নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩০
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবা আরহামের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,পরপর নিজেকে শান্ত করে ভিতরে উঁকি দিলো ,, আরহাম শুয়ে আছে,,দেখেই নুবা শান্তির নিশ্বাস ফেললো,,
চোরের মতো রুমে ডুকে আসতে করে আয়ারকে আরহামের পাশে শুইয়ে দিলো,,,আয়রাকে শুয়াতে শুয়াতে খেলায় করলো আরহাম গুনগুন করছে,,,
নুবা চম্কে লাফিয়ে উঠলো,,,জেগে নেই তো,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে ভালো করে শোনার চেষ্টা করলো কি হচ্ছে,,
ভালো মতো শুনার পর অনুভব করলো আরহাম বাচ্চাদের মতো গুনগুন করে কাঁদছে,,,
নুবার সরু ভুরু গুলো কুঁচকে আসলো,,,ভাবতে অবাক হচ্ছে এই লোকটা কান্না করছে,,আজব,,
তবে নুবা এবার ভুল করলো না,,যাই হয়ে যাক তার কি,,নুবা রুম থেকে বেড় হয়ে যেতে লাগলো,,,তবে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আর একবার আরহামের দিকে তাকালো,,ভয় হলো নুবার কিছু হয়ে গেলো না তো,,,যদি এমন কিছু হয় তবে সে কি করবে,,তখন আফসোস হবে না তো যে কাছে এগিয়ে যেএ কি হয়েছে না দেখার,,
নুবা এগিয়ে যেএ কিছু সময় চেয়ে রইলো,,তখনি আরহাম বিরবির করে বলে উঠলো
_ নুবা,,,
নুবার মুখ হা হয়ে গেলো,,,একটা ফাল দিয়ে সে পিছিয়ে গেলো,, আরহাম আবারো ডাকলো
_ নুবা???
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বিরবির করে বললো
_হুম ,,,আ,,আমি
_ কি করছো এখানে,,,
_ বা,,বাবুকে রাখতে এসেছিলাম,,,এখন যাই,,আপনি ঘুমান
বলেই নুবা সরে যেতে চাইলো,, আরহাম ডেকে উঠলো
_ এদিকে আসো,,
আরহামের এদিকে আসো ডাক শুনে নুবার কলিজা শুকিয়ে আসলো,, আবার কি ঘটবে কে যানে,,,
নুবা দাঁড়াতে চাইলো না তখনি আরহাম কেমন অদ্ভুত সুরে ডেকে উঠলো
_ নুবু,,, এদিকে আসো,,
নুবার চলতে থাকা পা থেমে গেলো,,,আজ পর্যন্ত এতো মিষ্টি এতো সুন্দর করে আরফো তাকে ডাকেনি,, এমন কি তার মাও না,,”নুবু” বুকে যেএ লাগলো নুবার,,,
আরহাম আবারো ডাকলো
_ এদিকে আসো না,,,
নুবার ঘাড় কাত হয়ে গেলো,,এই পাগল এতো সুন্দর করে তাকে ডাকছে কেন,,,নুবা সরু চোখে আরহামের দিকে তাকালো,, নিশ্চয় কোনো গন্ডগোল করবে,,,
নুবা না চাইতেও এগিয়ে আসলো,,,বিরবির করে বললো
_ জ্বি,,,ডা, ডাকছেন,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ মাথা প্রচন্ড ধরেছে,, আম্মুকে ডেকে দেও,,
প্রথম বারের মতো নুবা আরহামের এতো কমল কন্ঠ শুনলো,,নুবা কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ আ,, আপনার আম্মু তো অনুষ্ঠানে সবার সাথে আলাপ করছে,,
_ ডেকে দেও,, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,, আমার মেডিসিন গুলো আনিনি,, অনেক খারাপ লাগছে একটু যেএ বলো,,,
_আচ্ছা,,,
নুবা বাচ্চাদের মতো দৌড়ে নিচে যেএ আমিনা বেগমের কাছে গেলো,,আমিনা বেগম হঠাৎ নুবাকে এরকম হাঁপাতে দেখে ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি হয়েছে,,,
_ চা,,চাচি,,আরহাম ভাইয়ের মাথা ব্যথা করছে,, তোমাকে যেতে বলেছে,,,
আমিনা বেগম উঠে দাঁড়ালো,,তখনি কোথা থেকে হারুন মির্জা এসে বললো
_ আরাফের নানি আসেনি তাই না,,,
আমিনা বেগম মুখ কালো করে বললো
_ না,,
_ একটা অনুষ্ঠানের দিন তোমার মা আসলে কি হতো,,
আমিনা বেগম রাগে গজগজ করে বললেন
_ আপনার মা আসলে কি হতো,,,সবাই জিগ্গেস করছে,,
নুবা পাশ থেকে বলে উঠলো
_ চাচি আরহাম ভাই,,,
আমিনা বেগম নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমার রুমের ড্রোয়ারের তিন নাম্বার খাপে দেখবি কাপড়ের নিচে কিছু জিনিস আসছে,,তার ভিতরে সাদা একটা পেকেট আছে ওটা আরহামকে দিবি আর বলবি আমি পরে আসছি,,,আরশিকে নিয়ে যা,,
নুবার মুখ কালো হয়ে গেলো,,,আরশি তো যাবেই না,নুবা বিরবির করে বললো
_ তুমি চলো,,উনি তো তোমাকে ডাকলো,
আমিনা বেগম রেগে বললেন
_ যা বলছি তাই কর,,দুই দন্ড শান্তি নেই,,সব আমাকেই সামলাতে হবে,,কে কে অনুষ্ঠানে আসলো না সেটাও আমার দোষ,,,
নুবা আর কি বলবে,,,সে আরশিকে খুঁজলো পেলো না কোন চিপায় বসে আছে আল্লাহই জানে,,আর কাকে নিয়ে যাবে,,কেউ নেই,,
নুবা সাহস করে নিজেই গেলো,, আরহামের অবস্থা দেখে তার প্রচন্ড মায়া লাগছে তাই সে উপেক্ষা করতেও পারছে না,,,কেন যে চাচি জোর করে উনাকে এখানে নিয়ে আসলো,,না আনলে এমন হতো না
নুবা সেই সাদা পেকেট খুঁজে বেড় করলো,, অনেক গুলো পেকেট ছিলো,,নুবা ওখান থেকে একটা নিয়ে নিলো,, কেমন গুড়া জিনিস,,,নুবার কেমন অদ্ভুত লাগলো,,,
নুবা আরহামের দরজার করা নেড়ে বললো
_ আ,আসবো,,
সাথে সাথে ভিতর থেকে শব্দ এলো
_ আসো,,,
নুবা ভিতরে ডুকলো,,দেখলো আরহাম বসে আছে,,এক পা ছড়ানো অন্য পা উঁচু করে সেই হাঁটুর উপর হাত রেখে মাথা চেপে বসে আছে,,,
নুবা দূর থেকেই আরহামের দিকে পেকেট টা এগিয়ে দিলো,, আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বললো
_ Mom কোথায় ,,
_ চাচিই এটা দিতে বলেছেন,,উনি পরে আসবে,,
_oh ,, mom আসা পর্যন্ত এখানে বসে থাকো,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ কে,,কেন,,
_ যা বলছি তাই কর এতো কথা বলিস,,,
নুবা আরহামের ধমক শুনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো,,, আরহাম উঠে ওয়াশ রুমে চলে গেলো,, মিনিট খানির পর সে বেড় হয়ে আসলো তবে স্বাভাবিক ভাবে নয়,, অস্বাভাবিক ভাবে,,, অর্ধ নগ্ন আরহাম হেলে দুলে হাঁটছে,,,চোখ দুটো লাল হয়ে আছে,,হিংস বাঘের ন্যায়,,,
নুবা একটু পিছিয়ে দরজার সামনে যেএ দাঁড়ালো,, উল্টা পাল্টা কিছু হলেই সে দৌড় দিবে,,,
আরহাম এসে মেয়ের পাশে শুয়ে পড়লো,,নুবা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো,,,তার নিরবতার ভিতরে আরহাম গম্ভীর আর কান্ত কন্ঠে বললো
_ এদিকে আয় নুবু,,,
নুবা দাঁড়িয়ে রইলো,, আরহাম হাত বাড়িয়ে ডেকে উঠলো,,সে উল্টো হয়ে শুয়ে আছে,,,
_ নুবু come,,,
নুবা কিছু সময় চেয়ে রইলো দূর থেকেই বললো
_ চাচি আসছে আপনি অপেক্ষা করুন,,
আরহাম রাগে গর্জে উঠে বললো
_ তোকে আসতে বলছি জানো***,, আমার উঠে আসতে হলে,,
নুবা আস্তে করে বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে,,,সে কখনোই নিজ ইচ্ছায় মরতে এগিয়ে যাবে না,,,
তবে আজ যেনো শনি তার পিছনে লেগে আছে,,, লেহেঙ্গা ধরে হাঁটতে হাঁটতে অনুভব করলো পিছনে কেউ আসছে,,,নুবা পিছনে তাকাতেই দেখলো আরহাম ক্ষিপ্ত বাঘের ন্যায় হাতে গ্যান নিয়ে ছুটে আসছে,,
নুবার চোখ যেনো এবার কাঠগড়া থেকে বেড়িয়ে আসবে,,,নুবা “মা গো” বলে একটা চিৎকার দিয়ে দৌড়াতে নিলেই লেহেঙ্গায় লেগে মুখ থুবরে পড়লো,,, আরহাম এসেই নুবাকে টেনে তুললো,,,নুবা বন্ধুক থেকে ভয়ে কেঁদে উঠলো,,,
আরহাম নুবার থুতনিতে বন্ধুক ঠেকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ জানিস আমার কথা কেউ না শুনলে আমার কতটা খারাপ লাগে,,,পেইন হয় আমার,,ইগোতে আঘাত করে,,,
আরহামের লাল বর্ন চোখ,,,আর রগে ফুলে যাওয়া কপাল দেখে নুবা হু হু কেঁদে উঠলো,,,থুতনিতে লাগানোর বন্দুকের কথা এক পলক ভেবে কম্পিত কন্ঠে বললো
_আ,,,আমি আ, আপনার সব কথা শুনবো,এ,,এটা সরান ভাইয়া,, please,,
নুবার শরীর কাঁপছে অন্তর আত্মা শুকিয়ে গেছে,, আরহাম বন্দুক আরো চেপে ধরলো,,,
ভয়ে নুবার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়লো আজ মনে হয় তার শেষ দিন,,,
তখনি আশার আলো ফুটে উঠলো আমিনা বেগম ছুটে আসলো,,, বিচলিত কন্ঠে বললো
_ আরহাম,,,,
আরহাম মায়ের দিকে তাকালো,,,আমিনা বেগম ছেলেকে নুবার থেকে সরিয়ে নিয়ে বললো
_ কি করছিস বাবা,,
আরহাম বাচ্চাদের মতো দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_ও আমার কথা শুনে না mom,,ওকে ডেকেছি একটু মাথা টিপে দেওয়া জন্য ও দৌড় দিয়েছে,, আমার ইগো হার্ড হয়েছে Mom,,এই বিচ্ছু মেয়েটা কখনোই আমার কথা শুনে না,,, অবাধ্য হয়,,, ইচ্ছে করছে ঠুকে দেই,,,
বলেই নুবার দিকে রুখে গেলো,,নুবা ভয়ে পিছিয়ে গেলো,,আমিনা বেগম ছেলেকে ধরে বললেন
_ রুমে চল,,,আর নুবা আয় আমার সাথে,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না না
_আসতে বলছি,,
আরহাম বাচ্চাদের মতো মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে,,,আমিনা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে,,, এদিকে নুবা চুপচাপ বিছানার এক কোনায় বসে আছে,,,
আমিনা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললো
_ দৌড় কেনো দিয়েছি,,এতো দৌড়াতে ইচ্ছে করে
নুবা বড় বড় চোখ করে বললো
_ উনি এমন ভাবে ডেকেছে আমি ভয় পেয়ে গেছি কি করবো,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোর চাচা কখনোই ওর কথা শুনেনি,ছেলেটাকে বুঝেও বাধ্য হয়ে না বুঝার ভ্যান করেছে যার কারনে,,ওর কথা কেউ না শুনলে ওর ঘারের রগ ত্যারা হয়ে রাগ জেদ চড়ে বসে,,, কোনো সময় সামনে পড়লে কিছু করতে বললে করে দিবি,,,না করলে next time আমিও বাঁচাতে পারবো না,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ তোমার ছেলের সামনেই আর পাড়বো না আমি,
_ এটাই ভালো,,তোকে নিয়ে চিন্তা হয়,, এখন তো দেখছি তোর পিছনে পিছনে আমার ঘুরতে হবে,,
_ উনি তোমায় অনেক ভালোবাসে তাই না চাচি
_ জানি না,হয়তোবা,, আমার পাগল মানিকটা আমাকে মান্য করে,,
নুবা কিছু একটা ভেবে পরপরই বলে উঠলে
_ একটু আগে উনাকে যে দিলাম ওটা কি ছিলো চাচি,, উনি কি নেশা করে,,
_এতো কিছু জেনে তোর কি,,,যা বাইরে যেএ অনুষ্ঠান enjoy কর,,,আর তোর চাচাকে দেখলে বলবি আসতে, আমার মানিকের জন্য কিছু ওষুধ আনতে হবে,, বাচ্চাটা আমার না হলে মাথা ব্যথা আবারো শুরু হলে সারা রাত ছটফট করবে,,,আমারি দোষ ছিলো কেন যে জোর করে ওখানে নিলাম,,,
রাত তখন ২:৪০ নাগাত অনুষ্ঠান জমে খির,, নাচানাচি বাড়ছে,, এদিকে জামাই ও মাঠে নেমেছে,, মুরুব্বিরা কেউ কেউ ঘুমাতে চলে গেছে,,,আরশি এবার নুবার হাত ধরে টেনে নাচে অংশ গ্ৰহন করলো,,
আরাফ ভিরের ভিতরে নুবার দিকে তাকিয়ে কুটিল হাসলো,,,নুবা আরফে্য শয়তানি হাসি দেখে দাঁতে দাঁত চেপে নিলো,, অতঃপর সব আবেগ সব অতীতকে দাফন করে নুবা নাচের সাথে তাল মিলালো,,
এমনকি বড়রাও ছাড় গেলো না,,, কিছু দুষ্ট মেয়ে আমিনা বেগম আর হারুন মির্জা কে টেনে নাচে সামিল করালো,,,যারা যারা ছিলো সবাই গানের তালে এক জোট হলো,,দাদি নানিরা আরো বেশি দুষ্টামি করলো,,
এই সবাইকে থামানোর জন্য আরহামের একটা হুংকারি যথেষ্ট ছিলো,,
হঠাৎ এমন হওয়ায় সবাই পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো আরহাম কান্নারত আয়ারকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,,পায়ে জুতা নেই তার গায়ে শার্ট নেই,, শুধু পড়নে একটা টাওজার,,
সবাই অবাক হয়ে আরহামের দিকে তাকালো আমিনা বেগম জেনো এই ছেলেকে নিয়ে শান্তি পেলো না,,,
_ কি হয়েছে,,,
বলেই তিনি ছেলের কাছে এগিয়ে গেলেন,, আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ কি খাওইয়ে দিয়েছে ওকে,,,পেটি ভরেনি ঘুম থেকে উঠে ক্ষুত ক্ষুত করছে,,,কোথায় তোমার নুবা ডাকো ওকে,,,
ওখানেই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটলো,, অতঃপর যে যার মতো দল ধরে মজা করা শুরু করলো,
সকাল ১১ টার দিকে ঘুম থেকে উঠলো নুবা,,,সারা রাত জেগে থেকে তার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে,,
আরহাম মেয়েকে কোলে নিয়ে রুমে হাঁটছে,,, এমন সময় আমিনা বেগম রুমে প্রবেশ করলো ,,,বিছানার উপর কিছু ওষুধ রেখে বললো
_ তোর মাথা ব্যথার আর ঘুমের ওষুধ,,,ঘুমের ওষুধ ঘুম না আসলেই খাবি,,আর আজ থেকে ওই সব খাওয়া বন্ধ,,, বাচ্চাটার কথা ভাব,,,
আরহাম শুধু মাথা ঝুকালো,,,আমিনা বেগম রেগে বললেন
_ শুধু মাথা ঝাকালেই হবে না আরহাম,,,প্রথম দিন নেশা করে মেয়েটাকে হাত পা বেঁধে পানিতে চুবিয়েছিস,,কাল নেশা করে মেয়েটার গলায় বন্দুক ধরেছিস,,,তোর কারনে মেয়েটা ভয় পেয়ে আছে,,,সুধরে যা,,,
আরশি নুবাকে অনেক গুলো ড্রেস আর জুতা বেড় করে দিয়ে বললো
_ এগুলো সব নতুন,,যেটা পছন্দ হয় উঠিয়ে নে,,সাথে মেচিং হিজাব চুরি আছে,,,
_ আমি কেন যাবো
আরশি ফাল দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বললো
_ তুই যাবি না মানে,, আব্বু তোকে সহোই বরযাত্রী হিসাব করেছে,,,
নুবা বিছানার এক কোনায় বসে বললো
_ ইচ্ছে হচ্ছে না,,,খুব ক্লান্ত লাগছে,,,
_ এখনো দেরি আছে এতো সময় রেস্ট নে
নুবা উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ আচ্ছা গোসল করার আগে এসে ড্রেস নিয়ে যাবো,,
বলেই নুবা ক্লান্ত শরীর নিয়ে রুমে চলে আসলো,, কিন্তু রুমে এসে যেনো বিপদে পড়লো আরহাম বিছানায় বসে আছে,,,
সকাল সকাল নুবা ভূত দেখার মতো চম্কে উঠলো,,কাল রাতের কথা মনে করতেই সে শুকনো ঢোক গিললো,,,
আরহাম উঠে দাঁড়ালো,,নুবা একটু পিছিয়ে গেলো,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ ভিতরে আসো
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করার আগে তার আমিনা বেগমের কথা মনে পড়লো,,,”ওর কথার অবাধ্য হলে ও রেগে যায়”
তাই নুবা ভদ্র হয়ে রুমে প্রবেশ করলো,, আরহাম সাদা শার্টের হাতা গুটিয়ে বিছানায় কিছুর দিকে ইশারা করে বললো
_ দুটো ড্রেস আছে তোমার জন্য এনেছি
নুবার মুখ ঝুলে গেলো,,, হতভম্ব হয়ে বললো
_কি,,কি,,,
_ ড্রেস এনেছি যেটায় আমার মেয়ে comfortable ফিল করবে,, কালকে তোমার ওই লেহেঙ্গায় আয়রার শরীরে রেশ হয়েছে,,,পুরো শরীর লাল হয়ে গিয়েছিলো,,,
নুবা হা করা মুখটা জুবিয়ে নিয়ে বললো।
_ oh,,এই জন্য,,,
_ hmm,,,আর হ্যাঁ চুরি পড়বে না আমার মেয়ের ব্যাথা পাবে,, আন্টিও skip করবে,,, এমন কিছু তোমার শরীরের রাখবে না যা আমার মেয়ের জন্য ক্ষতিকর,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,,
আরহাম চলে যেতে যেতে ফিরে এসে বললো
_ দু’টো ড্রেসেরি সামনে দিয়ে চেইন সিস্টেম করা,,, তোমার আয়রাকে ফিড করাতে সুবিধা হবে,,
বলেই আরহাম চলে গেলো,,,নুবা বিছানায় ধপ করে বসে পড়লো,, মানুষ টা নিজের মেয়ের প্রতি কতটা যত্নশীল,,,এমনি যাই হোক বাপ হিসাবে সে সেরা,,
২৫ টার মতো বাইক,,৩০ টার মতো গাড়ি,,,এই পাল পুড়ি নিয়ে মেয়ের বাড়িতে যাওয়া হবে,,ভাবা যায় এতো মানুষ,,,
সকাল থেকেই রেডি হওয়া শুরু হলো,,নুবা আরহামের দেওয়া ড্রেসে করে একটা ড্রেস পড়ে নিলো,,,কোনো রকম সাজ দিলো,,একদম হালকা,,,এতেই যেনো তাকে সুন্দর লাগছে,,,
নুবা আয়ারকে আরশির বিছানায় শুয়ে দিলো আয়রা তৈরি,,ছিমছাম ড্রেস পড়েছে মাথায় একটা সুন্দর কাপড়ের তৈরি ব্যান লাগানো,,দাদি তার কপালে বড় করে একটা ফোটা দিয়ে দিয়েছে,,,
নুবা আরশির থেকে ড্রেসের সাথে মেচিং একটা হিজাব নিয়ে পড়ে নিলো,,আরশি সাজতে সাজতে বললো
_ চুড়ি পড়বি না
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোমার ভাগ্নির সমস্যা হবে ব্যথা পাবে তাই স্বয়ং তোমার ভাই এসে মানা করেছে,,
_ বাআ ড্রেস কিনে দিলো,,আবার পরামর্শ ও দিয়ে গেলো ব্যপার কি
_ সবি তার কলিজার টুকরা মেয়ের জন্য,,,আর যাইক হোক তোমার ভাইয়ের চোখের মনি তার মেয়ে,,,
অবশ্য আরহাম বরযাত্রীযে যেতো না কিন্তু মায়ের কথায় যাচ্ছে,,ছোটো ভাই এর বিয়েতে বড় ভাই না থাকলে হয়
আরশি,,নুবা,,আয়রা,ইমা সামনে ড্রাইভার আর আরহাম এক গাড়িতে,,,
গাড়ি নিজের মতো চলছে,,,আয়ার আরহামের কোলে
সবাই নির্দিষ্ট সময়ে পৌছে গেলো,,আরফকে বেশ লাগছে,,শুট বুট পড়ে,,তবে নুবা না এবার তাকায়নি তার দিকে,,
আশার পর অনেক রিচুয়াল পালান করা হলো,,জুতা লুকানো,, খাওয়া দাওয়া,,,আরো অনেক কিছু,সব শেষে নুবা শুধু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ২৯
নুবার চোখে আফসোসের দাগ টানছে,, শুধু একটা কারনেই ইস্ মেয়েটার জীবন টা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে,,,একটা চরিত্রহীনের কে স্বামী হিসাবে আপন করছে,,নুবা সেদিকে চেয়ে রইলো কাজি বিয়ে পড়াচ্ছে,,,যখনি আরাফ কবুল বলবে তখনি,
