পদ্মপ্রিয়া পর্ব ৩০
ঈশিতা রহমান সানজিদা
আদরের মেয়ের বিদায় বেলা কি নিদারুন নিষ্ঠুর। চোখের জলে সব ভেসে গেলেও মেয়েকে থামাতে পারে না। এটাই ভবিতব্য, বিধিবিধান কখনো খণ্ডানো যায় না। রাশেদ সাহেবের প্রেসার ফল করেছে। শরীর ঘামছে, পরনের পাঞ্জাবি ঘামে ভিজে গেছে। রাহা তার পাঞ্জাবি বদলে দিয়েছে। গ্লাসটা এগিয়ে দিয়ে বলে,’স্যালাইন পানি, খেয়ে নাও।’
রাশেদ সাহেব দূর্বল হাতে গ্লাস তুলে নিলো। রাহা বললো,’যেটা সত্যি সেটা তো মেনে নিতেই হবে তাই না? এভাবে ভেঙে পড়লে নূরের কি হবে? যদি জানতে পারে মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চলে আসবে।’
ধীরে ধীরে গ্লাসের সবটুকু স্যালাইন পানি পান করে শান্ত হওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি। কিছুক্ষণ আগেই নূরকে গাড়িতে তুলে দিয়ে এসেছেন। মেয়েটা দু’হাতে টেনে ধরেছিল তবুও জোর করে দিয়ে এসেছেন। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল খুব, নিজেকে ভেঙে চুরে হলেও নূরকে তিনি আজমাঈনের হাতে দিয়ে এসেছেন। বাবারা সহজে কাঁদতে পারে না, তেমনি মেয়েরা বাবাদের চোখের পানি সহ্য করতে পারে না। রাশেদ সাহেব কাঁদেননি। তবে তার নিঃশব্দ কান্না ভেতরটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তারপর থেকেই কেমন নুইয়ে পড়েছেন রাশেদ সাহেব। রাহার হাজবেন্ড ডক্টর আনতে গিয়েছে। তেমন সিরিয়াস কিছু নয়। রেহানা চুপচাপ বসে আছেন।
ওনার মুখটা ভার, আজ সকলের সামনে তিনি বেশ অপমানিত হয়েছেন। নূর যাওয়ার আগে একটি বার মায়ের কাছে এলো না, তাকে খুঁজল না। আত্মীয় স্বজন অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে ছিলো তার দিকে। রুম থেকে রাশেদ সাহেবের সাথে বের হয়ে তার হাত ধরেই গাড়িতে বসেছে নূর। এরমধ্যে বোনের হাত ধরলেও আর কারো দিকে ফিরেও তাকায়নি। এই মুহূর্তটা সকলকে বুঝিয়ে দিয়েছে মা মেয়ের সম্পর্ক। রেহানা বেগমের রাগ লাগছে নূরের উপর, অন্তত মিথ্যা করে হলেও তাকে একবার বলে যেতে পারতো। এসব কথা তিনি কাকে বলবেন? শোনার মতো কেউ নেই। কেউই নূরকে দোষারোপ করবে না, মা হয়ে যদি মেয়েকে আপন করে নিতে না পারে তাহলে মেয়ে দূরে সরে যাবে স্বাভাবিক। সে ঝিম মেরে বসে আছে। রাহা বোধহয় মায়ের মনের অবস্থা বুঝতে পারলো। সে ঘাড় ফিরিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললো,’খারাপ লাগছে আম্মু?’
চমকে তাকান রেহানা। রাহা বলে,’জন্মের পর যাকে অবহেলা করেছ আজ সে তোমাকে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করে চলে গেল। আমার তো বেশ লেগেছে। এতদিনে মেয়েটার সুবুদ্ধি উদয় হলো।’
‘এ বিষয়ে তোর কিছু বলার দরকার নেই। আমার অবস্থা কেবল আমিই বুঝতে পারছি।’
আজ রাহা একটু ক্ষেপে উঠলো,’ভুল তোমাদের আর দোষ দিচ্ছ নূরকে। ও কি নিজ থেকে পৃথিবীতে আসতে চেয়েছিল। মাফ করবে মেয়ে হয়ে আজ বলতে হচ্ছে।’
একটু থেমে বললো,’তোমার প্রতি নূরের রাগ নেই, সে নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়েছে। শুধু মাত্র এক রাশ আফসোস নিয়ে সে চলে গেছে। কেমন লাগবে, যখন তোমার চেয়েও ওর কাছে শ্বাশুড়ির কদর বেশি হবে?’
‘চুপ থাকো রাহা, এখন রুমে যাও। আমার শরীর সুস্থ, জামাই কে বলো ফিরে আসতে।’
বাবার কথায় রাহা রেগেমেগে উঠে চলে গেল। রাশেদ সাহেব কপালে হাত চেপে শুয়ে পড়লেন। রেহানা তম মেরে বসে আছেন। মেয়ের কথাগুলো খুব করে গায়ে লেগেছে। মেজাজ খারাপ করে বসে রইলেন তিনি।
নূরের পাশে আইশা বসা, বাচ্চাগুলো কে অন্য গাড়িতে তুলে দিয়েছে। আপাতত ওদের গাড়িতে চারজন। ব্যাক সিটে নূর আর আইশা। আজমাঈন ড্রাইভ থেকে করছে তার পাশে আজমল শিকদার। নূর এখনও থেমে থেমে ফোপাচ্ছে। তার ভেতরকার ঝড় থামেনি যে। সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকে ছেড়ে এসেছে, যার দেখভাল নূর ছাড়া কেউই করতে পারত না। এখন মানুষটার কি হবে ওকে ছাড়া? আজমাঈন আধঘন্টা যাবত লক্ষ্য করছে। ব্রেক কষতেই আজমল শিকদার হতচকিত হয়ে উঠলেন। ঝিমুনি ভাব চলে এসেছিল ওনার, চোখ খুলে এদিক ওদিক তাকালেন। ছেলের দিকে তাকাতেই সে মিষ্টি করে হেসে বললো, ‘শিকদার সাহেব, আপনি পেছনে যান আর আমার বউ কে আমার পাশে পাঠিয়ে দিন।’
‘বেয়াদব, এভাবে কেউ গাড়ি থামায়? লাজ লজ্জার মাথা খেয়েছিস দেখছি।’
‘লজ্জা কিসের, দেখছো না কাঁদছে? যাও!’
আইশা ঠোঁট চেপে হাসে। বলে,’তুমি এমন ত্যাড়া কেন আব্বু?’
ব্যস ওনার মাথা গরম হয়ে গেল। রাগে গজগজ করতে করতে গাড়ি থেকে নামলো। বাপ ছেলের এমন কান্ড দেখে নূরের কান্না বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কিছু বলতে পারলো না। নিজ জায়গা ছেড়ে গিয়ে আজমাঈনের পাশের সিট দখল করলো। আজমাঈন গাড়ি স্টার্ট দিয়ে নূরকে বললো,’আঙ্কেলের সাথে কথা বলবে?’
গলার স্বর কাঁপছে, কথা বলতে পারে না। শুধু মাথা নেড়ে না বোঝায়। এখন কিছুতেই কথা বলতে পারবে না, কান্না চলে আসবে।
আজমাঈন আবার ড্রাইভিং এ মন দেয়। আজ ভাগ্য ভালো, রাস্তায় জ্যাম নেই। এক ঘন্টার মধ্যেই ওরা পৌঁছে গেল। বাসা ভর্তি লোকজন গিজগিজ করছে। দেখেই আজমাঈনের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। গাড়ির ভেতরে থম মেরে বসে রইল। তবে আজমল শিকদার লাফাতে লাফাতে বের হলো। দরজা খুলে নূরকে বললো,’এসো মা, আজ থেকে আমি তোমার আরেক বাবা। ভয় পেও না, আমার সাথে এসো।’
নূর নামলো, আজমাঈন সোজা হয়ে বসল। গাঁয়ে কালো খয়েরী রঙের পাঞ্জাবি, গলার পাশে সুক্ষ্ম পুঁতির কারুকাজ। হাতা কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে বের হয় আজমাঈন। আজমল শিকদারের পথ আটকে বলে, ‘যখন তুমি বউ নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছিলে তখন আমি কিছু বলেছি?’
‘তখন তো তুই পৃথিবীতে ছিলি না।’
‘যেখানেই থাকি না কেন, বলেছি কিছু? এখন আমার বউ আমি নিয়েই ভেতরে ঢুকব।’
আইশা রাগি মুখে বলে,’তুমি সবসময় ভাইয়ার সাথে প্রতিযোগিতা করো কেন আব্বু? ভাবিকে ও নিয়ে যাবে এটা কমনসেন্স সেটাও তোমার নেই।’
আজমল শিকদার রেগে বলেন,’তুইও বেইমান, সব বেইমান পয়দা হয়েছে।’
আজমাঈন গিয়ে নূরের হাত ধরলো। এই বাড়িতে নূর আগে একবার এসেছিল, তখন কাজ চলমান ছিল বাড়ির। আর এখন এটা পরিপূর্ণ একটা ঘর। আজমাঈন হাত ধরে সামনে এগোয় আর নূর পিছু পিছু। ওর সকল কাজিনরা বাড়ির লনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ফুলের পাপড়ি হাতে। তারা প্রস্তুত হচ্ছে ফুল ছিটিয়ে দেওয়ার। একজন হঠাৎ করে বলে উঠলো,’আজমাঈন ভাইয়া, এভাবে গৃহ প্রবেশ ভালো লাগে না। ভাবিকে কোলে করে নিয়ে আসো।’
একসাথে সবাই হৈচৈ শুরু করে দিলো। উচ্চস্বরে হাসির শব্দ ভেসে এলো। আজমল শিকদার আগে আগে বাসার ভেতর চলে গেছেন। এখন আজমাঈনের পালা। সে নূরের দিকে হালকা ঝুঁকে ফিসফিস করে বললো,’শক্ত করে ধরে রেখো কেমন? নাহলে পড়ে যাবে।’
আজমাঈন যখনই নূরকে কোলে তুলে নিলো ওর হাতজোড়া আপনাআপনিই আজমাঈনের গলা জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। ফুলের পাপড়ি গুলো এসে হানা দিলো ওদের উপর। নূর চোখ বন্ধ করে নিলো। আজমাঈন ছোট ছোট পা ফেলে ভেতরে এলো। তাহমিনা আর আত্মীয়রা ব্যস্ত হলো বউকে ভেতরে নেওয়ার জন্য। নূরকে সোফায় বসিয়ে দিলো আজমাঈন। মায়ের দিকে তাকাতেই সে সব বুঝে নিলো। তানাজকে ডেকে বললো,’নূরকে এখন তোর রুমে নিয়ে যা, আগে একটু রেস্ট করুক।’
তানাজ প্রেগন্যান্ট বিধায় একমাত্র ওর রুমে কেউ যায়না। বাকি রুমে মানুষ দিয়ে ভরে গেছে। পাড়া পড়শীরাও এসেছে নতুন বউ দেখতে। একজন বললেন,’নতুন বউ না দেখিয়ে রুমে নিয়ে যাবি? আমরা দেখব না?’
তানাজ বললো,’অবশ্যই দেখবে, এখানে তো অন্যান্য পুরুষ মানুষ আছে। তাদের সামনে ভাবিকে দেখানো যাবে না। রুমে নিয়ে যাই তারপর এক এক করে আসবেন।’
তানাজের কড়া কথা, তার মুখের উপর কেউ কথা বলতে পারে না। একমাত্র সেই সকল আত্মীয় স্বজনের মুখে লাগাম টেনে দিতে পারে। সে নূরকে নিয়ে নিজ রুমে যায়। এতক্ষণে নূর হাঁফ ছাড়ে, এতো মানুষের মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসছিল ওর। তানাজ বলে,’ভাবি, এবার বোরকা খুলে বসো। আরাম লাগবে।’
নূর নেকাব খুললো আর তানাজ চেয়ে রইল ওর দিকে। আজকালকার মেয়েরা একটু সুন্দর হলে নিজেকে সকলের সামনে আরো সুন্দর করে প্রেজেন্ট করার চেষ্টা করে। সেখানে নূর তাদের থেকে কম নয়, কিন্তু সে নিজেকে ঢেকে রাখে। বিষয়টা ওকে মুগ্ধ করলো। বললো,’তুমি খুব সুন্দর ভাবি, ভাইয়া খুব লাকি আর আমরাও।’
একটু থেমে বলে,’তাড়াতাড়ি চেঞ্জ করে নাও। পাড়ার মানুষ আসবে তোমাকে দেখতে। একটু মানিয়ে নাও, শুধু দু’দিন। তারপর দেখবে সব ঠিকঠাক।’
নূর হাসার চেষ্টা করে। তানাজকে এই প্রথম দেখছে তবে আইশার মুখে ওর কথা শুনেছে। আইশা এসে দুমদাম দরজা ধাক্কা দিচ্ছে। তানাজ বিরক্ত হয়ে দরজা খুললো। ও দৌড়ে এসে বললো,’সরো সরো ভাবিকে রেডি করিয়ে দেই।’
বলতে বলতে লাগজে টানতে টানতে এক কোণে রাখলো। তানাজ জিজ্ঞেস করলো,’লাগেজ দিয়ে কি হবে এখন? একটা শাড়ি বের করে আনলেই হতো।’
আইশা কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে বলে,’বাহ রে, তুমি দেখছি কিছু জানো না আপু। ভাবি এলো বোরকা পরে, বউ সেজে নয়। ভাইয়ার কি ইচ্ছে করে না ভাবিকে বউ সাজে দেখতে।’
কথাগুলো স্বাভাবিক ভাবে বললেও নূর লতার ন্যায় নুইয়ে পড়লো। মাথা নিচু করে বসে রইল। তানাজ ফিসফিস করে বললো,’মার খাবি, পাকা পাকা কথা শিখেছে।’
একটু জোরে বলে,’পরে সাজাবি, আগে ভাবি রেস্ট করুক। কিছু খেয়ে নিক তারপর। তাছাড়া এখন সবাই দেখতে আসবে। ওনারা চলে যাওয়ার পর সাজিয়ে দিস।’
তানাজ বেরিয়ে গেল খাবার আনতে। আইশা বললো, ‘চেঞ্জ করে নাও, আমি এখানে আছি।’
নূর উঠে দাঁড়িয়ে বললো,’আমার ফোনটা কোথায়?’
‘আঙ্কেল কে ফোন করবে? তোমার ফোন তো ভাইয়ার কাছে। আর সে মসজিদে গেছে। এলে ফোন নিও। আপাতত রেস্ট করো আর নামাজ পড়ে নাও।’
নূর মুচকি হেসে, আইশাকে তার ভালো লাগে এখন। অতিরিক্ত কথা বললেও ভালো লাগে। আইশা মাথার কাপড় টেনে বললো,’তুমি খুব ভালো, জানো আমি কিন্তু নামাজ পড়ি। আগে পড়তাম না। ভাইয়ার সাথে সাথে শুরু করেছি। এজন্য তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’
নূর সহাস্যে বললো,’ধন্যবাদ তোমাকে দেওয়া দরকার। এত তাড়াতাড়ি নিজেকে বদলে ফেলতে ক’জন পারে। এজন্য তোমার গিফট পাওয়া দরকার।’
‘থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ।’ লাফিয়ে উঠলো আইশা।
নূর চেঞ্জ করে নেয়। আজ আইশা ওর সাথে নামাজ পড়ে। তারপর খাটের এক কোণে গিয়ে বসে। এরপর একে একে মানুষ জন আসতে শুরু করে দিয়েছে। তবে পুরুষ মানুষ এলাও না। আব্দুল আঙ্কেলের বউ এসেছেন। তিনি হই হই করে ভেতরে ঢুকলেন। নূরের সামনে গিয়ে থুতনিতে হাত দিয়ে মাথা উঁচু করে ধরে বললেন,’মাশআল্লাহ মাশআল্লাহ!! বউ খুব সুন্দর আছে। এই বউয়ের জন্য তোর ভাই অ্যালার্ম দিছে বুঝি? যাক ভালো ভালো। বউ তোমার নাম কি?’
‘রেহনুমা জান্নাত নূর।’ আস্তে করে বললো নূর।
উনি মাথা নাড়লেন। তবে চলে গেলেন না। পাশে বসে খোশ গল্প শুরু করলেন। আজমাঈন সবে নামাজ পড়ে ফিরেছে। আগের পাঞ্জাবি বদলে সাদা পাঞ্জাবি পরেছে। সে ড্রয়িং রুমের সোফায় এসে বসতেই কাজিন দের বাচ্চাগুলো এসে হাজির। একটা পিচ্চি মাথা নেড়ে নেড়ে বলে,’আঙ্কেল আঙ্কেল, আন্টি বলেছে নতুন বউকে নাকি কোন ছেলেরা দেখতে পারবে না। নতুন বউ পর্দা করে, বারো বছরের ছেলেরা দেখতে পারবে না। কিন্তু আমার তো বারো বছর হয়নি আমাকে একটু দেখতে দিবে?’
আজমাঈন কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থেকে হেসে ফেললো। ওর কাজিন গুলো যেমন হারামি তেমন বাচ্চাগুলো পাজি হয়েছে। বললো,’কেন নয়, তোমরা অবশ্যই দেখবে। চলো আমিই দেখিয়ে আনছি।’
রুমের মানুষ তখন কমে এসেছে। আইশা সকলকে বের করে দিচ্ছে। এখন নতুন বউ কে সাজানো হবে। আজমাঈন তখন ছয় সাতজন পিচ্চিদের নিয়ে রুমে ঢুকলো। আইশা বললো,’এখন কেন এলে? কাজ আছে যাও।’
পদ্মপ্রিয়া পর্ব ২৯
‘ওরা নতুন বউ দেখতে এসেছে।’
নূর সিঙ্গেল সোফায় বসেছিল। এতগুলো গুলুমুলু বাচ্চা একসাথে সে কখনোই দেখেনি। কি সুন্দর করে তাকিয়ে আছে। আজমাঈন ওদের কে বললো,’নাও দেখে নাও।’
‘নতুন বউ খুব সুন্দর।’
আজমাঈন ওদের বললো,’এভাবে বলতে নেই। সুন্দর কিছু দেখলে মাশআল্লাহ বলতে হয়। বলো মাশআল্লাহ।’
সবাই একসঙ্গে জোরে জোরে বলে উঠলো, ‘মাশআল্লাহ মাশআল্লাহ!!’
