Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৮

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৮

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৮
Maha Aarat

‘নো রেসপন্স! ‘
আইরার উদ্দেশ্যে কথাটা বললেন মাহের।তবুও কোনো উত্তর না পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন , ‘এতো রাগ?’
অথচ রাগ নয়,অভিমানে নুয়ে পড়া দৃষ্টি পড়তে ব্যর্থ মাহের।শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে তার থুতনি তুলে দেখলেন গালে পানি।আইরাকে কান্না করতে দেখে আশ্চর্য্য হয়ে গেলেন মাহের।
‘কাঁদছো কেন?ওকেহ সরি সরি আই উইল নট টাচ ইউ।’
বলতে বলতে আইরার থেকে দূরে সরে দাঁড়ালেন মাহের।উনার ধারণা অপ্রত্যাশিত আলিঙ্গনের জন্য সে বোধহয় প্রস্তুত ছিলো না।
আইরার ইচ্ছে করছে লোকটাকে এত্তোগুলো কথা শোনাতে।এতো বোকা কেন মানুষ!
‘না বললে কীভাবে বুঝবো?’
‘আপনার আরেকটা বউ আছে,বাবু আছে তাই না?’
মাহের কিছুক্ষণ থ হয়ে রইলেন।পরক্ষণেই ভাবলেন এ মেয়ের থেকে এসব প্রশ্ন আশা করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।বেশ স্বাভাবিক!

‘বলুন! আছে তাই না?’
‘কে বলে তোমাকে এসব?’
‘আমি জেনেছি।’ বলেই শব্দ করে কেঁদে উঠে আইরা।
মাহের দ্রুত জিজ্ঞেস করলেন , ‘কোথা থেকে?’
‘আপনার ফোনে মেসেজ এসেছে।আমি সরি,আমি দেখে ফেলেছি।’
মাহের বুঝতে পারলেন না।পকেট থেকে ফোন বের করে আইরার হাতে দিয়ে বললেন , ‘কোথায় দেখাও।’
কয়েকটা মেডিকেল অথোরিটি রিলেটেড মেসেজ স্ক্রল করতেই কাঙ্ক্ষিত মেসেজ পাওয়া যায়।নাম সেভ করা ক্যাপিটেল অক্ষরে ‘L’ দিয়ে।সেটা খেয়াল করে আইরা নাক টেনে বলে, ‘L দিয়ে Love হয় তাই না?’
মাহের চুপচাপ ফোন নিয়ে পকেটে রেখে গম্ভীর স্বরে বললেন , ‘পরিচিত একজন।তোমার ভাবনা ভুল।’
আইরা বুঝতে পারলো না হুট করে উনার হাবভাব কঠিন হওয়ার কারন।তাঁর আর সাহস হলো না কিছু জিজ্ঞেস করতে।

‘আমার সাথে বাসায় যাবে এখন?’
‘য্ যাবো?’
‘তোমাকে জিজ্ঞেস করছি!’
মাহের বেশ ধমকে কথাটা বলতে না বলতেই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে আবারও কেঁদে ফেলে সে।মাহের গম্ভীর স্বরেই জিজ্ঞেস করলেন , ‘এখন আবার কি হলো?’
‘আপনি এভাবে রেগে রেগে কথা বলছেন কেন?আমার তো ভয় লাগে।’
মাহের কিছুটা সময় নিলেন। নিজেকে স্বাভাবিক করে শান্তসুরে বলার চেষ্টা করলেন , ‘তুমি কি বাসায় যেতে চাও এখন?’
‘আপনি যা বলবেন তাই হবে।’
‘চলো।’
কান্নার মধ্যেই স্মিত হাসে আইরা।মাহেরের এই সম্মতিটুকুই তাঁর খুশির জন্য যথেষ্ট।মাহের ভেবে পাচ্ছেন না সেকেন্ডে সেকেন্ডে এই মেয়ের মুড সুয়িং হচ্ছে কীভাবে!এই কান্না এই হাসি!
লাফাতে লাফাতে গিয়ে রেডি হতে গিয়েও আইরা ফিরে আসে আবার।বলে, ‘উত্তর তো দিলেন না?’
‘কিসের?’
‘বউ বাচ্চার।’

‘আমার একটাই বিয়ে হয়েছে।একজনই ওয়াইফ।বাবু-টাবুর মুখ এখনো দেখিনি।এতটুকুই সত্যি।’
‘তাহলে উনি কে?’
‘তোমার জানার প্রয়োজন নেই।’
আইরা মুখ গোমড়া করে প্রস্থান করে।আইরা চলে যেতেই ফোন বের করে কনভারসেশন টা কেটে গোপনে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মাহের।জখমের আঘাতটুকু বড্ড দৃঢ়,এতোটা বছরেও নিস্তার দেয়নি।

‘আমি ভালো থাকবো না।’
আরহামের বলা কথাটা ঘুরছে মাথার মধ্যে।সত্যি কি উনি ভালো নেই?
উত্তর খুঁজতে ব্যর্থ হাফসা।তার এখন মনে হচ্ছে লোকটার প্রতি বড্ড বেশি নিষ্ঠুর হয়ে গেছে সে।এজন্যই বোধহয় তিনি দূরত্ব চাননি।
কিছ দূরত্ব সম্পর্কে ফাটল ধরায়।আবারও কখনো কখনো বন্ধন মজবুত করে।তবে এ দূরত্ব কি সম্পর্কে জড়তা সৃষ্টি করছে আরও?
হাফসার অস্থির অস্থির লাগে।খুব ইচ্ছে করছে একটা পলক লোকটাকে দেখার।কিন্তু তার সূক্ষ্ম বার্তা তিনি হয়তো খুব ভালো করে বুঝেছেন বলেই যোগাযোগের চেষ্টা করেননি।
ফ্ল্যাশব্যাক____
‘এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারন?’
হাফসা নির্দ্বিধায় উত্তর দিলো, ‘ওইদিনের পর থেকে নতুন ‘আমি’টা যেনো নিজের কাছেই অপরিচিত মনে হচ্ছে।আমার মনে হচ্ছে আমার ব্যতিক্রম ব্যবহারে আপনি কষ্ট পাচ্ছেন।’
‘তার থেকে বেশী কষ্ট হবে যদি আপনি দূরে চলে যান।’
‘দীর্ঘস্থায়ী সুখের জন্য একটু দূ:খ সহ্য করুন।’

আরহাম কোমরে হাত রেখে বাইরে তাকিয়ে রইলেন খানিকক্ষণ।হাফসা তাকালো।তাঁর মানুষটা বড্ড সুন্দর।
আরহামের দিকে দূ দন্ড তাকালে প্রেমে পড়তে মন চাইবে যে কোনো নারীর।উনার থেকে দূরত্বের সিদ্ধান্ত তার তড়িঘড়ি করে নেওয়া নয়,বুঝে শুনে সময় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত।
আরহাম কিছুক্ষণ কি যেনো ভাবলেন।অতপর অসহিষ্ণু হয়ে পেছন ঘুরে বললেন, ‘প্রয়োজন নেই।আপনি আমার থেকে দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।আমি ভালো থাকবো না।’
‘আপনি তো নিজেই বলেছেন আমি বদলে গেছি।এই আমিকে আপনি মেনে নিতে পারছেন না।’
আরহাম কোনো কথায়ই পাত্তা না দিয়ে বললেন, ‘জানি না কিছু। আপনি আমার সাথে থাকবেন।ব্যস…
‘আমার মনে হয় আপনার আরেকটু চিন্তা করা উচিত…
এবার আরহাম বেশ শক্তপোক্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি চাচ্ছেন আমার আর আপনার দূরত্ব তৈরী হোক।তবে যান।কিছু বলবো না আমি আর।’

আরহাম রেগেমেগে না হলেও বেশ মেজাজ খারাপ নিয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।হাফসার সাথে এই প্রথম উনার এমন রূঢ় ব্যবহার।
সেদিন সকালে আরহাম বাহিরে চলে গেলেও দূজনের মধ্যে আলাপ হলো না আর।হাফসা সিদ্ধান্ত বদলে নিয়েছে।উনার অমতে সে যাবে না।অথচ বিকেলে হুট করে মেসেজ পাঠালেন, ‘গুছিয়ে নিন।আমি ফিরে আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসবো,ইন শা আল্লাহ।’
হাফসা উত্তরে লিখেছিল, ‘সমস্যা নেই।যাচ্ছি না।’
‘নো মোওর ওয়ার্ডস!’
কি ধমকানি রে বাবা!হাফসা তাড়াতাড়ি গুছিয়ে নেয়।অতপর আরহাম আসলেন!
বর্তমান…

পরদিন সকাল~
গাছের পাতা থেকে শিশির ঝরা টুপটাপ শব্দ আর পাখিদের কলরবে আন্দোলিত শীতে অতীত ব্যস্ত শহর।আলস্যের চাদর ও কুয়াশার ধূম্রজাল চিরে পূর্ব আকাশে সূর্য নিজেকে জানান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত, আলতো সূর্যরশ্মিতে ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দুগুলো মুক্তোদানার মতো ঝলমল করে।স্নিগ্ধময় বাংলার শীতের সকাল!গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে কার না ভালো লাগত?পুবের জানালা ভেদ করে সূর্যের আলোর ছোঁয়ায় ভোরবেলা ঘুম ভাঙত, কিন্তু কনকনে শীতের কারণে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা! হঠাৎ হিমেল বাতাসে ভেসে আসা মিষ্টি গন্ধ মুগ্ধ করে রাখত।কৌতূহল নিয়ে বাইরে আসলে দেখা যেত উনুনে খেজুর রস জ্বাল দিচ্ছে মা-চাচিরা, শীতের নানা পিঠাপুলি তৈরি ও গল্প চলছে।
অন্যদিকে শিশিরভেজা মেঠোপথে একদল শিশু খালি পায়ে হেঁটে বেড়াতো।কিছুটা পথ এগোতেই চোখ দুটি জুড়িয়ে যেত দৃষ্টিনন্দন সরিষাখেতে।যেন হলুদের চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।কী অপরূপ প্রকৃতি!যান্ত্রিক কোলাহল ও অবাধে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কোম্পানির রাজত্ব-লীলায় এসব দৃশ্য আজ শুধুই কল্পনা!

কুয়াশা মাড়িয়ে শিশিরফোঁটা পায়ে মাখতে মাখতে বাগানের দিকটায় এলেন আরহাম।মাইমুনাকে স্ক্যাচ থেকে ব্রেঞ্চে বসতে সাহায্য করে নিজেও পাশে বসলেন।ঘন কুয়াশা ভেদ করে দূরের বস্তু অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।মুখ থেকে সাদা ধোঁয়া উড়িয়ে মাইমুনা বলতে লাগলেন , ‘শীতকালে এতো কাছ থেকে কুয়াশার সাথে এই প্রথম আলিঙ্গন আমার।’
আরহাম তার হাত নিয়ে নিজের হুডির পকেটে ঝাপটে ধরে বললেন , ‘কেমন আছেন?’
আরহামের হঠাৎ এহেন প্রশ্নে সে চমকালেও উত্তর দিলেন , ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো।আপনি?’
আরহাম উত্তরে কেবল মুচকি হাসলেন।বাগান সদ্য ফোঁটা ফুলের সুবাসে মুখরিত।আরহাম তাকে বসিয়ে সাথে আনা ঝুড়ি নিয়ে ফুলের গাছের দিকে গেলেন।মাইমুনা দূর থেকে ঠাঁয় তাকিয়ে রইলেন।দেখলেন খুব যত্নে কলি থেকে আলাদা হওয়া সতেজ পরিত্যক্ত ফুলগুলো আরহাম খুঁজে নিচ্ছেন।

আরহাম কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন গাঁদা,ডালিয়া,জিনিয়া,কসমস,সূর্যমুখী,চন্দ্রমল্লিকা,ডেইজি সবগুলো ফুলে ঝুড়ি ভরে।তাঁর কোলে ঝুড়ি রেখে হাত ঝাড়তে ঝাড়তে কিছুটা সিরিয়াস হয়ে বললেন , ‘আমার কিছু প্রশ্ন আছে,হানি।’
মাইমুনা ফুলের সুবাসে নাক ডোবাতে ডোবাতে ব্যস্ত থেকে উত্তর দিলেন , ‘বলুন।’
‘ভেবে চিন্তে সঠিক উত্তর দিবেন।ওকে?’
‘প্রশ্ন এক,উমায়েরকে নিকাহ করার আগে আমার আর আপনার সম্পর্কে যেরকম বন্ডিং ছিলো,বোঝাপড়া ,দায়িত্ব ভালোবাসা বা শাসন,উমায়েরকে নিকাহের পর কতটুকু ঘাটতি পড়েছে?
প্রশ্ন দূই, উমায়ের আমার জীবনে আসার পর আমার নেগেটিভ কিছু পরিবর্তন বলুন,যেগুলো আপনাকে আঘাত করেছে?

প্রশ্ন তিন, শেষ বার কখন আমার থেকে পাওয়া কোনো ব্যবহারে, বা অবহেলায় কেঁদেছেন,আমার অজান্তে?
আরহামের পরপর তিনটা জটিল প্রশ্ন শুনে মাইমুনা নিশ্চুপ হয়ে রইলো খানিকক্ষণ।উনার মধ্যে কোনো ভাবাবেগ নেই।উনার নীরব অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে,প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবতে তাকে সময় দিচ্ছেন আরহাম।তবুও নির্ভুল উত্তর হওয়া চাই।
মাইমুনা নীরব হেসে আরহামের প্রশ্নগুলো এক সাইডে রেখে বলে, ‘জটিল প্রশ্ন করেছেন।আমি সময় নিয়ে উত্তর গুলো দিবো।তবে আমারও কিছু জানার আছে যে?’
‘বলুন।’
‘হাফসাকে বেশী বেশী মিস করছেন রাইট?’
আরহাম যেনো অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন মাইমুনার প্রশ্নের আক্রমনে।মাথা নিচু করে উত্তর দিলেন, ‘আপনার সাথে থাকাকালীন উনাকে কেন মিস করবো।’

‘ঠিক কোনো এক কারনে হাফসার থেকে কষ্ট পাচ্ছেন আপনি।আমি জানি না সেটা কি,তবে এতটুকু নিশ্চিত।’
আরহাম ভেতরে ভেতরে অধৈর্য হলেও পাল্টা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কষ্ট কেন পাব।ভুল ভাবছেন।’
‘আপনি অনেক পুরনো চেনা মানুষ আমার।এই যে আপনার বিষন্নতায় ঘেরা মুখ,রুক্ষ চেহারা, গম্ভীরতা বা নীরব হয়ে যাওয়া সেটা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে বুকের ভেতর খুব যতনে দূ:খ পোষছেন।মিথ্যে বললাম শাহ?’
আরহাম এক সেকেন্ড ও এসব আলাপন হজম করতে চাইছেন না।উনার প্রচন্ড রাগ লাগছে এসব আলাপ শুনতে।তাই কথার ইতি টেনে গলার স্বর খাদে নামিয়ে বললেন, ‘এসব কথা বাদ।আমি আপনার থেকে উত্তরগুলো শুনতে চাই।আমার মনে হচ্ছে আপনার প্রতি অনেক অবহেলা হয়ে যাচ্ছে আমার।আমি শোধরাতে চাই।’
‘ফুল আনতে গিয়ে আমার পছন্দের গোলাপ আনা মিস হতো না।চাইলেই কি আবার আগের মতো হওয়া যায়,শাহ?
আরহাম এতোক্ষণে বাম হাতে গুটিয়ে রাখা কাঁটাযুক্ত ডাল তাঁর হাতে ধরিয়ে বললেন, ‘অবশ্যই যায়।সুবাস ভুলতে পারি,কাঁটার আঘাত নয়।আপনি আমার জীবনের সেই কাঁটা যে এই আমিটাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে নিরাপদে।আর বাকিরা তো ফুল,মোহ ছড়াতে জানে,আগলে রাখতে নয়।’

মাহের ক্লাস শেষ করেই হসপিটালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান।আর আইরার কলেজ শেষে গাড়িই তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়।আজকে সাহস করে মাহেরের প্রতিষ্ঠানে এসেছে সে।অথচ লোকটা নেই।কোথাও নেই।অমি ভাইয়াও নেই।সেকেন্ড ফ্লোর থেকে ফোর্থ ফ্লোর পুরোটা চেক করে হাঁপাতে লাগলো আইরা।উনার কেবিন ছেড়ে যাবেন কোথায়।আশ্চর্য্য!
মাহেরের কলেজ থেকে ফিরে হসপিটালে আসতে আসতে সাড়ে এগারোটা। মিনিট দশেক পর থেকেই শুরু হয় পেশেন্ট দেখা।আজকে ঠিক দূটোয় একটা মেজর অপারেশন।এখন ঘড়িতে সাড়ে তিনটা।অপারেশন সম্পূর্ণ করে অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে মাহের সোজা কেবিনে আসলেন।মিনিট দশেক রেস্ট নিবেন তিনি।তারপর লাঞ্চ তারপর আবার বিকেলের শিফট শুরু।অথচ কেবিনে প্রবেশ করেই বেশ বড়োসড়ো ধাক্কা খেলেন যেনো তারা দূজনে।পেশেন্টের সিটে একপাশ হয়ে কে শুয়ে আছে।মাহেরের সন্দেহ গাঢ় হলো যখন কাছে এলেন।নিকাবে আইরার মুখ ঢাকা।মাহের পেছনে তাকিয়ে অমিকে ইশারায় বেরিয়ে যেতে বলে আইরার পাশে এসে দাঁড়ালেন।কয়েকবার ডাকতেই নড়েচড়ে উঠলো সে।অথচ ধীরে ধীরে চোখ মেলে সামনে অপরিচিত কোনো আগন্তুক দেখে সদ্য লেগে আসা ঘুম উড়ে গেলো তাঁর।

‘আ্ আপনি কে?’
মাহের ওর ভীত কন্ঠ শুনে মাস্ক নামালেন।আইরা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেললো।চোখে গ্লাস,মুখে মাস্ক,হাতে গ্লাভস,গায়ে এপ্রোন,মাথায় সার্জারি ক্যাপ,কীভাবে তাঁর মানুষটাকে চিনবে সে?
মাহের আশ্চর্য্য কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি এখানে কেন?’
‘আপনি কোথায় ছিলেন?’
মাহের নিজের প্রশ্নেই স্টির থেকে বললেন, ‘তুমি কীভাবে এসেছো?কখন এসেছো।’
‘আমার ভালো লাগছিলো না ক্লাস করতে।তারপর এখানে আসলাম।কিন্তু আপনাকে খুঁজে না পেয়ে অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে গিয়েছি খেয়াল নেই।’
মাহের বিনাবাক্যে নিজের পরিধেয় ক্যাপ,গ্লাভস খুলতে খুলতে গম্ভীরস্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাসায় কেন যাওনি?চাচা কোথায়?উনি তোমাকে রেখে গেছেন?’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৭

‘আমি বিদায় করে দিয়েছি।’
‘তোমার সাহস দেখে অবাক হচ্ছি।একা এতদূর পথ কোন ভরসায় এসেছো আর…
‘বাকিটা পরে শুনবো।আমার প্রচন্ড খিদে লেগেছে।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here