলে মাহিদ মির্জাকে সোফার কাছে নিয়ে আসতেই তিনি দ্বীপের উদ্দেশ্যে বললেন — বউয়ের হাত পোড়ানোটা দেখছো,, এতোকাল যে মা চাচিরা রান্না করে খাওয়ালো, কই তাদের কথা তো একটিবার বললেনা?
,,, দ্বীপ অর্পনার দিকে নজর স্থির রেখে বললো — মা চাচিদের সাহায্য করার জন্য ৮ জন মেইড রাখা হয়েছে। উনারা শুধু রান্নার উপকরণ গুলো দিয়ে দিলেই খতম। নেহাতি আম্মুর রান্না ব্যাতিত অন্য কারোর রান্না খেতে ভালো লাগেনা। নয়তো আমার মাকে আমি পালকিতে তুলে রাখতাম।
,,, ছেলের কথায় পুলকিত হলেন রোমানা বেগম। কে বলবে এই ছেলে তার না? যেভাবে মা বলে ডাকে,, সবাই নিসন্দেহে বলবে,, এটা রোমানার ছেলে। দ্বীপ অর্পনাকে দেখার ফাঁকে একবার মা বোনকেও দেখে নিলো। পরপর শাহিন মির্জার উদ্দেশ্য বললো — চাচ্চু!! আই নিড ইউর পাওয়ার।
,,, দ্বীপের হুট করে বলা কথায় উপস্থিত থাকা চার পুরুষ ই চমকে উঠলেন,, চমকালো রান্না ঘরে থাকা তিন রমনিও। মাহিন মির্জা অবাকতা সরিয়ে বললেন — কিছু হয়েছে জোহান?
,,, দ্বীপ নিরব হেসে বললো — একটা ঠিকানা পাঠাবো, সেখানে ইনকাম ট্যাক্সের লোক পাঠাবেন। বাকিটা হোয়াটসঅ্যাপ ডিটেল করছি। আরও কোনো প্রশ্ন থাকলে সেটা পার্লামেন্টে কিংবা বাসায় আলোচনা করে নিবো।
,,, দ্বীপের কথায় বিরোধ করলেন মাহিদ মির্জা। ছেলেকে তিনি খুব ভালো করেই চিনেন। নির্ঘাত কাউকে ধ্বংস করার খেলায় মেতেছে,, আবারও সারে ছয় বছর আগের রুপ ধারন করতে চাচ্ছে। এই ছেলেটা কি কোনোদিন ঠিক হবেনা? কেউ ঠিক করতে পারবেনা? মাহিদ মির্জা যতোখানি উদ্দেগ নিয়ে ছেলেকে প্রশ্ন করেছে,, দ্বীপ তার থেকেও শতগুণ নির্লিপ্ত ভাবে জবাব দিয়েছে। বরাবরের ন্যায় হতাশ হলেন মাহিদ মির্জা। এই ছেলে সত্যি ই কোনোদিন ভালো হবেনা। অর্পনা চা, কফি নিয়ে এসে শ্বশুর এবং দুই চাচা শ্বশুর হাতে চা ধরিয়ে দিলো। পরপর বিহানের কফিটা নিয়ে ওর সামনে দাড়িয়ে অতিবো ভদ্রতার সহিত বললো — সাহেব!! আপনার কফিটা কোথায় রাখবো? টেবিলে নাকি আপনার মাথায়?
,,, বিহান মেকি হেসে হাতটা এগিয়ে দিয়ে বললো — থাক ভাবি, হাতেই দেন।
,,, অর্পনা কফির কাপটা কাত করে বললো — ঢেলে দেই!!
,,, অর্পনার কান্ডে সবাই শব্দ করে হেসে ফেললো। পরশী ছুটে এসে অর্পনার পাশে এসে দাড়ালো। সবাই হাঁসলেও হাঁসলোনা বিহান। বিপদ বুঝতে পেরে তারাহুরো করে কফির কাপটা নিয়ে বললো — থাক ভাবি, এতোটাও উপকার করতে হবেনা।
,,,, বলতে বলতে কফির কাপে চুমুক বসালো,, অতিরিক্ত মিষ্টতায় চোখ মুখ খিঁচে কোনোরকম মুখের কফিটা গিলে নিয়ে চোখ পাকিয়ে বললো — মেরে ফেলবে নাকি মেয়ে? তোমায় যতটা সয়তান ভেবেছিলাম তার থেকেও হাজারগুন বড়ো সয়তান তুমি।
,,, অর্পনা ঠোঁট প্রসারিত করে হেসে ভাব নিয়ে বললো — আমার পাপ্পা সবসময় বলেন,, জীবনে যাই কামাও , ভালো করে কামাবে। সেটা হোক সুনাম কিংবা দুর্নাম!! এতো বড়ো উপাধি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, ভাইয়া!! বাই দ্যা ওয়ে,, আমার টিপ্স টা!!
,,, বিহান নাক ফুলিয়ে কফির কাপটা টি টেবিলে রেখে পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে খুঁজে খুঁজে একটা বাতিল এক টাকার কয়েন বের করে অর্পনার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো — এর বেশি পাওয়ার যোগ্য নও তুমি।
,,,, অর্পনা কয়েনের পরিবর্তে বিহানের ওয়ালেট টা কেরে নিয়ে সেখান থেকে একটা এটি এম কার্ড নিয়ে বাকা হেসে বললো — আমার বখশিশ আমি ঠিক করি৷ আজকের জন্য এটা আমার,, কাল ফিরিয়ে দিবো।
,,, পরশী আনন্দে লাফিয়ে উঠলো,, দুহাতে অর্পনার গলা জড়িয়ে ধরে বললো — ভাবি!! আমার আজকে কলেজ নেই, তোমার সাথে তোমার ভার্সিটিতে নিয়ে যাবে? প্লিজ!! ফিরার সময় আমি আর তুমি উরাধুরা শপিং করে আসবো,, মেঝো ভাইয়ার এটিএম একদম ফাকা করে ফেলবো। প্লিজ নিয়ে যাও, প্লিজ!!?
,,, অর্পনা মুচকি হেসে বললো — ওকে নিবো, যাও রেডি হও।
,,,, সাথে সাথে ফোনের অপর পাশ থেকে নিষেধ ঝাড়ি করলো দ্বীপ , হালকা অনুনয়ের স্বরে বললো — ভেলোরা!” আজ ভার্সিটি যাবেনা তুমি। দুটোদিন ধরে দেখিনা তোমায়,, বাড়ি ফিরে যেনো সবার আগে তোমার মুখটা দেখতে পাই। লক্ষি বউ আমার, অবাধ্য হইয়ো না প্লিজ!!
,,, দ্বীপের কথায় উপস্থিত সবাই লজ্জায় পরে গেলো অথচ দ্বীপ নির্লিপ্ত। শাহিন মির্জা গলা খাকারি দিয়ে কল সামনের ক্যামেরায় কনভার্ট করে ফোনটা অর্পনার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো — নাও আম্মু, ঘরে গিয়ে কথা বলো।
,,, চাচা শ্বশুরের কথা অগ্রাহ্য করলোনা অর্পনা, ফোনটা নিয়ে দ্বীপের দিকে না তাকিয়েই বললো — আমার ফোন থেকে কল দিচ্ছি।
,,, দ্বীপ নাকোচ করে বললো– তোমাকে বিশ্বাস নেই,, দুদিন ধরে একটা কল ও রিসিভ করোনি,, একটু রুমে যাও,, তোমাকে একটু পারসোনাল ভাবে দেখ
,,, বিরক্তিকর দৃষ্টি ফেলে কল কেটে দিলো অর্পনা। খেলার জন্য তার মনটাকেই পেয়েছে,, সে গেমিং পয়েন্ট কিনা? এসব আদিখ্যেতা এখন তার অসহ্য লাগে। অর্পনা শাহিন মির্জার দিকে ফোনটা এগিয়ে দিয়ে পরপর উপরের দিকে হাঁটা দিলো। এসবে শায় দেওয়া মানে শুধুই টাইম ওয়েস্ট করা। আর ওয়েস্ট করার মতো টাইম তার জীবনে খুব কমি আছে। যতটা টাইম আছে ততোটা এমন কাউকে দিবে, যে সেটা সত্যি অর্থে ডিসার্ভ করে।
,,, বিয়ান তো মাশাল্লাহ, থমকে যাওয়ার মতো সুন্দর। এতো সুন্দরী মেয়ে এই ধরাথামে দ্বিতীয়টি আছে বলে মনে হয়না। এই সুন্দরের রহস্য কি বিয়ান? ফেইস প্যাক নাকি ব্লাক মাক্স?
,,, পল্লবের কথায় ওর দিকে তাকিয়ে চোখ পাকালো অর্পনা,,হালকা ধমকের স্বরে বললো — আবার শুরু হয়ে গেলি? আমার ননদটাকে অন্তত রেহাই দে ভাই,, সিমি আপু পর্যন্ত তর ফ্লার্ট থেকে রক্ষা পায়না। ক্যারেক্টারল্যাস!!
,,, অর্পনার ধমকে পল্লব মিষ্টি করে হাসলো,, এটা সেই হাঁসি যেই হাসিতে শত নারী থমকে যেতে পারে। অর্পনা ফের চোখ রাঙালো। ওকে এরকম শাসাতে দেখে এই প্রথম পল্লবের ফ্লাটিংকে শায় জানালো অরুন — পল্লব তো ভুল কিছুই বলেনি,, পরশী সত্যি ই খুব সুন্দরী। একদম থমকে যাওয়ার মতো সুন্দর। যে দেখবে তারি কয়েক মিনিটের জন্য হার্ট মিস হয়ে যাবে।
,,, অরুনের বলার ধরনটা স্বাভাবিক ছিলোনা,, মনে হচ্ছে সে চরম ভাবে মুগ্ধ হয়েছে পারশীর প্রতি। আর সেই মুগ্ধতা নিয়েই আওড়িয়েছে প্রতিটি বাক্য। বাক্যগুলো কর্নকূহর হতেই রাত্রি অবাক চোখে অরুনের দিকে তাকালো তবে অরুন তার দিকে তাকালো না। সে পরশীর দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর পরশী কেমন লাজুক লাজুক হাসছে। যেনো অরুনের থেকে এমন কম্প্লিমেন্ট পেয়ে বড্ড খুশি হয়েছে সে। এতোক্ষণ ভালো মতো খেয়াল না করলেও এবার পরশীর প্রতি বেশ মনোযোগী হলো রাত। সত্যি ই পরশি মেয়েটা দারুন সুন্দর,, বিহানের বোন বলে কথা। অতিরিক্ত ফর্সা গায়ের রং, চিকন সরু নাক, ডাগর ডাগর চোখ, পিঠ সমান চুল, পাতলা শরীরের গড়ন, মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট সি ইজ অ্যা নেচেরাল বিউটি। রাতের মতো অতো সাজগোছ করেনা যার ফলে নিঃসন্দেহে পরশী রাতের থেকেও সুন্দরী। তবে কি অরুন তার দেওয়া কথা রাখতে চাচ্ছে? রাতের থেকেও সুন্দরী কাউকে বিয়ে করবে? ভাবতেই চোখ জ্বালা করে উঠলো রাত্রির,, বুকের ভিতরটা দুমরে মুচরে যাচ্ছে। রাত্রি এদিক ওদিক নজর সরিয়ে নিজেকে ঠিক করার প্রয়াস চালিয়ে বললো — হুম, পরশী সত্যি ই খুব সুন্দর। আমার থেকেও কয়েক গুন বেশি।
,,, শেষের কথাটা বিরবির করে বলেছে যেনো কেউ শুনতে না পায় কিন্তু যার শুনার সে বোধয় শুনে নিয়েছে কিংবা বুঝে নিয়েছে। তাই রাতের কোমল মনে আঘাত করার উদ্দেশ্যে সে বললো— হুম ঠিকি বলেছিস,, পরশী তর থেকেও হাজার গুন সুন্দরী এবং নিশ্পাপ। মনে কোনো অহংকার নেই।
,,, প্রিয়তমের মুখে অন্য নারীর প্রশংসা!! ইসস, এর থেকে বোধয় মরন যন্ত্রণাও ভালো। রাতের চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো ,, সে মাথা নিচু করে চোখের পানি লুকানোর চেষ্টা করে বললো — হুম!! ভালোতো,, অহংকার না থাকাটা ভালো।
,,, অরুন দেখলো সেই ছলছল করা চোখ,, কিন্তু তার অভিমানের কাছে এসব যেনো তুচ্ছ ঠেকলো। রাত যখন প্রতিবার তার হৃদয়টা টুকরো টুকরো করে দেয় তখন তারো কষ্ট হয়। সেই কষ্টের বিপরীতে রাত ও কষ্ট ডিসার্ভ করে,, অরুন কিছুটা বিরক্তিকর কন্ঠে বললো — এখানে কাঁদার কি হলো, আজব? কান্নাকাঁটির মতো বাজে স্বভাবটা দূর করবি রাত? বিরক্ত লাগে,, আচ্ছা!! তর থেকে সুন্দর কি আর কেউ থাকতে পারেনা? পৃথিবীর সব সৌন্দর্য কি তুই একাই নিয়ে বসে আছিস? ফালতু মেয়ে কোথাকার,, এতো ন্যাকামি কিভাবে করিস ভাই? টায়ার্ড লাগেনা?
,,, চোখ ছাপিয়ে জল গড়ালো আর সেই জল লুকাতে হাঁটু ভাঁজ করে তাতে মুখ লুকালো রাত্রি। তবুও কান্না থামাতে পারছেনা। কিছুদিন আগেও তো ভালোবাসি বলে বলে মরিয়া হয়ে যেতো,, আজ সে রিজেক্ট করেছে বলে ফালতু মেয়ে হয়ে গেলো? এতো অবলীলায় প্রিয় মানুষকে অপ্রিয়র খাতায় ফেলে দেওয়া যায়? যায় বোধয়,, তাইতো অরুন অবলীলায় তাকে ফালতু বলে দিলো। রাত্রি হাঁটুতে চোখ মুছে মাথা উচু করলো। অরুন কোনা চোখে সেদিকেই তাকালো,, খুব কষ্ট দিয়ে ফেলেছে কি ? দিয়েছে বেশ করেছে। ও যখন অরুনের সৌন্দর্য নিয়ে কটুক্তি করেছিলো তখন কি ওর কষ্ট হয়নি? বরাবর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে অরুন কতোটা অযোগ্য। সে যখন অযোগ্যই,, ভালো যখন বাসেইনা তখন এতো কষ্ট পাওয়ার কি হলো? সে অন্য মেয়ের প্রশংসা করলে ওর কি? ওর চোখ কেনো ছলছল করবে? অরুনের ভাবনার মাঝেই ধমকে উঠলো অর্পনা —
,, অরুন!! মাথা খারাপ হয়েছে তর? রাতের সাথে এমন বিহেভ করছিস কোনো? আর দয়া করে তদের ঝামেলার মাঝে আমার ছোট্ট ননদটাকে টানিস না। মেয়েটার কোমল প্রান,, তাকে টানা হেচরা করে মনে আশা জাগিয়ে সেটা ভাঙার চেষ্টা করিসনা। পরশী তুমি ওদের কথায় কিছু মনে করবেনা। দুটোতে মিলে দুজনকে প্রচন্ড ভালোবাসে। সামান্য মনমালিন্যতার জন্য এরকম কাদা ছুড়াছুড়ি করছে। তুমি কিন্তু সিরিয়াসলি নিওনা।
,,, পরশী মাথা ঝাকিয়ে শায় জানালো,, এমনিতেও তার অরুনের প্রতি তেমন কোনো মুগ্ধতা নেই,, সে তো মজে আছে অতিবো সুন্দর এবং আকর্ষনীয় পুরুষের মাঝে। পল্লবকে তার খুব মনে ধরছে,, আহা লোকটা কি সুন্দর!! এরকম একটা প্রিন্সের জন্যই তো সে প্রতিদিন নফল নামাজ আদায় করতো। আল্লাহ বুঝি এবার তার ডাক শুনেছে ? ইসস!! আগে কেনো সে তার ভাবির ভার্সিটিতে এলোনা? আসলে নিশ্চই আগে ভাগে প্রিন্সের দেখা পেয়ে যেতো? পরশী একটু একটু করে পল্লবের দিকে তাকালো,, পরপর আবার নজর সরিয়ে নিলো। তার এখন নিজেকে নতুন বউয়ের মতো লাগছে আর পল্লবকে নতুন বর। যেনো সে বাসর ঘরে বসে আছে আর পল্লব বর বেশে তার দিকে এগিয়ে আসছে,, উদ্দেশ্য বাসর করা। ইসস!! কি লজ্জা, কি লজ্জা!! কিসব ভাবছে সে? এখনো তো প্রিন্স তার দিকে ভালো মতো তাকালোই না। এখনো প্রপোজ করা বাকি,, প্রেম করা বাকি তারপর ভাইয়াদের বলতে হবে,, আব্বু চাচুদের রাজি করাতে হবে,, বিয়ে করতে হবে,, তারপর না বাসর। আর সে কিনা ভার্সিটির মাঠে ঘাসের উপর বসেই বাসর টাসর কল্পনা করে ফেলছে? ছি ছি!! পারশীর এই অদ্ভুত ভাবনার ঘোর কাটলো অরুনের কথায়,, সে বললো —
,,, ফালতু কথা বলবিনা অর্পন,, আমি কাউকে ভালোবাসিনা আর না কেউ আমাকে বাসে। আমাদের মাঝে কখনোই তেমন কিছু ছিলোনা।
,,, রাত্রি বহু চেষ্টা করলো নিজেকে সামলানোর,, ওর চোখ মুখের অবস্থা দেখে রেগে গেলো পল্লব। অরুনের দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে বললো — আর ইউ শিউর? বাসিস নাতো? বুঝে নিস। আর কখনো যদি ওর কাছে তকে ঘেষতে দেখেছি, তখন কিন্তু ছেড়ে কথা বলবোনা।
,,, অরুন সমান তালে বললো– আমার মাথা এতোটাও খারাপ হয়নি যে, ওর মতো অহংকারি মেয়ের কাছে ঘেষতে যাবো। আমি পারলে ওর মুখ ই দেখতাম না!!
,,, অর্পনা বসা থেকে উঠে দাড়ালো,, তার আর ভালো লাগছেনা। প্রতিদিন ভার্সিটিতে আসে মন ভালো করতে আর এসে দেখে এদের মন খারাপ। একজন আরেকজনকে কথা শুনাচ্ছে,, কষ্ট দিচ্ছে। নাহ!!” এসব বিরক্ত লাগছে তার। চারপাশের মানুষ গুলো হুট করেই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। অর্পনা রাত্রির হাত টেনে দাড় করিয়ে বললো — আর কখনো ওর দিকে তাকাবিনা অরুন,, তাকালে তর চোখ তুলে নিবো আমি। রাত চল ক্লাসে যাবো,, একদম কাঁদবিনা তুই। কে কি বললো না বললো তাতে তর কি?
,,,, বলতে বলতে পরশী আর রাতকে নিয়ে চলে গেলো অর্পনা। অরুন তাকিয়ে রইলো সেদিক পানে,, হুট করেই চোখ দুটো জ্বালা করে উঠলো, সেকেন্ডের গতিতে চোখ লাল হয়ে তাতে পানি জমলো,, পল্লব অরুনের কাঁধে হাত রেখে বললো — এমন করছিস কেনো? কষ্ট পেয়েছে খুব।
,,, অরুণ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে চোখে জমা পানিটুকু মুছে বললো — ও কেনো আমার সাথে এমন করছে? ভালোবাসে এটা ওর চোখ দেখেই বুঝা যায়। তাহলে আমার থেকে পালাচ্ছে কেনো? কি দোষ করেছি আমি? কোন ভুলের সাজা দিচ্ছে আমাকে? ইচ্ছা করে মরে যাই। না পারছি সহ্য করছে আর না পারছি মেনে নিতে। ভালো লাগেনা কিছু,, চারপাশটা বিষাক্ত লাগে।
,,,, হসপিটালের রেস্ট চেয়ারে বসে আছে ইরা,, অপেক্ষা আদ্রিয়ানের সাথে একটু দেখা করা। আদ্রিয়ান এখোনো হসপিটালে ভর্তি। দিনের বেশিভাগ সময় ঠিক থাকলেও মাঝে মধ্যে অর্পনাকে হেলোসুলেট করে যার ফলে আবার অসুস্থ হয়ে পরে। তাই আপাতত তাকে হসপিটালেই রাখা হয়েছে। কিছুটা দূরে বসে থাকা সিদ্বার্থ ইরার দিকে তাকিয়ে আছে। অনেকটা সময় ধরে মেয়েটার হাব ভাব পর্যবেক্ষণ করে বললো–
,,,, আপনি সবসময় হোয়াইট ড্রেস পরেন? বাট হোয়াই ? অন্য রং আপনার পছন্দ নয়? নাকি সাদা রংটা বেশি পছন্দ?
,,, সিদ্ধার্থের প্রশ্নে ফিরে তাকালো ইরা, ভ্রু কুচকে বললো — কেনো? আমাকে দেখে অস্বাভাবিক লাগে? কালো বলে?
,,, সিদ্ধার্থ বিরক্ত হলো, বিরক্তিতে ‘চ’ সূচক শব্দ করে বললো — মেয়ে জাত বরই ভয়ঙ্কর। বললাম একটা, বানালেন অন্যটা,, আমি একবার বলেছি? আপনাকে দেখতে অস্বাভাবিক লাগছে? এসে থেকে সবসময় সাদা জামা পড়তে দেখেছি তাই কৌতুহল বসত প্রশ্ন করলাম। ইচ্ছা হলে এন্সার দিবেন নয়তো এস ইউর উইস।
,,, সিদ্ধার্থের কঠিন কন্ঠে বলা কথাগুলো শুনে কিছুটা সহজ হলো ইরা,, আদ্রিয়ানের ক্যাবিনপর দিকে একবার নজর ফেলে আবারও সিদ্ধার্ৎের দিকে তাকিয়ে বললো — আসলে আমি তো কালো, তাই ছোট থেকেই শুনে আসছি কালোদের নাকি সাদা রঙে মানায়না। সাদা পরলে তাদের আরও কালো লাগে। তবে আমি সেসবে পাত্তা দেইনি। খুব ছোট বেলায় আমার খালামনির বিয়েতে হোয়াইথ গাউন পরে গিয়েছিলাম,, সেদিন যতোটা খুশি নিয়ে গিয়েছিলাম তার থেকেও হাজার গুন ব্যাথা নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম। সবাই বলেছে আমায় নাকি খারাপ দেখতে লাগছে,, শুধু এটা বলায় ই থেমে থাকেনি লিটেরেল্লি সবাই আমাকে অপমান করেছিলো। সেদিনি ঠিক করে নিয়েছিলাম,, আমার সাদা জামায় যদি লোকের এতো এলার্জি থাকে তাহলে আমি ওদের এলার্জিটা আরেকটু বাড়িয়ে দেই। সেদিনের পর আর অন্য রং গায়ে জড়ানো হয়নি,, এই আরকি।
,,,, ইরার কথায় বড্ড আশ্চর্য হলো সিদ্ধার্থ,, একটা মেয়ে এতোটা জেদি হতে পারে? নিজের দূর্বলতাকে শক্তি বানিয়ে মানুষের মুখের উপর জবাব দিতে পারে? এই পর্যায়ে হালকা ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো সিদ্ধার্থ,, মেয়েটার জেদ তার ভালো লেগেছে। এরকম মেয়ে পাওয়া বড্ড রেয়ার। সিদ্ধার্থ আরেকটু কৌতুহল নিয়ে সুধালো — সারা জীবন এরকম সাদা পোশাক ই পরবেন? অন্য রং কি কোনোদিনি জায়গা পাবেনা আপনার জীবনে?
,,, ইরা মুচকি হাসলো,, যেনো মনের মাঝে কোনো অলিক ভাবনা বিচরণ ঘটেছে। সে মাথা নাড়িয়ে বললো — পরবোতো,, একদিন লাল টকটকা একটা শাড়ি পরবো। আপনাদের ধর্মে তো বিয়ে করার সময় লাল শাড়ি দেওয়া হয়,, আপনার ভাই যেদিন আমায় মানবে। অর্পনাকে ভুলে সুস্থ হয়ে আমার কাছে ফিরে আসবে সেদিন একটা লাল রঙা শাড়ি পরে বিয়েতে বসবো। এরপর থেকে আপনার ভাই যেই রঙে আমায় দেখতে চাইবে সেই রঙেই সাজবো আমি। আমার এই সাদা কালো জীবনটা সেদিন রঙিন হয়ে উঠবে।
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩৯ (৫)
,,,ইরার প্রতিটি বচনে তীব্র রাগ হলো সিদ্ধার্থের। এতোটা মাথা খারাপ মেয়ে সে আগে দেখেনি। টানা আটটা দিন ধরে সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে সে এখানে পরে আছে। সারাদিনে আদির সাথে দুই থেকে তিনবার দেখা হয়, এর বাহিরে তো কিছুই না। খুব একটা কথাও হয়না। আদি ওকে বোন ছাড়া কিছু মনেও করেনা,, তবুও মেয়েটা পাগলামি করছে। এটাকে তো পাগলামি ই বলে,, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও মারাত্মক ভুল করছে মেয়েটা। সিদ্ধার্থের ইচ্ছা করে মেয়েটাকে দুটো থাপ্পড় দিয়ে গাল ফাটিয়ে দিতে। এতো বড়ো মেয়ে হয়েও ইম্মেচিউরের মতো বিহেভ করছে। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো সিদ্ধার্থ। বাংলাদেশে আর না,, যতো দ্রুত সম্ভব আমেরিকায় পারি জমাবে তারা!!
