এক দেখায় পর্ব ৭১ (২)
সুরভী আক্তার
সমুদ্রের পানিতে ছলাৎ ছলাৎ করে হাঁটছে মিহি আর রুহি । দুই বান্ধবীর রং লেগেছে মনে । মিহির পড়নের কালো শাড়ির নিচের অংশ ভিজে জবজবে । হাঁটু সমান পানিতে একেক সময় লাফাচ্ছে ওরা । রাফি আর শান্তর পাত্তা নেই ওদের কাছে । পিছু পিছু যে দুটো ছেলে হেঁটে হেঁটে আসছে ওদের অনুসরণ করে , তা আর ওরা দেখছে কই ? এই দুটো ছেলেকে ওরা চেনেই না এমন ভাব । শান্ত বারবার ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস ফেলছে মোষের ন্যায় । ওর বউটা ওকে পাত্তা দিচ্ছে না মোটেও । ওকে পাত্তা না দিয়ে ওর বোনের সাথে লাফালাফি করছে । কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গলা জড়িয়ে হাটছে দেখো ! মাঝে মাঝে আবার বাহু আঁকড়ে ধরছে । একে অপরের সাথে হাসাহাসি করে মাতিয়ে ফেলছে । ব্যাপারটা কি হ্যাঁ ? রুহি কি শান্তর সাথে হানিমুনে এসেছে , নাকি মিহির সাথে ? আশপাশের কাপল গুলো কি সুন্দর হাত ধরাধরি করে হাঁটছে , গলাগলি করছে । রোমান্টিক রোমান্টিক কথা বলছে হয়তো । আর এই দুটো কাপল ? ছেলে ছেলে আর মেয়ে মেয়ে মিলে জোড়া বাঁধিয়েছে । রুহি শান্ত কে পাত্তা না দিলে নিজেকে অসহায় লাগে শান্তর ।
এদিকে রাফি , ওর কোনো হেলদোল নেই । কি সুন্দর বউ আর বোনের পিছু পিছু হাঁটছে ও । শান্ত যে ওর পাশেই অসহায়ের মতো পা মেলাচ্ছে , তা এই বেটাও দেখছে না । শান্ত কে এই দুই ভাই বোন পেয়েছে টা কি ? কেউ পাত্তা দেয় না একেবারেই !
শান্ত গজগজ করলো । ফুসলো উপর উপর । রাফির খেয়াল নেই ওর দিকে । মিহি আর রুহি গল্পে মেতেছে হাঁটার তালে । ওদের দুটো কে দেখছে আর মৃদু ঠোঁট প্রসারিত করে হাসছে রাফি ।
ফোন বের করে বউ আর বোনের অগোচরে কয়েকটা হাস্যোজ্জ্বল ছবিও তুলেছে ওদের ।
শান্ত এগোতে এগোতে থেমে গেলো । রুড হয়ে বললো ফোঁস করে….
” এই রাফি , তুই আমার বোনকে একদম ভালোবাসিস না , তাই না ?
কপাল গুটায় রাফি । পায়ের গতি কমিয়ে আনে । গা ছাড়া জবাবে বলে….
” মানে ?
” মানে তুই মিহি কে ভালোবাসিস না ? আমার বোনটা তোর সঙ্গ না পেয়ে ননদের সাথে তাল মিলিয়ে ঘুরছে , দেখতে পারছিস না ? হানিমুনে এসেছিস , না অন্য কিছু । আমার বোনটাকে পাত্তাই দিচ্ছিস না দেখছি ! এভাবে একলা একলা ঘুরছিস কেনো ? যা আমার বোনের কাছে । এখন কি বড় শালা হয়ে তোকে আমার বোনের সাথে কিভাবে প্রেম করতে হয়, তা শেখাবো ? লাজ লজ্জা আছে আমার ! প্রেম করাটা এখন আর তোকে শেখাতে পারবো না । কজ্ , তুই এখন আমার ছোট বোনের হাসবেন্ড । যা ভাই , আমার বোনের কাছে যা ।
রাফি বুকে হাত গুটিয়ে শান্ত হয়ে তাকালো শান্তর দিকে । শান্ত অসহায় মুখ করে একটু থেমে আবার বললো….
” তুই না হয় প্রেম বুঝিস না , আন রোমান্টিক । কিন্তু আমি তো বুঝি । আমি আন রোমান্টিক নই তোর আর তোর বোনের মতো । তোর বোনটাকে একটু আমার কাছে এনে দে না ভাই । তোর বউটা ওকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বগলদাবা করে ঘুরছে দেখ ! এটা ভালো দেখাচ্ছে না । কাপল কাপল একসাথে ঘুরলে তবেই না ফিল আসবে ।
যা ভাই , তুই তোর বউয়ের কাছে যা । আর আমার বউকে আমার কাছে পাঠিয়ে দে । আমি যদি ওর কাছে যাই , তাহলে ও আমাকে ছ্যাঁচড়া ভাববে ।
রাফি দুদিকে মাথা নাড়ালো কেবলই । শান্ত আবার চেঁচালো..
” কি হলো , যা না….
রাফি শুনলো এবার । স্বাভাবিক হয়ে বড় বড় কদমে মিহি আর রুহির দিকে এগোলো । মিহির পাশে দাঁড়াতেই থামলো দুই বান্ধবী । চকিতে তাকালো রাফির দিকে । রাফি অন্য দিকে তাকিয়ে চোখ সরু করে বললো….
” Sissy , একটু ওদিকটায় যা তো । তোর ভাবি জানের সাথে কথা আছে আমার ।
রুহি ঝট করে তাকালো মিহির দিকে । তড়িঘড়ি করে চঞ্চল সুরে বলল….
” আচ্ছা ভাইয়া ।
বলেই পিছনের দিকে ছুটলো ও । রুহিকে নিজের দিকে আসতে দেখে ছটফট করে চোখে মুখে হেসে উঠলো শান্ত । এতক্ষণে হাঁফ ছাড়লো । ওর বউ নিজেই ওর কাছে আসছে । ও যায় নি । তার মানে ও ছ্যাঁচড়া নয় ।
রুহি এসে থামতেই শান্ত মুখ সিটকে বললো….
” জান , তুমি তো দেখি আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝছো না । ওভাবে ভাইয়া আর ভাবিকে একলা রেখে আমার কাছে এভাবে ছুটে আসলে ? এটা কি ভালো দেখালো ,বলো ? কি ভাবলো তোমার ভাইয়া ? ভাবলো তার বোনটা জামাই পাগল হয়ে গেছে ।
রুহি ভ্যাবাচ্যাকা খায় । ঘন পলক ফেলে ঝটপট । পিছন ফিরে একবার রাফি আর মিহি কে দেখে নেয় । ফের তাকায় শান্তর দিকে । শান্ত ওষ্ঠ পিষে ফিচেল হাসছে । ওর হাসি দেখে ওর টিটকারী বুঝতে বাকি রইলো না রুহির । মুখ কুঁচকে শান্তর বাহুতে সজোরে একটা কিল বসালো । পাশ কাটিয়ে হাঁটা লাগিয়ে কটমট করে বললো….
” আপনার কাছে ছুটে আসাটা ভালো দেখালো না । তাই চলে যাচ্ছি । আপনি থাকুন একা একা…
ঐ যে দেখুন , ওদিকে কতগুলো মেয়ে ভিজছে । ওদেরকে দেখতে থাকুন আপনি ।
এবার থতমত খায় শান্ত । পানির জোয়ারে পা উঁচিয়ে হাঁটতে বাঁধা পাচ্ছে রুহি । শান্ত ওর পিছু পিছু ছুটলো । পাশাপাশি হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রুহির কাঁধ জড়িয়ে ধরলো । ঠোঁটের কোণে দাঁত চেপে চোখ সরু করে তাকালো রুহি । শান্ত দাঁত কেলিয়ে বললো….
” বি সিরিয়াস জান , আমরা হানিমুনে এসেছি । একটু ভাইব না থাকলে হয় ?
দুদিকে মাথা নাড়ায় রুহি ।
এদিকে মিহি ঠায় দাঁড়িয়ে । রাফি কিছু বলছে না দেখে মিহি নিজে থেকেই বললো….
” কি হলো , কি যেনো বলবেন বলছিলেন ?
” কিছু না ।
চলো ওদিকটায় যাই ।
পাশাপাশি ওরাও হাঁটতে লাগলো । ছ্যাপছ্যাপে পানির মধ্যে শাড়ি সামলে হাঁটতে গিয়ে বেশ হিমশিম খাচ্ছে মিহি । বেগ পাচ্ছে গতিতে । এক হাতে কুঁচি সামলে নিলো সে । অন্য হাতে নিজে থেকে শক্ত করে রাফির হাতটা চেপে ধরলো । রাফি চোখ নামিয়ে তাকালো নিজের হাতের দিকে । পরমুহূর্তে মিহির দিকে । মিহি চোখ তুলতেই চোখাচোখি হলো দুজনের । অমনি মুচকি হাসলো মিহি । এক পলকের জন্য দুচোখ বুজে ভরা শ্বাস ফেলে হাসি প্রসারিত করে বললো….
” চলুন ।
রাফি অপর হাত বাড়িয়ে অভিবাদনের ভঙ্গিতে বললো…
” চলো…
মিহি মিটিমিটি হাসলো । বললো এবার…
” চলুন , একটু অতল পানিতে যাই ।
বাঁধ সাধলো রাফি ।
” না , এখানেই ঠিক আছো । দেখেছো , এখানেই প্রায় হাঁটু সমান পানি । বেশি গভীরে যেতে হবে না । ঢেউ আসছে..
” তো কি হয়েছে , আপনি তো আছেন । চলুন…
এই যে আমি আপনার হাতটা ধরেছি , উত্তাল ঢেউ আসলেও আমাকে ভাসাতে পারবে না । আমি ছেড়ে দিলেও আমি জানি আপনি আমাকে ছাড়বেন না । ঢেউ আমাকে এতো সহজে আপনার কাছ থেকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না ।
” মিহি ।
রাফি খানিক চোখ রাঙানি দিলো । মিহি হেসে বায়না ধরলো….
” আহ্ , চলুন তো ।
এবার আর বাঁধা দিতে পারলো না রাফি । মিহি আরো খানিকটা দূরে টেনে নিয়ে গেলো ওকে । বড় বড় ঢেউ আসছে । কলকল শব্দে আশপাশ মুখোরিত ।
মিহি একটু করে নিজের হাত ছাড়াতে চাইলেও রাফি ছাড়লো না । ছাড়বেও না । এখানটায় হাঁটু অবধি পানি উঠেছে ।
বাতাসের ঝাপটায় মিহির শাড়ির অবস্থা বেহাল । রাফি ওকে তীক্ষ্ণ চোখে পরখ করলো । অতঃপর আলতো মিহির শাড়ির আঁচলটা টেনে পেঁচিয়ে দিলো মিহির শরীর । মিহি আঁচল টেনে মৃদু স্বরে বললো….
” সাগরের বিশালতার চেয়েও বিস্তির্ণ কি জানেন ?
রাফির প্রশ্ন সূচক দৃষ্টি । মিহি সাগরের বুকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো ক্ষিণ স্বরে….
” ভালোবাসা !
” তাহলে ভেবে দেখো , আমার এই ছোট্ট বুকে তোমার জন্য গচ্ছিত ভালোবাসা এই বিশাল সাগরকেও হার মানায় ।
পেরিয়েছে আরো একটা সপ্তাহ । তিন দম্পতি ঢাকা ব্যাক করেছে । এখন যে যার মতো বিজি ।
আজ সকাল সকাল নাস্তার টেবিলে বসেছে চৌধুরী বাড়ির সবাই । রাফি একেবারে তৈরি হয়েই নেমেছে । রুহি নেই বাড়িতে , বাড়িটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে । কক্সবাজার থেকে আসার দুদিন পর ঐ বাড়িতে গেছে রুহি । এর মাঝে রোজ একবার করে এসেছে এ বাড়িতে । তবে থাকে নি । রাত্রি যাপন করে নি । এখন ওটা ওর শশুর বাড়ি । আর যাই হোক ওখানেই থাকতে হবে ওকে । অভ্যস্ত হতে হবে ।
টেবিলে বসেছে রাশেদ রায়হান চৌধুরী, জুবায়ের চৌধুরী , রাফি আর জেনি , রাবেয়া চৌধুরীও আছেন । তিনি আজকাল বেশ স্বাভাবিক হয়ে এসেছেন । এখন সবার কাছেই ভরসা পান তিনি ।
হেনা বেগম, হালিমা বেগম ব্রেকফাস্ট রেডি করে দিয়ে কিচেনে ঢুকেছেন । যাওয়ার আগে সাবিনা বেগম কে ঠেলে ঠুলে খেতে বসালেন হেনা বেগম । মিহি হেনা বেগমের পিছু পিছু ঘুরছে । কি করবে বুঝতে পারছে না । সে তো এখন বাড়ির বউ । সবার আগে খেতে বসতে পারে না এখন আর । বউদের মতো কাজ করতে হবে ওকে । শিখতে হবে । কিন্তু কি করবে ? কিছুই তো বুঝতে পারছে না । কেউ ওকে কিছু বলছেও না ।
একলা একলা কি মাতব্বরি করবে ও ? বউদের মতো ঠিকি তো রাফির কথানুযায়ী শাড়ি পড়ে ঘুরঘুর করছে । আসার পর প্রথম দুদিন ইতস্তত ছিলো । এ অবধি ওর শাড়ি পড়া নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে নি । ভেবেছে হয়তো সখ করে পড়ছে ।
হেনা বেগম আর হালিমা বেগম পরোটা বানাচ্ছেন আরো । একজন বেলে দিচ্ছেন , অন্যজন সেকঁছেন । মিহি কে নিজেদের সাথে দাঁড়িয়ে কাঁচুমাচু করতে দেখে ভ্রু গুটালেন হেনা বেগম । হেনা বেগমের পাশে সিটিয়ে দাঁড়িয়ে শাড়ির আঁচল আঙ্গুলে পেচাচ্ছে মিহি । হেনা বেগম ভরা কন্ঠে বললেন….
” এখানে কি করছিস তুই ? গিয়ে খেতে বস , আমি পরোটা নিয়ে আসছি ।
ঢোক গিললো মিহি । মিনমিন করলো….
” না মানে , আমাকে কিছু করতে হবে না ? কি করা বাকি আছে বলো , আমি করে দিচ্ছি ।
” তুই কি করবি ?
” কাজ ।
” তুই কেনো কাজ করবি ?
” আমি না এখন এ বাড়ির বউ । বউদের তো কতো কাজ করতে হয় । তোমরা তো করছো । আমি তোমাদের সাহায্য করি ? কি করতে হবে আমায় বলো !
হেনা বেগম আর হালিমা বেগম অবাক লোচনে একে অপরের দিকে তাকালেন । পরমুহূর্তেই ফিক করে হেসে উঠলেন দু’জনে । হেনা বেগম দুদিকে আলতো মাথা নাড়িয়ে বললেন কোমল কন্ঠে….
” তোকে মেয়ে হিসেবেই কাছে পাই নি কখনো । মেয়ে হিসেবে কাছে রেখে আঁশ মিটিয়ে নেই আগে । তারপর বউ মানবো তোকে । পরে বউ হতে আসিস , এখন তুই আমাদের মেয়ে । আর আমরা থাকতে আমাদের মেয়ে কাজ করবে কেনো ?
মিহি কচলানো আঁচল ছাড়লো । মুখ মলিন করলো । একটু বাদ খানিক হাসলো । হালিমা বেগম ওকে আগাগোড়া পরখ করলেন ।
বেশ কদিন ধরেই দেখছেন মিহি শাড়ি পড়ছে । জিজ্ঞেস করবে,করবে করেও করা হয় নি । মজার ছলে একটু আহ্লাদ করার ছিলো । কিন্তু সম্বোধনের দিক দিয়ে এই মজা মানায় না । আজ আর মন বাঁধা মানলো না । গলা ঝেড়ে বলেই ফেললেন তিনি…..
” আচ্ছা মিহি , এই রোজ রোজ শাড়ি পড়ছো কেনো তুমি ! অসহ্য লাগে না শাড়ি সামলাতে ?
মিহি থতমত খায় । দ্রুত চোখ নামিয়ে নেয় । হেনা বেগম সুযোগ পেলেন , তিনিও একই প্রশ্ন করতে চাচ্ছিলেন ।
” হ্যাঁ তো , তুই শাড়ি পড়ছিস কেনো রোজ রোজ ? বউ হয়েছিস, বিয়ে হয়েছে বলে শাড়ি পড়তে হবে ? এই গরমে শাড়ি পড়ার প্রয়োজন নেই । অতো নিজেকে বউ বউ দেখাতে হবে না তোকে ।
মিহি কন্ঠ খাদে নামিয়ে মিনমিন করলো….
” তোমার ছেলেই তো শাড়ি পড়তে বলেছে ।
” হ্যাঁ ?
চকিতে অবাক স্বরের প্রশ্ন হালিমা বেগমের মুখ থেকে । বড় বড় চোখে তাকালেন দু’জনে ।
মিহি ভ্যাবাচ্যাকা খায় । ঠোঁট ভিজিয়ে চোখ খিচে ফটাফট বলে….
” উনিই তো আমাকে রোজ রোজ শাড়ি পড়তে বলেছেন । আমার সব ড্রেস একটা ড্রয়ারে ঢুকিয়ে তালা দিয়ে রেখেছেন , যাতে আমি শাড়ির পরিবর্তে অন্য কোনো ড্রেস পড়তে না পারি । কড়া ভাবে বলে দিয়েছেন রোজ রোজ শাড়ি পড়তে । তাইতো পড়ছি আমি ।
বিষ্ময়ে মুখ ফাঁক হয়ে আসলো দুই ভদ্রমহিলার । আশ্চর্য বনে মিহির দিকে তাকিয়ে রইলেন । মিহি পিটপিট করে চোখ তুলতেই দুজনের দৃষ্টি দেখে বেশ লজ্জা পেলো । আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না সেখানে । দ্রুত পায়ে রান্না ঘর ছাড়লো ও ।
ব্রেকফাস্ট সেরে নিজ ঘরে উঠেছেন সাবিনা বেগম । মিহি আম্মুর পিছু পিছু উঠলো । দরজা থেকে ঢুকে বিছানায় বসেছেন সাবিনা বেগম । মিহি মৃদু হেসে দরজা থেকে আম্মু কে ডাকলো…
” আম্মু ।
পিছু ফিরলেন সাবিনা বেগম । ততক্ষণে মিহি তার কাছে এসে বসেছে । সাবিনা বেগম হাসার চেষ্টা করলেন । মিহিকে আলাদা করে কিছু বলার আছে তার । তিনিও সুযোগ খুঁজছিলেন । কিন্তু মিহি কে একলা পাচ্ছিলেন না বলার জন্য । এখন পেয়েই মলিন কন্ঠে মুখ খুললেন তিনি….
” তোকে আমার কিছু বলার আছে মিহি ।
” হুম , বলো না । কি বলবে ?
রয়ে সয়ে নিঃশব্দে দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন সাবিনা বেগম । বললেন চোখ নামিয়ে….
” এ বাড়ির সাথে তুই জড়িয়ে গেছিস মিহি । মেয়ে হওয়ার কথা না হয় নাই ধরলাম । এখন তুই এ বাড়ির বউ । কিন্তু আমি কেউ নই । তোর মিছে মিছি আম্মু হওয়ার দরুন হলেও আমার এ বাড়িতে থাকাটা মানায় না । নিজেকে হীন মনে হয় । খুব ছোট লাগে । নিজের উপর বিরক্তি আসে আমার । তাই আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।
একটু থেমে আবার বললেন হাঁফ ছেড়ে..
এক দেখায় পর্ব ৭১
” আমি এ বাড়িতে থাকবো না মিহি । তুই আমার মেয়েই । আমি তোর আম্মু হয়েই থাকবো । কিন্তু এ বাড়িতে থেকে নয় । আমি আলাদা কোথায় বাড়ি নিয়ে সেখানে উঠবো । তোর বাবার পেনশনের টাকা তো আছেই । আমার চলতে একটুও অসুবিধে হবে না । তোর মন খারাপ হলে তুই রোজ যাবি আমার কাছে । রাফি নিয়ে যাবে তোকে । কিন্তু আমাকে ছাড় দে একটু । এভাবে নিজেকে অন্যের উপর বোঝা হিসেবে চাপাতে চাই না আমি । নিজের ভার অন্যের কাঁধে আরোপ করে বাঁচতে চাই না । আত্মসম্মান নিয়ে বাকিটা জীবন কাটাতে চাই । তাই এ বাড়ি থেকে আমি চলে যাবো মিহি ।
