অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ২৭
রিদিতা চৌধুরী
শহরের যান্ত্রিক কোলাহল আর গাড়ির হর্নের কর্কশ শব্দের মাঝে বাড়ি ফেরার পুরোটা পথ রিদি ছিল এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ডুবে। সৌহার্দ্যের সাথে তার এই লুকোচুরি খেলা, মাঝেমধ্যে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়া অভিমান, আবার কখনো হাড়কাঁপানো মানসিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে সে আজ বড্ড দিশেহারা। এইসব টানাপোড়ন এর মধ্য সৌহার্দ্য তাকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়েই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে চলে গেছে, ৯টায় তার ওটি।
রিদি বাড়ি ফিরল প্রায় ঘণ্টাখানেক হলো, কিন্তু নিজের ঘরে না গিয়ে সোজা পা বাড়াল রান্নাঘরের দিকে। গত চার-পাঁচ দিন এই রান্নাঘরের চৌকাঠ সে মাড়ায়নি, বিশেষ করে সাথী ওকে এবার আসার পর থেকে রান্নাঘরের চৌকাট মাড়াতে দেই নাই!
তোহা-যোহারা এখন মোটামুটি হাঁটতে শিখেছে, দাদা-দাদিদের সাথে দিব্যি খেলে বেড়ায়। তাদের সেই কিচিরমিচির আর মিষ্টি দুষ্টুমিতে সাথীকে তাদের নিয়ে খুব একটা ব্যস্ত থাকতে হয় না, তাই স্বাচ্ছন্দে রান্না বান্না গুলে নিজেই করে ফেলে আমেনা খালার সাহায্যে। চৌধুরী বাড়ির একটা অলিখিত নিয়ম—বাড়ির সব কাজ লোকজনে করলেও, রান্নার দায়িত্বটা বাড়ির বউদেরই সামলাতে হয়। রিদির দাদী শাশুড়ির হাত ধরে যে ঐতিহ্যের শুরু, তা আজও অমলিন। রিদি বা সাথী বউ হয়ে আসার আগে এই সংসারের রান্নার পুরো দায়ভার ছিল রিমা চৌধুরী আর শাহেদা চৌধুরীর হাতে। শাহেদা চৌধুরী বেশিরভাগ সময় অসুস্থ থাকায় সাংসারিক ঝক্কি সেভাবে সামলাতে পারতেন না; সেই শূন্যতাটুকু নিজের মমতা দিয়ে পূরণ করতেন রিমা চৌধুরী। কোনো দিন কোনো অভিযোগ বা ক্লান্তি না দেখিয়ে, পরম স্নেহে তিনি আগলে রেখেছেন পুরো চৌধুরী বাড়িকে, প্রতিটি কোণ গুছিয়ে রেখেছেন নিজস্ব ছন্দে। এই দিকটায় তার ভালো গুন ছিলো!
রিদির হাতের জাদুতে রান্নাঘর তখন মৌ মৌ করছে। আমেনা খালা পাশে দাঁড়িয়ে টুকটাক সাহায্য করছেন, আর রিদি আপনমনে রাঁধছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই হাসাহাসি করতে করতে রান্নাঘরে ঢুকল সাথী আর পৃথা। রিদিকে এতো যত্ন করে রাঁধতে দেখে সাথী মৃদু হেসে এগিয়ে এল। তার কণ্ঠের বাঁকানো সুরে এক চিমটি দুষ্টুমি, “বাহ্! আমার ননদ রানী তো আজ দারুণ মুডে দেখছি! সারা রাত জামাইয়ের সাথে ঘুরে বেড়িয়েও এত এনার্জি?”
সাথীর এমন টিপ্পনীতে রিদির গাল দুটো লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল। সে চোখ রাঙিয়ে পৃথার দিকে তাকিয়ে বলল, “এই শাকচুন্নিটাই নিশ্চয়ই তোমাকে সব বলেছে, তাই না?”
পৃথা একগাল হেসে রিদির কোমরে হালকা খোঁচা দিয়ে বলল, “দোষটা কি শুধু আমাদেরই? তুই নিজে জামাই নিয়ে ঘুরবি আর আমরা একটা কথাও বলতে পারব না?”
তিনজনের এমন খুনসুটিতে রান্নাঘরটা তখন প্রাণবন্ত। ঠিক তখনই ব্যস্ত পায়ে ভেতরে ঢুকলেন রায়েদা শেখ। সবার দিকে তাকিয়ে তাড়া দিয়ে বললেন, “কি রে তোরা? এখনো নাস্তা শেষ করতে পারলি না? বের হতে হবে তো! আর শোন, দুপুরের খাবারটা ভাইজান এখানেই খেতে বলেছে।”
রায়েদা শেখের কথা শুনে রিদি রান্নার ব্যস্ততার মাঝেই তাঁর দিকে ফিরে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে এক টুকরো মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। শান্ত কণ্ঠে বলল, “এই তো খালামনি, আর একটুখানি বাকি। হয়েই যাবে।”
’খালামনি’—মেয়ের মুখে এই ছোট্ট ডাকটুকু শুনতেই রায়েদা শেখের বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল। যেন এক নিমেষেই চোখের সামনে ভেসে উঠল তার অকালে ঝরে যাওয়া মৃত বোনের মুখচ্ছবি। এই মেয়েটা যে তার বোনের রেখে যাওয়া একমাত্র স্মৃতি।
তিনি রিদির মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করলেন। কিন্তু সেই স্পর্শের আড়ালে লুকিয়ে থাকা দীর্ঘশ্বাস কেউ টের পেল না। চোখ ভিজে এল রায়েদা শেখের, দ্রুত আঁচলে চোখের কোণটা মুছে নিলেন। মনের গভীরের সেই অব্যক্ত কষ্ট আর ভালোবাসাটুকু কারো নজরে পড়ার আগেই, ভারী পায়ে তিনি রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
সকাল দশটা। ডাইনিং টেবিলের চারপাশে সরগরম পরিবেশ, সবাই নাস্তা করতে বসেছে। রিদি, সাথী আর পৃথা ব্যস্ত হয়ে সবার প্লেটে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। ঠিক তখনই সারহান চৌধুরী তার দৃষ্টি রিদির দিকে ঘুরিয়ে শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “রিদি মা, সৌহার্দ্য কোথায়? ও কি আমাদের সাথে বের হবে না?”
প্রশ্নটা শুনে রিদির হাতের নাড়াচাড়া যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সৌহার্দ্য যাবে কি যাবে না—সে তো নিজেরই অজানা। অনিশ্চয়তার সেই অস্বস্তিতে সে একটু আমতা আমতা করে বলল, “আব্বু, ওনার একটা ওটি আছে। সকালে ও তো তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেল, কখন ফিরবে সেটা তো কিছু জানায়নি।”
রিদির অস্পষ্ট উত্তরে সারহান চৌধুরীর কপালে ভাঁজ পড়ল। তিনি মৃদু তিরস্কারের সুরে নিজের স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমার এই গুনের বাহার ছেলে?” যাবে তো না সেখনেও তার এলার্জি?
স্বামীর কথা শেষ হতে না হতেই শাহেদা চৌধুরী যেন কিছুটা বিরক্ত হয়েই জবাব দিলেন, “আপনি কি সব সময় আমার বাবুর পেছনেই লেগে থাকবেন? ওর কাজ শেষ হলেই যাবে বলেছে, একটু ধৈর্য ধরুন না!”
শাহেদা চৌধুরীর কথায় সারহান চৌধুরী আর কোনো কথা বাড়ালেন না। তিনি দীর্ঘশ্বাস চেপে চুপ করে গেলেন। তিনি ভালোভাবেই জানেন, তার স্ত্রী অন্ধভাবে সন্তান-ভক্ত। ছেলের বিরুদ্ধে একটা কথাও যেন শাহেদা চৌধুরীর কানে গিয়ে বিঁধে। সারহান চৌধুরী দৃঢ় ধারণা, ছেলের প্রতি মায়ের এই অতিরিক্ত প্রশ্রয় আর সীমাহীন আশকারাতেই সৌহার্দ্য আজ এতটা জেদি হয়েছে।
দুপুর গড়িয়েছে কেবল। খন্দকার বাড়ির গেট দিয়ে চৌধুরী পরিবারের তিনটি গাড়ি সারিবদ্ধভাবে ভেতরে প্রবেশ করল। দীর্ঘ চার বছরের মান-অভিমান আর শীতল দূরত্ব কাটিয়ে আজ যেন এক নতুন ভোরের দেখা মিলল। গাড়ি থেকে নামতেই সারহান চৌধুরী আর শাহেদা চৌধুরীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে এগিয়ে এলেন শাহেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে দুই ভাই—ফাইজান খন্দকার ও ফজলুল খন্দকার, আর তাদের স্ত্রী মায়মুনা বেগম ও শান্তা বেগম।
মায়মুনা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের ননদ শাহেদা চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরলেন। চোখের কোণে জল চিকচিক করে উঠল তার, ভারী কন্ঠে বলল, “এতটা অভিমান কি মানায় শাহেদা? এতগুলো বছর কি একবারও আমাদের কথা মনে পড়েনি?”
শাহেদা চৌধুরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবীর পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলেন। ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বললেন, “অভিমান কার ওপর করব ভাবী? যে বাড়িতে এতদিন আমার মেয়ের পা ফেলার অনুমতি ছিল না, সে বাড়িতে আমি কীভাবে আসতাম বলো?”
মায়মুনা বেগম সহজ-সরল মানুষ। ননদের কথা শুনে তিনি ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কোথায় আমার রামিশার মেয়ে? কেমন দেখতে হয়েছে সে? একদম রামিশার মতো হয়েছে তো?”
ভাইয়ের স্ত্রীর এমন আকুলতা দেখে শাহেদা চৌধুরীর ঠোঁটে এক চিলতে বিষণ্ণ হাসি ফুটল। তিনি জানেন, রামিশা খন্দকার শুধু মায়মুনা বেগমের জান ছিল না, বরং পুরো খন্দকার বাড়ির হৃদস্পন্দন ছিল।
পরিবারের সবাই পূর্ব পরিচত হলেও রিদি আর পৃথা নতুন। তাই শাহেদা চৌধুরী যখন রিদি আর পৃথাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন ফায়জান খন্দকার ফজলুল খন্দকার আর শান্তা বেগম পৃথার সাথে সৌজন্যমূলক কথা বললেও রিদির দিকে তাকালোনা না কোন সৌজন্য বোধ দেখলো । বরং শান্তা বেগম রিদির দিকে একপলক অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুখটা বাঁকিয়ে বলে উঠলেন, “থাক, নতুন করে পরিচিত হয়ে আর কী হবে? এসেছে, দুদিন ঘুরে-ফিরে খেয়ে দেয়ে চলে যাবে আর কি?!” বলেই তিনি পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন।
শান্তা বেগমের এমন রুক্ষ আচরণে রিদি যেন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার ভেতরটা অকারণে শিউরে উঠল, বুঝতে পারল না ঠিক কী কারণে তার সাথে এমন ব্যাবহার? রিদির সেই স্তব্ধতা কাটাতে মায়মুনা বেগম এগিয়ে এসে তাকে পরম স্নেহে বুকে জড়িয়ে নিলেন। কপালে আলতো চুমু খেয়ে রায়েদা শেখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মাশাআল্লাহ! একদম পুতুলের মতো দেখতে। মায়ের মতো অতটা সুন্দরী না হলেও, চেহারা ভীষণ মায়াবী।” আ….
তিনি বাকি কথা শেষ করার আগেই শহেদা চৌধুরী ইশারায় তাকে থামিয়ে দিলেন। মুহূর্তের জন্য থমকে গেল সবকিছু। রিদি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল, এই পরিস্থিতি তাকে ঘোরের মতো আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। এদের কথার কোনো অর্থই সে মেলাতে পারছে না। কেউ তাকে আদরে কাছে টেনে নিচ্ছে, আবার কেউ কেমন অদ্ভুত আচারণ করছে—সবই তার কাছে এক রহস্যময় ধাঁধা। অথচ এই মানুষগুলোকে সে তো জন্মের পর থেকে কখনো দেখেনি, আজই তো প্রথম দেখা! আর তার মা তাকে তো তাদের চিনার ও কথা বলে রিদির মনে হলো না!
রিদির মাথায় যখন চিন্তার ঝড় বইছে, তখনই রায়েদা শেখ পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ধমকের সুরে সবাইকে বাড়ির ভেতরে যাওয়ার তাড়া দিলেন। তার সেই হইচই আর ব্যস্ততায় রিদির ভাবনার জগৎটা এক নিমেষে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। অজানার এক অস্বস্তি নিয়ে সে নিজের চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে বাড়ির ভেতরে পা বাড়াল।
রিভা যখন রিদি আর পৃথাকে খন্দকার বাড়ির আঙিনায় নিয়ে ঘুরে দেখাচ্ছিল, রিদির চোখ তখন বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে উঠেছে। এ যেন বাড়ি নয়, এক রূপকথার রাজপ্রাসাদ! চৌধুরী বাড়ির মতো তিনটে বিশাল অট্টালিকাও বোধহয় এর ভেতরে অনায়াসে এঁটে যাবে। একদিকে সারিবদ্ধ দেশি-বিদেশি ফলের চারা, অন্যদিকে বিশাল এক দিঘি, আর তার সামনে-পেছনে দিগন্তবিস্তৃত বাগান—সব মিলিয়ে এক চোখ ধাঁধানো রাজকীয় আভিজাত্য। শাহেদা চৌধুরীর বাবা ছিলেন জমিদার বংশের সন্তান, শুধু তাই নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পরিবারের রক্তে মিশে আছে ক্ষমতার দাপট—বাবা জমিদার, নিজে কয়েকবারের এমপি, ছেলে এবং সর্বশেষ তার নাতি ফারিস খন্দকার—এখন এই আসনটি অলংকৃত করে রেখেছে সে-ই।
বিকালে পুকুর পাড়ের বিশাল ঘাটলায় বসে গল্পে মজেছিল পৃথা, রিভা আর রিদি। কিছুক্ষণ আগেই দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পাট চুকেছে। খাওয়ার টেবিলেই রিদির মুখোমুখি হয়েছিল ফারিস আর ফাহান। খন্দকার পরিবারের এই দুই ছেলে, কোনো মেয়ে নেই। ফাহান বড়, এমনকি সৌহার্দ্যর চেয়েও বয়সে বড়। ফারিসকে দেখেই রিদির হৃৎপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছে। এই লোকের সাথেই তো রাস্তায় কিছুদিন আগে তার চরম কথা কাটাকাটি হয়েছিল! কিন্তু যখন জানল ফারিস আসলে সৌহার্দ্যরই মামাতো ভাই, তখন নিজের ব্যবহারের কথা ভেবে রিদির ভিষম লজ্জা পেল। তবে ফারিস খুব চমৎকারভাবে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে, তার সাবলীল আচরণ রিদির সংকোচ আর জড়তা নিমেষেই কাটিয়ে দিয়েছে।এ বাড়িতে আসার পর থেকে সবাই তার সাথে মোটামুটি ভালো ব্যবহার করলেও, শান্তা বেগম কেমন জানি অদ্ভুত আচরণ করছেন। রিদি বুঝতে পারছে না, যার সাথে তার জীবনে কখনো দেখাই হয়নি, তার এমন আচরণের কারণ কী!
কথোপকথনের এক ফাঁকে রিদি লক্ষ্য করলো, রিভার মনটা যেন মেঘলা আকাশের মতো বিষন্ন হয়ে আছে। গতকাল থেকেই রিদি খেয়াল করছে, রিভা বড্ড বেশি শান্ত—যা তার স্বভাবের সাথে একেবারেই মেলে না। যে মেয়েটি সারাক্ষণ চঞ্চলতায় মেতে থাকে, সে হঠাৎ এমন থমথমে হয়ে আছে কেন? রিদি আলতো করে রিভার পাশে গিয়ে বসল, এরপর স্নেহমাখা হাতে তার চুলে বিলি কেটে পরম মমতায় জিজ্ঞেস করলো, “আমার দুষ্টু ননদটির আজ মন খারাপ কেন, বল তো?”
রিভা স্বভাবতই একটু আবেগপ্রবণ। নিজের মনের কষ্ট সে বেশিক্ষণ চেপে রাখতে পারে না। মা, খালা, মামা আর ভাইদের আদরে রাজকন্যার মতো বেড়ে ওঠা এই মেয়েটির অভিমানের পাল্লাটা এমনিতেই একটু ভারী। রিদির সেই আদুরে স্পর্শ যেন রিভার বাঁধ ভাঙার অনুঘটক হয়ে দাঁড়ালো। মুহূর্তের মধ্যে রিভার চোখের কোণ উপচে জল গড়িয়ে পড়লো। রিদি একটু হকচকিয়ে গেল, মেয়েটা হুট করে এমন করে কাঁদছে কেন? সে রিভাকে নিজের বুকের কাছে টেনে নিয়ে সান্ত্বনার সুরে বলল, “কী হয়েছে রিভা? কান্না থামিয়ে আমাকে বল তো,?
রিভা ফুঁপিয়ে উঠে, নাক টানতে টানতে ভাঙা গলায় বলল, “তোমার ঐ কানা ভাইটা খুব খারাপ, ভাবী!”—বলেই সে আবার কান্নায় ভেঙে পড়লো।
রিদি খানিকটা বিরক্ত হলো, কিন্তু পরিস্থিতি সামলে নিয়ে বলল, “কান্না থামাও আগে। বল তো, ভাইয়া ঠিক কী করেছে?”
রিভা নিজের চোখের জল মুছে, ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলতে শুরু করল, “আমি গত কাল ওনাকে প্রপোজ করছিলাম। কত সুন্দর রেস্টুরেন্ট বুক করে, টেবিল সাজিয়ে… আর ওই কানা লোকটা আমাকে একসেপ্ট তো করলই না, উল্টো একটা থাপ্পড় মেরে গাল লাল করে দিল। দেখো, আমার গালটা এখনো জ্বলছে!” বলেই সে নিজের গালটা রিদির দিকে এগিয়ে দিল।
যদিও সেখানে কোনো দাগের চিহ্ন নেই, তবুও রিদি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, “ঠিক আছে, আমি ভাইকে বকব। কিন্তু তুমি আমাকে একটা সত্যি কথা বল তো, তুমি কি ভাইয়াকে সত্যি সত্যি ভালোবাসো?”
রিভার চোখে তখনো জল, কিন্তু তার মাঝেই যেন এক অদ্ভুত মায়ার আবেশ খেলে গেল। সে আনমনা হয়ে বলল, “আমার ওনাকে ভীষণ ভালো লাগে ভাবী। ওনি অনেক হ্যান্ডসাম, বিশেষ করে ওনার ওই নীল চোখগুলো যখন…”
রিদি কপালে বিরক্তির ভাঁজ ফেলল। সে জানতে চাইল ভালোবাসার কথা, আর এই মেয়ে উত্তর দিচ্ছে তার চোখের রূপ নিয়ে! ভাই-বোন দুটোই অদ্ভুত— নিজেদের মনের খবর জানেনা অথচ মানুষকে চরকির মত ঘুরাতে বসে থাকে! ওদের কথার রেশ কাটতে না কাটতেই, খন্দকার বাড়ির গেট দিয়ে সৌহার্দ্যের গাড়িটা প্রবেশ করল। গাড়ির শব্দে ওদের কথা থেমে গেল। সৌহার্দ্যকে গাড়ি থেকে নেমে ওদের দিকে আসতে দেখেই পৃথা অস্বস্তিতে পড়ে রিভাকে টেনে চটজলদি বাড়ির ভেতরের দিকে চলে গেল।
সৌহার্দ্য কারোর দিকে না তাকিয়েই সরাসরি এসে রিদির পাশে ধপ করে বসে পড়ল। রোদের উত্তাপ আর ক্লান্তিতে তার পরনের সাদা শার্টটা ঘামে লেপ্টে আছে, গলার দিকের দুই-তিনটি বোতাম খোলা, এলোমেলো চুলে যেন এক দলা শ্রান্তি। হঠাৎ করেই সৌহার্দ্য রিদির হাতটা টেনে নিয়ে নিজের চুলের ভাঁজে গুঁজে দিল। ভারী, গম্ভীর অথচ অদ্ভুত এক ক্লান্তির স্বরে সে বলল, “হাত বুলিয়ে দাও তো, পটলের আম্মু! প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে।”
সৌহার্দ্যের মুখে এমন অদ্ভুত সম্বোধন শুনে রিদি যেন থমকে গেল। হতবাক হয়ে সে বলে উঠল, “কী বাজে বকছেন এসব! আমি কেন পটলের…” কথাটি পুরোপুরি শেষ করার আগেই যেন তার মাথায় বিদ্যুতের মতো খেলে গেল। সে বিরক্তির স্বরে বলে উঠল, “ছিঃ! আপনি আসলেই একটা যা-তা লোক। নিজের বাচ্চাদের কেউ এমন অদ্ভুত নামে ডাকে?”
সৌহার্দ্য ভ্রু কুঁচকে রিদির দিকে তাকাল। তারপর ধীরগতিতে রিদির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তুমি এগ্রি?”
রিদি বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে ঝাঝিয়ে উঠল, “গিরগিটি লোক! একটা কথা কি সোজা করে বলতে পারেন না?”
সৌহার্দ্য এবার ভ্রু জোড়া কুঁচকে ফেলল। অত্যন্ত গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, “ওদের আনতে?”
রিদি প্রথমে ঠিক বুঝতে পারেনি। সে যখনই জিজ্ঞেস করতে গেল, “কাকে…”, তখনই কথাটার গভীর অর্থ তার মাথায় দপ করে জ্বলে উঠল। সে মুখ বাঁকিয়ে বিদ্রূপের স্বরে বলল, “বউ-ই মানেন না ঠিকমতো, আবার বাচ্চার চিন্তা করেন কোন সাহসে?”
রিদির কথায় সৌহার্দ্যের চোখে-মুখে একরাশ বিরক্তি খেলা করে উঠল। সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে, শীতল গলায় বলল, “তোমাকে কে বলল, ‘পটকাগুলোকে’ আনতে বউ মানতে হয়? ওকে দেন,রুমে এসো, আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি কীভাবে আনতে হয়।”
রিদি রাগে গজগজ করতে করতে করে বলে উঠল, “বাজে লোক! গিরগিটি একটা, মুখ খুললেই শুধু বাজে কথা!”
সৌহার্দ্য এবার এক মুহূর্তের জন্য রিদির দিকে এমন এক দৃষ্টিতে তাকাল, যার মধ্যে রাগ আর অনুভূতির এক অদ্ভুত মিশ্রণ। গমগমে কণ্ঠে সে বলে উঠল, “স্টুপিড মহিলা! স্বামীর সাথে মুখে মুখে তর্ক না করে, যদি স্বামীর মনটা বোঝার চেষ্টা করতে, তবে এতদিনে চার-পাঁচটা পটল তোমার কোলে খেলে বেড়াত!”
বলেই সে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে হনহন করে বাড়ির দিকে চলে গেল। রিদি স্তব্ধ হয়ে সেখানেই বসে রইল! এই লোক কি বলে গেল? যে বউ মানেনা সে বলে কিনা স্বামীর মন বোঝার কথা?
রাত তখন প্রায় এগারোটা। বাড়ির নিস্তব্ধতা ভেঙে শুধু টেলিভিশনের মৃদু আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। রিভা আচ্ছন্ন হয়ে বসে “টম অ্যান্ড জেরি” দেখছে। তার পুরো মনোযোগ কার্টুনের দিকে, পাশের জগতে কী ঘটছে তার কোনও খবর নেই।
রিভান পাশে বসে সমানে রিভাকে খোঁচা মারছে, “রিভা, দে না রিমোটটা একটু! ওটা তো শেষ, এবার একটু আমি দেখি।” কিন্তু রিভার নজর একবারও পর্দা থেকে সরছে না। ও কিছুতেই রিমোট দিতে রাজি নয়। রিভানের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছিল।
ঠিক এমন সময় সদর দরজা খোলার শব্দ হলো। ফারিস ঘরে ঢুকল। ওর শরীর দিয়ে এক ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। ফারিস ঘরে ঢুকেই সোজা রিভার দিকে তাকাল, ওর চোখে এক অদ্ভুত, স্থির দৃষ্টি। ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। মনে হলো কিছু একটা গভীর চিন্তা ওকে গ্রাস করছে। ক্ষণিকের জন্য ফারিসের চোখ-মুখ রাগে লাল হয়ে উঠল, তারপরই এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এল তার চেহারায়।
ফারিস নিঃশব্দে পকেট থেকে মোবাইল বের করল। দ্রুত কোনও একজনকে মেসেজ পাঠিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগল, “ছুটাচ্ছি তোর ভালোবাসা। কষ্ট করে মুরগী পুষলাম আমি, আর সেটা পেটে যাবে কিনা শেয়ালের?” এটুকু বলেই ফারিস দপদাপ পা ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
এদিকে, রিভান ফারিসের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিল। ফারিস বেরিয়ে যেতেই রিভানের মোবাইলে একটা মেসেজ টুং করে উঠল। মেসেজটা পড়ে ওর বুকের ভেতর যেন একটা ধাক্কা লাগল। ও একটু ভয় পেয়ে চারদিকে তাকিয়ে রিভাকে ডাকল।
”রিভা, ও রিভা!” রিভান গলা নামিয়ে বলল। “এইমাত্র খবরে দেখলাম, আজ নাকি আকাশে একসাথে দুটো চাঁদ উঠবে। তুই যাবি দেখতে? চল না, দেখে আসি।”
রিভা অবাক হয়ে রিভানের দিকে তাকাল। ওর ভাবুক দৃষ্টিতে একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন। সে তো জীবনেও এমন অদ্ভুত কথা শোনেনি! দুটো চাঁদ! ওর ভাই কি পাগল হয়ে গেল নাকি? রিভা সন্দেহ নিয়ে রিভানের দিকে তাকাতে ও একটু থমকে গেল। তারপর বলল, “ওকে, আমিই একাই যাচ্ছি। তোর যেহেতু বিশ্বাস হচ্ছে না, থাক তুই এখানে।
বলেই রিভান চলে যেতে উদ্যত হলে রিভা ঝটপট বলল, “যাবো আমি। কিন্তু তোকে রিমোট দিবো না!” ও মনে মনে ভাবল, রিভান হয়তো ওকে বোকা বানিয়ে রিমোটটা হাতিয়ে নিতে চাইছে।
রিভান চোরের মতো এদিক-ওদিক তাকিয়ে আবার রিভার দিকে ফিরে এল। “ঠিক আছে, রিমোট দিতে হবে না। চাঁদ চলে যাবে তারাতারি। আয় মেরি মা!” বলেই রিভান বোনের হাত ধরে টানতে টানতে বেরিয়ে গেল। ওর ভেতরটা একটা অজানা ভয়ে কাঁপছে। যদি সৌহার্দ্য ওদের দেখে ফেলে, তাহলে তো রক্ষা নেই। ফরিস আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে কোনও মতেই যেন সৌহার্দ্যর সামনে না পড়ে।
রিভান চাঁদ দেখানোর বাহানায় রিভাকে বাড়ি থেকে অনেকটা দূর নিয়ে এসেছে। রিভা মাঝে মাঝে গুই গাই করলেও রিভান এটা-ওটা বলে ওকে শান্ত করেছে। বাড়ি থেকে অনেকটা দূর এসে, জনশূন্য এক রাস্তার ধারে, রিভান থামল। ও বোনের দিকে তাকিয়ে বলল, “রিভু বোন আমার, এখানে একটু দাড়া। আমি এক মিনিটে যেয়ে দুই মিনিটে আসছি।”
বলেই ও বোনের গাল টিপে দৌড়ে চলে গেল। রিভাকে কিছু বলার সুযোগও দিল না।
অন্ধকার রাতটা যেন আরও গাঢ় হয়ে এল। দশ মিনিট পার হয়ে গেছে, কিন্তু রিভানের দেখা নেই। জনশূন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা রিভার সারা শরীরে ভয়ের শীতল স্রোত বয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর পাতার শব্দ যেন এক একটা অশুভ সংকেত। রিভা আর অপেক্ষা করতে না পেরে সামনের দিকে পা বাড়াতেই অন্ধকার থেকে একটা হাত ছিটকে এসে ওর কবজি চেপে ধরল।
রিভা চিৎকার করে ওঠার আগেই একটা বলিষ্ঠ হাত ওর মুখ চেপে ধরল। পরিচিত সেই শীতল কণ্ঠস্বর—ফারিস। হিসহিসিয়ে সে ফিসফিস করে বলল, “শশুরের বেয়াদব মেয়ে! একটু আওয়াজ করলেই ঠাটিয়ে চড় দিব। এত রাতে এখানে কেন তুই? কি করছিস একা?”
রিভার বুক ধড়ফড় করছিল। সে তোতলাতে তোতলাতে বলল, “আমাকে… আমাকে তো ভাই…”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই জটলা পাকানো অন্ধকারে কয়েকটা ছায়া এগিয়ে এল। কিছু মানুষ ওদের ঘিরে ধরল। ভিড়ের মধ্য থেকে এক বৃদ্ধ লোক কর্কশ স্বরে বলে উঠলেন, “মেয়ের সাথে ফষ্টিনষ্টি করছো ছোঁড়া? কে এই মেয়ে? সম্পর্কটা কি তোমাদের?”
ফারিস কিছু বলার আগেই রিভা রাগে-ভয়ে চেঁচিয়ে উঠল, “দাদু আপনি ভুল বুঝছেন! উনি আমার ভাই হন! আমরা ভাই…”
রিভা তার কথা শেষ করতে পারল না। ফারিস ওকে থামিয়ে দিয়ে বিকৃত মুখে বলে উঠল, “এই বেয়াদব! আমি তোর ভাই হতে যাব কেন? জান বাজি রেখে এত কষ্ট করছি আর তুই কি না আমাকে ভাই বানিয়ে দিলি? ফাজিল মেয়ে!”
ফারিসের এই নাটকীয় আচরণে লোকজন আরও তেতে উঠল। কিন্তু ফারিস একদম বিচলিত নয়। সে লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত শান্ত গলায় বলল, “আরে ভাই, এত নাটকের কী আছে? সন্দেহ লাগছে? ঠিক আছে, বিয়েই পড়িয়ে দিন।” বলেই সে পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে আদেশ দিল কাজী নিয়ে আসার জন্য।
রিভা পাথরের মতো জমে গেল। ওর মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কাজী হাজির—যেন সবকিছু আগে থেকেই সাজানো ছিল। রিভা বুঝতে পারল, এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, সুপরিকল্পিত কোনো চক্রান্ত। কান্নায় ভেঙে পড়ে সে আর্তনাদ করে বলল, “ফারিস ভাই, আপনি এগুলো ইচ্ছে করে করছেন না? আপনি জানেন, আপনি জীবনেও আমার মন পাবেন না!”
ফারিস কাজীকে তাড়াহুড়ো করতে বলে রিভার দিকে ঘুরল। ওর চোখে অদ্ভুত এক জেদ আর নিষ্ঠুরতা। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে সে বলল, “তোর মন ধুয়ে পানি খাব আমি? চাই কে তোর এই ভেজাল মন? মন লাগবে না আমার, তোকে পেলেই চলবে। এখন তাড়াতাড়ি ‘কবুল’ বল! মিডিয়া দেখলে সত্যিই কট খেয়ে যাবো!”
রিভা কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না।হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে সে বলে উঠল, “আমি ভাইকে সব বলে দেব! আপনি জোর করছেন!”
ফারিসের ধৈর্য আর কুলোয়নি। সে পকেট থেকে রিভলবারটা বের করে রিভার দিকে তাক করল। বাতাসের শব্দ যেন মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। ফারিস ঠান্ডা গলায় বলল, “এই ভেজাল প্রোডাক্টের বোন, তোর ওই ঘাড়ত্যাড়া ভাইকে আমি ভয় পাই? ‘কবুল’-এর বাইরে একটা শব্দ করলে এটা লোড করা আছে, বুকটা ঝাঁঝরা করে দেব। যে বুকে আমার জায়গা নেই, সেখানে অন্য কারোর থাকারও দরকার নেই।”
রিভলভারের ঠান্ডা নল রিভার বুকের ওপর চেপে ধরল ফারিস। কাজি সাহেব ভয়ে থরথর করে কাঁপছেন। ফারিস তার দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে গর্জে উঠল, “কাঁপা-কাঁপি বন্ধ করে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বিয়ে শেষ করুন! দেরি হলে গুলিটা সরাসরি আপনার অচল জায়গায় গিয়ে লাগবে!”
বিয়ে পড়ানো শেষ হয়েছে প্রায় ঘণ্টাখানেক। রাস্তার ধুলোমাখা নির্জনতায় রিভার ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দটা আরও বেশি করুণ শোনাচ্ছে। সে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে অবিরত কেঁদে চলেছে, আর ফারিস ঠিক তার সামনেই মাটিতে আয়েশ করে বসে, এক হাত মুখে গুঁজে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন সে কোনো এক অতি সাধারণ বাংলা সিনেমার বিরক্তিকর দৃশ্য দেখছে। তার চোখেমুখে ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়ার ক্লান্তি আর বিরক্তি। পাশে রিভান দাঁড়িয়ে আছে কুঁকড়ে, যেন ফারিসের রোষানল থেকে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।
অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ২৬
ফারিসের ধৈর্যের বাঁধ এবার বোধহয় ভেঙে গেল। সে হুট করে তেতে উঠে, জ্বলন্ত দৃষ্টিতে রিভার দিকে তাকিয়ে গর্জনের মতো বলে উঠল, “এই পকেট-সাইজের ঝড়! এবার মুখটা বন্ধ করবি? আর এক শব্দ করলে, আমি কিন্তু নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাব, বাকি কাজটুকুও কিন্তু এখনই রাস্তায় সেরে ফেলব!”
ফারিসের শীতল হুঁশিয়ারি শুনে রিভা মুহূর্তের মধ্যে চুপসে গেল; কান্নার দমকাটা যেন বুকের ভেতরই আটকে গেল তার। পুরো রাস্তা জুড়ে এক নিস্তব্ধতা নেমে এল। রিভান অস্বস্তিতে খুকখুক করে কেশে একটু দূরে সরে যেতে যেতেই ফারিস বিরক্তি ভরা কণ্ঠে ধমকে উঠল,
“তোর বোনকে নিয়ে এখান থেকে যা! সাবধান, বাড়ির কেউ যেন আপাতত ঘুণাক্ষরেও টের না পায়। সময় হলে আমিই সব জানাব!”
