Naar e Ishq part 36
তুরঙ্গনা
“ফা-ক দ্য ফা-কিং ফা-কার, বিফোর দ্য ফা-কিং ফা-কার ফা-কস্ ইউ, বেইবি!”
আধুনিক ইংরেজি ভাষার শব্দভাণ্ডারে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও দ্ব্যর্থবোধক একটি প্রবাদসম বাক্যাংশ এটি। কেকে চরম ঔদাসীন্য ও নির্লিপ্ততায় বাক্যটি উচ্চারণ করলেও, অবোধ রমণীর পক্ষে এ কথার নিহিতার্থ বুঝতে বিন্দুমাত্র বেগ পেতে হলো না। নিমিষেই একরাশ তীব্র লজ্জায় ও অস্বস্তিতে সে চোখ-মুখ খিঁচে চিৎকার করে উঠল,
—“ছিহ্! অসভ্য লোক কোথাকার! ছেড়ে দিন আমাকে, নয়তো আমি আপনাকে নিশ্চিত জানে মেরে ফেলব!”
—“উঁহু, ছাড়ব না। কী করবি তুই, শুনি?” কেকের স্বরে প্ররোচনার উৎকন্ঠা।
—“আমি… আমি আপনাকে…!”
সুহিনের কণ্ঠস্বর ক্ষণে ক্ষণে রুদ্ধ হতে লাগল। নিজের শরীরটাকে কেন এত নিস্তেজ ও অবশ মনে হচ্ছে, তা তার পরিমিত বোধশক্তির অতীত। সে অত্যন্ত দুর্বল ও কম্পিত কণ্ঠে আওড়াল,
“ছেড়ে দিন, আমি আর কখনো…”
কেকের শক্ত হাতখানা তখনো সুহিনের চিবুক ও সুকোমল গ্রীবার সংযোগস্থলে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো জেঁকে বসে ছিল। সুহিন নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলতে উদ্যত হওয়ামাত্রই কেকে হঠাৎ তার হাতের কৌশলে আঙুলগুলো সেই ফর্সা ত্বকের ওপর বিচিত্র ভঙ্গিতে স্লাইড করতে শুরু করল। সেই অতিপ্রাকৃত ও নিষিদ্ধ ছোঁয়ার অভিঘাতে ক্ষণে ক্ষণে সুহিনের সারা শরীর পুনরায় শিউরে উঠতে লাগল; নাসিকারন্ধ্র ও গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল এবং হৃৎস্পন্দনের গতি কোনো নিয়ম না মেনে ঝড়ের বেগে ছুটতে লাগল। এই মুহূর্তে সে যেন এক দক্ষ শিকারির হাতের নিছকই এক পুতুলমাত্র; যার সামান্যতম স্পর্শের সম্মোহনেই সে সম্পূর্ণ কুপোকাত হয়ে পড়ে।
রমণী নিজের অবাধ্য অনুভূতিকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে, অবশেষে কেকের লেদার জ্যাকেটের কাঁধের একাংশ দু-হাতে শক্ত করে চেপে ধরল। চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রুধারা নামিয়ে, বারংবার মাথা এপাশ-ওপাশ নাড়িয়ে সে কেবল অবরুদ্ধ স্বরে আওড়াতে লাগল,
“এটা ঠিক হচ্ছে না, এটা একদমই ঠিক হচ্ছে না।”
কেকে নির্লিপ্ত স্বরে জানতে চাইল,
“কেনো ঠিক হচ্ছে না? ইউ আর স্টিল মাই ওয়াইফ, এ্যান্ড আই’ম ইউর লিগ্যাল হাসবেন্ড। ডিভোর্স হতে আরও সাতদিন বাকি আছে। আমি যা ইচ্ছে তাই করতে পারব তোর সাথে; সেই অধিকার আছে আমার।”
সুহিন ফুপিয়ে কেঁদে ফেলল। সে বলার মতো কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। কেকে এক চিলতে তির্যক হেসে রমণীকে আশস্ত করতে বলল,
“স্টপ ক্রাইং, বেইবি! এতো ভয় পাওয়ার তো কিছু নেই। খুব বেশি কষ্ট দেবো না তোকে। নিজের উপর একটু হলেও নিয়ন্ত্রণ আছে আমার। আর নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই জন্মের পর হতে চৌত্রিশটা বছর কিংবা বিয়ের পর হতে দীর্ঘ এই বারোটা মাস আমি নিজেকে সামলে রেখেছিল। আই হোপ, ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড হোয়াট আই এ্যাম সেইং।”
—“কিন্তু…”
সুহিন কোনো প্রকার বাধা দেওয়ার সুযোগ পেল না। সে প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে নিজের ওষ্ঠদ্বয় উন্মুক্ত করতেই, কেকের সেই অবাধ্য বৃদ্ধাঙ্গুলি স্লাইড করতে করতে তার ঠোঁটের কোণ গলে মুখের অভ্যন্তরে প্রবেশ করল এবং অত্যন্ত সুনিপুণভাবে রমণীর জিভের একপাশ স্পর্শ করল।
মুহূর্তের মধ্যে সুহিন এক চরম বিভ্রান্তির অতল গহ্বরে তলিয়ে গেল; তার কণ্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ হয়ে এল। এ কেমন উন্মাদনা? এ কেমন সর্বনাশা অনুভূতি? সে কোন কৃষ্ণগহ্বরের দিকে ধাবিত হচ্ছে, কেন চারপাশের এই চেনা জগৎ এত এলোমেলো আর রুদ্ধশ্বাস ঠেকছে?—কোনো প্রশ্নেরই সুনির্দিষ্ট উত্তর তার জানা ছিল না।
মুখের অভ্যন্তরে কেকের আঙুলের সূক্ষ্ম নড়াচড়ায় রমণী সম্পূর্ণ দিশেহারা ও মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ল। নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার অক্ষিপক্ষুট পুনরায় অবশ হয়ে বুজে এল। কেকের কাঁধের ওপর নিজের হাতের মুঠো আরও কিছুটা দৃঢ় করে, সে আবেশে ও সুবোধযন্ত্রণায় মাথাটা পেছনের দিকে খানিকটা হেলিয়ে দিল।
হাত-পা ক্রমশই অবশ হয়ে আসায় সে বারংবার ক্ষীণস্বরে বিড়বিড় করতে লাগল,
“এটা ঠিক হচ্ছে না…এটা একদমই ঠিক হচ্ছে না।”
কিন্তু কে শোনে কার কথা! কেকে যেন রমণীর নাজুক অনুভূতি নিয়েই এক নির্মম খেলায় মেতে উঠেছে। শুরুতে সুহিনের চশমাটা খুলে পাশে ছুঁড়ে ফেলল। অতঃপর কেকে হাতের চাতুর্যের পাশাপাশি নিজের মুখটাও আবার সুহিনের গলার সুকোমল ভাঁজে ডুবিয়ে দিল। রমণীর কন্ঠনালীর ফর্সা ত্বকে নিজের নাকের ডগা কিংবা রুক্ষ ওষ্ঠাধরের স্পর্শ দেওয়ার পাশাপাশি, সামান্য খোঁচা খোঁচা দাড়িযুক্ত গালটা অবাধ্যভাবে ঘষে দিতে লাগল। সুহিন আর কোনোভাবেই নিজেকে সামলাতে পারল না। বক্ষদেশ ওষ্ঠদ্বয় ছোঁয়াতেই নাজুক রমণীর সম্পূর্ণ রূপে পেছনের দিকে হেলে পড়ল। একইসাথে ছড়িয়ে পড়ল তার বাদামী কেশরাশি। অনুভূতির তীব্র আবেশ আর যন্ত্রণার সংমিশ্রণে তার চোখের কোণ হতে অনবরত অশ্রুজল গড়িয়ে পড়তে লাগল। সে চোখ-মুখ খিঁচে আকুলতায় ফুঁপিয়ে বলে উঠল,
“প্লিজ, থামুন।”
কিন্তু কেকে থামল না। সে ক্ষণিকের জন্য মুখ তুলে নিলেও তার উগ্র আসক্তি বিন্দুমাত্র কমল না। সে রমণীর কোমল ত্বকে একের পর এক ওষ্ঠের স্পর্শ ছুঁইয়ে, কানের কাছে ফিসফিস করে ডাকতে শুরু করল,
“হেই চশমিশ!”
“ব্লু-বেরি!”
“হানি!”
“বেইবি!”
“ওয়াইফি!”
“জান!”
“এ্যাই জান!”
“অবাধ্য জান আমার!”
“জানবাচ্ছা আমার!”
“মাই লিটিল হ্যামস্টার!”
“মাই পুসিক্যাট!”
“মাই পার্সিয়ান!”
“গাধা!”
“আমার প্রিয় গাধা!”
“আমার শ্রেষ্ঠ গাধা!”
শেষভাগে কেকে কি বলল তা সুহিনের হুশে নেই। প্রতিটি সম্মধোন ও নিষিদ্ধ ছোঁয়ায় সুহিন কেবল কেঁপে কেঁপে উঠছে। তার সকল বাকশক্তি যেন হারিয়েছে। পাগলপ্রায় হয়েছে বেশ অনেকক্ষণ আগেই। কিন্তু কেকে-র মাথায় চলছে ভিন্ন ভাবনার মন্ত্র।
কেকের নেশাতুর দৃষ্টিতে রমণীর ফর্সা গলা হতে সুডৌল বক্ষঃস্থল জ্বলজ্বল করে উঠল। সেথায় নিজের একচ্ছত্র অধিকারের দংশন এঁকে দেওয়ার তীব্র এক বন্য আকাঙ্ক্ষা জেগে উঠল তার সুপ্ত পৌরুষে। বিশেষত রমণীর কলার-বোন দুটো—কি আনন্দ পায় তা বোঝা মুশকিল, কিন্তু সেথায় দংশন করা ব্যতীত সে নিজেকে স্থির করতে পারে না।
সে সুহিনকে আর অতিরিক্ত ভাবনার বিন্দুমাত্র সুযোগ দিল না। আচমকা এক হিংস্র নেকড়ের মতো হামলা করে বসল রমণীর কলার বোনে; গলার সুকোমল ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে দিয়ে নিজের তীক্ষ্ণ দন্তপাটি দাবিয়ে দিল তার দুগ্ধশুভ্র নরম ত্বকে। সুহিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র এক অসহায়ত্বের সাথে চোখ-মুখ খিঁচে আর্তনাদ করে উঠল, “আহ্!”
কেকে ধীরলয়ে মুখ তুলল। সুহিন অশ্রুসজল চোখ মেলে কাঁপা কাঁপা ঝাপ্সা দৃষ্টিতে কেকের মুখপানে তাকাল। সেই সুপুরুষের ওষ্ঠকোণে এক পৈশাচিক, বিজয়ের হাসির রেখা দেখতে পেয়ে সে স্তম্ভিত হয়ে গেল। অতঃপর মন্থর গতিতে মুখ নামিয়ে নিজের বাম পাশের কলার বোনের দিকে তাকাতেই তার সারা শরীর এক লহমায় শিউরে উঠল। ভেজা নীলাভ চোখ দুটো দিয়ে সে স্পষ্ট দেখতে পেল সেই নৃশংস দংশনের গভীর ক্ষতচিহ্ন; রক্তবিন্দু উপচে পড়ছে সেথা থেকে; দাঁতের গভীর ছাপ যেন সমস্ত মাংসপেশি দাবিয়ে এক স্থায়ী স্মারক রেখে গিয়েছে।
—“ড্যাম… হোয়াট আ ফা কিং মাস্টারপিস স্ট্যাম্প!”
সুহিন বিস্ময়ে হতভম্ব। অথচ কেকের চোখেমুখে নিজের কাজের প্রতি মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। সে রক্ত মিশ্রিত সৃষ্ট ক্ষত’র দিকে একনাগাড়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। পরক্ষণেই সুহিনের মতামত জানতে, অত্যন্ত নির্লিপ্তে অকপটে শুধালো,
—“ডু ইউ লাইক মাই আর্ট?”, কেকের কণ্ঠে কিঞ্চিৎ তাচ্ছিল্যের উপহাস।
সুহিন তার এই আকস্মিক প্রশ্নে আর কোনো ভাষা খুঁজে পেল না। কেকে তার মুখের আরও কাছাকাছি নিজের মুখটা এগিয়ে এনে, তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলে ফিসফিস করে, ভগ্ন, মাদকতাভরা তীক্ষ্ণ স্বরে বলল,
—“ইউ নো হোয়াট, ওয়াইফি? আই’ম আ… ঠু গুড আর্টিস্ট!”
তার কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে সুহিনের বাকি রইল না। সে বুকের ভেতর জমাট বাঁধা কান্না চেপে, অত্যন্ত কম্পিত কণ্ঠে শুধাল,
—“কেন করছেন এসব? আপনিই তো বলেছিলেন আমাকে ডিভোর্স দেবেন? তাহলে কেন এই নোংরা, কদর্য তামাশা, হ্যাঁ?”
সুহিনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কেকের এই পাগলামি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। একটু আগেই যে ব্যক্তিটা তাকে বলল, আর সাতটাদিন পর তাদের অফিশিয়ালি ডিভোর্স হতে চলেছে—সে নিজে সবকিছুর ব্যবস্তা করে ফেলেছে, সেই ব্যক্তিই এখন এইসব পাগলামি করছে? কিন্তু কেনো?
অথচ সুহিনের এসকল ভাবনা ছাপিয়ে, তাকে সম্পূর্ণরূপে হতবিহ্বল ও স্তব্ধ করে দিতে কেকে অত্যন্ত অকপটে এবং নির্লজ্জের মতো বলে উঠল,
—–“হ্যাঁ, বলেছিলাম ডিভোর্স দেবো। কিন্তু এখন বাসর করার মুড এসেছে। এমনিতেও দেখতে দেখতে বিয়ের প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও, বাসর-টাসর এখন অব্দি করা হয়নি। না করলে আবার কেকে-র বদনাম হয়ে যাবে। কি আর করব বল?…তুই প্রস্তুত থাকলে আমরা কিন্তু শুরু করতে পারি।”
সুহিনের ওষ্ঠদ্বয় উন্মুক্ত হলো। মাথা শূন্য শূন্য ঠেকছে তার। এসব কি শুনছে সে? ভ্রম না সত্যি? সত্যি যদি হয়েও থাকে, তবে এই বান্দাকে খোদা ঠিক কি দিয়ে বানিয়েছে, তা সুহিন শতবার ভেবেও বুঝে উঠতে পারছে না।
সে বিস্ময়ের সকল সীমা পেরিয়ে কাঁপা কাঁপা ক্ষিপ্ত গলায় বলল,
“এসব…এসব কি…কি বলছেন? আ…আপনি… আপনি একটা অমানুষ…”
সুহিন জোর গলায় চেঁচিয়ে উঠল। তার কথা শুনে কেকে তাচ্ছিল্যের সহিত ক্ষীণ হাসল। বলল,
—“এ আর নতুন কি? আমি যে অমানুষ, তা তো পুরো দুনিয়া জানে!”
—“আমি কিছু জানিনা, আমায় ছেড়ে দিন। আমি বাড়ি যাবো। আর কক্ষনো আপনার আশেপাশে ঘেঁষব না। আরহাম ভাই ঠিকই বলেছিল, আপনি মানুষটা সুবিধার না। অথচ আমি তার কথা না শুনেই চলে এসেছি। আগে জানলে কক্ষণো আসতাম না।”
সুহিন বলতে বলতেই অসহায়ত্বের সাথে কেঁদে ফেলল। সাতদিন পর ডিভোর্স দিবে, অথচ আজ তাকে ডেকে এনে কিসব করতে চাচ্ছে। কতটা অমানুষ হলে মানুষ নিজের মধ্যে এমন চিন্তাভাবনা রাখে, তা সুহিনের বোধগম্য নয়।
এদিকে রমণীর এহেন কথাবার্তা শুনে, কেকের চোয়াল এক নিমিষেই দৃঢ় হলো। মেজাজ খারাপ করতে কথার মাঝে জুড়ে দিয়েছে আরেক নালায়েক এর নাম—‘আরহাম ভাই’ কেনো যেন গত একটা বছর ধরে এই নামটাকে কেকে’র না চাইতেও সহ্য করতে হচ্ছে!
কেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সংবরন করতে ব্যর্থ হলো। রমণীর লতানো, নমনীয় কোমরখানা নিজের শক্ত-পেশিবহুল হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে, এক হেঁচকা টানে নিজের তপ্ত শরীরের সাথে মিশিয়ে নিল সে। সুহিন সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় হুমড়ি খেয়ে আবার তার সেই প্রশস্ত, ইস্পাতকঠিন বক্ষের ওপর আছড়ে পড়ল। এবার রমণীর অন্তরের ভয়ের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে গেল। সুহিন কান্না থামাতে নিজের ওষ্ঠদ্বয় দাঁত দিয়ে চেপে ধরে অবরুদ্ধ গলায় আওড়াল,
”কেন… কেন করছেন এইসব? ছেড়ে দিন না আমায়! আমি জানি না আপনার কী ক্ষতি করেছি, কিন্তু আপনার এই সর্বনাশা পাগলামি আমাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে।”
সুহিন একটু থেমে আবারও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল,
“আপনি কি চান আমি মরে যাই? আমার সুনিশ্চিত মৃত্যু না দেখা পর্যন্ত আপনার এই নিষ্ঠুর আত্মা শান্ত হবে না, তাই না?”
কেকে নির্লিপ্ত ভাবমূর্তি নিয়ে অকপটে বলল,
“মরতে চাস? চল একসাথে মরে যাই আজ। তুই আমায় মারবি আর আমি তোকে। কোনো বাঁধা থাকবে না আর। দুজনের দুজনের মাঝে বিলীন হবো, দুজন দুজনের মাঝে ধ্বংস হয়ে যাবো—রাজি?”
—“বন্ধ করুন এসব বাজে বকা। আপনার কোনো কথা শুনতে চাইনা আমি।”
সুহিন হাঁপিয়ে উঠেছে। তবুও নিজের সমস্ত শক্তি এক করে বলিষ্ঠ পুরুষের ইস্পাত কঠিন বুকে দু’হাতে সজোরে ধাক্কা মে’রে বলল,
“সত্যি বলবো? ঘৃণা করি আপনাকে। প্রচন্ড ঘৃণা করি।”
—“বাট, আই লাভ ইয়োর হেট্রেড, বেইবি…!তোর এই ঘৃণাটুকুই তোকে আমার আরও কাছে টেনে আনে।”
আবারও সুপুরুষের নির্লিপ্ত অভিব্যক্তি। কেকের কার্যকলাপ সুহিনের সহ্যসীমার বাহিরে চলে গিয়েছে। তার শূন্য মাথায় কোনো কূলকিনারাই মিলছে না।রমণী নিজের সমস্ত ক্ষোভ একত্রিত করে বলল,
—“অসভ্য, অমানুষ, জানোয়ার আপনি একটা!”
—“আই নো দ্যাট, নতুন কিছু বলার হলে বলতে পারিস।”
সুহিন এই পর্যায়ে চরম দুঃসাহস দেখিয়ে ফেলল। তার হাত দুটো মুক্তই ছিল। যথারীতি মনের সমস্ত আক্রোশ আর শক্তি সঞ্চয় করে সে কেকের গালে আচমকা সজোরে এক ঘুষি মেরে বসল; অকস্মাৎ সেই আকস্মিক আঘাতে কেকের মুখটা খানিক পাশে ঘুরে গেল।
ততক্ষণে ক্ষিপ্ত সেই রমণী চেঁচিয়ে বলে উঠল,
—“রাক্ষস চিনেন? রাক্ষস আপনি। ইউ আর অ্যা মনস্টার!”
সুহিনের নীলাভ চোখ দুটো আক্রোশে দাউদাউ করে জ্বলছে যেন। সে রাগে হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে ফুঁসছে। অন্যদিকে সামান্য এক রমণীর হাতের ঘুষিতে কেকে খুব বেশি আঘাতপ্রাপ্ত না হলেও, চোট তো কিছুটা লেগেছেই। অথচ সে কোনো প্রকার ক্ষোভ বা হিং স্র প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিদ্রুপাত্মক, তির্যক হাসি ফুটিয়ে তুলল। এরপর অত্যন্ত ধীরস্থিরে সুহিনের দিকে মুখটা ফিরিয়ে, নিজের সেই নিকষ কালো চোখ দুটো রমণীর নীলাভ চোখের মণিকোঠায় আবদ্ধ করে ফিসফিসিয়ে আওড়াল,
—“আই নো, মাই পুসিক্যাট!”
আচমকা তার হিমশীতল কন্ঠস্বরে ছুঁড়ে দেওয়া অদ্ভুত সেই কথার ভঙ্গিতে সুহিন আচমকা থমকে গেল। হুঁশ ফিরতেই দেখল সে এক বন্য শিকারি উপর চড়ে বসে তাকেই আঘাত করেছে। এখন যদি কেকেও তাকে ঠিক একইভাবে একটা ঘুষি মেরে বসে, তখন সে কি করবে? এক ঘুষিতেই তো ভবলীলাসাঙ্গ।
মনের মধ্যে হঠাৎ মা’র খাবার ভয় ঢুকলেও, সুহিন তা প্রকাশ করতে নারাজ। তবে তার চুপসে যাওয়া মুখটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, সে ক্রমশই ভয়ে সিঁটিয়ে যাচ্ছে। এরিমধ্যে শান্ত কেকেও যেন নিজের হিংস্র রূপে ফিরে এলো। সুহিনকে কিছু করার সুযোগ না দিয়েই, সে আচমকা রমণীর চিবুক নিজের শক্ত দুই আঙুলের চাপে উঁচিয়ে ধরল। মুখটা সুহিনের ঠোঁটের কাছে নামিয়ে এনে, দৃঢ় গলায় হিসহিসিয়ে বলল,
—“আই নো, আই অ্যাম আ মনস্টার। অ্যান্ড দিস মনস্টার ইজ ফা কিং হাংরি ফর ইউ, বেইবি!”
সুহিন তার গালের ওপর জেঁকে বসা অমানুষিক চাপে ব্যথায় সিঁটিয়ে গেল। কেকে খানিকক্ষণ সময় অবর্ণনীয় এক তীব্রতা নিয়ে তাকে ওভাবেই পরখ করল; অতঃপর হুট করেই গাল থেকে নিজের আঙুলের বাঁধন আলগা করে দিল। সিটে শরীরটা এলিয়ে দিয়ে, নিরেট নির্লিপ্ততা নিয়ে গুরুগম্ভীর কন্ঠে আওড়াল,
”আজ বাসর সারব, সাতদিন পর ডিভোর্সও দেবো। কী করবি কর!”
সুহিন বিস্ময়ে সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ ও হতভম্ব হয়ে গেল। তার চোখের কোণ হতে অকস্মাৎ বাঁধভাঙা শ্রাবণের মতো অঝোরে জল ঝরতে লাগল। হঠাৎ তার কান্নার এই তীব্রতায় কেকের সূক্ষ্ম ভ্রুযুগল কুঁচকে গেলেও, সে নিজের বাহ্যিক অবয়বকে সম্পূর্ণ স্থির রাখল। ততক্ষণে সুহিন কোনোমতে নিজের অবশ সত্তাকে সামলে নিয়ে রুদ্ধশ্বাসে বলতে লাগল,
”খোদা সইবেন না এসব, উনি ওপর থেকে সব দেখছেন। ধ্বংস হয়ে যাবেন আপনি!”
কেকে এক অবহেলাভরে চুইংগাম চিবোনোর ভঙ্গিতে, নিজের সেই চিরাচরিত ঔদাসীন্য প্রকাশ করে আওড়াল,
“ধ্বংস তো আমি সেই কবেই হয়েছি—আর নতুন করে কী ধ্বংস হওয়া বাকি আছে আমার?”
সুহিনের আর নতুন কোনো যুক্তি বা প্রতিবাদের ভাষা জানা ছিল না। সে অবিরত কেঁদে চলল, আর কেকে এক অদ্ভুত নিস্পৃহতায় তার সেই ক্রন্দনরত রূপ অবলোকন করতে লাগল। নিজের সমস্ত অসহায়ত্বের শেষ সীমানা পেরিয়ে, সুহিন কাঁপতে থাকা গলায় ফোঁপাতে ফোপাঁতে বলতে লাগল,
”যদি… যদি আজ আপনি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে কিছু করে ফেলেন, তবে খোদার কসম খেয়ে বলছি… কাল… কাল সকালেই আপনি আমার মরা মুখ দেখবেন। আমি একটুও মিথ্যে বলছি না, সত্যি সত্যি নিজেকে শেষ করে দেব। আপনি আমার ধ্বংসই তো চেয়েছেন, তাই না? তবে তা-ই হোক!”
সুহিনের কণ্ঠস্বর অনবরত কাঁপছিল, সে ক্ষণে ক্ষণে তীব্র অভিমানে ফুঁপিয়ে উঠছিল। এদিকে সুহিনের এই চরম আত্মহননের বাণী শুনে কেকের সেই জমাট বাঁধা নির্লিপ্ততাতেও যেন খানিকটা ফাটল ধরল। রমণীর কথার ভেতরের যে জ্বলজ্বলে সত্য ও তীব্রতা, তা বুঝতে তার তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের বাকি রইল না। যথারীতি মাথা নিচু করে ফোঁপাতে থাকা এই ক্রন্দনরত নারীর মুখপানে চেয়ে থাকতে থাকতেই কেকের চোখের চেনা জ্যোতি যেন এক নিমেষে ম্লান হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ সেই নিস্তব্ধতায় স্থির থাকার পর, কেকে অত্যন্ত গম্ভীর গলায়, নিরেট শূন্য কণ্ঠে বলল,
”আজ যদি আমায় এই অবস্থায় রেখে চলে যাস, তবে আর কখনো ফিরে পাবি না আমায়। চিরতরে হারিয়ে ফেলবি…”
সুহিন আচমকা নিজের কান্না থামাল। কেকের এই হেঁয়ালিপূর্ণ কথার গূঢ় অর্থটা সে বোঝার চেষ্টা করল। কেকে পুনরায় কিছু বলার অবকাশ পাওয়ার আগেই, সুহিন এক অবাধ্য আক্রোশে সেই সুপুরুষের লেদার জ্যাকেটের কলার দু-হাতে খামচে ধরে নিজের মুঠোর ভরে নিল।
নাজুক হতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠা সুহিন এবার, নিজে থেকেই কেকের শরীরের দিকে খানিকটা ঝুঁকে পড়ল; অশ্রুসজল চোখে হিসহিসিয়ে উঠল,
“কি চান আপনি হ্যাঁ? প্রতিবার আপনি আমায় একা ফেলে চলে গিয়েছেন আর আজ বলছেন…! আমি তো নিজের ভুল শুধরে নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু আপনি আমায় সেই সুযোগটাই বা দিলেন কোথায়? আপনি আজও তাই আছেন যা আপনি পূর্বে ছিলেন—একটা অমানুষ, জানোয়ার, শয়তান!”
কেকে নিজের চরম অপমানেও বিন্দুমাত্র ক্ষিপ্ত হলো না। বরং বা হাতের সুদৃঢ় বেষ্টনীতে সুহিনের নমনীয় কোমরটা আরেকটু শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে নিজের তপ্ত বক্ষের সাথে মিশিয়ে নিল। তার ডান হাতখানা বাড়িয়ে রমণীর কান্নাভেজা ফর্সা গালটা আদুরে ভঙ্গিতে স্পর্শ করল; অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে তার গাল হতে সুকোমল গ্রীবা অব্দি আলতো করে স্লাইড করতে লাগল। সুহিন তার এই স্পর্শের মায়ায় ক্ষণে ক্ষণে শিউরে উঠলেও, তার মস্তিষ্কটা ক্রমশই শূন্য ও অসাড় হয়ে পড়তে লাগল। সে কেকের রুক্ষ ও কঠোর রূপের সাথে অভ্যস্ত হলেও, তার এই মোহাবিষ্ট নরম ছোঁয়ার কাছে প্রতিবারই সব ভুলে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে।
সুহিন শুষ্ক ঢোক গিলে নিজের ভেতরের অবাধ্য অনুভূতিকে দমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করল। কেকে-কে এই নিষিদ্ধ আসক্তি থেকে থামানোর শেষ প্রয়াসে বলল,
“এখনোও সময় আছে, আমার জীবনটা আর নষ্ট করবেন না। আমি চিরতরে আপনার পুরো জগৎ ছেড়ে চলে যাবো। এমন কোথাও যেখানে আপনি আর কোনোদিন আমার দেখা পাবেন না; আপনার আর বিরক্ত হওয়ার মতো কোনো কারণও থাকবে না।”
সুহিন আবারও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। কেকে তার ভেতরের সমস্ত আকুলতা গভীরভাবে পরখ করল। ভারী ও তপ্ত শ্বাস ত্যাগ করে সে রমণীর মাথাটা আরেকটু নিজের মুখের কাছে টেনে নিল। অত্যন্ত নিরেট কন্ঠে আর্দ্র স্বরে সুধাল,
”নিজেকে এত তুচ্ছ্য ভাবিস কেন, বলতো?”
সুহিন কোনোমতে নিজের চোখের জল থামিয়ে কেকের গভীর কৃষ্ণগহ্বরের মতো দৃষ্টির সাথে দৃষ্টি মেলাল। কেকে আবারও তার সহজাত ভগ্নকণ্ঠে আওড়াল,
”ইউ আর ঠু স্পেশাল, ওয়াইফি!… ইউ আর ঠু স্পেশাল ফর মি।”
সুহিন সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে কিছু বলতে যাবে, ঠিক তার আগেই কেকে আচমকা এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটিয়ে বসল। রমণীকে সম্পূর্ণরূপে অপ্রস্তুত ও অবশ করে দিয়ে, সে সুহিনের গাল ও গ্রীবা নিজের শক্ত হাতের মুঠোয় আঁকড়ে ধরল; অতঃপর রমণীর কাঁপতে থাকা ওষ্ঠাধরে নিজের রুক্ষ, তৃষ্ণার্ত ঠোঁটখানা সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সহিত মিলিয়ে দিল।
সুহিনের নীলাভ অক্ষিদ্বয় এক নিমিষেই বিস্ময়ে বিস্ফোরিত হলো, কিন্তু কেকে থামল না। এক দীর্ঘ, বন্য এবং মাদকতাভরা সেই চুম্বন; কেকে বন্য ও উন্মাদের মতো উত্তাল হয়ে উঠলেও সুহিনের ওপর অতিরিক্ত কোনো শারীরিক জোর প্রয়োগ করল না। অত্যন্ত কোমলতা ও বন্যতাকে একত্রে একাকার করে সে এক নিমিষেই রমণীকে নিজের মোহাচ্ছন্ন জালে আবদ্ধ করে ফেলল
সহসাই প্রকৃতির নিয়ম মেনেই যা হওয়ার ছিল, তা-ই ঘটল। ধীরে ধীরে সুহিনের চোখের পাতা দুটো অবশ হয়ে বুজে এল। ক্রমশই সুহিনের অবাধ্য হাত দুটো কেকের চওড়া কাঁধ ও ঘাড় জড়িয়ে ধরল। রমণীর চোখের নোনা জল কেকের গাল ও কপালে লেপ্টে একাকার হয়ে গেল। একই সাথে দীর্ঘ এই ক্ষণস্থায়ী মুহূর্তে সুহিনের দম ফুরিয়ে আসার উপক্রম হলো, কিন্তু কেকের তৃষ্ণার্ত ওষ্ঠাধর ছাড়ার কোনো নামগন্ধই নেই। কেকে যত বেশি উন্মাদের মতো মত্ত হচ্ছে, সুহিন অবচেতনভাবেই নিজের হাত দুটো দিয়ে তাকে ততটাই শক্ত বাঁধনে জড়িয়ে ধরছে।
বেশ কিছুটা সময় পর, কেকে ধীরলয়ে রমণীর ওষ্ঠপুটের ওপর থেকে নিজের ঠোঁট সরিয়ে নিল; কিন্তু তার সেই আসক্তি ফুরাল না। সে নিজের মুখটা রমণীর ফর্সা গ্রীবার ভাঁজ হতে ক্রমশই নিচের দিকে ধাবিত করল; সুহিন নিজের শরীর সম্পূর্ণরূপে পেছনের দিকে হেলিয়ে দিল। বন্য উন্মাদের মতো অসংখ্য তপ্ত চুম্বনে ভরিয়ে দিতে লাগল রমণীর দুগ্ধশুভ্র নরম ত্বক। কিছুক্ষণ আগে নিজের দন্তপাটি দিয়ে তৈরি করা রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্নে ওষ্ঠ ছোঁয়াতেও সে ভুলল না।
সুহিনের হাত-পা সম্পূর্ণ অবশ ও নিস্তেজ হয়ে এলেও, এই তীব্র আবর্তের মাঝে তার আর কিছুই করার ছিল না। এই উত্তাল, সর্বনাশা অনুভূতি এখন আর তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই; সে ক্রমশই পাগল হয়ে যাচ্ছে, আর এক তীব্র সুখকর যন্ত্রণায় ছটফট করতে লাগছে।
একটা সময় পর সুহিন পুরোদমে হাঁপিয়ে উঠেছে বোঝামাত্রই কেকে তার বন্যতায় কিছুটা কোমলতা এনে নতুন এক ফন্দি আঁটল। রমণীকে তীব্র অনুভূতির জোয়ারে উত্তাল করার মাঝেই সে আচমকা সুহিনের অবশ হাতখানা টেনে নিল; অতঃপর অত্যন্ত সুকৌশলে তা নিজের দেহের এক নিষিদ্ধ ও কামোত্তপ্ত উপত্যকায় স্পর্শ করাল।
তৎক্ষণাৎ সুহিন তার আধো-বোঁজা চোখ দুটো মেলে এক বিস্ফোরিত, কণ্টকিত দৃষ্টিতে কেকের দিকে তাকাল। সে চরম বিস্ময় ও লজ্জায় স্তব্ধ হয়ে গেলেও কেকে সম্পূর্ণ নির্বিকার, যেন অতি সাধারণ কোনো ঘটনা ঘটেছে। রুদ্ধশ্বাস অবস্থায় রমণী তীব্র কৌতুহল আর আতঙ্ক মেশানো বিস্ফোরিত দৃষ্টি নিয়ে মাথাটা নুইয়ে নিজের হাতের স্পর্শের দিকে তাকাতেই, তার ওষ্ঠদ্বয় সীমাহীন বিস্ময়ে উন্মুক্ত হয়ে গেল।
সে দ্রুত আবারও মাথা তুলে কেকের দিকে তাকাতেই, কেকে তার মুখটা এভাবে হা হয়ে থাকতে দেখে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিদ্রুপাত্মক, তির্যক হাসি ফুটিয়ে তুলল। পরক্ষণেই অত্যন্ত নিস্পৃহ ভাবমূর্তি বজায় রেখে সিটে গা এলিয়ে দিল। অতঃপর নিজের বা ভ্রু জোড়া সামান্য উঁচিয়ে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,
”এভাবে হা করে আছিস কেন? ছুঁতে দিয়েছি বলে খেতেও চাচ্ছিস?… স্ট্রেঞ্জ!”
সুহিনের মনের সমস্ত অনুভূতি যেন এক নিমেষে শূন্যের কোঠায় নেমে এল। তীব্র লোকলজ্জা আর বিস্ময়ে তার চোখ-মুখ নীল হয়ে যাওয়ার দশা হলো। ততক্ষণে কেকে অবাধ্যতার চরম সীমায় পৌঁছে আরও বিশেষ কিছু করে বসেছে। সুহিন সম্পূর্ণ বিমূঢ়ের মতো ড্যাবড্যাব করে আবারও নিজের নজরটা নিচের দিকে নামাতেই, তার চেনা জগতের পুরো চাকাটাই যেন ওলটপালট হয়ে গেল।
ফেরারির নিকষ আঁধারেও জ্বলজ্বল করছে এক দুর্লভ, প্রকাণ্ড পুরুষালি অস্তিত্ব—যা প্রত্যক্ষ করা মাত্রই সুহিনের চোখ, মুখ আর শুকিয়ে যাওয়া গলা এক লহমায় যেন মরুভূমির ন্যায় চৌচির হয়ে গেল।
সুহিন নিজের সমস্ত শক্তি এক করে কাঁপতে থাকা গলায় চিৎকার করে উঠল,
”ছিহ্! এটা কী?”
Naar e Ishq part 35
কেকে রমণীর এই চরম দিশেহারা রূপ দেখে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা হাসি ধরে রাখল। অতঃপর অত্যন্ত নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে, নিজের সুপ্ত পুরুষত্ব আর আভিজাত্যের তীব্র আত্মগর্ব মিশিয়ে নিরেট কন্ঠে বলল,
”উচ্চবংশীয় মোমবাত্তি!”
সুহিন দাঁতমুখ খিঁচিয়ে চিৎকার করে উঠল,
‘আস্তাগফিরুল্লাহ! জাহান্নামী! জাহান্নামী! জাহান্নামী
