Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 7

Mad for you 2 part 7

Mad for you 2 part 7
তানিয়া খাতুন

ভোরের আলো ধীরে ধীরে ফুটে উঠেছে চারদিকে। রাতের অন্ধকার সরে গিয়ে আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে নরম সোনালি আভা।
চারপাশের আবহাওয়াটা অদ্ভুত সুন্দর—মাঝে মাঝে ঠান্ডা হাওয়া এসে পর্দাগুলো দুলিয়ে দিচ্ছে।
দূরে কোথাও পাখির ডাকও ভেসে আসছে।
কিন্তু এই শান্ত, সুন্দর সকালটার সাথে রুহির ভেতরের অবস্থার কোনো মিল নেই।
হঠাৎ করেই ঘুমের মধ্যে কোনো ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখে ধড়ফড় করে উঠে বসে সে।
তার বুক দ্রুত উঠানামা করছে। কপাল, গলা, পুরো শরীর ঘামে ভিজে গেছে।
যেন দুঃস্বপ্নটা এখনো তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
সে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে।
কয়েক সেকেন্ড লাগে বুঝতে—সে এখনো সেই অচেনা বাড়িতেই আছে।
ধীরে ধীরে তার চোখ চলে যায় পাশের দিকে।
ক্ৰিশ মেঝেতে বসে আছে।

দুই হাত বিছানার উপর রাখা, আর মাথাটা হাতের উপর এলিয়ে পড়েছে।
দেখে মনে হচ্ছে অনেকক্ষণ এভাবেই বসে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে, সে নিজেও বুঝতে পারেনি।
সকালের নরম আলো এসে পড়েছে তার মুখের উপর।
এই মুহূর্তে ক্ৰিশ কে অদ্ভুত শান্ত লাগছে।
এতটাই শান্ত, এতটাই নিরীহ… যেন সে কোনোদিন কারো ক্ষতি করতেই পারে না।
তার মুখের কঠোরতা নেই, চোখের ভয়ঙ্কর দৃষ্টি নেই—শুধু ক্লান্ত এক মানুষের ছাপ।
রুহি কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
তারপর হঠাৎই বাস্তবতা মনে পড়ে যায়।
এখান থেকে পালাতে হবে… এখনই।
তার বুকের ভেতর আবার ধুকপুক শুরু হয়।
ধীরে ধীরে, খুব সাবধানে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায় সে।
যেন সামান্য শব্দেও ক্ৰিশ জেগে উঠবে।
গুটি গুটি পায়ে দরজার দিকে এগোয়। প্রতিটা পদক্ষেপে তার নিঃশ্বাস আটকে যাচ্ছে।
একবারও পেছনে তাকানোর সাহস হচ্ছে না।

দরজার কাছে পৌঁছে খুব ধীরে হাত বাড়িয়ে lock খুলে।
দরজাটা আস্তে করে ফাঁক করে বাইরে বেরিয়ে আসে।
তারপর বাইরে এসেই নিঃশব্দে দরজাটা বন্ধ করে দেয়।
এমনকি বাইরে থেকে lock-টাও লাগিয়ে দেয়।
কয়েক সেকেন্ড দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে রুহি। তারপর বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে।
সে জানে—এখন দেরি করা মানে সে শেষ।
আর কোনোদিকে না তাকিয়ে দৌঁড় দিতে শুরু করে।
বিশাল করিডোর পেরিয়ে, প্রায় ছুটতে ছুটতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে।
তার পায়ের শব্দ পুরো ফাঁকা বাড়িটায় প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
নিচে এসে বড় দরজাটা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে যায় সে।
সামনের ঠান্ডা বাতাস মুখে লাগতেই মনে হয় যেন একটু মুক্তি পেল।
কিন্তু সেই মুক্তি বেশিক্ষণ টিকল না।
দুই দারোয়ান তাকে দেখে অবাক হয়ে দ্রুত এগিয়ে আসে।

“ম্যাডাম! দাঁড়ান—!”
তারা তাকে আটকাতে হাত বাড়াতেই রুহির ভেতরের সব ভয় যেন এক মুহূর্তে শক্তিতে বদলে যায়।
সে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে একজনকে ধাক্কা মারে।
লোকটা প্রস্তুত না থাকায় টাল সামলাতে না পেরে পেছনে সরে যায়।
সেই সুযোগে রুহি আবার দৌড় দেয়।
খালি পায়ে, এলোমেলো চুলে, চোখে আতঙ্ক নিয়ে সে ছুটে চলেছে—
শুধু একটা লক্ষ্য নিয়ে…
এই বাড়ি থেকে যত দূরে সম্ভব পালাতে হবে…

বেশ বেলা করেই ঘুম ভাঙল ক্ৰিশের।
সকালের নরম রোদ জানালার ফাঁক গলে ধীরে ধীরে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে।
অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ।
কিন্তু সেই শান্তির মাঝেই হঠাৎ জোরে জোরে ঘেউ ঘেউ শব্দ ভেসে এলো।
কোকো।
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে লাফাচ্ছে আর ডাকছে ক্ৰিশ কে।
তার গলার স্বরে এমন উত্তেজনা যেন অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে।
ক্ৰিশ বিরক্ত মুখে চোখ মেলে। এলোমেলো চুলে হাত চালিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসে।
সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
বিশেষ করে গত রাতের এতসব ঘটনার পর শরীরটাও ভীষণ ক্লান্ত ছিল।
কিছুক্ষণ আধো ঘুমে বসে থেকেই আবার কোকোর ডাক শুনে কপাল কুঁচকে ফেলে সে।
গত দুই দিন ধরে কোকো অসুস্থ ছিল। জ্বর আর দুর্বলতার জন্য ক্ৰিশ তাকে আলাদা ঘরে রেখেছিল।
এমনকি রাতে ডাক্তারও ডেকে এনেছিল তার জন্য। বাইরে থেকে যতই কঠিন হোক না কেন, কোকোর ব্যাপারে ক্ৰিশ সবসময় অদ্ভুতভাবে দুর্বল।

আজ কোকোর এই চঞ্চল আচরণ দেখে ক্ৰিশে বুঝতে বাকি থাকে না—সে এখন অনেকটাই সুস্থ।
তার ঠোঁটের কোণে খুব হালকা একটা হাসি ফুটে ওঠে।
কিন্তু ঠিক পরের মুহূর্তেই তার দৃষ্টি গিয়ে পড়ে বিছানার দিকে।
ফাঁকা।
হাসিটা মিলিয়ে যায়।
কয়েক সেকেন্ড ক্ৰিশ স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে। যেন সে বুঝতেই পারছে না ঠিক কী দেখছে।
তারপর ধীরে ধীরে তার চোখ সরু হয়ে আসে।
“রুহি…?”
কোনো সাড়া নেই।
সে সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ায়। পুরো ঘরটায় চোখ বুলিয়ে নেয়।
Washroom-এর দরজার সামনে গিয়ে নক করে।
“Butterfly?”

সে দরজা খুলে ভেতরে তাকায়।
খালি।
মুহূর্তেই তার মুখের রঙ বদলে যায়। চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে।
এক অদ্ভুত নীরব রাগ ধীরে ধীরে তার ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
সে বড় বড় পা ফেলে মূল দরজার দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলতে গিয়ে থেমে যায়।
দরজা বাইরে থেকে lock করা।
কয়েক সেকেন্ড দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে ক্ৰিশ।
তারপর হঠাৎই নিচু স্বরে হাসে।
কিন্তু সেই হাসিতে উষ্ণতা নেই—বরং ভয়ঙ্কর ঠান্ডা কিছু আছে।
“যতটা লেদা ভেবেছিলাম… ততটা তুমি নও, butterfly…”
তার চোখের দৃষ্টি মুহূর্তেই কঠিন হয়ে ওঠে।
“তবে এটা ভুল করলে তার শাস্তি… আমি তোমাকে দেবো।”
প্রথমে সে হাতের জোরে দরজায় ধাক্কা মারে।
কিন্তু lock ভাঙে না।

ক্ৰিশের রাগ আরও বেড়ে যায়। তার কপালের রগ ফুলে ওঠে।
কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে ধীরে খানিকটা পেছনে সরে যায়।
তারপর দৌড়ে এসে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে দরজায়।
Lock ভেঙে দরজাটা খুলে যায়।
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কোকো আনন্দে লাফিয়ে এসে ক্ৰিশের গায়ের উপর উঠে পড়ে।
ঘেউ ঘেউ করতে করতে মুখ ঘষতে থাকে তার হাতে।
ক্ৰিশ এক হাতে কোকোকে কোলে তুলে নেয়, কিন্তু তার চোখে এখন অন্য আগুন জ্বলছে।
সে দ্রুত বড় বড় পা ফেলে নিচে নেমে আসে।
সিঁড়ি পেরিয়ে মেন গেটে-এর সামনে এসেই থেমে যায়।
দুই দারোয়ান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মুখে স্পষ্ট ভয়।
আর তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন—
শরিফুল খান।
তার মুখ গম্ভীর, চোখে বিরক্তি আর চাপা রাগ। সকাল সকাল TV channel, news, phone call—সব মিলিয়ে মাথা প্রায় ফেটে যাওয়ার অবস্থা।
ক্ৰিশ তাকে দেখেও বিশেষ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। যেন তার এখানে আসাটা খুব স্বাভাবিক।
বরং সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত গলায় বলে—

“আরে শরিফুল খান যে… ভালো সময়েই এসেছেন। একটু আপনার ঘরে আসুন তো, কথা আছে।”
শরিফুল সাহেব অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন নিজের ছেলের দিকে।
এই ছেলে একটা মেয়েকে রাতারাতি বাড়িতে এনে TV-তে বিয়ে ঘোষণা করে বিয়ে করে নিয়েছে, আর এখন এমনভাবে কথা বলছে যেন কিছুই হয়নি!
তিনি রাগে প্রায় ফেটে পড়ে বলেন—
“এই ছেলে! তুমি কোন মেয়েকে নিয়ে TV-তে news করেছো?!
আর ওভাবে বিয়ে করার মানে কি?!
তুমি কি পাগল হয়ে গেছো?”
ক্ৰিশ একটুও বিচলিত হয় না।
সে ধীরে ধীরে কোকোর মাথায় হাত বুলায়।
তারপর খুব ঠান্ডা, উদাসীন গলায় বলে—
“আমি বলেছি রুমে আসতে। আসলে আসুন… না হলে যান। ফালতু সময় আমার কাছে নেই।”

তার গলায় এমন একটা চাপা হুমকি ছিল, যেটা শুনে আশেপাশের দারোয়ান পর্যন্ত মাথা আরও নিচু করে ফেলে।
কথা শেষ করেই ক্ৰিশ আর এক মুহূর্ত দাঁড়ায় না। কোকোকে কোলে নিয়েই ঘুরে বাড়ির ভেতরের দিকে হাঁটতে শুরু করে।
শরিফুল সাহেব কিছুক্ষণ ছেলের পেছনের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
তার চোখেমুখে ক্লান্তি স্পষ্ট।
মাঝে মাঝে সত্যিই তার মনে হয়—
দেশ সামলানো যতটা কঠিন না…
তার থেকেও অনেক বেশি কঠিন এই ছেলেকে সামলানো।
কারণ দেশের মানুষ অন্তত নিয়ম মানে…
কিন্তু ক্ৰিশ?
সে তো নিজের নিয়মেই চলে…

ল্যাপটপটা অন করে গম্ভীর মুখে বসে আছেন শরিফুল খান।
তার সামনে টেবিলজুড়ে ছড়িয়ে আছে ফাইল, কিছু documents আর মোবাইল ফোন।
ফোনটা speaker-এ দেওয়া।
একটার পর একটা call ঢুকেই যাচ্ছে।
তিনি একটা receive করে কথা বলছেন, শেষ হওয়ার আগেই আরেকটা call waiting-এ চলে আসছে।
“জি, সব থানায় খবর পাঠানো হয়েছে…”
“না, এখনো মেয়েটার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি…”
“সব exit point check করুন…”
তার কণ্ঠে স্পষ্ট চাপা উত্তেজনা।
Laptop-এর screen-এ একের পর এক থানার ওসি-দের number ভেসে উঠছে।
কেউ line-এ আছে, কেউ hold-এ। পুরো room-এর পরিবেশ ভারী হয়ে আছে।
আর ঠিক তার পাশেই—

অস্বাভাবিক নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বসে আছে ক্ৰিশ
এক পায়ের উপর আরেক পা তুলে আরাম করে হেলান দিয়ে বসেছে সে।
যেন এই পুরো পরিস্থিতি তার কাছে নিছক বিনোদন।
তার হাতে একটা পিস্তল সেটা সরাসরি তাক করা শরিফুল খানের দিকে।
আর তার ঠোঁটে সেই চিরচেনা বাঁকা হাসি—
যেন এই ভয়, উত্তেজনা, বিশৃঙ্খলা… সবকিছুই তাকে ভীষণ আনন্দ দিচ্ছে।
“আপনার বউমাকে খুঁজে পেলেন, শরিফুল খান?”
শরিফুল সাহেব ফোনটা টেবিলে রেখে দাঁত চেপে তাকালেন ছেলের দিকে।
তার চোখে তখন রাগের সঙ্গে অপমানও মিশে আছে।
“তোমার মতো কুলাঙ্গারকে আমি জন্ম দিয়েছি—এটা ভাবতেই নিজের উপর ঘৃণা লাগে আমার।”
ক্ৰিশ হঠাৎ জোরে হেসে ওঠে।
“ইশ… সেদিন যদি একটু control করতেন…”
“মুখ বন্ধ করো, বেয়াদব!”
শরিফুল সাহেব গর্জে ওঠেন।
ক্ৰিশের চোখ মুহূর্তেই ঠান্ডা হয়ে যায়।
সে পিস্তলটা আরও সোজা করে তাক করে বলে—
“First… আমার হাতে সময় নেই।”
পুরো রুম নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
ঠিক তখনই শরিফুল সাহেবের ফোনে আবার call আসে।
তিনি দ্রুত call receive করেন।
ওপাশ থেকে কিছু একটা বলা হয়।
আর সেই কথা শুনেই—

ক্ৰিশের মুখে ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর এক হাসি ফুটে ওঠে।
তার চোখ চকচক করে ওঠে অদ্ভুত উন্মাদনায়।
সে ধীরে ধীরে পিস্তল নামায়।
তারপর এক ঝটকায় সেটা শরিফুল সাহেবের কোলের উপর ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
“Mr. Soriful Khan…”
“বন্দুকে গুলি নেই। ফালতু ফালতু এত ভয় পান কেন?”
শরিফুল সাহেব হতভম্ব হয়ে পিস্তলের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
আর ক্ৰিশ?
সে যেন আগের চেয়েও বেশি উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে।
আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না। শিস বাজাতে বাজাতে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে।
দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ থামে। মাথা একটু কাত করে নিচু স্বরে বলে—
“আমার লেদু সোনা…I am coming…”
তার কণ্ঠে এমন এক ভয়ঙ্কর কোমলতা ছিল—
যেটা শুনলে ভালোবাসা আর উন্মাদনার পার্থক্য করা যায় না…

ফুপিয়ে ফুপিয়ে অনবরত কাঁদছে রুহি।
এতক্ষণ কান্না করতে করতে তার চোখদুটো ফুলে লাল হয়ে গেছে। মুখটা ফ্যাকাশে, ঠোঁট কাঁপছে।
তার পাশে বসে আছে সিমরান আর রুহির আম্মু।
দুজনেই বারবার তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।
“কাঁদিস না মা… সব ঠিক হয়ে যাবে…”
কিন্তু “ঠিক” শব্দটা এখন রুহির কাছে সবচেয়ে অবাস্তব জিনিস মনে হচ্ছে।
গত রাতেই সিমরান পুরো কলেজে রুহিকে খুঁজে না পেয়ে ভয় পেয়ে যায়। ফোনেও না পেয়ে শেষমেশ রুহির আব্বু-আম্মুকে খবর দেয়।
মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না শুনেই দুজনের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।
সারা রাত পাগলের মতো খোঁজাখুঁজি করেছেন তারা। শেষে থানায় diary পর্যন্ত করতে হয়েছে।
আজ সকালে কোনোভাবে রাস্তায় এক traffic police-এর ফোন থেকে রুহি তার আব্বুকে call করে।
তার কণ্ঠ শুনেই মানুষটা প্রায় কেঁদে ফেলেছিলেন।
তারপর তিনিই গিয়ে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসেন।
সিমরানও খবর পেয়েই ছুটে আসে।
এরই মধ্যে রুহি সব খুলে বলেছে।
কলেজে যা হয়েছে…

ক্ৰিশ তাকে কীভাবে জোর করে নিয়ে গেছে…
কীভাবে media-র সামনে তাকে বিয়ের papers-এ sign করানো হয়েছে…
সব শুনে তার আব্বু-আম্মু স্তব্ধ হয়ে গেছেন।
মেয়েটার উপর শেষ পর্যন্ত এমন একটা ছেলের নজর পড়লো—এই চিন্তাটাই যেন তাদের বুক শুকিয়ে দিচ্ছে।
ঘরের বাতাস ভারী হয়ে আছে আতঙ্কে।
ঠিক তখনই—
হঠাৎ দরজার bell বেজে ওঠে।
কুটুস খেলনা গাড়ি নিয়ে খেলছিল।
bell-এর শব্দ শুনেই ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে যায় দরজার দিকে।
“আরে আমি খুলবো!”
বলতে বলতেই রুহির আব্বুও ছেলের পেছনে যান।
কিন্তু তিনি দরজার কাছে পৌঁছানোর আগেই—
দরজাটা ঠেলে একজন ঝড়ের মতো ভেতরে ঢুকে পড়ে।
রুহির আব্বু অবাক হয়ে বলেন—

“এই! কে আপনি? এভাবে বাড়িতে ঢুকে এলেন কেন?”
ক্ৰিশের চোখেমুখে সেই একই নির্লিপ্ত ভাব। যেন এটা তার নিজেরই বাড়ি।
সে চারপাশে একবার তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকায়।
“আপনার মুখ দেখে মনে হচ্ছে আপনি আমার শ্বশুর মশাই…”
তারপর একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে—
“যাই হোক, আমার লেদু সোনাকে নিয়ে আসুন।”
কথাটা বলেই সে আরাম করে সোফায় বসে পড়ে।
যেন কোনো আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে এসেছে।
রুহির আব্বুর চোখ রাগে লাল হয়ে ওঠে।
“তুমি তাহলে সেই শয়তান?!
যে আমার মেয়েকে জোর করে বিয়ে করেছে?!”
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে মাথা নাড়ে।
তার ঠোঁটে অদ্ভুত হাসি।

“একদম ঠিক চিনেছেন, শ্বশুরজি।”
সে হেলান দিয়ে বসে বলে—
“এবার যান তো… আপনার মেয়েকে আমার সামনে আনুন। অনেকক্ষণ দেখিনি… মনটা আনচান আনচান করছে।”
রুহির আব্বু এবার চিৎকার করে ওঠেন—
“আমি কখনোই তোমার মতো বখাটে ছেলের হাতে আমার মেয়েকে তুলে দেবো না!”
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়।
এক হাত দিয়ে নিজের চুল ঠিক করে। তারপর খুব শান্তভাবে গিয়ে দাঁড়ায় রুহির আব্বুর একদম সামনে।
দুজনের চোখে চোখ পড়ে।

Mad for you 2 part 6

“Sorry শ্বশুর মশাই… আপনার মেয়ে এখন আমার বউ।”
তার চোখ ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে ওঠে।
“তাকে না নিয়ে আমি যাচ্ছি না।”
“আর আমার পথে বাধা দিলে… কিন্তু শাশুড়ি আম্মুকে নিয়ে চলে যাবো।”
তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হাসি ফুটে ওঠে।
“তখন বুঝবেন… বউ না থাকার জ্বালা কেমন…”

Mad for you 2 part 8

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here