Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৪

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৪

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৪
ইসরাত জাহান দ্যুতি

গলা ঠেলে এক সিন্ধু বিতৃষ্ণা ছাড়া নাওফিলের জন্য সহানুভূতি এলো না দীধিতির। ওকে যদি কখনও কেউ জিজ্ঞেস করে নাওফিলের প্রতি ওর অনুভবটুকুর বিশ্লেষণ কী? ও কখনই বলতে পারবে না, শুধু ভালোবাসা… শুধুই ভালোবাসা। তেইশটা বসন্ত অতিক্রম করে যে প্রথম প্রেমময় অনুভূতির জালে আটকা পড়ল ও, সে জালে কখনও আষ্টেপৃষ্ঠে আমরণ থেকে যাওয়ার সাধ হয় আবার কখনও ছটফটানি হয় নাওফিলের দৃষ্টিসীমা থেকে পালিয়ে যাওয়ার। নাওফিল মানুষটি যেমন দ্ব্যর্থক বাক্যের মতো, ওকে ঘিরে ভাবনা আর আবেগও দীধিতির দ্বিবিধ।
নাওফিলের অসম্পূর্ণ কথার উত্তর না পেয়ে চোখ, মুখ শক্ত করে বসে রইল। ও বরাবরই ধারাল মস্তিষ্কের অধিকারী। নাওফিল যদি সত্যিই মিস্টিক কিলারস রকসের সন্তান হয়, তবে দীধিতির যে অপ্রকাশিত একটি ঘৃণ্য পরিচয় আছে তা সে কোনো না কোনোভাবে হয়ত জেনে গেছে। সেটা দীধিতি খুব দ্রুতই বুঝে গেল। এবং ওর সঙ্গে নাওফিলের শত্রুতা না থাকলেও ওর পরিবারের কারও সঙ্গে কঠিন শত্রুতা আছে, তাও ও বুঝে গেছে। অথচ ও মানুষটা একেবারেই নাজুক। তাই আজও সে নিজেই জানে না ওর সেই অপ্রকাশিত, ঘৃণ্য পরিচয়টি। মা কখনই বলেনি ওকে তেমন করে কিছু বলেনি ওর হৃদয়ের কোমলতার জন্য।

-‘আমি উঠছি। আপনি নেহাৎ ফাজলামো করার জন্য আমাকে ডেকেছেন।’ বলতে বলতে দাঁড়িয়েও পড়ল দীধিতি।
নাওফিল তবুও একরোখার মতো চোখ বুজে রইল। দাড়িগোঁফ ছাড়া সুন্দর মুখটাই হঠাৎ এবড়োখেবড়ো দাড়িতে খুব করুণ লাগছে ওকে। বেজায় মায়া লাগছে দীধিতির, আবার বিরক্তও লাগছে। যেতে চেয়েও পারল না পা বাড়াতে। মিহি কণ্ঠে ডেকে উঠল, ”নাওফিল!’
এবার চোখটা খুলল নাওফিল, ‘তুমি আর আমাকে নিয়ে ভেবো না, দীধি। খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করবে।’
-‘কী সমস্যা আপনার? পুরোটা অন্তত বললে আমার কৌতূহলটা কমত। আপনি এরকম নাটক করছেন কেন?’
-‘বলতে তো চেয়েছিলামই আজ। কিন্তু তোমার চোখদুটোর চাহনিই তোমার ব্যক্তিরূপ প্রকাশ করে। খুব সৎ তুমি, দীধি। এটা বুঝতে দেরি হয়ে গেল আমার। আগে বুঝতে পারলে কখনই তোমার পিছু পড়তাম না।’
-‘কী এমন কথা সেসব?’

-‘বলতে পারব না আর, দুঃখিত। সেসব বলা মানে আমার বিপদ ডেকে আনা।’
দীধিতি নাওফিলের চোখে চোখ রেখে বলল, ‘বলতে হবে না। আমার মনে হয় না কথাগুলো জানা আমার জন্য খুব জরুরি। আপনি এখন উঠুন, ফ্রেশ হয়ে নিন। আমি আপনার জন্য খাবার নিয়ে এসেছি।’
বাধ্য ছেলের মতো নাওফিল সত্যিই ঝট করে বিছানা ছেড়ে বাথরুমে ঢুকে পড়ল। যেতে যেতে বলে গেল, ‘তাহলে খাবারটা রুফটপে গিয়ে সাজিয়ে ফেলো।’
আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকে দীধিতি। হঠাৎ রোদ হঠাৎ বৃষ্টির মতো এই ছেলেটা। জন্ম থেকেই কি এরকম অদ্ভুত ব্যক্তিত্বের ছিল না কি ঢং করে এখন এরকম পাগলের মতো আচরণ করে কে জানে? ভাবতে ভাবতে সে খাবার নিয়ে বেরিয়ে এলো বাসা থেকে। এলিভেটর ছেড়ে হঠাৎ সিঁড়ি বেয়ে ছাদে আসার শখ হল ওর। কখনও আসা হয়নি এ কারণেই আরকি! ছাদে পৌঁছনোর পর চমকাল সে চিলেকোঠার মতো একটা ঘর দেখে। এ ঘর আগে তো ছিল না! কিন্তু ঘরটাকে চিলেকোঠা বলা চলে না। সাদা রঙা টিন শেডের তৈরি আয়তকারের মতো জানালাবিহীন এই ঘরটা। এর দরজাটা কোনদিকে সেটাও বোঝার উপায় নেই। হাতের টিফিনবাক্সটা ছাদের কর্নারে রাখা টেবিলটায় রেখে এসে এগোলো দীধিতি সেদিকে। কার্নিশ ঘেঁষে ঘরের তিনকোনা দেখেও দরজার হদিস পেল না। শেষ কোনার দিকে যাওয়ার উপায় নেই পানির টাঙ্কির জন্য। এটা কোনো ঘর হতে পারে? গুদামঘরও তো এভাবে তৈরি করা হয় না। নাওফিল কেন এমন অদ্ভুত ধরনের ঘর বানাল? তাহলে সত্যিই কি ওর মাঝে গণ্ডগোল আছে?
ছাদে এসে এখনও পৌঁছয়নি নাওফিল। ওর আজকের প্রতিটি কথার পর এই ঘর দেখে দীধিতির কাছেও ওকে সুবিধার লাগছে না৷ পরিচয়ের শুরু থেকে এখন অবধি সবটা ভাবলে বারবারই নাওফিলকে বিপজ্জনক লাগে। এই অদ্ভুত ধরনের ঘরটা দেখার পর খুব বেশিই সন্দেহ হচ্ছে নাওফিলকে নিয়ে। মন বলছে, কিছু একটা নিশ্চয়ই আছে এই ঘরের মধ্যে।

ঘরের আশেপাশে আরও দু’বার চক্কর কাটল দীধিতি। সারা টিনের গায়ে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে দরজাটা চিহ্নিত করতে চাইছে। টাঙ্কিটা রাখা যে পাশে সে পাশে কোনো মানুষের ঢোকা সম্ভব নয়। টিনের ওপর ঠকঠক করল অকারণেই বেশ ক’বার। খুঁতখুঁতে মনটা নিয়ে ফিরে এলো খাবার টেবিলের কাছে। নাওফিলই বা এতক্ষণেও ছাদে এলো না কেন? কী করছে এত সময় সে ঘরে?
বড্ড অশান্তি লাগছে মনের মধ্যে দীধিতির। না চাইতেও টিনের ঘরটার সামনে এসে দাঁড়াল আবারও। খুব সুক্ষ্ম নজরে ঘরটা দেখতে দেখতেই অকল্পিতভাবে নজরে পড়ে গেল টিনের খাঁজের মাঝে বিশেষ ধরনের কোনো সাদা রং হবে হয়ত, তা দিয়ে বন্ধ রাখা দরজার অতি সামান্য ফাঁকটুকু ঢেকে দেওয়া। যা জহুরি চোখে না দেখলে বোঝার উপায়ই নেই। অর্থাৎ যতবার টিন কেটে বানানো এই দরজা খোলা হয় ততবারই বন্ধ করার পর দরজার চারপাশের ফাঁকটুকু সাদা রঙেই ঢেকে দেওয়া হয়। আশ্চর্যভাবে দরজাটা তালা দেওয়া নয়৷ এর কারণও স্পষ্ট। কেননা কেউ বুঝতেই পারবে না এই ঘরে আদতে দরজা আছে কি না? যদি না সে দীধিতির মতো সন্দেহ করে। দরজার কোনা ধরে টেনে খোলার চেষ্টা করল অনেকক্ষণ। কিন্তু এবার বুঝল ও দরজা খুলে রাখার মতো বোকামি, নাওফিলের মতো মানুষ জীবনেও করবে না। আঠা প্রকৃতির কিছু দিয়েই দরজাটা বন্ধ করে রাখা বাইরে থেকে।

দীধিতি ভেবেচিন্তে উপায় পেলো দরজার নিচ ধরে জোরে টান দিতে হবে। এতে একটু ঝুুঁকি আছে হাত কেটে যাওয়ার। তাই ওড়না হাতে পেঁচিয়ে সে বসে পড়ে, দরজার নিচে আঙুল গলিয়ে সর্ব শক্তি ব্যয় করে কতক্ষণ টানাটানি করতে করতে হয়রান হয়ে যায়। কী এমন আঠায় দরজা আটেকেছে নাওফিল কে জানে? আর কী-ই বা আছে এই ঘরে? বেআইনি কোনো কাজের সাথে যুক্ত নেই তো ও? এসব ভেবে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল ওর। বসে না থেকে দরজাটা আবার টানতে আরম্ভ করল। আরও ক’বার টানাটানির ফলে অবশেষে দরজাটা খুলতে পারল। হঠাৎ খুলে গিয়ে ও একটু ছিটকে পড়ল অবশ্য। দ্রুত উঠে পড়ে ঘরে ঢুকতেই দম আটকে আসতে চাইল যেন মাত্রাতিরিক্ত ভ্যাপসা গন্ধে আর গরমে। কিন্তু বেজায় বোকা বনে গেল ও। ঘরে তো অদরকারি আসবাব আর কতগুলো ড্রাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শুধু। তবে অবাক করা আরেকটি ব্যাপার হলো, বাইরে থেকে ঘরটাকে দেখলে বোঝা যাচ্ছিল না ভেতরে এতখানি জায়গা থাকতে পারে। স্টোর ঘরকে এভাবে গোপন কক্ষের মতো বানানোর কী আছে সেটাই বুঝল না ও! গরমে সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম৷ তাই আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। নাওফিল এসে ঘর খোলা দেখলে কে জানে কী বলবে ওকে? আর ওই বা কী জবাব দেবে? ভেবেছিল নাওফিলের কোনো অন্যায় কাজের স্বাক্ষী হবে আজ। তাই তো আগেপিছে কিছু না ভেবে দরজাটা খুলে ফেলল।

বেরিয়ে আসার আগে পুরো ঘরটা এদিক-ওদিক দেখতে ভুলল না৷ গোয়েন্দার মতো সব কিছু সরিয়ে নড়িয়ে দেখছে। ঘরের একদম কোনায় এক পাঁজা ভাঙাচোরা কাঠের চেয়ার স্তূপের মতো করে একটার ওপর আরেকটা চড়িয়ে রাখা। সে জায়গাটাও দেখতে বাদ রাখল না। নাওফিলকে নিয়ে আজ হঠাৎ এত সন্দেহ কেন দানা বাঁধছে মনঘরে? সেখান থেকে যেন কেউ যেন দৃঢ় গলায় বলছে, ‘নাওফিল ইজ আ ক্রিমিনাল’।
সমস্ত ঘর তল্লাশি শেষে দীধিতি আর দাঁড়িয়ে থাকল না। দৌঁড়ে বেরিয়ে পড়তে চাইল ঘর ছেড়ে। আর সে সময়ই পায়ে পেচিয়ে গেল কিছু একটা। সব কিছু নড়চড় করকে গিয়ে ঘরটা অনেকটা এলোমেলো হয়ে গেছে। থেমে পড়তেই দীধিতি আবিষ্কার করল একটা সাদা-কালো চেক শার্ট। অব্যবহৃত জামাকাপড়ও কি এখানে ফেলে যায় নাওফিল? ভ্রু জোড়া বাঁকিয়ে শার্টটা দেখল। ওর চেনা চেনা লাগছে এই শার্টটা৷ আর সেটা নাওফিলের নয়। নাওফিলকে এক রঙা শার্টেই দেখেছে ও আজ অবধি। তাছাড়া অধিকাংশ সময় নাওফিলকে কলারের গেঞ্জি নয় গোল গলার গেঞ্জিই পরতে দেখা যায়। তাহলে এই শার্টটা ওর চেনা লাগছে কেন? রাস্তাঘাটে দেখেছে কি পরিচিত কারও পরনে? কিন্তু মনে হচ্ছে, এই শার্টের মালিক ওর বেশিই চেনা। কে সে? এক…দুই…তিন…চার…পাঁচ সেকেন্ডের মাথায় ধরে ফেলল ওর ধারাল মস্তিষ্ক। দীপ্ত! হ্যাঁ, দীপ্তকে যে ক’বার দেখেছে ও তার মাঝে তিনবারই এই শার্টে দেখেছে। বোঝায় যেত, শার্টটা ওই ছেলেটার ভীষণ পছন্দের ছিল। হঠাৎ অজানা ভয় হতে লাগল ওর, উলটাপালটা ভাবনা ভেবে! দীপ্তর সঙ্গে ওর যোগাযোগটা কেমন যেন আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তাও একবার তন্বীর কাছে শুনেছিল, ও দেশে ফিরছে। তারপর আর কোনো খোঁজ পায়নি দীপ্তর। বলা উচিত, ওর কথা মনেই পড়েনি। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, নাওফিল বা ওর বাকি বন্ধুদের মুখেও দীপ্তর নাম শোনে না আজ-কাল।

মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল দীধিতির। নাওফিলকে ঘিরে ভয়ানক এক সন্দেহ এখন গ্রাস করছে ওকে। কেন ওকে নিয়ে মনটা এত নেগেটিভ ভাবছে বুঝতে পারছে না। মনে হচ্ছে, এই খোলামেলা ঘরে লুকোছাপা কিছু রেখে যাচ্ছে ও৷ তড়িঘড়ি করে আবার সব কিছু সরিয়ে সরিয়ে দেখতে শুরু করল। শার্টটা যেখান থেকে পায়ে বেজেছিল সে জায়গা থেকে মজবুত সেগুন কাঠের আলমারিটা সন্দেহের বশেই ঠেলে সরাতে চাইল। এই আলমারিটা শুরুতে সরানো হয়নি অতি ওজন বলে৷ শুধু খুলে দেখা হয়েছে। অনেক পুরোনো দিনের বোধ হয় আসবাবটা। ঠেলাঠেলি করতে গিয়ে ঘামে গা ভিজে জবজবে হয়ে গেছে দীধিতির। এক সময় এত কষ্টের ফল হিসেবে আলমারি তার জায়গা ছাড়তে বাধ্য হলোই। অবিশ্বাস্য, ভয়ার্ত চোখে নিচে তাকিয়ে থাকল তখন ও। আয়তকার একটা কাঠ পা দিয়ে সরাতেই নিচে একটা ঘর দেখা গেছে। ঘুটঘুটে আঁধার হলেও নিচে যে মই নেমে গেছে তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ওর সন্দেহই তবে সত্যি? নাওফিল কোনো ক্রিমিনাল! এই গুপ্তঘরে কী আছে তা না দেখেই বা নিশ্চিত হবে কী করে? আর নিশ্চিত হতে হলে ওকে যেতে হবে ওই ঘরে। ও কি যাবে? কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে না তো? নাওফিল তো এই চলে এলো বোধ হয়। এসেই তো বুঝে যাবে সব৷

তবুও দীধিতি খুব সাহসী একটা কাজ করে বসল। কল করল তন্বীকে৷ ওপাশ থেকে রিসিভ করতেই কলটা স্পিকারে দিয়ে বলল, “শুধু চুপ করে থাকবি। কোনো কথা বলবি না৷ যদি বিপদের আশঙ্কা টের পাস তাহলে নাওফিলের বাসায় রুফটপে চলে আসবি পুলিশকে নিয়ে। রুফটপে স্টোররুমে ঢুকবি। এই ঘরে আমি একটা গুপ্তকক্ষ পেয়েছি আর দীপ্তর শার্ট। আমি এখন সেই গুপ্তকক্ষে ঢুকছি। তামান্না আর ঐশীকেও পারলে কনফারেন্সে আন।”
“কী সব বলছিস, দীধি!” খুবই আতঙ্কিত শোনাল তন্বীর কণ্ঠ।
“আমি সন্দেহজনক কিছু দেখলেই বলব। তুই তখনই ট্রিপল নাইনে কল করে পুলিশকে নিয়ে চলে আসবি। এখন চুপচাপ থাক।”

“দীধিতি, আমার কথা শোন। একা একা এত বড়ো রিস্ক নিস না। ক্ষতি হয়ে যেতে পারে তোর। নাওফিল দূর্নীতির সাথে যুক্ত থাকতেই পারে। ওরা ক্ষমতাবান লোক। তুই ফিরে আয় দোস্ত। কথা শুনছিস আমার? দীধিতি!”
না, দীধিতি শুনলেও থামল না৷ ফোনের ফ্লাশ জ্বালিয়ে সতর্ক পায়ে নেমে এলো গুপ্তঘরটাই। এক রত্তি আলো নেই সেখানে। কিন্তু কানে ভেসে আসছে শো শো বাতাসের আওয়াজ। যেন বাতাস বইছে এই ঘরেই কোথাও৷ আলোটা সম্মুখে ধরতেই প্রচণ্ড বিস্মিত হলো দীধিতি। এটা খুব সাজানো গোছানো একটা বেডরুম। অথচ ওর সন্দেহ ছিল হয় এখানে নানান অস্ত্রপাতি দেখবে, নয়তো গুম করে রাখা মানুষ, নয়তো দূর্নীতির সাথে জড়িত অন্য কিছু৷ এসবের বদলে মানুষের বাসোপযোগী একটা ঘর দেখে ধাক্কাটা সহজে সামলে উঠতে পারল না। চারপাশে আলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘরটা দেখতে দেখতেই দক্ষিণ দিকে চোখ আটকাল হঠাৎ, চকিতেই অন্তর আত্মা কেঁপে উঠল ওর। গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে তিন হাত পিছিয়ে এলো।

কোটর ছেড়ে গোল গোল চোখদুটো বেড়িয়ে এসেছে যেন, বিছানায় নগ্ন দেহে বসে থাকা মানুষটির৷ দীধিতি এ ঘরে আসার পর থেকেই অনাবৃত মানুষটি ঘাড় বেঁকিয়ে দানব চোখে ওকে দেখে যাচ্ছিল নীরবে, তা দীধিতি খেয়ালই করেনি। মাথার আলুথালু এক গাছা চুল চোখের ওপর এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে তার, হাড্ডিসার দেহে পাঁজরের হাড় গোণা যাচ্ছে। চোয়ালের মাংস দাঁতের সাথে লেগে গেছে বোধ হয়। প্রথম দেখায় দীধিতি চিনতেই পারল না মানুষটিকে। সে মানুষটি যখন ক্ষীণ গলায় ডেকে উঠল, “দীধিতি?”
বুক থেকে ভয় সরে গিয়ে তখন দীধিতি সে মানুষটির পানে চেয়ে বিড়বিড় করে উচ্চারণ করল, “দীপ্ত!”
মাথার ওপর তিন পাখার ফ্যানটা অনবরত ঘুরছে। এ ঘরে তাই এখন গরমটা নেই। কিন্তু দরদর করে ঘামছে দীধিতি এখনও। শ্লথ পায়ে এগিয়ে আসলো ওর কাছে। তখনই ঠোঁট ভেঙে বাচ্চাদের মতো হাউমাউ করে কেঁদে উঠল দীপ্ত। পায়ে শেকল বেঁধে তালা ঝুলানো ওর৷ কোমর থেকে উরু অবধি পাতলা একটা চাদর টেনে রাখা শুধু৷ তাছাড়া যে দেহে কোনো কাপড়ই নেই তা ঠিক বুঝে গেল দীধিতি। লজ্জার চেয়েও দীধিতির বুকের মধ্যে বয়ে বেড়াচ্ছে ভয় আর বিস্ময়। দীপ্তর পাশে এসে দাঁড়াতেই ওর কোমর জড়িয়ে ধরে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পাওয়া ছোটো বাচ্চাদের মতোই কাঁদতে থাকল। কান্নার দমকে ওর কথা বুঝল না দীধিতি কিছুই৷ আড়ষ্টতায় কুঁকড়ে দাঁড়িয়ে রইল।

“আমাকে বাঁচাও দীধিতি…তোমার পায়ে পড়ি আমাকে বাঁচাও…ওর কাছ থেকে আমাকে বাঁচাও…আমি মরে যাব…এভাবে একদিন সত্যিই আমি মরে যাব! আমি আমার মায়ের কাছে যাব, দীধিতি! কতদিন আমি মা-বাবাকে দেখি না। ওরা জানেই না আমি দেশে ফিরেছি। নাওফিল আমাকে মেরে ফেলবে…আমাকে বাঁচাও তুমি!”
কিছু কিছু কথা বুঝল শুধু দীধিতি৷ দীপ্তর হাড্ডিসার নগ্ন পিঠে হাতটা রাখতে প্রচণ্ড অস্বস্তি লাগছে তার। ওকে শান্ত করতে মাথায় হাতটা রাখল তবুও, সে চমকে গেল তখন। ছিটকে এলো দীধিতির থেকে, “তুমি এখানে কী করে এলে, দীধিতি?”
এক মুহূর্তেই ভিন্নরূপের দীপ্তকে দেখে অবাক হলো দীধিতি। চোখে সমুদ্র বয়ে যাওয়া ভেজা মুখে এখন শুধুই আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা ছেলেটির।
“ধরে নাও আল্লাহর ইচ্ছেতেই। এই অবস্থা কেন তোমার, দীপ্ত? নাওফিল তোমাকে আটকে রেখেছে কেন?” দুরুদুরু বুকে মৃদু গলায় জিজ্ঞেস করল দীধিতি।

“তোমার জন্য।”
“কী?” ভীষণ চমকাল ও।
“আমি তিন মাস এখানে বন্দি, দীধিতি। আমি আলো দেখি না তিনটা মাস!” বলতে বলতে আবারও কেঁদে উঠল দীপ্ত, আগের মতো করে। “আমাকে ফোনে নাওফিল প্রায় প্রতিদিন ফোর্স করত তোমার সঙ্গে ব্রেকআপ করার জন্য। এ নিয়ে ওর সঙ্গে আমার ঝামেলা চলছিল খুব। তুষাররা আমাদের এই ঝামেলার সমাধান করতে দেশে আসতে বলল। সরাসরি নাওফিলের সঙ্গে কথা বলে একটা সমাধানে আসা যাবে৷ আমি রাজি হলাম৷ কারণ, নাওফিলের এরকম স্বভাব নতুন না। যেটা ওর চোখে লাগে বা মনে ধরে সেটা যতই অন্য কারও হোক, যেভাবেই পারুক তা নিজের করে ছাড়ে। কিন্তু তোমার ব্যাপারটা ভিন্ন। এখানে ওর অযৌক্তিক জোর আমি মেনে নিইনি৷ তাছাড়াও যদি ও তোমাকে ভালোবাসত আমি সত্যি চেষ্টা করতাম ওর দিকটা ভেবে দেখার৷ কিন্তু ও তোমাকে নিজের কাজে শুধু ব্যবহার করতে চায়৷ ওর আর ওর বড়ো চাচার দ্বন্দের মধ্যে শুধু শুধু তোমাকে টানবে একটা হাতিয়ারের মতো। কাজ ফুরিয়ে গেলেও তোমাকে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে করতে দেবে না। ও মাইন্ড গেম খেলায় ওস্তাদ, এমনকি হিপনোসিসও করতে জানে৷ আমাকে এখানে বন্দি করতে পেরেছে হিপনোসিস করেই। ও তোমার কাছে যেমনটা নিজেকে দেখাচ্ছে, তেমনটা ও নয়। নিজের দোষ, অপরাধও যদি স্বীকারোক্তি দেয় তোমাকে, সেটাও ওর পরিকল্পনার একটা অংশ মাত্র। তুমি জানো না তোমাকে নিয়ে ওর অমানবিক পরিকল্পনার কথা। আমি জেনেছি বলেই আজ এই পরিণতি আমার। তুমি কি জানো ওর সন্ত্রাস বাবা-মায়ের বিনাশ হওয়ার সাথে জড়িত তোমার…!”
কথার মাঝপথেই বিশাল এক আওয়াজ ভেসে আসলো হঠাৎ ওপর থেকে। দীপ্ত হকচকিয়ে গেল, ভীতসন্তস্ত্র গলায় বলল, “নাওফিল বুঝে গেছে! দীধিতি, নাওফিল বুঝে গেছে তুমি এখানে এসেছ! ও তোমাকেও এখন এখানে আটকে রাখবে। তুমি…তুমি পালিয়ে যাও, দীধিতি। তুমি না পালালে আমি এখান থেকে বের হতে পারব না।” আকুতি জানিয়ে কেঁদে ফেলল দীপ্ত।

ভয় পেয়ে গেল খুব দীধিতিও৷ ধরা যে পড়ে যাবে তা তো জানতই৷ তবুও ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে এসেছে ওর। দীপ্ত আজ অনেক কিছুই বলতে চাইছিল। শোনা হবে না আর, ওকে নিয়ে নাওফিলের কী পরিকল্পনা ছিল! নাওফিল কি খু’ন করে ফেলবে ওকে? মুখ চেপে কেঁদে ফেলল সেও।
দীপ্ত তখন বিস্ময়কর এক কথা বলল, “এখান থেকে তুমি পালাতে পারবে দীধিতি।”
ঝট করে দীপ্তর মুখের দিকে তাকাল ও, “কীভাবে?”
“আমাকে এমনভাবে বেঁধে রেখে গেছে যে আমি পালানোর পথ জেনেও পালাতে পারি না৷ এই ঘরটা কিন্তু বারোতলা। কিন্তু এই ফ্লোর ভাড়া দেওয়া হয় না। তুমি ক্যাবিনেট, ড্রেসিংটেবিল, বুকশেলফ, ওসব সরিয়ে দেখো ঠিক দরজা পেয়ে যাবে। এ ঘরে যেহেতু অ্যাটাচড বাথরুম আছে, তার মানে এটার মাস্টার বেডরুমও আছে। প্রতিটা ফ্ল্যাটের একই ডিজাইন। নাওফিলের ফ্ল্যাটটার মতোই।” হড়বড় করে বলে চলল দীপ্ত।

অস্ট্রেলিয়া থেকে নাওফিলের মনিমা জেরিন কল করেছিল৷ তার সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের ফোনালাপের মাঝে নাওফিল ভুলেই গিয়েছিল দীধিতির কথা। মনিমার সঙ্গে কথা শেষে ক্ষুধার যন্ত্রণা বুঝতেই মনে পড়ে যায় ওর কথা৷ তারপর ছাদে পৌঁছনোর পর স্টোররুমের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে কয়েক সেকেন্ডের জন্য কপাল কুঁচকিয়ে দরজাটা দেখে ভেতরে চলে আসে ও। আর তারপরই বুঝতে দেরি হয় না যেখানে যাওয়া উচিত ছিল না দীধিতির, সেখানেই এখন পৌঁছে গেছে মেয়েটা৷ বিশ্রীরকম মেজাজ খারাপ হলো বোধ হয় নাওফিলের। অযত্নে গজানো দাড়িতে হাত বুলিয়ে কাঠ মুখে নিশ্চল দাঁড়িয়ে থেকে আচমকা তীব্র ক্রোধে আলমারির গায়ে লাথি মেরে বসল। সে শব্দ পৌঁছে যায় নিচের ঘরটাতেও। ফোনটা কানে নিয়ে নাওফিল তখনই লিফটম্যানকে কল করে বলে দেয় লিফট বন্ধ করে দিতে। তারপর নিচে নামতে শুরু করে। মই বেঁয়ে নামার মধ্য ধাপে এসে দেওয়ালের সুইচপা টিপে দিতেই ঘর আলোয় ঝলমল করে উঠল। ডেকে উঠল গম্ভীর গলায়, “দীধি? এখানে তোমাকে কে আসতে বলেছে?”
তিন মাস পর অসহ্য ঝকঝকে আলো চোখে পড়তেই দীপ্ত চোখের ওপর হাত ফেলে চোখ বুজল৷ ওকে নগ্ন শরীরে দেখে চেঁচাল নাওফিল, “বানচো** এরকম ন্যাঙটা হয়ে দীধিতির সামনে ছিলি তুই! তেজ দেখিয়ে জামা-কাপড় খুলে রাখলে কি পালাতে পারবি? রাসকেল!”
দীপ্ত চোখ জোড়া খুললেও তাকাল না নাওফিলের দিকে। কপালের কোনা একটু চুলকিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল নাওফিল, “কী ব্যাপার দীধি কই?”
জবাবশূন্য দীপ্ত তখনও। চেহারা কুঁচকে নাওফিল আরও একটা নোংরা গালি দিয়ে বলল, “কথা বলিস না কেন হারামজা**?”

জ্বর গায়ে ভার মাথা, খু্বই বিরক্ত লাগছে নাওফিলের। চোখ বুজে চুলে হাত ডুবিয়ে মুঠো ভর্তি করে চুল টানতে টানতে ডাকল আবারও, “দীধি, চোখের সামনে এসো তো। এই ঘরে লুকোনোর মতো জায়গা নেই। খামোখা খাটিয়ো না আমাকে।”
ঠোঁট কামড়ে দীপ্ত মাথা নুইয়ে চোরের মতো দেখছে তখন বাথরুমের দরজাটা। নাওফিলের চোখে তা মুহূর্তেই ধরা পড়ে গেল, “আচ্ছা, তো বাথরুমে? এইটুকু সময়ের জন্য ওখানে লুকোনোর কী লজিক আছে? বুঝলাম না!” বলতে বলতে সে এগিয়ে এসে বাথরুমের দরজায় টোকা দিলো, “বেরিয়ে আসো, দীধি। বাথরুমের দরজা আমাকে টেনে খুলতে বাধ্য কোরো না৷ ভয় পেয়ে যদি বাথরুমের কাজ চাপে তাহলে অবশ্য শান্তিমতো কাজ সাড়তে পারো। আমি অপেক্ষা করছি। তোমাকে নিয়ে তোমার সঙ্গে আলোচনাটা আমি আমার নির্লজ্জ বন্ধুর সামনে করব না৷ এই, এখানে এসে তোমার লজ্জা করেনি ওকে দেখে?”
একা একাই কথা বলে থামল নাওফিল। মিনিট দুই দাঁড়িয়ে থেকে সতর্ক সংকেত দিলো, “আমি কিন্তু ভেঙে ঢুকব এখন, দীধি!”

তারপরও দরজা খুলল না দীধিতি৷ রেগেমেগে দরজার গায়ে লাথি দিতে গিয়ে দেখল, দরজাটা বাইরে থেকেই ছিটকিনি আটকানো। লাল চোখে একবার দীপ্তর দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে ডেকে উঠল, “আমি বলছি আমার সামনে আসো, দীধি! এখানে দাঁড়িয়ে চোর পুলিশ খেলতে ভালো লাগছে না আমার।”
নাহ, সারা ঘরে কোনো অস্তিত্বই নেই যেন দীধিতির। নাওফিল এবার সিরিয়াস হলো। সরল গলায় বলল, “দীধি, দীপ্তর মতো আটকে রাখব না তোমাকে। ভয় নেই, আড়াল থেকে বেরিয়ে আসো এবার।”
ক্যাবিনেটের ভেতর দম ফুরিয়ে আসতে চাইছে দীধিতির। আজ কী হবে ওর জানে না। হয়ত দীপ্তর মতোই ওকেও আটকে রাখবে অন্য কোথাও, নয়ত মেরেও দিতে পারে। নাওফিলকে ঠান্ডা মাথার ভয়াবহ ক্রিমিনাল ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছে না ও। ধরা পড়ে যাবে তা সে জানে। তবুও বৃথা চেষ্টা লুকিয়ে থাকার। কারণ, অপেক্ষা করছে ও তন্বী আর তামান্নার জন্য। পুলিশ নিয়ে আসছে ওরা।
“দীধি! তুমি আমাকে না খুব ভালোবাসো? তাহলে আমি ডাকছি তুমি আসছ না কেন?” ক্যাবিনেটের সামনে এগিয়ে এসে দাঁড়াল তখন নাওফিল। তারপরই এক টানে পাল্লাটা খুলে ফেলল৷ তাকের ওপর গুটিসুটি হয়ে বসে থাকা দীধিতিকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হতাশ ভঙ্গিতে মাথা এদিক-ওদিক দুলাল। আদর সুরে শুধাল, “তুমি লুকিয়েছ কেন, দীধি? আমার ভয়ে! কিন্তু আমাকে ভয় পাবে কেন?”

চিক বেঁয়ে গড়িয়ে পড়া ঘাম নেমে আসে দীধিতির গলা অবধি, আর গলা থেকে গড়িয়ে যায় তা বুকের ভেতর। এমন অস্বস্তিকর একটা দৃশ্য নাওফিল ধৈর্য নিয়ে দেখল। বেখেয়ালে বুকের কাছ থেকে ওড়নাটা সরে গেছে, সেখানে বিভাজনের মাঝে থাকা ফোনটার দিকেই চোখ আটকে আছে নাওফিলের। শীতল চোখজোড়া দীধিতির চোখে রেখে আদেশ দিলো, “ফোনটা আমার হাতে দাও, দীধি। দীপ্ত তোমাকে এইটুকু সময়ে পুরোটা বলতে পেরেছে?”
একদম ক্যাবিনেটের কাঠের সঙ্গে লেগে রইল দীধিতি, নাওফিলের আদেশকে অমান্য করে। কাঁদার মাঝেও গা কাঁপছে ওর। নাওফিল ওকে টেনে নামাল ওখান থেকে। বুকের কাছে শক্ত করে চেপে রাখল ফোনটা তখনও ও। আবারও ভারী গলায় আদেশ করল, “ফোনটা ওখান থেকে বের করে আমার হাতে দাও। আমি নিতে গেলে অশ্লীল হবে কিন্তু।”

“দেবো না।” জিদি গলায় বলল দীধিতি।
নিমিষেই নাওফিল ওকে কাছে টেনে আনল, বুকের সাথে মিশিয়ে ধরতেই দীধিতি ভয়ে নাওফিলেরই বুকে হাতজোড়া রাখল। ফোনটা তখনও একই স্থানেই।
“তোমাকে নিয়ে যে উদ্দেশ্যই থাক, ছোঁয়াছুঁয়ি করার সাধ নেই। তাই নিজে থেকে ওখান থেকে বের করো। আর আমাকে যদি বাধ্য করো আমি চরম পর্যায়ের অসভ্যতামি করে ফোনটা নেব।”
ফোনের ওপাশ থেকে তন্বী আর তামান্না সবটা শুনছে নীরবে। প্রচণ্ড কোমল মনের ঐশী দীধিতির পরিণাম কী হবে সেই ভয়ে কেঁদে দিশাহারা। রুমানও শুনতে পাচ্ছে সবটা। বন্ধুর এই কদর্য রূপ তার কাছে অজানা ছিল। পুলিশ ফোর্স ইতোমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে সে-ই৷ ওরা এতক্ষণে চলেও এসেছে। লিফট বন্ধ বলে সিঁড়ি বেঁয়ে উঠছে। সিকিউরিটি গার্ড পুলিশ দেখে নাওফিলকে কল করল। জানিয়ে দিলো পুলিশের আগমন বার্তা। তারপর জানিয়ে দিলো কল করে শেখ জাকির মাহতাবকেও।

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৩

এমপি জাকির অফিসে তখন জরুরি মিটিংয়ে। তার পিএ এসে খবরটা দিতেই সে মিটিং ছেড়েই বেরিয়ে পড়ে দ্রুত৷ কিছুদিন আগেই ব্যবচ্ছেদ করা ডেডবডি চুরির দায় থেকে বাঁচিয়েছে সে এই ছেলেকে। এখন আবার কোন ঝামেলা পাকিয়েছে কে জানে! যে আজ সরাসরি পুলিশ চলে এসেছে বাসায়! এভাবে চলতে থাকলে নিজের ইমেজও আর রক্ষা পাবে না।
উপর মহল থেকে পুলিশের কাছে নিষেধাজ্ঞা যাওয়ার পূর্বেই পুলিশ রুফটপে চলে আসলো। দীধিতির সামনে তখন নাওফিল কেমন যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়ানো। যেন ও বিশ্বাসই করতে পারছে না দীধিতি পুলিশ হাজির করবে।

প্রথম পরিচ্ছেদের সমাপ্তি

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here