Home ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি ৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৬

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৬

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৬
রুপান্জলি

,,,,চোখ পিটপিট করে তকিয়ে সামনে দ্বীপকে দেখে ধরফরিয়ে উঠলো পারমিতা, তারাহুরো করে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে আওড়ালো — আমাকে মারবেন না, প্লিজ মারবেন না। প, পি প্লিজ!! আমার সংসার করার খুব সখ, সংসার করার আগে মরতে চাইনা। মারবেন না, মারবেন না।
,,বলতে বলতে আবারও জ্ঞান হাড়ালো। ওকে আবারও জ্ঞান হাড়াতে দেখে দ্বীপ দাত কটমট করে বিহানের দিকে তাকাতেই বিহান ঠোঁট উল্টে ইনোসেন্ট ফেইস করে বললো–
,,আমি কি করলাম ভাই? আমাকে চোখ রাঙাস কেনো ? আমি কি ওকে আবারও জ্ঞান হাড়াতে বলেছি?
,,দ্বীপ এবার ওর থেকে নজর সরিয়ে পারুর দিকে তাকালো। বেয়াদবটা তাকে ভয় পেয়ে জ্ঞান হাড়িয়েছে। আবার অনুরোধ করে বলছে মারবেন না, মারবেন না। সে কি ওকে মারতে এসেছে নাকি? দ্বীপ কি খুনি? নাকি বাঘ ভাল্লুক? সে নাহয় শত্রু পক্ষকে একটু মারলোই, তাতে এতো ভয় পাওয়ার কি আছে? বেয়াদব মেয়ে একটা। দ্বীপ এবার এক গ্লাস পানি পুরোটা পারুর মুখের উপর ছুড়ে মারলো। আকষ্মিক কান্ডে পারু কাশতে কাশতে চোখ মেলে তাকালো। আবারো চোখের সামনে দ্বীপকে দেখে চোখ বন্ধ করতে নিলে,, দ্বীপ শার্টের হাতা দিয়ে মুখে লেগে থাকা শুকনো রক্ত টুকুন ঘষে খেকিয়ে উঠলো —

,,,আরেকবার জ্ঞান হাড়াবি, চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দিবো।
,,,পারু চোখ বড় বড় করে তাকালো, এতো বড়ো হুমকি দিয়ে বলে তাকে জ্ঞান না হাড়াতে। অথচ পারুর মতো ভীতু মেয়েদের জ্ঞান হারানোর জন্য এটুকু হুমকি ই যথেষ্ট। পারু যখন আবিস্কার করলো সে দ্বীপের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে, তৎক্ষনাত তারাহুরো করে উঠে বসলো। নিজেকে রেস্টুরেন্টের ফ্লোরে আবিষ্কার করতেই দ্বীপের থেকে থেকে কিছুটা পিছিয়ে গেলো। ওকে পিছাতে দেখে দ্বীপ রাগান্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বাহু চেপে ধরে দূরত্ব গুচালো, বর্তমানে দুজনের মুখ একদম সামনাসানি। দ্বীপ হাত উচিয়ে পারুর এক গালে হাত বুলিয়ে চোখের পলক কয়েকবার ঝাপ্টালো। পারমিতার কি হলো কে জানে? সে সব ভুলে সেই নিষ্পাপ চোখের পলক ফেলা আবিষ্কার করতে থাকলো। এই চোখে একবার তাকালে কয়েক মিনিট পারু হুসে থাকেনা। কেনো থাকেনা, সে নিজেও জানেনা। এদিকে ওদের কান্ড দেখে সবাই মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে। তবে দ্বীপের তখনকার কথা বার্তা আর পারুর প্রতি বর্তমানের এটেনশন টুকু চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দিচ্ছে,, দ্বীপ নির্ঘাত পারুর মাঝে ফেসে গিয়েছে। এই কদিনে ভালোবাসা পসিবল কিনা জানা নেই তবে দ্বীপ ফেসেছে,, মারাত্মক হাড়ে ফেসেছে। দ্বীপ সবার ধারনা সত্যি করে দিয়ে পারুর ঠোঁটের নিচের তিলকে বৃদ্ধাঙ্গুল ছুইয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিস ফিস করে আওড়ালো,,

,,,, তুহি আরমান,, তুহি সাচ হে,,
,,,কেহ রাহি,, দিওয়ানিয়াত হে,,
,,,ফায়সালা মে কার চুপাহু,,,,
,,,,তু মেরা হে,, তু মেরা হে!!,,,
,,, অল্প সল্প হিন্দি বুঝতে পারা পারমিতা বুঝে ফেললো দ্বীপ তাকে কি বলেছে। সে আকষ্মিক ধাক্কায় দ্বীপের থেকে দূরে সরে গেলো। এরকম অসাধু পুরুষের ভালোবাসা কিংবা আকাঙ্খা কোনোটাই সে গ্রহন করতে চায়না। পারমিতার এই নিরব প্রত্যাক্ষানে রাগ বাড়লো দ্বীপের। সে তেড়ে গিয়ে পারমিতাকে আবারও নিজের কাছে টেনে হিসহিসিয়ে বললো– হোয়াট!! দূরে সরে গেলি কেনো? বললামনা তুই আমার? আমার মানে আমার, জাস্ট আমার। ওককেহ?
,,,পারমিতার খুব করে বলতে ইচ্ছা করলো — আপনি খারাপ, খু*নি, নে*শাখোর। আপনার মাঝে সকল খারাপ গুন আছে। সব সব!! আপনার হওয়াতো দূর ফিরেও তাকাবোনা আমি। কখনো না, কোনোদিন না।

,,,কিন্তু ভয়ের তোপে বলতে পারলোনা মেয়েটা, তার সত্যি ই বাচার খুব ইচ্ছা। তার সংসার করার শখ, একদম মায়ের মতো একটা সুন্দর সংসার গড়তে চায় সে। আর সাথে চায় বাবার মতো একজন জীবন সঙ্গি, যে তাকে সর্বোক্ষন, সর্বাবস্থায় আগলে রাখবে। সেবার যখন পারুর ছোট্ট বোনটা হাড়িয়ে গেলো, ঐবার আম্মু তো পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলো। তখন আব্বু কতোটা ধৈর্য সহকারে আম্মুকে সুস্থ করেছিলো। এরকম একজন ধৈর্যশীল লোক চায় সে। তবে তার সামনে থাকা মানুষটা খু*নি, কিছুক্ষণ আগে সে নিজের চোখে দেখেছে সেই ভয়াঙ্কর হাসি, এই জাম রঙা ঠোটে রক্ত লেগেছিলো আর ঐ বিড়াল চোখা মায়াবী নয়নে ছিলো লেলিহান অগ্নির দাবানল। এমন একটা লোককে নিয়ে সে সংসার সাজাতে পারবেনা। আবার প্রত্যাক্ষান করলে হয়তো দ্বীপ মির্জা তাকে মেরে দিবে। তখন তো তার আর সংসার করা হবেনা, এটা কোনো মজা নয়, সত্যি ই পারমিতা একটা সংসার সাজাতে চায়। হয়তো এটা শুনলে সবাই মজা নিবে।

বলবে,, বিয়ে পাগল মেয়ে। নাহ!! সে বিয়ে পাগল নয়,, শুধু একটা সাজানো গোছানো সংসারের পাগল।একটা নিয়ম মাফিক জীবনের পাগল। দুটো ফুটফুটে বাচ্চা আর একটা প্রানপ্রিয় সঙ্গির পাগল। সে জানেনা কেনো তার সংসার করার এতো সাধ? তবুও তার একটা সংসার চাই, ভালোবাসাময় সংসার। এই মুহুর্তে তার নিজেকে বড্ড অসহায় লাগছে,, আজ আব্বু থাকলে তার মতো ভিতু পারুকে সাহস যোগাতে পারতো। কিন্তু আব্বু তো নেই। নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে পারু ঠোঁট ভেঙে কেদে উঠলো। ওকে কাদতে দেখে দ্বীপ কন্ঠ টা একটু নরম করতে চাইলো বাট, সে তো এই জীবনে কোনোদিন কারোর সাথে নরম স্বরে কথা বলেনি। তবু্ও এই নরম সরম মেয়েটার জন্য কন্ঠটা একটু নরম করতেই হবে। নয়তো এই মেয়েকে মানানো যাবেনা। এরকম পুতুল পুতুল মেয়েদের আদরে আদরে রাখতে হয়। দ্বীপ পারুর গাল আকরে ধরে চোখের পানি মুছে দিয়ে কিছুটা আদুরে কন্ঠে বললো —

,,,পারু!! আমি তোমাকে ভালোবাসি কিনা নিজেও জানিনা,, ভালোবাসা ই বা কি? তাও জানিনা। তবে ট্রাস্ট করো সেদিন তুমি সি*গারেট চাওয়ার পর আমি নিজের মাঝে ছিলাম না। তোমার মন্ত্রপুতো সেই চাহনির বিনিময়ে, তুমি যদি সেদিন আমার হৃদপিণ্ড টাও চেয়ে নিতে, আমি বুক চিড়ে সেটা দিয়ে দিতাম। পাগল হয়ে গিয়েছিলাম সেদিন। তারপর কলপাড়ে তোমার ঘামার্ত সেই চেহারা আমায় আমার সকল ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছিলো। অথচ, আমি সেদিন সত্রু পক্ষের সাথে মারামারি করে র*ক্ত ধুতে কল পারে গিয়েছিলাম। বুঝোইতো,, যতই মানুষ মে*রে অভ্যস্ত থাকিনা কেনো, ক্লান্তি তো একটা থেকেই যায়। সেদিন তুমি আমার ক্লান্তির অবসান হয়ে ধরা দিলে। প্রতিদিন ভার্সিটির ক্যাম্পাসে যখন তোমাকে দেখতাম।

আমি অকারনেই দেখতে থাকতাম। যেদিন রাতে তুমি সি*গারেটের কথা বললে, সেদিন রাতে জাস্ট ডাউট হয়েছিলো ওটা তোমার কন্ঠ। সেই ডাউট ক্লিয়ার করতে আমি সারা রাত তোমার জানালার পাশে দাড়িয়ে ছিলাম। তারপর থেকে যে দুটো দিন তোমার দেখা পেলামনা, বুকের ভিতর কিছু একটা ক্ষয় হচ্ছিলো। ওটাকে কি বলে? বলোতো,, বিহানকে জিজ্ঞেস করতেই সে বললো এটাকে নাকি হৃদপিণ্ডের অদৃশ্য রক্ত ক্ষরন বলে। আজ তোমায় দেখার পর সেই ক্ষরন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তুমি যখন এখানে পরে গিয়েছিলে তখন আমি না তাকিয়েও বুঝতে পেরেছিলাম তুমি ই পরে গিয়েছো। ও যখন( রিফাতকে দেখিয়ে) তোমাকে ছুতে এসেছিলো আমি না তাকিয়েও বুঝতে পেরেছি কেউ একজন তোমাকে ছুতে যাবে। এটা টান,, ট্রাস্ট মি!! এটা একটা টান। আর এই টানটা ( বুকের বা পাশে আঙ্গুল ঠেকিয়ে) এখান থেকে এসেছে। এবার তুমি রাজি হও বা না হও, তুমি আমার। তোমার প্রতি আমার হৃদয়ে টান লেগেছে মানে তুমি আমার। ইউ আর মাইন, মাই ওয়েলি লেডি। তোমার তেল চকচকে বদনে আমি ফেসে গিয়েছি। আর ইউ লিসেন? ( সবার দিকে তাকিয়ে) আর অল লিসেন? তেলোবতী আমার, পারু শুধু দ্বীপের।

,,,পর পর পারুর কপালে কপাল ঠেকিয়ে কয়েকবার বিরবিরালো — দ্বীপ পারু,, দ্বীপ পারু,, দ্বীপ পারু!!
,,,পারু এতোক্ষণ কান্না দমিয়ে সবটা শুনেছে। শুনেছে তো শুনেছে,, তাতে তার কি? কিছুই এসে যায়না। সে এই খারাপ, খু*নি পুরুষকে নিয়ে ভাবতেও চায়না। এদিকে মারামারি খবর শুনে অফিস থেকে মাহিদ মির্জা আর দলীয় অফিস থেকে শাহিন মির্জা তরিহরি করে রেস্টুরেন্টে ছুটে এসেছিলেন। তবে রেস্টুরেন্টে ঢুকে ছেলের কর্মকাণ্ড দেখে মাহিদ মির্জা রাগে ফেটে পরলেন। কিছুক্ষন আগে ২০-২৫ জন লোককে মেরে রেস্টুুরেন্টের ফ্লোরে বিছিয়ে রেখে এখন রিলেক্সে একটা মেয়েকে ভালোবাসার কথা জানাচ্ছে। এরকম নির্লিপ্ততা বোধয় উনার এই অকর্মন্য ছেলের দ্বারাই সম্ভব। তবে দ্বীপকে মেয়ে গঠিত ব্যাপারে দেখে দুভাই চরম আশ্চর্যের পর্যায়ে আছেন। এই ছেলে কোনোদিন কারোর প্রেমে পরবে সেটাতো তারা ভাবতেই পারেনি। তারা তো ভেবে রেখেছিলো এই ছেলে কোনোদিন বিয়েই করবেনা আজীবন সন্যাস হয়ে কাটিয়ে দিবে। বাবা চাচাকে দেখে গলা খাকারি দিলো বিহান। সে কিছুটা ঝুকে দ্বীপের কাধে হাত দিয়ে চাপর মেরে বললো — হেই ব্রো!! আব্বু আর বড়ো আব্বু এখানে। থেমে যাহ!! ভালোবাসাবাসি পরে করিস।

,, বাবা চাচার কথা শুনে পারমিতার কপাল থেকে কপাল তুলে বাবা চাচাকে দেখো নিলো দ্বীপ, যারা এখন ভ্রু কুচকে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। পারমিতা এমনিতেই ভয় সংকোচ আর ঘৃণায় কাতর ছিলো। এখন দ্বীপের বাবা চাচাকে দেখো আরও ভয় পেলো। এখানে নিশ্চয়ই অর্থ মন্ত্রী আছেন? উনি আবার তাকে কিছু করবে নাতো? দ্বীপ পারমিতার গাল আকরে বাবা চাচার দিকে ইশারা করে বললো — বাম পাশেরটা তোমার শ্বশুর আর ডান পাশেরটা মেঝো চাচা শ্বশুর। সালাম দেও,,
,,,এপর্যায়ে আবার কেদে উঠলো পারমিতা। এ কোন পাগলের পাল্লায় পরলো সে? বাবা চাচার সামনে এটা কেমন বেলাজের মতো আচরন। এই পাগলকে সে এড়িয়ে যাবে কি করে? পারুকে সালাম দিতে না দেখে দ্বীপ ধমকে বললো– এই মেয়ে!! তোকে সালাম দিতে বললামনা?
,,,পারু ভয়ে কেপে উঠলো, কাদতে কাদতে ভাঙা কন্ঠে বললো– আ, আস,সালামু আ,আলাইকুম!!
,, মাহিদ মির্জা তিক্ষ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও শাহিন মির্জা মাথা ঝাকিয়ে সালামের উত্তর করলেন। উত্তর নেওয়া শেষ হলে দ্বীপ ভদ্রতার ভান ধরে নির্লজ্জের মতো বললো — ছেলের বউ দেখা শেষ? এবার আপনারা আসুন। তবে একান্তভাবে ছেলে আর ছেলের বউয়ের প্রেমালাপ দেখতে চাইলে থেকে যেতে পারেন। আমি একটু ও মাইন্ড করবোনা।

,,, বিরক্তিকর শ্বাস ফেললেন মাহিদ মির্জা। মেয়েটার জন্য মায়া হচ্ছে,, ইসস!! কি সরল সাধা সিধে দেখতে মেয়েটা। নির্ঘাৎ এই ছেলের মহাগুন গুলো দেখে তার সামনে বসে থেকেই রিজেক্ট মেরে দিয়েছে। বেশ হয়েছে,, বাপের সাথে নির্লজ্জ গিড়ি? রিজেক্টেড মাল একটা। তিনি ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে চলে যাওয়ার জন্য ইশারা করতেই শাহিন মির্জা সামনের দিকে পা বাড়ালেন। যেতে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে পিছনে হাত নিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি বের করে ভাতিজাকে কঙ্গ্রাচুলেশন জানাতে ভুলেননি। এটা তিনি কখনোই সরাসরি করতে পারতেন না। ভাইজান একবার দেখলে খবর আছে। এমনি সারাদিন ছেলেদের অবনতির জন্য শাহিন মির্জা আর মাহিন মির্জাকে দোষারোপ করেন। ছেলে দুটো নাকি তাদের জন্যই বেপথে গিয়েছে। ইট্স ওকে!! সেসব কথা হজম করতে উনাদের একটু ও কষ্ট হয়না। যদিও ভাইজানের দেয়া বকা ঝকাগুলো শুনতে মধুর মতোই লাগে। তবুও আজকের কাহিনি আলাদা। ছেলে প্রেমের ট্রেনিং দিচ্ছে আর সে চাচা হয়ে যদি তিনি উৎসাহ দেয়, তাহলে অর্থ মন্ত্রীকে রাস্তায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভিক্ষা করতে হবে। তাই আপাততঃ রিস্ক না নিয়ে ভাইয়ের আড়ালে ভাতিজাকে সাবাসি দিলো। ওনাদেরকে যেতে দেখে পারমিতা আরও শব্দ করে কেদে দিলো। সয়ং অর্থ মন্ত্রী ও কিনা এই লোকের পাগলামুতে শায় দিচ্ছেন? আর উনার বাবা? তিনিও ছেলেকে শাসন না করে ভাইকে নিয়ে চলে গেলেন? এখন তাকে কে বাচাবে? কিভাবে নিস্তার পাবে এই লোকের থেকে? বাবা চাচারা চলে যেতেই দ্বীপ আবারও পারুর কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো–

,,,কি হয়েছে? এভাবে কাদছো কেনো? মেরেছি তোমাকে? শুনো মেয়ে!! তুমি যদি ভেবে থাকো। দ্বীপ মির্জা মানুষ মা*রে, সি*গারেট খায় তাই দ্বীপ মির্জাকে ভালোবাসা যাবেনা। তাহলে বলবো,, আমি সারাজীবন এসব করে যাবো। করতেই হবে, এসব মারধর কিশোর বয়স থেকে করে আসছি। রাজনীতি আমাদের রক্তে মিশে আছে। আপাতত তোমার মতো পুচকির জন্য সেসব ছাড়তে পারবোনা। তবে কথা দিচ্ছি, তুমি এগুলোর সহিত আমাকে ভালোবাসবে,, ভালোবাসতে বাধ্য হবে। তোমার অবাধ্য মন না চাইতেও কোনো একদিন দ্বীপ মির্জার মনের সন্ধান করবে। তারপর যখন তোমার আর আমার মনে মনে সন্ধি হবে তখন তোমার আমার দে*হের সন্ধি কেউ আটকাতে পারবেনা।
,,,এরুপ কথা কর্নকূহর হতেই কান্না চোখে বিশ্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইলো পারু , আসলেই দ্বীপ মির্জা পাগল। নয়তো সবার সামনে এসব কি কথা? ছি ছি!! ভেবেই আরেকটু গুটিয়ে গেলো সে। কান্না ঝরা কন্ঠে ভাঙা স্বরে বললো — আ,আমায় ছেড়ে দিন ভাইয়া। আমি হোস্টেলে যাবো।
,,ভাইয়া ডাকটা পছন্দ হলোনা দ্বীপের,, শুরু থেকেই পারুর মুখে ভাইয়া ডাকটা বিরক্তকর ছিলো এখন তো মহা বিরক্তকর। দ্বীপ কিছুটা রাগত স্বরে বললো– হোয়াট ভাইয়া? কল্ড মি বেইব। এখন থেকে আমার নাম ধাম যাই হোকনা কেনো? তোমার কাছে আমি শুধু তোমার বেইব ওকে?

,,, পারু দুদিকে মাথা ঝাকিয়ে না বুঝালো, মানে সে মরে গেলেও এসব নামে তাকে ডাকবেনা।পরপর নিজেকে দ্বীপের হাত থেকে ছাড়াতে চেয়ে মুচড়ামুচড়ি করতেই দ ধমকে উঠলো দ্বীপ– এখানে শত শত কাচের গ্লাস আছে, একাটা মাথা বরাবর ঢুকিয়ে দেই? দিবো? বল দিবো? চুপচাপ যা বলি মেনে নে। আজকে এখন তুই আমাকে বেইব বলে ডাকবি। কি হলো ডাক, ডাক!! ( খেকিয়ে উঠে)
,,,পারুর হৃদপিণ্ডটা ছলকে উঠলো, সে নিজের ভয়কে দমন করতে না পেরে কাপা কাপা গলায় বললো — —ব,ব,বেইব।
,,, দ্বীপ ঠোট বাকিয়ে হেসে বললো — এটুকুতে হবেনা। বলো,, বেইব!! আমি হোস্টেলে যাবো।
,,,ব,বেইব আ,আমি হোস্টেল ( হেচকি তুলে) য,যাবো।
,,,দেট্স লাইক অ্যা মাই ওয়েলি লেডি। ( মেধার দিকে তাকিয়ে) মেধা তর ভাবিকে হেস্টেলে নিয়ে যা। দেখিস যেনো ওর শরীরে একটু ও আচ না লাগে।

,,, পরপর পারুর দিকে তাকিয়ে, গালে হাত ভুলিয়ে বললো– বেবি!! আমি নিজেই তোমার সাথে যেতাম, বুঝলে? তবে জানোইতো একটু আগে কিসব হয়ে গেলো। এখন গিয়ে সেসব ঝামেলা সামাল দিতে হবে। তুমি আপাততঃ মেধার সাথে চলে যাও। আমি হোস্টেলে মহিলা ডাক্তার পাঠিয়ে দিবো। ভদ্র মেয়ের মতো হেল্থ চেক করে নিবে। কেমন? যাও এবার, আমি সময় পেলে বিকালে তোমায় দেখতে যাবো। ঠিক আছে?
,,,ছাড়া পেয়ে তরিহরি করে উঠে গেলো পারমিতা। মনে মনে হাজারবার আল্লাহ এর কাছে শুকরিয়া করলো।সে হোস্টেলে ফিরেই আব্বুকে সব বলে দিবে তারপর সারাজীবনের মতো ঢাকা শহর ছেড়ে নিজস্ব গ্রামে চলে যাবে। ওখানেই মোটামুটি টাইপ কোনো কলেজে ভর্তি হয়ে যাবে। পড়ালেখা সব নিজের কাছে, ভালো করে পড়লে ঐ কলেজ থেকেও সে ভালো মার্কস পেয়ে পাস করবে। পারমিতার এতোটাই তাড়ায় ছিলো যে মেধাকে না নিয়েই চলে যাচ্ছিলো। দ্বীপ সেটা পর্যবেক্ষণ করে বললো– এই মেয়ে!! মেধার সাথে যেতে বললামনা? একা যাচ্ছো কেনো?
,,,পারমিতা মুখটা কাচুমাচু করে দাড়িয়ে পরলো। মেধা ছুটে এসে পারুর হাত ধরে সামনে হাটতে শুরু করেছে। মেধার নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে। সে তো জানতোনা ভাইয়ার মনে এসব চলে, আর না জানতো আজকের ঝামেলা সম্পর্কে। পারু নিশ্চই তাকে ভুল বুঝছে? ভাবছে ওর সাথে এসেছে বলেই আজ তার সাথে এরকম ঘটনা ঘটলো। রেস্টুরেন্টে পরে থাকা রক্তের দাগ গুলো পারমিতার মনটাকে আরও বিষিয়ে তুললো। এরকম জঘন্য ভাবে কেউ কাউকে কিভাবে মারতে পারে? তারা রেস্টুরেন্ট পেরিয়ে রাস্তায় আসতেই মেধা একটা রিকশা ডেকে নিলো। পরপর দুজন উঠে বসতেই রিকশা চালকটি রিকশার বেগ বাড়ালো। মেধা তখনো পারমিতার হাত ধরে রেখেছে। এবার সে অত্যন্ত কাতর স্বরে বললো–

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৫

,,,আমার সাথে আর বন্ধুত্ব রাখবেনা পারু?
,,,পারমিতা চোখে পানি নিয়েই মেধার দিকে তাকালো পরপর মুচকি হেসে বললো — রাখবোনা কেনো? তোমার তো কোনো দোষ নেই। সব আমার কপালের দোষ।
,,,এটাকে দুর্ভাগ্য হিসেবে কেনো দেখছো পারু? আমার ভাইয়া কিন্তু মানুষ হিসেবে খারাপ না। এই পৃথিবীতে সবার চলাফেরা এক হয়না পারু। আমাদের রাজনৈতিক পরিবার, আমার ভাইরা আর পাঁচটা সাধারন মানুষের মতো চলাচল করতে পারবেনা। এটাই স্বাভাবিক। তুমি একটাবার আমার ভাইয়াকে নিয়ে ভেবো। সে তোমায় রানী করে রাখবে।
,,,পারমিতা আর কিছু বললোনা, ওকে কিছু বলতে না দেখে মেধাও চুপ রইলো। কিছু সময় আমাদের চুপ থাকাই শ্রেয়। যখন আমরা প্রবল চিন্তার মধ্যবর্তি স্থান ঘমন করি তখন আমাদের একা এবং চুপ থাকা অত্যন্ত জরুরী।

৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৭