Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 12

Mad for you 2 part 12

Mad for you 2 part 12
তানিয়া খাতুন

“Kiss me, butterfly.”
কথাটা শুনে রুহির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
তার কাঁপতে থাকা চোখ ধীরে ধীরে উঠল ক্ৰিশের মুখের দিকে।
লোকটার চোখ দুটো গভীর, তীব্র। সেখানে এমন এক দখলদারিত্ব ছিল, যেটা রুহিকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছিল আবার অদ্ভুতভাবে শ্বাসরুদ্ধও করে তুলছিল।
রুহি শুকনো ঢোক গিলল।
তার গলা সম্পূর্ণ শুকিয়ে এসেছে।
সেদিন কোনোমতে নিজেকে বাঁচাতে পেরেছিল সে… কিন্তু আজ?
আজ যেন পালানোর সব পথ বন্ধ।
আজ সে বাধা দিতে পারবে না।
কারণ ক্ৰিশের একেকটা কথাই তার মাথার ভেতর প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল—

“তোমাদের বাড়িতে বোম রাখা আছে…”
ভাবতেই তার বুকের ভেতর বরফ জমে গেল।
তার আব্বু…
আম্মু…
কুটুশ…
সবাইয়ের মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠতেই রুহির চোখ ভিজে উঠল।
চোখের কোণ বেয়ে নীরবে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল।
ক্ৰিশ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল তার দিকে।
রুহির সেই কান্নাভেজা মুখটা দেখে তার চোখে অদ্ভুত এক অস্থিরতা ফুটে উঠল।
সে ধীরে ধীরে ঝুঁকে এলো আরও কাছে।
রুহি কাঁপতে থাকা ঠোঁট ভিজিয়ে নিল জিভ দিয়ে।
তারপর অত্যন্ত অসহায় ভঙ্গিতে পা উঁচু করে ক্ৰিশের দিকে এগিয়ে এলো।
কিন্তু উচ্চতার পার্থক্যের কারণে ক্ৰিশের নাগাল পেতে তার ভীষণ অসুবিধা হচ্ছিল।
ক্ৰিশ সেটা বুঝতেই মৃদু হেসে ফেলল।
পরের মুহূর্তেই সে দু’হাতে রুহির কোমর জড়িয়ে ধরে সহজেই তুলে নিল নিজের সমান উচ্চতায়।
রুহি আতঙ্কে সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত ক্ৰিশের কাঁধে রেখে দিল।
তার নিঃশ্বাস দ্রুত ওঠানামা করছিল।
ক্ৰিশ স্থির চোখে তাকিয়ে রইল তার মুখের দিকে।
সেই দৃষ্টিতে ছিল তীব্র আকর্ষণ, অধিকার আর একরাশ উন্মাদনা।

“kiss me…”
রুহির চোখ আবার ভিজে উঠল।
সে কাঁদতে কাঁদতেই ধীরে ধীরে মুখ এগিয়ে নিল।
তার কাঁপতে থাকা ঠোঁট খুব আলতো করে ছুঁয়ে গেল ক্ৰিশের ঠোঁট।
মাত্র এক মুহূর্তের স্পর্শ।
কিন্তু সেই স্পর্শেই রুহির পুরো শরীর কেঁপে উঠল।
মনে হলো বুকের ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের তীব্র স্রোত বয়ে গেল।
সে ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে সরে আসতে চাইল।
কিন্তু তার আগেই ক্ৰিশ শক্ত করে চেপে ধরল তার ঠোঁট।
রুহির চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল।
ক্ৰিশের আঙুলের চাপ আরও শক্ত হয়ে উঠল তার কোমরে।
সে ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ল রুহির উপর।
তার চুমুতে ছিল তীব্র দখলদারিত্ব, অস্থিরতা আর বহুদিনের জমে থাকা আকাঙ্ক্ষা।
রুহি অসহায়ভাবে ক্ৰিশের শার্ট মুঠো করে ধরল।
তার চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে।
মেয়েটার কাঁপুনি ক্ৰিশ স্পষ্ট অনুভব করছিল।
তবুও সে থামছিল না।
বরং আরও গভীরভাবে রুহিকে নিজের কাছে টেনে নিচ্ছিল।
রুহির মনে হচ্ছিল নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছিল।

ভয়, লজ্জা,আর অদ্ভুত এক অচেনা অনুভূতি মিলেমিশে তার পুরো অস্তিত্ব এলোমেলো করে দিচ্ছিল।
ক্ৰিশ সেই মুহূর্তে ধীরে ধীরে রুহিকে নিয়ে সামনের কাঠের টেবিলটার উপর বসিয়ে দিল।
টেবিলের ঠান্ডা স্পর্শে রুহির পুরো শরীর শিউরে উঠল।
তার বুকের ভেতরটা দ্রুত ওঠানামা করছিল।
ভয়ে সে একটু পিছিয়ে যেতে চাইল, কিন্তু ক্ৰিশ সঙ্গে সঙ্গে তার দুই পা টেনে নিয়ে নিজের কোমরের সাথে পেঁচিয়ে নিল।
রুহি বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
লোকটার চোখে তখন অদ্ভুত এক তীব্রতা।
যেন বহুদিনের জমে থাকা অধিকার আজ সম্পূর্ণভাবে নিজের করে নিতে চায় সে।
রুহিকে আরও অবাক করে দিয়ে ক্ৰিশ ধীরে ধীরে তার ওড়নাটা টেনে নিচে ফেলে দিল।
ওড়নাটা গড়িয়ে পড়ল মেঝেতে।
রুহির নিঃশ্বাস কেঁপে উঠল।
সে তাড়াতাড়ি নিজের দু’হাত বুকের কাছে আনতে চাইল, কিন্তু ক্ৰিশ তার আগেই আরও কাছে ঝুঁকে এলো।
তারপর ধীরে ধীরে হাত বাড়াল রুহির কামিজের দিকে।
রুহি সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল।
চোখে ভয় স্পষ্ট।

“না…”
কিন্তু ক্ৰিশ থামল না।
সে দু’হাতে রুহির গাল জড়িয়ে ধরে অত্যন্ত নিচু গলায় ফিসফিস করে বলে—
“বাধা দিস না, butterfly…”
তার গরম নিঃশ্বাস এসে লাগছিল রুহির কাঁপতে থাকা মুখে।
“স্বামীর ডাকে সাড়া দিতে হয়… এটা হালাল…”
কথাগুলো শুনে রুহি মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।
তার মাথার ভেতর যেন সবকিছু জট পাকিয়ে গেল।
হ্যাঁ… ক্ৰিশ তার স্বামী।
বিয়েটা যেভাবেই হোক, এখন সে ক্ৰিশের স্ত্রী।
ক্ৰিশের অধিকার আছে তার উপর।
কিন্তু—তার মন এখনো সেই সম্পর্কটাকে মেনে নিতে পারেনি।
এখনো সবকিছু দুঃস্বপ্নের মতো লাগে তার কাছে।
সে এখনো ভয় পায় ক্ৰিশ কে।
রুহি সেই ভাবনার মাঝেই হারিয়ে ছিল।
আর ঠিক তখনই ক্ৰিশ এক টানে তার কামিজ খুলে নিল।
রুহি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হলো না।
তার কাঁপতে থাকা হাত দুর্বল হয়ে পড়ল।
ক্ৰিশ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে।

মুহূর্তেই রুহিকে টেবিলের উপর ফেলে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তার উষ্ণ ঠোঁট ছুঁয়ে যায় রুহির দেহের একান্ত গোপন সব স্পর্শহীন স্থান।
অপ্রত্যাশিত সেই আচরণে রুহি সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে যায়।
জীবনে প্রথমবার এমন গভীর ও তীব্র স্পর্শে তার পুরো শরীর কেঁপে ওঠে, অসহায়ভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ে সে।
কিন্তু তাতেও যেন শান্ত হয় না ক্ৰিশ।
তার অস্থির হাত ধীরে ধীরে ছুঁয়ে যায় রুহির দেহের আরও নিষিদ্ধ সব প্রান্ত।
একে একে খুলে ফেলে রুহির শেষ সম্বলটুকুও।
চারপাশের পরিবেশ মুহূর্তেই ভারী ও উন্মত্ত হয়ে ওঠে।
ব্যথায় কেঁপে উঠে চাপা চিৎকার করে রুহি, আর সেই অসহায় আর্তনাদ যেন ক্ৰিশ কে আরও বেপরোয়া করে তোলে।
তার স্পর্শ ছড়িয়ে পড়ে রুহির সমগ্র শরীরে।
দু’জনের দ্রুত ওঠানামা করা নিশ্বাসে ঘরভর্তি বাতাস পর্যন্ত গরম হয়ে ওঠে।
রুহির কাঁপতে থাকা শরীর আর ক্ৰিশের বেপরোয়া আকাঙ্ক্ষা মিলিয়ে মুহূর্তটা ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত উন্মাদনায় ডুবে যেতে থাকে।

ক্ৰিশ কোকোকে নিয়ে সোফায় বসে আছে।
কোকো ক্ৰিশের কোলের উপর বসে একবার লাফাচ্ছে, একবার তার হাত চাটছে।
মাঝে মাঝেই ছোট ছোট শব্দ করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করছে।
কিন্তু ক্ৰিশের মন পুরোপুরি সেখানে নেই।
তার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে ওয়াশরুমের বন্ধ দরজাটার দিকে।
অনেকক্ষণ হয়ে গেছে রুহি ভেতরে ঢুকেছে, এখনো বের হয়নি।
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে পাশে রাখা ওষুধগুলোর দিকে তাকাল।
তার ভেতরটা অদ্ভুত অপরাধবোধে ভরে উঠল।
তবে কি সত্যিই সে তার বাটারফ্লাই কে বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছে?
মেয়েটা ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিল না।
সেটা ক্ৰিশের চোখ এড়ায়নি।
তাই তো সে তাড়াহুড়ো করে ওষুধ নিয়ে এসেছে।
নিজের উপরই বিরক্ত লাগছে তার।
সে কখনো এতটা control-less ছিল না।
কিন্তু রুহির কাছে এলে যেন তার সমস্ত ধৈর্য, সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ভেঙে যায়।
ক্ৰিশ গভীর নিঃশ্বাস ফেলল।
ঠিক তখনই ওয়াশরুমের দরজাটা ধীরে খুলে গেল।
রুহি বাইরে বেরিয়ে এলো।

সাদা রঙের শালোয়ার কামিজ পরেছে সে।
ভেজা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কাঁধের উপর ছড়িয়ে আছে।
স্নান শেষে তার মুখটা আরও কোমল, আরও নিষ্পাপ লাগছিল।
ক্ৰিশ কিছুক্ষণ নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
মনে হচ্ছিল চোখ সরাতে পারছে না।
রুহি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল।
সে ক্ৰিশের দিকে ঠিকমতো তাকাতেও পারছে না।
তার গাল দুটো হালকা লাল হয়ে উঠেছে।
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণ করল।
আর সেই মুহূর্তেই তার ভেতরে আবার তীব্র ইচ্ছে জেগে উঠল রুহিকে কাছে টেনে নেওয়ার।
আবার আদর করার।
আবার নিজের মধ্যে মিশিয়ে নেওয়ার।
কোকো অবাক হয়ে একবার ক্ৰিশের দিকে, একবার রুহির দিকে তাকাল।
তার মালিকের মাথায় কী চলছে, সেটা বেচারা কিছুই বুঝতে পারছে না।
ক্ৰিশ নিজের ভেতরের অস্থিরতাটা জোর করে দমন করল।
তারপর পাশে রাখা ওষুধগুলো এগিয়ে দিয়ে নিচু গলায় বলল—

“এগুলো খেয়ে নাও… ব্যথা কমে যাবে।”
রুহি যেন আরেক দফা লজ্জা পেল।
তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে কাঁপা কাঁপা পায়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ওষুধগুলো হাতে নিল।
তারপর বাধ্য মেয়ের মতো একে একে সব খেয়ে নিল পানি দিয়ে।
ক্ৰিশ চুপচাপ তাকিয়ে রইল তার দিকে।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
কোকোর মাথায় হাত বুলিয়ে রুহির দিকে তাকিয়ে বলে—

Mad for you 2 part 11

“তোর আম্মুকে আমার চোখের সামনে ঘুরতে বারণ কর।”
রুহি অবাক হয়ে তাকাল।
ক্ৰিশ ঠোঁট বাঁকিয়ে এগিয়ে এলো আরও একটু।
“আমার কিন্তু মুড আসছে… তখন উহ্ আহ্ করলে মুখে salotape লাগিয়ে দেব…”

Mad for you 2 part 13

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here