প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৫
বন্যা সিকদার
এবার উজানে’র চোখের দিকে নিজের গভীর দৃষ্টি স্থির করল। অত্যন্ত আকুল ও নরম সুরে প্রশ্ন করল‘ “প্রফেসর সাহেব আপনি তো আমায় একটুও ভালোবাসেন না তাহলে কেন আমার প্রতিটা আগমন আপনি আগে থেকেই টের পেয়ে যান? কেন আমাকে সব সময় আগলে রাখেন? কেন আমার কষ্টে আপনিও কষ্ট পান?
মৌ’য়ের মুখে ‘ভালোবাসার’ ওই অবুঝ প্রশ্নটা শোনা মাত্রই উজানে’র মুখের সেই চতুর হাসি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল। সে গম্ভীর গলায় মনে করিয়ে দিল।
“গতকাল রাতের কথাগুলো এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন মিসেস চৌধুরী?
কথাটা বলা মাত্রই মৌ’য়ের ফর্সা মুখটা আবারও এক নিমেষে বেলুনের মতো চুপসে গেল। ঠিক তখনই কাল রাতের উজানে’র সেই নিষ্ঠুর ও পাথুরে কথাগুলো তার কানের কাছে কুম্ভকর্ণের মতো বিকট শব্দে বাজতে লাগল। তার বুকের ভেতরটা আবারও অভিমানে ভারী হয়ে উঠল।
মৌ’কে ওভাবে চুপ হয়ে যেতে দেখে উজান নিজের হাতঘড়ির দিকে তাকাল। তারপর গম্ভীর গলায় কড়া নির্দেশ দিয়ে বলল‚
“বিকেলে বান্ধবীদের সাথে বাইরে ফুচকা খাওয়ার যে প্ল্যানিং করেছো ওটা এখনই ক্যানসেল করো। আমি বাসায় ফেরার সময় নিজে তোমার জন্য ফুচকা নিয়ে যাবো। আর হ্যাঁ‚ সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট কথা আমরা যে একে অপরের হাসব্যান্ড-ওয়াইফ এই সত্যিটা যেন এই কলেজের কোনো স্টুডেন্ট বা টিচার ভুলেও জানতে না পারে বুঝতে পেরেছো?
মৌ নিজের ফুলানো গালটা আরও এক কাঠি বাড়িয়ে উজানে’র কড়া নির্দেশ শুনে বাধ্য মেয়ের মতো শুধু আলতো করে মাথা নাড়ালো। উজান হঠাৎই উঠে দাঁড়ালো। তাকে আচমকা উঠে দাঁড়াতে দেখে মৌ-ও টেবিল থেকে নেমে চট করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। কিন্তু উজান কিছু বুঝে ওঠার আগেই‚ এক তীব্র আকুলতায় মৌ দু-হাত বাড়িয়ে উজান’কে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল। উজানে’র শার্টের বুকটা নিজের ছোট ছোট হাতের মুঠোয় শক্ত করে খামচে ধরে অত্যন্ত কাতর ও ভাঙা গলায় বলে উঠল‚
”আমাকে আপনি ভালোবাসেন না সেটা না হয় মেনেই নিলাম। কিন্তু দোহাই আপনার‚ কখনো এই আমিটাকে একা করে মাঝদরিয়ায় ফেলে দিয়ে চলে যায়েন না। আপনাকে যে আমি নিজের জীবনের চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসি। আপনিহীনা এই দুনিয়ায় আমার আর কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই। আপনার মনের ভেতরে আমার জন্য ভালোবাসা না থাকলেও চলবে। শুধু আমি আপনার বউ হয়ে আপনার নামের পাশে বেঁচে থাকতে চাই। আমার এই একটামাত্র অধিকারটুকু প্লিজ অন্য কোনো নারীকে দিয়ে দিয়েন না। আমি অন্য কারো বুকে আপনাকে কিছুতেই সহ্য করতে পারব না‚ মরেই যাব আমি।
উজান তীব্র চমকে উঠে মৌ’য়ের দিকে তাকাল। হুট করে এই মেয়েটার কী হলো সে কিছুই বুঝতে পারছে না। মৌ’য়ের এই আকুল আর্তনাদ আর হারানোর ভয় এক পলকে উজানে’র ভেতরের শক্ত পুরুষালি অহংকারকে যেন নাড়িয়ে দিল। সে নিজের অজান্তেই মৌ’য়ের পিঠের ওপর আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল এবং তার মাথায় হাত রেখে অত্যন্ত ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল‚
“কী হয়েছে পিচ্চি?
মৌ কোনো কথা বলল না‚ সে শুধু উজানে’র বুকে নিজের মুখটা আরও গভীরভাবে গুঁজে দিল। উজান এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের দু-হাত দিয়ে মৌ’য়ের চিবুকটা আলতো করে উঁচিয়ে মুখখানা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। চোখ তুলতেই দেখলো মৌ’য়ের বড় বড় দুটো চোখে অশ্রু চিকচিক করছে। মনে হচ্ছে একটু নাড়া পেলেই বুঝি শ্রাবণের ধারা নামবে। মেয়েটার চোখের এই নোনা জল উজান কোনোভাবেই সহ্য করতে পারে না। কিন্তু কেন? উজান নিজের মনেই এক মস্ত বড় প্রশ্নের মুখোমুখি হলো। সে তো মনে মনে মৌ’কে নিজের বউ হিসেবে স্বীকারই করতে চায় না। মৌ তো তার জীবনে কেবলই এক বড় দায়িত্ব আর ফ্যামিলির চাপিয়ে দেওয়া এক বন্ধন মাত্র। তাহলে কেন এই মেয়ের চোখের সামান্য দু-ফোঁটা জল দেখলেও তার নিজের বুকের ভেতরটা অমন তীব্র হাহাকার করে ওঠে? এটা কি শুধুই দায়িত্ববোধ নাকি নিজের অজান্তেই এই পুঁচকে বিড়ালের বাচ্চার জন্য তার পাথুরে মনে এক মায়ার জাল তৈরি হচ্ছে?
উজান আর বেশি দূর ভাবতে পারল না। এসব গভীর অনুভূতি নিয়ে ভাবা তার নিজের তৈরি করা রুলসের বাইরে তবুও বারবার এই মেয়েটার মায়াবী মুখটাই তার মাথায় ঘুরঘুর করে। হঠাৎই নিজের ভাবনার ঘোর কাটতেই উজানে’র স্থির দৃষ্টি গিয়ে থামল মৌ’য়ের শুকনো ও ম্লান ঠোঁট দুটোর দিকে। “পিচ্চি! কথা বলছো না কেন? মুখটা অমন শুকনো দেখাচ্ছে কেন তোমার?
মৌ এবার ছোট্ট বাচ্চাদের মতো উজানে’র শার্টের বুকে নিজের নাকটা ঘষে মুছে নিল। “আপনাকে আমার থেকে কেউ কেঁড়ে নিতে চাচ্ছে। আপনি যদি আমাকে নিঃস্ব করে চলে যান তাহলে আমি বাঁচবো কিভাবে?
উজান মৌ’য়ের মুখে এমন বোকা বোকা কথা শুনে মৃদু হাসল। সে মৌ’য়ের কপালে আলতো করে নিজের আঙুল দিয়ে একটা টোকা দিয়ে বলল‚ “মিসেস উজান চৌধুরী’র মুখে এমন দুর্বল কথা তো একদম মানায় না। সে তো এত সহজে ভেঙে পড়ার মেয়ে নয়। আজ হঠাৎ কী হলো হুম? আপনার এত সাধের প্রিয় জিনিস বাইরে থেকে কেউ এসে কেঁড়ে নিতে চাইলেই কি আপনি তাকে ওভাবে সহজে ছেড়ে দেবে?
”প্রশ্নই আসে না!
মৌ এক ঝটকায় উজানে’র বুক থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। সে নিজের নাকটা উঁচিয়ে বেশ কড়া গলায় তেজ দেখিয়ে বলে‚
“যেখানে আমি আমার ইউস একটা সামান্য সুতোও কখনো কাউকে দেব না। সেখানে আপনাকে তো অন্য কারো সাথে শেয়ার করার প্রশ্নই ওঠে না। দেখে নেব আমি ওই ডাইনি দুটোকে। আমার বরের দিকে নজর দিলে এক একটার মাথার চুল টেনে একদম ছিঁড়ে কদম ফুল বানিয়ে ফেলব হুহ।
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে নিজের হাত দুটো মুঠো করে কথাটা বলল মৌ। অতিরিক্ত রাগের কারণে এই মুহূর্তে তার ফর্সা নাকের ডগাটা একদম পাকা টমেটোর মতো টকটকে লাল হয়ে গিয়েছে। তবে পরক্ষণেই উজানে’র মুখের দিকে তাকিয়ে সে হুট করেই মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে আদুরে স্বরে আওড়াল‚
“ভীষণ ভালোবাসি আপনাকে দুলহা’জান। আপনি শুধু আমার‚ অনলি এই মৌ চৌধুরীর আর কারো নন।
এই কথাটি বলেই মৌ সেখানে আর একটি মুহূর্তও দাঁড়াল না। উজানে’র সামনে নিজের লজ্জাটুকু আড়াল করতে সে একপ্রকার ঝড়ের গতিতে দৌড়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে চলে গেল। উজান তার ওই চপল ও পাগলাটে চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে নিজের মনেই এক তৃপ্তির মুচকি হাসি ঝুলাল। তারপর নিজের পরবর্তী ক্লাস নেওয়ার জন্য করিডোর দিয়ে বেরিয়ে গেল।
ক্লাস শেষ হতেই মৌ আর মেহের হাফ টাইমের বিরতিতে একসাথেই ক্যাম্পাসের মেইন ক্যান্টিনের দিকে চলে গেল। দুজনে মিলে হালকা কিছু স্ন্যাক্স আর কোল্ড ড্রিংকস খেয়ে আড্ডা শেষ করে ক্যান্টিন থেকে বের হলো। মৌ মেহেরে’র কাঁধে নিজের একটা হাত রেখে পুরো ক্যাম্পাসটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল। অবশ্য ‘ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা’ কথাটা বললে একটু ভুলই হবে‚ কারণ মৌ’য়ের চোখ দুটো আসলে পুরো মাঠ জুড়ে ছদ্মবেশে শুধু তার গম্ভীর প্রফেসর বর উজান চৌধুরীকেই খুঁজে বেড়াচ্ছিল।
ঠিক তখনই‚ এক ঝোড়ো বাতাসের মতো হুট করে পাশ থেকে কেউ একজন এসে চরম শক্ত হাতে মৌ’য়ের ফর্সা কবজিটা আঁকড়ে ধরে এক মস্ত বড় হেঁচকা টান দিল। আচমকা এমন অতর্কিত ও হিংস্র হামলায় মৌ প্রথমে ভীষণ ভয় পেয়ে নিজের চোখ-মুখ একদম খিঁচে বন্ধ করে ফেলল। তবে পরের মুহূর্তেই যখন সে নিজেকে সামলে নিয়ে ধীরপায়ে চোখ মেলল দেখল তার অতি পরিচিত বখে যাওয়া লম্পট ছেলে জিহাদ অত্যন্ত নির্লজ্জের মতো তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আর ঠিক এই ধস্তাধস্তির মাঝেই‚ চোখের পলকে তাদের দুজনকে কেন্দ্র করে চারপাশের ডজন ডজন স্টুডেন্ট এসে এক মস্ত বড় গোল বৃত্ত তৈরি করে ভিড় জমাল।
মেহের মৌ’কে ওভাবে আটকে পড়তে দেখে দূর থেকে একপ্রকার দৌড়েই মৌ’য়ের পাশে এসে দাঁড়াল। মৌ তখনও নিজের জায়গায় পুরো স্তব্ধ ও নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে আসলে আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতো নয়‚ বরাবরই একটু অন্য ধাঁচের মেয়ে। ছেলেদের সাথে অযথা মাখামাখি করা‚ কাছাকাছি থাকা বা ছেলেদের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করাটা সে ছোটবেলা থেকেই একদম পছন্দ করে না। সেখানে এই ভর দুপুরে পুরো কলেজের মাঝখানে দাঁড়িয়ে জিহাদ নামের একটা ছেলে তার হাত স্পর্শ করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে‚ এটা ভাবতেই মৌ’য়ের ফর্সা কপালে রাগের এক তীব্র চড়া ঝিলিক ফুটে উঠল।
এই ছেলেটা গত প্রায় মাস দুয়েক ধরে ক্লাসে কিংবা করিডোরে শুধু মৌ’য়ের দিকেই লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। অবশ্য মৌ এর আগে এসবে তেমন একটা পাত্তা দেয়নি; কারণ তার মতো সুন্দরী মেয়ের দিকে ক্যাম্পাসের কত বন্ধুই তো হা করে তাকিয়ে থাকে। ওসব নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো ফালতু সময় তার নেই। কিন্তু আজ এই ছেলেটা কোন সাহসে‚ কার প্রশ্রয়ে সবার সামনে তার হাত টেনে ধরার মতো এত বড় স্পর্ধা দেখাল মৌ মনে মনে ঠিক সেটাই ভাবছিল। হঠাৎ করেই সবার মুখে মুখে গুঞ্জন থামিয়ে জিহাদ অত্যন্ত নাটকীয় কায়দায় মৌ’য়ের সামনে এক হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ল। তারপর পকেট থেকে একটা বড় লাল টকটকে গোলাপ ফুল মৌ’য়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে পুরো মজনু স্টাইলে বলে উঠল।
“আই লাভ ইউ মৌ! তোমাকে আমি সত্যি সত্যিই অনেক বেশি ভালোবাসি। বিগত দুটো মাস ধরে প্রতিদিন তোমায় এই কথাটা বলতে চেয়েছি কিন্তু মন থেকে কিছুতেই সাহস জোগাতে পারিনি। আজ সবার সামনে সেই সাহসটা করেই ফেলেলাম। প্লিজ আমার এই পবিত্র ভালোবাসাটা তুমি এক্সেপ্ট করো।
জিহাদে’র এই ফিল্মি স্টাইলের প্রপোজাল দেখা মাত্রই চারপাশ থেকে উৎসুক স্টুডেন্টদের কড়া তালি আর শিস দেওয়ার বিকট শব্দ ভেসে এলো। মেহের এই পরিস্থিতি দেখে নিজের শুকনো ঢোক গিলল। সে মৌ’য়ের ভেতরের আসল রূপটা খুব ভালো করেই চেনে তাই সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে আজ এই ক্যাম্পাসে খুব বড় রকমের একটা তুফান বা কালবৈশাখী ঝড় আসতে চলেছে। ঠিক তখনই মেহেরে’র ভাবনার মাঝেই হুট করে বাঘিনীর মতো গর্জে উঠল মৌ। সে আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে‚ জিহাদে’র ওই হাঁটু গেঁড়ে বসা মুখের গাল বরাবর সজোরে এবং ব্যাক-টু-ব্যাক কয়েকটি থাপ্পড় বসিয়ে দিল।
আচমকা এমন থাপ্পড়ের জন্য জিহাদে’র হাতের গোলাপ ফুল মাটিতে ছিটকে পড়ল। মৌ এবার নিজের পুরো গলার জোর দিয়ে রাগে কাঁপতে কাঁপতে চেঁচিয়ে উঠল‚
“শাউ*য়্যার ঘরে শাউ*য়্যা ভালোবাসা তোর পেছন দিয়ে ভরবো। মাঝ বরাবর এমন লাথি মারবো যে জীবনে কোনো মেয়ে তো দূরের কথা। কোনো হিজড়া তোর দিকে ফিরে তাকাবে না৷!”
সবার সামনে এমন থাপ্পড় আর কড়া কড়া গালি খেয়ে জিহাদ চট করে মেঝে থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রাগে লাল হয়ে চেঁচিয়ে উঠল‚ “হোয়াটটট? মৌ তুমি এটা কী করলে? তোমাকে আমি প্রপোজ করলাম আর তুমি আমার ভালোবাসা এক্সেপ্ট না করে সবার সামনে আমাকে এভাবে ইনসাল্ট করছো?
মৌ এবার নিজের মুখটা বাঁকিয়ে চোখ দুটো ছোট ছোট করে উত্তর দিল। “আহারে আমার সোনা গো। তোকে কি আমি বলেছিলাম আমাকে প্রপোজ কর? সাত ঘাটের পানি খেয়ে‚ সাত বেডির সাথে শু**য়ে। আস্তাগফিরুল্লাহ‚ নাউজুবিল্লাহ! তোর মতো একটা ক্যারেক্টারলেস ছেলেকে এক্সেপ্ট করার চেয়ে সারাজীবন একাকী সিঙ্গেল হয়ে ইন্তেকাল করাও আমার জন্য হাজার গুণ ভালো। লুচ্ছা ছেলে একটা।
জিহাদ এবার চরম রাগান্বিত ও অপমানিত বোধ করে আঙুল উঁচিয়ে বলে‚ “মৌ তুমি কিন্তু এবার বড্ড বেশি বেশি করছো। আর তুমি কিসের ভিত্তিতে‚ কোন প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে এভাবে সবার সামনে খারাপ ছেলে বলছো হ্যাঁ?
”চুপ কর শালা। তোর মতো হাজারটা ছেলের চেয়েও হাজার গুণ বেশি হ্যান্ডসাম আর কিউটের ডিব্বা পার্সোনাল ভাবে অলরেডি আমার নিজের জীবনে আছে। সো বেশি কথা না বলে দূরে গিয়ে মর।
কথাটি বলা মাত্রই মৌ সকলের সামনেই জিহাদে’র বুকে ধাক্কা দিয়ে তাকে একপাশে ফেলে দিল। তারপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেহেরে’র হাতটা শক্ত করে ধরে হনহন করে ওখান থেকে চলে গেল। এদিকে জিহাদে’র এমন করুণ ও ধোলাই খাওয়া অবস্থা দেখে ক্যাম্পাসের বাকি স্টুডেন্টরা আড়ালে দাঁড়িয়ে খিলখিল করে হাসতে লাগল।
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৪
সবার সামনে পাওয়া এই চরম অপমান জিহাদ কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারল না। সে নিজের লাল হয়ে যাওয়া গালে হাত দিয়ে চরম হিংস্র চোখে মৌ’য়ের চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বিড়বিড় করে উঠল।
“এই জিহাদ’কে রিজেক্ট করলি তুই মৌ? এর পরিণাম যে তোর জন্য কতটা ভয়াবহ হবে‚ তা তুই কল্পনাও করতে পারবি না। তোকে এই অপমানের শাস্তি নিজের হাড়ে হাড়ে পেতেই হবে। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি।
