My Husband part 39
সামহা সামি
আনেয়া সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মুখ বাঁকালো । শেষ সিঁড়িতে এসে পা রাখতেই মাথা টা কেমন চক্কর দিয়ে উঠলো। তাল সামলাতে না পেরে,পড়ে যেতে নিলে শক্তপুক্ত পুরুষালি একটা হাত পিছন থেকে আগলে ধরে।
__”ছোট ফ্লাওয়ার আর ইউ ওকে বেবি?
প্রহেলের উত্তেজিত হয়ে আসা, কন্ঠে জিজ্ঞেস করে। আনেয়া মুখ হা করে বড় করে শ্বাস টানে। কিয়ত ক্ষনের জন্য গা এলিয়ে দিতে, প্রহেল আনেয়াকে বুকের সঙ্গে ঠেসে ধরে, এক হাতে ছোট মুখটা তুলে চিন্তিত গলায় সুধায়?
___- আর ইউ ওকে? ইউ’র নট ফিলিং ওয়েল। লেটস গো টু দ্য রুম; উই ডোন্ট নিড টু গো এনিওয়্যার।
আনেয়া চোখ বন্ধ করেই মুচকি হেসে প্রহেলের হাত চেপে ধরে। সময় নিয়ে রয়েসয়ে আস্তে করে বলে!
….. আমি ঠিক আছি নিচে চলুন?
প্রহেল আনেয়ার কথা অগ্রাহ্য করে চিন্তিত গলায় বলে?
__ আমি কোন রিস্ক নিতে চাচ্ছি না ছোট ফ্লাওয়ার। সো লেটস গো টু দ্য রুম ?
,, কথার এই পর্যায়ে এসে আনেয়া ছটফট করে নামার জন্য। প্রহেল ছাড়ে না চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে আছে আনেয়ার বাহু! আনেয়া মুখ ছোট করে অভিমানী স্বরে বলে?
….. আপনি আমায় একটুও ভালোবাসেন না।
,, কপালে পড়া ভাঁজ শিথীল হলো, চোখ ছোট ছোট করে জানতে চাইল প্রহেল?
__”,সো হোয়াট আমি তোমায় ভালবাসি না, তাহলে রাত দিন কাকে চেপে ধরি?
আনেয়া দমে গেল, লোকটা এমনেতেই ভীষণ অসভ্য, মুখ খুললেই বোমা বের হয়। আনেয়ার জোরাজুরিতে এক সময় প্রহেল হাড় মেনে, দাঁত কিরমির করতে করতে নিচে নেমে আসে। নাস্তা করে হোটেল থেকে বের হয়। আনেয়া সামনে হাঁটছে তার পিছু পিছু প্রহেল। জায়গা টা আপাতত নিরব, লোকজন কম, আশেপাশে কয়েকজন কাপল পিক তুলছে,কেউ বা প্রকিতি ক্যামেরা বন্দি করছে।
এই ভাবেই সাঁড়া দিন পার হলো ঘুড়ে। দুপুরে হালকা খেয়ে আবারো ঘুরায় মনযোগী হয় দুজন?
ধীরে ধীরে পশ্চিমাকাশ রক্তিম আভায় রঞ্জিত হয়ে উঠল। অস্তগামী সূর্যের শেষ আলো মালয়েশিয়ার বিস্তৃত সমুদ্ররেখাজুড়ে সোনালি-কমলার মোহময় আবরণ ছড়িয়ে দিল। দূর দিগন্তের পাহাড়গুলো ক্রমশ সন্ধ্যার আবছা আঁধারে বিলীন হতে লাগল, আর শীতল বাতাসের মৃদু পরশে প্রকৃতি যেন নিস্তব্ধ প্রশান্তির এক অপার্থিব আবরণে নিজেকে মুড়ে নিল।
“আনেয়ার কে নিয়ে হোটেলের দিকে আগাচ্ছে প্রহেল। সাঁড়া দিনে হাঁটাহাঁটি করে এখন বেশ ক্লান্ত লাগছে —এটাই বোধহয় ঘুরতে আসার ফল। আনেয়া দিব্বি হাঁটছে, আশেপাশে পরখ করে রাতের সুন্দর্য দেখতে ব্যাস্ত। হোটেলে ঢুকবে এমন সময় প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইল টা উঁচু শব্দে বেজে উঠে?
কপালে ভাঁজ ফেলে বিরক্তি নিয়ে ফোন বের করে, নিশাদ লেখা,
….. ওখানে সব ঠিক আছে?
প্রহেলের প্রশ্নে নিশাদ উত্তর করতে পারল না। সময় নিয়ে ছোট করে বলল?
___ “‘,,স্যার উনারা আপনাকে ছাড়া ডিল ফাইনাল করছে না?
প্রহেল বিরক্ত হলো, চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল?
….. ডিল ক্যান্সেল করো,এই বালের ডিল আমি করবো না,গড ইট?
নিশাদ স্যারের রাগ সম্পর্কে অবগত তাই,বিনা বাক্যব্যয়ে ফোন কেটে দেয়। প্রহেল ফোনের স্কিনে চোখ বুলিয়ে,আনেয়ার কাছে ফিরে আসতে দেখতে পায়, আনেয়া নেই, বুক ধক করে উঠল। আশেপাশে চোখ বুলায় কোথাও নেই, জোরে জোরে ডাকল?
My Husband part 38
…… ছোট ফ্লাওয়ার কোথায় তুমি?
কোন শব্দ এলো না, প্রহেল চিন্তিত বদনে আবার ডাকল?
…” হোয়াট হ্যাপেন্ড? টক টু মি। আই’ম কলিং ইউ, লিটল ফ্লাওয়ার?
না এবার ও কোন শব্দ এলো না। তার ছোট ফ্লাওয়ার কোথায় গেল, সে তো ফোনে কথা বলার জন্য একটু সাইডে গিয়েছিল, যাওয়ার আগে বলেছিল,এখান থেকে যেনো এক পাও না নড়ে। তাহলে কোথায় গেল, এখানের কিছু চিনে না,আনেয়া প্রহেল যেনো দিশেহারা হয়ে উঠল, চোখ লাল হয়ে আসছে বুকের বা পাশে সূক্ষ্ম ব্যাথা চিনচিন করছে?
