প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২
বন্যা সিকদার
“এহ্ আমি যেন বিয়ে মানার জন্য বসে আছি। বুড়া বয়সে এত সুন্দর‚ কিউট একটা বউ পেয়ে নিজেকে গর্ভবতী ওহ্ সরি সরি গর্বিত মনে করবে তা না উল্টা আমার উপর রাগ দেখায়। রাতটা যাক তারপর তোকে বুঝাবো বউ কাকে বলে আর কত প্রকার। বুড়া খাটাস একটা। বাসর রাতে বউ’কে গিফট না দিয়ে বরং দশটা কথা শুনিয়ে চলে গেলো। গিফটের জন্যই তো বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম। গিফটই যদি না দেয় তাহলে এই স্যা**টার বিয়ে করে লাভটা কি হলো?
সঙ্গে সঙ্গেই নিজের জিভে কামড় দিল মৌ। মুখটা তার বড্ড বেপরোয়া‚ যখন-তখন পেটে যা আসে মুখে বলে ফেলে। আবারও গুটিশুটি মেরে বিছানায় গিয়ে কমফোর্টর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল। দীর্ঘ সময় ধরে এপাশ-ওপাশ করল‚ বিছানার চাদর খামচে ধরল‚ বালিশটা উল্টেপাল্টে নিল কিন্তু চোখে কিছুতেই ঘুম ধরা দিল না। বিরক্ত হয়ে আবারও উঠে বসল মৌ। এবার দুহাত দিয়ে শক্ত করে পেটটা চেপে ধরল সে। প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে‚ খিদের চোটে পেটের ভেতর যেন এক ডজন ইঁদুর কুস্তিকসরত করছে! সকাল থেকে রাগে‚ অভিমানে আর জেদের বশে দানাপানি কিচ্ছু মুখে তোলেনি। নিজের জেদ এখন নিজের পেটের ওপর এসে বোমার মতো ফেটেছে। ক্ষুধার্ত বাঘিনীর মতো পুরো রুমে এদিক-ওদিক পায়চারি করল মৌ। তেষ্টা মেটাতে একনাগাড়ে দুই গ্লাস পানিও গিলে ফেলল‚ তবুও পেটের ভেতরের খিদের আগুন বিন্দুমাত্র কমল না।
উজানের মা কয়েকবার সাধাসাধি করেছিলেন খাওয়ার জন্য। কিন্তু মৌ তখন কায়দা দেখাতে গিয়ে মুখ বাঁকিয়ে বলেছিল‚ “আমার খিদে নেই। এখন সেই কায়দার বারোটা বেজে গেছে। অবশেষে আর সহ্য করতে না পেরে‚ পেটের দায়ে চোরের মতো চুপিচুপি নিজের রুমের দরজাটা খুলল সে। করিডোরে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখল মৌ‚ কাউকে চোখে পড়ল না। ব্যস‚ আর পায় কে। খুশিতে ডগমগ হয়ে নাচতে নাচতে সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল সে। দুইবার পায়ের শাড়ি জড়িয়ে হোঁচট খেতে খেতেও কোনোমতে দেওয়াল ধরে বেঁচে গেল। ড্রয়িং রুমে এসে থমকে দাঁড়াল সে। চারদিক একদম নিঝুম‚ সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। পরিবেশ অনুকূলে দেখে মৌ নিজের মনেই ফিসফিসিয়ে বিড়বিড় করে উঠল„
”যাহ শালী শ্বশুরবাড়ি পা দিতে না দিতেই চোরের মতো মাঝরাতে রান্নাঘরে হানা দিচ্ছিস? ছিঃ ছিঃ। এই না না‚ আমি চুরি একদমই করছি না। এই বাড়িটা কার? আমার শ্বশুরের। আর শ্বশুরের বাড়ি মানে তো এটা আমারও বাড়ি। সেই হিসেবে মাঝরাতে রান্নাঘর ওলটপালট করে সব খেয়ে ফেলার পূর্ণ অধিকার আমার আছে। মৌ তুই আজ বেশি বেশি করে খা‚ পারলে তোর ওই খিটখিটে খড়খড়ে জামাইয়ের মাথাটাও চিবিয়ে খেয়ে ফেল।
মনের আনন্দে গুনগুন করতে করতে কিচেন রুমে ঢুকল মৌ। কিন্তু সুইচ টিপে আলো জ্বালতেই তার মুখটা শুকিয়ে চুন হয়ে গেল। এত বড় কিচেন রুম অথচ চটজলদি মুখে তোলার মতো তৈরি কোনো খাবারই চোখে পড়ছে না। খিদের তাড়নায় মাথা ঘুরছিল তার। খাবার খুঁজতে খুঁজতে পুরো কিচেন রুমে এক চক্কর দিয়ে যখন সে প্রায় ক্লান্ত‚ ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল কোণার বিশাল ডাবল-ডোরের ফ্রিজটার দিকে। আশার আলো দেখে মৌ দ্রুত গিয়ে ফ্রিজের দরজাটা খুলল। আর খুলেই তার চোখ ছানাবড়া! ভেতরে বাহারি রকমের ফলমূল‚ মিষ্টি আর ডেজার্ট সাজানো। তবে অত শত রাজকীয় খাবারের দিকে না তাকিয়ে মৌ‚য়ের নজর গেল একটু আগে শাশুড়ি আম্মা যে খাবারের প্লেটটা তাকে দিতে চেয়েছিলেন সেটার দিকে।
প্লেটের ওপর ঢাকা দেওয়া ছিল। ঢাকনাটা তুলতেই মৌয়ের মনটা জুড়িয়ে গেল‚ আস্ত একটা চিকেন লেগ পিস। চিকেন লেগ পিস মৌ’য়ের বরাবরই মারাত্মক দুর্বলতা। বাপের বাড়িতে এই লেগ পিস নিয়ে কত যুদ্ধ হয়েছে। মেহেরে’র ভাগের লেগ পিসটাও সে কতবার পটিয়ে-পাটিয়ে নিজের পাতে তুলে নিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। খুশিতে মৌ’য়ের চোখ চকচক করে উঠল। খাবারের প্লেটটা হাতে নিয়ে ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত যাওয়ারও তর সইল না তার। কিচেন রুমের মেঝেতেই ধপাস করে বসে পড়ল সে। তারপর কোনো রাজকীয় ভব্যতার তোয়াক্কা না করে দুই হাত লাগিয়ে তৃপ্তি ভরে চিকেন আর ভাত সাবাড় করতে লাগল। খাওয়া শেষ করে একটা স্বস্তির পেল মৌ। নিজের বাপের বাড়ি হলে হয়তো প্লেটটা ওখানেই ফেলে রেখে চলে যেত কিন্তু আজ আর সেই রিস্ক নিল না। নতুন শ্বশুরবাড়ি বলে কথা। প্লেটটা যত্ন করে ধুয়ে একদম নির্দিষ্ট স্থানে উপুড় করে রেখে দিল। তারপর তৃপ্তি ভরে এক গ্লাস পানি খেয়ে যেই না ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
ঠিক তখনই ওপরের সিঁড়ি বেয়ে নামছিল উজান। চোখে-মুখে তার রাজ্যের বিরক্তি আর ক্লান্তি মাখানো। নিজের এসি রুম আর নরম বিছানা ছাড়া উজানে’র অন্য কোথাও মোটে ঘুম হয় না। অথচ আজ এই আপদ মেয়েটার চক্করে তাকে নিজের রুম ছেড়ে পুরো বাড়ি টো টো করতে হচ্ছে সামান্য একটু ঘুমের আশায়। একটু আগে ছাদে গিয়েছিল ঠান্ডা বাতাসে ঘুমাতে কিন্তু সেখানকার মশার দল কামড়ে তার পিঠের চামড়া তুলে ফেলার দশা করেছে। অতিষ্ঠ হয়ে শেষমেশ ড্রয়িং রুমের সোফাটায় ঘুমানোর উদ্দেশ্যে নিচে নামছিল সে।
হঠাৎ কিচেন রুমের খোলা দরজার দিকে তাকাতেই উজানে’র পা দুটো জমে গেল। আবছা আলো-আঁধারিতে দেখা যাচ্ছে একটা ছায়ামানব দাঁড়িয়ে আছে। যে পুরো কিচেন রুম জুড়ে সন্দেহজনকভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাঝরাতে এই বিশাল বাড়িতে চোর ঢোকার আশঙ্কায় উজানে’র গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল। চোরটাকে সাইজ করার জন্য সে নিজের ভেতরের সবটুকু সাহস সঞ্চয় করল। তারপর পা টিপে টিপে বিড়ালের মতো নিঃশব্দে কিচেন রুমের দিকে এগোতে লাগল। মনে মনে উজান আওড়াল‚
“উজান চৌধুরীর বাসায় চুরি। এত বড় সাহস? দাঁড়া ব্যাটা চোর আজ তোর একদিন কি আমার যে কয়দিন লাগে। তোকে আজ মেরেই তক্তা বানাব।
উজান আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে পেছন থেকে আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ল। মৌ কিছু বুঝে ওঠার আগেই উজান তার শক্ত হাত দিয়ে মৌ’য়ের মুখ চেপে ধরল। আকস্মিক এই হামলায় মৌ’য়ের জান প্রায় কবজ হওয়ার দশা। সে দুই হাত-পা ছুড়ে জানপ্রাণ দিয়ে ছটফট করতে লাগল কিন্তু জিমনেশিয়ামে যাওয়া উজানের পেশিবহুল হাতের শক্তির কাছে সে নিছক এক পুতুল। মৌ নিজের মুখটা ছাড়ানোর জন্য উন্মাদের মতো মাথা ঝাঁকাতে লাগল কিন্তু মুখ চাপা থাকায় শুধু অস্পষ্ট গোঙানির শব্দ বের হলো।
“উমমম উমমম।
উজান রেগেমেগে দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিসিয়ে আওরাল‚
“চোরের বাচ্ছা চোর তোর এত বড় কলিজা যে তুই উজান চৌধুরীর ড্রয়িং রুম পার হয়ে সোজা কিচেন রুমে চুরি করতে এসেছিস? আজ তোকে মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবো। ইফাত‚ ভাইয়া কই তোমরা?
কথাটা শেষ করার আগেই চোরকে বাগে আনতে উজান নিজের ডান পা দিয়ে মৌ’য়ের পায়ে একটা জোরদার ল্যাং মারল। বেচারা মৌ আচমকা পায়ে আঘাত পেয়ে ব্যথায় আর আতঙ্কে চোখ-মুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলল। নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও যখন দেখল কোনো লাভ হচ্ছে না। তখন উজান আরও বেশি গলা ফাটিয়ে চিৎকার জুড়ে দিল।
“আম্মু আব্বু তাড়াতাড়ি নিচে এসো। দেখে যাও আমাদের কিচেন রুমে চোর ঢুকেছে। চোর… চোর… চোর।
উজানে’র এই গগনবিদারী চিৎকার শুনে মৌ’য়ের মাথায় রাগের রক্ত চড়ে গেল। অপমানে আর রাগে অন্ধ হয়ে মৌ আর কোনো উপায় না পেয়ে উজানে’র মুখের সামনে থাকা হাতের তালুতে নিজের ধারালো দাঁত দিয়ে সজোরে এক কামড় বসিয়ে দিল। ব্যথায় আকাশ কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠল উজান। কামড়ের চোটে হাতটা এক ঝটকায় আলগা হয়ে যেতেই মৌ নিজেকে মুক্ত করে নিল। এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে শরীরের সমস্ত শক্তি পায়ের পাতায় এনে সে উজান’কে একটা লাথি মারতে গেল। উদ্দেশ্য ছিল উজানের পায়ে লাথি মারা। কিন্তু তাড়াহুড়োয় নিশানা একদম ভুল হয়ে গেল! মৌয়ের শক্ত পায়ের লাথিটা সটান গিয়ে লাগল উজানে’র শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় একদম মেইন পয়েন্ট বরাবর।
”শাউ*য়্যার নাতি ছাড়। আমি চোর নয় তোর বিয়ে করা বউ লাগি বউ।
হাঁপাতে হাঁপাতে চেঁচিয়ে উঠল মৌ। লাথিটা লাগার সঙ্গে সঙ্গেই উজানে’র চোখ দুটো চড়কগাছ হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে তার মুখের সমস্ত রঙ উবে গেল। ব্যথায় পুরো শরীর কুঁকড়ে সোজা মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল সে। দুই হাত দিয়ে জায়গাটা চেপে ধরে ব্যথায় তার কথা ফোটাই দায় হয়ে পড়েছে। এতক্ষণে মগজে আলো ঢুকল তার। যাকে সে এতক্ষণ ‘চোরের বাচ্চা চোর’ বলে উত্তম-মধ্যম দিচ্ছিল। সে অন্য কেউ নয়‚ এই বিকেলেই ধুমধাম করে বিয়ে করে আনা তার অর্ধাঙ্গিনী! উজান ব্যথায় নীল হয়ে‚ আহত ও করুণ কণ্ঠে মরণ আর্তনাদ করে উঠল„
“মাবুদ গো এই মেয়ে আমার জীবনে লাল বাতি জ্বালিয়ে দিলো। আপন বউ’কে পাওয়ার আগেই আমার বংশ নিরবংশ করে দিল। এই খাচ্ছুনি মেয়েকে তোমার কাছে তুলে নাও।
সঙ্গে সঙ্গেই আবারও উজানে’র পায়ে সজোরে আরেকটা লাথি বসাল মৌ। মাথা নিচু করে দুহাতে কোমর গুঁজে কর্কশ গলায় চেঁচিয়ে উঠলো।
“গোলামের পুতের শখ দেখো। পিরিত করে বাচ্চাকাচ্চা পয়দা করতে পারলাম না‚ আর এই বুড়ো খবিশ বলছে আমাকে তুলে নিতে? তোকে তো….
বলতে বলতেই মৌ উজানে’র মুখের দিকে তাকিয়ে একদম স্তব্ধ হয়ে গেল। আপনা-আপনিই তার মুখ হাঁ হয়ে গেল‚ চোখ দুটো কপালে উঠল। ঘাড় কাত করে সে উজানে’র দিকে এমনভাবে তাকিয়ে রইল যেন কোনো এলিয়েন দেখছে। ততক্ষণে উজানে’র চিৎকার-চেঁচামেচিতে ড্রয়িং রুমে বাসার একে একে সবাই হাজির হয়ে গেছে। মৌ একদৃষ্টিতে উজানে’র দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই মেহের দৌড়ে এসে তাকে পেছন থেকে ধরে ফেলল। সবার সামনে নিজের ছেলেকে এমন অবস্থায় দেখে বাড়ির কর্তা আরিফুল চৌধুরী বাজখাঁই মেজাজে গর্জে উঠলেন‚
“এই ছেলে তোর লজ্জা-শরম বলতে কিছু নেই? তোদের জন্য বাসর ঘর সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া হলো আর তুই সেখানে না থেকে মাঝরাতে চোর চোর বলে চিৎকার করে পুরো ড্রয়িং রুম মাথায় তুলছিস। চ্যালাকাঠের বাড়ি খাওয়ার খুব শখ হয়েছে তাই না? চুপচাপ বউমাকে নিয়ে নিজের রুমে যা।
বাবার কথা শুনে উজান ব্যথায় দাঁতে দাঁত পিষে গর্জে উঠল‚ “আমার লজ্জা নেই‚ না? তোমার ওই আদরের বউমাকে একবার জিজ্ঞেস করো ও এইমাত্র আমার সাথে কী কী করেছে। এই পুঁচকে বিড়ালের বাচ্চার লজ্জার ‘ল’-ও নেই। মুখের ভাষার কী ছিরি! একটা আস্ত ইডিয়েট।
আরিফুল চৌধুরী ছেলেকে থামিয়ে দিয়ে বললেন‚ “তুই একদম চুপ কর। আমার বউমা এক্কেবারে লক্ষ্মী ও ভালোই আছে। তুই নিজে খারাপ‚ তোর চৌদ্দ গুষ্টি খারাপ।
বাবার মুখে নিজের বংশের বদনাম শুনে উজান কপালে হাত দিয়ে বিড়বিড় করল‚ “লে হালুয়া। নিজের গুষ্টিকে খারাপ বলতে যার একটুও দ্বিধা হয় না অথচ এই বজ্জাত বউমাকে কিচ্ছু বলা যাবে না। পৃথিবীর এক নম্বর পক্ষপাতী শ্বশুর তুমিই হবে ড্যাড।
আরিফুল চৌধুরী কাঁচুমাচু হয়ে খানিকটা ভাব নিয়ে বললেন, “তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু তুই চোর চোর বলে ওভাবে চিৎকার করছিলি কেন? আগে সেটা বল?
ঠিক তখনই ইফাত পা টিপে টিপে উজানে’র কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল‚ “দোস্ত সব বুঝলাম। কিন্তু তুই বাসর ঘরে রোমাঞ্চ না করে মাঝরাতে এখানে এসে এভাবে টাইম ওয়েস্ট কেন করছিস? আমি তোর জায়গায় হলে তো এতোক্ষনে তোকে চাচা বানানোর প্ল্যানিং কবেই শুরু করে দিতাম।
ইফাতের এই রসিকতায় উজান রক্তচক্ষু মেলে তাকাতেই ইফাত ভয়ে গুটিয়ে গেল। দ্রুত সেই জায়গা ত্যাগ করে সে আরিয়ানে’র পাশে গিয়ে দাঁড়াল। উজান আগের মতোই চোখ-মুখ শক্ত করে বাবার প্রশ্নের উত্তর দিল, “কেন চিৎকার করছিলাম? এই পুঁচকে বিড়ালের বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করো! মাঝরাতে চোরের মতো পুরো বাসা জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে-সেখানে। আমি যেই চোর ভেবে একে ধরতে গিয়েছি ঠিক তখনই ও আমার বংশের বাতিতে লাথি মেরে দিয়েছে।
আচমকা রাগের মাথায় মুখ ফস্কে একদম খাঁটি সত্য কথাটি বের হয়ে আসায় উজান দ্রুত নিজের মুখ চেপে ধরল। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গেছে। তার এমন অদ্ভুত উত্তর শুনে আরিয়ান‚ ইফাত‚ তুবা সহ মেহেরও আর নিজেদের সামলাতে পারল না সবাই খিলখিল করে হেসে উঠল। হাসির শব্দের মাঝে ইফাত হঠাৎ ঘাড় বাঁকিয়ে মেহেরে’র দিকে তাকাল।
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১
মেয়েটা এই বাড়িতে আসার পর থেকে একটুও হাসেনি‚ সারাক্ষণ মুখ গোমড়া করে ছিল। কিন্তু এখন তার মুখের এই খিলখিলে হাসিটা এক কথায় মাশাআল্লাহ! দেখতে বড্ড সুন্দর লাগছে। আচমকা ইফাতে’র গভীর চোখের দিকে নজর পড়তেই মেহেরে’র হাসি চট করে থেমে গেল। সে দ্রুত চোখ নামিয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে রইল। ততক্ষণে আরিয়ান নিজের নাক সিঁটকে উজান’কে টিটকারি মেরে বলল‚
“ভাই তোর বংশের বাতি এখনো ঠিকঠাক আছে নাকি….
