Home বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৯০

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৯০

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৯০
রানী আমিনা

“কোয়ারেন্টাইন থেকে কবে ছাড়া পাব বলতে পারছিনা। রেক্সা আমার ম্যানশনে একা আছে। একা একা ওর ওখানে ভালো লাগবেনা, শুধু শুধু আমাকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করবে৷ তুই নিজ দায়িত্বে গিয়ে ওকে নিয়ে আসবি, আপাতত ও তোদের সাথেই থাকুক। আমি এইখান থেকে বের হলে ওকে নিয়ে রামাদিসামায় ফিরবো।”
ফোনের ওপাশ থেকে কথা গুলো বলল কোকো, লিও উত্তর করলো,
“তুই কোনো চিন্তা করিস না, আমরা সকলে বর্তমানে মসভেইলেই আছি, রেক্সা ভালোভাবেই থাকবে এখানে। হঠাৎ করে এতসব হয়ে গেলো, আমি তো ভেবেছিলাম সুনামি বোধ হয় এবার ভাসিয়েই নিবে। কিন্তু ঢেউ সেইফজোন পর্যন্তই পৌঁছেছে, তার এপাশে আর আসেনি। বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির আগেই সব থেমে গেছে, দ্যাটস আ রিলিফ।”

“হু। শুন, একটা গুড নিউজ আছে। না, গুড বললে ভুল হবে —শকিং!”
সোৎসাহে বললো কোকো, লিও ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করল,
“কি এমন নিউজ যা স্বয়ং আর্মি চিফের কাছেই শকিং!”
কোকো সশব্দে হেসে উঠে গলা খাকারি দিয়ে বলল,
“এহেম…… আম্মা প্রেগনেন্ট!”
“আম্মা প্রেগন্যান্ট….! কার আম্মা?”
“তোর নানির আম্মা, বলদ!”
“শালা আমি সিংহ! বলদ কইস কোন সাহসে?
“তুই মেন্টালি বলদ।”
“শুন শালা……. দাঁড়া..দাঁড়া….! আম্মা….. আম্মা মানে..মানে আমাদের শেহজাদী?”
“হ, বলদ!”
“কিইইইইই……? কিন্তু..কিন্তু শেহজাদী প্রেগন্যান্ট হলেন কিভাবে?”
“বলদ৷”
“ইয়ে… না মানে….. হাউ ইজ দিস পসিবল!! উনি তো কখনো….! শেহজাদী ঠিক আছেন তো, মানে সুস্থ আছেন?”

উৎসাহে, উত্তেজনায় প্রায় লাফিয়ে উঠে জিজ্ঞেস করলো লিও। কোকো গলা খাকারি দিয়ে বলে উঠলো,
“কিভাবে পসিবল সেটা আমি বলতে পারিনা, উপস্থিত ছিলাম না। কিন্তু আম্মা প্রেগন্যান্ট, এবং তিনি বহাল তবিয়তে আছেন”
“বিশ্বাস হইতেসেনা, তুই ঢপ মারতেছোস।”
“নিজের আপন চোখ দিয়ে দেখেছি, বলদের ছাও!”
“ও মাই গড!”
“ফোন রাখ শালা! মুড নষ্ট করিস! যা গিয়ে আমার বউকে নিয়ে আয়, দূর হ।”
খটাস করে কল কেটে দিল কোকো। লিও দাঁড়িয়ে ছিল অশ্বত্থ গাছটির নিচে, কোকোর খিস্তি শুনে কান থেকে ফোন সরিয়ে কিছুক্ষণ ফোনের দিকে হতাশ চোখে চেয়ে থেকে অবশেষে ছুটলো সে মসভেইলের পেছনের দিকে।

কোকোর তৈরি করা ছোট্ট, সুন্দর পার্কটি টিকে আছে এখনো। সেখানেই রাতের খোলা আকাশের নিচে শুয়ে বসে গল্প করছে সকলে। ওপরে ঝলসানো, পরিপূর্ণ চাঁদ— রূপোলী আলোয় আলোকিত হয়ে আছে সব।
লিন্ডা হ্যামকের ওপর শুয়ে ছিল লিওর পথ চেয়ে, ফোন কল পেয়ে লাফাতে লাফাতে সে চলে গেছে কোথাও। এতক্ষণ হয়ে গেলো তবুও তার ফেরার নাম নেই!
আচমকা লিওকে ছুটে আসতে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে বসলো সে, আবার কোনো দুর্ঘটনার কবলে তারা পড়তে চলেছে কিনা ভেবে শঙ্কিত হল।
কিন্তু সেই মুহুর্তেই লিও ছুটে এসে সোৎসাহে চিৎকার করে বলে উঠলো,
“গাইইইইইইজ…….! আম্মা প্রেগন্যান্ট!”
আচমকা ‘প্রেগন্যান্ট’ শব্দটা এসে বাড়ি খেলো সবার কানে। সাথে সাথেই থেমে গেলো সকল গল্পগুজব, হইহট্টগোল। লিন্ডা গলায় বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“কে প্রেগন্যান্ট?”
আলফাদ আর জোভি অদূরেই বসে ছিল, জোভি চাপা গলায় বলে উঠলো,
“কার জানি আম্মা প্রেগন্যান্ট! এহ্‌!”
“কার আম্মা প্রেগন্যান্ট?”
“শালা তুইও যেখানে আমিও সেখানে, আম্মা টা কার আমি কি করে জানবো?”
জোভির ত্যাড়া উত্তর শুনে দমে গেলো আলফাদ। পাশেই ওকামি আর ফ্যালকনের সাথে খেলছিল জোভির ছেলে ব্লু। ওকামি ওর ঘাড়ের লোমশ চামড়া ধরে উঁচু করে চাপা স্বরে শুধোলো,
“কিরে ব্লু, তোর আম্মা আবার প্রেগন্যান্ট নাকি? সেদিন না তোর তিনটে বোন হইলো? তোর বাপে তো আমাদের কিছু কইলোনা! চুপি চুপি এসব করে বেড়াচ্ছে তোর বাপ!”
হাইনা ওপাশ থেকে বলে উঠলো,
“শালা জোভিটা যা শুরু করেছে তাতে আগামী দশ বছরে রেড জোন জুড়ে শুধু ওর ছানাপোনাই ঘুরে বেড়াবে। শালা একাই রেড জোনের জনসংখ্যা বাড়িয়ে দিল!”
কাঞ্জি ঘুমোচ্ছিল হাইনার পাশে, হৈচৈ শুনে ঘুম ভেঙে ঘাড় উচিয়ে নিভুনিভু চোখে ঘুম জড়ানো গলায় হাইনাকে শুধোলো,

“কি হয়েছে….? কিছু হয়েছে?”
“হু। প্রেগন্যান্ট।”
“কে প্রেগন্যান্ট?
“তুই।”
“ওহ্‌।”
আচমকা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে কাঞ্জি চোখ পাকিয়ে তাকাল হাইনার পাশে, হাইনাকে খিকখিক করে হাসতে দেখে পাশে থাকা পানির জগটা তুলে সজোরে ছুড়ে মারলো হাইনার দিকে। হাইনা তৎক্ষনাৎ সেটাকে দুহাতে ধরে নিয়ে ভ্রুকুটি করে বলল,
“শালা মারছিস কেন? এটা যদি ভাঙতো না, জগ তোর পেছন দিয়ে ভরে দিতাম!”
জগ উঁচিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বলল হাইনা। কাঞ্জি নিজের ধারালো দাঁত জোড়া হিংস্র ভঙ্গিতে দেখিয়ে ওকে খেয়ে ফেলার ইশারা দিয়ে উঠে পড়লো বিছানা থেকে। লিও তখুনি প্রায় লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটে এলো ওর কাছে, এসেই ওর চোয়ালে একটা বেদম ঘুষি বসিয়ে দিয়ে উত্তেজিত স্বরে বলে উঠল,
“তাড়াতাড়ি গিয়ে তৈরি হ, আমাদের প্রাসাদে যেতে হবে, হিজ ম্যাজেস্টি ডেকে পাঠিয়েছেন!”
“তা এটা সুন্দর করে বলা যেত না? মারলি কেন শালা?”

চোয়ালে হাত বুলোতে বুলোতে তিরিক্ষি স্বরে বলল কাঞ্জি। লিন্ডা হ্যামোক থেকে নেমে এসেছে ইতোমধ্যে, লিওর কাছাকাছি এসে মেজাজ নিয়ে বলল,
“কি ব্যাপার! তুমি আমাকে পাত্তাই দিচ্ছনা, সমস্যা কি তোমার? ঘুমোতে ঘুমোতে ফোন পেয়েই উঠে দৌড় মারলে, এখন আবার কার প্রেগন্যান্সির সংবাদ নিয়ে ফিরতেসো! কে প্রেগন্যান্ট হইসে সত্যি কথা বলো, তলে তলে কি করতেসো তুমি?”
“একদম আমাকে সন্দেহ করবেনা লুনা, দিনের চব্বিশ ঘন্টা আমি তোমার সাথেই থাকি, টয়লেটেও একা যেতে দাওনা আমাকে, এমন অবস্থা! আবার তুমি এই কথা বলো!
প্রেগন্যান্ট হইসে আমাদের আম্ম্‌… মানে শেহজাদী।”
লিওর শেষোক্ত কথাতে যেন বিস্ফোরণ হল সেখানে। আচমকা নিরব হয়ে গেলো সকলে। এক অতীত শঙ্কা, আতঙ্ক এসে মুহুর্তেই ভর করলো সকলের মুখপরে। লিও সেটা টের পেয়ে আশ্বস্তের স্বরে বলে উঠলো,
“এখনো পর্যন্ত পাওয়া খবরে শেহজাদী একদমই সুস্থ আছেন, কোনো কম্পলিকেশন্স নাই, এবং শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থই থাকবেন আশা করা যায়। এবার সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আর কোনো দুর্ঘটনা, বিচ্ছেদের সম্মুখিন আমরা হবনা বলেই আশা রাখি।”

মুহুর্তেই সমস্ত শঙ্কা ভীতি দূরীভূত হয়ে চওড়া হাসি ফুটলো সকলের মুখে। ফ্যালকন বিড়বিড়িয়ে বলল,
“চুপিচুপি গিয়ে একবার শেহজাদীর বেবি বাম্প দেখে আসব, কাউকে সাথে নিব না। হি হি!”
ওকে গোফের তলে হাসতে দেখে হাইনা কনুই দিয়ে গুতা মেরে বলল,
“কিরে, খুশিতে পাগল টাগল হয়ে গেলি নাকি? একা একা মদনের মত হাসছিস কেন?”
“তোকে বলব কেন? কে রে তুই? একদম আমাকে গুতোবি না!”
হাইনা দ্বিতীয় বার গুতো দিয়ে ক্ষেপিয়ে তুললো ফ্যালকনকে। লিও কাঞ্জি ওদের কান্ডকারখানা দেখে একে অপরের দিকে চেয়ে হতাশার শ্বাস ফেলে মাথা নাড়াল দুদিকে। লিন্ডা এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল চুপচাপ, অকস্মাৎ অকারণে গাল লাল হয়ে আসছে তার। কিছুক্ষণ মাটির দিকে চেয়ে থেকে কি করবে ভাবতে ভাবতে লিওর কাছাকাছি এসে গা ঘেঁষে দাঁড়াল। লিও এক হাতে স্নেহভরে কাছে টেনে নিল ওকে তৎক্ষনাৎ।
লিন্ডা লিওর বুকের ভাজে মুখ লুকিয়ে মৃদু, নরম স্বরে বলে উঠলো,

“আম্‌-আমিও!”
“তুমিও কি?”
নিজের তর্জনীর সাহায্যে লিন্ডার থুতনি ধরে উপরে তুলে জিজ্ঞেস করলো লিও। লিন্ডা লাল হল আরও, আমতা আমতা করে বলল,
“ইয়ে…. মানে তুমি… এহেম… তুমি বাপ হবা।”
দ্বিতীয় বার এমন সংবাদ শুনে আবারও থেমে গেলো হইহট্টগোল। সকলে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো লিন্ডার দিকে, হাইনা ফ্যালকন দুজনে মারামারি রত অবস্থায় অকস্মাৎ থেমে গিয়ে চেয়ে রইলো লিন্ডার দিকে। লিন্ডার মনে হলো লজ্জায় এবার ওর গাল দুটোই ফেটে যাবে। দ্রুত লিওর শার্ট টেনে নিয়ে মুখ ঢেকে চেচিয়ে বলে উঠলো,
“এই কেউ তাকাবিনা আমার দিকে!”
লিও অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে রইলো লিন্ডার দিকে, এখনো ব্যাপারটা সম্পুর্ন প্রক্রিয়া করতে পারেনি ওর মস্তিষ্ক। আচমকা লিন্ডার শার্টে লুকোনো মুখখানা দুহাতে ধরে নিজের মুখের সামনে উচিঁয়ে বিস্ময়ভরে শুধোলো,
“কি বললে? আবার বলো!”
“তুমি প্রেগন্যান্ট, আমি বাবা হতে চলেছি।”
নির্বিকার স্বরে বলে উঠলো লিন্ডা।
লিওর বিস্মিত চেহারায় মুহুর্তেই ঝলকে উঠলো খুশি! আচমকা আনন্দে চিৎকার দিয়ে লিন্ডাকে দুহাতে তুলে ছুড়ে মারলো সে আকাশের দিকে, পরমুহূর্তেই কাঞ্জির পেটে একিটা বেদম ঘুষি মেরে উচ্ছসিত স্বরে বলে উঠলো,

“শালা শুনেছিস! বাপ হবো আমি বাপ!”
লিন্ডা নিজেকে হঠাৎ শুণ্যে আবিষ্কার করে রেগে মেগে বিক্ষুব্ধ স্বরে বলে উঠলো,
“আমি মাটিতে নেমেই তোকে আজ খুন করবো লিওর বাচ্চা!”
পরমুহূর্তেই নিজের বিড়াল রুপে ফিরে, নিখুঁত দক্ষতার সাথে চারপায়ে লাফিয়ে নামলো সে মাটিতে। নেমেই ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের ধারালো নখর উন্মুক্ত করে, ক্ষুব্ধ ‘ম্যাও’ শব্দে হামলে পড়লো সে লিওর ওপর!

জ্ঞান ফেরেনি আনাবিয়ার এখনো অব্দি। হেকিম বলেছেন আরও কিছুদিন সময় দিতে হবে তার শরীরকে, এই মাত্রাতিরিক্ত রেডিয়েশনকে সম্পুর্ন রূপে দূরীভূত করতে৷ তীব্র রেডিয়েশন তার শরীরের জন্য ক্ষতিকর না হলেও ওভার ডোজের কারণে শকে আছে তার মস্তিষ্ক৷ রেডিয়েশন সম্পুর্ন মিটে যাওয়া অব্দি জ্ঞান ফিরবেনা তার।
কয়েকদিন আগেই নিজ কামরায় স্থানান্তর করা হয়েছে আনাবিয়াকে৷ ফিলোমেলা আনাবিয়ার করা আঘাতে এখনো চিকিৎসাধীন, মাথায় আঘাত লেগেছে তার। হেকিমের মতে সে এখন সম্পুর্ন কোমাতে, কখনো জ্ঞান ফিরবে কিনা সে বিষয়ে সন্দিহান।
আনাবিয়ার দেখাশোনার জন্য বর্তমানে নিযুক্ত হয়েছে নতুন কতক নার্স৷ মীরের অনুপস্থিতিতে আনাবিয়ার সকল দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যাস্ত। মহসিন সর্বক্ষণ দাঁড়িয়ে আনাবিয়ার কামরার সম্মুখে, যদি হঠাৎ জেগে উঠে শেহজাদী, তবে যেন সবার আগে হিজ ম্যাজেস্টিকে সংবাদটা সে-ই দিতে পারে।

লিও কাঞ্জি ফিরেছে প্রাসাদে, দুজনকে দেওয়া হয়েছে আনাবিয়ার দেহরক্ষীর দায়িত্ব। ফিরেছে ওরা ওদের পুরোনো, স্মৃতিবিজড়িত কামরায়। অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় সতর্কচিত্তে সর্বক্ষণ নজর রাখছে দুজন চতুর্দিকে।
রয়্যাল ফ্লোরে উপস্থিত সকল সাধারণের পরণে রেডিয়েশন রেজিস্টেন্স পোশাক। পোশাক ছাড়া সকল সাধারণের জন্য রয়্যাল ফ্লোরে প্রবেশ সম্পুর্ন রূপে নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন হেকিমগণ। লিও কাঞ্জিকেও তাই প্রায় চব্বিশ ঘন্টাই পরণে রাখতে হচ্ছে স্যুট। দূর হতে দেখলে যেকেউ হয়ত ভেবে বসবে ফ্লোর জুড়ে ঘুর ঘুর করছে সাদা পোশাকের গুটি কয়েক ভূত।
তখুনি প্রাসাদের নিরবতা ভেদ করে রয়্যাল মেম্বার ইন্ডিকেটরে ধ্বনিত হলো মীরের আগমন ধ্বনি। সচকিত, সতর্ক হয়ে উঠলো সকলে। নার্সগুলো প্রস্থানের প্রস্তুতি নিল তৎক্ষনাৎ, আগামীকাল সকাল পর্যন্ত তাদের আর কোনো প্রয়োজন নেই। মহসিন তটস্থ হল, তৎক্ষনাৎ একজন দাসকে ডেকে রয়্যাল কুইজিনে পাঠাল খাবার প্রস্তুত করতে।
ধীর, ভারি পা ফেলে এগোলো মীর, মহসিনকে অতিক্রম করতেই তার পিছু পিছু এগোলো মহসিন। মীর জিজ্ঞেস করলো,

“বাঘিনীর সংবাদ বলো।”
“আইভিটা শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে, ইয়োর ম্যাজেস্টি। শেহজাদীর শরীর এখন অনেকটাই সুস্থ। মাঝে মাঝে নড়াচড়া করছেন, পাশ পরিবর্তন করে ঘুমোচ্ছেন, এমনটাই জানিয়েছে নার্স গুলো। বাকি ব্যাপার আগামীকাল হেকিম এলে জানা যাবে ইয়োর ম্যাজেস্টি।”
মীর ঢুকে পড়লো নিজ কামরায়, বলল,
“গোসল দিব মহসিন। বাইরের ধুলোবালি শরীরে নিয়ে শিনজোর কাছে যাওয়া ঠিক হবেনা। তুমি খাবার প্রস্তুত করো, শিনজোর কামরাতে রেখো।”
মীর ঢুকে পড়লো গোসলখানায়। মহসিন আদেশ পালনে বেরিয়ে গেলো তৎক্ষনাৎ।

রাতের তৃতীয় প্রহরের মাত্র শুরু। আনাবিয়া ঘুমোচ্ছে, মৃদু নাক ডাকার মিহি শব্দ ভেসে আসছে ক্ষণে ক্ষণে। কিছুক্ষণ পর পরই পাশ বদল করছে সে। মীর শুয়ে তার পাশেই, আনাবিয়ার অতিস্ফিত পেটের ওপর সযত্নে হাত রেখে চুপচাপ দেখে চলেছে সে আনাবিয়াকে, কখনো কখনো অনর্গল পাশ ফিরতে থাকা আনাবিয়াকে পাশ ফিরিয়ে দিচ্ছে নিজের হাতে।
শরীর প্রচন্ড ভারী হয়েছে আনাবিয়ার, গাল দুটো ঠিক বাচ্চা বেলার আনাবিয়ার গালের মতোই ফুলোফুলো, লালচে আভা ছড়িয়ে আছে গাল জুড়ে৷ বালিশে মুখ গুজে ঘুমোলে ভাজ পড়ে যায় টেরাকোটা রঙা দু’ঠোঁটের মাঝে। হাত পা জোড়ায় মাংস লেগে গোল হয়ে আছে, সুডৌল বক্ষ স্ফিত হয়ে প্রায় কেড়ে নিতে চলেছে মীরের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ।
স্মিত হেসে আনাবিয়ার ফোলা গালে সশব্দে কয়েকটি টুপ টাপ চুমু খেয়ে নিলো মীর৷ তৎক্ষনাৎ গর্ভের ওপর রাখা হাতটিতে অনুভব করলো স্পর্শ, কয়েকটি। সশব্দে স্নিগ্ধ হেসে চুমু খেলো সে আনাবিয়ার গর্ভপরে৷
সেই মুহুর্তেই বাহিরে শোনা গেলো লিওর কন্ঠস্বর,

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৮৯

“ইয়োর ম্যাজেস্টি!”
মীর তাকাল একবার বন্ধ দরজার পানে৷ অতঃপর আনাবিয়ার কপালে একটা স্নেহের চুম্বন এঁকে দিয়ে বেরিয়ে এলো সে বাইরে। চিন্তিত লিওকে দেখে ভ্রুতে ভাজ ফেলে জিজ্ঞেস করলো,
“কি ব্যাপার লিও? কোনো সমস্যা?”
“ইয়োর ম্যাজেস্টি, কিমালেব থেকে মাত্রই খবর এসেছে। বাহার…. গুল বাহার মেয়েটির শরীরের অবস্থা ভালো নয়।”
মীর দীর্ঘশ্বাস ফেললো একটা, কামরায় ফিরে যেতে যেতে বলল,
“শিনজোর নার্স গুলোকে সংবাদ পাঠাও। আমি না ফেরা পর্যন্ত রয়্যাল ফ্লোর ছেড়ে কেউ কোথাও যাবেনা৷”

বাদশাহ নামা তৃতীয় পরিচ্ছেদ পর্ব ৯১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here