Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩০ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩০ (২)

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩০ (২)
রুপান্জলি

,,, তোমার আকাশ ধরার শখ
আমার সমুদ্দুরে চোখ,,
আমি কি আর দেবো বলো?
তোমার শুধুই ভালো হোক,,
তোমার ভোলা ভালা হাসি
আমার বুকের ভিতর ঝড়
তুমি চলতি ট্রেনের হাওয়া
আমি কাপি থরথর
,,তোমার নানান বাহানায়
আমার জায়গাটা কোথায়?
আমি কি এক ঘোরে থাকি,,
ছিলো কতো কথা বাকি,,
,,,তোমার গোপন সবি রয়,,
,,,আমার আপন মনে হয়,,,
,, আমি ভোরের ঝড়া পাতা,,
,,আমার মরার কিসের ভয়?
,,,তুমি অন্য গ্রহের চাদ,,
আমার একলা থাকার ছাদ,,
তোমার ফিরার সম্ভাবনা,,
অমাবস্যায় জোছনা,,

,,,বারান্দার রেলিং ধরে আকাশের পানে তাকিয়ে আছে অর্পনা, চোখে উপচে পরা জল আর ঠোঁটে বিরহের গান। সত্যি ই তো তার নানান বাহানায়, অর্পনার জায়গাটা কোথায়? নাহ!! নেই, কোথাও নেই সে। অর্পনা তো ভোরে ঝড়া শুকনো পাতার মতো ঝড়ে পরছে,, সেটা কুরিয়ে নেবার জন্য হলেও সে আসবেনা। আর আসবেনা,, ভালোবাসা চাইবেনা,, কোলে মাথা রেখে, হাত টেনে চুলের ভাজে রেখে হাত ভুলিয়ে দেবার বায়না করবেনা। প্রতি সপ্তাহে ক্লিন সেইভ করার জন্য সেইভ জেল নিয়ে ছুটাছুটি করা হবেনা কারন, লোকটা এখন তার জু-লাইন বরাবর সুন্দর কারে দাড়ি কাটবে। এব্রো থ্যাব্রো কাকে খাওরা চুলের মতো হেয়ার কাট দেওয়া হবেনা,, কারন এখন লোকটা দামি সেলুনে নিজের চুলের আয়তন মাপাবে। গোসলের সময় পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দেবার যন্ত্রণা ভোগ করতে হবেনা কারন সে অর্পনাকে ছাড়া বাচতে শিখে গিয়েছে। রোজ তিন বেলা খাবার নিয়ে একটা দানবকে বকাবকি করে খাওয়াতে হবেনা,, রোজ রাতে সাপের মতো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরার জন্য সে আর রাগ করবে না,, সকালে ভার্সিটি যাবার তারা দেখালে সে আর বলবেনা “” হাসবেন্ড আগে নাকি ভার্সিটি আগে?”” আর কিছু হবেনা। আগের মতো ভালোবাসা হবেনা,, ভালো থাকা হবেন,, কিছু হবেনা,,, কিছুইনা। তবুও সে ভালো থাকুক,, নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিক,, অর্পনা নাহয় নাই থাকলো, দুঃখের সময় কাছে রেখেছে বলে সুখের সময় ও রাখতে হবে এমন তো কথা নেই।

,,, ইদানীং অর্পনার শরীরটা খুব খারাপ যাচ্ছে। টানা ৬ দিনের জ্বর শেষে শরীরটা বড্ড দূর্বল হয়ে পরেছে। এখনো কেমন জ্বর জ্বর অনুভব হচ্ছে, হয়তো আবারও জ্বর আসবে। আজ দশ টা দিন ধরে বাড়ি ফিরেনা দ্বীপ। বিহানের কাছে কল দিয়ে জানতে পেরেছে দ্বীপ নাকি তিনদিন আগেই জয়পুরহাট থেকে ঢাকায় ফিরেছে তবে বাড়িতে আসেনি। তিনি বর্তমানে নিজের ফ্লাটে আছেন,, কবে আসবে জানতে চাইলে বিহান ভাই জানালেন এই বিষয়ে তিনি নিজেও জানেন না। এরপর কল কেটে দিয়েছে অর্পনা,, আর কিছু জানার নেই,, আর কিছুই বুঝার নেই,, নিশ্চয়ই অর্পনা মির্জা বাড়িতে আছে বলেই উনি বাড়িতে ফিরতে চাচ্ছেন না? ইট্স ওকে!! এমনটা তো হওয়ারি ছিলো, অর্পনা কিছু মনে করেনি,, একটুখানি রাগ ও হচ্ছেনা আর না কষ্ট হচ্ছে। তাকে নিয়ে যখন উনার এতো সমস্যা, তখন সে নাহয় নিজের মতো, নিজের রাস্তায় হাটা ধরবে । তারপর নিশ্চয়ই উনি বাড়ি ফিরবেন?ভেবেই মলিন হাসলো অর্পনা, পরপর বারান্দা ছেড়ে রুমের ভিতর এলো। এগিয়ে গিয়ে বিছানার তলা থেকে একটা ট্রলি বের করলো,,এটা অনেক আগেই কিনে রেখেছিলো সে।

যেখানে ফলাফল আগে থেকেই জানা, সেখানে এতো ভনিতা করা মানায়না। ওয়াসরুমে ঢুকে ওপাশের রুম থেকে নিজের টাকায় কিনা জামা কাপর আর প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গুলো এনে ট্রলিতে ভরে নিলো। কাপর গোছাতে নিয়ে দুহাতের দিকে খেয়াল করলো,, তার হাতে জ্বল জ্বল করছে দ্বীপের নামে পরা চুরি, নাকে চকচক করছে দামি হিরার নাক ফুল,, কানে এক জোড়া সুন্দর কানের দুল,, গলায় পেন্ডেন্ট সহ স্বর্নে চেইন,, এগুলো একটাও তার নিজের টাকায় কিনা নয়। সবকয়টা মাহিদ মির্জা মানে অর্পনার শ্বশুর দিয়েছে তাকে।এই মানুষটা খুব ভালো, সাথে চাচা শ্বশুর গুলো ও বড্ড অমায়িক মানুষ। শ্বাশুড়ি নামক চাচি শ্বাশুড়ির মাঝে মা মা গন্ধ পাওয়া যায় তবে অর্পনা কখনো সেই ঘ্রান গ্রহণ করতে চায়নি। কিভাবে গ্রহন করতো? গ্রহন করতে গিয়ে যদি উনাকে মায়ের জায়গা দিয়ে বসতো? তাহলে আজ ছেড়ে যেতে তার বড্ড কষ্ট হতো। দুটো ননদ একটা দেবর আরেকজন বড়ো ভাই, তারাও খুব ভালো। বিহান নামক ভাইয়াটা একটু বেশি ভালো,, উনি তাকে বোন মেনেছিলেন তাই না চাইতেও উনাকে মনে মনে ভাই স্বীকার করতো অর্পনা,, মেধা তো ছিলো তার বন্ধু মতো। ছোট চাচি, পরশি আর আরিবের সাথে তেমন সময় কাটানো হয়নি তবে তারাও ভালো।

মির্জা বাড়ির প্রতিটি মানুষ ই খুব ভালো কিন্তু তাদের সান্নিধ্য তার মতো অভদ্ররা ডিসার্ভ করেনা। ভাবতে গিয়ে অর্পনার গলায় কান্নারা দলা পাকিয়ে এলো, অবাক হলো অর্পনা। তার কান্না পাচ্ছে? গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে মন চাচ্ছে? কিন্তু কেনো? সে তো কাদেনা,, কাদতে পারেনা,, তার চোখের জল তো শুকিয়ে গিয়েছিলো,, মনটা হয়েছিলো পাথর সমান। তাহলে আজ এতো ব্যাথা, এতো কান্নার উৎস কি? শুধুই ভালোবাসা? এই ভালোবাসার মুল্য কি? যাকে ভালোবাসলো সে তো পরিচয় জেনেই ছুড়ে ফেলে গেলো,, যাবার আগে একটাবার ফিরে তাকালো না। আজ দশদিন পেরিয়ে যাচ্চে, একটা কল, একটা টেক্সট কিংবা সামান্য খোজ খবর নেওয়ার ও প্রয়োজন মনে করেনি। তপ্ত শ্বাস ফেলে স্টাডি টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলো অর্পনা , চেয়ারে বসে খাতায় ঘসঘস করে কিছু একটা লিখলো। পরপর হাতের চুড়ি, কানের দুল, গলার চেইনটা খুলে নাকের ফুলটা খুলতে নিয়েও থেমে গেলো। নাক ফুল দেওয়ার সময় শ্বাশুড়ি মা বলেছিলেন, বিবাহিত নারীদের নাকে ফুল পরতে হয়, নয়তো স্বামীর অমঙ্গল হয়।

অর্পনা জানে এসব কুসংস্কার তাও ভয় পাচ্ছে। যদি দ্বীপের কোনো ক্ষতি হয়? লোকটা তো এখোনো সুস্থ নয়। তার উপর এখন নিশ্চয়ই রাজনীতি, শত্রু আর ক্ষমতা ক্ষমতা খেলায় মেতে উঠবেন? এমতাবস্থায় নাকফুল খোলার মতো কাজ সে করতে পারবেনা। অগত্যা নাক ফুলের পরিবর্তে ট্রলি থেকে চারটা ওয়াচ বের করে খাতার উপর রাখলো। কিছু একটা মনে করে আবারও খাতায় ঘসঘস করে কিছু লিখলো। লেখা শেষ হলে ট্রলি হাতে নিচের দিকে হাটা দিলো। এখন রাত ১ টা বেজে ২২ মিনিট। পুরো বাড়ি নিস্তব্ধতায় ঘেরা, যে যার মতো রুমে ঘুমাচ্ছে,, ও চাইলে সন্ধায় ই যেতে পারতো কিন্তু এই বাড়ির লোক গুলো তাকে যেতে দিতো কিনা সন্দেহ। যেনো কেউ আটকে দিতে না পারে তাই যাবার জন্য রাতের শেষ বেলাটাই বেছে নিয়েছে সে । হলরুম ছাড়ার সময় অর্পনার পা দুটো কেমন ভারি হয়ে আসছিলো কিন্তু এসব পিছুটানে সে গলবেনা। আর যাকে পিছুটান হিসেবে বুঝে,, সেই তো তাকে চায়না তাহলে কার জন্য পরে থাকবে এখানে,?

,,,সদর দরজা পেরুতেই কালো পোশাক ধারি গার্ডদের দেখতে পেলো,, যারা তাদের নিয়ম মাফিক মির্জা বাড়ি পাহারা দেওয়ায় ব্যাস্ত। এতো রাতে অর্পনার হাতে ট্রলি দেখে মেইন গার্ড দৌড়ে এলো তার সামনে। অত্যন্ত সবিনয়ের সাথে প্রশ্ন করলো — ম্যাম!! কোথাও যাচ্ছেন? গাড়ি বের করতে বলবো? কতোজন গার্ড সাথে নিবেন ম্যাম?
,,, অর্পনা মুচকি হাসলো পরপর ট্রলিটা নিচে রেখে হাতল ধরে টেনে সামনে পা বাড়িয়ে বললো — কিছু লাগবেনা। আপনারা আপনাদের কাজ করুন,, আমি যে বাহিরে যাচ্ছি, আপাতত কাউকে জানাবেন না। সময় হলে আমি নিজেই সবাইকে জানিয়ে দিবো।
,,, গার্ডটি মানলো না, এখানকার সবাই জানে স্যার তাদের ম্যামকে ছাড়া কিছুই বুঝেনা। খাওয়া থেকে শুরু করে গোসল সবটা ম্যাম নিজের হাতে করে। এক হিসেবে তাকে স্যারের প্রান ভোমরাই বলা চলে,, সেই প্রান ভোমরাকে তো আর এভাবে যেতে দেওয়া যায়না। তাই বাদ সেধে বললো — নো, ম্যাম!! আপনাকে আমরা এভাবে যেতে দিতে পারিনা। আপনি আমাদের স্যারের প্রান ভোমরা, তা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
,,,প্রান ভোমরা? হাসি পেলো অর্পনার। এই গার্ড টি কি জানে? তাদোর স্যার প্রাণভোমরা ছাড়া বেচে আছে আজ ১০ দিন পেরিয়ে যাচ্ছে। যে মানুষ ১০ দিন থাকতে পারে সে ১০ যুগ ও থাকতে পারবে। আল্লাহ উনাকে ভালো রাখুন । অর্পণা তপ্ত নিশ্বাস ফেলে বললো — বেশি দূরে যাচ্ছিনা,, এইতো সামনেই। আর আপনারা বোধয় জানেন না আমি অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে পছন্দ করিনা। ভালো থাকবেন।
,,,বলেই বাহিরের দিকে পা বাড়ালো। অর্পনাকে যেতে দেখে বিহানের মোবাইলে কল দিলো গার্ড টি,, ওপাশ থেকে বন্ধ বলছে। তিব্র সাহস নিয়ে দ্বীপের মোবাইলে কল ডুকানোর পরেও দেখলো একি অবস্থা। কোনো উপায় না পেয়ে আগের মতোই দাঁড়িয়ে রইলো,,, মালিক পক্ষের অনুমতি ব্যাতিত কিছু করার ক্ষমতা তাদের নেই।

,,,ভঙ্গুর অর্পনা যতই নিজেকে স্ট্রং দেখানোর ট্রাই করুক না কেনো তার ভিতরটা ফেটে যাচ্ছে। সবার করা ভবিষ্যত বানীটুকুই সত্যি হলো? অর্পনা এতোদিন শুধু এই চেহারা টুকুর জন্যই দ্বীপের কাছে এতোটা প্রাধান্য পেয়ে এসেছে? চেহারার বাধে এই অর্পনাটা? তার মনটা? এতো এতো ভালোবাসা? আদর-স্নেহ? কোনোটারি মুল্য নেই উনার কাছে? এতোটা পাষান কি করে হলেন? এতোগুলো দিনে একটু খানি মায়াও জন্মায়নি তার জন্য? আর ভাবতে চাইলোনা অর্পনা,, তার এখন থাকার জন্য একটা জায়গা খুজে বের করতে হবে। নিজের বলতে পাপ্পা ছাড়া তো কেউ নেই,, না আছে চাচার বাড়ি আর না ফুপির বাড়ি,, মামা খালারা তো দেখতেই পারেনা। এমতাবস্থায় নিজেকে সেইফ একটা প্লেইস দেওয়া বড্ড টাফ। কম করে হলেও ৫-৬ দিন নিজেকে এই শহরে টিকিয়ে রাখতে হবে। তারপর সোজা অস্ট্রেলিয়ায় পারি জমাবে,, এরপর আর কেউ তার দেখা পাবেনা। না পাপ্পা পাবে আর না ঐ পাষান পুরুষ।

হাটতে হাটতে মির্জা গলি পেরিয়ে বস্তির গলিতে পৌছালো। মির্জা বাড়ি থেকে সোজা মেইন রোডের যেই রাস্তাটা ঐদিকে গেলে শুধুই রোড,, সেদিকে মির্জাদের পাঁচটা হোটেল ব্যাতিত আশেপাশে আর কোনো হোটেল পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই বাম দিকে পথ ধরে বস্তির গলিতে পৌছালো,, এদিক বরাবর হাটলে ঠিকি একটা মানসম্মত হোটেল পেয়ে যাবে। গলিতে হাটতে গিয়ে অর্পনা হালকা অস্বস্তি হচ্ছে,, এরকম অলিগলিতে নেশা*খোরের অভাব থাকেনা। তারউপর রোড সাইডে থাকা প্রতিটি হোটেল আবাসিক,, মানে খা*রাপ জায়গা। যতই ক্যারাটে, বক্সিং, ফাইটিং জানুক না কেনো এই মুহুর্তে ওর মনের অবস্থা যতখানি বিদ্ধস্ত সেই মন নিয়ে ফাইট করার মতো শক্তি পাবেনা। এই মুহুর্তে কোনো অঘটন ঘটে গেলেও লড়াই করার মতো শক্তি তার নেই সেই সাথে শরীরটা গরম হয়ে আসছে,, মাথাটা কেমন ঘুড়ছে,, যখন তখন পরে যেতে পারে।

এতোক্ষণ যা আশঙ্কা করছিলো এবার তাই ঘটলো,, গলির মোরে পৌছাতেই ৫ জন ছেলেকে গোল হয়ে বসে তাস খেলতে দেখা গেলো সাথে গা*জা কিংবা আঠা আছে নিশ্চয়ই? এসব তরুণ সমাজদের দেখলে অর্পনার খুব খারাপ লাগে, কে জানে? কে কোন কারনে এসব হাতে নিয়েছে। কেউ হয়তো ফ্যামিলি প্রেসার, প্রেমিকার থেকে পাওয়া ধোকা কিংবা ব্যাকারত্ব, এমনি এমনি তো কারোর স্বভাব খারাপ হয়না। ছেলেগুলোকে এভোয়েট করে সামনের দিকে হেটে গেলো অর্পনা,, তার হাটার শব্দ না হলেও ট্রলির চাকার শব্দে ফিরে তাকালো ছেলেগুলো। স্বভাব খারাপ না হলোতো আর এখানে বসে থাকতো না। অগত্যা নিজেদের খারাপ স্বভাবের প্রমান দিতে হেলতে দুলতে অর্পনার সামনে গিয়ে দাড়ালো। অর্পনা জানতো এরা আসবে,, তাই ওরা কিছু বলার আগেই সে শান্ত কন্ঠে বললো — নিজেদের কাজে যা, বিরক্ত করিস না। মারার মুড নেই,,

,,,,অর্পনার কথায় বিশ্রী ভাবে হেসে উঠলো ছেলেগুলো। হাসতে হাসতে একদম ঢুলে পরে যাওয়ার মতো অবস্থা। এমনিতেই নে*শা খোর কিংবা আ*ঠা খোররা একদম চিকনা -পাতলা হয়, তবুও তাদের মধ্যে সবচেয়ে চিকন ছেলেটা অর্পনার দিকে মুখ এগিয়ে হা করে শ্বাস ফেলে বললো — বেবি গার্ল!! তোমার মুড পাওন লাগবোনা,, রুমে চলো, মুড আমরা বানায় দিবো।
,,, গা*জার অসহ্য গন্ধে মুখ বিকৃত করে নিলো অর্পনা, মুখে বললো — রামছাগলের জাত,, নিজেদের কাজে যা। সত্যি মারার মতো মুড পাচ্ছিনা, মাথায় যেই পরিমান রাগ উঠে আছে,, ট্রাস্ট মি মারতে শুরু করলে একদম মেরে ফেলবো।

,,, আরেকটা ছেলে পিছন থেকে অর্পনার উড়না টেনে নিলো, জরজেটের উড়না হওয়ায় গলায় হালকা ব্যথা পেলো অর্পনা। ছেলেটা উড়না হাতে নিয়ে পেচাতে পেচাতে হেসে উঠলো,, অর্পনা ঘাড় বাকিয়ে সেই ছেলেটার দিকে তাকালো। শরীরের জ্বর থাকায় অর্পনার চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে,, এভাবে শকুনের ন্যায় তাকাতেই ছেলেটা থতমত খেয়ে গেলো। পাশ থেকে আরেকটা ছেলে অর্পনার হাত ধরে টেনে বললো —
,,, চলো, সোনা!! আমরা তোমার হাতে মরতে চাই, চলো।
,,,অর্পনা কিছু বললো না, হাতের ট্রলিটা ফেলে ছেলেটার সাথে কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে হুট করে ছেলেটার হাত শক্ত করে ধরে হেচকা টান মারলো। তাল সামলাতে না পেরে মাটির দিকে ঝুকে গেলো ছেলেটা,, অর্পনা দাতে দাত পিষে কোমর বরাবর লাত্থি দিলো, পিচ ঢালা রাস্তায় মুখ থুবরে পরলো ছেলেটা। সাথে সাথে বাকি পাচটা ছেলে এগিয়ে এসে ওর হাত ধরতেই হাটু দিয়ে দুটোর জায়গা মতো মেরে দিলো, পরপর মাথা দিয়ে একটা ছেলের নাকে বাড়ি মারলো। নাক ফেটে রক্ত গড়াতেই ছেলেটা মাটিতে বসে পরলো।সবকটা নে*শায় বুধ ছিলো তাই মার খেয়ে উঠার প্রয়াস করতে পারেনি।বাকি দুটো, একটা ছেলে ঠাস করে ওর গালে চর মারলো, ফুসে উঠলো অর্পনা, এই ছেলেটাই ওর উড়না নেওয়ার সাহস করেছে, এটাকে আজ সে খুন ই করে ফেলবে। যে উড়না দ্বীপ তার গায়ে জড়িয়ে দিয়েছিলো সেই উড়নায় হাত দেওয়ার মতো সাহস দেখানোর পর বাচার ইচ্ছা পোষন করা নাজায়েজ হয়ে যায়।

শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দুটোকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো অর্পনা। পরপর ময়লা ঝাড়ার মতো হাত দুটো ঝেড়ে হাটুর নিচ পর্জন্ত থাকা গাউনটা তুলে লুঙ্গির মতো কোমরে পেচ দিয়ে নিলো। যেই দুটো এখনো তরতাজা আছে সেদুটোর দিকে চিলের ন্যায় দৃষ্টি ফেলে বললো — বলেছিলাম মুড নেই,, কিন্তু আল্লাহ এর নাপাক বান্দা তদের শান্তি হয়নি। শ*রীর ভরা যাতনা? চল আজ রাস্তার মাঝখানে তদের চা*হিদা মিটিয়ে দেই।
,,, ছেলে দুটো এবার একটু ভয় পেলো,, তারা বোধহয় ভুল করে ফেলেছে,, এই মেয়ে মোটেও ভোলাভালা নয়। ছেলে দুটো উল্টো দিকে ঘুড়ে দৌড় দিতে নিলে অর্পনা তেরে গিয়ে পিছণ থেকে একজনের পেন্ট টেনে কাছে এনে হাটু দিয়ে কোমরের মাঝ বরাবর পিক কারলো। এটা পরে যেতেই দৌড়ে গিয়ে উড়না নেওয়া ছেলেটার কলার টেনে ধরলো। ছেলেটা বোধহয় বেশি একটা নেশা করেনি, শরীরে এখনো যথেষ্ট শক্তি আছে। সে নিজের আত্মরক্ষার জন্য অর্পনার চুল টেনে ধরলো। চুল ধরায় আরও ক্ষিপ্ত হলো অর্পনা। দ্বীপের স্পর্শ করা প্রতিটি জায়গায় আঘাত করছে এই ছেলে। পেট বরাবর কিক মেরে নিচে ফেলে বুকের উপর উঠে বসে মুখ বরাবর ইচ্ছামতো ঘুষি মারতে থাকলো ছেলেটা প্রতিহত করতে চাইলে উড়না পেচানো হাত থেকে উড়নটা খুলে দুহাত বেধে দিলো।

এমতাবস্থায় আকাশ কাপিয়ে ঝরঝর বৃষ্টি নামলো। এই বৃষ্টির পানি আর রাতের আধার মিলিত হয়ে পুরোনো অতিত আর বর্তমানের আক্ষেপ সবকিছু মিলিয়ে অর্পনার মাথায় ঝেকে বসলো। রাগে ক্ষোবে আদ্রিয়ানের উপর থাকা রাগ, দ্বীপের বেইমানি, বারবার ঠকে যাওয়ার কষ্ট উগ্রে দিলো ছেলেটার উপর। মারতে মারতে অর্পনা এতো পরিমান হিংস্র হয়ে উঠেছে যে হাপাতে হাপাতে এদিক ওদিক তাকিয়ে রাস্তার ধারে থাকা পাথরের দিকে নজর আটকালো। ঢোক গিলে গাড়ো নজরে একবার ছেলেটাকে আরেকবার ঐ পাথরটা দেখে ফুসতে ফুসতে উঠে দাড়ালো। তেড়ে গিয়ে পাথরটা এনে সজোরে ছেলেটার মুখ বরাবর বাড়ি মারতে নিতেই একটা শক্তপোক্ত হাত অর্পনার কোমর জড়িয়ে ধরে অন্যাদিকে সরিয়ে নিলো। যার ফলে পাথরটা ছিটকে রাস্তার পিচ ঢালা রাস্তায় পরেছে,, দক্ষিণ দিক থেকে আসা জলস্রুতে পাথর পরতেই অনেক টা পানি চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো। অর্পনা সেই অজ্ঞাত লোকটাকে দেখার প্রয়াস করলো না,, গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো। হাওমাও করে কাদতে কাদতে লোকটার হাত থেকে ছাড়া পেতে চাইলো কিন্তু শক্ত পোক্ত লোকটার হাত থেকে ছাড়া পেলো না। অর্পনার করা জোড়াজুড়িতে লোকটা হাপিয়ে গেলো বোধয়, ওকে বুকের সাথে ঝাপ্টে ধরে পিচ ঢালা রাস্তা হাটু ভাজ করে বসে পরলো। কে তাকে জড়িয়ে রাখলো, কে তাকে আটকে দিলো সেদিকে মন নেই অর্পনার, সে পাগলের মতো পিচ ঢালা রাস্তায় ঘুষি দিতে ব্যাস্ত। লোকটা আটকে দিলো সেই হাত, কিন্তু অর্পনা বাধা মানছেনা। হাত ছাড়িয়ে আবার ঘুষি বসাতে নিলে লোকটা তার শক্ত পোক্ত হাত রাস্তার উপর রেখে দিলো। হিতাহিত জ্ঞান হাড়িয়ে অর্পনা সেই হাতের উপর ঘুষি মারতে মারতে চিৎকার করে বললো —

,,, আই হেইট ইউ, আই হেইট অল। তরা সব বিশ্বাস ঘাতক, কাউকে ক্ষমা করবোনা আমি। সার্থপরের বাচ্চা!! অর্পনা কাউকে ক্ষমা করবেনা। কাউকে চাইনা অর্পনার,, আই হেইট লাভ,, আই অলসু হেইট দেট!!
,,, ধীরে ধীরে অসার হয়ে এলো অর্পনার দেহটা,, কন্ঠে কথা জড়িয়ে এলো, পরপরি অচেতন হয়ে ঢলে পরলো সেই মানবের বক্ষস্থলে। মানবটি শক্ত করে জড়িয়ে নিলো অর্পনাকে। অনেকটা সময় এভাবেই বসে রইলো। ঝরঝরে বৃষ্টির ঝাপটায় দুজনেই ভিজে চুপচুপা। অজ্ঞাত মানবটি অর্পনাকে কোলে তুলে নিয়ে ভঙ্গুর পায়ে উঠে দাড়ালো। কিছুপথ পিছিয়ে রাস্তায় পরে থাকা ট্রলিটা হাতের ভাজে নিয়ে হাটা ধরলো সামনের দিকে। বৃষ্টির কনার সাথে মিশে যাচ্ছে সেই মানবের চোখের পানি, আর সেই পানি গড়িয়ে পরছে অর্পনার মুখদ্বয়ে।

,,, ডুবলিকেট চাবি দিয়ে ফ্লাটের দরজা খুলে নিশ্বব্দে ঘরে ঢুকতেই বিহানের মুখোমুখি হলো দ্বীপ। সে বসার ঘরে বসে দ্বীপের জন্যই অপেক্ষা করছিলো। দ্বীপকে ঘরে ঢুকতেই বিহান এগিয়ে গেলো,, সামনাসামনি হওয়ার পরেও পাশ কাটিয়ে চলে গেলো দ্বীপ । ওর কাজে একটু ও খুশি হলো না বিহান,, এখানে আসার পর থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য তাড়া দিচ্ছে কিন্তু দ্বীপের কানে যেনো সেসব কথা পৌছানোর নাম ই নেই। এমনকি ঢাকা আসার পর থেকে ওর দেখাই পাওয়া যায় না। কই থেকে কই যায়? কার কাছে যায়? কি করতে যায়? কোনো হিসেব নেই বিহানের কাছে। প্রতিদিন রাত দুইটা, তিনটা, সারে তিনটায় ফ্লাটে ফিরে আবার বিহান ঘুম থেকে উঠার আগেই কোথাও একটা চলে যায়। আজ ভেবেছিলো সকালে ঘুম থেকে উঠে যেভাবেই হোক বাড়ি নিয়ে যাবে কিন্তু প্রতিদিনকার মতো আজকেও ঘুম থেকে উঠে দ্বীপের রুমে গিয়ে দেখে ওখানে দ্বীপের কোনো অস্তিত্বই নেই। বিহানের মাথা কাজ করেনা,, একটা মেয়েকে সে ভরসা দিয়ে ভাইয়ের বউ করে আনলো। আজ আটমাস সংসার করার পর সেই মেয়ের জন্য এক বিন্দু মায়া দেখানোর সময় পাচ্ছেনা। আচ্ছা!! শুধু পরিচয়টাই কি আসল? মানুষটার কোনো মুল্য নেই? এইযে অর্পনা আটমাস ধরে কঠোর পরিশ্রম আর ধৈর্য নিয়ে ওকে সুস্থ করে তুললো তার কোনো দাম নেই? এতোগুলো দিন ওরা যেভাবে একে অপরের সাথে মিশে ছিলো, সবটাই কি পারুর মতো অর্পনার মুখটা বলে? বিহানের কাছে দ্বীপকে বড্ড সার্থপর মনে হচ্ছে,, সে কখনোই ভাবেনি দ্বীপ এতোটা অকৃতজ্ঞ হতে পারবে। বিহান দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে দ্বীপের রুমে ঢুকলো। এটুকু সময়ে দ্বীপ ওয়াসরুমে ঢুকে পরেছে। ওর নাগাল না পেয়ে বিহান ঘরময় পাইচারি করতে লাগলো। কাটায় কাটায় ছয় মিনিট পরে ওয়াসরুম থেকে বের হলো দ্বীপ। আবারও বিহানকে মুখোমুখি দাড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুচকে গম্ভীর কন্ঠে সুধালো —

,,, হোয়াট? এভাবে পিছন পিছন ঘুরছিস কেনো? এনি প্রবলেম?
,,, বিহান চোখ গরম করে তাকিয়ে বললো — জানিস না কি প্রবলেম? তুই কি বাড়ি যাবিনা? ওখানে তর বউ তর জন্য অপেক্ষা করছে। আট মাস সংসার করার পর নাটক মা*রাচ্ছো তুমি? তোমার নাটক দেখার জন্য বসে আছি? লজ্জায় নিজেও বাড়িতে ঢুকতে পারছিনা। মেয়েটাকে কি জবাব দিবো আমি? মেধাটারো শরীর ভালোনা, আমার বাড়ি যাওয়া প্রয়োজন, সাথে তর নিজেরো।
,,, দ্বীপ যেনো কথা কানেই তুললো না, সে এগিয়ে গিয়ে বিছানায় বসে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছায় ব্যাস্ত হয়ে পরলো। বিহান এগিয়ে এসে দ্বীপের সামনে দাড়িয়ে আবারো কড়া কন্ঠে বললো — আমার কথা কানে যাচ্ছেনা তর? তুই এতোটা অমানুষ কবে হয়ে গেলি জোহান? তকে ভাই বলতেও আমার বিবেকে বাধছে। আমি যে কোন কুক্ষণে মেয়েটার জীবনটা নষ্ট করতে গেলাম, আল্লাহ মালুম।
,,, এবার মুখ খুললো দ্বীপ,, চোখ মুখ বিকৃত করে বললো — সে কি হয় আমার? বউ না? আমার বউয়ের বিষয় আমি বুঝে নিবো। যাহ!! নিজের কাজে যা। জালাসনা।
,,,তেতে উঠলো বিহান — তকে জ্বালাচ্ছি আমি? এই একটা কথা গত তিনদিন ধরে বলে যাচ্ছিস কিন্তু একটাবার মেয়েটার খোঁজ পর্যন্ত নিসনি,, তুই নিজেও জানিস না অর্পনা কতটা জেদি। একবার ছেড়ে গেলে আর কখনো ফিরাতে পারবিনা। ও মরে গেলেও তর কাছে ফিরবেনা।

,,, দ্বীপ ভাবলেসহীন ভাবে বললো — তাহলে মরার পর ফিরবে,, সমস্যা নেই।
,,, মাথা খারাপ তর? এসব কি বলছিস? মরার কথা কেনো বলছিস, পারু মরার পর বেচে গিয়েছিস বলে ভাবছিস অর্পনা মরার পরেও বেচে যাবি? নাহ!! আর কখনোই তকে বাচাতে আমি অন্য একটা মেয়ের জীবন আনি নষ্ট করবোনা। তুই পাগল হয়ে পথে পথে ঘুড়লেও আমি খোজ নিতে আসবোনা,, দেখে নিস।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩০

,,,দ্বীপ উত্তর করলো না,, সে ফোনে কি যেনো ঘাটাঘাটি করছে। বিহানের রাগ আকাশ চুম্বি হলো,, সে তেড়ে এসে দ্বীপের হাত থেকে ফোনটা কেরে নিয়ে বিছানায় ছুড়ে মেরে বললো — আমার কথা বুঝতে পারছিস না নাকি সিরিয়াসলি নিতে চাচ্ছিস না? অর্পনা খুব জেদি ভাই, প্রচন্ড জেদি। ও যাকে একবার ছেড়ে দেয় তার দিকে ফিরেও তাকায়না।
,,, দ্বীপ ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো, সাইড টেবিলে থাকা ল্যাম্পটা বন্ধ করে বিহানের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়লো — কতোটা জেদি? আমার থেকেও বেশি?

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩১