Home ইশকে এ নিকাহ ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১১

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১১

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১১
লাইরা আয়নাত

অ্যাশার ফ্যামিলির জিম হলে আয়াজ, ইনায়াত, ফেইথ, লুইস, এরিক আর আইজ্যাক সবাই উপস্থিত। আয়াজ ওয়ার্কআউট করছে। জিমের সময় নিজের ‘হুইয়ে প্রোটিন’ আনতে ভুলে গেছে সে। তবে এটা একটা অজুহাত। এখানে উপস্থিত সাত-আটজন মেইড আর গার্ড থাকা সত্ত্বেও সে সোজা তার মম কে কল করে ইনায়াতকে দিয়ে প্রোটিন শেইকটা পাঠাতে বলেছে। তার মা-ও ছেলের চালাকিটা বোঝেন। ইনায়াতকে এক নজর দেখার জন্যই যে আয়াজের এই বাহানা, সেটা বুঝতে আর উনারও বাকি নেই।
ইনায়াত আসছে শুনে আয়াজ দ্রুত ওয়াশরুম থেকে চোখে-মুখে পানি দিয়ে আসে। তার পরনে একটা ব্ল্যাক স্লিভলেস জিম ভেস্ট আর হোয়াইট শর্টস। ইনটেন্স ওয়ার্কআউটের পর তার সুঠাম বডি চকচক করছে, পেশিগুলো স্পষ্ট। জিম হলের গ্লাস ডোর পুশ করে ইনায়াত ভেতরে ঢোকে। তার হাতে প্রোটিন শেইকের বোতল। কিন্তু আয়াজের প্রত্যাশায় পানি ঢেলে দিয়ে ইনায়াত তার দিকে এক নজরও তাকায় না। চুপচাপ বোতলটা নামিয়ে রেখেই সে উল্টো ঘুরে চলে যেতে নেয়। আয়াজ তো ভেতরে ভেতরে ভারী অপ্রস্তুত! এতক্ষণ ধরে তৈরি করা ইমপ্রেশনটা এই মেয়ে এভাবে ইগনোর করল?

আয়াজ আর থাকতে না পেরে ডাক দেয়, “এই ইনায়াত, শোনো!”
ইনায়াত এবার ঘুরে আয়াজের মুখের দিকে তাকায়। শান্ত গলায় বলে, “শুনছি।”
আয়াজ কিছুক্ষণ মুগ্ধ দৃষ্টিতে ইনায়াতের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু শেষে খেই হারিয়ে ফেলে বলে, “না কিছু না।”
ইনায়াত বেশ বিরক্ত হয়ে একটা লুক দেয় ওর দিকে। তবে কিছু না বলে সে আবার পা বাড়ায় যাওয়ার জন্য। সামনে বাড়াতেই দেখে, একটু দূরে ফেইথ বসে বসে ঘাড়ের ব্যথায় কাতরাচ্ছে। এরিককে উদ্দেশ্য করে ফেইথ বলছে, “ব্রো, এত পেইন কেন হচ্ছে! ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে ঘাড়ই নাড়াতে পারছি না। আহহ!”
ইনায়াত ফেইথের দিকে তাকিয়ে বলে, “আমি হেল্প করতে পারি, তুমি চাইলে।”
ফেইথ ভ্রু কুঁচকে তাকায়, “কীভাবে?”
ইনায়াত পাল্টা প্রশ্ন করে, “করব? হ্যাঁ বা না!”
ফেইথ একটু ভেবে জবাব দেয়, “হ্যাঁ।”
ইনায়াত এগিয়ে গিয়ে ফেইথের ঘাড়ের অবস্থা খুব গভীরভাবে অবজার্ভ করে। তারপর ধীরে ধীরে তার ঘাড়ের স্টিফ হয়ে থাকা মাসলগুলোতে প্রেশার দিয়ে ম্যাসাজ করতে শুরু করে। স্পাইনের পজিশন ঠিক করার জন্য খুব সতর্কতার সাথে ঘাড় সামান্য ঘুরিয়ে স্ট্রেচ করায়। ব্যথায় ফেইথ চোখ বন্ধ করে ফেললেও কিছুক্ষণ পরই তার ঘাড়ের মাসল রিল্যাক্স হতে শুরু করে। ইনায়াত শান্ত গলায় তাকে রিল্যাক্সড থাকতে বলে, যাতে পেশিগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

ঘাড়ের ব্যথা কমতেই ফেইথ স্বস্তির শ্বাস ফেলে বলে, “থ্যাংকস ইয়ার! আমার স্পাইনের পেইনটাও অনেক বেড়েছে, এটাতেও একটু হেল্প করবে?”
ইনায়াত নির্লিপ্ত গলায় বলে, “শিওর।”
প্রথমে সে ফেইথকে সোজা হয়ে বসতে বলে। তারপর খুব ধীরে ধীরে তার কাঁধ, ঘাড় আর মেরুদণ্ডের আশেপাশের শক্ত পেশিগুলোতে প্রেশার দিয়ে পসচারাল থেরাপি’আর কাইরোপ্র্যাকটিক অ্যাডজাস্টমেন্ট শুরু করে। এক হাতে ফেইথের কাঁধ স্থির রেখে, অন্য হাতে মেরুদণ্ডের নিচের অংশে হালকা চাপ দিয়ে স্পাইনের অ্যালাইনমেন্ট ঠিক করার চেষ্টা করে সে। মাঝে মাঝে ধীরে ধীরে স্ট্রেচ করায়। জমে থাকা টেনশন রিলিজ হতেই ফেইথ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, “ওয়াও! তুমি তো অনেক ট্যালেন্টেড ইনায়াত। একদম প্রফেশনাল কাইরোপ্র্যাক্টরের মতো কাজ জানো!”
একটু দূরে দাঁড়িয়ে আয়াজ সব নোটিশ করছে। এসব দেখে এরিকও লাফিয়ে ওঠে, “আমার ঘাড়েও পেইন হচ্ছে, আমাকেও একটু হেল্প করবে?”

ইনায়াত ভেতরে ভেতরে বিরক্ত হলেও মুখে সৌজন্যতা বজায় রেখে বলে, “আচ্ছা, আপনি বসুন।”
এরিক একটা চেয়ার টেনে বসতেই ইনায়াত তার কাঁধে হাত দিতে যায়। কিন্তু তার আগেই আয়াজ এসে ইনায়াতের হাত নিজের শক্ত মুঠোয় বন্দি করে। রাগে তার চোয়াল শক্ত হয়ে আছে। চাপা স্বরে আয়াজ বলে, “তোমার ওকে থেরাপি দিতে হবে না। আমি তোমাকে থেরাপি দিচ্ছি, এসো আমার সাথে। অনেক থেরাপির লেনাদেনা বাকি আছে আমাদের!”
কথাগুলো বলেই ইনায়াতকে টেনে জিম হল থেকে বের করে আনে আয়াজ। সবার সামনে সিন ক্রিয়েট করে লাভ নেই ভেবে ইনায়াতও চুপচাপ বাইরে চলে আসে। জিম থেকে বেরিয়েই ইনায়াত তার স্বাভাবিক, বরফশীতল গলায় আয়াজকে বলে, “স্যার, একজন ‘কনকিউবাইন’-এর মেয়ের হাত ধরে আছেন আপনি। আপনার তো ক্লাস নেমে যাবে!”

‘ছেড়ে দিন’ বা ‘ছাড়ুন’ বললে যে আয়াজ শুনবে না এবং কথা আরও বাড়বে, সেটা ইনায়াত ভালো করেই জানে। তাই সে সরাসরি আয়াজের ইগো বরাবর আঘাত করে। আয়াজের পা থেমে যায়, কিন্তু সে ইনায়াতের হাত ছাড়ে না। এক টানে ওকে নিজের একেবারে সামনে দাঁড় করিয়ে দাঁত চেপে বলে, “সো হোয়াট! তুমি যাই হও, আমার কথা স্পষ্ট তুমি এরিকের আশেপাশেও যাবে না।”
ইনায়াতের ধরালো গলায় বলে, “আমি কার পাশে যাব আর কার পাশে যাব না, সেই ডিসিশন আমার। আপনি ঠিক করে দেওয়ার কেউ নন। আর আমার হাতটা ছাড়ুন, আপনার ছোঁয়া আমার একদম ভালো লাগে না।”
বাক্যটা কোনো বিষাক্ত তীরের মতো সরাসরি আয়াজের পৌরুষের কেন্দ্রবিন্দুতে গিয়ে বিঁধে যায়।এই প্রত্যাখ্যান এবং অবহেলা সহ্য করতে না পেরে আয়াজ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।ঠিক এই ওপেন গার্ডেনে, যেখানে চারপাশের সিকিউরিটি গার্ডরা দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কেউ এসে পড়তে পারে, সে ইনায়াতের কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের আরও কাছে টানতে চায়।
কিন্তু ইনায়াত! ইনায়াত যে শুধু রূপের অধিকারী নয়, সে যে শুধু মেধার অধিকারী নয়, সে যে একজন প্রশিক্ষিত যোদ্ধা সেটা সে এক মুহূর্তে প্রমাণ করে দেয়। চতুরতা ও ডিফেনসিভ কৌশলে নিজেকে এক ঝটকায় সরিয়ে নেয় সে আয়াজের কাছ থেকে। দাঁতে দাঁত চেপে সে ফিসফিস করে বলে,
“নির্লজ্জের মতো আচরণ করবেন না। এটা আপনার বেডরুম নয়। এখানে যদি আমার হাতের মার খান না, তবে সেই অপমানের দাগ আজীবন মুখে লেগে থাকবে।”
প্রতিটা শব্দ চাবুকের মতো আয়াজের গালে এসে পড়ে। আর একটা মুহূর্তও নষ্ট না করে ইনায়াত দ্রুত পায়ে মেইন বাড়ির দিকে চলে যায়।আর আয়াজ তপ্ত দুপুরে, গার্ডেনের ঠিক মাঝখানে, একাকী, পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রাগ আর ক্ষোভ নিয়ে।

ডিম-লাইট আর আর্দ্রতায় ঘেরা একটা পরিত্যক্ত কোল্ড স্টোরেজ। বাতাসে কাঁচা রক্তের গন্ধ আর ফ্রেয়ার ঝলসানো মরদেহের পোড়া চামড়ার তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধটা মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। সেই বীভৎস অবয়বটার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে আয়াজ। তার পরনে একটা ব্ল্যাক ওভারকোট তার চোখে কোনো অনুশোচনা ভয়ের লেশমাত্র নেই। দীর্ঘ, তীব্র যন্ত্রণার ছটফটানি শেষে অবশেষে ফ্রেয়া মারা গেছে। তার পুড়ে যাওয়া অঙ্গার হয়ে যাওয়া শরীরটার দিকে তাকিয়ে আয়াজের ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক টুকরো নিখাদ ও তৃপ্তির হাসি। কোনো মাস্টারপিস আর্ট কমপ্লিট করার পর একজন আর্টিস্টের মুখে যে ডিভাইন স্যাটিসফ্যাকশন দেখা যায়, ঠিক তেমন।
ঠিক তখনই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার বিশ্বস্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট কাইক পকেট থেকে ফোনটা বের করে স্ক্রিনে চোখ বুলায়। তার গলায় স্পষ্ট উত্তেজনার ছাপ, কিছুটা নার্ভাসনেসও। সে বেশ কিছুটা গলা উঁচিয়ে বলে ওঠে,
“বস, MI6 এবার বেশ ভালোমতোই সবার পেছনে লেগেছে। ‘কেয়স টাইরন্ট’কে খুঁজে বের করতে ওরা পুরো মরিয়া হয়ে উঠেছে, একেবারে কুত্তা পাগল অবস্থা!”

আয়াজ আলতো করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। পকেট থেকে একটা মেটালিক লাইটার বের করে ফ্লিপ করে, তারপর আবার বন্ধ করে দেয়। ঠোঁটের কোণে চেনা বাঁকা হাসিটা ফুটিয়ে সে খুব ক্যাজুয়াল টোনে বলে,
“MI6-এর ফিমেল অফিসারগুলো কিন্তু বেশ বিউটিফুল হয়, তাই না কাইক?”
আয়াজের এমন আকস্মিক আর অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্যে কাইক পুরো থতমত খেয়ে যায়। চারদিকে ডেডবডি আর ক্রাইম সিনের এই ক্রুশিয়াল মোমেন্টে দাঁড়িয়ে বস এই কী বলল আর কী জিজ্ঞেস করছে! সে নিজের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। কিছুটা দ্বিধা আর ভড়কে যাওয়া গলায় সে জবাব দেয়,
“হ-হ্যাঁ, হয়তো। আমি আমি ঠিক খেয়াল করিনি, বস।”
আয়াজ কাইকের দিকে সোজা তাকায় সে আবার সেই চেনা সাইকোটিক বাঁকা হেসে বলে,
“তুমি খেয়াল করোনি, কিন্তু আমার নজর এড়ায়নি একজন। শি ইজ এক্সট্রিমলি হট!”
কাইক এবার রীতিমতো আমতা-আমতা করতে শুরু করে। তার বসের এই রূপ তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন। সে সাহস সঞ্চয় করে বলেই ফেলে,

“স্যার, আপনি কিন্তু ম্যারেড! আর তা ছাড়া মেয়েদের ব্যাপারে তো আপনাকে কখনো এভাবে কথা বলতে শুনিনি। আজ হঠাৎ এসব বলছেন যে?”
আয়াজ কাইকের দিকে এগিয়ে আসে সে কাইকের কাঁধে একটা হাত রেখে আইস-কোল্ড গলায় বলে,
“সময় আসুক, সব বুঝতে পারবে। যাইহোক, আপাতত এই ডেডবডি স্ট্রং কেমিক্যালে গলিয়ে পুরো ভ্যানিশ করে দাও। এভিডেন্স বলতে যাতে কিচ্ছু না থাকে। আর ওদের ‘কেয়স’-এর পেছনেই মিছেমিছি ছুটতে দাও। শ্যাডো চেজ করতে ওদের বেশ ভালোই লাগে।”
কাইক মাথা নেড়ে সায় জানায়, “ওকে, বস। আই উইল হ্যান্ডেল ইট।”
বাড়ি ফিরার পর।

আয়াজ বাড়ি ফিরেছে। বেডরুমে মিনিমালিস্টিক ফার্নিচারের ওপর চাঁদের আলো এসে পড়েছে। আয়াজ বেডের ব্যাকরেস্টে হেলান দিয়ে বসে আছে। তার কোলে একটা স্লিভ ল্যাপটপ। ডার্ক ওয়েবের এনক্রিপ্টেড কোডিং আর কিছু জরুরি ইললিগাল ট্রানজেকশনের কাজ সারছে সে খুব নিখুঁতভাবে।
ঠিক তখনই ঘরের দরজার লক খোলার মৃদু আওয়াজ হয়। ইনায়াত রুমে প্রবেশ করে। ওর চোখে-মুখে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা আর ক্লান্তি ভর করেছে। কোনো রকম দ্বিধা, জড়তা বা ভণিতা ছাড়াই সে সরাসরি আয়াজের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আয়াজের আই-কন্টাক্ট লক হতেই সে হুট করেই বলে ওঠে,
“আপনি কি আমাকে একটা হেল্প করতে পারবেন?”
আয়াজ টাইপ করা থামিয়ে দেয়। তার ডান ভ্রু-টা কিছুটা কুঁচকে যায়। তবে মনের ভেতরে তার একটা অন্যরকম খেলা শুরু হয়ে গেছে। সে মনে মনে ভাবে, এ তো মেঘ না চাইতেই জল! লেডি লাক দেখছি আজ আমার দিকেই হাসছে। সে খুব ধীরেসুস্থে ল্যাপটপটা শাটডাউন করে একপাশে সরিয়ে রাখে। সোজা হয়ে বসে, দুই হাতের আঙুলগুলো একে অপরের সাথে লক করে গভীর গলায় বলে,
“বলো, কী ব্যাপার?আজ হঠাৎ হেল্প চাইছে?”
ইনায়াত কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকে। নিজের ভেতরের মানসিক জড়তা আর অস্বস্তিটুকু কোনোমতে গিলে নিয়ে সে বলে,

“আপনাকে আমার সাথে একটা হাই-প্রোফাইল পার্টিতে যেতে হবে। তবে আমার ফ্রেন্ড সেজে। পসিবল কি?”
ইনায়াতের মোটেও ইচ্ছে ছিল না আয়াজের কাছে এসে এভাবে রিকোয়েস্ট করার। কিন্তু পরিস্থিতি তাকে একদম দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে, কোনো এক্সিট রুট নেই। মূলত তাদের ডিপার্টমেন্টাল হেড তাকে এই টপ-সিক্রেট অ্যাসাইনমেন্টটা দিয়েছেন। আয়াজ একজন পাবলিক ফিগার, একজন ‘ক্রাউন’ হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সে ভীষণ ভাইরাল। তার ওপর সম্প্রতি একটা ডার্ক অ্যাকশন থ্রিলার সিরিজে লিড ক্যারেক্টারে অভিনয় করার কারণে তার পপুলারিটি আর হাইপ এখন পুরো তুঙ্গে।

এদিকে রিকু নামের এক কুখ্যাত আন্তর্জাতিক মাফিয়া, যে আন্ডারগ্রাউন্ডের বড় বড় সব ইললিগাল হিউম্যান এক্সপেরিমেন্ট আর ড্রাগ ট্রায়ালের মেইন স্পন্সর, সে আবার পর্দার আয়াজের এক পাগলাটে ভক্ত। এই রিকুর সাথেই আবার আন্ডারওয়ার্ল্ডের গডফাদার ‘কেয়স টাইরন্ট’-এর বেশ ভালো এবং গভীর কানেকশন আছে। MI6 চাইছে রিকুকে একটা পারফেক্ট ফাঁদে ফেলে জালে জড়াতে, যাতে তার মাধ্যমে ‘কেয়স’-এর কলার ধরা যায়।
আর সেই মাস্টারপ্ল্যানের চাবিকাঠি হলো আয়াজ। আয়াজকে কনভিন্স করে রিকুর সেই এক্সক্লুসিভ হাই-প্রোফাইল পার্টিতে নিয়ে যেতে হবে। যখনই ডিপার্টমেন্টে আয়াজকে ম্যানেজ করার প্রসঙ্গ ওঠে, তখন ইনায়াতের মামা যিনি এই ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তিনি এই জটিল দায়িত্বটা সরাসরি ইনায়াতের ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। কারণ ডিপার্টমেন্টের সবাই শুধু এটাই জানে যে আয়াজ ইনায়াতের টিচার তাই তাদের মধ্যে একটা ভালো বন্ডিং আছে। তবে তাদের যে বিয়ে হয়েছে, এই ডার্ক রিয়েলিটিটা এখনো সবার সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। কোনো উপায় না পেয়ে, এই প্রফেশনাল ও পার্সোনাল বিপদে পড়ে শেষমেশ বাধ্য হয়েই আয়াজের কাছে এসেছে ইনায়াত।
আয়াজ ইনায়াতের মুখের প্রতিটি অভিব্যক্তি খুব সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সে কিছুটা গম্ভীর ভাব নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকে তারপর সে বেড থেকে খুব ধীর গতিতে উঠে দাঁড়ায়। ইনায়াতের একদম গা ঘেঁষে এসে দাঁড়ায় সে। ইনায়াতের দিকে হালকা ঝুঁকে, নিজের ঠোঁটের কোণে এক চতুর, ধারালো আর রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,
“একজন ‘ক্রাউন’ ফ্রেন্ড সেজে কোনো পার্টি অ্যাটেন্ড করবে, এটা ঠিক মানায় না। প্রোফাইলটাই নষ্ট হয়ে যায়। তবে বয়ফ্রেন্ড হলে অবশ্য অন্য কথা! কী বলো?”

কাজের স্বার্থে ইনায়াতকে নিজের ইগো কিছুটা সরিয়ে রাখতেই হয়। সে একটা শীতল শ্বাস টেনে, কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই সরাসরি বলে দেয়, “ওকে আপনাকে জাস্ট আমার বয়ফ্রেন্ড হিসেবে অ্যাক্ট করতে হবে। আসলে আমার এক ফ্রেন্ডের আংকেল আপনার অনেক বড় ফ্যান। আমার ফ্রেন্ড আপনাকে তার দেওয়া স্পেশাল পার্টিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক রিকোয়েস্ট করেছে। আর আমার সেই ফ্রেন্ড শুধু আমাদের এই সো-কলড ম্যারেজ সম্পর্কেই জানে।”
সিনিয়রদের কড়া নির্দেশ ছিল মিশন সাকসেসফুল করতে হলে ইনায়াতকে এইটুকু কম্প্রোমাইজ তো করতেই হয়। তার কথা শুনে আয়াজ ঠোঁটের কোণে এক চিলতে অ্যারোগেন্ট, বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে, “আমি যাব। তবে আমার একটা শর্ত আছে।”

ইনায়াতের কপালের ভাঁজ গভীর হয়ে পড়ে কণ্ঠস্বর যথাসম্ভব শান্ত রেখে সে জিজ্ঞেস করে, “কী শর্ত?”
আয়াজের সেই বাঁকা হাসিটা আরেকটু চওড়া করে গলার স্বর কিছুটা নামিয়ে, এক ধরনের ডেঞ্জারাস ভাইব নিয়ে উচ্চারণ করে, “আমার সাথে টানা সাত দিন ডেটে যেতে হবে, প্লাস সাতটে কিস।”
শর্তটা শোনা মাত্রই ইনায়াতের শরীরের রক্ত মাথায় চড়ে যায়। একজন স্পাই হিসেবে তার ট্রেনিং তাকে শান্ত থাকতে শেখালেও, এই মুহূর্তে তার সেল্ফ-রেসপেক্টে আঘাত লাগে। রাগে দাঁতে দাঁত চেপে সে বলে, “আপনার কোথাও যেতে হবে না, থ্যাংকস বাট নো থ্যাংকস!”
আয়াজ এবার শব্দ করে হেসে ওঠে। হাসির শব্দে তাচ্ছিল্য স্পষ্ট। “তোমার কোনো আইডিয়া আছে, ক্রাউন প্রিন্স আয়াজকে কোনো পার্টিতে অ্যাটেন্ড করানোর জন্য মানুষকে কত মাস আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ওয়েট করতে হয়? এত সস্তায় আমাকে পেয়ে যাচ্ছ, তারপরও এই আননেসেসারি অ্যাটিটিউড দেখাচ্ছ?”
“আমি বলেছি আপনার যেতে হবে না! একটা ফেক অ্যাসাইনমেন্টের জন্য আপনাকে নিয়ে যেতে আমি এতটা নিচে নামতে পারব না।”

কথাটা ছুঁড়ে দিয়েই ইনায়াত গটগট করে হেঁটে কাঁচের স্লাইডিং ডোর ঠেলে ব্যালকনিতে চলে যায়। রাতের ঠান্ডা বাতাস তার উত্তপ্ত মস্তিষ্ককে কিছুটা শান্ত করার আগেই তার পকেটে থাকা সিক্রেট কমিউনিকেটর ফোনটায় একটা টেক্সট পপ-আপ করে। সেন্ডার হলো লিওনার্দো। সে লিখেছে,
“যেভাবে হোক ক্রাউন প্রিন্স আয়াজকে রাজি করো। আগামীকালই সেই পার্টি। এটা তোমার অ্যাসাইনমেন্ট। এই মিশনটা সাকসেসফুল করতে পারলেই ‘কেয়স’-কে ধরার মেইন অপারেশনে তোমাকে আমাদের স্কোয়াডের অ্যাক্টিভ মেম্বার করা হবে। ডোন্ট মেস দিস আপ।”
স্ক্রিনের মেসেজটা দেখে ইনায়াত কয়েক সেকেন্ড পাথরের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের আকাশচুম্বী ইগোকে জোর করে পায়ে পিষে সে আবার রুমে প্রবেশ করে। সোজা এসে দাঁড়ায় আয়াজের ঠিক সামনে। কথাটা উচ্চারণ করতে গেলেও তার ফিজিক্যালি বমি পাচ্ছে এখন তবুও সে নিজের এক্সপ্রেশন একদম ফ্ল্যাট রেখে বলে, “আমি রাজি। আপনার শর্তেই রাজি। আমার ফ্রেন্ড অনেক অসুস্থ, তাই তার রিকোয়েস্ট আমি কোনোভাবেই ফেলতে পারছি না।”
সম্মতি পেয়ে আয়াজ হালকা নড়েচড়ে বসে। একটা প্রিডেটরি, ভিক্টোরিয়াস হাসি তার ঠোঁটে খেলে যায়। সে ধীরেসুস্থে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায়। নিজের সিগনেচার মেটাল ফ্রেমের চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রেখে সরাসরি ইনায়াতের চোখের দিকে তাকায়, “তাহলে আমিও যাব। কবে যেতে হবে?”
ইনায়াত অবজ্ঞায় আয়াজের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, “আগামীকাল।”

“ওকে! তাহলে ডিল ফাইনাল, রাইট?” আয়াজ যেন ব্যাপারটা একদম কনফার্ম করে নিতে চায়।
“হ্যাঁ।”
এই গোল্ডেন চান্সটা আর হাতছাড়া করে না আয়াজ। সে ভারী গলায় বলে ওঠে, “তাহলে এদিকে এসো। আমার পাওনা কিসগুলোর মধ্যে একটা আজই অ্যাডভান্স করে নিই।”
কথাটা শেষ হতে না হতেই আয়াজ এক পা এগিয়ে আসে। ইনায়াত কিছু বুঝে ওঠার আগেই আয়াজের শক্ত হাত তার ঘাড়ের কাছে চেপে বসে, এক ঝটকায় তাকে টেনে নেয় একেবারে নিজের বুকের সাথে। দুজনের মাঝে এক সুতোর ব্যবধানও নেই। ইনায়াত এতটুকুও প্যানিক না করে, আয়াজের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে একদম ঠান্ডা, আইসি গলায় বলে, “একজন কনকিউবাইন-এর মেয়েকে কিস করবেন, ইওর হাইনেস? আপনার রয়্যাল ক্লাস নষ্ট হয়ে যাবে না?”

ইনায়াতের এই শার্প, টক্সিক প্রশ্নে আয়াজ একটুও রিয়্যাক্ট করে না সে আর আজ পিছিয়ে যায় না। বরং ডেডলি গলায় সে জবাব দেয়, “ওসবের ধার আমি আপাতত ধারছি না, ডার্লিং।”
বলেই আয়াজ অবলীলায় ইনায়াতের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। এটা কোনো সাধারণ কিস নয়, এটা পিওর ডমিনেশন। ইনায়াত চোখ বোজে না, তীব্র ডিসগাস্টে রক্তবর্ণ চোখে সে আয়াজের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার পাকস্থলী মোচড় দিয়ে ওঠে, একটা দমবন্ধ করা, তীব্র বমিভাব গ্রাস করছে তাকে। কিন্তু আয়াজের সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। সে তো এই একটা কিসেই ইনায়াতের সমস্ত রেজিস্ট্যান্স গুঁড়িয়ে দিয়ে একশোবারের শোধ তুলে নিতে চাচ্ছে। একটা শ্বাসরুদ্ধকর, রাফ এবং ইনটক্সিকেটিং ছোঁয়ায় সে ইনায়াতকে নিজের বাহুর মাঝে শক্ত করে বন্দি করে রাখে। আয়াজ ইনায়াতের ঠোঁটের স্বাধ যেভাবে নেওয়া যায় ওভাবে নিতে থাকে। ইনায়াতের লিপে শুষে, নিজের ঠোঁটের মাতাল ছুয়ায় ভরিয়ে দেয়।

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১০

অবশেষে অক্সিজেনের অভাবে ইনায়াতের দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হলে আয়াজ তাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়া পাওয়া মাত্রই ইনায়াত এক ছুটে ওয়াশরুমে ঢোকে। বেসিনের কাছে পৌঁছাতেই সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, বমি করে দেয়। ওয়াক তুলতে তুলতে তার তো ভেতরের সবকিছু একসাথে বেরিয়ে আসার জোগাড় হয়।
আর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আয়াজ নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে আলতো করে নিজের নিচের ঠোঁট মুছে নেয়। তার চোখের দৃষ্টি ওয়াশরুমের হাফ-ওপেন দরজার দিকে ফিক্সড, আর ঠোঁটের কোণে ঝুলছে তার ডার্ক, স্যাডিস্টিক আর স্যাটিসফায়েড একটা স্মার্ক।

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here