রুপুর বিয়ে পর্ব ৪০
Bobita Ray
রুপু এই বাড়িতে আসার পরে সবচেয়ে যে মানুষটা বেশি খুশি হয়েছে। সে হলো ময়নার মা। রুপু চলে যাওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত এই বাড়িতে কী কী হয়েছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সব গোটে গোটে রুপুকে বলা হয়ে গেছে।
রুপু ঘুম থেকে উঠে রান্নাঘরে এসে দেখল, ময়নার মা ব্যস্ত হাতে সবজি কুটছে। চুলায় চায়ের জল বসিয়েছে। রুপুকে দেখে ময়নার মা খুশি খুশি গলায় বলল,
“তুমি এইখানটায় বসো বউদি। আমি চা বানিয়ে দিচ্ছি।”
“তোমাকে চা বানিয়ে দিতে হবে না। তুমি যে কাজ করছ। সেই কাজ করো।”
“তা বললে হইব না বউদি। আমিই আজ তোমারে চা বানিয়ে দেব। তুমি এইবাড়ি থিকে চলে যাওয়ার পরে বাড়িটা মরাবাড়ির মতো হয়ে গেছে গো বউদি।”
ময়নার মা চা বানাতে বানাতে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“বউদি তোমারে একটা কথা কই। কাউরে আবার বইলো না কিন্তু। বড়মার মাথাডা খারাপ হইয়ে গেছে, বুচ্ছ? নাহলে অমন সিগারেট খাওয়া আধল্যাংটা মেয়েকে বড়দাদার সাথে বিয়ে দিতে চাইবে কেন? টাকাই কী সব? সব নাতো। লোভে পড়ে বড়মা এমন ভয়ংকর কাণ্ড ঘটাইতে চাইছিল। ভাগ্যিস বড়দা সময় মতো ঘুমের ঔষধ খাইছিল।”
শেষের কথাটা বলে ময়নার মা জিভে কামড় দিল।
রুপু চা নিয়ে ছাদে চলে গেল।
বিধানবাবু রুপুকে দেখে বলল,
“আয়রে মা। এইখানে বোস।”
রুপু শ্বশুরের হাতে চা দিয়ে পাশে বসল। বিধানবাবু চায়ে চুমুক দিয়ে বলল,
“কী সিদ্ধান্ত নিলি মা?”
“আপাতত কোন সিদ্ধান্ত নেব না বাবা।”
“বীথি তোকে সরাসরি বলতে লজ্জা পাচ্ছে। বীথির ইচ্ছে তুই এখানে থেকেই যা করার কর।”
রুপু হেসে ফেলল। বলল,
“আমার নিজের ইচ্ছেটা সবার আগে বাবা। তাছাড়া মা আজ এইকথা বলছে। আগামীকাল তুচ্ছ কারণে ঝগড়া লাগলেই উল্টো কথা বলবে। আমি বর্তমান ভাবার আগে ভবিষ্যতের কথা ভাবি বাবা। মা যখন আমাকে উল্টো কথা বলবে। তখন আমার সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগবে কেন জানেন? কারণ আপনি মাকে আমার হয়ে দুটো কথা বলবেন না। প্রতিবাদ তো করার কথা ভাবতেও পারছি না। তখন আমার নিজেকে সবচেয়ে বেশি ছোট মনে হবে। ভাবব, কেন আমি আপনার কথাশুনে থেকে গেলাম? আমি বর্তমানে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ভবিষ্যতে আফসোস করতে চাই না বাবা।”
রুপু কঠিন কঠিন কথাগুলো বলল হাসিমুখে। বিধানবাবুর মনটাই খারাপ হয়ে গেল।
আজ শুক্রবার। ছুটির দিন। বিনয়ের খুব ইচ্ছে করছে। রুপুকে নিয়ে বাইরে কোথাও ঘুরতে যেতে। রুপুকে সরাসরি বলার সাহস পাচ্ছে না। রুপু এই বাড়িতে এসে থেকে খুব দরকার ছাড়া বিনয়ের ঘরেও আসেনি। ভাগ্যিস বিনয় জেদ করে রাতটা রুপুর সঙ্গে থেকেছিল৷ ইশ, রাতের কথা মনে পড়তেই একরাশ লজ্জা বিনয়ের চোখে-মুখে ভর করল। ঠোঁটের কোণে ফুটে রইল প্রশান্তির হাসি।
মা পইপই করে বলেছে, রুপুর রান্না করার দরকার নেই। ময়নার মা আছে। সেসব সামলে নেবে। রুপু শুনেনি। কোমরে আঁচল বেঁধে রান্না করছে। কী দরকার ছিল, এই গরমে ঘেমে-নেয়ে রান্না করার। বিনয় মায়ের চোখে ফাঁকি দিয়ে গুটিগুটি পায়ে রান্নাঘরে চলে এলো। রুপুর দক্ষ হাতে রান্না করার দৃশ্য গালে হাত রেখে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখতে লাগল। রুপু শাড়ির আঁচল দিয়ে কপালের ঘামটুকু মুছতেই বিনয় তড়িঘড়ি করে চার্জার ফ্যান রুপুর দিকে সেট করে দিল। রুপু ঘাড় ঘুরিয়ে বিনয়কে একপলক দেখল। কণ্ঠে বিরক্তি ফুটিয়ে বলল,
“কী করছ কী? ফ্যান বন্ধ করো। বাতাসে চুলা অফ হয়ে যাবে তো।”
“হলে হোক। তাতে আমার কী।”
“তোমার কিছু নাহলেও আমার রান্না করতে দেরি হবে তো।”
“তুমি বরং এককাজ করো। ফ্যানটাকে আড়াল করে দাঁড়াও। এভাবে ঘেমে-নেয়ে রান্না করলে অসুস্থ হয়ে যাবে তো।”
“বাবাহ্.. দরদ যেন উথলে উঠছে।”
“তোমার জন্য আমার সবসময়ই দরদ উথলে উঠে রুপু। শুধু তুমিই বুঝতে চাও না।”
“হয়েছে হয়েছে। এবার ঘরে যাও।”
“তুমিও চলো।”
“রান্না শেষ করে আসছি।”
“স্নান করবে কখন?”
“একটু পরে।”
“আচ্ছা এসো৷ আমি অপেক্ষা করছি।”
রুপু ভ্রু কুঁচকে তাকাল। বলল,
“অপেক্ষা করবে মানে? তুমি গিয়ে স্নান করে নাও।”
বিনয় লাজুক কণ্ঠে আমতা আমতা করে বলল,
“আজ একসাথে স্নান করব।”
রুপু কিছু বলতে গিয়েও বলল না। আনমনে হেসে ফেলল।
কে যেন খুব জোরে জোরে দরজায় কড়া নাড়ছে। সবাই দুপুরে খেয়ে ভাতঘুম দিয়েছে। শুধু বিধানবাবু বাড়িতে নেই। নেমন্তন্ন খেতে গেছে। অনেকগুলো দিন পর বীথি রানী তৃপ্তি করে ভরপেট ভাত খেয়েছে। বিছানায় শুয়ে পান চিবুতে চিবুতে ঝিমুনি এসে গেল। বিনয়ের বউটা খুব কাজের। অস্বীকার করার কিছু নেই। রুপু যে এতদিন এইবাড়িতে ছিল না। বীথি রানীর মনেই হচ্ছে না। এসে থেকে কী সুন্দর সংসারের কাজ করছে, রান্না করছে। সবাইকে খেতে ডাকছে। থালে ভাত বেড়ে দিচ্ছে। আশ্চর্য রুপুর গুণগুলো এতদিন কেন চোখে পড়েনি?
দরজা ধাক্কানোর শব্দে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল বীথি রানী। ভীতু কণ্ঠে বলল, কে কে?
কেউ সারা দিল না। দরজার কাছে গিয়ে পুতুলের কণ্ঠ কানে আসতেই চোখ-মুখ ভয়ে শুকিয়ে গেল। এই হতচ্ছাড়িটা অসময়ে কেন এসেছে। বীথি রানী বুঝতে পারছে না। চিন্তায় বীথি রানীর খুব অস্থির লাগছে। কলিংবেলের শব্দে রুপুও উঠে এসেছে। শাশুড়ীমাকে দরজা ধরে ফ্যাকাশে মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল,
“কে এসেছে মা? এভাবে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?”
বীথি রানী ফিসফিস করে বলল,
“ওই শাঁকচুন্নিটা এসেছে।”
শাঁকচুন্নি কে রুপুর বুঝতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল। রুপু হেসে ফেলল। বলল,
“দেখি মা, দরজা ছাড়ুন তো। মেয়েটা এতদূর থেকে এসেছে। ঘরে এসে কিছুক্ষণ বসুক। কথা বলে দেখি, কেমন মেয়ে।”
“অত্যন্ত অসভ্য মেয়ে। আদব-কায়দা কিচ্ছু জানে না। তোমার দেখার দরকার নেই। তুমি ঘরে যাও।”
রুপু শাশুড়ীমাকে রাগানোর জন্য বলল,
“আমিও তো একটা সময় পর্যন্ত আপনার চোখে বেয়াদব বউ ছিলাম মা। এখন যখন একটু একটু করে ভালো হচ্ছি। না মানে আমার ভালো গুণগুলো আপনার চোখে পড়ছে। একদিন পুতুলের গুণগুলোও আপনার চোখে পড়বে। নো টেনশন।”
বীথি রানী বড় বড় চোখ করে রুপুর দিকে তাকাল। নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
“এই মেয়ের ভালো হওয়ার কোন চান্স নেই।”
“সে না থাকুক। একটু কথা বলে দেখি, কেমন চিজ।”
“কোন দরকার নেই। একবার ঘরে ঢুকলে সহজে বের করতে পারবা না।”
রুপু দরজা খুলে দিল। পুতুল ঘরে ঢুকে আহ্লাদী কণ্ঠে বলল,
“হাই আন্টি। এতক্ষণ কী করছিলেন বলুনতো? আমি সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি।”
বীথি রানী হাসার চেষ্টা করে বলল,
“না কিছু করছিলাম না। ঘুমাচ্ছিলাম।”
“বিনয় কোথায় আন্টি? ও কী ঘরেই আছে? আমি বরং ওর সাথে দেখা করে আসি।”
রুপু পুতুলের পথ আগলে দাঁড়াল। হাসিমুখে বলল,
“হাই পুতুল কেমন আছো?”
পুতুল ভ্রু কুঁচকে রুপুর দিকে তাকাল৷ বলল,
“তুমি কে? আর আমাকে তুমি তুমি করে কথা বলছ কেন? ভদ্রতা শিখোনি?”
রুপু শব্দ করে হেসে ফেলল। বলল,
“তুমিও তো ভদ্রতা শিখোনি পুতুল। তুমিও তো আমাকে তুমি তুমি করেই কথা বললে। অভদ্রে অভদ্রে কাটাকাটি।”
“আন্টি এই মেয়েটা কে? আমার সাথে এভাবে কথা বলছে কেন?”
“আমি আন্টির বউমা। আরও সহজ করে বলি, তুমি যার সাথে মাখামাখি করতে আসো। না মানে গল্পটল্প করতে আসো। আমি তার একমাত্র বউ। তোমাদের বিয়েটা সেদিন হয়ে গেলে, তুমি হতে তার দুইমাত্র বউ।”
“এসব কী বলছ তুমি?”
“এই পুতুল রানী তুমি নাকি আমার বরের সাথে ঘরের দরজা আটকে বসে গল্প করতে। শুধু গল্পই কী করতে? নাকি…”
“চুপ করো। এসব কোন ধরণের কথা?”
“ভদ্র ধরণের কথা। আমি কিন্তু অশ্লীল কথাও বলতে পারি। বলব? শুনবে নাকি একটুখানি?”
“আন্টি এই মেয়েটাকে প্লিজ চুপ করতে বলুন।”
“আন্টি বললেও কোন লাভ হবে না। ঘরে যখন পা পিছলে একবার ঢুকেই পড়েছ। তখন তো আন্টির বউমার কথা তোমাকে শুনতেই হবে। তা শুনলাম, তোমার নাকি এখনো শখ মিটেনি। বিয়েটা করতে চাচ্ছ।”
“হ্যাঁ বিয়ে করতে চাচ্ছি। তোমার কোন সমস্যা? ”
“না না আমার সমস্যা হবে কেন? সমস্যা তো আমার শাশুড়ীমায়ের। বিয়ের আগেই ওনার আদরের ছেলের কাছ থেকে ওনাকে পর করে দিয়েছ। বিয়ে হলে নিশ্চিত আলাদা সংসার পাতবে। না এতবড় সর্বনেশে কাণ্ড তোমাকে করতে দেওয়া যাবে না। মা আপনি একটু ঘরে জানতো। আমার পুতুলের সাথে খুব দরকারি কথা আছে।”
বীথি রানী সরাসরি বিনয়ের ঘরে চলে গেল। যদিও এখানে খুব থাকতে ইচ্ছে করছিল। রুপুর গায়ে জ্বালা ধরা কথা শুনতে আজ ততটাও খারাপ লাগছে না। তবে ননীর পুতুলকে নিয়ে কোনরকম রিস্ক নেওয়া যাবে না। যে বেয়াদব মেয়ে। শেষে দেখা যাবে, কথার এক ফাঁকে ছুটে গিয়ে বিনয়ের ঘরের দরজা আটকে দিয়েছে। রুপুর সামনে ভুল করেও যদি এই মেয়ে বিনয়ের ঘরের দরজা আটকে দেয়। তাহলে নিশ্চিত কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। তারথেকে বীথি রানী ছেলের ঘরে গিয়ে দরজা আটকে বসে থাকুক। এই বরং ভালো।
“বসো পুতুল?”
“বসব না। তুমি সামনে থেকে সরে দাঁড়াও।”
“সরে দাঁড়িয়েও কোন লাভ হবে না। তুমি এতদিন যে কাণ্ড করেছ। সেই একই কাণ্ড আজ আমার শাশুড়ীমা করেছে।”
“কী বলতে চাইছ তুমি?”
“তোমাকে আর কী বলব। বলাবলির তো কিছু নেই। তোমার নাকি ইদানীং খুব ঘনঘন শরীর গরম হচ্ছে?”
পুতুল রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“ঠিক করে কথা বলো।”
“আহা রাগ করছ কেন? আমি যতদূর জানি, আমার বর আমার শরীর ছাড়া অন্যকারো শরীর ঠাণ্ডা করে না। সে আমার বরের সামনে ল্যাংটা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও না। আশা করি, তুমিও জেনে গেছো। তারপরও অকারণে কেন আসো তুমি?”
পুতুল তাচ্ছিল্য করে বলল,
“তোমার বরকে নিয়ে তোমার খুব গর্ব, তাই না?”
“গর্ব করার মতো মানুষ কী সে না? একটা মানুষ আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। আমি তার কাছে থাকি না। আমার প্রতি তার এক আকাশ পরিমাণ অভিমান আছে। তবে ভালোবাসা একবিন্দুও কমেনি। মানুষটা তার সবকিছু শুধুমাত্র আমাকেই উৎসর্গ করেছে। আমার থেকেও বহুগুণ সুন্দরী মেয়ে তার সামনে নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও সে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে না। শুধু মেয়েটা নগ্ন হয়েও যখন ক্ষ্যান্ত দেয় না। মানুষটা তখন অসহনীয় হয়ে ব্যালকনিতে গিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ভয়ে তার শরীর থরথর করে কাঁপে। চোখ-মুখ রক্তশূণ্য হয়ে যায়। বুকের ভেতর ধড়ফড় করে। তবুও যে মেয়েটাকে কিছু বলে না। কেন বলে না জানো? কারণ সে তার মাকে কষ্ট দিতে চায়। ভয়ংকর ভাবে কষ্ট দিতে চায়। যাইহোক এরপর থেকে তোমার শরীর গরম হলে ভুলেও এই বাড়িতে আসবে না। আশেপাশে অনেক বেশ্যাপল্লী আছে। কোন একটা পল্লীতে চলে যাবে। আবার অন্য ব্যবস্থাও করতে পারো। তোমাদের তো আবার টাকার অভাব নেই।”
পুতুল ভয়ংকর রেগে গেল। অতিরিক্ত রাগে সারাশরীর থরথর করে কাঁপছে। উপরের ঠোঁট দাঁত দিয়ে চেপে ধরে রাখার ফলে ঠোঁট কেটে রক্ত পড়ছে। পুতুল ধাতস্থ হয়ে রুপুর দিকে আঙুল তাক করে বলল,
“তুমি.. তুমি কাজটা ভালো করলে না। তোমাকে আমি দেখে নেব।’
“তুমি আর আমাকে কী দেখবে। চলো তোমাকে আমি দেখে নেই। আমার জামাই দেখেনি তো কী হয়েছে। তোমাকে আমি দেখব। তুমি চাইলে মন ভরে দেখব।”
পুতুল হিস্টিরিয়া রোগীর মতো হয়ে গেল। কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“বিনয় বিনয় কোথায়? ওকে এখুনি ডাকো।”
“ওতো এখন আসবে না। তুমি চাইলে পরে দেখা করতে পারো। আমি রবিবার চলে যাব। তুমি সোমবার আসতে পারো।”
পুতুল চলে গেছে অনেকক্ষণ। রুপু ঝিম মেরে সোফায় বসে আছে। মাথা এখনো ধপধপ করছে। মেয়ে হয়ে একটা মেয়েকে এত কুৎসিত কথা রুপু জীবনেও বলতো না। যদি না আগে থেকে পুতুলের অতীত জানতো। মেয়েটা যে কী পরিমাণ উগ্র। কী পরিমাণ চরিত্রহীনা। কেউ না দেখলে বিশ্বাসই করবে না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো; এই পুতুল নামের মেয়েটা আজ পর্যন্ত যে কয়টা বিয়ে করেছে। সবাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাঁটিয়েছে। শুধু জেল খাঁটিয়েই ক্ষ্যান্ত দেয়নি। তাদের পুরোপুরি নিঃস্ব করে ছেড়েছে।
আর এর বয়ফ্রেন্ডের তালিকা গুনেও শেষ করা যাবে না। ভাগ্যিস বিনয়ের সাথে এই প্লে গার্লের বিয়ে হয়নি। নাহলে বিনয়ের মতো অতি ভালো মানুষের জীবনটা পুরোপুরি বরবাদ হয়ে যেত।
রুপুর দুটোদিন শ্বশুরবাড়িতে বেশ কাটল। এরমধ্যে একদিন রুপুর বাবা-মা এসেছিল। রুপুকে অনেক বুঝিয়ে গেছে। রুপু কারো কথার জবাব দেয়নি। শুধু সবার সব কথা খুব মন দিয়ে শুনেছে।
রবিবার বিকালে রুপুর শাশুড়ী রুপুকে ব্যাগ গুছাতে দেখে বলল,
“কারো অতীত তো সুখকর হয় না। অতীতে কী হয়েছে না হয়েছে। সেসব মনে রেখো না। তুমি আমার ছেলের সংসার করলে আমার খুব ভালো লাগবে।”
“আমি তো কখনো বলিনি মা। যে আপনার ছেলের সংসার করব না।”
“আমি তোমার চোখে খারাপ হতে পারি। কিন্তু একটা জিনিস আমি খুব অপছন্দ করি। তা হলো স্বামী-স্ত্রীর দূরে দূরে থাকার ব্যাপারটা।
“বেশ তাহলে আপনার ছেলেকে আমার সাথে যেতে বলুন।”
বীথি রানী বিস্ফোরিত চোখে রুপুর দিকে তাকাল। বলল,
“এটা তুমি কী বললে? ও তোমার সাথে গেলে ব্যবসা-বানিজ্য দেখবে কে?”
“তাতো আমি জানি না মা।”
“তুমি জানো না, বললে তো হবে না। তুমি আমার ছেলের থেকে দূরে দূরে থাকায় আমার ছেলেটা খুব কষ্ট পাচ্ছে।”
“এই কষ্ট সাময়িক। সময় দিন। সয়ে যাবে।”
“না সয়ে যাবে না। তুমি দয়া করে থেকে যাও।”
“মা আমাকে একটা সত্যি কথা বলুনতো? আজ যদি আপনার ছেলে চাকরির জন্য দূরে কোথাও থাকতো। তাহলে আপনার ছেলের কষ্টের কথা ভেবে আমাকে আপনার ছেলের কাছে যেতে দিতেন? নাকি নিজেদের সেবা-যত্নের কথা বলে আমাকে আপনাদের সংসারে বেঁধে ফেলতেন?”
বীথি রানী কিছু বলতে পারল না। রুপু বলল,
রুপুর বিয়ে পর্ব ৩৯
“মা আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। আর এতো হতাশ হচ্ছেন কেন? আমি তো ছুটিছাটা পেলে আসব। আপনার ছেলের সাথে মাঝেমধ্যে আপনিও চলে যাবেন।”
“বিনয় তোমার ওখানে যাবে নাকি?”
“বলল তো মাঝে মাঝে যাবে। যদি আপনি বাঁধা না দেন।”
“আজব, আমি বাঁধা দেব কেন?”
“অতীতে দিতেন তো। ভবিষ্যতে দিবেন না। তার কী গ্যারান্টি।”
