Home প্রফেসর উজান চৌধুরী প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৭

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৭

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৭
বন্যা সিকদার

‘মৌ’ শব্দটা শোনা মাত্রই উজানে’র মদ্যপ ও রক্তাক্ত মস্তিস্কে যেন ১০০০ ভোল্টের কারেন্ট শক লাগল! সে আর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারল না। বাঘের মতো এক হিংস্র হুঙ্কার ছেড়ে সে ঝাপিয়ে পড়ে ইফাতে’র শার্টের কলারটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরল। ​অতিরিক্ত ড্রিংকস আর এসিডের যন্ত্রণার কারণে উজান এই মুহূর্তে নিজের পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিটুকুও প্রায় হারিয়ে ফেলেছে‚ তার শরীর টলছে। তবুও নিজের ভেতরের সমস্ত পুরুষালি জেদ আর হিংস্রতা এক জায়গায় এনে ইফাতে’র মুখের ওপর দাঁড়িয়ে সিংহসুলভ হুঙ্কার ছেড়ে গর্জে উঠল।

​“মৌ? কাকে মৌ বলে ডাকছিস হ্যাঁ? তাসফিয়া মৌ চৌধুরী শুধুমাত্র এই উজান চৌধুরীর‚ অনলি উজান চৌধুরীর নিজের প্রপার্টি । শি ইজ মাই লিগ্যাল ওয়াইফ। ও আমার আমার বউ। তুই কোন সাহসে আমার পারমিশন ছাড়া ওর নাম ধরে ডাকিস? নেক্সট টাইম যদি ওরন ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাস তবে ‘ভাবি’ বলবি ওকে‚ অনলি ভাবি। বুঝতে পেরেছিস?
​ইফাত আর তন্ময় স্তব্ধ হয়ে একজন আরেকজনের দিকে তাকাল। যে ছেলেটা এতদিন মৌ’কে নিজের ‘বউ’ বলে স্বীকৃতি দেয়নি সে আজ মদ্যপ অবস্থায় বুক চিরে চিৎকার করে বলছে মৌ নাকি তার লিগ্যাল ওয়াইফ। তার এই দ্বিচারিতা দেখে ইফাত আর নিজের রাগ সামলাতে পারল না। সে এক ঝটকায় উজানের হাত দুটো নিজের কলার থেকে ছাড়িয়ে দিয়ে তাকে সজোরে পেছনের দিকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল।
​”জাস্ট শাট আপ উজান! নিজের এই নোংরা পাগলামি এবার বন্ধ করবি? যে মেয়েটাকে তুই কোনোদিন নিজের বউ বলে মন থেকে মানিসনি, যাকে দিনের পর দিন কষ্ট দিয়েছিস এখন কোন মুখে তুই তাকে নিজের বউ বলছিস? আমি খুব ভালো করে জানি আর একটু পর তোর এই মদের নেশা কেটে গেলেই তুই আবারও সেই আগের মতো রুক্ষ আর নিষ্ঠুর বিহেভিয়ার করবি। সো‚ দয়া করে নিজের এই সস্তা ড্রামা বন্ধ কর আর শান্ত হয়ে বাসায় চল। অনেক রাত হয়েছে মৌ…আই মিন‚ ভাবি তোর জন্য না খেয়ে ওয়েট করছে।

​উজানে’র মত্ত চোখে যেন হিংস্রতার পারদ আরও চড়ে গেল। সে দেয়াল ধরে কোনোমতে নিজের টলমলে শরীরটা সামলে নিয়ে কর্কশ গলায় চেঁচিয়ে উঠল‚ “হার্ট? কিসের হার্ট হ্যাঁ? ওই মেয়েটাকে যখন আমি সামান্য একটু কথার আঘাতে হার্ট করি‚ তখন তোদের দরদ উথলে ওঠে। তোদের চোখে সেটা খুব বড় করে পড়ে অথচ ও যখন দিনের পর দিন আমার ইগোতে আঘাত করে‚ অন্য একটা পুরুষের বুকে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমাকে ক্ষতবিক্ষত করে তখন তোদের সেই অন্ধ চোখে সেটা কেন পড়ে না‚ বল?
​তন্ময় এবার খানিকটা এগিয়ে এলো। উজানে’র টকটকে লাল চোখের দিকে নিজের দুই চোখ রেখে অত্যন্ত দৃঢ় গলায় বলল‚ “স্টপ দিস বুলশিট উজান। ভাবি তোকে কোনোদিন একটুও হার্ট করেনি বরং তুই নিজে প্রতিনিয়ত তাকে ক্ষতবিক্ষত করিস। এই আধুনিক যুগে যেখানে একটা ছেলে দিনের পর দিন বুক ফেটে কান্না করেও নিজের প্রেয়সীকে ধরে রাখতে পারে না‚ সেখানে ভাবি প্রতিটা সেকেন্ড তোর মতো একটা পাষাণের পেছনে ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’ বলে ছায়ার মতো ঘুরে বেড়ায়। আর তুই সেটাকে চরম অবহেলায় ইগনোর করিস। আর আজ হুট করেই তোর ওই নোংরা ইগোতে আঘাত লাগায় মনে হলো সে তোকে হার্ট করছে? শোন উজান‚ তোর এই আগলা পিরিত আর পজেসিভনেস নিজের পকেটে রাখ। মুখে যখন কোনোদিন বুক ফুলিয়ে ‘ভালোবাসি’ শব্দটা বলতে পারিস না তাহলে এমন কুৎসিত কাজের মাধ্যমে সেটা প্রমাণ করার কোনো দরকার নেই।

​”এক্কেবারে রাইট কথা বলেছিস তন্ময়।
ইফাত এবার উজানে’র মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আওরায়‚ “বাই দ্য ওয়ে উজান‚ তুই কোন সাহসে ওই নির্দোষ সাব্বির ছেলেটার গায়ে হাত তুললি? তুই কি জানিস‚ ছেলেটার এই রক্তাক্ত অবস্থা দেখে ওর মা হসপিটালের মেঝেতে পড়ে কেমন পাগলের মতো চিৎকার করে কাঁদছে? ছেলেটাকে এই মুহূর্তে ইমার্জেন্সি অ্যাপয়েন্টমেন্টে হসপিটালের আইসিইউতে (ICU) লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। তোর এই এক মুহূর্তের ভুলের জন্য আমার ওই ফুলকন্যা ও আজ পাগলের মতো তার ভাইয়ের জন্য হসপিটালের বারান্দায় আছাড় খেয়ে কাঁদছে। যদি আজ সাব্বিরের কিছু হয়ে যায় তখন কী হবে উজান? তখন কি তুই তোর এই ইগো দিয়ে একটা জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবি?
​ইফাত একদমে কথাগুলো বলে থামল। কিন্তু উজানে’র ভেতরের সেই পজেসিভ রাক্ষসটা যেন শান্ত হওয়ার বদলে আবারও এক মস্ত বড় গর্জন তুলে উঠল। “আই জাস্ট ডোন্ট কেয়ার। সাব্বির মরুক আর বাঁচুক তাতে উজান চৌধুরীর কিচ্ছু যায় আসে না। উজান চৌধুরীর প্রপার্টির দিকে যে পুরুষ ভুল করেও নজর দেবে‚ তার শেষ পরিণতি ঠিক এই আইসিইউর বিছানাই হবে।

​”উজান তুই কি সত্যিই একটা পাগল? যাকে তুই ভালোবাসিস না‚ বউ হিসেবে কোনোদিন মেনে নিস না তাকে নিয়ে তোর মনে এত জেলাসি ফিল কেন হয়‚ বল তো?
​উজান এবার নিজের সামনে থাকা কাঠের চেয়ারটায় সজোরে এক লাথি বসিয়ে দিল। তারপর এক হিংস্র সিংহের মতো পুরো বাংলোর ছাদ কাঁপিয়ে গর্জে উঠল‚ “আমি ভালোবাসি না‚ ভালোবাসি না‚ ভালোবাসি না। আমি ওই বিড়ালের বাচ্চাকে আজও একটুও ভালোবাসি না। ও আমার বউ নয়। কিন্তু ও আমার এক্সক্লুসিভ প্রপার্টি। আর উজান চৌধুরীর পার্সোনাল প্রপার্টির দিকে যে পুরুষ চোখ তুলে তাকানোর ধৃষ্টতা দেখাবে তাকে জ্যান্ত খুন করতেও আমার এই হাতের একটা আঙুলও কাঁপবে না‚ মাইন্ড ইড।
​এই কথা শেষ করেই উজান আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। বড় বড় পা ফেলে বাংলোর বাইরে চলে গেল। তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ইফাত আর তন্ময় দুজনেই এক তপ্ত ও দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ইফাত নিজের কপালে হাত দিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগল।

“কেউ পাবে না জেনেও অপেক্ষা করে‚ আর কেউ হাতের মুঠোয় পেয়েও এভয়েড করে। হায়রে ভালোবাসা তুই এমন কেন? যদি তাকে নিজের করে নাই পাওয়া হয় তাহলে কেন এতো মায়া দিলি?
​উজান বাংলো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই তন্ময় আর ইফাতও দ্রুত বাইরে বেরিয়ে এলো। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। উজান তার হাই-স্পিড বাইকটা নিয়ে স্টার্ট দিয়ে ঝড়ের গতিতে হাইওয়ের দিকে বেরিয়ে গেছে। এই মুহূর্তে উজান’কে নিয়ে তাদের দুজনের মনেই ভীষণ টেনশন ও ভয় হতে লাগল। ছেলেটা মাথা ঠান্ডা থাকলে যেমন শান্ত ও ভদ্র‚ মাথা গরম হলে তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি ভয়ংকর ও সাইকো রূপ ধারণ করে। ইফাতে’র সবচেয়ে বেশি ভয় হচ্ছিল মৌকে নিয়ে; না জানি এই মদ্যপ ও হিংস্র উজান বাসায় ফিরে ওই নিষ্পাপ মেয়েটার ওপর কেমন কেয়ামতের ঝড় বইয়ে দেবে। ইফাত আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। সে নিজের গাড়ির এক্সিলারেটর চেপে দ্রুত গতিতে উজানে’র বাইকের পিছু নিল।

​উজান এই ঘোর মাঝরাতে বাইকটা এতটাই মারাত্মক গতিতে চালাচ্ছে যে রাস্তায় থাকা অন্যান্য যানবাহনগুলো তার সামনে এক একটা বিন্দুর মতো মিলিয়ে যাচ্ছে। সে যেন বাতাসের গতিকে টেক্কা দিয়ে ধাবমান হচ্ছিল। প্রায় মিনিট বিশেক পর উজান প্রচণ্ড টালমাটাল অবস্থায় চৌধুরী মঞ্জিলের বিশাল গেট গলিয়ে ভেতরে এসে পৌঁছাল। সে রাগে শরীর কাঁপাতে কাঁপাতে বড় বড় পা ফেলে ড্রয়িং রুমে ঢুকল কিন্তু চারপাশ পুরো নিঝুম। বাসায় বাড়ির কোনো একজন সদস্যকেও দেখতে পেল না সে। অতঃপর রেগে গিয়ে এক সার্ভেন্টকে জিজ্ঞেস করতেই জানতে পারল‚ কিছুক্ষণ আগেই সাব্বিরের আইসিইউতে যাওয়ার খবর পেয়ে বাড়ির সবাই হসপিটালের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছে।

​মুহূর্তের মধ্যে উজানে’র ফর্সা মুখখানা রাগে একদম রক্তাভ লাল হয়ে গেল। যার কারণে আজ উজানে’র এই বেপরোয়া ও ধ্বংসাত্মক অবস্থা‚ ঠিক সেই পরপুরুষের জন্যই মৌ মাঝরাতে হসপিটালে ছুটে গেছে। উজান সেখানে আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না। নিজের বাইকটা ঘুরিয়ে তীব্র আক্রোশে হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। ​উজান যখন হসপিটালের মেইন গেটে পৌঁছাল‚ ঠিক তখনই দেখলো চৌধুরী বাড়ির গাড়ি থেকে মৌ’সহ বাড়ির বাকি সবাই মাত্রই নিচে নামছে হসপিটালের ভেতরে যাওয়ার জন্য। ঠিক সেই মুহূর্তেই উজান এক ঝড়ের গতিতে বাইক থেকে নেমে গিয়ে মৌ’য়ের ডান হাতটা লোহার সাঁড়াশির মতো শক্ত মুঠোয় আকড়ে ধরল। এই মাঝরাতে উজানে’র এমন অগ্নিকুণ্ডের মতো ভয়ঙ্কর মুখচ্ছবি দেখে বাড়ির বাকি সবাই চরম বিস্ময় আর ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। উজান মৌ’য়ের হাতটা এতটাই নিষ্ঠুরভাবে চেপে ধরেছে যে মেয়েটার কবজির হাড় যেন মড়মড় করে ভাঙার উপক্রম হলো। উজান নিজের ভেতর থেকে সমস্ত মদ্যপতা লুকিয়ে এক চরম শীতল কণ্ঠে আওড়াল‚

“চলো পিচ্চি।
​মৌ নিজের হাতের অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শরীর মোচড়ামুড়ি শুরু করে দিল। উজান নিজের অবাধ্যতা দেখে আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। মৌ কাঁদতে কাঁদতে বলল‚ “ছাড়ুন আমাকে। আমি এখন কোথাও যাব না। আমার সাব্বির ভাইয়া মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আমি যবো তার কাছে। ছাড়ুন আমায়।
​মৌ’য়ের মুখ থেকে অন্য ছেলের জন্য এমন আকুতি শোনা মাত্রই উজান নিজের বাম হাত দিয়ে মৌ’য়ের থুতনিটা সজোরে চেপে ধরে বাঘের মতো গর্জন করে উঠল‚ “তোর কাছ থেকে পারমিশন নিতে আমি এখানে আসিনি। কিংবা তোকে হাতজোড় করে রিকোয়েস্ট করে বাড়ি নিয়ে যেতেও উজান চৌধুরী আসেনি। আমি যা বলব তোকে ঠিক সেটাই করতে হবে।
​এই বলেই উজান এক ঝটকায় মৌ’কে এক হাত দিয়েই নিজের কোলে তুলে নিল এবং বাড়ির সবার সামনে দিয়েই তাকে বাইকের সামনে ওপর বসিয়ে এক টানে বাইক স্টার্ট দিল। তার এমন আকস্মিক ও অহংকারী কাণ্ড দেখে উপস্থিত সবাই পুরো স্তব্ধ ও নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আরিফুল চৌধুরী রাগে নিজের দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বললেন‚

“দেখছ মৌসুমি তোমার আদরের ছেলেটা দিন দিন কেমন জানোয়ার আর অমানুষ হয়ে উঠেছে? ভরা রাস্তার মাঝে‚ হসপিটালের সামনে চৌধুরী বাড়ির বউমার গায়ে ওভাবে হাত তুলতে ওর একটুও বাধল না?
মৌসুমি চৌধুরি একদম চুপ হয়ে গেলেন। তিনি নিজেও কিছুতেই মাথায় খাটিয়ে বুঝতে পারছেন না তার শান্ত‚ ভদ্র প্রফেসর ছেলেটা হঠাৎ এমন সাইকোপ্যাথের মতো বিহেভিয়ার কেন করছে। ​কিছুক্ষণের মধ্যেই উজান মৌ’কে নিয়ে ঝড়ের গতিতে বাসায় এসে পৌঁছাল। মৌ পুরোটা রাস্তা কাঁদতে কাঁদতে তার কোল থেকে ছুটে যাওয়ার জন্য হাত-পা ছুঁড়লেও কোনো লাভ হলো না। উজান তাকে একহাতে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে নিজের বেডরুমে ঢুকল এবং দরজায় লাথি মেরে লক আটকে দিয়ে মৌ’কে ধপাস করে বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিল।
​মৌ বিছানায় পড়েই ততক্ষণে তীব্র চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠল।
“আপনি আমাকে কেন জোর করে এখানে নিয়ে আসলেন? আপনি জানেন ওখানে আমার সাব্বির….
​মৌ’য়ের মুখের বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই উজান ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর বাঘের মতো ঝুঁকে পড়ে বলল‚ “জাস্ট শাট আপ। তোকে বলেছি তুই ওই বা*লের নাম নিজের মুখে আন? না তো‚ তবুও কেন মুখে আনলি? তুই এই উজান চৌধুরীর বিয়ে করা বউ‚ তাহলে কোন সাহসে তুই আমার পারমিশন না নিয়ে এই মাঝরাতে বাসা থেকে বের হলি‚ হ্যাঁ?

​মৌ নিজের চোখের জল মুছতে মুছতে চোখ দুটো বড় বড় করে উজানে’র এই হিংস্র রূপের দিকে তাকিয়ে রইল। চোখ থেকে অনবরত নোনা জল গড়িয়ে গাল বেয়ে ওড়নায় মিশে যাচ্ছে। একে তো তার প্রাণপ্রিয় ভাইটার হসপিটালের আইসিইউতে এমন আশঙ্কাজনক অবস্থা‚ তার ওপর সে নিজের বরের এই পৈশাচিক রূপ কোনোভাবেই নিতে পারছে না। সে নিজের ভেতরের সমস্ত ভয়কে একপাশে ঠেলে উল্টো চেঁচিয়ে উঠল‚
​”ফাজলামো করছেন আমার সাথে? ওখানে হসপিটালে আমার সাব্বির ভাইয়া মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে আর আমি এখানে বসে আপনার ওই ফালতু পারমিশনের জন্য ওয়েট করব? সরুন আপনি আমার সামনে থেকে‚ আমি এক্ষুনি হসপিটালে যাব।
​মৌ বিছানা থেকে নেমে যেই না দরজার দিকে যেতে চাইল‚ উজান তার পথ আটকে যমদূতের মতো সামনে দাঁড়িয়ে গেল। “তোকে আমি একবার বললাম না তুই এই রুমের চৌকাঠ পেরিয়ে আজ এক পা-ও বাইরে বের হবি না?
​”আপনি বের হতে না বললেই আমি শুনব নাকি?

মৌ এবার উজানে’র বুকে নিজের ছোট ছোট হাত দিয়ে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলো। “বারবার ‘বউ বউ’ বলে কিসের এত অধিকার দেখাচ্ছেন শুনি? আপনি কি আমায় নিজের বউ বলে মানেন? মানেন না তো। তাহলে আমার ওপর আপনার কোনো জোর বা অধিকার নেই। সো‚ আমি আমার ইচ্ছেমতো যেখানে খুশি যাব‚ যার সাথে খুশি দেখা করব।
​“তোকে আমি বউ মানি আর না মানি দুনিয়ার খাতায় তুই শুধু আমারই বউ। আর আমি যতদিন বেঁচে আছি‚ তুই শুধু এই উজান চৌধুরীর প্রপার্টি হয়ে থাকবি।
“হাত ছাড়ুন?
“ছাড়বো না। আমি যা বলবো তোকে মুখ বুজে ঠিক তাই তাই করতে হবে। ওই কু**ত্তার বাচ্চাকে দেখতে তোকে আমি কোনো জন্মেও যেতে দেব না। বুঝতে পেরেছিস?

​”হাত ছাড়ুন আমার। আমি যাবোই যাব।
মৌ তড়িঘড়ি করে আবারও উজান’কে পাশ কাটিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে চাইল।
​নিজের কথার এমন চরম অবাধ্যতা দেখে উজান নিজের অজান্তেই তার বাম হাতটা তুলে মৌ’য়ের ফর্সা গাল বরাবর সজোরে এক থাপ্পড় বসিয়ে দিলো। ​থাপ্পড়ের তীব্রতায় মৌ সামলাতে না পেরে ছিটকে গিয়ে শক্ত মেঝের ওপর পড়ে গেল। উজান দ্রুত গিয়ে মেঝের ওপর মৌ’য়ের দুই গাল নিজের শক্ত হাতের মুঠোয় চেপে ধরে পশুর মতো হুঙ্কার ছাড়ল।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৬

​“জানোয়ারের বাচ্চা তোকে এতবার বারণ করলাম যে তোকে আমি ওই কু*ত্তার বাচ্চার সাথে দেখা করতে দেব না। তবুও তুই আমার অবাধ্য হোস? আমার কথার ওপর কথা বলিস? তোর উপর আমার কিসের অধিকার? জাস্ট ওয়েট‚ আজ তোকে আমি তোর পূর্ণ অধিকার বুঝিয়ে দিচ্ছি।
​এই বলেই উজান নিজের গায়ের শার্টের….

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here