রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৫৪
সোহানা ইসলাম
রুমের ভেতরে হালকা আলো। জানালা দিয়ে সকালের সূর্যের আলো পড়ে রাশেদের মুখে। ফ্যাকাসে, ক্লান্ত কিন্তু শান্ত একটা মুখ। হাতের ব্যান্ডেজ শুকিয়ে গেছে, তবু চোখের নিচে ক্লান্তির রেখা স্পষ্ট। দরজাটা আস্তে করে খুলে যায়।
ভেতরে ঢোকে মিম। মুখে ফ্যাকাসে ভাব, চোখ লাল। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। রাশেদ তাকায়নি, কিন্তু বুঝে যায় কে এসেছে। তার নিঃশ্বাসটা ভারী হয়ে ওঠে।
রাশেদ ধীরে বলে
___“চোখ মুখের এই হাল কেনো?”
মিম মুখ তোলে না, শুধু ফিসফিস করে বলে
___ “আপনার না জানলেও চলবে।”
রাশেদ গভীরভাবে তাকায় মিমের দিকে।
__ “হুম! আমি তো কেউ না, জানার কোনো অধিকার ও নেই আমার ? সরি। ”
মিমের চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। হু হু করে কেদেঁ ফেলে
___“আপনি জানেন না, সেই রাতের পর কতটা বদলে গেছি আমি। আপনার রাগ, আপনার কথা, আপনার অবিশ্বাস—সব আমার ভিতর আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল।”
রাশেদ মাথা নিচু করে। তার চোখও ভিজে যায়। ___“সরি! এই কাপুরুষ টার মুখ আর দেখবে না কোনো দিন। কষ্ট ও পাবে না। কথা দিলাম। ”
মিম এগিয়ে আসে ধীরে ধীরে। গলার স্বর কাঁপছে,চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরছে ওর, __“আপনি কেন এমন করলেন?”চোখের পানি গড়িয়ে পরে গাল বেয়ে।
রাশেদ মৃদু হেসে বলে
___“হেরে যাওয়া মানুষের বেঁচে থাকতে নেই, মিম।”কণ্ঠে হতাশা নয়, বরং একটা নিঃশব্দ ব্যথা।
মিম মাথা নাড়ে, কাঁদতে কাঁদতে বলে
__ “আপনি এমন করলেন কেন? আপনি জানেন না আমি কতটা কষ্ট পেয়েছি?”
রাশেদ হাসলো একটু।
__” যাকে ভালোবাস না,তার জন্য কষ্ট পাওয়াটা বেমানান দেখায়। ”
মিম আর নিজেকে দরে রাখতে পারলো না। ছোট্টে গিয়ে রাশেদের বুকে মুখ গুঁজে কান্না করতে থাকে। আর বার বার আঘাত করে ওর বুকে।
__” আমি আপনাকে ভালোবাসি না। একটুও বাসি না। ”
রাশেদ মিমকে স্পর্শ করে না। মিম ওকে জড়িয়ে ধরে আছে। রাশেদ মিমের কান্না দেখে বোঝে গেছে, মিম এখনো ওকে ভালোবাসে। ওর জন্য ভালোবাসা একটু ও কমেনি।
___” যাকে ভালোবাস না, তার বুকে মুখ গুঁজে কান্না করছো কেন তাহলে? ”
মিম চট করে উঠে যায় রাশেদের বুক থেকে। চোখের পানি মুছে নেয়। মাথা নিচু করে বলে
__” স..সরি! ”
এই বলে রুম থেকে বের হয়ে যেতে চায় মিম। কিন্তু হঠাৎ করে ওর হাত এসে রাশেদ ধরে ফেলে পিছন থেকে। মিম কে গুরিয়ে নিজের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে
__” আমার যে, এই তুমি টাকে খুব প্রয়োজন। ক্ষমা করে দেওয়া যায় না আমায়? শেষ বারের মতো? ”
মিম স্তম্ভ হয়ে গেছে। চোখ দিয়ে আবার পানি ঝড়ছে।কি বলবে সে এখন?
মিমকে চুপ থাকতে দেখে রাশেদ আবার বলে
__” মিউ! আমাকে আরেক বার তোমার রাজ বাবু হওয়ার সুযোগ দিবে? ”
__” আপনি আমার থেকে সুন্দর, ভালো মেয়ে পাবেন। আমি তো এমনিই একটা মেয়ে—গায়ের রঙ চাপা, সৌন্দর্য কম…”
রাশেদ হঠাৎ থামিয়ে দেয় ওকে। কণ্ঠটা কাঁপে, চোখ ভিজে যায়—
__“চুপ! আর একটা শব্দ বলবে না নিজের সম্পর্কে। তুমি জানো, আমি কী ভালো -বেসেছিলাম? তোমার রঙ না, তোমার মুখ না—তোমার মনটা। সেই মনটাকেই আমি চিনতে পারিনি আগে। আমি ভেবেছিলাম তুমি আমার সাথে প্রতারণা করছো… অথচ প্রতারক ছিলাম আমি নিজেই, নিজের সন্দেহ নিয়ে।”
মিম মুখ ঢেকে কাঁদছে। চোখের পানি গড়িয়ে পড়ে রাশেদের ব্যান্ডেজে।
রাশেদ হাত বাড়িয়ে ওর চোখের পানি মুছে দেয়।
___“দেখো, এই চোখের জলটাই আমার শাস্তি, মিম। আমার অহংকার, আমার ভুল বিশ্বাস—সব ভেঙে গেছে। এখন শুধু একটাই প্রশ্ন—তুমি কি পারবে আমাকে আবার ক্ষমা করতে?”
মিম কিছু বলতে পারে না। কেবল নিঃশব্দে মাথা নিচু করে কাঁদে। রাশেদ ধীরে বলে,
___“আমি জানি, ভালোবাসা জোর করে পাওয়া যায় না। কিন্তু যদি কখনো মনে হয় আমি তোমার রাজ বাবু ছিলাম, তাহলে একবার শুধু বলো—তুমি আমাকে ক্ষমা করেছো।”
মিম চোখ তুলে তাকায়। সেই চোখে রাগ নেই, শুধু অশ্রুভেজা মায়া। ধীরে বলে
__ “ক্ষমা তো আগেই করে দিয়েছি। শুধু ভয় ছিলো—আপনি হয়তো আর আমায় ভালো বাসবে না? ফিরবেন না কখনো আমার জীবনে? ”
রাশেদ নিঃশব্দে মিমের সামনে আসে। দুই হাতে ওর হাতটা শক্ত করে ধরে।
__“আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম, মিউ। কিন্তু তোমার ভালোবাসা আমায় আবার খুঁজে পেলো।”
মিমের গলা কাঁপে, “রাজ বাবু…”
রাশেদর চোখ ভিজে ওঠে। দু’জনের চোখের দৃষ্টি এক হয়—সব ভুল, সব দূরত্ব যেন এক মুহূর্তে মিলিয়ে যায়।
___” আই লাভ ইউ মিউ! আই লাভ ইউ! ”
রাশেদ মিমের মাথায় হাত রাখে
___“এখন থেকে আর কোনো কষ্ট না, মিউ। শুধু আমরা, আমাদের শান্ত একটা জীবন।”
মিম চোখ মুছে হালকা হেসে বলে,
___“তবু আপনি মাঝে মাঝে রাগ করবেন, আমি কান্না করব—না হলে আমাদের ভালোবাসা একদম নিঃশব্দ হয়ে যাবে।”
রাশেদ হেসে ফেলে। সেই হাসিতে যেন নতুন জীবনের সূর্য আলো ছড়িয়ে পড়ে।
আরমান বেডে বসে, চোখে ক্লান্তি, চুলে হাত চালাচ্ছে। মাথায় যেন হাজার চিন্তা।ঠিক তখনই দরজা খুলে এক গলা
—“ও মমিসিং ভাইয়া, আমি আসি তোমার ঘরে?!”
আরমান কপাল কুঁচকে তাকায় দরজার দিকে,
___“কি বললি পটলের বাচ্চা? আবার বল,কোন ভাইয়া?”
জোহান হেসে ঢোকে,
___“মমিসিং ভাইয়া! তোমার বাড়ি মমিসিং তাই, তোমার নাম মমিসিং ভাইয়া !”
আরমান চোখ বড় বড় করে ওঠে,
__“তুই মনে হয় শান্তিতে বড় হতে চাস না ! এই নামটা আর মুখে আনবি না, নাহলে আছাড় দিয়ে চেপ্টা করে দিব !”
জোহান ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
___“আরে ভাইয়া, নামটা তো কিউট!”
আরমান উঠে দাঁড়ায়,
___“ বোনের মতো পুরো বেয়াদব হয়ে গেছে!”
জোহান হাত কোমরে রেখে বলে,
___“বেয়াদব না, সত্যবাদী! আর আমার বোনু’কে একদম বেয়াদব বলবে না! ”
আরমান রেগে গিয়ে বলে,
___“তুই বেশি মুখ চালাস, শালাবাবু! আমি তোরে ছোট বলেই কিছু বলি না।”
জোহান এগিয়ে আসে,
___“তুমি কি ভাবো, আমি ভয় পাই তোমারে?”
জোহান কিছু একটা ভেবে আবার বলে
__” আচ্ছা ভাইয়া, তুমি আমাকে শালাবাবু ডাকো কেন? আম্মু বলেছে বোনুর বিয়ে হলে,বোনুর হাসব্যান্ড আমাকে শালাবাবু বলবে। কিন্তু আপুর তো বিয়ে হয়নি।”
আরমান চোখ টিপে বলে,
___“কারণ আমি তোর দুলাভাই!একমাত্র দুলাভাই! তাই তোকে শালাবাবু ডাকি?”
জোহান চমকে উঠে। অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে বলে
___” সত্যি? ”
__” হুম ”
জোহান ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
___“তাহলে আমি আর আম্মু যানি না কেনো?”
__” কারণ, এটা সিক্রেট। আমি তোর দুলাভাই আর তুই আমার নাদান শালাবাবু। ”
__” আমি আম্মু কে বলে দিবো! তুমি আমার দুলাভাই! ”
__” না, এখন না! সময় হলে আমিই বলব সবাই কে! ঠিক আছে! ”
__” হুমম! বোঝেছি, কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে! ”
আরমান জোহানের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। এই পটলের আবার কী শর্ত?
__” কী শর্ত? ”
__” আমাকে প্রতিদিন চকলেট কিনে দিতে হবে। ”
‘ ঘুষখোর শালা! ‘ মনে মনে বলে আরমান।
__” আচ্ছা ডিল ফাইনাল! ”
জোহান খুশিতে, আরমানের গলা জরিয়ে ধরে। আর গান গাইতে থাকে
” দুলাভাই… দুলাভাই!
কান্দ উঠে মুলা খাই…
মুলা’ত নাই হালি…
…. দুলাভাই’য়ের নাই শালি! ” কি মজা! ”
এই উদভ্রান্ত গান শুনে, আরমান জোহান কে ওর গলা ছাড়িয়ে রাগে বলে,
__“শালা পটলের বাচ্চা!
তোরে আমি এক লাথি মারবো এখন!”
জোহান হেসে আরমানের থেকে কিছু টা দূরে গিয়ে বলে,
___“মারো ভাইয়া! কিন্তু, মনে রেখে! আমার সাথে হিরো গিরি করলে আমার বোনুকে দিব না তোমায় ।”
আরমান আর সহ্য করতে পারে না—দৌড়ে গিয়ে জোহানকে নিজের কাঁধ তুলে ধরে বলে,
__“তুই আমাকে হুমকি দিস? শালা পটল!”
__” হ্যাঁ! দিচ্ছি, কি করবে তুমি? ”
দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।আরমান জোহানকে নরম বিছানা এক আছার মারে।
জোহান একটা বালিশ ছোড়ে আরমানের দিকে, তারপর আরেকটা।মুহূর্তেই রুম ভরে যায় তাদের দুজনের চিৎকারে
___“ পটলের বাচ্চা আমি তোকে ছড়ব না! আজ তোকে ভর্তি করে ফেলবো। ” এসব চিৎকারে।
এক পর্যায়ে জোহান আরমানের গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে,
___“তুমি আমার সাথে পারো না, তোমার শরীরে শক্তি নেই !”
আরমানও হাসতে হাসতে বলে,
___“শক্তি! শালাবাবু, তোমার বোনকে আমার কাছে দিয়ে দেখো, শক্তি কিভাবে দেখাই!”
জোহান বাচ্চা মানুষ! আরমানের কথা কি বোঝেছে কে যানে? বিছানার এক কোণা থেকে দৌড়ে এসে আরমানের উপর ঝাপিয়ে পড়ে।
দুজনেই মাটিতে গড়িয়ে পড়ে। একজন আরেকজনের চুল টানছে, কেউ বালিশ ছুড়ছে।
ঠিক তখনই দরজায় রোহান এসে দাঁড়ায়—
___“আরে এ কী! দুলাভাই–শালাবাবুর ফাইট করছো নাকি?”
দুজনেই থেমে তাকায়।জোহান হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
__“এই হিংসুটে ভাইয়া! মমিসিং ভাইয়া আমারে মারছে!”
আরমান নিজের চুল ঠিক করতে করতে হেসে বলে,
___“আমি না, এই পটলের বাচ্চা আমারে ‘মমিসিং ভাইয়া’ বলেছে।আর এখন আবার বলছে!”
রোহান হেসে গড়িয়ে পড়ে,
___” তোরে মমিসিং বলছে! নাম টা কিন্তু সেই! মমিসিং ভাইয়া! ”
আরমান কপাল চেপে বলে,
___“ রোহান তুই আবার শুরু করলি ওর সাথে মিলে।”
জোহান হেসে বলে,
___“ তুমি হেস না হিংসুটে ভাইয়া। মমিসিং ভাইয়া কিন্তু আমার দুলাভাই?”
আরমান একটু থেমে তাকায়,তারপর জোহানের মাথায় হালকা চড় মেরে বলে,
__“তুই অনেক দুষ্টু। কিন্তু শালা হিসেবে পারফেক্ট। ”
জোহান গম্ভীর মুখে বলে,
___“দুলাভাই, একটা কথা বলি?”
___“কি?”
রুমের দরজাটা অর্ধেক খোলা। ভেতর থেকে হাসির শব্দ, বালিশ ছোড়াছুড়ি, মাঝে মাঝে ধুপধাপ আওয়াজ আসছে। জারা বারান্দা পেরিয়ে আসে জোহানকে ডাকতে ডাকতে—
__“জোহান! তুই এখানে?”
উত্তর নেই। জারা দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। হালকা ঠেলা দিতেই দরজাটা খুলে যায়।
ভেতরের দৃশ্য দেখে জারা থমকে যায়।
চারদিকে বালিশ উল্টে পড়ে আছে, টেবিলের ওপর পানির বোতল গড়িয়ে মেঝেতে পড়েছে, আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে আরমান—
চুল এলোমেলো, শার্টের বোতাম খোলা, মুখে ক্লান্ত কিন্তু রাগ মেশানো অভিব্যক্তি।
জারা এক মুহূর্তের জন্য কিছু বুঝে উঠতে পারে না। চোখ যায় পাশে,জোহান ও রোহান দাঁড়িয়ে আছে, মুখে দুষ্টু হাসি।
রোহান হেসে বলে,
__“এই দৃশ্যটা দেখে অবাক হওয়ার কিছুই নেই! শালা আর দুলাভাই দুইজন মিলে বিশ্বযুদ্ধ করেছে।”
জারা কপাল কুঁচকে তাকায়।
___“কি করছিলি তুই জোহান?”
জোহান মুখ টিপে হাসে,
___“আমরা তো শুধু একটু মজা করছিলাম, বোনু। কিন্তু দুলাভাই সিরিয়াস হয়ে গেছে!”
আরমান একদম চুপ। জোহান মজা পেয়ে বলে,
__“তুমি জানো না বোনু, দুলাভাই খুব মারপিটপ্রিয় মানুষ!”
আরমান তীব্র দৃষ্টিতে তাকায় জোহানের দিকে।
রোহান বুঝে ফেলে বাতাস ভারী হয়ে গেছে।
সে জোহানের কাঁধে হাত রেখে বলে,
__“চল মীরজাফর , আমরা বাইরে যাই। এখানকার আবহাওয়া আজ কিছুটা গরম।”
__” আমি কিন্তু কিউটি গার্লের সাথে খেলব! ”
__” শর্ত ঠুকে দিচ্ছিস?”
জোহান মাথা নেড়ে বোঝায়, হ্যাঁ!
__”এই জন্যই তোকে মীরজাফর বলি! চল!” দুজনেই রুম থেকে বেরিয়ে যায়। দরজা বন্ধ হতেই নীরবতা নেমে আসে।
জারা ধীরে ধীরে আরমানের দিকে এগিয়ে যায়।
__“এই রকম দেখাচ্ছে কেন আপনাকে ?”কণ্ঠে উদ্বেগ, মুখে হতাশা।
আরমান মাথা নিচু করে আছে। কোনো উত্তর দেয় না।
__“আমি কিছু বলছি! কাল কল দিলাম, মেসেজ দিলাম, উওর দিলেন না যে?।”
আরমান ধীরে ধীরে বলে,
__“ভালো লাগছে না, যাও এখান থেকে। ”
জারা অবাক হয়ে যায়।দৌড়ে আরমানের কাছে গিয়ে বলে
__“ ভালো লাগছে না মানে? কোথায় খারাপ লাগছে বলুন আমায়! ”
আরমান তীক্ষ দৃষ্টিতে তাকায়,
___“ আগলা ভালোবাসার দরকার নেই আমার। চলে যাও আমার রুম থেকে। ”
জারা কাঁপা গলায় বলে,
___“আমি আগলা ভালোবাসা দেখাচ্ছি?”
আরমান মৃদু হেসে বলে,
___“ আমি খারাপ মানুষ! আমার আবার দেহের প্রতি বেশি লালসা ।”
জারার চোখ ভিজে আসে।
__“আপনি এমন কথা বলছেন কেন?।”
আরমান হঠাৎ একটু জোরে বলে,
___“তাহলে কীভাবে বলবো? সেদিন নদীর ধারে বলেছিলে—আমি তোমার দেহের জন্য কাছে আসি। সেই কথা আমার মাথা থেকে নামছে না, মানজারা। তোমার মুখে এটা শুনে আমি ভেতর আগুন জ্বলে গেছে। যাকে ভালোবাসি,বিয়ে করেছি,সে বলছে আমি নাকি তাকে দেহের জন্য কাছে আসি?।”
জারা হতবাক। ওর মুখ শুকিয়ে যায়।চোখ থেকে জল ঘরিয়ে পরে
___“আমি ইচ্ছে করে বলিনি,বিশ্বাস করুন।”
আরমান পেছন ফিরে জানালার দিকে তাকায়।
বাইরে সকালের আলো ছড়িয়ে পড়ছে।
__“কখনো কখনো একটা কথাই যথেষ্ট হয়, মানুষকে জীবন্ত মেরে ফেলার জন্য! ”
জারা বুঝতে পারে—ওর কথা আরমানের ভেতর বিষের মতো কাজ করছে।সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে পেছন থেকে আরমানের জড়িয়ে ধরে ।
___“স্বামীজান , প্লিজ এভাবে কথা বলবেন না। আমি জানি আমি ভুল করেছি। কিন্তু আপনি আমাকে এভাবে উপেক্ষা করবেন না।”
আরমান হাত সরিয়ে নেয়।
___“আমি যদি তোমার কাছ থেকে দূরে থাকি, সেটাই ভালো। আমি খারাপ মানুষ, মানজারা।”
এই কথায় জারার বুকটা মুচড়ে যায়। চোখের পানি সামলাতে পারে না।নরম গলায় ডাকে
__“স্বামীজান …”
আরমান মুখ ঘুরিয়ে তাকায় না।শুধু ঠান্ডা, তীক্ষ্ণ স্বরে বলে —
__“বাড়ি যাও?”
জারার বুকটা কেঁপে ওঠে।জেদ দেখিয়ে বলে
__“আমি কোথাও যাব না। ”
আরমান এক পা এগিয়ে এসে বলে,
__“আমি খারাপ মানুষ, জারা। আমার দেহে আগুন, মনে পাপ। আমার থেকে দূরে থাকো, প্লিজ… আমি তোমাকে পুড়িয়ে ফেলব।”
এই কথাগুলো শুনে জারা আর নিজের ভেতর ধরে রাখতে পারে না। এক মুহূর্তে ছুটে গিয়ে আরমানের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে।চোখের জল গড়িয়ে গড়িয়ে পরে মাটিতে।জারা কাঁদতে কাঁদতে বলে —
___“স্বামীজান, আমি ভুল করেছি… কিন্তু আমি তোমাকে হারাতে পারব না। আমি তোমার লক্ষ্মী বউ, তোমার যা ইচ্ছে তাই করো আমার সাথে।
কষ্ট দাও, শাস্তি দাও, ভালোবাসো…আমি কিছু বলব না। শুধু আমাকে দূরে ঠেলে দিও না, আমি মরে যাব!”
বলে, জারা দু’হাতে আরমানের পা ধরে নেয়।
ওর চোখ থেকে টপটপ করে জল ঝরে পড়ছে,
___“ক্ষমা করে দাও স্বামীজান… আমি তোমার ছাড়া বাঁচবো না…”
আরমান হতবাক হয়ে যায়।এই মেয়েটা এখন ওর পায়ের কাছে কাঁদছে!ওর বুকের ভেতর হঠাৎ কেমন একটা চেপে ধরা কষ্ট হয়।ধীরে ধীরে নিচু হয়ে বসে আরমান,জারার কাঁধে হাত রাখে।
জারা কাঁদতে কাঁদতে মুখ লুকিয়ে ফেলে ওর হাঁটুর কাছে।
আরমান কাঁপা গলায় বলে —
__“তুমি এমন করো না, মানজারা… আমি সহ্য করতে পারি না তোমার কান্না। প্লিজ বাড়ি যাও!”
জারা কাঁদছে। তার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে আরমানের পায়ে। আর বার বার বলছে ক্ষমা করে দিতে। আরমানের বুক ভারী হয়ে উঠছে, কিন্তু মুখ শক্ত রাখে।ও বলে,
—” এই পাগলী… কান্না করে না।”
জারা শোনে না, আরও আঁকড়ে ধরে বলে,
—” তুমি বুঝছো না আমি তোমাকে ছাড়া বাচঁতে পারব না। প্লিজ ক্ষমা করে দাও!”
আরমান এবার নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করে।
—” মানজারা, উঠে দাঁড়াও। এমন করো না। আমি তোমার যোগ্য না।”
জারা ফুঁপিয়ে বলে,
—” তাহলে কার যোগ্য তুমি? কার জন্য এই ভালোবাসা লুকিয়ে রাখবে?”
আরমান একটু থেমে বলে,
—”আগে উঠো! ”
এই কথা বলতেই জারার ভেতরের সব বাঁধন ছিঁড়ে যায়। ও হঠাৎ রাগে আর কান্নায় কাঁপতে কাঁপতে বলে,
___” আমি এখানে পাগলের মতো কান্না করছি, তোমার পা জড়িয়ে ধরেছি, আর তুমি আমাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছো?”
আরমান স্তব্ধ হয়ে যায়। জারা বসা থেকে উঠে, রাগে ওর বুকের দিকে ঝুঁকে গিয়ে হঠাৎ দাঁত বসিয়ে দেয়।চিৎকার করে বলে,
—” কী সমস্যা তোর! ক্ষমা চাইছি, ভালো লাগছে না?দূরে ঠেলে দিচ্ছিস কেন, হ্যাঁ? আমি কি এতো বড় অপরাধ করেছি,যে ক্ষমা করা যায় না? ”
আরমান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে জারার দিকে।তার চোখে অশ্রু, ঠোঁট কাঁপছে, মুখে রাগ আর ভালোবাসার আগুন।আরমান কিছু বলে না। চুপচাপ জারা’র রাগ সহ্য করে। কিছু মুহূর্ত চুপচাপ থাকে দুজনেই।
__” বউ তুমি চিটিং করছো! রাগ আমার করার কথা ছিলো, সেখানে তুমি রাগ করছো কেন? ”
জারা আবার কান্না করতে করতে আরমানের বুকে ঢলে পড়ে। ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। আরমানের বুকে বার বার কিল ঘুষি মারে। আরমান বোঝে যায় তার লক্ষী বউ রাগে কষ্টে এমন করছে।
__” আপনি আমাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন, তাই আমার রাগ উঠে গেছে? ”
আরমান জারাকে মেকি রাগ দেখিয়ে বলে
__” তাই বলে স্বামী কে তুই বলবে? ”
__” স্বামীজান বলে ডেকেছি,আপনি থেকে তুমি বলেছি! তবুও আপনার রাগ ভাঙ্গেনি দেখে তুই বলেছে? ”
__” বাহ! আমার বউয়ের কী বুদ্ধি! ”
কিন্তু জারার এখনো কান্না থামেনি। আরমানের বুকে মুখ গুঁজে কান্না করেই চলেছে। আরমান ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে জারার মুখটা ছুঁয়ে বলে,
—” এই পাগলী, কান্না করে না… জান, আমার লক্ষী বউ…তোমার চোখে অশ্রু মানায় না।”
জারা বুক ভরে কেঁদে ওঠে। আরমান তাকে বুকে টেনে নেয়, কপালে ঠোঁট রাখে। ওর গলা ভারী হয়ে আসে,
___” আমায় এতো ভালোবাসো কবে থেকে? ”
এই একটিমাত্র বাক্য, যেন জারার বুকের ভেতর ঝড় তোলে। ওর চোখে জল চিকচিক করে ওঠে, ঠোঁট কাঁপে। ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকায় আরমানের চোখে — সেই চোখে ভালোবাসা, অপরাধবোধ, আর একচিলতে ভয় মেশানো মায়া। জারা আরমানের কথার উত্তর না দিয়ে ভাঙা গলায় বলে,
—” আমায় এত ভালোবাসেন কবে থেকে?
__” তুমি থেকে এখন আবার আপনি তে আসলে কেন বউ? তুমি ডাক টাই তো সুন্দর ছিলো?”
আরমান একটু থেমে নিঃশ্বাস ফেলে। ওর প্রশ্ন, ওকেই করছে ,যাই হোক উওর তো,দিতেই হবে। নাহলে বউয়ের আবার রাগ উঠে যাবে,
—” যেদিন প্রথম তোমায় দেখেছিলাম, সেদিন থেকেই…সাদা কলেজ ড্রেসে মুখ ডাকা অবস্থায়।”
এই কথা শুনে জারা স্থির হয়ে যায়।তার ভেতরের সব বাধা, সব লজ্জা যেন মুহূর্তেই গলে যায়।সে তাকিয়ে থাকে আরমানের মুখের দিকে, চোখের কোণে হালকা ঘাম, ঠোঁটে একটুখানি কাঁপুনি।
__” একটু নিচু হবেন? ”
বউয়ের আবদার! পালন তো করতেই হবে। আরমান জারাকে ছেড়ে দিয়ে কোমড় বাঁকা করে ওর দিকে কিছু টা ঝুঁকে।
আর তারপর… এক মুহূর্তে জারা করে বসে এক অদ্ভুত কাজ। জারা হঠাৎ দুই হাতে আরমানের মুখ ধরে টেনে নেয় কাছে। আর বিনা দ্বিধায় ওর ঠোঁটে চুমু খায়। চোখ বন্ধ, নিঃশ্বাস কাঁপছে, যেন পুরো পৃথিবী থেমে গেছে এই মুহূর্তে।
আরমান স্তম্ভ হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না, এটা স্বপ্ন নাকি বাস্তব। তার বুকের ভেতর তীব্র কাঁপুনি, রক্তের স্রোত যেন হঠাৎ বেড়ে গেছে। জারার ঠোঁটের স্পর্শে তার মনের সব রাগ, কষ্ট, ভয় মিলিয়ে যায় এক নিমেষে।
জারা যতবার সরতে চায়, আরমান এখন ততবার ওকে কাছে টেনে নেয়। চোখে চোখ পড়তেই যেন দু’জনের ভেতর ঝড় ওঠে।আরমানের কণ্ঠ ভারী হয়ে যায়—
__“তুই নিজ ইচ্ছে কাছে এসেছিস বউ, আমি কিন্তু জোর করিনি। আমি ভালো মানুষ! ”
জারা ওর বুকের ধাক্কায় একবার ঠেলা দিয়ে উঠে দাঁড়াতে চায়, কিন্তু হাতটা জড়িয়ে রাখে আরমানের শক্ত বাহুতে। জারা ঠোঁট দুটো আবার নিজের দখলে করে নেয়।
__” প্লি…প্লিজ ছেড়ে দিন! ”
আরমার ছাড়ে না। জারা কে ওর বাহুতে আরও শক্ত করে চেপে ধরে, জারার ঠোঁটের মিষ্টি সোদা পান করতে থাকে। জারার ঠোঁটে জ্বালা করা শুরু হয়ে যায়। হঠাৎ উত্তেজনায়, কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায় সবকিছু।জারা নিজেকে সামলে নিতে নিতে আরমানের শার্টের বুকের বোতাম ছিঁড়ে ফেলে। দু’জনেই থমকে যায় মুহূর্তের জন্য।
আরমান অবাক চোখে তাকিয়ে বলে,
___“এই বুঝি আমার শান্ত লক্ষী বউ?”
জারা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নেয়, শ্বাস নিচ্ছে তীব্রভাবে, গাল লাল হয়ে গেছে।
আরমানের মুখে এক চওড়া দুষ্টুমি ভরা হাসি, চোখ দুটো চকচক করছে। জারা দূরে সরে এসে বুকে হাত রেখে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে, গাল লাল, চোখে এক ধরনের লজ্জা-ভয় মিশে থাকা বিস্ময়।
আরমান হঠাৎ মাটিতে হাত ঠুকে বলে ওঠে,
—'”আমি ভালো মানুষ ? আমাকে আলাভুলা মানুষ পেয়ে তুমি চুমু খেয়েছো! এখন আমায় কে বিয়ে করবে, হ্যাঁ কে?”
জারা চমকে তাকায়। নির্লজ্জ লোক কী বলছে যাতা।
—” কি বলছেন এসব, পাগল নাকি আপনি?’
আরমান গম্ভীর মুখে বলে,
—” আমি এখন ইজ্জত হারানো পুরুষ! আমার সম্মান তছনছ করে দিলো হাই ইঞ্চি বউ।”
জারা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে, তারপর ঠোঁট কামড়ে বলে,
—” থামুন অসভ্য লোক ? কেউ শুনে ফেললে?”
আরমান নাটকীয়ভাবে বুক চেপে বলে,
—” শুনুক! আমার বুকের ব্যথা সবাই জানুক!
এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে আমার পবিত্রতার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে!'”
ঠিক তখনই দরজা ঠেলে ঘরে ঢোকে রোহান, জোহান, জিনিয়া, জাহেদ আর ফিহা।সবাইর এতক্ষণ দরজায় দাড়িয়ে সব দেখেছে। জারা চুমু খাওয়ার সময় রোহান জোহানের চোখ হাত দিয়ে ডেকে ফেলে। ঘর ঢুকে সবাই কিছু জানে না, কিছু দেখেনি এমন ভাব নেয়।
রোহান অবাক হয়ে বলে,
— ” এই ঘরে যুদ্ধ হইছিল নাকি ভাই? তোর শার্ট ছিঁড়া, চুল উড়ে গেছে, মুখে ঘাম…”
জোহান তো একদম থ হয়ে গেছে, তারপর মুখ টিপে হেসে বলে,
—” দুলাভাই, তুমি এমন ভাবে কান্না করছো কেন?
আরমান নাটকীয় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বলে,
___আমার ইজ্জত লুটে নিয়েছে তোর হাফ ইঞ্চি বোন, আমার সম্মান শেষ!”
সবাই একসাথে হেসে ওঠে। ফিহা বলে,
—” আসলে ইজ্জত টা হারিয়েছে কে?এই কথাটা আবার বুঝিয়ে বলবেন দুলাভাই?
জিনিয়া হেসে বলে,
___” ভাইয়া তুমি আর ভাবিকে লজ্জা দিও না! বেচারি লজ্জায় লাল হয়ে আছে। ”
জারা লজ্জায় রক্ত লাল হয়ে যায়, মুখ ঢেকে বলে,
___” এই বদ লোকটাকে বলো চুপ করতে! আমি কাউকে কিছু করিনি!”
আরমান তখনও নাটক চালিয়ে যাচ্ছে—
—না না, সবাই জানুক, এই মেয়ে আমার ঠোঁট কেড়ে নিয়েছে, আমার ভবিষ্যৎ শেষ! আমার বিয়ে হবে না আর!
জারার লজ্জা রাগে পরিনত হয়ে গেছে
__” লাল জাইঙ্গার বাচ্চা! ”
জাহেদ হাসি চেপে রাখতে না পেরে বলে,
—'” ভাইয়া তুমি একমাএ পুরুষ যে কি-না বউয়ের কাছে ইজ্জত হারিয়েছো!”
জোহান খুশিতে গদগদ হয়ে বলে
__” তাড়াতাড়ি আমার বোনুকে বিয়ে করে নাও! আমি সবাই কে মিষ্টি খাওয়াব! ”
আরমান ভুরু কুঁচকে বলে,
—তুই চুপ থাক শালা পটল! তোর বোন আমার ইজ্জত নিলো, আর তুই মিষ্টি বিলাচ্ছিস?
রোহান আরমানের কাঁধে হাত রেখে ফিসফিস করে বলে,
—” দোস্ত তুই তো মজা পেয়েছিস! এখন নাটক করছিস কেন ! আমি দেখতেছি তুই নিজেই আগায় আগায় গেছস।
আরমান চোখ বড় বড় করে বলে,
—” শালা মীরজাফর!বন্ধু হয়ে আমার নাম খারাপ করতে চাইছে!”
সবাই আবার হাসিতে ফেটে পড়ে। জারা লজ্জায় মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে, ঠোঁট কামড়ে বলল,
—” আপনি আর একটা বাজে কথা বললে,আমি কিন্তু চলে যাব এখান থেকে! ”
আরমান হাত তুলে বলে,
—ঠিক আছে, আমি চুপ! কিন্তু আগে আমার আব্বুকে ফোন দিতে হবে! এই ঘটনার পর একটাই সমাধান — বিয়ে!
সবাই থমকে যায়,রোহান বলে,
—তুই পাগল নাকি ভাই? বিয়ে না একবার করেছিস!
__” তো কী হয়েছে? আবার করব! ”
__” এখনই ফোন দিবি?”
আরমান বলে,
—” এই ঘটনার পর দেরি করা মানে আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার! আমি এখনই বিয়ে চাই!”
সে ফোন বের করে বাবাকে কল দেয়ার জন্য। ঠিক তখনই জারা দৌড়ে এসে আরমানে হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেয়।
__” এখন না! আগে আমার পরীক্ষা শেষ হোক তারপর যা করার করবেন! ”
আরমান বাবুক ভঙ্গিতে বলে
__” আচ্ছা ঠিক আছে! কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে! ”
__” কী শর্ত? ”
__” এমন কাজ প্রতিদিন করতে হবে। না হলে আমি এক্ষুনি আব্বুকে কল দিব! ”
জারা চুপ করে তাকিয়ে থাকে।চোখের কোণে হাসি, বুকের ভিতর হালকা কাঁপুনি। সে মৃদু গলায় বলে,
— ” পাগল আপনি? ”
আরমান ফটাফট জবাব দেয়
___” তোমার জন্য! ”
সবাই থেমে যায়, নিস্তব্ধতা ছড়িয়ে পড়ে।
আরমান এক চিলতে হাসি নিয়ে এগিয়ে আসে, জারার চোখে তাকিয়ে বলে,
—” তাহলে রাজি আছো, সারাজীবন এই পাগল মানুষটার বউ হয়ে থাকতে?
জারা চোখ নামিয়ে মাথা নাড়ায়।
রোহান, ফিহা, জিনিয়া সবাই একসাথে বলে ওঠে
—” ওয়াও! সো বিউটিফুল! ”
রোহান আরমানের কাঁধ চাপের বল
__” ভাবির কাছে আমার বন্ধু জিতে গেছে! ”
আরমান নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে,
—” জিতেছি? না না, হারতে ভালো লাগে ওর কাছে। এই হাফ ইঞ্চি মেয়েটাই আমার সবচেয়ে বড় জয়।
বেলা গড়িয়ে দুপুরের রোদ কড়া হয়ে এসেছে।
জারা আর বাকিরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে।
জারার মুখে হালকা হাসি — যেন সকালবেলার ঝড় থেমে গিয়ে একফোঁটা রোদ এসে পড়েছে মেঘের ফাঁক দিয়ে। মিমকে দেখে ওর মুখে একরকম খুশি ফুটে ওঠে, যেন কোনো চিন্তা নেই মনে। কিন্তু ফিহার চোখে অন্যরকম ভাব।
ও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে, জাহেদ কিছু একটা বুঝে ফেলেছে হয়তো।
জাহেদ ওকে বলেছিল ,“সে বিকেলে জিনিয়ার সাথে ময়মনসিংহে চলে যাচ্ছে।”
ওর কথায় ফিহার মুখটা নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
সবাই বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরমান তখন দরজার পাশে দাঁড়িয়ে, জারার দিকে তাকিয়ে।
চোখে একরকম হাসি আর দুষ্টুমি। জারা বুঝতে পেরে চোখ নামিয়ে নেয়, কিন্তু ঠোঁটের কোণে অজান্তে একটা মিষ্টি হাসি লুকিয়ে পড়ে।
আরমান আস্তে এসে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,
রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৫৩
__“বউ, বিকেলে আবার আসবে… তোমায় নিয়ে ঘুরতে যাবো।”
তার কণ্ঠে ছিলো অদ্ভুত কোমলতা। জারা কিছু বলে না, শুধু তাকায়, তারপর হালকা একটুখানি হাসি দিয়ে চলে যায়। আরমান সেই হাসি দেখেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ,মনে মনে বলে, “এই মেয়েটার, এক হাসিতে আমি খুন হয়ে যাই! ”
গেট পেরিয়ে চলে যায়। জারা পেছন ফিরে তাকায় না।
সবাই চলে যাওয়ার পর বাড়িটা কেমন নিঃশব্দ লাগে। আরমান, জাহেদ, রোহান আর জিনিয়া হাঁটতে হাঁটতে রাশেদের রুমের দিকে যায়।
