Home Born to be villains Born to be villains part 25 (2)

Born to be villains part 25 (2)

Born to be villains part 25 (2)
মিথুবুড়ি

অন্যদিকে দেখা যায়, একটি ধুলোমাখা গুদামঘরের এককোণে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে প্রফেসর আনাম। ভদ্রলোকের মুখে মুঠো করা কাপড় ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে। যার কারণে গোঙানি ছাড়া কোনো শব্দই মুখ থেকে বের হয় না। চারপাশ সুনসান, যেন শ্মশানঘাটের নীরবতা পথভ্রষ্ট হয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। দৃশ্যপট পরিবর্তিত করলে এবার বাংলা বাজারের একটি ক্যাটারিং সার্ভিস দোকানের পিছনের অংশ দেখা যায়। ভোররাতের আবছা অন্ধকারে চারপাশটা পাতালপুরীর মতো স্তব্ধ। ধুরন্ধর শিকারী শিকারের অপেক্ষায় যেমন ফাঁদ পেতে বসে থাকে, তেমনিভাবে একটি গাছের আড়ালে ওত পেতে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায় সুরকার, ওরফে ম্যাডবিস্ট। ভেতরে তখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। সবাই যার যার মতো প্রস্তুত হচ্ছে। ফজরের আযান পড়ার সাথে সাথেই সকলে রওনা দেবে ওয়াসিম ভিলার উদ্দেশ্যে। হঠাৎ ভেতর থেকে একজন লোক প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে বেরিয়ে এলো। লোকটা একটি ঝোপের আড়ালে নিজের কাজ সারতে যাবে, অমনি অন্ধকারের বুক চিরে ঝড়ের গতিতে একটি হাত বেরিয়ে এলো। তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোকটির ঘাড় মটকে দিয়ে নি থ র টা ছুঁড়ে মারল ঝোপের ভেতর। পরেরমুহূর্তেই চটজলদি অচেতন লোকটির গায়ের পোশাক খুলে নিজের গায়ে চাপিয়ে নিখুঁত ছদ্মবেশ ধারণ করে সে সোজা ঢুকে গেল ভেতরে। ঠিক তার দুই মিনিট পরই কেটারিং সার্ভিস এর ছোটো মিনি বাসটি ছুটল ওয়াসিম ভিলার উদ্দেশ্যে।

সূয্যিমামা যেন পাখির নরম ডানায় ভর দিয়ে নেমে এসেছে ধরিত্রীর বুকে। চারদিক গলিত সোনার মতো স্বর্ণাভ আলোয় ঝলমল করছে। এমন দ্যুতিময় আলোকোজ্জ্বল দিনকে সাধারণত শুভ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে আজকের দিনটি আক্ষরিক অর্থেই শুভ না অশুভ, তা একটু পরই বোঝা যাবে।
আত্মীয়স্বজনে গিজগিজ করছে ওয়াসিম ভিলার প্রতিটি প্রাঙ্গণ। ইমান ওয়াসিম কেটারিং এর দিকটা দেখছেন। ইমন যতটুকু পারে, ডেকোরেশনের লোকদের কাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে। মিসেস নীহারিকা একা হাতে সকল আত্মীয়দের আপ্যায়ন করছেন। ইতিমধ্যে পার্লার থেকে লোক এসে গেছে এলিজাবেথকে সাজানোর জন্য। এলিজাবেথ এখনও আগের মতোই রিমোটচালিত পুলুতের মতো নিস্পৃহ। সে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আয়নার দিকে। একবারের জন্যও তাকিয়ে দেখল না মেঝে ছুঁয়ে থাকা তার রাজকীয় বিয়ের মেরুর রঙের ভারী লেহেঙ্গাটা। দেখল না গা ভর্তি মায়ের দেওয়া সোনার গহনাগুলো। দেখল না মিসেস নীহারিকা কীভাবে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন তার একমাত্র মেয়েকে। গোলাপের পাপড়ির মতো কোমল ত্বকে কৃত্রিম প্রসাধনীর ছোঁয়া তাকে যে কতটা মোহময়ী আর আকর্ষণীয় করে তুলেছে, সেদিকে তার বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। অথচ তাকে সাজানোর দায়িত্বে থাকা চারজন রূপটানশিল্পী, নিজেরা মেয়েমানুষ হওয়া সত্ত্বেও, তারা তার দিক থেকে চোখের মুগ্ধতা সরাতে পারছিল না। সাজানোর প্রতিটি ধাপ শেষ হতেই তারা যেন বারবার এলিজাবেথের এই অপরূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে পড়ছিল।

একইভাবে দরজার আড়াল থেকে একজোড়া হ্যাজেল চোখেও মুগ্ধতার ঘোর লেগে যায়। পুরুষালি বিমুগ্ধ চোখ দু’টো যেন নিগূঢ় দৃষ্টিতে গিলে খাবে রুশরমণীর অপার সৌন্দর্য। কিন্তু যখুনি রূপটানশিল্পী এলিজাবেথের ঠোঁটে রেড লিপস্টিকের পরিবর্তে নুড লিপস্টিক দিল, তখন অতর্কিতে আর হাত দু’টো মুঠো হয়ে আসে। নেশা ছড়ানো মুগ্ধ হ্যাজেল চোখে তীব্র বিতৃষ্ণা ফুটে ওঠে।
“কেটারিং এর লোক ভেতরে আসল কি করে?”
দরজার আড়ালে অবস্থানরত লোকটার হ্যাজেল রঙের সেই ডুবন্ত চোখ দু’টো হতে ক্ষণিকের জন্য সমস্ত বিতৃষ্ণা আর মুগ্ধতা কেটে গেল। চমকে উঠল সে। দ্রুত মশলার ছাঁচ লাগা গামছা দিয়ে মুখটা আরও ভালোভাবে ঢেকে নিল। তারপর পিছন ঘুরতেই দেখতে পেল ইমন দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটার কঠিন হয়ে আসা ভ্রুযুগলে সন্দিহান ভাব। কেটারিং সার্ভিসের লোকটি গলা খাঁকারি দিয়ে গলায় পরিষ্কার করে নিল। তারপর অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আওড়ালো,

“মন্ত্রী সাহেব কোথাও? আমাদের গুরু ওনাকে খুঁজছে। ওনাকেই তো খুঁজতে এলাম। সনাতনদের জন্য মাটন কষা করবে নাকি কাচ্চি, সেটা জানার জন্য।”
লোকটার কথা শুনে ইমনের ভ্রুদ্বয়ের কুঁচকানো ভাব মিলিয়ে যায়। সে স্টোর রুমের দিকে ইশারা করে বলল,”আব্বু ওইদিকে।”
লোকটা সেদিকে হেঁটে যায়। লোকটা চলে যেতেই ইমন একটু এগিয়ে গেল—লোকটা একটু আগে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, ঠিক সেখানে গিয়ে সে দাঁড়াল। দরজার পাশে দাঁড়াতেই তার চোখ গেল রুমের ভেতর। ভেতরে বোনকে দেখামাত্র তার ভেতর সমস্ত সংশয়, সন্দেহ ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে যায়। ঠোঁটের কোণে মিষ্ট হাসি ফুটে। সে স্নিগ্ধ হেসে বোনের কাছে যায়।

কেটারিং সার্ভিসের লোকটা তখন ইমন যেদিকে ইশারা করেছিল, সেদিকে গেলেও পরক্ষণেই সে তার দিক পরিবর্তন করে ফেলে। পকেট থেকে একটি দামি ফোন বের করে একটু সাইডে চলে যায় সে। তারপর ইবরাতের নাম্বার বের করে কল করল। কল রিসিভ হলো তৎক্ষনাৎ। মুহুর্তের মধ্যে একটু আগের শীতল কণ্ঠস্বর গুরুগম্ভীর কণ্ঠে রূপ নিল,
“হ্যালো?”
“কে?”
“ইট’স মি আর.কে।”
ওপাশ থেকে ইবরাতের হাঁফ ছাড়া নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শোনা গেল। সে এক নিঃশ্বাসে বলতে লাগল,”আজব লোক তো আপনি। হিডেন অ্যান্ড সিক গেইম খেলবেন আপনারা আর প্রেসার ফল করবে আমাদের। আপনারা হাসবেন্ড, ওয়াইফ কি শুরু করেছেন বলবেন তো? আপনি কখন আসছেন? আসবেন তো নাকি?”
লোকটার ঠোঁটের কোণ এককোণে বিশ্রিভাবে বেঁকে গেল। সে তার সেই বিকৃত হাসি আড়াল করে শান্ত গলায় বলল,

“আই’ম অলরেডি হেয়ার।”
ন্যানো সেকেন্ডের বিরতি নিয়ে যোগ করল,”বাট কিপ ইট সিক্রেট। আই হ্যাভ আ সারপ্রাইজ ফর হার।”
“সারপ্রাইজ? একটু পর বিয়ে আর এখন কীসের সারপ্রাইজ, হাহ? অনেক হয়েছে এসব। এখন আর কোনোকিছু নয়। আপনাদের যা করার বিয়ের পর করুন। আমাদের একটু দম নিয়ে বাঁচতে দিন। নিঃশ্বাস আঁটকে আসছে আমাদের। শুনছেন তো….
ইবরাত আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু তাকে সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে না দিয়ে সে গম্ভীর গলায় কিছু বলল। যা শোনা বা মানার ইচ্ছে না থাকা স্বত্তেও তাকে শুনতে হলো। এরপর কটকট শব্দ করে কল কেটে গেল। কল কেটে যেতেই লোকটার ঠোঁটের নীড়ে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।

“হা করে হাসবেন না,,
মশা ঢুকলে বাঁচবেন না!
যদি ঢুকে মশা, পায়খানা হবে কষা..
বুঝলেন?”
হঠাৎ করে অচেনা একটি ছেলের মুখে এহেন কথা শুনে ভরকে গেলেন ভদ্রমহিলা। বাকি দু’জনও থতমত খেয়ে গেলেন। অথচ গৌরবের মাঝে এমন মিশ্র প্রতিক্রিয়াতেও বিশেষ কোনো হেলদোল নেই। সে নির্বিকার। তার অভিব্যক্তি এমন রূপ ধারণ করে আছে, যা দেখে বোঝায় উপায় নেই সে কোন মুডে আছে। তবে তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে ভীষণ চাপে আছে। পেটের ভেতর ভয়ংকর কিছু চেপে রেখেছে। না পারছে হজম করতে, আর না তো নিগড়ে দিতে।
ভদ্রমহিলাটা এবার ভীষণ ক্ষেপে গেলেন,”এই ছেলে, এসব কি বলছ?”
গৌরব সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত মানুষের মতো মুখ করে শুকনো গলায় বলে,”এখন তো তাও কিছু বলছি। একটু পর হয়তো তা বলার পরিস্থিতিতেও থাকব না।”
মহিলা এবার বিচলিত হলেন, উদ্বিগ্ন দেখিয়ে বললেন,”কেন বাবা? কি হয়েছে? তুমি কি অসুস্থ?”
গৌরবের এবারের প্রত্যুত্তরও সর্বস্বাম্ত মানুষের ন্যায়
নিস্তেজ,”তেমন কিছু না আন্টি। পেটে ছোটখাটো একটা বোমা সেট করা। ওটা যেকোনো সময় ফেটে যেতে পারে।”

মহিলা আঁতকে ওঠেন,”আল্লাহ!”
গৌরব শুকনা মুখে মাথা নাড়ে। মহিলাটা ভীষণ সরল। তিনি গৌরবের মাথায় হাত রেখে স্নেহার্দ্র কণ্ঠে বলেন,”তাহলে এখন?”
গৌরব মহিলার সরলতার সুযোগ নিয়ে হঠাৎ দুষ্ট হেসে বলে উঠল,”আপনার কি কোনো সুন্দরী মেয়ে আছে আন্টি? থাকলে নাম্বারটা দেওয়া যাবে? না মানে একটু অসুস্থ তো! এন্টিবায়োটিকের প্রয়োজন ছিল।”
“কিরে নাটকির নাতি। ঘরে বউ রেখে এখানে এসে কি নিয়ে পুন্ধাপুন্ধি করিস?”
আড়াল থেকে ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে এলো ইবরাত। ওকে দেখামাত্র গৌরব শিউরে ওঠে। বিশেষ করে ক্যামেরা! মহিলারা সরে পড়ল। এঁরা যে এ যুগের বদ, তা বুঝতে আর বাকি নেই তাদের। গৌরব বেবলার মতো হাসতে হাসতে ইবরাতের পাশে গিয়ে দাঁড়াল৷ কাঁধে কাঁধ দ্বারা ধাক্কা মেরে বলল,
“আরে রাগছিস কেন? পেটের ভেতর কথা চেপে রাখতে রাখতে সবকিছু অসহ্যকর ঠেকছিল। তাই ভাবলাম আন্টির সাথে একটু মজা নিই। বাট আই লাভ মাই বউ।”
ইবরাত চোখ গরম করে গৌরবের দিকে তাকাল। ক্ষ্যাপা ঘাড়ের মতো মাথা দিয়ে গৌরবের বুকে গোঁতা মারল,”পোংডামি করে আই লাভ মাই নাহ?”
গৌরব জিভ কাটে,”রাম, রাম, রাম। এসব কি বলছিস তুই? পঁচা কথা বলে না বান্ধবী। হিয়া জানলে খুব রাগ করবে।”

বলে দু’হাতে ইবরাতের কনুই জড়িয়ে যায়। তৎক্ষনাৎ সরে যায় ইবরাত। কনুই দিয়েই আঘাত করল গৌরবের পেটে। তারপর উপরের দিকে পা বাড়াল। ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে গৌরব পিছন থেকে ডেকে উঠল,
“আরে কোথায় যাচ্ছিস?”
ইবরাত যেতে যেতে প্রত্যুত্তর করে,”প্রথমে ইমামার কাছে। তারপর হিয়ার কাছে।”
আঁতকে উঠল গৌরব,”হিয়ার কাছে কেন?”
“তোর কীর্তিকলাপ দেখাতে।”
বুকচাপা আতঙ্কে শিউরে উঠল গৌরব। আর এক মুহুর্তও দেরি না করে সে ছুটে গেল ইবরাতের পিছু পিছু।

কেটারিং কর্মীর ছদ্মবেশে ওয়াসিম ভিলায় প্রবেশ করা সুরাকার এখন বাড়ির পেছনের গেটে ইবরাতের জন্য অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইবরাত এলিজাবেথকে নিয়ে এখানে হাজির হবে। তারপর সুরাকার তা-ই করবে, যা অনেক আগেই করা উচিত ছিল। গা থেকে কেটারিংয়ের নোংরা পোশাকটা দ্রুত ঝেড়ে ফেলে সে নিজের চেনা রূপে ফিরে এলো। তার বিষাদগ্রস্ত ঠোঁটের কোণে একচিলতে প্রশান্তির হাসি বারবার উঁকি দিতে চাইছে। তবে সে নিজেকে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। মিশন পুরোপুরি সফল হওয়ার আগে বিজয়ের উল্লাস করা বোকামি। আজকের মিশনে যদি সে সফল হতে না পারে, তবে সে তার রেড ওয়াইনকে আর কোনোদিন নিজের করে পাবে না।
“শয়তান, তুই এখানেও এসে পড়েছিস?”

তারুণ্যের উত্তপ্ত, মারমুখী কণ্ঠস্বর শুনে সুরাকার চমকে পেছনে তাকাল। দেখল রাগে ফুঁসতে থাকা ইমন তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। ইমনকে এখানে দেখে সুরাকার প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও পরক্ষণেই তার ঠোঁটে ফুটে উঠল শীতল হাসি। অবশ্য মুখের মাস্কের কারণে সেই পৈশাচিক হাসি প্রকাশ পেল না। গ্রীবা কিছুটা বাঁকিয়ে বাঁকা হেসে সুরাকার সর্দপনে প্রশ্ন ছুঁড়ে, “তাহলে চিনে ফেলেছ?”
টগবগে রক্ত আর বলিষ্ঠ গড়নের তাগড়া যুবক ইমন। সে ক্ষিপ্ত চোখে সুরাকারের মায়াবী হ্যাজেল চোখের দিকে তাকাল। আর এটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। দাঁতে দাঁত চেপে ইমন বলল, “মানুষের মস্তিষ্ক বিরল জিনিস সহজে ভুলতে পারে না। আমিও তোর এই চোখ দুটো ভুলিনি…….
ইমন তার কথা শেষ করতে পারল না। হঠাৎ করে তার শরীর অসাড় হয়ে এলো। চোখের পলক স্থির হয়ে গেল। সুরাকার তার চোখের সম্মোহনী শক্তি দিয়ে পলকেই ইমনকে বশ করে ফেলেছে। ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে সুরাকার যেই না ইমনের দিকে এক পা বাড়াবে, ওমনি পেছন থেকে গম্ভীর, পেশাদার কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,

“ইয়্যু, ব্লাডি ম্যাডবিস্ট!”
সুরাকার অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে মুখ তুলে ইমনের পেছনের দিকে তাকাল। দেখল, অফিসার প্রেম ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সুরাকার প্রথমেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে প্রেমের আপাদমস্তক মেপে নিল। না, অফিসার আজ এবার বেশ ভালো প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছেন।
“ঠিক এভাবেই রোহিতকে হিপনোটাইজড করে জঙ্গলে নিয়ে টু ক রো টু ক রো করেছিলি, তাই না?”
সুরাকার এবারও তার চোখের সম্মোহন বিদ্যা খাটাতে চাইল। কিন্তু ধূর্ত প্রেম একবারের জন্যও তার চোখের দিকে তাকাল না। প্রেম কৌশলে তার দৃষ্টি সরিয়ে রেখেছে। সুরাকার বুঝল এবার আর তার চাতুরিতে কাজ হবে না। তাকে এবার সশরীরে লড়াইয়ে নামতে হবে। তবে ইমন এখানে বাড়তি ঝামেলা। তাই সে চোখের ইশারায় ইমনকে সামনে হেঁটে যাওয়ার আদেশ দিল। অবশ রোবটের মতো ইমন সুরাকারের ইশারা মেনে পেছনের জঙ্গলের দিকে হাঁটতে শুরু করল।

এরপরই সুরাকার তার চেনা পৈশাচিক রূপে ফিরে গেল। অফিসার প্রেমও তো দমবার পাত্র নন। তার ঠোঁটের কোণ ধীরে ধীরে বেঁকে গিয়ে বিকৃত হাসিতে রূপ নিল।চিতাবাঘের মতো ক্ষিপ্র গতিতে সুরাকার ঝাঁপিয়ে পড়ল প্রেমের ওপর। প্রেমও সর্ব শক্তিতে তা প্রতিহত করল। শুরু হলো দুজনের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি আর জীবনপণ লড়াই। অথচ তখনও প্রেমের পকেটে থাকা ফোনটি অনবরত বেজেই চলছিল। শহরের এক হোটেলে লাড়া তার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে অপেক্ষা করছিল। পশ্চিমা সংস্কৃতির মেয়েটি আজ জীবনের প্রথমবারের মতো শাড়ি পরেছে, নিজের হাতে রান্না করেছে। তাও শুধুমাত্র প্রেমের জন্য। অথচ……

Born to be villains part 25 

দূর থেকে জানালা দিয়ে কনের সাজে সজ্জিত এলিজাবেথ নির্লিপ্ত মুখে দেখছিল প্রেম আর সুরাকারের মরণপণ লড়াই। তার মুখাবয়ব অদ্ভুত রকমের শান্ত। সেখানে কোনো ভয়ের বা উদ্বেগের লেশমাত্র নেই। অস্বাভাবিক রকম শীতল ও স্বাভাবিক চোখ নিয়ে সে পুরো দৃশ্যটা দেখছে। একটু আগে ইবরাত তাকে নিয়ে যেতে এসেছিল। কিন্তু সে যায়নি। বোকা ইবরাত হয়তো সুরাকারের আসল চালটা ধরতে পারেনি। কিন্তু এলিজাবেথ আগে থেকেই জানত পরিস্থিতি ঠিক এই দিকেই মোড় নেবে। আর শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো।
ওদিকে সুরাকারের পূর্বের সম্মোহনী আদেশে ইমন ততক্ষণে সীমানা প্রাচীর পেরিয়ে ঘন জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। প্রেমের সাথে প্রাণঘাতী লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় সুরাকারের পক্ষেও আর ইমনকে থামানো বা নতুন কোনো নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে অবশ অবয়বে ইমন সামনের দিকে এগোতেই থাকে। যার ফলে সে জঙ্গলের ভেতরে ওত পেতে থাকা সশস্ত্র গার্ডদের নজরে পড়ে গেল। আর তার ঠিক পরের মুহূর্তেই চারপাশ কাঁপিয়ে একটি বিকট শব্দ হলো,
“ঠাসসসসসসসস……!

Born to be villains part 26

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here