Home বাবুই পাখির সুখী নীড় বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫১

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫১

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫১
ইশরাত জাহান

আজকে শোভার চোখমুখ জুড়ে শুধুই আনন্দ। সে এতদিন কল্পনায় ভেসেছিল।আজকে পূর্ণতা পেলো।ভেবেছিল যশোর এমএম নাহলে ক্যান্টনম্যান্ট এমন কলেজেই ভর্তি হবে।কারণ তার তো স্বামী থাকতেও স্বামীর ক্ষমতা নিয়ে চলার সাহস ছিল না।নিজ পরিবার বলতে গরীব ভাই।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় লেখাপড়া করা অসম্ভব।তবুও তো মনের মধ্যে ইচ্ছা জাগে।সবাই চায় প্রতিষ্ঠিত হতে ভালো জায়গায় থাকতে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে।শোভার ক্ষেত্রেও তাই।কিন্তু শোভা নিজের নিয়তিকে মেনে নিয়েই চলতে শিখেছে।কখনও সাধ্যের বাইরে চলেনি।আজকে যখন সে ভার্সিটিতে প্রবেশ করলো চারপাশে শুধু মনভরে চোখ বোলাতে থাকলো।পাশে যে তার জ্বলন্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করা স্বামী আছে এটা তার খেয়ালে নেই।

শোভার চোখের নড়াচড়া পরখ করছে দর্শন।শোভা কোনো ছেলেকে দেখছে না কিন্তু আশপাশের দৃশ্য দেখতে গেলে তো ভার্সিটির ছেলেদের দিকে চোখ যাবেই।শোভার মস্তিষ্কে এতকিছু নেই।সে প্রকৃতি দেখতে ব্যাস্ত আর দর্শন ব্যাস্ত তার বউ কোনদিকে তাকিয়ে আছে আর সেদিকে কেমন যুবক আছে।শোভার দিকে অগ্নি দৃষ্টি দিয়ে হাত মুঠ করে আছে দর্শন।অনেক কষ্টে ব্রেনকে ঠান্ডা রাখছে কিন্তু ব্রেন তার জানান দিচ্ছে এভাবে চারপাশ পরখ করতে করতে তার বউ তার থেকে দূরে সরে যাবে।মাথা যেনো ফেটে যাচ্ছে তার।
আশেপাশে তাকাতে তাকাতে শোভার নজরে আটকে গেলো গোলাপী রঙের অজানা কিছু ফুল।নাম জানা নেই কিন্তু দেখতে খুবই সুন্দর।বড় বড় গাছ।পাতার উপর দিয়ে গোলাপী ফুল তার উপর আছে ছোট্ট পাখি। যেটার নাম জানার আগ্রহ জন্মালো শোভার মনে।কখনও দেখেনি এমন পাখি।কত কত পাখি আছে পৃথিবীতে।সবকিছুর নাম তো জানা সম্ভব না।শোভা মুগ্ধ হয়ে দেখছে।আর দর্শন দেখছে সেই গাছের নিচে থাকা কয়েকজন যুবককে।গিটার নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে সবাই।শোভার একদৃষ্টিতে তাকানো দেখে রাগ বাড়ল দর্শনের।এর মাঝেই দিজা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো,“কি দেখছো?”

শোভা ধীর কণ্ঠে দিজার দিকে ঝুঁকে বলে,“ওই ফুলগুলো সাথে ওই পাখিটা।কি সুন্দর তাই না?”
দিজা তাকালো গাছের দিকে।আসলেই সুন্দর।এতক্ষণ আস্তে আস্তে কথা বললেও এবার উৎসাহের সাথে জোরেই দিজা প্রশ্ন করে,“তোমার পছন্দ হয়েছে?”
শোভা স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দেয়,“পছন্দ হবে না?এত সুন্দর দেখতে তাও আবার প্রাণবন্ত পরিবেশের মাঝে।তুমি কি ওর নাম জানো?”
দিজা মুখটা না ভাব করে চোখ সরালো।পাশেই হলুদ রংয়ের ফুলগাছ।ওর কাছে হলুদ ফুল বেশি ভালো লাগলো।তাই বলে উঠলো,“আমার কাছে কিন্তু হলুদ রং বেশি ভালো লাগছে।তুমি গোলাপী পছন্দ করলে কি দেখে?আমার কাছে ওর থেকে হলুদটাই বেস্ট লাগছে।”
শোভা হলুদ ফুল আর গোলাপী ফুল দেখে বলে,“একেকজনের পছন্দ একেক রকম।আমার নাহয় গোলাপীটা পছন্দ।তুমি নাহয় হলুদটা পছন্দ করলে।দুইজনের দুইরকম পছন্দ থাকাই ভালো।”
দর্শন ভ্রুকুটি করে সামনের দিকে তাকালো ওদের কথা শুনে।গোলাপী রঙের শার্ট পরা এক যুবকের হাতে গিটার আর তার দুইজনের পাশেই হলুদ রংয়ের শার্ট পরা যুবক।দর্শনের এতক্ষণ শুধু শোভার চাহনির উপর রাগ বাড়লেও এবার নিজের বোনের প্রতিও রাগ বাড়ছে।কঠিন কণ্ঠে দাঁত চিবিয়ে বলে উঠলো,“তোদের রং নিয়ে ডিসকাস শেষ হলে এবার চল।কাজ আছে আমার।”

শোভা মুখটা শুকনো করলো কিন্তু দেখতে পারল না কেউই।অনুভূতি হলো দর্শনের।এতদিন থেকেছে যার সাথে খুব ভালোভাবেই জানে তার কোন কথার মাঝে কোন মুখভঙ্গি থাকতে পারে।শোভা বলে উঠলো,“একটু থাকি?চলে গেলে কি এই সৌন্দর্য আর দেখতে পারবো?”
দর্শন দাঁত কড়মড় করে বলে,“তোমার সৌন্দর্য দেখার খুব আগ্রহ দেখছি?”
শোভা হাসিহাসি মুখ করে বলে,“হবে না?নতুন পরিবেশে নতুন কিছু।দেখলে চোখ সরানো যায় নাকি?”
“ওহ রিয়েলী?নতুন কিছু পেলে পুরনো জিনিস থেকে ইন্টারেস্ট কমে যায় বুঝি?”
দর্শনের কথাগুলো শোভার মস্তিষ্কে না পৌঁছালেও দিজার কাছে খটকার লাগলো।ভাইয়ের এমন আচরণ বুঝতে পারছে না।তবে দিজা ধারণা করতে পারছে দর্শন কোনো এক কারণে ভীষন ক্ষিপ্ত।তাই শোভার হাত ধরে বলে,“ভাবী চলো বাড়িতে যাই।”
শোভা অনুরোধের সুরে বলে,“আরেকটু থাকি?”

দিজা পরিস্থিতি সামলাতে বলে,“আমার খুব ক্ষুধা লাগছে।আমাদের তো কাজ শেষ।আর থেকেই বা কি হবে?”
শোভা মেনে নিলো কিন্তু দিজার নিজেরই যাওয়ার ইচ্ছা নেই।ও তো সেই ধরে একজনকে খুঁজছে।অথচ যাকে খুঁজছে সে আছে তার পিছনে।দর্শনকে কাগজপত্র দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে সবকিছু।দর্শন তুহিনের কথাগুলো কান দিয়ে শুনলেও শোভাদের দিকে নজর রাখে।যার ফলে শোভার বলা শেষ কথাগুলো শুনেই ক্ষিপ্ত।
দিজা শুকনো মুখ করে পিছন ফিরতেই তুহিনের মুখ দেখে।এই লোকটা যেনো তার পিছনেই লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।তাই তো একটু আগে দর্শনের দিকে তাকালেও তুহিনকে নজরে পড়েনি।দিজার শুকনো মুখে চওড়া হাসি ফুটে উঠল।ব্যাপারটা শোভার নজরে এলো।কারণ সে দিজার দিকেই চেয়ে ছিল।দিজাকে প্রাণবন্ত দেখা যায় কিন্তু এখন যেমন আনন্দে আত্মহারা এমন দেখা যায়না।শোভা এর আগেও দিজাকে এমন করতে দেখেছে।শোভার কেন যেন মনে হলো এই ভার্সিটিতে আসলেই দিজা কিছুর খোঁজ করে।হয়তো সেই জিনিস পেলেই খুশি হয় সে।তুহিন আর দর্শন কথা বলা শেষ করে।সবশেষে তুহিন জানায়,“ভাবীকে আর না আসলেও চলবে।সব ফর্মালিটি কমপ্লিট।শুধু এক্সাম দিলেই হবে।আমি তোকে নোটগুলো ইমেইল করে দিয়ে দিবো।”

শোভা আফসোস করে জিজ্ঞাসা করে,“আমি কি ভার্সিটিতে আসতে পারবো না?”
দর্শন একটু কেশে উঠে বলে,“না,কেন?কোনো সমস্যা?”
শোভা আশপাশ আবারও দেখে নিয়ে বলে,“এত সুন্দর পরিবেশ!আমি কি আর দেখার সুযোগ পাবো না?”
দর্শন এগিয়ে এলো।শোভার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,“তোমার যত সৌন্দর্য উপভোগ করার আমি বাড়িতে ব্যাবস্থা করে দিবো।কিন্তু বাইরের দিকে যেনো আকর্ষিত হতে না দেখি।আই ক্যান্ট টলারেট।”
শোভা হাবলা হয়েগেলো যেনো।তুহিন একটু কাশি দিলো।দর্শন চোখ সরিয়ে বলে,“চল তাহলে।”
তুহিন ভ্রু কুঁচকে বলে,“কোথায়?”
“লান্স করতে যাবো।আমাদের সাথে জয়েন করবি।”
দিজার চোখমুখ আনন্দে চিকচিক করতে শুরু করলো।তুহিন এক পলক চেয়ে চোখ ফিরিয়ে নেয়।অতঃপর চশমা ঠিক করে বলে,“ফ্যামিলি টাইম?আমি ডিস্টার্ব না করি।তোরাই ইনজয় কর।আমি অন্যসময় জয়েন করব।”
দিজা যেনো অধৈর্য।হুট করে বলেই দিলো,“আজকে কেন না?”

শোভা ও দর্শন সাথে সাথে সন্দিহান নজরে তাকালো।দর্শনের চাহনি দেখে দিজা ঢোক গিলে বলে,“না মানে আজকে আমরা ভর্তি হলাম।উনিও আমাদের উপকার করলেন।ট্রিট তো আজকেই উনি ডিজার্ভ করেন।তাই না ভাইজান?”
দর্শনের কাছে কথাটা খটকা লাগলেও পাত্তা দিলো না।ফর্মালিটি ভেবেই তুহিনকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে গেলো।রেস্টুরেন্টে যাওয়ার সময় দিজা যা পরিকল্পনা করেছিলো তার কোনকিছুই হলো না।মন খারাপ করে এক কোনায় বসে আছে।শোভা চেয়ে চেয়ে দেখছে।শোভা ও দিজা কর্ণারের একটা টেবিলে বসে আছে।সেখানে দর্শন ও তুহিন নেই।তুহিন থাকার কারণেই দর্শন আলাদা টেবিল নিয়ে তুহিনের সাথে আছে।শোভা এমনভাবে বসে আছে যেনো বাইরের কেউই ওর দিকে তাকালেও ওর মুখ দেখতে পারবে না।দর্শন সেই ব্যবস্থা করে দেয়।দিজা ভেবেছিল দর্শন ও শোভা এক টেবিলে বসবে আর যেহেতু তুহিন আছে তাই তারা আলাদা টেবিলে।মনের চাওয়া পাওয়া পূরণ না হওয়াতে অনেকটা ক্ষিপ্ত দিজা।সামনে দিজার প্রিয় খাবার কিন্তু তাতে দিজার কোনো হেলদোল নেই।শোভা ভালোভাবেই জানে এতক্ষণে দিজা চার পাঁচটা ছবি তুলে স্টোরি দিতো কিন্তু আজকে দিচ্ছে না।শোভা এবার দিজার হাতটা ধরে।দিজা কেঁপে উঠতেই শোভা বলে,“কি হয়েছে তোমার?”

দিজা মাথা নাড়িয়ে বলে,“কিছু না।”
“তাহলে খাচ্ছো না কেন?”
দিজা এবার খাওয়া শুরু করে।অন্যদিকে তুহিন সেও কিছুটা নজরে নিলো ব্যাপারটা।তুহিন দেখতেও পারছে দিজা কিভাবে তার প্রতি দুর্বলতা দেখাচ্ছে।একজন শিক্ষিত ও বুঝদার যুবক হিসেবে তুহিনের এগুলো বুঝতে অসুবিধা হয়না।কিন্তু যে তুহিন তাকে এতদিন চেয়েছিল সেই আজকে ব্যাপারগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।বিশেষ করে তুহিন দিনদিন দর্শনকে এড়িয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র দিজার কারণেই।

বাসায় ফিরে শোভার চোখ বড় বড় হয়েগেলো।গাড়ি থেকে নামতেই জঙ্গলের দিকে চোখ পড়তেই দেখতে পেলো রিঠা,শিকাকাই ও আমলকীর গাছ।ছোটবেলায় যেমন বাড়ির সামনে বড় জায়গা জুড়ে এসব গাছ দেখতো এখন আবার দেখতে পেলো।শোভা হাত উঁচিয়ে গাছ দেখিয়ে বলে,“এগুলো কখন লাগানো হলো?”
দর্শন উত্তর দেয়না।ওর মধ্যে এখনও ক্ষোভ কাজ করছে।ও চলে গেলো ভিতরে।দিজা জানায়,“ভাইজান ম্যানেজারকে দিয়ে এনেছে আজকে সকালেই।”
“আমরা যাওয়ার পর?”
“হুমমম।”
“এগুলো….!”

শোভা আর বলল না বাকি কথা।ভাবছে রাতের কথা।দর্শনের কাছে বলেছিলো এই গাছ সম্পর্কে।শোভার ঠোঁটে হাসি ফুটলো।তার স্বামী তাহলে তার চুলের যত্ন নিচ্ছে।ভাবতেই হাঁসি দিয়ে উঠলো।দিজা ভাবুক হয়ে বলে,“আমি বুঝলাম না ভাইজান এগুলো দিয়ে কি করবে?দাদাজান বলেছিলো তালগাছ কাটতে।বটগাছ কাটতে।ভাইজান জানালো তালগাছে বাবুই পাখির বাসা দেখতে তার ভালো লাগে তাই কাটবে না কিন্তু বটগাছ কেন কাটবে না এটা বুঝলাম না।বাসায় সুন্দর সুন্দর ফুলগাছ না লাগিয়ে উল্টো এসব কেন লাগালো?”
শোভার ভার্সিটির গাছগুলোর কথা মনে পড়ে।খুশি হয়ে বলে,“গাছগুলো অনেক উপকারের।তোমার ভাইজানের চয়েজ আছে।”

বলেই থামলো শোভা।ছোট্ট নিশ্বাস ছেড়ে হাসি ফোটালো ঠোঁটে।দর্শন ফোনে কথা শেষ করে বাইরে আসে। দিজা ও শোভা ভিতরে ঢুকছে না কেন দেখতে।দর্শন দাঁড়াতেই শোভা আবারও বলে,“কিন্তু যাই বলো না কেন সকালের ওই গোলাপিটা আকর্ষণীয় ছিল।তোমার ভাই অবশ্য ওগুলোতে ইন্টারেস্টেড না।কেমন যেনো ভয়াবহ বিষয়গুলোতে ইন্টারেস্টেড।এভাবে কেউ চলে নাকি আজকাল।বাড়ির পিছনে বটগাছ!ভূতের সাথে বাস করবে তোমার ভাই।”
দিজা হেসে দিয়ে বলে,“ভাইজানের জীবন শুকনো পাতার মতো।রসকষহীন।রঙিন জীবন ভাইজানের জন্য না।ওই গোলাপি ও হলুদ গুলোর মত রঙিন পুষ্পে ভরা জীবন আমার ভাইজান গড়তে শিখেনি।শিখেছে শুকনো খড়খড়ে পাতার মত করে অবহেলায় চলতে।”
শোভা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।মনে মনে বলে,“তাই তো আমাকে এখনও গ্রহণ করতে তার অসুবিধা।”
মনের মধ্যে কথাটা রেখে শোভা বলে,“তাতে আমার কি?সে তো আর আমাকে নিয়ে এই জীবন পারি দিবে না।আমি নিজেই তো তোমার ভাইজানের জীবনে সাময়িক সময়ের অতিথি।এরপর আমি অন্তত আমার জীবনটা রঙিন করতে পারবো।”

শোভার কথাগুলো বলতে গিয়ে চোখ চিকচিক করে ওঠে কিন্তু কথাগুলো ইগো নিয়ে বলে।ওর যখনই অপমানের কথা মনে পড়ে তখন মুখ ফসকে বিচ্ছেদের কথা আসে।কিন্তু নারী জাতি।হাজার চাইলেও স্বামীকে ছাড়তে পারবে না।তার মধ্যে এমন ভাবনা ছিল না চারটে বছর ধরে।ইদানিং হঠাৎ মন চায় একটু একা থাকতে।নীরবে নিজের জীবনটা নিয়ে ভাবতে।যখন দর্শন যত্ন নেয় মন চায় সেখানে নিজেকে আটকে থাকতে।যখন দর্শন অপমান করে তখন মন চায় এই লোককে ছেড়ে দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে।

শোভার কথা শুনে দর্শন হাত মুঠ করে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলে,“তোরা কি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবি?”
দিজা কেঁপে উঠল।সাথে শোভাও।দুজনেই দ্রুত বাড়ির ভিতরে চলে গেলো।দর্শন পাশে থাকা বটগাছে খুব জোরে লাথি মারে।হিসিহিসিয়ে বলে,“এই পৃথিবীতে আমাকে বোঝার কেউ নেই,কেউ না।যেখানে নিজের জন্মদাত্রী মায়ের কাছে কঠিনভাবে ঠকতে হয় সেখানে বাকিরা তো দূরের কথা।তাতে কি?আমি আমার হক নিজে আদায় করব।কেউ থাকুক আর না থাকুক আমার জীবনে যখন জায়গা হয়েছে তোমার বারবার ফেরানোর পরও যখন আমার হয়ে থাকার ভাগ্য পেয়েছো এই ভাগ্য আমি বদলাবো না।কোনোভাবেই না।জোর করে হলেও নিজের করে রাখবো।আমি আমার বাবার নসিব বহন করব না।একদম না।আমি আমার মতো করে নসিব বহন করব।”
ঘরে ঢুকেই দর্শন চারপাশ তাকালো।শোভা নেই।ওয়াশরুম থেকে শব্দ আসছে।ওয়াশরুমের দরজা খুলে ভেজা চুলে বের হলো শোভা।দর্শনের চোখ শোভার দিকে।শোভা ডাগর ডাগর নয়নে দর্শনের রাগী দৃষ্টি পরখ করে।কোনো পাত্তা না দিয়ে আয়নার সামনে চলে গেলো।এই লোকের মাথা এমনিতেই গরম থাকে।চোখ দেখলে মনে হয় যেন সামনের ব্যক্তিকে খুন করে ফেলবে।শোভা অভ্যস্ত।ফরাজি বাড়ির সবার মত শোভাও এখন এগুলো দেখে অভ্যস্ত।দর্শন ভ্রুকুটি করে বলে,“তোমার গোলাপি রং খুব পছন্দ?”

শোভা পিছন ফিরল।দর্শনের চোখের দিকে চেয়ে থেকে বলে,“কেন?”
দর্শন হালকা কেশে বলে,“গোলাপি রঙের ওকে নিয়ে গসিপ করছিলে তাই।তুমি তো ওমন মেয়ে না।নাকি হুট করে বাইরের সৌন্দর্যে চেঞ্জ হতে সময় লাগলো না?”
শোভার ভ্রু কুঁচকে এলো।গোলাপি রঙের কথা নিয়ে ভাবতেই মনে পড়ল ভার্সিটির সেই ফুলগাছের কথা।শোভাও তেমন গুরুত্ব না দিয়ে বলে,“গোলাপি রং তেমন পছন্দ না।আমার কোনো আলাদা পছন্দ নেই কিন্তু আজকে গোলাপি রংটা চোখে পড়ার মতো ছিল।”

দর্শন হাত মুঠ করে এগিয়ে এলো শোভার কাছে। শোভার বাহুতে নিজের দুইহাত দিয়ে চেপে ধরে রাগী কণ্ঠে বলে, “আই হেট ওমেন। ধোঁকা দেওয়া ব্যক্তিকে আমার ঘৃণা লাগে।তোমাকে আমি সেই নজরে দেখিনা কিন্তু এমন কোনো কাজ করো না যেনো আমার আরও বাজে রূপ তোমাকে দেখতে হয়। আই সোয়ার আই উইল ডিস্ট্রয় এভরিথিং।”
শোভা চমকে উঠেছিল খানিক সময় ধরে।পরবর্তীতে দর্শনের কথাতে হতবাক।অবাকের সাথেই বলে,“আশ্চর্য তো!আমি কোথায় ধোঁকা দিলাম?মানুষের কি কিছু দেখে ভালো লাগতে পারে না?আমারও লেগেছে।তাতে কি হয়েছে? আর আপনার চয়েজ আমার চয়েজ এক না যে…

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫০

শোভাকে বাকি কথা বলতে দেবার আগেই শোভার ওষ্ঠ দখলে নিলো দর্শন।শোভার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।মনে পড়ে গেলো দর্শনের আগেরবারের অত্যাচারের কথা।দর্শন আগেরবার তার ওষ্ঠে যেভাবে অত্যাচার করেছিল আজকেও কি তাই করবে নাকি?ভয়ে দর্শনের বুকে ধাক্কা দিতে থাকে।দর্শন ছাড়বার পাত্র না।এখনও সে রুড বিহেভ করেনি কিন্তু শোভা ভয়ে আছে।ধীরে ধীরে যদি আবারও সেই অত্যাচার করে।শোভা হাত দুটো দিয়ে ইচ্ছামত ধাক্কা দিয়েই যাচ্ছে দর্শনের বুকের উপর।দর্শনের কালো শার্টের উপরের বোতাম খোলা।যার কারণে বুকের উপরের লোমগুলো শোভার হাতে বাদছে।শোভার ডাগর ডাগর নয়নের দিকে দর্শনের অগ্নি দৃষ্টি আর শোভার ওষ্ঠের সাথে মিলে আছে দর্শনের ওষ্ঠ।শোভা ভয় পেলেও মুহূর্তটা তার গা হিম করে দিয়ে গেলো।মাত্রই গোসল সেরে এসেছে।এর মধ্যে এমন স্পর্শ।শোভার মস্তিষ্ক কাজ করছে না যেন।

বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here