প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৩৭
আরাফাত আদনান সামি
দেখতে দেখতে দীর্ঘ সতেরোটা দিন কেটে গেল। এই সতেরোটি দিন চৌধুরী ভিলা আর পাটোয়ারী বাড়ির প্রতিটি মানুষের ওপর দিয়ে যেন এক একটা যুগের মতো অতিবাহিত হয়েছে। হসপিটালের আইসিইউ, ওটি, কেবিন আর ক্লোরোফর্মের গন্ধমাখা করিডোরের সেই দমবন্ধ করা দিনগুলোর অবসান ঘটিয়ে আজ মায়াকে অবশেষে চৌধুরী ভিলা-য় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আজ মায়ার বাড়ি ফেরার প্রথম দিন। পুরো চৌধুরী ভিলা-কে যেন এক নতুন কনের আগমনের মতো করে রাজকীয় সাজে সাজানো হয়েছে। সদর দরজা থেকে শুরু করে ভেতরের প্রতিটি করিডোর, সিঁড়িঘর আর ড্রয়িংরুম তাজা শ্বেতশুভ্র রজনীগন্ধা আর রক্তগোলাপের মালা দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সাজানো হয়েছে কৌশিক আর মায়ার নিজস্ব শয়নকক্ষটি। মায়ার ঘরের বিশাল কিং-সাইজ বিছানাটা লাল গোলাপের হাজার হাজার পাপড়ি দিয়ে এমনভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছে যে সাদা চাদরের কোনো অংশই আর দৃশ্যমান নেই। ঘরের চার কোণে কাঁচের জারে জ্বলছে সুগন্ধি পারফিউমড মোমবাতি, যা থেকে এক মায়াবী, নেশা ধরানো সুবাস পুরো ঘরের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।
কৌশিক মায়াকে গাড়ি থেকে নামানোর পর এক মুহূর্তের জন্যও ওর পা মাটিতে পড়তে দেয়নি। মায়ার শরীর এখনো ভীষণ দুর্বল, ও বড্ড ফ্যাকাশে। তাই কৌশিক নিজের বলিষ্ঠ দুই বাহুতে মায়াকে পরম অধিকার আর আদরে তুলে নিয়ে সরাসরি দু’তলার ওদের ঘরে চলে এসেছে। বিছানায় মায়াকে আলতো করে বসিয়ে দেওয়ার পরও কৌশিকের চোখ দুটো মায়ার মুখ থেকে সরছিল না। মায়া বিছানায় বসে ওর পরনের ভারী লাল রঙের জামাটা টেনে নিজের পা দুটো ঢাকার একটু ব্যর্থ চেষ্টা করল। ওর ফর্সা গাল দুটো হসপিটালের দুর্বলতার মাঝেও কেমন একটা গোলাপী আভায় রাঙিয়ে উঠছে। কৌশিক কোনো কথা না বলে মায়ার ঠিক সামনে মেঝের ওপর হাঁটু গেড়ে বসল। ওর মতো একজন দাপুটে মানুষ, যার এক ইশারায় ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপে, সে আজ বড্ড শান্ত। কৌশিক নিজের শক্ত হাত বাড়িয়ে মায়ার পায়ের জুতো জোড়া একে একে খুলে দিল এবং ওর ফর্সা, নরম পায়ে নিজের হাত রাখল। মায়া চমকে উঠে পা দুটো সামান্য পেছানোর চেষ্টা করে বড্ড লজ্জিত গলায় বলে উঠল,
“আপুনি! একি করছেন আপনি? আমার পায়ে হাত দিচ্ছেন কেন? ছাড়ুন, কেউ দেখে ফেললে কী ভাববে বলুন তো!”
কৌশিক মায়ার কথার কোনো উত্তর দিল না। ও মায়ার দিকে তাকাল। ওর সেই গভীর, অন্ধকার চোখ দুটোর ভেতরে তখন এক আদিম, তীব্র ভালোবাসার ক্ষুধা জ্বলজ্বল করছে। ও মায়ার কোমরটা নিজের এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে এক মৃদু টানে ওকে নিজের আরও কাছে, একদম বিছানার প্রান্তে টেনে নিল। মায়া কৌশিকের এত কাছাকাছি এসে ওর গায়ের চেনা উগ্র পুরুষালি সুবাস আর তপ্ত নিশ্বাস নিজের মুখে অনুভব করতে পারল। ওর সারা শরীর আবার সেই তীব্র ভালোবাসার কাঁপনে শিউরে উঠল। কৌশিক মায়ার ঠোঁটের খুব কাছে নিজের মুখটা নিয়ে এসে বড্ড ফিসফিস করে, ঘোর লাগা কণ্ঠে বলল,
“কথা দাও আমাকে যে, আর কোনোদিন আমার কথার অবাধ্য হবে না? আর কোনোদিন এই কৌশিককে একা ফেলে, নিজে বাঘিনীর মতো ওই পশুদের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে না? আর কোনোদিন এই কৌশিককে ছেড়ে যাওয়ার তো দূর চিন্তাতেও আনবে না। কারণ তুমি ছাড়া এই কৌশিক নীর চৌধুরী জ্যান্ত লাশ, একদম মৃত।”
মায়া কৌশিকের চোখের ভেতরের সেই তীব্র আকুলতা আর হারানোর ভয়টা স্পষ্ট দেখতে পেল। ওর নিজের চোখ দুটোও কান্নায় ছলছল করে উঠল। সে কাঁপাকাঁপা গলায় ওনার গাল দুটো ছুঁয়ে বলল,
“আর কক্ষণও আপনার কথার অবাধ্য হবো না, না আপনার থেকে কখনো দূরে যাবো। আমি তো আপনারই, আপনার থেকে দূরে গিয়ে আমি বাঁচবো কীভাবে?”
কৌশিকের কণ্ঠস্বর আরও গভীর করে বলল,
“প্রমিজ?”
“প্রমিজ।” মায়া মাথা নাড়ল।
“পাক্কা?”
মায়া ওর ঠোঁটের কোণে এক মিষ্টি, লাজুক হাসি ফুটিয়ে বলল,
“পাক্কা।”
মায়া কথাটা শেষ করা মাত্রই কৌশিক ওর ভেতরের সমস্ত সংযমের বাঁধ ভেঙে ফেলল। ও মায়ার আরও কাছে চলে গেলো। ঘরের জানালা-দরজা সব আগে থেকেই শক্ত করে বন্ধ ছিল। জানালার ভারী সিল্কের পর্দার ওপরের অংশটা কিছুটা সরে যাওয়ার ফলে দুপুরের বিকেলের মরা আলো-আঁধারির মাঝে কৌশিকের সেই চওড়া, পুরুষালি বুকের সুগঠিত পেশিগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। ওর শরীর থেকে আসা কড়া দামি পারফিউমের সুবাস আর ওর শরীরের নিজস্ব পুরুষালি ঘ্রাণ মায়ার স্নায়ুগুলোকে মুহূর্তের মধ্যে অবশ করে দিতে লাগল। মায়া কোনো উত্তর দিতে পারল না। সে নিজের রাঙা ঠোঁট দুটো দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রইল। কৌশিক নিজের একটা বড়, খসখসে হাত বাড়িয়ে মায়ার ফর্সা, কাঁপতে থাকা নরম গালের ওপর রাখল। ওর হাতের সেই তপ্ত ওম মায়ার বরফশীতল চামড়ায় লাগতেই মায়ার পুরো শরীরে এক শক্তিশালী বৈদ্যুতিক তরঙ্গ খেলে গেল। কৌশিক মায়ার চিবুকটা নিজের শক্ত বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর মাঝখানে সামান্য চেপে ধরে মুখটা উঁচিয়ে ধরল। ওর হাতের এই গ্রিপে এক চরম, একাধিপত্যবাদী আধিপত্য ছিল, যা অমান্য করার ক্ষমতা বা সাধ্য মায়ার কোনো জন্মে ছিল না। মায়া বাধ্য হয়ে নিজের চোখ দুটো মেলল। সেই মায়াবী আলোর শিখায় সে দেখতে পেল কৌশিকের সেই কড়া, নেশাতুর চোখ দুটো ওর ওপর স্থির হয়ে আছে। ওর চোখের সেই স্বাভাবিক কাঠিন্য আজ উধাও, সেখানে এখন কেবলই এক তীব্র কামনার গভীর সমুদ্র।
“প্রায় উনিশটা দিন! উনিশটা দিন পর আবার এই রুমে তুমি আর আমি। আমাদের ঘরে আমরা দু’জন একসাথে একা।”
কৌশিক মায়ার মুখের আরও কাছে নিজের মুখটা নিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল। ওর নিঃশ্বাসের গরম হাওয়া মায়ার ঠোঁটের ওপর আছড়ে পড়ছিল।
“তোর এই শরীর, তোর এই আত্মা, তোর এই প্রতিটা নিঃশ্বাস,সব কিছুর ওপর শুধু কৌশিক নীর চৌধুরীর নাম লেখা আছে। আজ আবারও লিখে দিব আর চিরদিন লিখে যাবো।”
মায়া ওর চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের সমস্ত মানসিক প্রতিরোধ হারিয়ে ফেলল। সে আর নিজের জেদ বা লজ্জা ধরে রাখতে পারল না। সে অত্যন্ত দুর্বল, কাঁপতে থাকা গলায় বলল,
“আপনি তো দেখছি বড্ড নিষ্ঠুর ,একটুও বোঝেন না আমাকে।”
কৌশিক হালকা ভ্রু কুঁচকে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে রইল,
“নিষ্ঠুর? আমি আবার কী করলাম, হানি?”
“দেখছেন আমি অসুস্থ, সবে সবে এত বড় একটা ঝড়ের মুখোমুখি হয়ে হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরলাম। আর আপনি আমার ভালো করে সেবাযত্ন করার বদলে, আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দেওয়ার বদলে আবার সেই শুরু করলেন…”
কৌশিক মায়ার ঠোঁটে নিজের একটা তপ্ত আঙুল রেখে দিয়ে নেশাতুর কণ্ঠে বলল,
“আমি তোমার সেবাই তো করছি! তোমাকে আমার এই নিজস্ব প্রাকৃতিক ডোজ দিয়ে। এইসব হাসপাতালের ঔষধ-ফৌষধ তোমার শরীরে এত কাজ করবে না, যা আমার এই প্রাকৃতিক ডোজে করবে। ডোজটা সাপ্লাই করতে দাও, হার্টবিট।”
কৌশিকের এমন লাগামহীন, উগ্র আর কামুক কথা শুনে মায়া লজ্জায় পুরো লাল হয়ে গেলো। সে মুখটা জোর করে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলল,
“ইশ…অসভ্য! মুখে একটু লাগাম লাগান। সরেন তো, আমি নিচে যাবো।”
কৌশিক এক তীব্র ঘোর লাগা কণ্ঠস্বরে বলল,
“পারফেক্ট ভাবে আমার মুখে তোর কিছু একটা দিয়ে চেপে ধর, একাই আমার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে।”
কৌশিকের এমন অদ্ভুত, দ্বিধাহীন কথা শুনে মায়া ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে। লজ্জায় ওর গাল দুটো টমেটোর মতো লাল হয়ে উঠছে। সে বলে উঠল,
“অসভ্য! কীসব বাজে কথা বলছেন? সরেন তো, আমি নিচে যাবো।”
কথাটা বলে মায়া যেই বিছানা থেকে উঠতে যাবে, ওমনি কৌশিক এক প্রবল শক্তিতে একটানে মায়াকে তার কোলের ওপর বসিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরল।
“আমি কি তোমাকে ছুটি দিয়েছি, হানি?”
“আরে আরে কী করছেন টা কী? লাগছে আমার, ছাড়ুন না প্লিজ।”
কথাটা বলে মায়া কৌশিকের চওড়া কাঁধে হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল।
“না, ছাড়বো না।”
“আরেহ্, এই ভর দুপুরে, এই গরমের মাঝে কে এমন অসভ্যতামি করে শুনি?”
“আমি করি।”
“তা তো দেখতেই পারছি। কিন্তু বাড়িতে সবাই উপস্থিত। বাড়িতে আসার পর সেই যে আমাকে নিয়ে রুমে আসলেন, আর বাহিরে যেতে দিলেন না আপনি। একে তো ভর দুপুর, তার উপর আপনার এই অসভ্যতামি,জানি না বাড়ির একেকজন নিচে কী না কী ভাবতাছেন।”
কৌশিক আবার ভ্রু কুঁচকালো,
“কী ভাববে ওনারা?”
মায়া তার মুখে একটু কৃত্রিম রাগী ভাব এনে বলল,
“হসপিটাল থেকে বাড়ি আসার পর কারো সাথে এখনো ভালো করে দেখা করছি আমি? আসছি সেই সকাল ১০ টার দিকে, আর এখন দুপুর ২ টা বেজে পার হয়ে গেছে। বাড়ির সবাই কী ভাববে বলুন তো?”
“যা খুশি ভাবুক, তাতে আমার কী? আমি আমার বউকে সকালে আদর করব নাকি দুপুরে, সেটা সম্পূর্ণ আমার পারসোনাল বিষয়। এতে বাহিরের বা বাড়ির লোক কী ভাবলো না ভাবলো, তাতে এই কৌশিক নীর চৌধুরীর কোনো যায় আসে না।”
“ওহ্ হ্যালো মিস্টার! আপনার যায় না আসলেও আমার যায় আসে। আমার শরম করবে না ওদের সামনে যেতে? এই ছাড়ুন তো, আমি আগে বাড়ির সবার সাথে দেখা করে আসি।”
মায়া কৌশিকের কোল থেকে যেই আবার উঠতে যাবে, ওমনি কৌশিক মায়াকে আরও শক্ত করে, ওর কোমরে নিজের লোহার মতো হাতটা পেঁচিয়ে ধরে নিজের গায়ের সাথে পিষে ধরল।
“উমম হানি,এত নড়ছো কেনো? ফিল নিতে দাও।”
মায়া লজ্জায় আর কোনো উপায় না পেয়ে নিজের হাত দিয়ে নিজের কপালে দুটো আস্তে করে থাপ্পড় দিয়ে বলল,
“পোড়া কপাল আমার। আপনাকে… আপনাকে না আমি… ছাড়ুন তো।”
কৌশিক মাথা নেড়ে বলল,
“উম’হু… ছাড়বো না।”
মায়া কপাল কুঁচকে এক অদ্ভুত আদুরে আওয়াজ করল,
“ইশ…”
“উফ্ হানিহ্! কী আওয়াজ বের করলে গো। পুরো মুডে নিয়ে আসলে আমাকে। আরেকবার প্লিজ..”
কৌশিকের কথা শুনে মায়া আবারও তীব্র লজ্জা পেলো। সে এবার পুরোপুরি চুপ করে গেলো। কৌশিকের বলিষ্ঠ হাতের শক্ত বাঁধন থেকে মুক্ত হওয়ার সমস্ত চেষ্টা সে ব্যর্থ হতে দেখল। কৌশিক ওর কানের কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে নেশাতুর কণ্ঠে বলল,
“হানিহ্… তোমার চেষ্টার কোন কমতি নেই, বাট বাঁধন টা আমার হাতের। এত সহজে ছাড়া পাচ্ছো না। আর হ্যাঁ, আমি তোমার জন্য পুরো পৃথিবীর কাছে এক হিংস্র জানোয়ার হতে পারি, কিন্তু তোমার কাছে আমি সবসময় এক অবাধ্য প্রেমিক হবো। যার কোনো সীমা থাকবে না, কোনো জটিলতা থাকবে না।”
কৌশিক নিজের বাক্য শেষ করা মাত্রই মায়ার চঞ্চল আর দুর্বল শরীরটাকে বিছানার নরম গোলাপের পাপড়ির ওপর এক ঝটকায় শুইয়ে দিল। ওর নিজের ভারী শরীরটার পুরো ভর মায়ার ওপর না দিয়ে ও দুই হাত দিয়ে মায়ার হাত দুটো মাথার ওপর লক করে ধরল। তারপর কোনো সুযোগ না দিয়েই ও মায়ার গোলাপি রাঙা ঠোঁট জোড়ার ওপর নিজের ঠোঁট দুটো অত্যন্ত শক্ত করে চেপে ধরল। মায়া চমকে উঠে ওর চওড়া বুকে নিজের দুটো ছোট হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করল, ওর এই তীব্র আকর্ষণের সামনে ছটফট করতে লাগল। কিন্তু কৌশিকের লোহার মতো শক্ত শরীরের সামনে ওর এই চেষ্টা ছিল বড্ড বালখিল্য। কৌশিক মায়ার কোমরটা নিজের এক হাত দিয়ে এক হেঁচকা টানে নিজের আরও কাছে নিয়ে এল, ওর অন্য হাতটা মায়ার চুলের বড় খোঁপাটা এক টানে খুলে দিয়ে ওর মাথাটা শক্ত করে ধরে রাখল।
ওর লম্বা কালো চুলগুলো বিছানার লাল গোলাপের পাপড়িগুলোর ওপর এক জাদুকরী বৈপরীত্যের সৃষ্টি করল। কৌশিকের ঠোঁট জোড়া মায়ার ঠোঁটের ওপর এক তীব্র ও গভীর আবর্তের সৃষ্টি করল। সে মায়ার ঠোঁটের প্রতিটা অংশকে নিজের করে নিচ্ছিল, যেন সে ওখানে নিজের চিরস্থায়ী মালিকানার সিলমোহর এঁকে দিচ্ছে। মায়ার ঠোঁটের কোণের সেই পুরোনো হালকা ক্ষতটায় কৌশিকের ঠোঁটের মৃদু ঘষায় এক হালকা ব্যথার উদ্রেক হলো,সেই ব্যথা মায়ার ভেতরের এক সুপ্ত কামনার আগুনকে জ্বালিয়ে দিল। মায়ার ছটফটানি ধীরে ধীরে কমে এল। ওর হাত দুটো কৌশিকের চওড়া কাঁধের ওপর আলগা হয়ে বসে গেল। সে নিজের চোখ দুটো সম্পূর্ণ বন্ধ করে কৌশিকের এই তীব্র স্পর্শের সাগরে নিজেকে পুরোপুরি ভাসিয়ে দিল। কৌশিক মায়ার ঠোঁট থেকে নিজের ঠোঁট টা সামান্য সরাল। দুই জোড়া ঠোঁটের মাঝখানে এক সূক্ষ্ম লালার রেখা আবছা আলোয় চকচক করে উঠল। মায়া তখন জোরে জোরে গভীর শ্বাস নিচ্ছিল, ওর ফর্সা মুখটা কামনার চড়া রঙে লাল হয়ে উঠেছে। ওর চোখ দুটো আধবোজা, যেন সে কোনো গভীর ঘোরের মধ্যে তলিয়ে গেছে। কৌশিক আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। ওর ঠোঁট জোড়া আস্তে আস্তে মায়ার চিবুক বেয়ে নিচে নামতে লাগল। সে মায়ার ফর্সা, মসৃণ গলার ওপর নিজের মুখটা রাখল। ওর তপ্ত ঠোঁট আর দাঁতের মৃদু কামড়ে মায়ার গলার নরম চামড়ায় এক নতুন লালচে দাগের সৃষ্টি হলো। মায়া এক তীব্র শিহরণে নিজের মাথাটা পেছনের দিকে হেলিয়ে দিল, ওর মুখ দিয়ে এক মৃদু আর্দ্র আওয়াজ বেরিয়ে এল।
”উফ’ফ…”
কৌশিক মায়ার গলার প্রতিটা ইঞ্চি নিজের ঠোঁট দিয়ে ধুয়ে দিতে দিতে আরও নিচে নামল। ওর হাত দুটো মায়ার জামার ওপরের অংশটা এক টানে সামান্য সরিয়ে দিল। মোমবাতির সেই আবছা আলোয় মায়ার সেই অপার্থিব, ফর্সা বুকের ওপরের অংশটা এক মায়াবী ক্যানভাসের মতো ভেসে উঠল। কৌশিক নিজের মুখটা মায়ার বুকের ওপর স্থাপন করল। মায়ার নরম, কাঁপতে থাকা বুকের ওপর কৌশিক নিজের মুখটা অনবরত স্লাইড করতে লাগল। ওর চিবুকের হালকা দাড়িগুলোর ঘষায় মায়ার বুকের সংবেদনশীল চামড়ায় এক তীব্র কামুক সুড়সুড়ির সৃষ্টি হচ্ছিল। মায়া বিছানার চাদরটা নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত করে খামচে ধরল। ওনার পুরো শরীর ধনুকের মতো বেঁকে উঠছিল। কৌশিক ওর বুকের গভীর খাঁজে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়ে ওর দ্রুতগতির হৃদস্পন্দনকে নিজের ঠোঁট দিয়ে অনুভব করছিল।এক দীর্ঘ সময় ধরে কৌশিক মায়ার বুকের ওপর নিজের মুখ স্লাইড করল, ওর প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস মায়ার বুককে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলছিল। মায়া ক্রমাগত শিউরে উঠছিল, ওর অবাধ্য শরীরটা কৌশিকের এই বেসামাল কেয়ারিং আর তীব্র কামনার সামনে অনবরত কাঁপছিল। কৌশিক মায়ার এই কাঁপন ভীষণ উপভোগ করছিল। সে ওর দুই হাত নিজের এক হাত দিয়ে মাথার ওপর লক করে ধরল, তারপর ওর ঠোঁট জোড়া আরও নিচে নামাতে লাগল। মায়ার পেটের মসৃণ চামড়া বেয়ে কৌশিকের ঠোঁট আস্তে আস্তে ওর নাভিতে এসে পৌঁছাল। ওর নাভির গভীর গোলকে কৌশিক নিজের জিভ আর ওষ্ঠের উষ্ণ ছোঁয়া দিতেই মায়া এক তীব্র মরণকামড় দেওয়ার মতো শিউরে উঠল। ওর পুরো শরীর এবার সত্যি সত্যিই ফটফট করতে লাগল, সে নিজের কোমরটা বিছানা থেকে ওপরে তোলার চেষ্টা করল এক তীব্র অলৌকিক সুখানুূর্তি আর কামনার ঘোরে।
”কৌশিক… প্লিজ… আর না… আমি মরে যাচ্ছি…”
মায়া কাঁদতে কাঁদতে অনুনয় করতে লাগল, ওনার গলার স্বর আজ সম্পূর্ণ অবশ। কৌশিক মায়ার নাভি থেকে নিজের মুখটা তুলে ওর চোখের দিকে তাকাল। ওর ফর্সা কপালে তখন ঘামের ছোট ছোট বিন্দু জমছে। কৌশিক এক বাঁকা, নেশাতুর হাসি হাসল। সে মায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ওর কামড় দেওয়া গলার দাগটায় আবার নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল,
”তোমার কিচ্ছু হবে না সোনা, তুমাকে আমি আজ আবারও এই ঘরে এক নতুন জীবনের স্বাদ পাইয়ে দেব। কৌশিক নীর চৌধুরীর ভালোবাসা কেমন হয়, তা তুমি আজ আবারও তোমার প্রতিটা কোষে আজ অনুভব করবে। পুরো বেসামাল করে তুলবো তোমাকে। কয়েক মুহুর্তের জন্য ছন্নছাড়া করে দিবো তোমাকে। বিশাল বড় সুখের সমুদ্রতে পারি জমাবো তোমাতে আমি-আমাতে তুমি।”
প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ৩৬
কথাটা বলে কৌশিক ঠোঁট দিয়ে এবার মায়ার নাভি থেকে আরও নিচে নামতে লাগল। মায়ার পুরো পৃথিবীটা যেন এক তীব্র কামনার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে এক নতুন রূপে জন্ম নিতে লাগল। ঘরের মোমবাতিগুলো তখন শেষ বারের মতো জ্বলে উঠে নিভে যাচ্ছিল, আর সেই মায়াবী অন্ধকারের চাদরে মায়া আর কৌশিকের পরম তীব্র এবং অন্তহীন প্রণয়ের ঘোরে বিলীন হয়ে গেল। মায়া কৌশিকের গলা নিজের দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরল। ওর চোখ দুটো বন্ধ হয়ে এল এক পরম তৃপ্তিতে। ও নিজের পুরো অস্তিত্বকে সমর্পণ করে দিল ওর এই উগ্র, হিংস্র কিন্তু অন্ধভাবে ভালোবাসার মানুষটার কাছে।
