Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২০ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২০ (২)

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২০ (২)
সুরভী আক্তার

শাফাহ্ চিকচিক করে সহসা মাথা নাড়ায় উপর নিচ । রৌদ্র ফিচেল হাসে । জাবিরের দিকে তাকায় । চোয়াল খিচে একটানে ওর আধ খাওয়া চকলেট টা কেড়ে নেয় ওর থেকে ‌। বাচ্চাটার কান্নার রোল বাড়ে তড়তড়িয়ে । চোখ মুখ খিচে লাল হয়ে ওঠে ছোট্ট ছানাটা । সারা ভ্যাবলার মত তাকিয়ে । দেখছে রৌদ্রের কারবার । একেই আধ খাওয়া চকলেট, তার উপর ছোট বাচ্চা কামড়ে কামড়ে লালা মাখিয়েছে । মুখ সিটকে কামড় বসানো অবধি চকলেট টা ভেঙে আধাআধি করলো রৌদ্র । নিচের প্যাকেটে থাকা ভালো অংশ টুকু শাফাহ্’র দিকে বাড়িয়ে বললো….
” ছ্যাহ , ছ্যাদরের পোনা , তোরা লালা খাবে আমার বোন ? নে টুকটুকি এই অবধি ভালো আছে । খেতে পারিস । ও তো বাচ্চা । বাচ্চাদের চকলেট খেতে নেই ।
বাকি গলে যাওয়া অংশ টুকু মাখিয়ে দিলো ছেলেটার পড়নের কাপড়ে । বাচ্চাটা কাঁদতে কাঁদতে ঝাই ধরে গেছে । রৌদ্রের কান্ড দেখে সারা এবার জড়ানো গলায় বলে….

” ভাইয়া,কি করছো ?
” এই নে , তোর নাগীন বোনের বাচ্চা কে সামলা । যা নিয়ে যা তোর বোনের কাছে । কাঁদছে বেচারা । যা যা….
সারা তড়িঘড়ি করে জাবির কে কোলে নেয় । শিক হয়ে গেছে কাঁদতে কাঁদতে । রৌদ্রের কানে বাজছে ভীষণ । কানে আঙ্গুল চেপে কান বন্ধ করলো সে । সারা জাবির কে নিয়ে এখান থেকে কেটে পড়তে পারলেই বাঁচে ।
যত দ্রুত সম্ভব নিচে চলে গেলো ওর কান্না থামাতে থামাতে । টুকটুকি মহা খুশি । আধ খাওয়া চকলেট টুকু ফিনিস করতে কয়েক সেকেন্ড লেগেছে মাত্র ।
রৌদ্র হেসে ফেললো ওকে দেখে ‌। হাঁফ ছেড়ে মেঘার দিকে তাকালো । মেয়েটা এতক্ষণে ও নড়ে নি একটুও । সেভাবেই শরীর কাত করে আধশোয়া হয়ে আছে ইজি চেয়ারটায় । মুখ ডান দিকে কাত । রৌদ্র কপালে সুক্ষ্ম ভাঁজ ফেললো । পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট পুনরায় বের করে টুকটুকি কে ইশারা করে বললো এখান থেকে চলে যেতে । টুকটুকি মেঘা কে ডাকার আগেই বাঁধা দিলো সংকেতে । ফের ইশারা করে বোঝালো একাই চলে যেতে । থম মেরে দাঁড়ালেও পরমুহূর্তে দ্বিরুক্তি না করে ঝটপট প্রস্থান করলো শাফাহ্ । নিচে নেমে গেলো মেঘা কে রৌদ্রের কাছে একলা ফেলে ।

রৌদ্র একটা সিগারেট বের করতে নেয় । চোখ তুলে মেঘার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে আর বের করে না । ধীরে এগোয় মেয়েটার দিকে । দিনের আলো মিলিয়ে যাচ্ছে । বিকেল গড়িয়ে নামছে সন্ধার লগন । পাখি ডাকছে , উড়ছে মধ্য আকাশে । ডানা মেলে ফিরছে আপন নীড়ে । রৌদ্র গিয়ে থামলো মেঘার সামন বরাবর । ওকে চোখ বুজে থাকতে দেখে কপালের ভাঁজ গাঢ় করলো । নড়চড় হীনা এই মেয়ে তখন থেকেই এভাবে স্থবির হয়ে বসে আছে । রৌদ্র এক হাঁটু গেড়ে সামনে বসলো । এই মেয়ের তো আবার যেখানে সেখানে ঘুমানোর অভ্যাস আছে । যেখানেই কাত , সেখানেই রাত ওর কাছে । ঘুমোয় নি তো আবার ? নাকি নাটক করছে রৌদ্র কে ইগনোর করার জন্য ? রৌদ্র একটু বাজিয়ে দেখতে চাইলো । ডাকলো হাস্কি টোনে…
” MP….
” …..
” সানি ‌, আর ইউ হেয়ার ??
” …….
” এই ইডিয়ট , নাটক করছিস ঘুমানোর ? ওঠ , থাপ্পর মারবো তোকে ! কাল‌ থেকে আধমরা হয়ে পড়ে আছি , একবারও খোঁজ নিলি না আমার ? মরেছি না বেঁচে আছি খোঁজ নিয়েছিস আদৌ ?
মেয়েটার তরফ থেকে সাঁড়া শব্দ নেই । একটুও স্থানচ্যুতি নেই । সেভাবেই অঢেল হয়ে পড়ে আছে । রৌদ্র চোখ তীক্ষ্ণ করলো । খুঁটিয়ে পরখ করলো । শ্বাস পড়ছে থেমে থেমে । ভারী গরম শ্বাস । রৌদ্র মেয়েটাকে দেখে গাঢ় দৃষ্টিতে । কোমল হয়ে আসে , মোলায়েম হয় কন্ঠ….

” ইভারা , ঘুমিয়েছো ?
এতক্ষণেও মেয়েটার সাঁড়া শব্দ না পেয়ে বুঝলো ঘুমিয়েছে সে । কিন্তু এই ভর সন্ধ্যা ঘুমানোর সময় নাকি ?
ঝিরিঝিরি বাতাসে মেয়েটার খোঁপা থেকে ছুটে আসা ছোট ছোট চুল গুলো উড়ছে অবাধ্য ভাবে । রৌদ্র ক্ষিয় হাসে । নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে মেয়েটাকে । ইশশ্ , কাল‌ থেকে দেখা হয় নি । চোখ দুটো বড্ড ক্ষুধার্ত ছিলো । অবশ্য এভাবে ক্ষুধা মেটানোর জন্য হলেও এই তেজি রমনীর ঘুমানো টা প্রয়োজন ছিলো ।
মৃদুমন্দ ঠোঁট ফাঁক হয় রৌদ্রের । এগিয়ে আসে ‌। কপালের পাশ গলিয়ে মুখের উপর আছড়ে পড়া বেবি চুল গুলো সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়ায় মেয়েটার দিকে । কপালে আঙ্গুল স্পর্শ করানো মাত্রই উত্তাপে ঝিমঝিমিয়ে ওঠে রৌদ্রের হাত । কপাল ছোঁয়া মাত্রই ছিটকে আসে হাতখানা । অমনি ছলকে ওঠে বেপরোয়া ছেলের হৃদয় । তড়াক করে স্তম্ভিত হয়ে যায় সে । দ্রুত উঠে দাঁড়ায় । চেয়ার ঘেঁষে পূর্ণ স্পর্শে মেঘার কপালে হাত ছোঁয়ায় ‌। আঁতকে ওঠে অমনি । গা পুড়ে যাচ্ছে প্রচন্ড জ্বরে । আগুনের মতো জ্বলছে পুরো শরীর । রৌদ্র শিহরিত হয় মেয়েটার তপ্ত শরীর স্পর্শ করা মাত্রই । ধড়ফড়িয়ে ডাকে গালে আলতো চাপড় মেরে…..
” ইভারা ,,, এইইই ? কি হয়েছে তোমার ? এই ইভারা , চোখ খোলো ? জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে । হেয়য়য় , ওপেন ইউর আই’স ।
মেয়েটা সম্পুর্ন অচেতন । জ্ঞান শূন্য নিথর ।
ধীরে ধীরে স্পন্দিত হচ্ছে হৃদয় । রৌদ্র মরিয়া হয়ে উঠলো এক মুহুর্তেই । উত্তাপে শরীর স্পর্শ করা যাচ্ছে না মেয়েটার । রৌদ্র ওকে সামলে ধরে । দুহাতে দুগাল চেপে ধরে । ঝাঁকায়….

” ইভারা ,,, শুনছো আমায় ? এই মেয়ে ? প্লিজ চোখ খোলো …..
মেয়েটার চোখের পত্র যুগল শক্ত করে জমাট বেঁধেছে । ওষ্ঠ জোড়া জ্বরের তোপে ফেটে রক্তাক্ত । মেঘা একেই টকটকে ফর্সা । টোকা দিলেই মিলিয়ে রক্ত গলিয়ে পড়বে এমন । তার উপর এই মুহূর্তে জ্বরের তোপে পুরো মুখশ্রী আরো লালচে হয়ে উঠেছে । ফর্সাটে ভাবটা হয়ে উঠেছে রক্তিম ।
রৌদ্রের ঠোঁট মুখ শুকিয়ে আসে । সচল মস্তিষ্ক এটুকুতেই তার সচলতা হারাতে বসে । ভেবে কুল পায় না সে । দ্রুত মেয়েটাকে সন্তর্পণে উঠিয়ে নেয় নিজের বাহুডোরে । রমনীর নিথর তপ্ত শরীর টাকে পাঁজাকোলা করে শক্ত করে ঠেসে ধরে বুকের সাথে । ছুটে চলে এলোমেলো পায়ে ।
ছাদের সিঁড়ি বেয়ে ধপধপ করে দোতলায় নেমে ডাকে চিৎকার করে……
” মম ,, তাড়াতাড়ি এসো প্লিজ । কোথায় তুমি ,, মনি….
দিক দিশা খুইয়ে রৌদ্র নিজের ঘরে ঢুকলো মেঘা কে নিয়ে । খাটে শোয়ালো ওকে । শরীরে কমফোর্টার জড়িয়ে দিয়ে ফের হন্তদন্ত হয়ে বাইরে বেরোলো । করিডোর হতে হাঁক ছাড়ল বিচলিত হয়ে…..

” মম , মনি , প্লিজ তাড়াতাড়ি আমার রুমে এসো । ইভারা ইজ নট ওকে…। সামথিং ইজ রং উইথ হার । প্লিজ মম , তাড়াতাড়ি এসো ।
রৌদ্র হাঁসফাঁস করে রুমে ছুটে যায় আবার । পরপর দুবার ওর এমন গগন বিবাদী চিৎকার শুনে রুবিনা কাবির, শাহিনা কাবির ভড়কান । ড্রইং রুমে বসে ছিলেন বাকিরা সহ । ছেলের চিৎকারে চটজলদি ছেলের ঘরে উঠলেন সকলে । সবার আগমনে হুলস্থুল পড়লো রৌদ্রের ঘরে ।
রৌদ্র মেঘার মুখখানি আজলে নিয়ে ঝাঁকিয়ে একনাগাড়ে ডেকেই চলেছে উৎকণ্ঠিত হয়ে….
” ইভারা , এই চোখ খোল । ওঠ প্লিজ….
একবার তাকা আমার দিকে । কি হয়েছে তোর ?
” মেঘা , কি হয়েছে ?
শাহিনা কাবির হুড়মুড়িয়ে এগিয়ে যান ।

” দেখো মনি , জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে । এই ইডিয়ট এই অবস্থাতেই সেন্সলেস হয়ে পড়ে ছিলো ছাদে । ডাকছি, শুনছেও না । প্লিজ কিছু করো । ডাকো ওকে । এই ইভারা ,,,,
তোফায়েল কাবির সহ বাকিরা আসতেও সময় পার করলেন না । শাফাহ্,সারা সবাই হামলে পড়লো মেঘার উপর । সিরাত কপাল আর গলায় হাত ছোঁয়ানো মাত্রই আঁতকে ওঠে ।
” মেঘা….একি আবারও জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে ।
টুকটুকি ,,, আদ্র কোথায় ? কাল থেকে জ্বর মেঘার ! ও গুরুত্ব দিচ্ছে না কেনো ? কোথায় ও ?
” আপু , প্লিজ দেখো না কি হয়েছে ওর ! ডক্টর কে ডাকো প্লিজ । ইভারা , চোখ খোল না একবার । এই ইডিয়ট , তাকা চোখ মেলে ।

রৌদ্র কে এমন ছটফট করতে দেখে পুরো ঘরের সবাই স্তব্ধ হতে ভুললো না । মূক বধির হয়ে এক দৃষ্টিতে সকলে চেয়ে আছে । সিরাত চোখ সরু করে ভাইয়ের দিকে তাকায় । বেশি স্ট্রেসে কপালের দগদগে তাজা ক্ষত হতে রক্তের স্রোত নেমেছে । মুখশ্রী শক্ত হয়ে তামাটে বর্ন ধারন করেছে শঙ্কায় । চোয়ালের ধার ঘেঁষে গড়িয়ে পড়ছে উষ্ণ লাল তরল । রৌদ্রের খেয়াল নেই সেদিকে । চোখে মুখে স্পষ্ট ত্রাস । কেমন বিচলিত সে । সিরাত ধীরে বললো…..
” রৌদ্র , হাইপার হচ্ছিস কেনো এভাবে ? জাস্ট জ্বরের ঘোরে জ্ঞান হারিয়েছে মেঘা । কিচ্ছু হয়নি , হবে না । রিল্যাক্স ! নিজের দিকে খেয়াল দে, কপাল থেকে রক্ত ঝড়ছে…
রুবিনা কাবির আঁতকে ওঠেন । ছেলেকে এক টানে দাঁড় করান । রক্ত দেখে শঙ্কিত হয়ে বলেন….

” একি , ব্যান্ডেজ খুলেছিল কখন তুই ? রক্ত ঝরছে আবার ।
” ওওও মম , আমার কিচ্ছু হবে না । মরবো না আমি । তোমরা ইভারা কে দেখো না । ডক্টর কে কল করো প্লিজ । বিডি ডক্টরের কন্টাক্ট নেই আমার কাছে । প্লিজ সেভ হার… কিছু হয়ে যাবে ওর !
রুবিনা কাবির থমকান ‌। রৌদ্র বলতে বলতে সম্বিত ফিরে পায় । নিজের ঘরে সবার উপস্থিতি দেখে ধাতস্থ হয় এক মুহুর্তে ‌। তোফায়েল কাবিরের একরোখা তীক্ষ্ণ নজরে নজর পড়া মাত্রই ঠোঁট ভিজিয়ে সংযত করে নিজেকে । চোখ বুজে মাথার চুল খামচে ধরে । লম্বা শ্বাস ফেলে অস্থিরতা লুকিয়ে ধাতস্থ স্বরে বলে….
” ঐ ইডিয়ট টাকে দেখো সবাই । আমি কেউ নই তোমাদের । আমার কিছু হওয়াতে কিচ্ছু যায় আসে না । বাট ওর কিছু হওয়াতে অনেক কিছু যায় আসে । অনেক কিছু মানে অনেক কিছু । ও জ্ঞান হারিয়ে পড়েছিল ছাদে । সামলাও ওকে….
রৌদ্র রুমে সবার একস্থির দৃষ্টি বুঝে নিজেকে সামলে সরে আসলো । হাত মুঠো করে উদগ্রীবতা ধরে রাখলো নিঃশব্দে । ঠোঁট ভিজিয়ে পিটপিট করে চাইলো মেঘার দিকে ।
শরীরের উচ্চ তাপমাত্রার কারণে সাময়িকভাবে বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া বন্ধ করেছে মেঘার মস্তিষ্ক । সে এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান শূন্য । এক গভীর আচ্ছন্নতার অতলে তলিয়েছে । সিরাত রৌদ্রের থেকে মনযোগ সরিয়ে পানি ছেটায় মুখে । গালে চাপড় মেরে ডাকে । মেয়েটার সাঁড়া শব্দ নেই একটুও ‌।
ভেজা টাওয়েল চোখ মুখে চেপে ধরে সিরাত । তোফায়েল কাবির ঘর ছেড়েছিলেন ফোন কানে তুলে । কান থেকে ফোন নামাতে নামাতে ঘরে ঢুকে বললেন….

” ডক্টর আসছেন এক্ষুনি ।
কাল থেকে মেঘা মামনির জ্বর , তোমরা কেউ কিছু বলোনি কেনো আমায় ? জানাও নি কেনো ?
সিরাত মুখ খোলে….
” আমি ঘুমানোর আগে টেম্পারেচার মেপে ঔষধ খাইয়েছি রাতে । আদ্র কাল হসপিটাল থেকে ফিরে আবারো টেম্পারেচার মেপেছিলো । আজ দুপুরে মেডিসিন ও দিয়েছে । বিকেল অবধি ঠিক ছিলো তো মেঘা । আবার এমন এতোটা জ্বর আসবে ভাবিনি ।
ঠান্ডা পানির ঝাপটায় এতক্ষণে মুখ কুঁচকে আসে মেঘার । মাথা নাড়িয়ে বাম পাশ হতে মুখ ফেরায় ডান পাশে । মস্তিষ্ক সজাগ হয় খানিক । শাফাহ্ আঁতকে বলে….
” আপু , মেঘা….
” মেঘা , ঠিক আছিস ? কি হয়েছিলো তোর ?
রৌদ্র তেড়ে যায় । বিছানার পাশে বসে সব ভুলে । ফের বিচলিত হয়ে পড়ে আশপাশ নজরের বাইরে রেখে…..
” ইভারা , আর ইউ ওকে ?

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২০

এইই ইডিয়ট , চোখ খোল ভালো করে । তাকা আমার দিকে ! কি হয়েছে তোর ?
চোখের পাপড়ি ভার । খুলতে বড্ড কষ্ট হলো । খুব চেষ্টা করে নিভু নিভু মেললো অক্ষি যুগল‌‌‌ । ভেজা আধো চোখে ঝাপসা দেখলো রৌদ্রের অবয়ব । মুখ গোল করে শ্বাস টানলো । বিভৎস যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে মাথা । চোখ বুজে নিলো আবার । ছেলের মতিগতি সুক্ষ্ম নেত্রে ঠাহর করলেন তোফায়েল কাবির । পরিস্থিতি বেগতিক লাগলো । বিপরীতে চাকা ঘুরবে না তো আবার ? এটা তো হওয়ার নয় ! হতে দেওয়া যায় না । ঢোক গিললেন তিনি । ভঙ্গিতে পরিবর্তন এনে ধারালো কন্ঠে মুখ খুললেন এ পর্যায়ে…..
” সিরাত , ডক্টর আসছে । মেঘা কে এ ঘর থেকে ওর নিজের ঘরে নিয়ে যাও ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২১