এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪৫
সুহাসিনী
“আপনি এখানে কি করছেন? কেউ দেখলে তো সমস্যা হবে।”
এই ফুটপাতে ফুচকার দোকানে দাঁড়িয়ে আছে সদ্য হওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আশেপাশের মানুষজন কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে এবং কিছু লোক কানাঘুষাও করছে। বডিগার্ড চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে প্রেম এবং রাহিদের। প্রেমের মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই তার মাথায় বা মনে কি চলছে। রাহিম ভয় পেলেও মুখে তা প্রকাশ করল না। প্রেম গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“আর একটা ওয়ার্ড ব্যয় না করে সরাসরি চুপচাপ গাড়িতে গিয়ে বসো দুজন।”
নিপা প্রতিউত্তরে কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাহি তার হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। গাড়িতে উঠে রাহি হালকা মাথা বের করে মিনমিন করে বলল,
“ফুচকার বিল দেই নি বিলটা মিটিয়ে আসুন প্লীজ।”
প্রেমের মুখ গম্ভীর। লিয়নের দিকে ইশারা করে সেও গাড়িতে গিয়ে বসলো। লিয়ন বিল মিটিয়ে ড্রাইভার এর পাশে এসে বসলো। পেছনে একপাশে বসেছে প্রেম আরেকপাশে নিপা আর মাঝখানে রাহি। নিপা মনে মনে নিজের কপাল কে দোষ দিচ্ছে। কেন যে এমপির বউয়ের সাথে ফ্রেন্ডশিপ করতে গেল, এখন রাহির সাথে সাথে সেও পড়েছে গ্যারাকলে। তবে একটা দিক ভালই হয়েছে, এমপি ঘাড়ত্যাড়া হলে কি হবে, এমপির অ্যাসিস্ট্যান্ট টা ঝাক্কাস।
প্রেম গম্ভীর কন্ঠে লিয়নের উদ্দেশ্যে বললো,
“গাড়ি তোর ভাবীর ফ্রেন্ড এর বাড়ির দিকে নিয়ে চল।”
আপনি একবার পিছনে ঘুরে নিপাকে পরখ করে নিল। প্রেমের কথা শেষ হতেই রাহি উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলল,
“নাহ্ নিপা ওর বাড়ি যাবে না।আজকে ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যায় প্লীজ।”
নিপা নিচ দিয়ে রাহিকে খোঁচাচ্ছে।কিন্তু রাহি তো তার কথা শুনার মতো মেয়ে না।যখন যেটা তার মাথায় আসে তখন সে সেটায় করে।প্রেম নির্বিকার। রাহি এবার আকুতির স্বরে প্রেমের হাত ধরে হালকা ঝাঁকিয়ে বাচ্চাদের মতো আবদার করে বলল,
“আজকে ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যায় না প্লিজ এমপি সাহেব।না করবেন না প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ।”
প্রেমের দৃষ্টি স্থির।সামনে তাকিয়েই লিয়নকে বললো গাড়ি বাড়িতে নিয়ে যেতে।খুশিতে রাহির চোখদুটো চকচক করে উঠলো।নিপা রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাহির দিকে।কিন্তু সেদিকে রাহির কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
বাড়ির সামনে গাড়ি থামতেই নিপা নেমে গেল।রাহিও নিপার পিছু পিছু নামতে গেলে প্রেম রাহির হাত ধরে ফেলে।থমথমে কণ্ঠে বললো,
“লিয়ন ওকে বাড়ির ভেতরে দিয়ে তুই সোজা পার্টি অফিসে চলে যাবি।আমার তোর ভাবির সাথে কাজ আছে।আমার আসতে দেরি হবে।”
ভদ্র ছেলের মতো লিয়ন নেমে গেলো।
রাহি তার হাত ছড়ানোর জন্য উশখুশ করছে । তাতে প্রেমের কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়লো। ড্রাইভারকেও নামিয়ে দিলো প্রেম নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে দক্ষ হাতে স্টিয়ারিং ঘোরাতে লাগলো। রাহি মনে মনে ভয় পাচ্ছে প্রেমের কাণ্ডে।
প্রেম তাকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে সেটা সে জানে না। রাহি মিনমিনে গলায় বলল,
“কোথায় যাচ্ছি আমরা?”
“তোমাকে জাহান্নামের দরজার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে আসবো।”
“আমাকে নামিয়ে দিয়ে আপনি চলে আসবেন কেনো?আমাকে জাহান্নামে ঢুকতে হলে সাথে আপনাকে নিয়েই ঢুকবো।আমাকে জাহান্নামে ঢুকিয়ে আপনি বাইরে অন্য মেয়ে নিয়ে সুখে শান্তিতে সংসার করতেন,এতো সহজ না এমপি সাহেব।”
প্রেম প্রতিউত্তর করলো না।রাহি ভ্রু কুঁচকে তাঁকিয়ে আছে প্রেমের দিকে।প্রেম দেখে শুনে নির্জন একটা হাইওয়ে তে এসে গাড়ি থামলো। আসে পাশে বড় বড় গাড়ি শো শো শব্দ করে তাদের গাড়ির পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।প্রেম গাড়ি এক সাইড করে রেখে রাহির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়।প্রেমের এমন তাকানোয় রাহি এবার কিছুটা ভরকে যায়।প্রেম যে তার উপর রেগে আছে এটা সে ভালোই বুঝতে পারছে।রাহির দৃষ্টি নিচের দিকে স্থির।
হঠাৎ প্রেম রাহিকে এক হেচকা টানে নিজের উড়ুর উপর বসিয়ে দিল। রাহি কিছুটা ভরকে গেলেও স্থির থাকলো। প্রেমের থমথমে মুখে দেখে সে ঝড়ের পূর্বাভাস পাচ্ছে কিছুটা। তাই বেশি কথা না বলায় শ্রেয়।
প্রেমের মুখভঙ্গি হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। রাহির দু গাল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“মরার পাখনা গজায়ছে তোর?এতো শখ কেনো মরার।আমাকে কি তোর চোখে লাগে না।এতো অবাধ্য কেনো হোস। এখন মেরে দেই। কলিজা অনেক বড় হয়ে গেছে?”
প্রেমের এমন রূপে রাহির ভয় দ্বিগুণ হলো। প্রেমের রাগের কারণ খুঁজতে ব্যস্ত সে। এদিকে ব্যথায় চোখে পানি জমেছে তার। টলমলে চোখে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রেমের মুখপানে। মুখে টু শব্দটি করছে না।প্রেমের চোখ লাল হয়ে আছে। রাহিকে চুপ থাকতে দেখে রাগে এক পর্যায়ে রাহির ঠোঁট জোড়া দখল করে নিলো। ব্যথার মাঝেই রাহির চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।
প্রেমের সমস্ত রাগ এখন গিয়ে পড়েছে রাহির গোলাপি নরম ঠোঁট জোড়ায়।প্রেমের থেকে থেকে কামড় বসিয়ে নিজের রাগের প্রমাণ দিচ্ছে। ব্যথায় রাহি প্রেমের ঘাড়ে নখ ডুবিয়ে দিয়েছে।সেদিকে প্রেমের হুশ নেই। আর সইতে না পেরে রাহি অনবরত প্রেমকে ধাক্কাদিতে লাগলো। রাহির মতো চুনোপুঁটি কি আর প্রেমের মতো রাঘব বোয়াল এর সাথে পেরে উঠে। রাহির দম ফুরিয়ে যাচ্ছে। এবার আর না পেরে রাহিও নিজের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে প্রেমের ঠোঁটে কামড় বসিয়ে দিল।প্রেম এতো জোরে রাহিকে কামড় দেয়নি।রাহির কামড়ে প্রেমের ঠোঁট দিয়ে রক্ত বের হয়ে গেলো। রাহির মুখে নোনতা স্বাদ অনুভূত হতেই সে প্রেমকে ছেড়ে দিলো কিন্তু প্রেমের নিজের কাটা ঠোঁটের দিকে লক্ষ্য নেই।সে ব্যথা পেয়েও রাহির উপর আগের চেয়ে বেশি কঠোর হয়নি। রাহির ঠোঁটে সে আগের মতোই মত্ত।নিজের খায়েশ মিটিয়ে আরও কয়েক মিনিট পর ছেড়ে দিলো।
রাহি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। রাহির ঠোঁট অনেকটা ফুলে গেছে।রাহি রাগে প্রেমের দিকে তাকাতেই চোখ বড় বড় হয়ে গেলো তার।প্রেমের ঠোঁট থেকে রক্ত পড়ছে।রাহি রাগ আর ব্যথা ভুলে প্রেমের দিকে বিচলিত হয়ে হাত বাড়িয়ে দিতে চাইলো।প্রেম তাকে বাধা দিয়ে গাড়ির সামনে থেকে টিস্যু নিয়ে নিজেই মুছে নিলো।রাহি বুঝলো প্রেম তার প্রতি অসন্তুষ্ট।রাহি কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
“আপনি আমার সাথে এমন করেছেন কেন এমপি সাহেব?কি করেছি আমি!”
প্রেম গম্ভীর স্বরে উত্তর করল,
“নাথিং”
বলেই বেড়িয়ে গেলো গাড়ির দরজা খুলে। গাড়িতে হেলান দিয়ে চোঁখ বন্ধ করে লম্বা একটা নিশ্বাস নিল সে। রাহির টুক টুক করে গাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রেমের পাশে দাঁড়ালো। মাথা নিচু করে কান ধরে মিনমিন করে বলল,
“কান ধরছি আর আপনার অবাধ্য হবো না কথা দিচ্ছি। এবারের মতো মাফ করে দিন প্লীজ। আর আপনাকে না জানিয়ে একা একা বের হব না প্রমিজ।”
“বিয়ের পর এই পর্যন্ত এই একি কথা কত বার বলেছ আর কতটুকু মেনেছো।”
“বলছি তো এটায় লাস্ট।”
প্রেম এই কথার উত্তর না করে বলল,
“গাড়িতে বসো।”
“আগে বলুন ক্ষমা করেছেন।”
“যদি এই মাঝরাস্তায় একা একা দাঁড়িয়ে থাকতে না চাও তাহলে ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে গাড়িতে গিয়ে বসবো।”
বলেই প্রেম গাড়ির দরজা খুলে নিজে উঠে গেলো। রাহি ওখানে দাঁড়িয়ে থেকেই বললো,
“উঠবো না আমি গাড়িতে।আপনি আমাকে ক্ষমা না করলে আপনার রাগ না কমলে যাবো না আমি আপনার সাথে।”
“ওকে”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৪৪
বলেই প্রেম গাড়ি স্টার্ট দিলো। রাহিও একগুঁয়েমি করে ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো।প্রেম গাড়ি কিছুটা এগিয়ে নিলো। হঠাৎ পেছনে থেকে গুলির শব্দে প্রেম কেঁপে উঠলো। তাড়াতাড়ি গাড়ি থামিয়ে পিছনে তাঁকালো। রাহি মুখ থুবড়ে প্রেমের দিকে হাত বাড়িয়ে রাস্তার মাঝখানে পড়ে আছে। রাস্তায় রক্তে ভেসে যাচ্ছে।প্রেম গাড়ি থেকে নেমে রাহিকে দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছে। হাঁটার শক্তি যেনো হারিয়ে ফেলেছে সে।
