Mad for you 2 part 25
তানিয়া খাতুন
রাত অনেক গভীর হয়ে এসেছে। শহরের কোলাহল বহু আগেই স্তব্ধ হয়েছে।
নির্জন মহা সড়কের বুক চিরে গর্জন তুলে ছুটে চলেছে কালো রঙের বুলেট টি।
চারপাশে কেবল অন্ধকার আর মাঝেমধ্যে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টগুলোর হলদে আলো, যা ক্ষণিকের জন্য আলোকিত করে আবার হারিয়ে যাচ্ছে পেছনে।
বাইকটি চালাচ্ছিল নীল। তার দৃষ্টি ছিল সামনের রাস্তার দিকে, কিন্তু মনের সমস্ত মনোযোগ ছিল পেছনে বসে থাকা মানুষটির ওপর।
সাধারণত ক্ৰিশের উপস্থিতি মানেই এক অদ্ভুত দৃঢ়তা।
তার চারপাশে সবসময় একটা অদৃশ্য শক্তির বলয় যেন বিরাজ করে।
কিন্তু আজকের ক্ৰিশ কে দেখে নীলের বুকের ভেতর অজানা এক অস্বস্তি জন্ম নিচ্ছিল।
পেছনে বসে থাকা ক্ৰিশ সম্পূর্ণ নীরব।
তার দু’চোখ শূন্যতায় ভরা।
মনে হচ্ছিল সে এই রাতের রাস্তা, বাইকের গতি কিংবা চারপাশের কোনো কিছুই অনুভব করছে না।
তার দৃষ্টি কোথাও নেই, অথচ কোথাও যেন আটকে আছে।
মনের ভেতর একটা চিন্তা বারবার তাকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
একটা সত্য, যা সে মেনে নিতে পারছে না।
একটা নাম, যা তার সমস্ত প্রতিশোধের আগুনকে মুহূর্তের মধ্যে দুর্বল করে দিয়েছে।
হঠাৎ ক্ৰিশ হাত বাড়িয়ে নীলের কাঁধে রাখল।
সেই স্পর্শে নীল চমকে উঠল।
পরমুহূর্তেই ক্ৰিশের কর্কশ কণ্ঠ ভেসে এলো—
— গাড়ি থামা…
কণ্ঠস্বরে এমন কিছু ছিল, যা নীলের বুক কাঁপিয়ে দিল।
সে উদ্বিগ্ন হয়ে বলে,
— ক্ৰিশ, তুই ঠিক আছিস?
ক্ৰিশ এবার দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
— তোকে গাড়ি থামাতে বলেছি, নীল!
কথাগুলো আদেশের মতো শোনাল।
নীল আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। দ্রুত ব্রেক কষে রাস্তার একপাশে মোটরসাইকেল থামিয়ে দিল।
বাইক থামার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ৰিশ এক লাফে নেমে পড়ল।
তার হাঁটার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল সে নিজের ভেতরে জমে থাকা কোনো আগ্নেয়গিরিকে আর ধরে রাখতে পারছে না।
দ্রুত পায়ে কয়েক কদম এগিয়ে রাস্তার ধারে থাকা একটি লোহার ল্যাম্পপোস্টের সামনে গিয়ে দাঁড়াল সে।
পরমুহূর্তেই সজোরে একটি লাথি মারল।
প্রচণ্ড শব্দ হলো।
কিন্তু লোহার খুঁটির কিছুই হলো না।
বরং তীব্র ব্যথায় ক্ৰিশের পা কেঁপে উঠল।
তবুও যেন তার রাগ কমল না।
মনে হচ্ছিল সে নিজের শরীরকে আঘাত দিয়ে বুকের ভেতরের যন্ত্রণা কমানোর চেষ্টা করছে।
পরের মুহূর্তেই সে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে সমস্ত শক্তি দিয়ে একটি ঘুষি মারল ল্যাম্পপোস্টে।
ধাতব শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো চারদিকে।
আর সঙ্গে সঙ্গে তার হাতের তালু ফেটে রক্ত বেরিয়ে এলো।
তাজা রক্ত ধীরে ধীরে আঙুল বেয়ে নিচে পড়তে লাগল।
নীল আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে এলো।
সে দ্রুত ক্ৰিশ কে পেছন থেকে ধরে ফেলল।
— কী করছিস ভাই? নিজেকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছিস কেন?
ক্ৰিশ কিছু বলে না
তার বুক দ্রুত ওঠানামা করছে।
চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।
মুখমণ্ডলে জমে আছে অসহ্য যন্ত্রণার ছাপ।
কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল তার চোখ দুটো।
সেই চোখ লাল হয়ে উঠেছে।
আর সেই লাল চোখের কোণে চিকচিক করছে পানি।
দৃশ্যটা দেখে নীলের বুক হিম হয়ে গেল।
সে ক্ৰিশ ছোটবেলা থেকে চেনে।
কত ঝড় গেছে তাদের জীবনে।
কত মৃত্যু, কত বিশ্বাসঘাতকতা, কত রক্তপাত দেখেছে ক্ৰিশ।
কিন্তু কোনোদিন তাকে কাঁদতে দেখেনি নীল।
পৃথিবী উল্টে গেলেও ক্ৰিশ নিজের আবেগ প্রকাশ করত না।
যন্ত্রণা তাকে ভাঙতে পারত না।
কিন্তু আজ…
আজ সেই ক্ৰিশের চোখে পানি।
নীল অবিশ্বাস নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
ক্ৰিশ হঠাৎ কাঁপা কণ্ঠে বলে,
— এটা কেন হলো, নীল?
তার গলায় জমে থাকা কান্না শব্দগুলোকে ভারী করে তুলছিল।
— কেন হলো বল?
নীল নির্বাক।
ক্ৰিশ দু’হাতে মাথা চেপে ধরল।
তারপর ফিসফিস করে বলতে শুরু করল,
— আমি তো আম্মুকে কথা দিয়েছিলাম…
তার কণ্ঠে ফুটে উঠল বহু বছরের জমে থাকা ক্ষোভ।
— আম্মুর সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে, তাদের আমি ছাড়ব না। আমি শপথ নিয়েছিলাম, তাদের প্রত্যেককে এমন শাস্তি দেব যে তারা মৃত্যুর জন্য ভিক্ষা করবে।
তার চোখে তখন প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে।
কিন্তু পরমুহূর্তেই সেই আগুন নিভে গেল অসহায়তায়।
— আমি ভেবেছিলাম তাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলোকে তাদের চোখের সামনে তিলে তিলে শেষ করে দেব…
ক্ৰিশের গলা ধরে এলো।
— কিন্তু…
সে থেমে গেল।
তার বুকটা যেন হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।
কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল তার গাল বেয়ে।
— কিন্তু আমার বাটারফ্লাই কেন এই প্রতিশোধের মাঝে এসে পড়ল, নীল?
কথাটা বলেই সে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
মনে পড়ে গেল সেই হাসিমুখ।
সেই নিষ্পাপ চোখ।
সেই মানুষটা, যার উপস্থিতি তার অন্ধকার জীবনটাকে আলোকিত করে দিয়েছিল।
যার জন্য প্রথমবার নিজের হৃদস্পন্দন অনুভব করেছিল সে।
নীল ধীরে ধীরে ক্ৰিশের কাঁধে হাত রাখল।
— শান্ত হ, ভাই। সব ঠিক হয়ে যাবে।
ক্ৰিশ তিক্ত হেসে মাথা নাড়ল।
— কিছুই ঠিক হবে না…
ধীরে ধীরে সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল রাস্তার ওপর।
মাথা নিচু।
তার শরীর কাঁপছিল।
রাগে নয়।
ভয়ে।
প্রথমবারের মতো কাউকে হারানোর ভয়ে।
সে ধীরে ধীরে মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল।
কালো আকাশ।
অসংখ্য নক্ষত্র।
আর সেই আকাশের দিকেই তাকিয়ে ভাঙা কণ্ঠে বলে উঠে—
— আল্লাহ…
শব্দটা উচ্চারণ করতেই তার গলা কেঁপে উঠল।
— এটা তুমি কী করলে?
— আমার প্রতিশোধের পথে কেন আমার বাটারফ্লাইকে আনলে?
তার কণ্ঠে ছিল অসীম হাহাকার।
— সে তো আমার পাপে ভরা জীবনের মাঝে ফুটে ওঠা এক নিষ্পাপ ফুল…
— আমার অন্ধকার পৃথিবীর এক টুকরো আলো…
— আমার ভাঙাচোরা হৃদয়ের একমাত্র শান্তি…
ক্ৰিশের চোখ থেকে অঝোরে পানি ঝরছিল।
— আল্লাহ, ওকে মারতে যে আমার ভীষন কষ্ট’ হবে……..
দরজার তালা খুলে ক্ৰিশ আর নীল ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করতেই দুজনেই থমকে দাঁড়াল।
ড্রয়িংরুমের সোফায় পাশাপাশি বসে আছে রুহি আর আয়েশা।
দুজনেরই মাথা একপাশে হেলে পড়েছে।
অপেক্ষা করতে করতেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে, তা বোধহয় তারাও বুঝতে পারেনি।
ঘরের মৃদু আলোয় দৃশ্যটা অদ্ভুত শান্ত লাগছিল।
নীল একবার তাদের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলে,
— তুই ভাবিকে রুমে নিয়ে যা।
আমি আয়েশাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসছি।
ক্ৰিশ কোনো কথা না বলে মাথা নাড়ল।
তারপর ধীরে ধীরে রুহির কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
ঘুমন্ত মুখটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব সাবধানে রুহিকে কোলে তুলে নিল।
রুহি ঘুমের মধ্যেই অল্প নড়েচড়ে উঠল, কিন্তু চোখ খুলল না।
বরং অবচেতনভাবেই ক্ৰিশের শার্টের একপাশ আঁকড়ে ধরল।
সেই স্পর্শে ক্ৰিশের বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল।
কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটা নিজের প্রতিশোধ আর ভালোবাসার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভেঙে পড়ছিল, সেই মানুষটাই এখন নিজের সমস্ত দুর্বলতাকে বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখে ধীর পায়ে রুমের দিকে চলে গেল।
ক্ৰিশের চলে যাওয়ার পর ঘরটা আরও নিস্তব্ধ হয়ে উঠল।
নীল ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে সোফার পাশে বসে পড়ল।
তার দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো আয়েশার মুখে।
মেয়েটা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে শান্ত আর নিরীহ মানুষ সে।
মুখে কোনো দুষ্টুমি নেই, কোনো জেদ নেই, কোনো তর্ক নেই।
অথচ জেগে থাকলে ঠিক তার উল্টো।
সারাক্ষণ কথা বলা, খুনসুটি করা আর অকারণে ঝগড়া বাঁধানো যেন তার নিত্যদিনের কাজ।
সেই কথা মনে পড়তেই নীলের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটুকরো হাসি ফুটে উঠল।
সে ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে আয়েশার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিল।
— আয়েশা… শুনছো? ওঠো। বাড়ি যেতে হবে।
আয়েশা ভ্রু কুঁচকে মুখটা সামান্য বাঁকাল।
মনে হলো ঘুমের মাঝেই কথাটা শুনেছে।
কিন্তু চোখ খুলল না।
বরং অস্পষ্ট স্বরে বিড়বিড় করে বলে,
— আজকে তোমার কাছে থাকতে দাও না… প্লিজ…
— আমার একা একা ভালো লাগে না…
কথাগুলো বলেই আবার চুপ হয়ে গেল সে।
নীল কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে রইল।
তার আঙুলগুলো অন্যমনস্কভাবে আয়েশার চুলে বিলি কাটতে লাগল।
মেয়েটার ছোটবেলাতেই মা কে হারিয়েছে।
বাবা কাজের সূত্রে বছরের বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকেন।
ফোনে খোঁজ নেন ঠিকই, কিন্তু ফোনের ওপাশের কণ্ঠস্বর কি কখনও একজন মানুষের শূন্যতা পূরণ করতে পারে?
হয়তো পারে না।
হয়তো সেই কারণেই আয়েশা এত দ্রুত মানুষের সঙ্গে মিশে যায়।
যেখানে সামান্য ভালোবাসা পায়, সেখানেই আপনজন খুঁজে নেয়।
এইসব ভাবনার মাঝেই হঠাৎ নীল অনুভব করল—
দুটি নরম হাত তার গলা জড়িয়ে ধরেছে।
সে চমকে নিচে তাকাল।
ঘুমের মধ্যেই আয়েশা তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে।
মুখটা এনে রেখেছে তার কাঁধের কাছে।
তার উষ্ণ নিশ্বাস এসে লাগছে নীলের গালে।
মুহূর্তের জন্য নীল সম্পূর্ণ স্থির হয়ে যায়।
হৃদস্পন্দন যেন অকারণেই একটু দ্রুত হয়ে উঠল।
সে চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
তারপর নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলে,
— এই মেয়েটা একটা সর্বনাশ না করে ছাড়বে না…
রুহিকে বিছানায় শুইয়ে দিতে গিয়েই ক্ৰিশ বুঝতে পারল, তার ঘুম ভেঙে গেছে।
রুহি ধীরে ধীরে চোখ খুলল। কয়েক মুহূর্ত অন্যমনস্কভাবে চারপাশে তাকিয়ে থেকে দৃষ্টি স্থির করল ক্ৰিশের মুখে।
ক্ৰিশ নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে তার কপালে আলতো একটি চুম্বন এঁকে দিল।
— কিছু খেয়েছ?
রুহি প্রশ্নের উত্তর দিল না।
তার চোখদুটো যেন কাউকে খুঁজছিল।
হঠাৎ সে ফিসফিস করে বলে,
— কোকো কোথায়?
প্রশ্নটা শুনেই ক্ৰিশের বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
মুহূর্তের মধ্যে তার মুখের রঙ বদলে গেল।
সে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলে,
— ঘুম থেকে উঠেই হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
রুহি ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
ক্ৰিশের আচরণ তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হলো।
সে বিছানা থেকে উঠে বসল।
তারপর ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে ক্ৰিশের মুখটা নিজের দিকে ফিরিয়ে নিল।
— মুখ লুকাচ্ছেন কেন?
তার কণ্ঠে ছিল সরল কৌতূহল।
— বলুন, কোকো কোথায়?
ক্ৰিশ চোখ সরিয়ে নেয়।
রুহির দৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলা তার জন্য সবসময়ই কঠিন।
তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,
— ওকে… আমার এক বন্ধুর বাসায় রেখে এসেছি।
কথাটা বলেই সে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল।
কিন্তু রুহির কাছে কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্য লাগল না।
ক্ৰিশ যখন মিথ্যা বলে, তখন তার চোখের ভাষা বদলে যায়।
এতদিনে সেটা বুঝতে শিখেছে রুহি।
সে বিছানা থেকে নেমে ক্ৰিশের সামনে এসে দাঁড়াল।
— তাহলে আপনার বন্ধুকে ভিডিও কল করুন।
ক্ৰিশ চমকে তাকাল।
— কেন?
— আমি কোকোকে দেখতে চাই।
ঘরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠল।
ক্ৰিশ অনুভব করল, তার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করেছে।
সারাদিনের মানসিক চাপ, নিজের ভেতরের যুদ্ধ, বুকের ভেতরে জমে থাকা অসহ্য যন্ত্রণা— সবকিছু মিলিয়ে সে আর নিজেকে সামলাতে পারছে না।
রুহি আবার বলে,
— কল করুন।
— এখন সম্ভব নয়।
— কেন সম্ভব নয়?
রুহি এক পা এগিয়ে এলো।
তার চোখে তখন উদ্বেগ।
— কী হয়েছে কোকোর?
— বলুন না!
ক্ৰিশের নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।
মাথার ভেতর যেন হাজারটা শব্দ একসঙ্গে আঘাত করতে লাগল।
রুহি আবারও একই প্রশ্ন করে,
— কোকো কোথায়?
আর ঠিক সেই মুহূর্তে ক্ৰিশ নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
এক ঝটকায় হাত উঠল তার।
থাপ্পড়ের শব্দে মুহূর্তের জন্য পুরো ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
রুহির মুখ একপাশে ঘুরে গেল।
সে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
যেন কী ঘটেছে, সেটাই বুঝে উঠতে পারছে না।
ধীরে ধীরে নিজের গালে হাত রাখল সে।
চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে গেছে।
আর সেই চোখের কোণে জমে উঠেছে পানি।
ক্ৰিশের বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল।
কিন্তু তখনও রাগ আর যন্ত্রণার আগুন তাকে গ্রাস করে রেখেছে।
সে দাঁতে দাঁত চেপে চিৎকার করে বলে,
— নেই কোকো!
তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল।
— কোকো আর নেই!
— মরে গেছে ও!
কথাগুলো বেরিয়ে আসতেই যেন ঘরের সমস্ত শব্দ থেমে গেল।
রুহির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
তার চোখ থেকে নিঃশব্দে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল।
সে কিছু বলল না।
শুধু কান্নাভেজা চোখে ক্ৰিশের দিকে তাকিয়ে রইল।
সেই চোখে ছিল কষ্ট।
অভিমান।
আর অবিশ্বাস।
Mad for you 2 part 24
ক্ৰিশ সেই দৃষ্টির সামনে এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না।
মনে হলো কেউ তার বুকের ভেতর ছুরি চালিয়ে দিচ্ছে।
সে জানত, রুহির গালে যে আঘাত পড়েছে, তার চেয়েও গভীর আঘাত পড়েছে রুহির মনে।
আর সেই আঘাতের জন্য দায়ী সে নিজেই।
ক্ৰিশ দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিল।
তারপর বড় বড় পা ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
