৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪১
রুপান্জলি
আজ প্রথম বারের মতো নিশ্চুপ ভঙ্গিতে ক্লাস করছে ক্লাসের সবচেয়ে অশান্ত চারজন। এর আগে কখনোই এমন ঘটনা ঘটেনি,, আজ ওদের নিশ্চুপতা দেখে ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে হাস্যরসিক স্যারটাও কেমন নিশ্চুপ। এর আগে তিনটে বছরে সাহামদ স্যার যতবার ক্লাস নিয়েছেন ততোবার এই পাঁচ বন্ধুর বেখেয়ালিপনা, দুষ্টামি গুলোকে কেন্দ্র করে নানান বাক্য আওড়িয়েছেন।নিজের ভার্সিটি লাইফ, বন্ধু বান্ধব নিয়ে মজার মজার কাহিনি বলেছেন। আজ ওদেরকে চুপ থাকতে দেখে তিনিও মনোযোগ সহকারে ক্লাস করাচ্ছেন,, দুয়েক বার জিজ্ঞেস করেছিলেন কেনো তারা এতো নিশ্চুপ কিন্তু কেউ তেমন কোনো প্রতিত্তোরে করেনি। পল্লব নোট করার ফাকে একবার রাত্রির দিকে তাকালো,, ভার্সিটিতে আসার পরেও মেয়েটার মুখে সাজসজ্জা ছিলো কিন্তু এখন নেই,, চোখ দুটো ফুলে আছে,, খুব কেঁদেছে কি? পল্লব চোখ সরিয়ে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। ইরাটা ভার্সিটি আসেনা বহুদিন,, কল করে কোথায় আছে?
কি হয়েছে জানতে চাইলে পারসোনাল কাজের দোহাই দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। এই পারসোনাল পারসোনাল খেলাগুলো আর ভালো লাগেনা,, একদমি নেয়া যাচ্ছেনা। পল্লবের মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা করে এদের থেকে অনেক দূরে চলে যেতে কিন্তু সেটা ইচ্ছা পর্যন্তই থেকে যায়, বাস্তবায়ন করা হয়না। সে যখনি ভাবে এই চারজন থেকে দূরে সরে যাবে তখনি বুকটা খা খা করে উঠে। বন্ধুত্বের সম্পর্ক গুলো ও এমন হয়? বন্ধুদের কেনো পরিবারের জায়গায় বসিয়ে দিলো সে? এখন তো তাদের ছাড়া দম বন্ধ হয়ে আসে। সেসব ভাবতে ভাবতে অর্পনার পাশে বসা পারশীর দিকে চোখ পরলো,, মেয়েটা একটু পর পর উকি ঝুঁকি দিয়ে তাকেই দেখছে। সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নিলো পল্লব । সে পুরো ধরনীর কাছে নিজেকে এক রুপে প্রকাশ করলেও বাস্তব পল্লব টা অন্য রকম। সেই অন্যরকম সত্তাটার হুদিস সে কাউকেই পেতে দিবেনা। যেখানে সেই সত্তার মুল্য দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানুষটাই তাকে অপ্রয়োজনীয়র খাতায় রেখে দিয়েছে। থাক তবে,, একটা জীবন নাহয় এমনি কেটে যাক।
,,,,ক্লাস চলাকালীন সময়ে হুট করেই কয়েকজন ছেলে এসে ক্লাসের সামনে দাড়ালো। সাহামদ স্যার পড়াতে পড়াতে সেদিকে নজর স্থির করতেই ছেলেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা ছেলেটা বললো — স্যার একটু ভিতরে আসা যাবে?
,,,সাহামদ স্যার দ্বিমত করলেন না, এরকম ছাত্রনেতাদের হর হামেশাই ক্লাসের মাঝখানে ভিতরে আসার আর্জি জানাতে দেখা যায়। আসে,, দুটো জ্ঞান মুলক বাক্য কিংবা ভার্সিটির স্টুডেন্টদের জন্য তৈরি করা কিছু নিয়মের বুলি আওড়িয়ে আবার চলে যায়। স্যারের অনুমতি পেয়ে লম্বা ছেলেটি ভিতরে ঢুকে সোজা অর্পনার দিকে নজর তাক করে বললো — ভাবি!! আপনাকে ভাই ডাকছে।
,,,, ছেলেটির কথায় ভ্রু কুচকালো অর্পনা, সাথে ক্লাসে থাকা স্যার সহ অনেকেই। অর্পনার বিয়ে হয়ে গিয়েছে? কবে? কার সাথে? কই কেউ তো জানলোনা। যদিও জানার কথাও না, এই মেয়েটা কখনোই কাউকে কিছু শেয়ার কিংবা কইফিয়ত দেয়না। তবে সবাই বিষয়টা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও সাহামদ স্যার যেনো বিষয়টা হজম করতে পারলেন না,, তার মতে অর্পনার সাথে আদ্রিয়ানের বিয়ে হওয়ার কথা। তাহলে কি আদ্রিয়ান ই অর্পনাকে ডেকে পাঠিয়েছে? হতেই পারে,, বিয়ে করেছে বলেই হয়তো ইদানীং তাকে ভার্সিটিতে খুব একটা দেখা যায়না। ছেলেটার কথায় সবার মতো অর্পনাও অবাক হয়েছে,, সে একবার ছেলেটার আগা গোড়া পরখ করে নিয়ে সন্দেহি কন্ঠে শুধালো — কোন ভাই?
,,, ছেলেটি ভদ্রতার সহিত বললো — আমাদের ভাই মানে আপনার স্বামী। উনি ভার্সিটির গেইটের সামনে দাড়িয়ে আছে,, ইতিমধ্যে অনেক লোক জড়ো হয়ে গিয়েছে ভাবি। আপনি এখোনি না গেলে আরও লোক জড়ো হয়ে যাবে। চলেন ভাবি, প্লিজ!!
,,, অর্পনা বিরক্তিকর দৃষ্টি ফেলে সাথে সাথে নাকোচ করে বললো — আমি এখন যাচ্ছিনা, তার এতো প্রয়োজন পরলে তাকে বলুন আমার ক্লাস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। আরও ২ ঘন্টা পর বের হবো আমি।
,,, ছেলেটা মানলো না, সে গাট হয়ে দাড়িয়ে থেকে বললো — না ভাবি, আপনি না গেলে ভাই আমাকে মেরেই ফেলবে। এমনিতেই কি নিয়ে যেনো প্রচন্ড রেগে আছে। আপনি চলেন ভাবি নয়তো আমি এখান থেকে এক পাও নড়বো না।
,,,, ভাইয়া এসেছে কথাটা পরশীর কানে পৌছাতেই সে দ্রুত চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো। অর্পনার হাত ধরে টানতে টানতে বললো– ভাবি!! চলো ভাইয়া এসেছে, তুমি না গেলে আবার রেগে যাবে। চলো, চলো প্লিজ!!
,,,, অর্পনা বিরক্তিতে ‘চ’ সূচক শব্দ করে উঠে দাড়ালো। সাথে পরশী আছে বলেই যাওয়ার সিদ্ধান্তঃ নিলো নয়তো এই লোকের মর্জি মতো চলার বিন্দু পরিমান সখ ছিলোনা তার। বন্ধু বান্ধব আর স্যারের থেকে বিদায় নিয়ে ক্লাস থেকে বের হলো অর্পনা। ওকে যেতে দেখে ছেলেটিও চলে যেতে নিবে, তখনি স্যার কৌতুহল বসত প্রশ্ন করলেন — হু ইজ হি? অর্পনার হাসবেন্ডের নাম কি?
,,, ছেলেটি বললো — সাবেক ভিপি,, তুখোড় রাজনীতি বীদ, ফিউচার সম্ভাব্য মিনিস্টার, দ্বীপ জোহান মির্জার ওয়াইফ। আই মিন, অর্থমন্ত্রীর ভাতিজা বউ।
,,, ছেলেটির কথায় বড্ড অবাক হলো সকলে। দ্বীপ জোহান মির্জা!! কিছুদিন আগেও জমুনা টিভিতে তাকে দেখা গিয়েছিলো। “”একই ফ্রেমে তিন মির্জা”” নামক একটা শো হয়েছিলো,, সেখানে শাহিন মির্জা এবং জোহান-বিহানকে দেখা গিয়েছিলো। যদিও তখন দ্বীপ মির্জার বৈবাহিক জীবন নিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি নিজেকে বিবাহিত বলে আক্ষা দিয়েছিলেন তবে সেই বউ যে অর্পনা সেটা বোধহয় কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে সাহামদ স্যার,, মেয়েটার তবে অন্যত্র বিয়ে হয়ে গিয়েছে? আদ্রিয়ান ছেলেটা ঠকে গেলো? এজন্যই কি ভার্সিটির গন্ডি থেকে বিরতি নিয়েছে ছেলেটা? আদির জন্য বড্ড আফসোস হলো তার,, ক্ষমতার কারনে হয়তো দ্বীপ মির্জার সাথে পেরে উঠেনি।
,,,,, গেইটের কাছে আসতেই সেই লম্বা ছেলেটি অর্পনার দিকে মাস্ক এগিয়ে দিয়ে বললো — ভাবি!! ওখানে অনেক ছেলে আছে, এটা পরে নেন। নয়তো ভাই রাগ করবে।
,,, অর্পনা বিরক্তিতে কপাল কুচকে মাস্কটা নিয়ে নিলো। ছেলেটি পরশীর দিকেও একটা মাস্ক এগিয়ে দিলো। দুজনেই মাস্ক পরে মাথার ঘোমটা টা আরেকটু বড়ো করে নিয়ে গেইট থেকে বেড়িয়ে গেলো। রাস্তায় পা রাখতেই ভার্সিটির অসংখ্য ছেলে পুলে, আরও বাহিরের ছেলেদের দেখে অর্পনা পরশীর হাত আকরে ধরে নিজের কাছে নিয়ে এলো। পরপর হালকা রাগান্বিত স্বরে বললো — আপনাদের ভাই কি এখানে আমার জন্য এসেছে নাকি রাজনৈতিক কার্যকলাপ সারতে এসেছে? এতো ছেলে পুলে কেনো?
,,,, ছেলেটি বুঝানোর মতো করে বললো — আসলে ভাইকে তো সচারাচর পাওয়া যায়না, তার উপর সামনে এমপির নির্বাচন। সেজন্যই ভাই ওদেরকে সময় দিচ্ছে,, বুঝেন ই তো, এই সময়টায় ছেলে পুলে সঙ্গে রাখতে হয়।
,,, তপ্ত শ্বাস ফেললো অর্পনা,, রাজনীতি বীদ দের এই এক সমস্যা, তারা যেখানেই যাবে সেখানেই নিজের সার্থ সিদ্ধি করার চেষ্টা চালাবে। এজন্যই শুরু থেকে রাজনীতিবীদদের পছন্দ না অর্পনার, আর না দেশ ব্যাবস্থার প্রতি কোনো আগ্রহ ছিলো। এসব বিষয়ে তীব্র অনিহা থাকার ফলে সে জোহান- বিহানের মতো ফেমাস পারসনদের সম্পর্কেও কোনো ধারনা রাখেনি। অর্পনা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো — আপনাদের ভাইকে জায়গা ক্লিয়ার করতে বলুন নয়তো পরশীকে নিয়ে আমি রিকশায় উঠছি।
,,, সাথে সাথে মাথা ঝাকালো ছেলেটা,, কিন্তু মেসেজ করার আগেই দ্বীপ ইশরা করে সবাইকে দূরে সরে যেতে বললো। সাথে সাথে যে যার মতো দ্বীপকে ছেড়ে রাস্তার আশেপাশে জায়গা করে নিলো। জায়গা খালি হতেই গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে থাকা দ্বীপকে দেখতে পেলো অর্পনা। পরনে কালো শার্ট, কালো পেন্টের সাথে ইন করা, শার্টের হাতা গুটানো, ফর্সা হাতে সিলভার ওয়াচ, অন্য হাতে ফোন। অর্পনা একবার তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলো,, বিষয়টা খেয়াল করলো দ্বীপ। সে এক নজরে তার বউকেই দেখছিলো,, কতোগুলো দিন হলো সে তার বউকে দেখেনি,, একটুখানি ছোয়নি,, এই দুদিনে বাচ্চা বউটাকে খুব মিস করেছে দ্বীপ। অর্পনা আর পরশী সামনে এসে দাড়াতেই দ্বীপ পারশীর দিকে তাকিয়ে বললো — চকলেট খাবি?
,,, পরশী হে সূচক মাথা নাড়িয়ে হাসি হাসি মুখ করে বললো — জিজ্ঞেস করো কয়টা এবং কোন ব্রেন্ডের খাবো!!
,,, বোনের প্রতিত্তোরে ঠোঁট বাকিয়ে শুক্ষ হাসলো দ্বীপ। গাড়ির ডোর খুলে সেখান থেকে ইয়্যার পড বের করে পরশীর কানে গুজে দিলো,, পরপর পকেট থেকে চকলেট বের করে পরশীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো — জাস্ট ১০ টা মিনিট তুই এখানে দাঁড়িয়ে থাকবি? আশে পাশে গার্ড আছে , গাড়ির ভিতরে তর বড়ো ভাই আছে,, নির্দ্বিধায় দাড়িয়ে থাক কেমন? ভাইয়ার একটু স্পেস লাগবে।
,,,, পরশী মাথা ঝাকিয়ে শায় জানালো। ১০ মিনিট কেনো? ভাইয়ার স্পেস লাগলে সে সারাদিন দাড়িয়ে থাকবে শুধু ঘুষ হিসেবে চকলেট দিলেই হবে। সেই সাথে যদি ইয়ার পডে ইমরানের গান চলে তাহলে তো কোনো কথাই নেই। পরশী ভাইয়ের স্টাইলে গাড়িতে হেলান দিয়ে এক পায়ের উপর আরেকপা ক্রস করে রেখে গানের তালে তালে পা নাড়াতে নাড়াতে চকলেট খাওয়ায় মন দিলো। দ্বীপের কথা, পরশীর আচরন সবকিছু অর্পনার কাছে কেমন যেনো উদ্ভট লাগলো। সে দ্বীপের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করলো–
,,, কি সমস্যা? ওকে এখানে একা দাঁড়াতে বললেন কেনো? কিসের স্পেস লাগবে আপনার? আর স্পেস যখন লাগবেই নাটক করে আমাকে ডাকলেন কেনো? ক্লাসের মাঝখানে লোক পাঠাচ্ছেন,, নিজেকে হিরো মনে করেন?
,,,দ্বীপ কোনো উত্তর না করে গাড়ির ডোর খুলে অর্পনাকে টেনে ভিতরে বসিয়ে দিলো। পরপর নিজে ভিতরে ঢুকে সাথে সাথে অর্পনাকে কাছে টেনে নিলো। দুহাতে কোমর জড়িয়ে কোলের উপর বসাতে বসাতে বললো — আমাকে কোন দিক থেকে হিরো মনে হয় তোমার? আমি কখনো হিরোর মতো তোমার মন রক্ষা করেছি নাকি তোমার পিছন পিছন ঘুড়েছি? চেয়ে নেওয়া আমার ধাঁচে নেই বউ,, যখন যেটা চাই সেটা আদায় করে নেওটাই তোমার হাসবেন্ডের স্বভাব।
,,, বিষয়গুলো এতোটাই দ্রুত হয়েছে যে অর্পনা কিছু করে উঠার মতো ফুসরত পায়নি। তবে যখন নিজেকে দ্বীপের কোলের উপর ধাতস্থ করলো তখনি মুখ থেকে মাস্ক সরিয়ে,, চোখ মুখ শক্ত করে ঝাঁজালো কন্ঠে বললো — সবকিছু চাইলেই পাওয়া যায়না,, কেউ আপনার গোলাম নয় যে যখন যা চাইবেন তাই দিতে বাধ্য হবে।
,,, দ্বীপ নীবির ভাবে অর্পনার দুটো হাত একসাথে পিছনে নিয়ে একহাতে আটকে ধরে বললো– হুম!! আমি পাই,, দেখবে? থাক দেখতে হবেনা, চোখ বন্ধ করে অনুভব করো। আমি কথার চেয়ে কাজে প্রমান দিতে বেশি পছন্দ করি।
,,, বলতে বলতে অর্পনার উষ্ঠ যুগল দখল করে নিলো,, ছোয়াটা বড্ড কোমল,, তাতে কোনো কঠোরতা ছিলোনা। অর্পনা নড়া চড়া করলো না বরং কাট হয়ে বসে রইলো। অর্পনার এই শক্ত হয়ে বসে থাকাটা পছন্দ হলোনা দ্বীপের। এবার একটু কঠোর হলো সে,, গুঙিয়ে উঠলো অর্পনা। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই শুক্ষ হাসলো দ্বীপ। তার কাছে কঠোরতার কোনো স্থান নেই,, সে নিজেই কঠোর ,, তার বউ ও যদি কঠোর হয় তাহলে জুটিটা মানাবেনা। বউকে নরম হতে হবে, ধৈর্য নিয়ে তাকে আয়ত্ব করতে হবে তবেই না হতে পারবে দ্বীপ মির্জার আদর্শ বউ। অনেকটা সময় পর অর্পনাকে জড়িয়ে নিলো দ্বীপ, বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চুলে মুখ গুজে লম্বা শ্বাস টানলো। পরপর মৃধু গুঙানো স্বরে আওড়ালো — ওমম!! সু সুইট স্মেল!! আই লাভ ইট!!
,,,অর্পনা তাচ্ছিল্য হাসলো,, ওর চুলের ঘ্রাণ ভালোবাসে অথচ তাকে নয়। সে নিজেকে ছাড়াতে চাইলে দ্বীপ রাগান্মিত কন্ঠে সুধালো — মার খাবে? চুপচাপ বসে থাকো। কতোগুলো দিন হলো তোমায় কাছে পাইনা,, কোথায় স্বামীর বুকে সেচ্ছায় মুখ লুকাবে তা না উল্টো স্বামী কাছে আসতে চাচ্ছে আর তুমি তাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছো। হাসবেন্ডের সাথে কেউ এমন আচরন করে? তুমি একটু ও সুধরাবেনা বউ?
,,,, অভিযোগ, ফের অভিযোগ। নিজেকে নিয়ে এতো দোষ ত্রুটি শুনতে ভালো লাগেনা অর্পনার। তাই দ্বীপের বুক থেকে মাথা তুলে তিক্ত কন্ঠে সুধালো — আমায় নিয়ে যখন এতোই সমস্যা, তাহলে ছেড়ে দিন,, আমি তো মানা করছি না। বিশ্বাস করুন, আপনার আচরন গুলো বিরক্ত লাগে আমার।
,,, অর্পনার রাগী রাগী চেহারায় আলাদা সৌন্দর্য খুজে পায় দ্বীপ,, রাগে যখন হলদেটে গাল দুটো লাল রং ধারণ করে তখন ইচ্ছে করে সেই রং টুকু নিজের মাঝে গ্রাস করে নিতে। মনের বিপরীতে কখনোই চলেনি দ্বীপ,, মনটা যখন যা চেয়েছে মনটাকে সে তাই উপহার দিয়েছে। অগত্যা অর্পনার লাল হওয়া গালে ঠোঁট দাবিয়ে চুমু খেলো দ্বীপ,, বার বার চুমু খেতে খেতে বললো — আমার বউটা!!
,,, দ্বীপের কান্ডে কি করবে ভেবে পেলোনা অর্পনা। লোকটা তাকে কোনোদিন সিরিয়াসলি নিলোনা,, সে মনে মনে ঠিক করেছে দ্বীপের কাছেও ভিরবেনা অথচ লোকটা ঢাকা আসতে দেরি তাকে কাছে টানতে দেরি করেনি। অর্পনাও এতোটাই অক্ষক, না পারে শক্তিতে আর না পারে মুখে। ওর তিক্ত কথাগুলোকেও পাত্তা দেয়না দ্বীপ মির্জা। ১০ মিনিটের থেকে এক সেকেন্ড ও বেশি সময় নিলোনা দ্বীপ,, অর্পনাকে কোল থেকে নামিয়ে গাড়ি ডোর খুলে পরশীর উদ্দেশ্য বললো — ভিতরে এসে বস।
,,, ইয়ারপডে তখন পছন্দের একটা গান চলছিলো,, হঠাৎ করে গানের বন্ধ হয়ে ভাইয়ের কন্ঠ ভেডে আসতেই চোখ তুলে তাকালো পরশী। গাড়ির দরজা খুলতে খুলতে বিরক্তিকর কন্ঠে সুধালো — ছি ভাইয়ো!! এটা তুমি কি করলে? এর থেকে বেশি সময় তো আমার লিপস্টিক দিতেই লেগে যায়। ফালতু!” বউয়ের সাথে সময় কাটালে লিমিট রেখে কাটাতে হয়না,, যাই করবা আনলিমিটেড!!
,,, বোনের কথায় ভ্রু গুটালো দ্বীপ, এক ভ্রু উচিয়ে প্রশ্ন করলো– খুব বুঝদার হয়ে গেছেন দেখছি, বিয়ে দিয়ে দেই?
,,, ভাইয়ের কথায় খুশিতে গদগদ হয়ে বললো— প্লিজ ভাই প্লিজ !! প্লিজ প্লিজ প্লিজ!! আমার অনেক বিয়ের বয়স হয়ে গিয়েছে। এবার অন্তত বিয়েটা দিয়ে দাও। আঠারোটা বছর চলে গেলো,, বাচবো আর কয়দিন? গড় আয়ু থেকে বাদ পরলে আর মাত্র ৪২ বছর আছি। এর মধ্যে বিয়ে, বাসর, হানিমুন বিশাল ঝামেলা। তারউপর বাচ্চা কাচ্চা নেওয়ার ও তো একটা ব্যাপার থাকে।
,,, পারশীর এহেন কথায় অর্পনা নাক সিটকে বললো — ছিহ!! পরশী, এভাবে সরাসরি বিয়ের কথা বলতে হয়না। ভাইদের মতো বেসরম হইয়োনা প্লিজ!!
,,, পরশী মশা তাড়ানোর মতো হাত নাড়িয়ে বললো — আহ, ভাবি!! তুমি এখনো বাচ্চাই রয়ে গেলে। ভাইয়া!!তোমার বাচ্চা বউকে বুঝাও মির্জাদের লজ্জা সরম একটু কম ই থাকে। মির্জারা লজ্জা পায়না বরং লজ্জা ভাঙায়।
,,, দ্বীপ মিরের অবস্থান পরিবর্তন করে অর্পনার কোমর জড়িয়ে নিজের কাছাকাছি এনে পরশীর উদ্দশ্যে বললো — বিয়ে দিতে হলে তো একটা মুরগী খুজতে হবে,, আগে মনের মতো একটা মুরগী পাই তারপর নাহয় ভেবে দেখবো।
,,,, খুজতে হবেনা ভাইয়ো!! আমি আমার মুরগী থুক্কু প্রিন্স পেয়ে গিয়েছি।
,,,, কে সেই হতভাগা?
,,, এভাবে বলোনা ভাইয়া!! তোমার বোন এতোটাও দজ্জাল নয়,, লজ্জা সরম না থাকলেও তার মনে যথেষ্ট প্রেম আছে। আমাকে পেয়ে ভাবির বন্ধুর কপাল খুলতে বাধ্য।
,,, পরশীর কথা শেষ হওয়ার আগে ধমকে উঠলো অর্পনা — এই মেয়ে চুপ করবে? আমার সামনে অন্তত বেসরমের মতো কথা বলোনা। বিরক্ত লাগে।
,,, অর্পনার কথাকে পাত্তা দিলোনা দ্বীপ, কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করলো — ছেলেটা কে পরশ? অরুন নাকি পল্লব?
,,, তুমি গেইজ করো!!
,,, অরুন হলে সম্ভব না, ওটা বুক্ট।
,,, না না, রাত আপুর ধন-সম্পদে আমার লোভ নেই। ঐ হেন্ডসামকে হলেই হবে।
,,, তারমানে পল্লব?
,,, পরশী মাথা নাড়িয়ে শায় জানিয়ে বাচ্চা সুলভ কন্ঠে বললো — ভাইয়া!! আমার কিন্তু প্রিন্সকে চাই ই চাই। এমনি রাজি হলে হবে না হলে তুলে নিয়ে বিয়ে করবো।
,,, দ্বীপ অর্পনার দিকে প্রগাড়ো দৃষ্টি ফেলে বললো — মির্জারা কখনো কোনো ইচ্ছা অপূর্ণ রাখেনা। আমার বোন কিছু চেয়েছে আর সেটা পাবেনা এমন হতেই পারেনা। তর জন্য পল্লব ই ফিক্সড।
,,, আলাভু ভাইয়া!! তুমি এতো ভালো বলেই আমার মতো একটা ইনোসেন্ট বোন পেয়েছো।
,,, পরশী আর দ্বীপের কথপোকথনে হতবুদ্ধের ন্যায় চেয়ে আছে অর্পনা।তার সামনে তার ফ্রেন্ডকে তুলে আনার কথা বলছে? কথাটা বুঝে আসতেই তেতে উঠলো সে। গাড়ির ডেসবোর্ডে চাপর মেরে বললো — চুপ করবেন আপনারা? ভুলে যাবেন না আমি এখানে বসে আছি আর পল্লব আমার ফ্রেন্ড।
,,, পরশী ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বললো– চুপ করবো তার আগে ভাইয়াকে একটা চুমু খাও।
,,, সাথে সাথে গাল এগিয়ে দিলো দ্বীপ,, অর্পনা রেগে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বললো — ভাই বোন মিলে মজা করছেন আমার সাথে? যাবোনা আপনাদের সাথে। গাড়ি থামান,, থামান বলছি। আজকেই সবকটাকে তালাক দিবো আমি।
,,, দ্বীপ অর্পনার ফিরিয়ে নেওয়া গালে চুমু খেয়ে বললো — সবাইকে দিবে কেনো? বিয়ে তো আমাকে করেছো।
,,, আপনাকেই তালাক দিবো।
,,, তাহলে আবার পরশীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিবো তারপর!! ( কুটিল হেসে)
,,, অর্পনা দুহাত জোর করে বললো — ক্ষমা!! মাফ করেন আমাকে,, আর জ্বালাবেন না। জীবনটা বরবাদ করে দিচ্ছেন।
,,, অর্পনার কথার রেশ ধরে পরশী উৎফুল্ল কন্ঠে বললো — ও হে!! ভাবি, তুমি বরবাদ মুভি দেখেছো? চলোনা আজকে শপিং শেষে সিনেমা দেখতে যাই। ইসস!! সাথে প্রিন্স, মেঝো ভাই, মেঝো ভাবি থাকলে ভালো হতো। তিন কাপল মিলে সিনেমা দেখতাম আর রো,,
,,,ফের ধমকে উঠলো অর্পনা — থামবে মেয়ে? নয়তো সত্যি ই চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে পরবো আমি।
,,, বড়ো ভাবির ধমকে চুপসে গেলো পরশী, সে তো ভালো কথাই বলতে গিয়েছিলো। কিন্তু ভাবিটা বুঝলোনা। বড়ো ভাইয়ার জন্য খুব মায়া হচ্ছে পরশীর,, ভাবিটা এতো আন-রোমান্টিক। এই বউ নিয়ে ভাইয়ার ভবিষ্যত অন্ধকার। তবে তার প্রিন্সের ভবিষ্যতে লাল নীল বাতি জ্বালাবে সে। হালি হালি বাচ্চা জন্ম দিয়ে দেখিয়ে দিবে মির্জারা কতো রোমান্টিক। ভেবেই লজ্জায় মুখ ঢেকে নিলো পরশী। আহা!! কি লজ্জার বিষয়।
,,, একগাদা ড্রেস কিনে পেকিং কাউন্টারে জমা দেওয়ার পরেও পারশীর শপিং করা শেষ হলো না। সে আরও শপিং করতে চায়। যদিও অর্পনা তখন বড়ো মুখ করে বলেছিলো সে শপিং করে টাকা উড়িয়ে দিবে কিন্তু সত্যি অর্থে ব্যাচারি শপিং করায় ও বড্ড কাচা। নিজের জন্য কি নিবে না নিবে কিছুই ভেবে পেলোনা,, এর আগে যাই কিনেছে পাপ্পা কিংবা রাত্রি আর ইরাকে সাথে নিয়ে কিনেছে। অগত্যা ওর জন্য কি লাগবে না লাগবে সবটা দ্বীপ ই নিজ উদ্দমে সিলেক্ট করেছে। দ্বীপের পছন্দ ভালো হওয়ায় অর্পনাও নাকোচ করেনি। তবে কিছু কিছু বিষয়ে বড্ড অবাক হয়েছে অর্পনা,, যেমন তার জামার সাইজ, জুতার সাইজ, টিশার্ট, ট্রাউজারের সাইজ সবটা দ্বীপের জানা। এটা কিভাবে সম্ভব হলো জানা নেই অর্পনার। তার মধ্যে আরও একটি নজর কাড়ার বিষয় হচ্ছে, সে যতটা সময় শপিং করেছে পুরোটা সময় তার হাতে স্পিড ছিলো,, সে খেয়েছে আর হেঁটেছে। অর্পনা স্পিড খেতে ভালোবাসে তবে এটা তো ওর চার বন্ধু, পাপ্পা এবং আদি ব্যাতিত অন্য কেউ জানেনা। তাহলে উনি জানলেন কি করে? অর্পনার ভাবনার মাঝে ধেয়ে এলো পরশীর সিরিয়াস কন্ঠস্বর —
,,,, ভাইয়া!! ভাবিকে ঐ দোকানটায় নিয়ে যাও,, তোমাদের কাজে আসবে। আমি বরং জুতার কালেকশন গুলো দেখে আসি।
,,, পরশীর ইশারা করা দোকানে তাকাতেই রেগে গেলো অর্পনা,, রেগে পরশীকে কিছু বলতে নিবে তখনি পরশী হাত উচিয়ে টাটা জানিয়ে হেলতে দুলতে জুতার কালেকশন দেখতে চলে গেলো। অর্পনা দাঁতে দাঁত চেপে দ্বীপের দিকে তাকাতেই সে ঠোঁট কামরে হেঁসে অর্পনার হাত ধরে বললো — ননদের কথা শুনতে হয়!!
,,, বলতে বলতে সেদিকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। অর্পনা হাত ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালো কিন্তু শক্তিতে পেরে উঠছেনা।লাস্ট চেষ্টা স্বরুপ চেচিয়ে উঠলো — মাথা খারাপ নাকি ভাই? হাত ছাড়ুন আমার। মেজাজ খারাপ করবেন না।
,,, দ্বীপ পাত্তা দিলোনা সেসবে,, অর্পনাকে টানতে টানতে সেই দোকানের সামনে নিয়ে গেলো। অর্পনা লজ্জায় তাকাতে পারছেনা,, এমনিতে সে একা হলে সমস্যা ছিলোনা কিন্তু সাথে দ্বীপ আছে। দোকানের ভিতরে থাকা সেল্স ওমেন গুলো কি ভাববে? ছিহ!! ভাবতে ভাবতে লজ্জায় চোখ বুজে নিলো অর্পনা। দ্বীপ ওকে নিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই,, যেতে যেতে কোথাও একটা থেমে গেলো। অর্পনা তাকালো না,, তাকালে সে লজ্জায় মরেই যাবে হয়তো। চোখ বুঝে রাখার পরেও ভিতরটা হাসফাস করে উঠছে, লজ্জায় গালদ্বয় গরম হয়ে উঠেছে। এতো এতো সংকার মাঝে হঠাৎ কানে একটা কথা বাজলো — ঐ শাড়ীগুলো বের করুন!!
,,, কথাটা কর্নকূহর হতেই তড়িৎ গতিতে চোখ মেলে তাকালো অর্পনা। দ্বীপ ইশারা করতে দেরি সেল্স ম্যানগুলো শাড়ি বের করতে দেরি নেই। অর্পনা চোখ মেলে তাকাতেই তার বুকটা মুচরে উঠলো। চারপাশে শাড়ি আর শাড়ি,, রংবেরঙের শাড়ির সমাহার দেখে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে পরলো অর্পনা। সহসা দ্বীপের ধরে রাখা হাতটা আরও শক্ত করে ধরে বিচলিত কন্ঠে বললো — দ্বীপ! চলুন এখান থেকে, আ,আমি এখান থেকে যেতে চাই। আমি এসব কিনবোনা। প,প্লিজ দ,দ্বীপ!!
,,, বলতে বলতে আবারও চোখ বুঝে নিলো অর্পনা,, মান্সপটে ভাসছে কিছু আবছা দৃশ্য। কেউ ওর আচল টেনে নিচ্ছে,, কেউ চুল খামচে ধরেছে আবার কেউ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বে*ড টাচ করছে। অর্পনা কাঁদছে,, ওদের থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ছাড়াতে পারছেনা,, আশেপাশে কেউ নেই,, বৃষ্টির শব্দ আর তার আত্মচিৎকার চারপাশ হতে বার বার একই শব্দ আন্দোলিত হচ্ছে। এক হাতে কান চেপে ধরে চিৎকার করে উঠলো অর্পনা,, দ্বীপের হাতের বাধনে থেকেই মাটিতে হাটু গেড়ে বসে পরলো। হাটুতে মুখ গুজে উন্মাদের মতো আওড়াতে লাগলো — ছাড়ুন! “আমি কিছু করিনি,, আমি অসৎ কিছু করতে যাইনি। আল্লাহ !! আমাকে ছাড়ুন প্লিজ!” আদি ভাই আমি খারাপ না। ছাড়ুন,, মাম্মা!! তুমি কোথায়? ছাড়েন, আমাকে যেতে দেন। পাপ্পা!! দ্বীপ!! পাপ্পা!” মাম্মা!! আমার ভালোবাসায় কোনো পাপ,, আল্লাহ!! দ্বীপ!! ছাড়ুন, যেতে দিন আমায়। মাহ!! মাম্মাহ!! মাগো!!
,,,, অর্পনার কাতরতায় থমকে গেলো দ্বীপ, নিজেও মেঝেতে বসে অর্পনাকে ঝাপ্টে ধরলো,, দোকানে থাকা সেল্স ম্যান গুলো এগিয়ে আসতে চাইলে দ্বীপ চোখের ইশারায় চলে যেতে বললো। সহসা সবাই দোকান থেকে বাহিরে চলে গেলো। দ্বীপের চোখ জোড়া জ্বালা করে উঠলো,, অর্পনার মাথাটা বুকের সাথে চেপে ধরে পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বললো — এখানে কেউ নেই বউ, শান্ত হও। আমি আছি তো,, তোমার দ্বীপ আছেনা? ( বুক থেকে মুখ তুলে, কপালে, চোখে মুখে চুমু খেয়ে) আমার জান!! তাকা, তাকা আমার দিকে। শাড়ীতে ভয় তর? সব ভয় দূর করে দিবো। দেখ আমার দিকে,, একটু তাকানা জান,, আমি তর কাছে আছি,, আমি থাকতে আল্লাহ এর রহমতে কেউ তর ক্ষতি করতে পারবেনা। আমরা এখনি চলে যাবো, এখোনি যাবো।
,,, অর্পনা সেসব শুনতে পেলোনা,, সে তরপাতে তরপাতে জ্ঞান হাড়ালো। দ্বীপের বুকটা ধ্বক করে উঠলো। তার ছোট্ট বউটা জীবনে কতো কষ্ট সহ্য করেছে। তার উপর সে নিজেও কষ্ট দিচ্ছে,, বউটাকে কষ্ট পেতে দেখলে তার ভিতরটা নিশ্বেস হয়ে যায়। কিন্তু প্রকাশ করতে পারেনা,, সে যাকেই ঘটা করে ভালোবাসার কথা জানায়,, সেই তাকে ছেড়ে যায়। দ্বীপ তো ছোট থেকেই চাপা। প্রথম সন্তান হওয়ায় মা তাকে খুব ভালোবাসতো। সারাক্ষণ জানতে চাইতো ” জোহান!! আব্বা তুমি কাকে বেশি ভালোবাসো? আম্মুকে নাকি আব্বুকে? “” দ্বীপ উত্তর দিতো না। মা কদিন পর পর জানতে চাইতো,, বার বার জিজ্ঞেস করায় দ্বীপ মাকে জড়িয়ে ধরে বলেছি”” আমি তোমায় খুব ভালোবাসি মা,, আব্বুর থেকেও বেশি,, সব্বার থেকে বেশি ভালোবাসি!!
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪০
“” দুদিকে দুহাত ছড়িয়ে বলেছিলো “” আমি তোমায় আকাশ সমান ভালোবাসি মা”” সেই কথা বলার কয়েকমাস পরেই মা চলে গেলো। এরপর থেকে কখনোই ভালোবাসা শব্দটা উচ্চারণ করেনি দ্বীপ। তারপর যখন পারু এলো,, তাকেও ভালোবাসলো,, ঘটা করে ভালোবাসি ভালোবাসি বলে পাগলপারা হলো। পারুটাও মায়ের মতো দ্বীপকে রেখে পালালো। এবারেও একই ভুল করবেনা সে। অর্পনা ভুল বুঝুক, কষ্ট পাক, কষ্ট পেলে সে আদরে আদরে সব ভুলিয়ে দিবে কিন্তু কোনো মতেই হাড়াতে দিবেনা। আরও একবার নিয়তির কাছে হেড়ে গেলে সে মরে গিয়েও শান্তি পাবেনা। ভালোবাসা শব্দটা তার জন্য নয়, সে কোনোদিন উচ্চারণ করবেনা এই বিষাক্ত শব্দটা।
