Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 13

Mad for you 2 part 13

Mad for you 2 part 13
তানিয়া খাতুন

আজ শুক্রবার।
ছুটির দিন হওয়ায় রুহি আর ক্ৰিশ দু’জনই বাড়িতেই আছে।
অনেক বেলা করে ঘুম ভাঙল রুহির।
ধীরে ধীরে চোখ খুলতেই সে কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
ঘুম ভাঙার পরও শরীরটা ভারী লাগছে।
দুর্বলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
তবে আগের মতো তীব্র ব্যথা আর নেই।
এইটুকুতেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সে।
ধীরে ধীরে উঠে বসল বিছানায়।
চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখের উপর পড়ে আছে।
রুহি ক্লান্ত হাতে চুল সরিয়ে বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলল।
তারপর ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্ৰেশ হয়ে বেরিয়ে এলো।
মুখে ঠান্ডা পানি পড়তেই কিছুটা সতেজ লাগছে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল সে।
নিজেকে বড্ড অচেনা লাগছে নিজের কাছে , চোখের নিচে হালকা ক্লান্তির ছাপ।

ঠোঁট দুটোও ফ্যাকাসে।
হঠাৎ করেই তার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
কতদিন হলো আব্বু-আম্মুকে দেখেনি সে!
কুটুশটা কেমন আছে কে জানে?
ও নিশ্চয়ই তাকে খুঁজছে।
ফোনটাও নেই তার কাছে।
একবার কথা বলারও উপায় নেই।
এই ভাবনাগুলো মাথায় আসতেই রুহির মনটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
সে মনে মনে ঠিক করল—
আজ যেভাবেই হোক ক্ৰিশ কে বলে একবার বাসায় যাবে।
অন্তত আব্বু-আম্মুকে একবার দেখবে।
এই চিন্তা মাথায় নিয়েই সে রুম থেকে বেরিয়ে এলো।
ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগল।
পুরো বাড়িটা অদ্ভুত নীরব।
মাঝে মাঝে শুধু দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির টিকটিক শব্দ শোনা যাচ্ছে।
রুহি চারপাশে চোখ বুলিয়ে ক্ৰিশ কে খুঁজতে লাগল।
নিচে নেমে ডাইনিং টেবিলের সামনে পৌঁছাতেই হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল রান্নাঘরের দিকে।
আর তারপরই সে থমকে দাঁড়াল।
গ্যাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ক্ৰিশ।

গায়ে শার্ট নেই।
শুধু একটা কালো apron কোমরে বাঁধা।
নিচে লুশ কালো প্যান্ট।
তার প্রশস্ত কাঁধ, শক্ত বুক আর ফুলে থাকা পেশিগুলো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।
পিঠে আর ঘাড়ের পাশে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু জমে আছে।
রান্নাঘরের হালকা আলোয় সেগুলো আরও বেশি স্পষ্ট লাগছে।
রুহির বুক ধক করে উঠল।
সে দ্রুত মুখ ঘুরিয়ে নিল।
তারপর মনে মনে নিজেকেই ধমকাল—
“এই শয়তানটাকে এত সুন্দর হতে কে বলেছে?”
পরক্ষণেই আবার নিজেকে শাসাল—
“নজর সরা রুহি! অসভ্য একটা লোক!”
কিন্তু যতই চোখ সরাতে চাইছিল, ততই যেন অজান্তে ক্ৰিশের দিকেই তাকিয়ে ফেলছিল।
ওদিকে ক্ৰিশ ভীষণ মন দিয়ে রান্না করছে।

কখনো pan নাড়ছে, কখনো coffee mug-এ coffee ঢালছে।
তার মুখে এক ধরনের শান্ত ভাব।
যেন এই কাজগুলো করতে সে অভ্যস্ত।
এই দৃশ্যটা দেখে রুহি কিছুটা অবাকও হলো।
সে কখনো ভাবেনি ক্ৰিশ রান্নাও করতে পারে।
কিছুক্ষণ পর ক্ৰিশ গরম গরম ডিম টোস্ট আর কফি নিয়ে ডাইনিং এর দিকে এলো।
খাবারগুলো সুন্দর করে টেবিলে রেখে একবারও রুহির দিকে না তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে—
“বসো। খেয়ে নাও।”
রুহি ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো।
তার ছোট ছোট পদক্ষেপে যেন দ্বিধা মিশে আছে।
সে ক্ৰিশের সামনে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়াল।
ক্ৰিশ চেয়ার টেনে বসে ভ্রু তুলে তাকাল তার দিকে।
তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে মৃদু হেসে বলে—
“বলো… আমার কোলে বসতে চাইছো?”
রুহি সঙ্গে সঙ্গে অবাক হয়ে তাকাল।

“কি?”
তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।
কিন্তু ক্ৰিশ তাকে আর কিছু বলার সুযোগ দিল না।
হঠাৎই তার হাত টেনে নিয়ে এক টানে নিজের কোলের উপর বসিয়ে নিল।
রুহি চমকে উঠল।
তার নিঃশ্বাস আটকে গেল মুহূর্তেই।
দু’হাত অজান্তেই ক্ৰিশের কাঁধে গিয়ে ঠেকল।
ক্ৰিশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার কোমর জড়িয়ে ধরল।
যেন এটাই সবচেয়ে স্বাভাবিক ব্যাপার।
রুহির বুক দ্রুত ওঠানামা করছিল।
লজ্জায় তার গাল পর্যন্ত লাল হয়ে উঠেছে।
ক্ৰিশ নিচু হয়ে তার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলে—
“এভাবে কাঁপছো কেন, butterfly?”
তার গরম নিঃশ্বাসে রুহির শরীর আবার কেঁপে উঠল।
রুহি কোনো রকমে তোতলাতে তোতলাতে বলে—
“আমি… আমি বাপের বাড়ি যাব…”
কথাটা বলার সময় তার গলাটা কেঁপে উঠল।
চোখ দুটোও অদ্ভুতভাবে ভিজে উঠেছে।

কতদিন হয়ে গেছে সে আব্বু-আম্মুকে দেখেনি।
কুটুশটার কথাও বারবার মনে পড়ছে তার।
মনে হচ্ছে বুকের ভেতর কেউ শক্ত করে চেপে ধরেছে।
ক্ৰিশ অবশ্য যেন কথাটা শুনেও শুনল না।
সে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে প্লেট থেকে ডিম টোস্টের একটা টুকরো ছিঁড়ে নিল।
তারপর খুব যত্ন করে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করল।
রুহি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
পরের মুহূর্তেই ক্ৰিশ টুকরোটা রুহির ঠোঁটের সামনে ধরে শান্ত গলায় বলে—
“মুখ খোলো।”
রুহি আরও অবাক হয়ে গেল।
লোকটা কখন যে রাগী, কখন যে শান্ত—সে কিছুই বুঝতে পারে না।
“কি হলো?”
ক্ৰিশ ভ্রু কুঁচকে বলে “খাও।”
রুহি ধীরে ধীরে মুখ খুলতেই ক্ৰিশ নিজের হাতে টুকরোটা তার মুখে পুরে দিল।
তারপর কফি মগ হাতে নিয়ে এক চুমুক দিয়ে অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় বলে—

“যাওয়া হবে না।”
রুহি যেন দ্বিতীয়বার ধাক্কা খেল।
সে কোনোরকমে খাবার টা চিবিয়ে বিস্মিত গলায় বলে—
“মানে কি? কেন?”
ক্ৰিশ এবার হেলান দিয়ে বসল চেয়ারে।
নিজের মুখে আরেক টুকরো খাবার পুরে নিয়ে ধীরে ধীরে চিবাতে লাগল।
তারপর শান্ত, গম্ভীর গলায় বলে—
“তোমার বাপ যা শয়তান… একটুও বিশ্বাস করি না আমি।”
রুহি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।
ক্ৰিশ ঠোঁট বাঁকিয়ে আবার বলে—
“একবার নিয়ে গেলে আর ফেরত দেবে না।”
“একবারে ডজন খানেক বাচ্চা পয়দা করব… তারপর যাবে।”
কথাটা শুনে রুহির চোখ কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো।
মুহূর্তেই তার খাওয়া যেন গলায় আটকে গেল।
সে বিষম খেয়ে জোরে কাশতে শুরু করল।
মুখ পুরো লাল হয়ে উঠেছে।
ক্ৰিশ সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর হয়ে গেল।
সে তাড়াতাড়ি সামনে রাখা পানির গ্লাস এগিয়ে দিল।
“আস্তে, butterfly…”

রুহি কাঁপা হাতে গ্লাসটা নিয়ে গটগট করে পুরো পানি খেয়ে ফেলল।
তারপর হাঁপাতে হাঁপাতে বড় বড় চোখে তাকাল ক্ৰিশের দিকে।
ক্ৰিশ সেই চাহনি দেখে মিটিমিটি হাসছে।
যেন রুহির লজ্জা, অবাক হওয়া—সবকিছুই তার ভীষণ ভালো লাগছে।
হঠাৎই সে রুহির হাতটা ধরে নিজের খোলা, ঘামভেজা বুকে রেখে দিল।
রুহি কেঁপে উঠল।
তার আঙুলের নিচে ক্ৰিশের দ্রুত হৃদস্পন্দন স্পষ্ট অনুভব করতে পারছিল সে।
সেই উষ্ণ স্পর্শে তার বুকের ভেতরটা আবার অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল।
ক্ৰিশ আবার‌ও ধীরে ধীরে ঝুঁকে এলো।
তার গরম নিঃশ্বাস এসে লাগছিল রুহির কানের পাশে।
খুব নিচু, ভারী গলায় ফিসফিস করে বলে—

“মুড আসছে, butterfly…”
“একবার করি…?”
কথাটা শুনে রুহির পুরো মুখ আগুনের মতো লাল হয়ে উঠল।
সে সঙ্গে সঙ্গে চমকে উঠল।
“না—!”
তাড়াতাড়ি নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল।
তার বুক ধড়ফড় করছে।
লজ্জায়, অস্বস্তিতে সে ঠিকমতো ক্ৰিশের দিকে তাকাতেও পারছে না।
কাঁপা গলায় বলে উঠল—
“আমি… আমি আব্বু-আম্মুকে দেখব… please আমায় নিয়ে চলুন…”
ক্ৰিশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল তার দিকে।
সেই দৃষ্টিতে যেন অদ্ভুত কোমলতা মিশে আছে আজ।
তারপর ধীরে গলায় বলে—
“বেশ… নিয়ে যাব।”
রুহির চোখে সঙ্গে সঙ্গে আশার ঝিলিক ফুটে উঠল।
“তবে আগে এই প্রশ্নের উত্তর দাও।”
রুহি দ্বিধাভরা চোখে তাকাল।
“কোনটা?”

ক্ৰিশ আরও একটু ঝুঁকে এলো।
তার চোখে দুষ্টুমি আর তীব্রতা একসাথে ঝিলিক দিচ্ছিল।
“করতে দেবে?”
রুহির নিঃশ্বাস আটকে গেল।
লজ্জায় তার কান পর্যন্ত লাল হয়ে উঠল।
সে এক মুহূর্তও আর সেখানে দাঁড়িয়ে রইল না।
তাড়াতাড়ি ক্ৰিশের কোল থেকে নেমে পড়ল।
তারপর ছোট ছোট পায়ে প্রায় দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে গেল।
ক্ৰিশ চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে রইল।
ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি।
চোখে তৃপ্তির ঝিলিক।
যেন পালিয়ে যাওয়া মেয়েটার লজ্জাই তার সকালের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য…

রুহির রুমে আরাম করে পা-এর উপর পা তুলে বসে আছে ক্ৰিশ।
চোখে মুখে চিরচেনা নির্লিপ্ত ভাব, ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি।
আর ঠিক তার সামনের চেয়ারে গম্ভীর মুখ করে বসে আছে কুটুশ।
তবে সেই গাম্ভীর্য বেশিক্ষণ টিকছে না।
কারণ তার পুরো মনোযোগ এখন কোকোকে নিয়ে।
কোকোকে সে নিজের কোলের উপর বসিয়ে কখনো তার কান টানছে, কখনো গালে হাত বুলাচ্ছে, আবার কখনো তাকে দু’হাতে তুলে “উড় উড়” খেলাচ্ছে।
বেচারা কোকো পুরোপুরি বিরক্ত হয়ে গেছে।
সে বারবার “ঘেউ ঘেউ” করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
মাঝে মাঝেই অসহায় চোখে ক্ৰিশের দিকে তাকাচ্ছে, যেন নিজের মালিকের কাছে বিচার চাইছে।
কিন্তু ক্ৰিশ অদ্ভুতভাবে শান্ত।
সে কোকোর এই করুণ অবস্থা দেখেও কিছু বলছে না।
কারণ যাই হোক, কুটুশ এখন তার শালা।
আর এই বাড়িতে একমাত্র কুটুশই এমন একজন, যে ক্ৰিশ কে একটুও ভয় পায় না।
বরং লোকটাকে নিয়ে তার প্রবল কৌতূহল।
হঠাৎ কুটুশ বড় বড় চোখ করে ক্ৰিশের দিকে তাকাল।
তারপর সামনে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে—

“আমি শুনেছি তুমি নাকি গুণ্ডা!”
তা তোমার কাছে বন্দুক আছে……
ক্ৰিশ ভ্রু কুঁচকে তাকাল তার দিকে।
“এই কথা তোকে কে বলল?”
কুটুশ একদম নিরীহ মুখ করে বলে—
“কে আবার? আব্বুই তো রোজ বলে—
‘আমার মেয়েটা একটা গুণ্ডার হাতে গিয়ে পড়ল!’”
কথাটা শুনে ক্ৰিশের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
তার চোখের ভেতর মুহূর্তের জন্য ঝলসে উঠল রাগ।
তারপরই সে ঠোঁট বাঁকিয়ে মৃদু হাসল।
মনে মনে বলে—
“তাহলে আমাকে গুণ্ডা বলে, শ্বশুর মশাই?”
কুটুশ অবশ্য এসব কিছুই খেয়াল করল না।
সে আবার আগ্রহ নিয়ে সামনে ঝুঁকে বলে—
“বলো না জিজু… তোমার কাছে বন্দুক আছে?”
ক্ৰিশ এবার মুচকি হেসে চেয়ারে হেলান দিল।

“আছে তো।”
কুটুশের চোখ চকচক করে উঠল।
“সত্যি সত্যি?”
ক্ৰিশ মাথা নাড়ল।
“হুম।”
“শুধু বন্দুক না… তোকে অনেক কিছু দেব।”
কুটুশ এবার উত্তেজিত হয়ে উঠল।
সে তাড়াতাড়ি কোকোকে কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে লাফিয়ে দাঁড়াল।
“কি দেবে?”
ক্ৰিশ চোখ সরু করে তাকাল।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল চেয়ার থেকে।
কুটুশের কাছে গিয়ে নিচু হয়ে তার কানের পাশে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে কিছু একটা বলল।
কথাটা শোনার সাথে সাথেই কুটুশের চোখ বিস্ময়ে আরও বড় হয়ে গেল।
মুহূর্তের মধ্যেই তার মুখে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।

“এইটুকুই?”
সে উত্তেজিত গলায় বলল—
“এটা তো খুব easy!”
ক্ৰিশ ঠোঁট বাঁকিয়ে মাথা নাড়ল।
“তাহলে যা।”
কুটুশ সঙ্গে সঙ্গে কোকোকে আবার কোলে তুলে নিল।
তারপর এমনভাবে দৌড় দিল রুম থেকে, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশন তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
কোকো বেচারা ভয়ে “ঘেউউউ!” করে উঠল।
ক্ৰিশ দু’হাত প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে ধীরে ধীরে বেলকনির দিকে এগিয়ে গেল।

Mad for you 2 part 12

তার চোখে তখন শয়তানি ঝিলিক।
ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল বিপজ্জনক হাসি।
“শ্বশুর মশাইকে টাইট কীভাবে দিতে হয়… সেটা এই ক্ৰিশ খান খুব ভালো করেই জানে…”

Mad for you 2 part 14

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here