রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৭
মহাসিন
কবিতা ও তার ননদ জেরিন ঘরে ঢুকল।
নীলাঞ্জনা এগিয়ে গিয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল,
“ভালো আছো তো?”
“হ্যাঁ, ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?” কবিতা পাল্টা জিজ্ঞেস করল।
“ভালো আছি। কতদিন পর তোমাকে দেখলাম!” নীলাঞ্জনার গলায় আন্তরিকতা।
কবিতা হালকা হেসে বলল,
“এবার কিন্তু অনেকদিনের জন্য বেড়াতে এসেছি।”
কথা বলতে বলতেই ওরা সোফার দিকে এগিয়ে গেল। নীলাঞ্জনা সদর দরজাটা আটকে দিয়ে কিচেনের দিকে পা বাড়ালো।
কবিতা সিয়ামের দিকে তাকাল।
“কিরে ভাই, ভালো আছিস তো?”
“হ্যাঁ, ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?” সিয়ামের গলাটা স্বাভাবিক।
“ভালো আছি।”
পাশ থেকে জেরিন এবার সিয়ামের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট টিপে হাসল।
“বেয়াই সাহেব, ভুলে গেলেন নাকি?”
সিয়াম চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল, “না, ভুলব কেন?”
এর মধ্যেই নীলাঞ্জনা ট্রেতে করে ঠান্ডা শরবত নিয়ে এল। কবিতা আর জেরিনের হাতে গ্লাস ধরিয়ে দিল।
শরবতে চুমুক দিতে দিতে কবিতা জিজ্ঞেস করল, “ভাবি, আলো কোথায়?”
“ও রুমে আছে,” নীলাঞ্জনা উত্তর দিল।
জেরিনের চোখ তখন শাপলার দিকে। শাপলাকে দেখেই মুখটা কুঁচকে ফেলল। কবিতার দিকে ফিরে ফিসফিস করে নয়, বেশ স্পষ্ট করেই বলল,
“ভাবি, এই মেয়েটা কে? আগে তো কখনো দেখিনি।”
কবিতা শাপলার দিকে একবার তাকাল। তারপর ভাব নিয়ে বলল,
“ও? আমার খালাতো বোন। খুব গরিব। তিনবেলা খেতে পায় না বেচারি। দয়া করে এ বাড়িতে থাকতে দেওয়া হইছে।”
কথাটা শুনে সিয়ামের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই শাপলা চোখের ইশারায় ওকে থামিয়ে দিল। শান্ত মুখ, কিন্তু চোখে চাপা অপমান।
কবিতা এবার নীলাঞ্জনার দিকে তাকাল।
“ভাবি, আমরা এখন রুমে গিয়ে একটু রেস্ট করি। কিছুক্ষণ পর না হয় খাবার পাঠিয়ে দিও। চলো জেরিন।”
এই বলে কবিতা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল।তার পিছু পিছু জেরিন চলতে লাগলো। পিছনের দিকে তাকিয়ে আরচোখে সিয়াম কে দেখতে লাগলো। এর পর চলে গেল।
ড্রয়িংরুমে তখন পিনপতন নীরবতা। শাপলা মাথা নিচু করে বসে আছে। আর সিয়ামের মুঠো শক্ত হয়ে আছে রাগে।
সিয়াম রাগে গজগজ করতে করতে হনহন করে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
নীলাঞ্জনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শাপলার দিকে তাকাল। নরম গলায় বলল,
“চলো না, রান্নাঘরে আমাকে একটু হেল্প করবে?”
শাপলা মাথা নেড়ে নীলাঞ্জনার সাথে রান্নাঘরে চলে গেল। সবজি কাটা, মসলা বাটা—চুপচাপ হাতে হাতে কাজ করে দিচ্ছে নীলাঞ্জনাকে।
হঠাৎ কলিং বেলটা বেজে উঠল।
নীলাঞ্জনা হাতের কাজ থামিয়ে শাপলার দিকে তাকাল।
“যাও তো, দেখে এসো কে এসেছে।”
শাপলা গুটি গুটি পায়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল। সাথে সাথেই সিরাজ ঘরে ঢুকল।
শাপলাকে দেখে সিরাজ ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কিরে, আজ বাসায় মানুষ আছে তো?”
শাপলা জবাব দিল,
“হ্যাঁ,আছে। কবিতা আপু আর তার ননদ এসেছে। সিয়াম ভাইয়াও আছে।”
“নীলাঞ্জনা ভাবি আছে?”
“হ্যাঁ, কিচেনে রান্না করছে।”
শাপলা দরজাটা আটকে দিয়ে সিরাজকে নিয়ে কিচেনে চলে এল।
সিরাজ নীলাঞ্জনাকে দেখে বলল, “ভালো আছেন ভাবি?”
“হ্যাঁ, ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”
“আমিও ভালো আছি। কবিতা এসেছে নাকি?”
“হ্যাঁ, ওর রুমেই আছে।”
“তাহলে গিয়ে দেখা করে আসি,” এই বলে সিরাজ ড্রয়িংরুম পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল। কবিতার রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে ঢুকল।
“কিরে কবিতা, কী খবর তোর? ভালো আছিস?”
“ভালো আছি। তুই কেমন আছিস ভাই?”
“ভালো আছি।” সিরাজ এবার জেরিনের দিকে তাকিয়ে হাসল। “এই যে ম্যাডাম, আপনার কী খবর?”
জেরিন ঠোঁট উল্টে বলল, “হ্যাঁ, ভালো।”
সিরাজ আরও কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই শাপলা ট্রেতে করে নাস্তা নিয়ে রুমে ঢুকল।
শাপলাকে দেখেই জেরিন মুখ কুঁচকে ফেলল। শাপলা জেরিনকে নাস্তা দিতে গিয়েই ঘটল বিপত্তি—হাত ফসকে খাবার পড়ল জেরিনের জামার ওপর।
জেরিন লাফিয়ে উঠল। “এই ফাজিল মেয়ে! এটা কী করলি? তুই জানিস এই ড্রেসটার দাম কত?”
কবিতার দিকে ফিরে নালিশের সুরে বলল, “দেখো ভাবি, তোমাদের বাড়ির এই আশ্রিতা মেয়ে আমার জামার কী অবস্থা করেছে!”
শাপলা ভয়ে কুঁকড়ে গেল। “সরি, আমি ইচ্ছে করে করিনি। বিশ্বাস করুন, ভুল হয়ে গেছে। বুঝতে পারিনি।”
কবিতা ততক্ষণে চেয়ার ছেড়ে উঠে এসেছে। কিছু বোঝার আগেই সপাটে একটা থা*প্পড় বসিয়ে দিল শাপলার গালে।
শাপলা তাল সামলাতে না পেরে ছিটকে গিয়ে পড়ল সিরাজের পায়ের কাছে।
কবিতা চিৎকার করে উঠল, “শয়তান মেয়ে একটা! দয়া করে আমাদের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়েছে, আর তুই আমার শ্বশুরবাড়ির লোককে অপমান করিস?”
সিরাজ তাড়াতাড়ি শাপলাকে টেনে তুলল। বিরক্ত গলায় বলল, “কিরে, ভালো করে কাজ করতে পারিস না?”
শাপলার চোখ ছলছল করে উঠল। “আমার কী দোষ? আমি কি ইচ্ছে করে করেছি?”
জেরিন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল। “হ্যাঁ, তুই ইচ্ছে করেই করেছিস! আমার এত সুন্দর জামা দেখে তোর সহ্য হয়নি, তাই এমন করেছিস।”
কবিতার দিকে তাকিয়ে অভিমানী গলায় বলল, “ভাবি, তোমাদের বাড়িতে আসলে যদি আমার সাথে এমন ব্যবহার হয়, তাহলে আর আসবই না।”
কবিতা আগুন চোখে শাপলার দিকে তাকাল। “শাপলা, এখুনি জেরিনের পা ধরে ক্ষমা চা!”
শাপলা শক্ত হয়ে দাঁড়াল। “আমি কোনো ভুল করিনি। তাই ক্ষমা চাইব না। আমি কি ইচ্ছে করে করেছি নাকি?”
কবিতা রাগে কাঁপতে কাঁপতে আবার হাত তুলল শাপলাকে মা*রার জন্য। ঠিক তখনই দরজায় এসে দাঁড়াল সিয়াম।
এক ঝটকায় কবিতার হাতটা ধরে ফেলল সিয়াম। চোখ দুটো জ্বলছে আগুনের মতো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “নিজের হাত সামলা। পরের বার এই হাত তুললে হাতটা আস্ত থাকবে না, বলে দিলাম।”
তারপর শাপলার দিকে ফিরে কঠিন গলায় বলল, “তোকে কাজ করতে কে বলেছে? সোজা নিজের রুমে চলে যা।”
শাপলা আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। মাথা নিচু করে চুপচাপ বেরিয়ে গেল রুম থেকে।
সিয়াম কবিতার দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল, “শাপলার গায়ে একটা টোকা দেওয়ার চেষ্টাও করবি না। যদি ওর গায়ে একটা আঁচড়ও লাগে, তাহলে ভুলে যাব তুই আমার বোন।”
কথাটা বলেই সিয়াম ঘুরে চলে গেল।
কবিতা ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল। রাগে, অপমানে তার সারা শরীর কাঁপছে। দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “ওই শয়তান শাপলাকে আমি ছাড়ব না। ওকে এই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে তবেই আমি এখান থেকে যাব। আমাকে বিয়ে দিয়েছে বলে কি এই বাড়িতে আমার কোনো অধিকার নেই? সব শয়তান! আমাকে কেউ পছন্দ করে না!”
সিরাজ এগিয়ে এসে বলল, “সিয়ামটাই শাপলাকে বেশি আস্কারা দিয়েছে, তাই ওর এত বাড় বেড়েছে। যদি কোনো সাহায্য লাগে, বলিস। আমি আছি।”
এই বলে সিরাজও রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
আর কবিতা? বিছানায় বসে ফুঁসছে। চোখে তার প্রতিশোধের আগুন।
কবিতা সায়েক আহমেদের মেয়ে। বিয়ে হয়ে গেছে অনেকদিন। স্বামী বিদেশে থাকে। সমাজের নিয়ম—মেয়ের বিয়ের পর স্বামীর ঘরই তার ঘর। কিন্তু কবিতা শ্বশুরবাড়িতে না থেকে বেশিরভাগ সময় বাবার বাড়িতেই পড়ে থাকে।
নীলাঞ্জনাকে কবিতা একদমই পছন্দ করে না। এর পেছনে একটা কারণ আছে। শাশুড়ি মহুয়া আহমেদ নিজের গয়নাগুলো নীলাঞ্জনাকে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেওয়ার আগেই কবিতা চুপিচুপি সেই গয়না চুরি করে নেয়। ঘটনাচক্রে শাপলা সেটা দেখে ফেলে।
কবিতা শাপলাকে কড়া করে বারণ করেছিল কাউকে না বলতে। কিন্তু শাপলা চুপ থাকেনি। সব বলে দিয়েছিল। সেই থেকে কবিতার চোখের বিষ শাপলা। গয়না চুরির কথা জানাজানি হওয়ার পর থেকে এই বাড়িতে কবিতার আসা-যাওয়াও অনেক কমে গিয়েছে।
সিরাজ গুটি গুটি পায়ে শাপলার রুমের দিকে এলো । ভেতরে শাপলা জানালার পাশের চেয়ারে বসে বাইরে তাকিয়ে আছে।
সিরাজ নিঃশব্দে পেছন থেকে এসে শাপলার পিঠে হাত রাখল।
শাপলা চমকে উঠে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। “এ কি! আপনি?”
“তোকে দেখতে এলাম,” সিরাজ হাসার চেষ্টা করল।
শাপলার চোখে অভিমান। “আপনি চাইলে তখন কিন্তু আমার হয়ে প্রতিবাদ করতে পারতেন। করলেন না কেন?”
সিরাজ কাঁধ ঝাঁকাল। “আমি আর কী করব বল? আমি কারো পারিবারিক ব্যাপারে নাক গলাতে চাই না। তুই তো জানিসই কবিতা কেমন মেয়ে।”
“হ্যাঁ, জানি,” শাপলা মাথা নিচু করল। “তবুও চাইলে আপনি আটকাতে পারতেন।”
“যাই হোক, এসব কথা বাদ দে,” সিরাজ প্রসঙ্গ পাল্টাল। একটু থেমে শাপলার দিকে তাকিয়ে বলল, “তোকে কিন্তু আজ অনেক সুন্দর লাগছে। তোর ঠোঁটের নিচের ওই কালো তিলটা… খুব সুন্দর।”
সিরাজের মুখে এমন কথা শুনে শাপলার ভীষণ অস্বস্তি হলো। তার ওপর সিরাজ যেভাবে পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে, শাপলার গা রি-রি করে উঠল।
সিরাজ হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,
“কারো সাথে প্রেম-ট্রেম করিস নাকি?”
শাপলা অবাক হয়ে বলল,
“হঠাৎ এমন প্রশ্ন কেন?”
“না, এমনি।”
“না, আমি কারো সাথে প্রেম করি না।”
সিরাজ ভ্রু কুঁচকাল। “কেন? তোর স্কুলে কি কাউকে পছন্দ হয় না? এটাই তো প্রেম করার বয়স, মজা করার বয়স। এই সময়টা তো সব ছেলেমেয়েরা এনজয় করে। প্রেম করে, আরও কত কী করে। আমিও করেছি, কত মজা করেছি… উফ!”
শাপলা ভ্রু কুঁচকে বলল, “মানে বুঝলাম না।”
“বুঝতে হবে না। তুই তো আর প্রেম করিস না, জেনে কী হবে?” সিরাজ হেসে বলল।
শাপলা সরে দাঁড়াল। “আমার তেমন কাউকে পছন্দ হয় না, তাই প্রেম করি না।”
সিরাজ এক পা এগিয়ে এল। “কেন? ছেলের কি অভাব পড়েছে? আমিও তো আছি। চাইলে আমার সাথেও প্রেম করতে পারিস। আমি কি কম সুন্দর নাকি? হ*ট, সে*ক্সি ব*ডি আমার।”
সিরাজের এমন কুৎসিত প্রস্তাবে শাপলা হতভম্ব হয়ে গেল। “আপনি এসব কী ধরনের কথাবার্তা বলছেন? মাথা ঠিক আছে আপনার?”
“আমি খারাপ কিছু বলিনি,” সিরাজ গা ঘেঁষে দাঁড়াতে চাইল। “তুই ভেবে দেখিস। আমার সাথে প্রেম করবি কি না।”
শাপলা দু পা পিছিয়ে গেল। গলায় দৃঢ়তা এনে বলল, “আপনি এখান থেকে যান। আমি আপনার সাথে প্রেম করব না। ভাবারও কিছু নেই।”
সাথে সাথে সিরাজের চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে গেল। একটা কথাও না বলে হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
বাইরে এসে দেওয়ালে সজোরে একটা ঘুসি মারল সিরাজ। দাঁতে দাঁত চেপে গজগজ করতে লাগল, “শাপলা, তোকে আমি আমার করেই ছাড়ব। আমি জানি সিয়াম তোকে পছন্দ করে, আর তুইও ওকে পছন্দ করিস। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তোকে আমার চাই। যেভাবেই হোক তোকে ভো*গ করবো। তোকে ভো*গ করা হয়ে গেছে ছুঁ*ড়ে ফে*লে দিবো। ছলে না হলে বলে। তোকে যেদিন প্রথম দেখেছি সেদিন তোকে মনে ধরেছে। ”
এই বলে সিরাজ রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ড্রয়িংরুমের দিকে চলে গেল।
আর শাপলা? দরজাটা বন্ধ করে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ভেতরটা ভয়ে আর ঘৃণায় দপদপ করছে।
নিজেকেই বিড়বিড় করে বলল, “এই নোংরা লোকটাকে একদম সহ্য হয় না। দেখলেই গা ঘিনঘিন করে ওঠে। সিয়াম ভাইয়াকে বলে দেব কি? কিন্তু যদি আমার কথা বিশ্বাস না করে? যদি উল্টো আমাকেই ভুল বোঝে? না, থাক। বলব না।”
ঠিক তখনই বিছানার ওপর রাখা ফোনটা বেজে উঠল। শাপলা কাঁপা হাতে ফোনটা তুলে রিসিভ করল। “হ্যালো, কে?”
ওপাশ থেকে চেনা গলা ভেসে এল, “আমি দীপা।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকাল। “তা কী মনে করে কল দিলি হঠাৎ?”
দীপা ওসব পাত্তাই দিল না। “আরে এসব কথা বাদ দে। আগে বল, ওর সাথে কথা হয়েছিল?”
“কার সাথে কথা হবে আবার?” শাপলা বিরক্ত গলায় বলল।
“আরে ওই ছেলেটা, আনিক! তোকে যে পছন্দ করে। তোর নাম্বারটা ওকে দিয়েছিলাম ?”
শাপলার মেজাজ চড়ে গেল। “তোর মাথা ঠিক আছে দীপা? আমি না বলেছি ওর সাথে প্রেম করব না? তার মানে রাতে ওই ছেলেটাই কল দিয়েছিল?”
“কেন, পরিচয় দেয়নি?” দীপা অবাক হলো।
“না।”
দীপা হেসে উঠল। “যা, এবার প্রেমটা শুরু করে দে। ছেলেটা কিন্তু দারুণ হ্যান্ডসাম। ও যদি আমাকে পছন্দ করত, আমি নিজেই প্রেম করতাম।”
শাপলা এবার রেগে গেল। “তোর আজাইরা ফালতু কথা বন্ধ কর। তুই ওই ছেলেটাকে আমার নাম্বার দেওয়ার আগে আমাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলি?”
দীপা গলাটা নামিয়ে বলল, “আমি কী করব বল? ছেলেটা নাকি তোকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে। তাই দিলাম।”
শাপলা দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “ওর প্রেম করা আমি বের করছি। শুধু আর একবার কল দিক।”
কথাটা শেষ করেই খট করে কলটা কেটে দিল শাপলা।
ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে জানালার দিকে তাকাল। একদিকে সিরাজের কুৎসিত কথা, অন্যদিকে দীপার এই বাড়াবাড়ি। সব মিলিয়ে মাথাটা দপদপ করছে।
“কেউ আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দেবে না?” শাপলা ফিসফিস করে বলল। এর পর রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
সিয়াম ব্যালকনিতে একা বসে আছে।
গুটি গুটি পায়ে জেরিন এসে দাঁড়াল পেছনে। তারপর নিঃশব্দে সিয়ামের পাশের চেয়ারটায় বসে পড়ল।
“কী ব্যাপার বেয়াই সাহেব? কী করছেন?” জেরিনের গলায় আদুরে ঢং।
সিয়াম না তাকিয়েই বলল, “কেন, দেখছেন না? বসে আছি।”
জেরিন একটু ঝুঁকে এল। চোখে চাপা হাসি। “বেয়াই সাহেব, আপনি কিন্তু আগের চেয়ে অনেক হ্যান্ডসাম হয়ে গেছেন। আপনাকে দেখলে আর চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না।”
ঠিক তখনই ব্যালকনির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল শাপলা। সিয়াম আর জেরিনকে এভাবে ঘন হয়ে বসে কথা বলতে দেখে ওর পা দুটো থেমে গেল। একটু আড়ালে সরে দাঁড়াল শাপলা। বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।
সিয়াম বিরক্তি চেপে বলল, “তাহলে আমাকে দেখবেন না।”
জেরিন খিলখিল করে হেসে উঠল। “ইশ! আপনাকে দেখে তো ফিদা হয়ে গেছি। এখন না দেখে থাকি কী করে?”
একটু থেমে গলাটা আরেকটু নামিয়ে ফেলল জেরিন। “তা হ্যান্ডসাম বেয়াই সাহেব, আপনি কি এখনও সিঙ্গেল আছেন, না মিঙ্গেল?”
সিয়ামের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি খেলে গেল। “এখনও সিঙ্গেল আছি। তবে কেউ যদি জীবনে চলে আসে, তাহলে মিঙ্গেল হয়ে যাব।”
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ১৬
জেরিনের চোখ চকচক করে উঠল। “ও, তাহলে তো সুযোগ আছে এখনও!”
“মানে বুঝলাম না,” সিয়াম ভ্রু কুঁচকাল।
জেরিন ঠোঁট কামড়ে হাসল। “থাক, এখন বুঝতেও হবে না। সময় হলে ঠিক বুঝতে পারবেন।”
আড়াল থেকে সব শুনে শাপলার সারা গা রাগে রি-রি করে উঠল। আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। গজগজ করতে করতে চলে গেল।
