কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ২২
তন্ময়ী তিতিক্ষা
রান্নাঘরের চুলাটা সবে নিভিয়েছে আর্শি। গরম ভাতের ধোঁয়া এখনো হালকা কুয়াশার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে ছোট্ট ঘরজুড়ে। ললাটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘামের বিন্দু জমে আছে। আঁচল দিয়ে কপালখানি মুছে ক্লান্ত পায়ে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেল।কিছুক্ষণ পর ভেজা চুল কাঁধে ছড়িয়ে গোসল সেরে বের হলো আর্শি। পরনে হালকা গোলাপি রঙের সুতির থ্রি-পিস। ভেজা মুখটা সাবানের স্নিগ্ধতায় আরও কোমল লাগছে যেন। চোখেমুখে দিনের ক্লান্তি থাকলেও আর্শি সেদিকে পাত্তা দিলো না। ছোট্ট আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে মুছতে একবার দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার দিকে তাকালো।দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতে চলল। অথচ আযরানের কোনো দেখা নেই। ছেলেটা গেল কোথায়?
অন্যদিকে ক্ষুধায় পেটের ভিতর ইঁদুর দৌড়াচ্ছে আর্শির। কিন্তু আযরানকে ফেলে খেতেও ইচ্ছা করছে না। কোনো উপায় না পেয়ে নিজেকে কাজে ব্যস্ত করতে চাইল সে। কিন্তু করার মতো কাজ খুঁজে না পেয়ে এবার আর্শি বড্ড বিরক্ত হলো। নীল আকাশে লাল লালিমার আবরণে ঢেকে যাচ্ছে। এবার আর বসে না থেকে আযরানের কাপড় গুলো গুছানোর সিদ্ধান্ত নিলো আর্শি। কিন্তু পুরো ঘর ঘেটে একটা টিশার্ট ব্যাতিত আর কিছুই পেল না। হঠাৎই হাতে ভাঁজ করা টিশার্টটার দিকে তাকিয়ে থমকে গেল আর্শি। কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে রইল
আকস্মিক কিছু একটা মনে পড়তেই নেত্রপল্লব বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল আর্শির ।আযরান তো সেদিন খালি হাতেই বেরিয়ে এসেছিল। এতদিন এতসব ঝামেলার মাঝে ব্যাপারটাই মাথায় আসেনি আর্শির।
“আযরান কিছু বলল না কেন?”
আনমনে কথাটা বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলল আর্শি। আযরান বড় ঘরের ছেলে। বড়মার বড্ড আদরের। বড় আব্বু ছোট থেকেই তাকে রাজকুমারের মতো বড় করেছে। আর সেখানে কিনা আর্শির জন্য সবকিছু ছেড়ে চলে এসেছে আযরান। বুকে অদ্ভুত চিনচিনে ব্যথা অনুভব হলো আর্শির। চক্ষুদ্বয় ছলছল করে উঠল নিমিষেই। সে চায় না আযরান তার জন্য আযরান এত কষ্ট করুক।আর্শির মনটা কেমন যেন ভারী হয়ে গেল। কিছু একটা ভেবে আচমকাই উঠে দাঁড়াল সে। তারপর দ্রুত পায়ে এগিয়ে গিয়ে। তাকের ওপর থাকা নিজের ব্যাগটা নামাল। পুরোনো কাপড়ের ছোট্ট ব্যাগ। চেইন খুলতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো কয়েকটা ভাঁজ করা নোট। এগুলো তার জমানো টাকা। টিউশনি থেকে অল্প অল্প করে বাঁচিয়ে রেখেছিল আর্শি। নিমিষেই খুশিতে আর্শির মুখশ্রী চকচক করে উঠল। এতটা খুশি হয়তো সে আগে হয়নি। এইটাকা গুলো সে কখনো নিজের প্রয়োজনে খরচ করেনি। খুব দরকার না হলে এই টাকায় হাতও দেয় না আর্শি। বিছানার ওপর টাকাগুলো ছড়িয়ে দিল। পরক্ষণেই ধীরে সুস্থে গুনতে শুরু করলো নোটগুলো। শেষমেশ সব মিলিয়ে দাঁড়ালো দুই হাজার তিনশো টাকা। আর্শি কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল টাকাগুলোর দিকে। মাথার ভেতর হিসেব চলতে লাগল দ্রুত। মুহুর্তে খুশিতে একপ্রকার লাফিয়ে বলে উঠল,
“বাহ! এটা দিয়ে তো দু’টো শার্ট আর একটা প্যান্ট অনায়াসে হয়ে যাবে। ভালো ব্র্যান্ডের না হলেও মোটামুটি ভালো কিছু নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। একটু দরদাম করলে হয়তো হয়ে যাবে।”
নিজের অজান্তে ঠোঁটের কোণে ছোট্ট হাসি ফুটে উঠল আর্শির। ব্যাগটা গুছিয়ে জায়গায় রাখতেই দরজায় কড়া নাড়ল কেউ। আর্শির বুক ধ্বক করে উঠল হঠাৎ আওয়াজে। পরক্ষণেই ব্যাপারটা বুঝতে পেরে শান্ত হয়ে এগিয়ে গেল দরজার নিকট। দরজা থেলে প্রবেশ করল আযরান। পুরো শরীর ঘামে ভেজা। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে লেপ্টে আছে। চোখেমুখে স্পষ্ট ক্লান্তি। তবুও আর্শিকে দেখেই ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা বাঁকা হাসিটা ফুটে উঠল।
“শাওয়ার নিয়ে দেখি একদম বউ বউ সেঁজে আছিস মুটি। ভালোবাসা পাওয়ার ধান্দা করছিস নাকি আবার?”
নিমিষেই নাক মুখ কুঁচকে নিল আর্শি। আসতে না আসতেই এই ছেলের মুখ চালু হয়ে গেছে। আর্শি চোখ রাঙাল। বলে উঠল,
“বাজে কথা রাখ। আর কোথায় ছিলি তুই? এই অবস্থা কেন তোর?”
আযরান কোনো জবাব দিলো না। বরং হাতে থাকা ব্যাগ গুলো বাঁড়িয়ে দিলো আর্শির দিকে। আর্শি কিছুটা অবাক হলো। ব্যাগগুলো নিয়ে নেড়ে চেড়ে বলে উঠল,
“এইসব কি?”
“খুলে দেখ। তোর জন্য কিছু এনেছি।”
কথাটা বলেই গামছা গলায় ঝুলিয়ে ওয়াশরুমের দিকে রওনা দিলো আযরান। আর্শি কিছুক্ষণ কৌতুহল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো পরক্ষণেই ব্যাগগুলো নিয়ে বসলো ছোট খাটটার ওপর। এই খাটটা তাদের বন্ধুরা সেদিন নিয়ে এসেছে। পুরো বাসাটায় মোটামুটি এখন আসবাবপত্রে পরিপূর্ণ। আর্শি প্রথমে একটা ব্যাগ খুলল। ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে এলো কালো রঙের একটা শাড়ি। একদম গাঢ় কালো। পাতলা সিলভার পাড়। খুব জমকালো না কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর শাড়িটা। বিস্ময়ে হতবাক আর্শি। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো শাড়িটার দিকে। শাড়িটার ওপর হাত রাখতেই বুকের ভেতরটা কেমন ধ্বক করে উঠল আর্শির। সে কখনো নতুন শাড়ি কিনতে পারেনি। পারেনি বললে ভুল হবে স্বামর্থ্যই ছিল না কখনো কিনার। নিমিষেই আর্শির চক্ষুদ্বয় ভিজে উঠল। কিছুক্ষণ পর নিজেকে সামলে নিয়ে বাকি ব্যাগগুলো খুলল সে। একটার পর একটা বেরিয়ে এলো তিনটা থ্রিপিস। আর এক জোড়া নতুন জুতো। হতভম্ব আর্শি। হতবাক তার দৃষ্টি। এতকিছু আযরান তার জন্য এনেছে? কিন্তু টাকা? এতটাকা কোথায় পেলো আযরান?”
আর্শির গলা হঠাৎ শুকিয়ে এলো। এতগুলো জিনিসের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে উঠছে ক্রমশ। ছেলেটা নিজের জন্য একটা জামা পর্যন্ত কিনেনি। অথচ তার জন্য..। কথাটা ভেবেই ডুকরে কেঁদে উঠল আর্শি। নিজের আবেগকে যেন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
“কে বলেছে আমার জন্য এতকিছু আনতে? নিজের যে পড়ার মতো জামা নেই অথচ আমার জন্য এতকিছু নিয়ে এসেছে।”
একহাত দিয়ে চোখ মুচছে তো ওপর দিকে আযরানকে বকে চলেছে আর্শি। কান্নার চোটে শরীর কাঁপছে মৃদু মৃদু। তখনই ওয়াশরুমের দরজা খুলে বের হলো আযরান। ভেজা চুলগুলো এলোমেলো। কাঁধে গামছা ঝোলানো। বের হয়েই আর্শির কান্নারত মুখটার দিকে তাকিয়ে ভ্রূ কুঁচকে ফেলল সে। বলে উঠল,
“কি রে বাল মরা কান্না কাঁদছিস কেন? তোর জামাই মরছে?”
“তুই চুপ থাক হারামজাদা।”
আযরান চোখ পাকালো। ধরধর করে এগিয়ে এলো আর্শির কাছে। নিমিষেই আর্শির গলা টিপে বলে উঠল,
“বেয়াদব মেয়ে! স্বামীকে হারামজাদা বলিস।”
আর্শি আযরানের হাত ছাড়িয়ে ধুমধাপ কিল ঘুষি বসাতে থাকলো। আযরান চমকে উঠে সরতে চাইলেও শেষ রক্ষা হলো না। আর্শি মারতে মারতে বলে উঠল,
“তোকে কে বলছে এইসব করতে হ্যাঁ? কে বলছে?”
ধুপধাপ করে আযরানের বুকে কিল বসাচ্ছে আর্শি। কান্নার চোটে নাক লাল হয়ে গেছে। চোখদুটো ফুলে উঠেছে পুরো।
আযরান প্রথমে ‘এই এই’ করতে করতে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করল। তারপর হঠাৎই দুহাত দিয়ে আর্শির কবজি চেপে ধরল। আর্শিকে নিয়ে এলো একদম নিকটে। মেয়েটা ফুঁপিয়েই চলেছে। আযরান মন দিয়ে দেখলো আর্শির কান্নাটা। ফর্সা হওয়ার দরুন গুলুমুলু মুখটা টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে। আযরানের খুব করে ইচ্ছে করলো ফুলো গাল দু’টোয় কামড় বসাতে। কিন্তু সেটা করল না। যদি আর্শি কিছু মনে করে। আযরান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আর্শির দিকে দৃষ্টি স্থির করে বলে উঠল,
“আমার বউয়ের জন্য আমি কিনে এনেছি তোর কি?”
“তো আমি বউ না?”
“নাহ!”
আযরানের ভাবলেশহীন জবাবে আর্শি বিমূঢ়, বাক্যহারা হয়ে রইল। বউ না হলে কে? প্রশ্নটা মনে রাখতে পারলো না সে বলেই ফেলল,
“তাহলে আমি কে?”
“তুই মুটি যা ভাগ!”
কথাটা বলেই মাথায় চাপড় মেরে তাকে সরিয়ে দিলো আযরান। আর্শি কয়েক সেকেন্ড হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। পরক্ষণেই রাগে নাক ফুলে উঠল তার। তা দেখে আযরান বিদ্রুপ করে উঠল,
“সাপের মতো ফোঁস ফোঁস না করে খাবার আন। ক্ষুধায় পেট খুলে পরে যাচ্ছে।”
গাঁয়ে ফুটন্ত তেল পড়ার মতো জ্বলে উঠল আর্শি। তার নিজেরও ক্ষুধা পেয়েছে বিধায় আর কথা বাড়ালো না। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতেই এগিয়ে গেল রান্নাঘরের দিকে। আর্শির যাওয়ার পানে তাকিয়ে অল্প একটু হাসল আযরান। আর্শির মাঝে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। আগের শান্তশিষ্ট আর্শি এখন আর আগের মতো শান্ত নেই। তারা বেস্টফ্রেন্ড হলেও আর্শি কখনো তার চোখে চোখ রেখে কথা বলেনি। আর এখনের আর্শি তাকে মারতেও আসে। কথাটা ভেবেই হাতপা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায়। মনে অদ্ভুত প্রশান্তি ছড়িয়ে আছে।
দ্বিপ্রহর কাটিয়ে প্রকতি সায়াহ্ন রূপে সেজে উঠেছে। সূর্য নিজের তেজী রূপ কমিয়েছে কিছুক্ষণ পূর্বেই। ছোট্ট ঘরটার এক কোণে মৃদু আলো জ্বলছে। বাইরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ ভেসে আসছে ক্ষীণভাবে। আর্শি থালা-বাসন ধুয়ে এসে দেখল আযরান খাটের উপর হেলান দিয়ে বসে আছে। চুলগুলো আধা শুকনো। আযরান তার দিকে তাকাতেই দ্রুত চোখ সরিয়ে ফেলল সে। শ্রবণশক্তিতে প্রবেশ করল আযরানের কন্ঠস্বর,
“এই মুটি”
আর্শি গম্ভীর মুখে তাকাল। বলে উঠল,
“কি?”
“এইদিকে আয়?”
“কেন?”
“আয় না।”
আর্শি এগিয়ে গেল। গিয়ে বসল আযরানের পাশের ফাঁকা জায়গাটায়। আর্শি বসতেই আযরান একটা প্যাকেট বের করল। পুরো রুম জুঁড়ে পিনপিন নিরবতা। প্যাকেট হাতিয়ে আযরান একটা কাগজের টুকরো বের করল। আর্শি কৌতুহলী চোখে তাকিয়ে। ছোট কাগজে মুড়ানো জিনিসটা বের করতেই আর্শির হৃদস্পন্দন থেমে গেল। পরক্ষণেই দ্রুত বেগে চলতে শুরু করল সেটা। আযরান এগিয়ে এলো আর্শির অতি নিকটে। হাতে থাকা স্বর্ণের নাকফুলটা আর্শির নাকের প্রবেশ করাতেই ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল মেয়েটা। চক্ষে পানি এসে ভীরল। বহুদিন নাকফুল না পড়ায় ছিদ্র অনেকটাই বুঁজে এসেছে। আযরান ভয় পেয়ে হাত সরিয়ে নিল। ব্যাকুল কন্ঠে বলে উঠল,
“ব্যথা পেয়েছিস? সরি। এবার আস্তে দিচ্ছি।”
পূর্বের তুলনায় আরও মনোযোগী হলো আযরান। খুব যত্ন নিয়ে নাকফুলটা পড়িয়ে দিলো আর্শির নাকে। পরক্ষণেই আর্শির দিকে তাকাতেই চক্ষুদ্বয় সেখানেই স্থির হয়ে গেল আযরানের। মন জুড়িয়ে গেল নিমিষেই। নাকফুল পড়ায় যেন আর্শির সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। একদম বউ বউ লাগছে। আর্শি লজ্জায় একদম নুয়ে পড়ছে। আযরানের এভাবে তাকিয়ে থাকাটাই তাকে লজ্জায় ফেলছে। আযরান এবার আর্শির হাত দু’টো টেনে নিলো। পড়িয়ে দিলো দু’টো সোনালী বর্ণের মোটা গোছের চুড়ি। আর্শি স্তব্ধ। কথা বলতেই যেন ভুলে গেছে। চুড়ি গুলো সোনার না হলেও অনেক বেশি সুন্দর। আর্শির বক্ষের মাঝে চিনচিন ব্যথা অনুভব হলো। তখনই শুনতে পেল আযরানের লাগামছাড়া কথা।
“আবার কাঁদলে কিন্তু এখন আকাম করে বসবো। কান্না বন্ধ কর মুটির বাচ্চা।”
আর্শি নাক টানল। অভ্যন্তরীণ কান্নারা ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে। তার কি দোষ? সে কি কাঁদবে না? তার তো কাঁদা উচিত। যা সে কখনো আশাই করেনি তা হুট করে পেয়ে গেলে তার কি কাঁদা উচিত না? উচিত তো। কিন্তু এই অসহ্য ছেলেটা তাকে কাঁদতেও দিচ্ছে না অদ্ভুত। আযরান বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো। এসে বসল আর্শির পায়ের কাছে। আচমকা এমন কাণ্ডে চমকে উঠল আর্শি। তড়িঘড়ি করে পা সরিয়ে নিতে গিয়েও পারল না। আযরান শক্ত করে চেপে ধরেছে তার গোড়ালি। আর্শি বিস্ময়ে প্রশ্ন করল,
কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ২১
“আযরান! কি করছিস?”
আযরান উত্তর দিলো না। বরং পকেট থেকে ছোট্ট একটা বক্স বের করল। বক্সটা খুলতেই টুংটাং শব্দে কেঁপে উঠল নীরব ঘরটা। আর্শির দৃষ্টি আটকে গেল সেখানেই। একজোড়া রুপার নুপুর। আযরান সেটাও পড়িয়ে দিল আর্শির পায়ে। আর্শি স্থির হয়ে বসে আছে। মাথাটা নত। আজকে বোধহয় আর্শির অবাক হওয়ার দিন। কখন জানি সে জ্ঞান হারায়। আযরান স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল নুপুর পড়া পাগুলোর দিকে। আকস্মিক ওষ্ঠযুগল ছুঁয়ে দিলো আর্শির পায়ে। নরম ঠোঁটের স্পর্শে আর্শির রন্ধ্রে রন্ধ্রে শিহরণ বয়ে চলেছে। আর্শির হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে পড়ল নিমিষেই। লজ্জায় শরীরে কাঁটা দিচ্ছে বারংবার। ঠিক তখনই আযরানের বলা বাক্যে আর্শির কপোলদ্বয় রক্তিম হয়ে উঠল। অন্তর মুচড়ে উঠল আর্শি। শ্রবণশক্তিতে প্রবেশ করল আযরানের মোহনীয় কন্ঠস্বর,
“এবার একদম বউ বউ লাগছে। আযরানের পুতুল বউ।”
