রাগে অনুরাগে পর্ব ১
সুহাসিনি ফাতেহা
‘ক্লাসে বসেই ফেক আইডি থেকে কলেজের টিচার কে মেসেজ দিলো তিতলি — হেই আমি কি আপনার টুনাটুনিদের মা হতে পারি? মেসেজ টা লিখে সেন্ড করে দিলো তিতলি। পাশ থেকে নিধি চিন্তিত গলায় বলল,
”দোস্ত যদি কোনো ভাবে ধরা পরে যাস! তোর আর রক্ষা নেই রে। সেদিন দেখলি না সেকেন্ড ইয়ারের মেয়েটাকে কিভাবে থাপ্পড় দিলো। বাব্বাহ আমার ভাবলেই গা কাঁটা দিয়ে আসে। তোর জন্য আমার ভয় হয় রে তিতলি। ”
তিতলি কথাটা হেসে উরিয়ে দিলো যেন। বলল,
”আরে দূর! ধরা পরবো কিভাবে? আর ধরা পরলে ও বা কি হবে? যত্তসব স্যারদের এত্ত এটিটিউড হলে চলে? ”
”যতই হোক এভাবে যে নাচতে নাচতে মেসেজ দিচ্ছিস পরে যেন এর জন্য তোকে প্রস্তাতে না হয়। আমি বাবা এসবে নাই তোকে আগে থেকেই সাবধান করে দিলাম।”
”আমি ভয় পায় নাকি ওই লোককে ?” আমি জাস্ট বুঝাতে চাচ্ছি যে টিচারদের এত্ত এটিটিউড হলে চলে না তাদের মন হতে হবে মোমের মতো নরম কথায় কথায় স্টুডেন্টদের কর্কাশের মতো ধমক দিলে অকালে সামনের দাঁত পরে যাবে ওটাই।”
”তুই আজকে এক সাপ্তাহ ধরে স্যার কে মেসেজ দিচ্ছিস! স্যার তো একটা রিপ্লাই ও দিচ্ছে না। আমার তো মনে হয় না আর দিবে? ”
হতাশ গলায় বলল নিধি—- তিতলি ও মুখ বেঁকিয়ে বলল,
” দিলেই কি আর না দিলেই কি? ” কথাটা শেষ হতেই আচমকা তিতলির কোলের উপর থাকা ফোনে টুং করে মেসেজের শব্দ আসলো। তিতলি ফোনের দিকে তাকালো; নিধি ও তাকালো। ওরা যা ভাবছে; সে কি? ফোনের স্ক্রিনে নামটুকুর পাশে,
‘ফারাজ খান ” লেখা দেখে গা শিউরেই উঠলো তিতলির। লাফিয়ে লাফিয়ে বলতে থাকে,
— নিধির বাচ্চা, ফারাজ. . খান। দেখ তোর কথা টা সত্যি হলো না।
—— লাফালাফি বন্ধ করে কি লেখেছে দেখ তিতলি। আমার তো মনে হয় তোকে লাস্ট ওয়ার্নিং দিয়েছে….
মেসেন্জারে ডুকতেই দেখা মিললো সে অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজের….
”তা আপনি কয়টা বাচ্চা নিতে পারবেন ম্যাডাম! আমার তো আবার কম দিয়ে পোষাবে না। আফটার অল দশ– বিশ টা বাচ্চা নেওয়ার কথা ভেবেছি এতবার আমাকে সামলাতে পারবেন তো?”
কলেজের টিচার ফারাজ খান নাকি এমন মেসেজ দিয়েছে ভাবা যায়? তিতলি চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে বারবার সে মেসেজ পড়লো। বুঝতে যেন কয়েক মিনিট সময় লেগে গেলো। এখনো যেন বিশ্বাস হচ্ছে না।
”নিধি এটা কি সত্যি? আমাকে একটা চিমটি কাট তো! আমি স্বপ্ন ট্বপ্ন দেখছি না তো? ”
ওদিকে ক্লাসে স্যার চলে এসেছে। নিধির আপাতত এদিকে মনেযোগ নেই। সব স্টুডেন্ট দাড়িয়ে সালাম দিলো ফারাজ খানকে…
”আসসালামু আলাইকুম স্যার। ”
”ওয়ালাইকুম আসসালাম।”
ফারাজের চোখ সবার ভীরে বসে বসে ফোনে ডুবে থাকা মেয়েটার দিকে গেলো। কি বেয়াদব মেয়ে! ক্লাসে স্যার এসেছে কোথায় দাড়িয়ে সালাম দিবে তা না মেয়ে ফোনে ডুবে আছে। ফারাজ বিরক্ত হলো। ভ্রু যুগল কুচকে বড় কদম ফেলে সেদিকে এগিয়ে গেলো,
তিতলির থেকে একপ্রকার ফোনটা ছো মেরে কেড়ে নিলো। শাসানো গলায় বলল,
”ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে ফোনের ভেতরে এভাবে ডুবে থেকে নিশ্চয় আপনার জ্ঞান বাড়ছে না মিস তিতলি ?”
হঠাৎ আক্রমনে তিতলি ভড়কে গেলো। ক্লাসে সবার দৃষ্টি ওর দিকে। অস্বস্তি ভয়ে তিতলি কাঁপছে। কোনোভাবে যদি দেখে ফেলে মেসেজের ব্যক্তিটা সে তাহলে কলেজ থেকে বের করে দিবে না বলা যায়। কাঁদো কাঁদো মুখে নিজের ফোন ফেরত চাইলো,
স্যার প্লিজ ভুল হয়ে গেছে আমার! আমি ইচ্ছে করে হাতে নিইনি বুঝা….”
জাস্ট শাট আপ!
ধমকে তিতলি কেঁপে উঠলো। তবে তাও অসহায় মুখ কোরে বলল,
মোবাইল টা ফেরত দিন স্যার…..
ফারাজ মোবাইল দিলোই না। উল্টো ফোন টা নিজের পকেটে ডুকিয়ে নিলো। চলে যাওয়ায় জন্য পা বাড়িয়ে আবারও পেছনে ফিরে শাস্তিসূরপ বলল,
”যতক্ষণ না ক্লাস শেষ হবে এভাবে দাড়িয়ে থাকবেন। ”
