Home শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৭ (২)

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৭ (২)

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৭ (২)
রুহানিয়া ইমরোজ

তামজিদকে উল্টোপাল্টা বুঝিয়ে আমোদিত হয়ে ঘরে ঢোকে তাজ। শাড়ি পরিহিত মেহরিমাকে দেখে ইগোইস্টিক ব্যাটার নিয়ত জালিয়াতি করে বসেছে। মন বলছে ওই মহিলা তোর হক মেরে খেয়েছে।
মস্তিষ্ক বলছে, তুইও কিছু মিছু খেয়ে ঋণ পরিশোধ করে দে। মন মস্তিষ্কের দ্বন্দ্বের শেষে তার অহংবোধই জিতে যায় তবে মনের খচখচানি থামাতে না পেরে কাবার্ডের কাছে থাকা মেহু খোঁচা মেরে গেয়ে ওঠে,
–” তুমি জ্বালাইয়া গেলা মনের আগুন। নিভাইয়া গেলা না।
মেহরিমা শুনল। পিছুও ফিরল তবে রিয়েক্ট করল না। নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। তার ভাব দেখে তাজরিয়ান আরও জ্বলে উঠল কিন্তু মেহরিমার অসুস্থতার বিষয়টা মাথায় আসতেই থেমে গেল। রাগের চোটে টি-শার্টটা খুলে ফেলে বিড়বিড়িয়ে বলল,

–” যত খুশি তত ভাব দেখিয়ে নাও মেয়ে। সময় আর খুব বেশি নেই। একবার ধরতে পারলে সোজা বাচ্চার আম্মা বানিয়ে ছাড়ব তোমায়।
সেকথা মেহুর কান অব্দি যায় না। সারারাত কামলা দিয়ে ভীষণ ক্লান্ত তাজরিয়ান। মেহুর দিকে ঠিকঠাক মত না তাকিয়েই ধপাস করে শুয়ে পড়ে বিছানায়। তার ভারিক্কি শরীরের ভারে শব্দ করে নড়ে উঠে খাট তা দেখে তাজরিয়ান অতি দুঃখী গলায় বলে,
–” বাসরের আগেই বিড়ম্বনা বাঁধাইতাছস? তুই তো দেখি মান ইজ্জত মেরে খাবি রে বাপ।
কথাটা কানে যায় মেহরিমার। ক্ষোভে ফেটে পড়ে ওর অন্তরাত্মা। কীভাবে রাগ দেখাবে বুঝতে না পেরে সাময়িক নিরব থেকে হুট করে বলে,
–” গা ভর্তি আবর্জনা নিয়ে বিছানায় শুয়েছেন কেন? কি বিশ্রী গন্ধ.. ছিহ্!
সারারাত একচেটিয়া স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে ভীষণ মাথাব্যথা করছিল তাজের। আরশিয়ানের
ওই ব্যপারটা নিয়েও স্ট্রেসড ছিল। তার ভাষ্যমতে সব নারীরাই ছলনাময়ী। প্রিমা তার কিঞ্চিৎ সত্যতাও প্রমাণ করেছে। শুয়ে চোখ বুঁজে ওইসবই ভাবছিল তাজ। আচমকা মেহরিমার প্রান্ত থেকে আগত স্মিত টিটকারিটা ভীষণ গায়ে লাগে তার।
এমনিতেও উঠে শাওয়ার নিয়ে খেয়েদেয়ে অতঃপর ঘুমাতো কিন্তু মেহরিমার কথায় রাগ ধরে যায় রীতিমতো। তড়াৎ করে উঠে মেহরিমার সম্মুখে দাঁড়িয়ে ওর গাল চেপে ধরে রূঢ় স্বরে বলে,

–” স্বামীর সাথে বেয়াদবি করলে তো মরলে। আমি ব্যড বয় নই যে…
তাজরিয়ান বুঝিয়েছে এক; ব্যথায় কাতর মেহু বুঝে নিল আরেক। তাই কথাটা শেষ হওয়ার আগেই তাচ্ছিল্যের সহিত বলে,
–” জানি তো। আপনি হলেন মনস্টার টয়। যে কিনা শুধু মেয়েদের সাথেই জবরদস্তি করতে পারে।
কথাটা ইগোতে লাগলো তাজের। কেননা, এইপর্যন্ত মেহু ব্যতীত কোনো নারীর সান্নিধ্যে যায়নি সে৷ ওর আশেপাশে রমণীর মেলা লেগে থাকে ঠিকই কিন্তু ওদের কাছাকাছি যাওয়ার রুচি হয়নি কখনো তাই চরিত্রহীন অপবাদ পেয়ে খট করে মেজাজ গরম হল তাজের।
পরক্ষণে আরশিয়ানের কথা ভেবে শান্ত থাকার চেষ্টা করল। নিজেকে কঠিন নিয়ন্ত্রণে রেখে হিসহিসিয়ে বলল,
–” দিস্ মনস্টার টয় ক্যান ডেস্ট্রয় ইয়্যু উইদ ইন আ সেকেন্ড সুন্দরী..
মেহরিমা কি থেমে থাকার বান্দী? একদমই নয়, সে অবিচল গলায় বলল,
–” তো বাঁচিয়ে রেখেছেন কোন সুখে? মেরে দিন না। আমার তো বাপ মাও নেই, যে লাশের খোঁজ করতে আসবে। মেরে দিয়ে আপনিও বাঁচুন আমারও জান বাঁচান।
এরকম দুঃখী স্বরও কোনো প্রভাব ফেলতে পারল না ঝগড়ুটে তাজের উপর। পাক্কা বিজনেসম্যানের মতো হিসাব করে বলে উঠল ও,

–” ১৯২০ টাকা কাবিনে বিয়ে করেছি। মিনিমাম বিশ টা ছানাপোনা না নিয়ে কীভাবে মেরে দিই তোমায়?
রাগে দুঃখে নিজেরই চুল ছিঁড়তে মন চাইল মেহুর৷ এ কার পাল্লায় পড়ল ও? বিলিওনিয়ার হওয়া সত্ত্বেও সামান্য ১৯২০ টাকা নিয়ে ছোঁচামি করছে? ছিহ্!
তাজ নামক সাইকোর চক্করে পড়ে সাইকোলজিস্ট হওয়ার শখ ঘুচে গেছে মেহুর। ভীষণ রাগ লাগলেও তার কাছে কোনো সলিড পয়েন্ট নেই ঝগড়া করার তাই তাজের হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে মেহু বলে উঠল,
–” আপনার সাথে তর্কে যাওয়াটাই ভুল হয়েছে। দয়া করে পথটা ছাড়ুন।
তাজ কি আর ছাড়ার বান্দা? মোটেও নাহ্, ও মেহুর কোমর জড়িয়ে ধরে কঠোর গলায় বলে,
–” যে পথেই হাঁটো ; পরিশেষে আমিই তোমার গন্তব্য সুন্দরী।
মেহু জবাব দিতে পারে না। রাগে ফুঁসতে থাকে স্রেফ। সারাজীবনের সেরা ডিবেটর কিনা একজন মাফিয়ার সাথে ঝগড়ায় পেরে উঠছে না। এই তিক্ত সত্য হজম করা যায়? মেহু তো পারে না। সে ভেতরে ভেতরে রাগে ফুঁসতে থাকে। বুদ্ধিমান তাজ সেটা লক্ষ্য করে ভাবে, এইতো সুযোগ। মারের বদলা নিয়েই ছাড়বে এবার৷ ভাবনা মোতাবেক মেহুকে আদেশের সুরে বলে,

–” ঝগড়া না করে জাইঙ্গা খুঁজো। আম্..
কথাটা শেষ করতে পারল তাজরিয়ান। মেহরিমা গর্জে উঠে বলল,
–” অসম্ভব!
বেপরোয়া তাজ নির্বিকার গলায় বলল,
–” গোসল করে লুঙ্গি পরব। হালকা ফ্যানের বাতাসে উহা উঠলে আকাশে; তুমি চিক্কুরিয়াও কুল পাবা না। বাকিটা তোমার সিধান্ত।
মেহরিমা পড়েছে ফ্যাসাদে। তাজের ঘুমানোর স্টাইল একেবারে বিশ্রী। এমতবস্থায় প্রটেকশন বিহীন লুঙ্গি পরলে.. বাকিটা কল্পনা করতে চাইল না মেহরিমা। রাগে গজগজ করতে করতে কাবার্ড হাতড়ে তাজের আন্ডারওয়্যার খুঁজতে লাগলো। মেহুকে দমাতে পেরে তাজের ডমিমেন্ট সত্তাটা বেশ শান্তি পাচ্ছিল।
মেহু রাগে গজগজ করতে করতে খুঁজছিল৷ হুট করে
তাজের ছেঁড়া শর্টস হাতে আসতেই মেহরিমা চোখ মুখ কুঁচকে বিদ্রুপাত্মক স্বরে বলল,

–” গরিব হওয়ার একটা লিমিট থাকে। কিছু মানুষ সেটাও ক্রস করে গেছে..
কথাটা শেষ করতে পারেনি মেহু। তার আগেই পেছন থেকে ওর বাঁ হাতটা মুচড়ে ধরে তাজরিয়ান। ঘটনার আকস্মিকতায় মেহু গিয়ে ধাক্কা খায় তার প্রশস্ত বুকে। হাতের ব্যথায় মৃদু আর্তনাদ করে ওঠে বেচারি কিন্তু বেপরোয়া তাজ ভ্রুক্ষেপহীন। মেয়েলি তেজটা ওর মেইল ইগোতে লেগেছে। মস্তিষ্ক টগবগিয়ে উঠছে রাগে৷ মন চাইছে খুন করে দিতে কিন্তু হাজার হোক তার একমাত্র বউ বলে কথা৷ এত সহজে তাকে মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছে নেই তাজের। ওদিকে মেহরিমা তেঁতে উঠে বলে,
–” ছোটোলোক কোথাকার! ছাড়ুন আমায়..
পাল্টা জাবাব দেয় না তাজ। গালিগালাজটা বড্ড গায়ে লাগে৷ খুব সাহস বেড়েছে মেয়েটার৷ একটু শাসন করা দরকার তাকে। মেহরিমার হাতটা আরও শক্ত করে চেপে ধরে দ্রুত আলমারির লকার খুলে। সব কয়টাতেই তার ফিঙ্গার, ফেস লক আর আই স্ক্যানার দেওয়া।
শেষের লকটা খুলতেই একটা ড্রয়ার দেখা যায়। সজোরে সেটা টান দেয় তাজরিয়ান। সাথে সাথেই বেশকিছু পাসপোর্ট এবং সিটিজেন শিপের কাগজপত্র বের হয়। মেহরিমা হতভম্ব হয়ে যায় রীতিমতো। একটা মানুষ কত বড় দূর্নীতিবাজ হলে তার কাছে এগারোটা পাসপোর্ট আর পাঁচটা দেশের নাগরিকত্ব থাকতে পারে?
হতবাক মেহরিমাকে আরেকটু হতভম্ব করতে তার কানের কাছে মুখ এনে তাজরিয়ান ফিসফিসিয়ে বলে,

–” শর্টসে ফুৃটো থাকলেও ভবিষ্যৎ কিন্তু ফকফকা বউজান। শর্টসের তলা ক্ষয় হলেও তোমার স্বামীর রাজ্য অক্ষত আছে । বুঝেছ সোনা?
মেহরিমার কানে ঢুকে না কোনো কথা। সে অবাক কন্ঠে শুধায়,
–” কী করেন আপনি?
তাজরিয়ান বাঁকা হাসে বউয়ের কথায়। মজার ছলে বলে,
–” রাতে করি তোমায় শাসন আর দিনে করি দুনিয়া শোষণ। এটাই আমার কারবার বউজান।
আরশিয়ানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে আছে প্রিমা। লোকটা ওর কাঁধে মুখ গুঁজে শান্তিতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওদিকে প্রিমা অশান্তির শীর্ষে অবস্থান করছে। লোকটা কতদূর কি জেনেছে ; সেই চিন্তায় অস্থির লাগছে। আরশিয়ান কৌশলী মানুষ। সহজে কাউকে কিছু বুঝতে দেয় না কিন্তু তলে তলে সমস্ত প্রমাণ জোগাড় করে একদম বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আতঙ্কে দিশেহারা প্রিমা নিজেকে দমাতে না পেরে ধীর গলায় বলে,

–” ঘুমিয়ে পড়েছেন?
প্রিমার অস্থিরতার কারণ খুব ভালোমতো জানা আছে আরশিয়ানের। প্রিমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে এতক্ষণ পৃথিবীতে এক্সিস্টই করতো না কিন্তু ঘরের বউয়ের বেলায় থোড়াই না নির্দয় হওয়া যায়। শান তো আবার একটু বেশিই ভালোবাসে তার প্রাণ প্রিয় স্ত্রীকে। তাই বউয়ের প্রশ্নের জবাবে ক্লান্ত স্বরে বলে,
–” উঁহু।
ঘুমঘুম স্বরটা মাদকীয় শোনায়। লোকটার বাহ্যিক গঠন আর ব্যক্তিত্বের মতো কন্ঠস্বরটাও চমৎকার। ঘুমঘুম স্বরটা নেশাদ্রব্যকেও হার মানায়। প্রিমা ঢোক গিলে আঁইঢাই করে শুধাল,
–” মানে বলছিলাম কি, অফিসের ঝামেলাটা শেষ হয়েছে? কে করেছে? কেনো করেছে? কিছু জানতে পেরেছেন?
হায়রে নারী জাতির ছলাকলা! আরশিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
–” হ্যাঁ সবই জানা গেছে।
প্রিমার শ্বাস আঁটকে যায়। বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে ওঠে। মনে হয়, এই শেষ আর পরদিন সূর্যের মুখ দেখা হবে না তার। তবুও বড্ড সাহস করে ক্ষীণ স্বরে শুধায়,
–” ক্ কি জেনেছেন?
প্রিমার সাথে মিশে শুয়ে থাকা আরশিয়ান স্পষ্ট টের পাচ্ছে ওর কম্পন, হৃৎস্পন্দনের গতিবেগ, জড়তা এবং আশঙ্কা কিন্তু বউকে ঘাবড়ে যেতে দেখে ভালো লাগলো না তার। নিশ্চয়ই মুখটা আতঙ্কে ফ্যাকাসে রুপ ধারণ করেছে? আহারে, এত সাসপেন্স ক্রিয়েট করা উচিত হয়নি তার।
আরশিয়ান এবার গলা ঝেড়ে বলে,

–” সুযোগ বুঝে আপনার ফোন হ্যাক করে সমস্ত ইনফরমেশন হাতিয়ে নিয়েছিল ওরা। সেগুলোরই মিস ইউজ করেছে।
প্রিমার বুক ধড়ফড়িয়ে উঠলেও শেষের কথাটা শুনে একটু ধাতস্থ হয়। আরশিয়ানের কথার টোনে বোঝে সরাসরি ওকে দোষী ভাবা হচ্ছে না বরং সে ভাবছে হয়তো কেউ তাকে বোকা বানিয়ে তথ্য নিয়েছে। এই ব্যপারটা ভীষণ স্বস্তি দেয় প্রিমাকে। আঁটকে রাখা দম ছেড়ে বড়সড় শ্বাস নেয়।
আরশিয়ান স্মিত হাসে বউয়ের কান্ডে। এই হাটুঁসম বুদ্ধি নিয়ে তার মতো রাঘববোয়াল কে জব্দ করতে এসেছে। ভীষণ ইন্টারেস্টিং ব্যপারটা। বউয়ের মুখে একটুখানি লাজুক আভা দেখতে ফট করে এক ভয়ানক কথা বলে বসল আরশিয়ান। প্রিমার পিঠে আলতো করে হাত বোলাতে বোলাতে বলল,
–” প্রজেক্টের ব্লু প্রিন্ট যাওয়াতে বিচলিত হইনি আমি তবে ওই ফোল্ডারে এই ফাইলের চাইতেও অধিক কনফিডেন্সিয়াল কিছু ছিল যেটা ওদের হাতে যাওয়া উচিত হয়নি।
প্রিমা অবুঝ স্বরে শুধায়,

–” আর কি ছিল? কি পেয়েছে ওরা?
আরশিয়ান বড্ড সাবলীল গলায় জবাব দিল,
–” কিছু পায়নি তবে শুনেছে , আমার পাগলামি সামলাতে গিয়ে আপনার মুখনিঃসৃত কিছু প্রতিধ্বনি..
ব্যস্! এতটুকু যথেষ্ট ছিল প্রিমাকে লজ্জায় জুবুথুবু করে দিতে। বেচারি স্তব্ধ হয়ে যায় রীতিমতো। নির্ঘাত গত পরশু রাতের ঘটনা এটা? ওর ফ্রিজ হয়ে যাওয়া ব্যপারটা টের পেয়ে আরশিয়ান ঘুমঘুম স্বরে শেষ বাক্যটা আওড়ায়,
–” দে ওয়ার লিসেনিং.. দ্যা হোল টাইম হোয়েন উই..
প্রিমা নড়েচড়ে উঠে অস্ফুটস্বরে বলে,
–” হুঁশ! আর শুনতে চাই না আমি..
আরশিয়ান বাঁকা হাসে। বউ তার লাজে লাল হয়ে গেছে। এটাই তো চায় শান। এরকম একটা সংসারের জন্যই তো এত আত্মত্যাগ করেছে। মেয়েটা কেনো যে ওয়াসীত্বদের ফাঁদে পা দিতে গেল; এবার তো তাকেও খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসল রুপটা দেখাতে হবে।
হাহ্, বউয়ের চোখে সাধু শান্ত পুরুষ হয়ে থাকার সৌভাগ্য নেই তার। নিজের জন্য বড্ড মায়া হলো আরশিয়ানের পরক্ষণে কিছু একটা মনে পড়তেই ঘুমে টলতে থাকা প্রিমাকে বলল,

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৭ 

–” সন্ধ্যায় একটা পার্টি আছে মরফিন ক্লাবে। অত্যন্ত জরুরি এনাউন্সমেন্ট দেওয়ার জন্যই সাডেনলি অরগানাইজ করা হয়েছে পার্টিটা। আপনাকেও যেতে হবে সাথে সুতরাং রেডি হ’য়ে আমাকে ডেকে দিবেন।
প্রিমা অস্ফুটস্বরে সম্মতি জানিয়ে চুপ করে রইল। লোকটার সান্নিধ্যে এসে তার নির্ঘুম চোখদুটোতে নিদ্রা নেমে এসেছে। অথচ বেচারি টের অব্দি পেলো না ; সামান্য একটা পার্টি বদলে দিতে যাচ্ছে পুরো খেলাটা। বেচারি বোধহয় জানে না, চেকমেট দিতে বরাবরই ওস্তাদ আরশিয়ান ইসফার চৌধুরী।

শিরোনামহীন অনুভূতি সিজন ২ পর্ব ২৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here