Home লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৭

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৭

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৭
নুসাইবা আরা নুরি

দুই হাত দিয়ে টেনে কাগজ টা টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলে।মেহেরাজে এমন কান্ডে হতবাক হয়ে যায় ফাহিম।এ কি করলো এই পোলা।মেহেরাজ কাগজ গুলো ছিড়ে কুটিকুটি করতে করতে ইরুকে বলল,
-আলতাফ শেখ বাড়িতে আছেন এখন?
-না মনে হয় ভাইয়া।কারন কাকু তো এই সময় দোকানে থাকে।
-ওহ।
মেহেরাজের পিছন দিয়ে ফাহিম একবার বাইরের মেয়ে দুটোকে দেখতে চাই তবে মেহেরাজের জন্য দেখতে পাই না।শ্রেয়সী এবার মেহেরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
-আব্বুর সাথে আপনার কোনো দরকার ভাইয়া?
বার বার নিজের বউ এর মুখে ভাইয়া ডাক শুনে বিরক্ত লাগে মেহেরাজের তাও চুপ চাপ সহ্য করে নিয়ে বলে,
-দরকার তো আছে। তোমার আব্বুকে বলবা তার জামা কথাটা বলেই জিভে কামড় দিয়ে ফেলে মেহেরাজ।ফাহিমের মতো উল্টাপাল্টা বলা শুরু করেছে।

-মানে?
শ্রেয়সীর কথায় মেহেরাজ সাভাবিক হয়ে বলে,
-বলবা মেহেরাজ এসেছিলো।মেহেরাজ মির্জা।আমার গুরুত্বপূর্ণ বৈধ একটা জিনিস তোমার আব্বু নিয়ে এসেছেন। সেটা নিতে এসেছি আমি।
আর দাঁড়ায় না গাড়ির কাচ লাগিয়ে দিয়ে মেহেরাজ গাড়ি স্টার্ট করে স্থান ত্যাগ করে।এদিকে শ্রেয়সী আর ইরু কিছু বুজতে পারছে না।এতক্ষন লোক দুটো কি নিয়ে কি বললো।তাও শ্রেয়সী নিজের বাবাকে বলার কথা বলবে।যেহেতু লোকটা বাড়িতে এসেছে নিশ্চয় বাবার পরিচিত।তার উপর লোকটাকে শ্রেয়সী আগেও দেখেছে যত টুকু বুজেছে লোকটা ভালো।
শ্রেয়সী আর ভাবে না ইরুকে বিদায় দিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে।ইরুও শ্রেয়সী কে বিদায় দিয়ে নিজের বাড়ির রাস্তায় হাটা শুরু করে দেয়।গাড়িতে ফাহিম মেহেরাজকে রেগে বলে,

-এতো কষ্ট করে তাড়াতাড়ি না খেয়ে না গোসল করে রেডি করে দিলাম আর তুই ছিড়ে ফেললি।হুয়াই ভাই হুয়াই।তোর মুড নাকি অন্য কিছু।
মেহেরাজ কোনো কথার উত্তর দেয় না।ফাহিম ও চুপ থাকে তারপর হটাৎ মেহেরাজের দিকে তাকিয়ে বলে,
-এই এই তুই কি মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেলি নাকি প্রথম দেখায়?যে ডিরেক্ট বলতে বললি যে জামাই এসেছিলো।সরি জামাই না জামা বলেছিস তবে মেয়েটা বুদ্ধিমতী হলে নিশ্চয় বুজতে পারবে তোর কথার অর্থ।
ফাহিমের কথায় মেহেরাজ জোরে ব্রেক কশে।ব্রিজের উপর এসে।নিচে চলমান পচা খাল।এই খালের জন্য এলাকার নাম খাল পাড়।বেশ বড় খাল।মেহেতাজ ফাহিমের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠেই বলল,
-আর একটা কথা বললে এই খালি লাত্তি দিয়ে ফালাই দিবো।রেডিওর বাচ্চা।
-আমার বিয়েই হয়নি দোস্ত বাচ্চা কোথায় পেলি।

মেহেরাজ তপ্ত শ্বাস ছাড়ে এই বান্দা শুধরাবে না।মেহেরাজ কানে ব্লুতুথ গুজে দার্সান রাভাল এর একটা গান চালু করে দিয়ে শুনতে থাকে আর ড্রাইভ করতে থাকে।সে ডিভোর্স পেপার তখন কেন ছিড়েছে জানেনা।তবে এটুকু জানে ওই মেয়েটা তার বউ মানে ওই মেয়েটাকে সে নিজের সাথে কোয়ার্টারে নিয়ে যাবেই।ডিভোর্স কি মেহেরাজের ডায়েরিতে ডিভোর্স শব্দ টা ডিলেট করে দিয়েছে শ্রেয়সীর ওই মায়াবী দু চোখ।সেদিন কলেজেও মেহেরাজের হৃদয় থমকে দিয়েছিলো এই চোখ আর আজ আবারো।যদি সত্যিই ডিভোর্স হতো তাহলে মেহেরাজ চেষ্টা করতো না তবে সে তো এখোনো তার বউ।শুধু ভুল ভাঙাতে হবে।
মেহেরাজ জানে কিছুই সহজ না তবে সে পাক্কা খেলোয়াড়। কিভাবে দাবার চাল বদলাতে সেও জানে।শ্রেয়সী তার মনে ধরা প্রথম নারী।আর তার উপর সে তার স্ত্রী।মেহেরাজের ঠোঁটের কোনে স্মীত হাসি ফুটে উঠে।বিড়বিড় করে আওড়ায়,
-নেশা তো শুধু নামেই নেশাক্ত।আসল নেশা তো দেখেছি তোমার ওই এক জোড়া মায়াবী চোখে মায়াবতী।

সন্ধায় শ্রেয়সী পড়তে বসেছে।তবে পড়াই তার মন বসছে না। বার বার মেহেরাজ মির্জা লোকটার কথা মনে পড়ছে।আচ্ছা অত বড় একটা অফিসারের তার বাবার সাথে কিসের দরকার।তার বাবা কোনো অবৈধ।ছিহ ছিহ শ্রেয়সী এসব কি ভাবছে।নিজের ভাবনায় নিজেই বিরক্ত।
শ্রেয়সী পড়ার টেবিলে মন বসাতে না পেরে বিছানায় এসে সুয়ে পড়ে।এপাশ ওপাশ করতে থাকে।আজ বাড়ি টা ফাকা।সায়ন নেই ভাবি নেই কার সাথে গল্প করবে।বেশ খানিক্ষন এপাশ ওপাশ করার পর শ্রেয়সী মোবাইল টা নিয়ে এলো।কি মনে ফেসবুকে মেহেরাজ মির্জা লিখে সার্চ করলো।না কোনো আইডি নেই লোকটার ছবি আছে।
আইডি খোজায় ব্যার্থ হয়ে শ্রেয় মসী ফেসবুকের রিলস স্ক্রল করতে শুরু করলো।কিছুই ভালো লাগছে না তার।বার বার লোকটার চেহারা মনের ভেতর ভেসে উঠছে।কিন্তু শ্রেয়সী তো ছেলেদের এখন ঘৃনা করতে শিখেছে তাহলে তার মনে কেন ছেলেটা আসছে।এটা কি মোহ।শ্রেয়সী অতিষ্ঠ হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।গিয়ে দেখে তার বাবা বাড়িতে এসেছে।
শ্রেয়সী গিয়ে আলতাফ শেখ এর পাশে সোফায় বসতেই আলতাফ শেখ টিভিতে নিউজ দেখতে দেখতে বলেন,

-কোথায় ছিলে আম্মু।পড়তে বসোনি??
-বসেছিলাম আব্বু তবে কিছুই ভালো লাগছে না।ভাবি বাড়ি নেই সায়ন নেই কেমন একা একা লাগছে।
-তো তুমি গেলে না কেন গিয়ে ঘুরে আসতে ভাবিদের সাথে।
শ্রেয়সী কিছু বলতে যাবে তার আগেই খাদিজা খাতুন চায়ের কাপ হাতে নিয়ে এগিয়ে আসতে আসতেই বলে,
-তোমার মেয়ের নতুন টিচার দিয়েছি।কলেজ এ অনুপ্সথিত হওয়া যাবে না।ওকে ঘুরতে যেতে বলো কি ভেবে তুমি।
-আহহ খাদিজা।দুই তিন দিনে তেমন কিছু হতো না।এখন আমার মায়ের মন টা খারাপ।
খাদিজা খাতুন চায়ের কাপ আলতাফ শেখ এর হাতে দিয়ে বলেন,
-তোমার মেয়ের মন খারাপ হয় না কখন।খেতে বললে মন খারাপ।পড়তে বললে মন খারাপ।ঘুমাতে বললে মন খারাপ।

-আহ চুপ করো।
-হুম আমি কিছু বলতে গেলেই চুপ করো।বললাম না আর কিছু।
কথাটা বলে খাদিজা খাতুন আবারো রান্না ঘরে চলে জান।মাকে রান্না ঘরে যেতে দেখে শ্রেয়সী আলতাফ শেখ এর দিকে তাকিয়ে বলে,
-আব্বু আজ তোমাকে দুইজন খোজ করছিলো।
আলতাফ শেখ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে শ্রেয়সীর দিকে তাকিয়ে বলে,
-কারা??
-একজনকে চিনি যে আমাদের সাথে কথা বলেছিলো।সে আমাদের কলেজ এ সেদিন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলো।আর দ্বিতীয় লোকটাকে চিনি না হয়তো তার বন্ধু।লোকটাকে বললাম কি দরকার বলল।
শ্রেয়সী থামে।শ্রেয়সী কে থামতে দেখে আলতাফ শেখ আবারো বলে,

-কি বললো??
-বললো তোমার আব্বুকে বলবা মেহেরাজ এসেছিলো মেহেরাজ মির্জা।তার গুরুত্বপূর্ণ কি একটা তুমি নিয়ে এসেছো সেটা নিতে এসেছে।
শ্রেয়সীর কথা শেষ হতে না হতেই আলতাফ শেখ রেগে যায়।রেগে গিয়ে বলে,
-তুমি ওদের সাথে কথা বলেছো??
-হুম আমাদের বাড়ির সামনে এসেছিলো।এর আগে আমাদের কলেজেও একবার দেখেছিলাম লোকটাকে।আর আজ।বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর একজন অফিসার লোক্টা।তার কাছ থেকে তুমি কি নিয়ে এসেছো আব্বু??
শ্রেয়সীর কথা শেষ হতে না হতেই আলতাফ শেখ রেগে যান।হাতে থাকা গরম চায়ের কাপ্টা ছুড়ে ফেলেন মেঝেতে।শ্রেয়সী ভয় পেয়ে যায়।খাদিজা খাতুন রান্না ঘর থেকে ছুটে আসেন।আলতাফ শেখ রেগে শ্রেয়সী কে বলে,

-আর জীবনেও তার সামনে তুমি যাবে না।আর আমার কানে যদি আসে তোমার পড়াশোনা অফ করে দিবো বলে দিলাম।।
শ্রেয়সী ভয়ে কেপে উঠে।বাবার এমন রাগ সে সচারাচর দেখে না।এমন সামান্য কথায় তার বাবা রেগে যাবেন শ্রেয়সী বুজতে পারেনি।খাদিজা খাতুন এগিয়ে এসে শ্রেয়সীর পাশে দাঁড়িয়ে আলতাফ শেখের উদ্দেশ্যে বলে,
-কি হিয়েছে মেয়েকে বকছো কেন তুমি??
-কি হয়েছে ওর কাছ থেকেই শুনো??
-কি হয়েছে??
-ওই অমানু*ষের বাচ্চা আবার এসেছে আমার মেয়ের জীবনটা নিয়ে খেলতে।একবার খেলে ওর হয়নি চুন কালি মাখিয়ে আমার পবিত্র মেয়েটাকে কলঙ্কিত করেও ওর শান্তি মেলেনি আবার এসেছে।আর তোমার মেয়ের সাথে আগেই দেখা হয়েছে আজকেও হয়েছে।

-মেহেরাজের কথা বলছো??
-তো কার কথা বলবো আর।সিয়াম আসুক আজকেই মির্জা বাড়িতে খবর পাঠাবো তারা যেনো তাদের ছেলেকে সাবধান করে।আমার মেয়েকে ডিভোর্স দেওয়ার পরে নতুন করে আবার কোন ঝামেলা সৃষ্টি করতে চায় সে।বেশি বাড়াবাটি করলে থানায় কেচ করতে পিছ পা হবো না।ওদের টাকা আছে তো কি আমাদের ও আছে।।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৬ (২)

শ্রেয়সী বাবার কথা শুনে বুজতে পারে তার প্রথম দেখায় ক্রাশ খাওয়া লোকটা তারই প্রাক্তন স্বামি।সেই কাপুরষ যে তাকে বিয়ের দিন তার মুখ না দেখেই চলে গেছিলো।এমন কি তার দুদিন পরেই তাকে ডিভোর্স দিয়েছিলো।সে আবার কেন এসেছে।এতক্ষন যে লোকটাকে ভাবতে শ্রেয়সীর লজ্জা লাগছিলো।মুহুর্তেই সেই মেহেরাজের মুখ চোখের সামনে ভাসতেই প্রচন্ড ঘৃনায় গা ঘিন ঘিন করে উঠছে।

লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here