অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৯
Maha Aarat
বাসা থেকে ফিরে যোহরের সালাত আদায় করে একসাথে ভেতরে এসেছেন আরহাম।এতোদিন পর আজকে ভেতরটা হালকা হালকা লাগছে।অবশেষে মাহের সফল,বোনের রাগ ভাঙ্গিয়ে তাকে ফিরিয়ে নিতে।আরহাম মনে মনে আল্লাহকে ধন্যবাদ দিয়ে বললেন, আল্লাহ আপনার রহমত দ্বারা তাদের জীবনকে আপনার সন্তুষ্টচিত্তে সাজিয়ে দিন।ভালোবাসার কমতি না হোক,তাদের প্রতিটা পদক্ষেপ আপনার খুশির জন্য হোক।আপনার সন্তুষ্টির সীমারেখা ভেদ করে শয়তান যেনো তাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব সৃষ্টি করতে না পারে,রহম করুন।মনে মনে রবের সাথে আলাপন শেষ হতেই একজন সিকিউরিটি এসে একটা খাম আর চিরকুট এনে দেয়।
মাদ্রাসায় মহিলাদের মধ্যে দায়িত্ব-কর্তব্যে প্রধান হিসেবে আছেন হালিমা।আরহামের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ খুব কম হয়েছে উনার।তাও কালে ভাদ্রে,একান্ত বিশেষ প্রয়োজনে খুব অল্প সময়ের জন্য।অথচ আজকের সাক্ষাৎ যেনো বড্ড দীর্ঘ।আরহাম টেবিলে পড়ে থাকা চিঠিটার দিকে তাকিয়ে বিদ্বেষী কন্ঠে বললেন, ‘আপনাকে বলা হয়েছে উনাকে বুঝাতে।আপনি কোনো রেসপন্স করেননি।বলা হয়েছে উনার ভাইকে টিসি দিয়ে দিতে।তাও নো রেসপন্স।বলা হয়েছিলো সাপ্তাহিক ক্লাস থেকে উনাকে বাদ দিয়ে দিতে এত নিষেধাজ্ঞার পরেও উনি দিব্যি আসা যাওয়া করছেন কীভাবে এটার কি উত্তর দিবেন?’
হালিমার মাথা নত।সামনে বসা আরহামের দৃষ্টি উনার দিকে ফিরবে না জেনেও ভদ্রমহিলা চোখ তুলে তাকানোর সাহসও করলেন না।বিনয়ের সুরে বললেন, ‘নিষেধ দেওয়া হয়েছে।ক্লাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।কিন্তু উনার ভাই,সে যথেষ্ট মেধাবী তাই এ সিদ্ধান্তে তেমন গা লাগানো হয়নি…
‘রেসপন্স না করা হলে আমি কেনো এটা বললাম?এটা আমার ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়ছে।’
‘এবার থেকে কড়াভাবে হ্যান্ডেল করা হবে।’
আরহাম আর জবাব দেননি।আরহামের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে অনুমতি নিয়ে হালিমা প্রস্থান করতেই খামটা হাতে নিলেন আরহাম।সামনের ছবিতে তাঁর বেয়নেটে রক্তাক্ত হাতে ঝলঝল করছে ‘A’ অক্ষরটা।কত খারাপ লেভেলের পাগল হলে মানুষ এটা করে।সাথে একটা চিঠিও।আরহাম দুমড়েমুচড়ে সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে ল্যাপটপ খুলে বসলেন।এখানে এসেই একটা খারাপ সময়ের সাক্ষী হতে হলো উনার ভাবতেই অস্থিরতায় গা গুলিয়ে যাচ্ছে।মনে মনে ভেবে নিলেন,এর পরে কখনো উনার সম্পর্কে কোনো রিপোর্ট আসলে সেটা ফ্যামিলিকে ইনফর্ম করে যেকোনো সাংঘাতিক সিদ্ধান্ত নিবেন।
বাসায় ফিরে খুব ক্লান্তিবোধ হচ্ছিলো আরহামের।মাগরিবের সালাত আদায় করেই লম্বা ঘুম দিয়ে উঠে দেখলেন ঘড়িতে দশটা বাজতে চললো।ইশার সালাত আদায় ও তিলাওয়াত শেষে রুম থেকে বেরিয়ে হাফসার রুমে উঁকি দিয়ে দেখলেন সে নেই।আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন উনি নিশ্চয়ই কিচেনে।আমার জন্য যতটুকু মায়া নেই,কিচেনের প্রতি তাঁর চেয়ে দ্বিগুণ আছে।অনেকদিন হলো আম্মুর সাথে মনখুলে আলাপ হয়নি।তাই আম্মুর রুমে নক করে ঢুকতেই দেখলেন আম্মু কাপড় ইস্ত্রী করছেন।আম্মুকে সাহায্য করতে চাইলে তিনি না বোধক উত্তর দিলেও আরহাম চুপচাপ বসে থাকলেন না।কাপড়গুলো ভাঁজ করতে সাহায্য করতে করতে কতোশত আলোচনায় ডুব দিলেন।
আইরা কিংবা মাহের,বা আরও যাবতীয় আলাপের শেষে আম্মু এসে থামলেন বর্তমানে।আম্মুর হিজাবগুলো ভাঁজ করতে করতে আম্মুর কথার উত্তর দিচ্ছিলেন।কথার ফাঁকে ফাঁকে আম্মু বললেন, ‘বড়োদের কাপড় ভাঁজ করতে যেরকম কষ্ট,ছোটদের ক্ষেত্রে একদমই বিপরীত।’
আম্মুর কথার ইঙ্গিত বুঝে আরহাম নি:শব্দে নিজের কাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন।কীভাবে এ প্রসঙ্গ বদলানো যায় ভাবতে না ভাবতেই বুঝি আম্মু সাংঘাতিক প্রশ্নটা করেই বসলেন, ‘ছোট্ট কোনো মেহমান আনা যায় না নাকি,আরহাম?বুড়ো বয়সে আর কতো একা থাকবো?’
আরহাম আম্মুর দিকে আর চোখ তুলে তাকানোর সাহস করলেন না।নিজ কাজে ঠায় স্থবির থেকে মিনমিনে স্বরে বললেন, ‘উনার কি মা হওয়ার বয়স হয়েছে আম্মু!’
‘তোমার তো বাবা হওয়ার বয়স হয়েছে।’
ইসসস!কি ধারালো জবাব আম্মুর!আজ বোধহয় তিনি জাতাকলে চেপে ধরেছেন আরহামকে।সন্তুষ্টিজনক উত্তর না পাওয়া অব্দি ছাড়বেন না।আরহাম হাতের কাজ শেষ করে ব্যস্তভঙ্গিতে যাওয়ার পায়তারা করতেই আম্মু পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘উত্তর দিয়ে যাও!’
আরহাম হাতঘড়িতে দৃষ্টি আটকে বললেন, ‘জানিনা আম্মু।আমি যাই।’
দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যেতে নিলেই আবারও অস্বস্তিতে পড়লেন আরহাম।আজ সব আক্রমণগুলো বোধহয় একসাথেই হওয়ার ছিলো।আহনাফ তাজওয়ার দূ পকেটে হাত গুজে আরহামের দিকে মনোযোগের দৃষ্টিতে তাকালেন।আরহাম কনফার্ম,আম্মু আর উনার একটু আগের কথোপকথনে আব্বু নীরব শ্রোতা।খোঁচা টা দেওয়া বাকি থাকলো না আর।আরহামকে পেরিয়ে যাওয়ার সময় চুপিচুপি বললেন, ‘তোমার দাদু যেদিন তোমার আম্মুর মতো এরকম বলেছিলেন আমি তাঁর পরেই তাকে তোমার সুসংবাদ দিয়েছিলাম।’
আরহাম নত হওয়া মাথা টা নিয়ে পারলে মাটির নিচে ঢুকে যান।কোনোমতে আব্বুকে পাশ কাটিয়ে আসতে আসতে মনে মনে ভাবলেন, ‘আপনারও এরকম বলা উচিত হয়নি আব্বু্।দূজনে মিলে ছোটো বাচ্চাটার(নিজের) নাজেহাল অবস্থা করে ফেলেছেন।এখন আমি আমার বউয়ের অবস্থা নাজেহাল করবো।’
বাসায় আসতে আসতে বিকেল হয়ে গিয়েছিলো প্রায়।এসেও শান্তি নেই।বিশেষ প্রয়োজনে মাহেরকে ছুটতে হয়েছে হসপিটালে।মাত্র ফিরে বাসায় ঢুকে দেখলেন সার্ভেন্টের সাথে কিচেনে সে।অযু করে মাহের সালাতে দাঁড়াতে দাঁড়াতে ভাবলেন, বিয়ে করার কয়েকটা লাভ বোধহয় আছে।এই যে বাসায় ফিরার তাড়াটা বিয়ের আগ অব্দি ছিলো না উনার।
মাহের যখন নামাজ সম্পূর্ণ করলেন কিচেন থেকে মাত্র ফিরলো আইরা।মুখোমুখি একপলক তাকাতেই বুঝলো লোকটা তাঁর দিকে কেমন জানি ঘন ঘন তাকাচ্ছেন।ভীষণ অস্বস্তি পড়ে আবারও কিচেনে ঢুকলো সে।দূ কাপ কফি তৈরি করতে করতে ভাবছিলো আজকে দিনের মুহুর্তগুলো।আম্মু তাকে বারবার বলে দিয়েছেন মাহেরের কেয়ার করতে।স্বামীরা তো সম্মানীয়।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা বলেছেন, উনার পর যদি কাউকে সিজদাহ’ দেওয়ার হুকুম দিতেন তবে সেটা স্বামীদেরকে দিতেন।
বেলকনির রেলিং ঘেষে চুপচাপ তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আইরা একটু চমকালো।অন্যসময় এই সময়টা তিনি নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।আইরা গলা কাশতেই মাহের তার উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত হলেন।হালকা হাসার চেষ্টা করলেও হাসিটা ঠোঁট অব্দি আসলো না উনার।কফির কাপ হাতে নিয়ে মৃদুস্বরে বললেন, ‘থ্যাঙ্কস।’
গরম কফিতে কাঁপা কাঁপা ঠোঁট বুলাচ্ছে আইরা।।তাঁর পরনে হলুদ আর কালোর মিশেলে গোল জামা।ওরনাটা হিজাবের মতো বড় করে সারা শরীর আবৃত হয়ে আছে।মুখে কোনো অর্নামেন্টস নেই,নেই কোনো কৃত্রিমতার ছোঁয়া।চোখের গাঢ় পাপড়িগুলো পিটপিট করে খুলছে,বুজছে।তাঁর এই সরলতা আর মায়ার আধুলিতে ভরা সুন্দর চেহারা মাহের কখনোই মনের চোখ দিয়ে অবলোকন করেননি।প্রেমে পড়ার হাজারটা কারন মেয়েটার মধ্যে আছে।পঞ্চইন্দ্রিয় ছাড়াও মেয়েদের একটা আলাদা ইন্দ্রিয় আছে,যার সাহায্যে তারা চট করে বুঝে ফেলতে পারে,কে তাঁর দিকে কেমন নজরে তাকাচ্ছে।ধরা খেয়ে মাহের বিষম খেয়ে উঠলেন।ইসস,কি যে অস্বস্তি হচ্ছে উনার।কখনো এমন করে তাকান না,আর আজ তাকাতে গেলেই ধরা খেলেন।
আইরা মুচকি হাসলো আড়ালে।চুপিচুপি আসতে নিলে মাহের সামনে ঘুরে বলেন, ‘থাকো না কিছুক্ষণ!’
কাপটা সুবিধা মতো রেখে একপাশে চুপেচাপে দাঁড়িয়ে রইলো সে।আবহাওয়া টা নিতান্তই খারাপ নয়।কালো হয়ে আসা মেঘের ভয়ানক রুপ দেখে মনে হচ্ছে, বৈশাখের ঘন বজ্রপাত যেনো এখুনি ধেয়ে আসবে।বাতাসে মিষ্টি ঘ্রাণ,গাছের পাতা নড়ার মর্মর ধ্বনি!
‘ত্ তোমার হাতটা একটু ধরবো?’
আচমকা কন্ঠে আইরা হতবাক!না না,কল্পনায় ডুবতে গিয়ে সে ভুল কিছু শুন বসেছে।কিন্তু মাহের এখনো উত্তরের আশায় জবুথবু হয়ে তাকিয়ে আছেন।
‘জ্ জ্বি স্যার আমাকে কিছু বললেন?’
মুখে হাত দিয়ে তৎক্ষনাৎ কৌশলে অন্যদিকে তাকিয়ে দমবন্ধ করা কন্ঠে উত্তর দিলেন, ‘নাহ।’
দম ছেড়ে বাঁচলো আইরা।আশ্চর্য আজকাল কি ভয়ানক কল্পনাতে ডুবছে সে।মনে মনে নিজেকে ধিক্কার জানালে।যে লোকটা তার দিকে ভালোভাবে তাকানই না উনি হাত ধরার আবদার করবেন এটা হতেই পারে না!
প্রকৃতিতে পুনরায় মনোযোগ গেঁথে নিলো সে।শীতল সমীরণ এসে গা ছুঁয়ে দিচ্ছে খুব সতর্কে।জোনাকপোকার অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে দূর থেকে।আকাশে শতেক তাঁরার ভীড়,ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে ডুবে থাকা আইরার শ্বাসপ্রশ্বাস যেনো দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হওয়ার জোগাড় হলো।শ্বাস নিতে গিয়ে তাঁর মনে হলো,প্রকৃতির সবচেয়ে কাছে থেকেও অক্সিজেনের বড্ড অভাব তাঁর।তিরতির করে কাঁপা হাতটা পুরুষালি বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছে।অস্বস্তি,অবাক বা লজ্জ্বায় পড়ে সে দাঁতে দাঁত চেপে রইলো জোর দিয়ে।বলিষ্ঠ দেহী শরীরে তার ছোট্ট দেহটা মিশে আছে খুব অবাধ্য হয়ে।এতটুক পর্যন্তও সে এটাকে কল্পনা ভেবে নিতো যতক্ষণ না মাহেরের উষ্ণশ্বাস আর উস্কে দেওয়া ভরাট কন্ঠটা তাঁর স্নায়ুতে না পৌঁছাত,
‘শুরু থেকেই তোমাকে এড়িয়ে গিয়েছি কষ্ট দিয়েছি তাঁর জন্য আমি খুব খুব দূ:খিত।তোমার আর আমার ডিফারেন্সের শেষ নেই।আমি বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে কি শুরু করবো।এই দীর্ঘ সময় তোমার অনুপস্থিতিতে অনুভব করেছি,তোমাকে আমার লাগবেই।আই এম সরী,ফরগিভ মি।কোনো রাগ রেখো না।আর আমি কোনো ভুল করলে তুমি চলে যেও না এভাবে।আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং ভালো হওয়ার জন্য সময় লাগবে।ধৈর্য ধরে থেকে যেও।একদিন ঠিক আমি তোমার মনের মতো হতে পারবো,দেখো।’
বারান্দার সোফায় বসে খুব মনোযোগ সহকারে বাইরে মগ্ন হাফসা।তাঁর মনোযোগ বা দৃষ্টি কোনেটাই বর্তমানে নেই।বাইরের অন্ধকারে চোখ রেখে সে কি ভেবে চলেছে তাঁর খবর সম্পর্কে অজ্ঞাত আরহাম।প্রিয় স্ত্রীর সংস্পর্শ আসলেই এক চমৎকার খুশবু পান তিনি।এক্ষেত্রে মাইমুনা বা উমায়ের দুজনকে খুব সহজে আলাদা করতে পারবেন।হাফসাকে হুট করে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতেই সে মৃদু আর্তনাদ করে উঠলো।আরহাম সামনে ফিরতেই দেখলেন গরম কফি তাঁর গাল ছুঁয়েছে।আরহাম তড়িৎ সেটা মুছে দিয়ে এলোমেলো কন্ঠে বললেন, ‘সরি সরি আমি দেখতে পাইনি।”
হাফসা বিনয়ের সহিত মাথা নেড়ে কফির কাপ রেখে বলল, ‘সমস্যা নেই।আমি ঠিক আছি।’
আরহাম উনার আগের অবস্থানে অসাড় হলেন আবার।তাঁর ঘাড়ে নাক ঘষতে ঘষতে অভিযোগের সুরে বললেন, ‘আমাকে রেখে কফি খাচ্ছেন?’
‘আ্ আপনাকে দিতে গিয়ে দেখলাম আপনি ঘুমে তাই…
আরহাম ঠোঁট কামড়ে হেসে বললেন, ‘কিন্তু ঘুমের মধ্যে মনে হলো কেউ আমার…
হাফসা প্রচন্ড লজ্জ্বায় কেঁপে উঠলো।কোন দূ:খে সে আরহামের কাছে গিয়েছিলো।এই লোকটার তীক্ষ্ণ মস্তিষ্ক যে ঘুমের মধ্যেও জেগে থাকে সেটা তাঁর জানা ছিলো না।
‘মনে হলো কেউ আমার কপালে চুমু দিয়েছে।এটা কি স্বপ্ন, না বাস্তব উমায়ের?’
হাফসা মাথা নিচু রেখেই লাজুক স্বরে উত্তর দিলো, ‘স্ স্বপ্ন!’
আরহাম এবার বেশ শব্দ করে হেসে দিলেন।উনার হাসির চমৎকার আওয়াজ তাঁর কম্পিত হৃদয়ে প্রেমের উচ্ছেদ হলো।তাঁর কানে মুখ লাগিয়ে আরহাম মিনমিনে স্বরে বললেন, ‘আচ্ছা।স্বপ্নের বাকি অংশটুকু এখন আমি সম্পূর্ণ করছি।’
‘ম্ মানে?’
বোকার মতো প্রশ্ন করে বসলো হাফসা।আরহাম কিছুটা গুরুগম্ভীর ভাব নিয়ে বললেন, ‘আমার তো বয়স বাড়ছে।’
হাফসা কৌতূহল ঝাড়তে বলল, ‘বাড়ছে।তো?’
‘বুড়ো বয়সে গিয়ে বাবা ডাক শুনবো,বলুন?’
হাফসা নির্বাক।লোকটার মুখে যা লাগাম ছিলো,সব ভ্যানিশ।আরহাম বোকার মতো দাঁত দিয়ে নখ খুঁটতে খুঁটতে অভিজ্ঞভঙ্গিতে বলতে আরম্ভ করলেন, ‘আম্মু আব্বু বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন।আইরাও অপেক্ষা করতে করতে নিজেই বিয়ে করে নিলো।আর আমিও বুড়ো হয়ে যাচ্ছি।শুধু বড়ো হচ্ছেন না আপনি!’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৮
হাফসাও নির্বোধের মতো নখ খুঁটতে থাকলো।আরহাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘আপনার নখ খুঁটার অভ্যাসটা আমি পেয়ে গিয়েছি।অথচ আমার সাথে এতোদিন থেকেও একটু রোমান্টিক হতে পারলেন না আপনি!’
বলতে বলতে তাঁর চিবুকে গাঢ় চুমু আঁকলেন আরহাম।দেখতে পেলেন লজ্জ্বায় গুটিয়ে যাচ্ছে সে।আরহাম মায়াতুর চোখে তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে বললেন, ‘আপনার চোখের এই সাইনেসেই আমি শেষ,উমায়ের!আল্লাহ এজন্যই বোধহয় স্ত্রীদের মধ্যে এতো স্বস্তি রেখেছেন।ছাদে যাবো,খোলা আকাশের নিচে দূ রাকাআত সালাত আদায় করবো,চলুন!’
