Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৬

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৬

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন

সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে চারপাশে নেমে এলো এক প্রশান্ত পরিবেশ।হাসি, গল্প আর শুভকামনায় ভরে উঠেছিল নতুন জীবনের প্রথম দিনটি।সবার চোখে ছিল তাদের সুখী ভবিষ্যতের স্বপ্ন।আর এভাবেই আনন্দ আর ভালোবাসার আবহে শেষ হলো দিনের সমস্ত আয়োজন।আরফ নতুন জীবনে পা রাখলে নুবার তৃষ্ণা তার মন থেকে সরলো না,, শুধু ভাবলো নুবা যদি সুস্থ না হয় তবে তাল আশা আশাই রয়ে যাবে,,

আজ প্রায় ৪ দিন পর নুবা বিছানা থেকে উঠে একটু হেঁটেছে,,,পেটের ব্যথা গলা ব্যথা বেশ কমে গেছে,,,
আরহামের হাত-পা কাঁপছে আতঙ্কে।তার বুকের মাঝে শক্ত করে জড়িয়ে রাখা দুই মাসের আয়রা আজ অস্বাভাবিক নিস্তব্ধ।ছোট্ট হাত দুটো নিস্তেজ হয়ে আছে, চোখও খুলছে না ঠিকমতো।
মেয়ের এমন অবস্থা দেখে বারবার ভেঙে পড়ছে সে।
হাতের পোড়া ক্ষত আর টানা ৩/৪ দিন হঠাৎ করে নুবার বুকের দুধ না পাওয়া ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া না করায় আয়রা অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আয়রার পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে এরকম নীল বর্ন ধারন করেছে,,, আরহাম doctor ডেকেছিলো মেয়ের জ্বর এসেছিলো বলে তবে কালকে রাতে তার মেয়ে একদম ঠান্ডা হয়ে গেছে সে খেলায় করেনি,, কারণ তার নিজের শরীরো বেশ ঠান্ডা থাকায় অনুভব করতে পারেনি,,এই সম্পর্কে তার এতো ধারনাও নেই,,,
কিন্তু সকালে উঠে খেয়াল করলো আয়ারা নড়ছে না,,তাকাচ্ছে না,, কেমন চোখ উল্টে গেছে,,কাল রাতে কত কষ্ট করে ঘুম পাড়ালো মেয়ে আর আজ এই অবস্থা,,,

আরহামের শরীর তিরতির করে কেঁপে উঠলো,,মেয়েকে বুকের সাথে জরিয়ে কোনো মতে মায়ের রুম পর্যন্ত গেলো,,দরজার সামনে থেকে চিৎকার করে বললো,,,
_ মা,,ও মা,,বাইরে আসো,,দেখো না আমার বাচ্চাটার কি হয়েছে,,আয়রা তাকাচ্ছে না মা,,
আরামের কন্ঠ কাঁপছে,,, মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে,,,ছেলের উদ্বিগ্ন কন্ঠে আমিনা শুয়া থেকে ছুটে আসলেন,, মাত্র একটু শুয়েছিলেন,,কাল অনুষ্ঠান শেষে হলো আজকে ভেবেছিলেন একটু ঘুমাবেন কিন্তু তা হলো কই,,,
আমিনা বেগম বাইরে ছুটে আসলেন চুল খোঁপা করে নীল বর্ন আয়ারকে কোলে নিয়ে কম্পিত কন্ঠে বললেন
_আয়রা,,কি হয়েছে দাদু ভাই তাকাও,,,আয়রা,,
তবে আয়ার তাকালো না,,চোখের সাদা মনি দেখা গেলো,, আরহাম বিচলিত হয়ে বললো
_ তা,,তাকাচ্ছে না তো,,(বলেই মেয়ের গালে হাত দিয়ে বললো)
_ আম্মু কি হয়েছে,,পাপা ডাকছে তো তাকাও,,আয়রা,, আম্মু,,,
তার মেয়ে আর ওতো সুন্দর করে হাসে না,,তার দিকে মায়া মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকায় না,,হাত পা নেড়ে আর কাঁদে না,,,
আরহাম এবার কেঁদে উঠবে এমন,, আমিনা বেগম ছেলের সুচনীয় অবস্থা আর নাতনির অবস্থা দেখে বললো
_ হসপিটালে চল,,,

আরশি হসপিটালে বেডে বসে আছে,,তার মনটা একটু খারাপ কারণ রিহান চলে গেছে,,তার উপর নুবার এই অবস্থা দেখে কালকে অনুষ্ঠানে একটুও ভালো লাগেনি,,
এদিকে নুবা বেডে হেলান দিয়ে বসে আছে,, হাজেরা মেয়েকে সকালের নাস্তা করানোর চেষ্টা করছে,,
এমন সময় আরশির ফোন বেঁচে উঠলো,,আরশি দেখলো তার মা কল দিয়েছে,,আরশি রিসিভ করে সালাম দেওয়ার আগেই ওপাশ থেকে আমিনা বেগমের আহাজারি ভেসে আসলো,,তিনি আর্তনাদ করে বললেন,,
_ আরশিরে,,আয়রা চোখ খুলে না,,নড়ে না পুরো শরীর নীল হয়ে গেছে রে মা,,তোর বাবাকে কল দিচ্ছি কল ধরে না,,একটু কল দে মা,, বাচ্চাটার কি হলো,,তোর ভাই পাগল হয়ে যাচ্ছে,,,আয়ার পুরো শরীর ঠান্ডা বরফ হয়ে গেছে,,,আমি কিছু বুঝতে পারছি না,,,
আরশি শুকনো ঢোক গিলে কম্পিত কন্ঠে বললো

_কো,,কোথায় তোমার,,
_আমরা হসপিটালে আসছি,,,কাল রাত থেকে নাকি মানিকের শরীরটা অবাশ হয়ে গেছে,,তোর ভাই কিছু বুঝেনি,, সকালে উঠে দেখে বাচ্চা আর রেসপন্স করে না,,, নিঃশ্বাস চলে তো চলে না,,আমি কিছু বুঝতে পারছি না রে মা,, এদিকে তোর ভাই আমাকে পাগল করে দিচ্ছে,,,,
মায়ের এরকম কান্না শুনে আরশির হাত থেকে মোবাইল টা ঠাস করে পড়ে গেলো,,তার যেনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হলো,,,
মোবাইল পরে যাওয়ার শব্দে নুবার আর হাজেরা সেদিকে তাকালো,,আরশির চোখ দিয়ে টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো,,হাজেরা বিচলিত হয়ে বললো
_কি হয়েছে,, কান্না করছিস কেন
আরশি কম্পিত কন্ঠে বললো
_চা,,চাচি,,,আয়রাকে নিয়ে আম্মু আর ভাইয়া হসপিটালে আসছে,,
আয়রার নামটা শুনেই নুবার বুক চিবি মেরে আসলো,,নুবা ফট করে আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_কি,,কি হয়েছে ওর,,
_ কাল রাত থেকে নাকি জ্বরে শরীর ঠান্ডা হয়ে এসেছে,,ভালো মেয়ে বলে ঘুম পাড়িয়েছে,,সকালে উঠে দেখে পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে,,আয়রা তাকাচ্ছে না,,নড়ছেও না,, নিঃশ্বাস কোনো মতে চলছে চোখ মুখ উল্টে গেছে,,,
বলতে বলতে আরশির শরীর ভেঙ্গে আসলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো সাথে হাজেরাও,, বাচ্চাটার কি হলো বুঝতে পারলো না,,,

বিপদ যখন আছে সব দিক দিয়ে আসে,,শহরের নাম করা প্রাইভেট হসপিটাল কিন্তু শিশু ওয়ার্ডের doctor নেই,, কারণ তার মাতা মারা গেছে,,কাল সকালে আসবে,,,
এই হসপিটালেই অন্য ওয়ার্ডে নুবা ভর্তি,,,প্রথম তলায় নুবা ৪ বলায় শিশু ওয়ার্ড,, হসপিটাল টা খুব বড়,,এক গলি দিয়ে গেলে অন্য গলি দিয়ে বেড় হওয়া মুসকিল,,
এদিকে হারুন মির্জা এখনো হসপিটালে এসে পৌঁছেছে পারেরনি,,জ্যামে আটকে পড়েছেন,, এদিকে আরহামের মাথা ঠিক নেই,,,আমিনা কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না,,,আজ যেনো শিশু ওয়ার্ডের সকল doctor মরেছে,,,অন্য হসপিটালে যে যাবে সময় লাগবে,,,
এদিকে হারুন মির্জা গাড়িতে বসেই অন্য doctor এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে,,নাতনির এরকম অবস্থায় কথা শুনে সে যেনো অনেক আহত,,
আমিনা বেগমরা হসপিটালে পৌঁছেছে শুনে আরশি করিডোরে আসলো,,পিছন পিছন হাজেরা,,রয়ে গেলো নুবা,,তবে তার বুকের ভিতর কেমন চিনচিন করছে তার বসে থাকতে ইচ্ছে করলো না,, সুস্থ থাকলে সে এখন আয়ারা কাছে ছুটে আসতো,,

আরশি ছুটে আসতেই দেখলো তার ভাই মেয়েকে কোলে নিয়ে পাগলের মতো আর্তনাদ করছে,,ভয়ে কোনো নার্সও সামনে আসতে পারছে না,,আমিনা বেগম বারবার ছেলেকে বুঝাচ্ছে নার্সের কাছে বাচ্চাকে দিতে,,,তবে সে doctor ব্যতিত কারো হাতেই তার সন্তান কে তুলে দিবে না,,আপাতত আরহামের মাথা কাজ করছে না,,,কোনটা সঠিক কোনটা ভুল কিছুই বুঝতে পারছে না ,,, এদিকে করিডোরে কেবিনে থাকা মানুষ বেড় হয়ে এসেছে,,
আরহাম মেয়ে গালে চুমু খেএ বললো
_ উঠো আম্মু,,,পাপার অনেক কষ্ট হচ্ছে,, please উঠো,,,আমি পাগল হয়ে যাবো তো মা,,,উঠছো না কেন,,,
মেয়ে তার উঠছে না দেখে আরহামের চোখ দিয়ে টুপ টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো,, আরহাম হুংকার ছেড়ে বললো

_ আমার মেয়ের কিছু হলে আমি এই পুরো হসপিটালকে doctor সহ ধংস করে দিবো,, নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে বসে বসে মুড়ি খাচ্ছে ওরা,,সব কয়টাকে দেখে নিবো,,,
একজন নার্স সাহস করে এগিয়ে এসে বললো
_ sir,, doctor জ্যামে আটকে গেছে,,আপনি বাচ্চাকে দিন আমরা প্রথামিক চিকিৎসা দিবো,,,
আরহাম ঠাস করে নার্স কে একটা চর লাগিয়ে দিলো,,, হুংকার ছেড়ে বললো
_ doctor লাগবে doctor ,,, নার্সের কাজ না এটা,,
আমিনা বেগম এগিয়ে এসে বললো
_ আরহাম আয়ারকে ওদের কাছে দে,,
কিন্তু না কোনো নার্সের হাতে তার মেয়েকে সে তুলে দিবে না,, কারণ আয়রা হওয়ার পর এরকম নার্স রা তার মেয়ের সাথে কি ব্যবহার করেছিলো সে জানে,, কান্না করতো তাই ধমকাতো,,ছুরে ফেলে দিতো এমন অবস্থা,,
পরপর আরহাম মেয়েকে ঝাঁকিয়ে বললো
_ আয়রা মামুনি চোখ খুলো এখনি doctor চলে আসবে,,, তুমি সুস্থ হয়ে যাবে মা,,,

Doctor এর একটি কথা আরহমের ভিতরে সকল আশা এক মূহুর্তের জন্য ভেঙ্গে গেলো ,,
ডাক্তার: “শিশুটির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।আগামী কয়েক ঘণ্টা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ,,শিশুটির শরীর চিকিৎসায় কেমন সাড়া দেয়, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
আপনারা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন এবং ওর জন্য দোয়া করুন।
বলেই doctor চলে গেলো,,, আরহামের এতো রাগ হলো সে doctor এর দিকে তেরে যাওয়ার আগেই আমিনা বেগম থামিয়ে দিলো,,,
আয়ারকে আইসিইউ তে রাখা হয়েছে,,,দুই হাতে আর পায়ে ক্যানুলা ভরা হয়েছে,,স্বচ্ছ কাঁচের ভিতরে তাকে রাখা হয়েছে,,,
মেয়ের অবস্থা দেখে আরহাম যেনো নিঃস হয়ে গেলো,,,হাজেরা এক পলক সেই দৃশ্য দেখে আবার নিজের মেয়ের কাছে ফিরে যেতে চাইলে আরহাম হেসে উঠলো,,হাজেরা বেগম কে উদ্দেশ্য করে বললো
_ আপনার অভিশাপ কাজে লেগছে,,,মন থেকে দিয়েছেন না বড্ড কাজে লেগে গেছে,,,

হাজেরা বেগমের পা থেমে গেলো,,আরহামের দিকে ফিরে তাকালো,, আরহাম হাজেরা দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনার মতো আমিও অনুভব করছি মেয়েকে হারিয়ে ফেলার ভয়,, আপনার মেয়ে তো প্রায় সুস্থ হয়ে গেছে তবে আমার মেয়ে হবে কিনা আমি জানি না,,তবে মরে যাওয়ার দোয়া করবেন না,,, আমার কর্মের শাস্তি আমার বাচ্চাকে দিবেন না,,,
হাজেরা চুপ করে রইলো,, বাচ্চাটাকে নিয়ে তার কোনো ক্ষোপ নেই,, বাচ্চাটাকে কেন অভিশাপ দিবে,,, মনের দুঃখে বলে ফেলেছিলো সেদিন তবে এমন কিছু হোক হাজেরা চায় না,,
হাজেরাকে চুপ থাকতে দেখে আরহাম উঠে দাঁড়ালো,,, অপ্রত্যাশিত ভাবে হাজেরা সামনে যেএ দুই হাঁটু গেড়ে বসে কম্পিত দুই হাত জোর করে বললো
_ আমার মেয়েটার জন্য দোয়া করবেন,,,,আয়রা আমার জন্য কতটুকু জরুরি তা আমি প্রকাশ করতে পারবো না,,তবে আপনি বুঝতে পারবেন কারণ আপনারো সন্তান আছে,,, আমাকে ক্ষমা করার মতো বিষাক্ত শব্দ আমি উচ্চারণ করবো না তবে আমার মেয়ের জন্য বদদোয়া করবেন না,,, আমার মেয়েটা নিষ্পাপ,,,ওর কোনো দোষ নেই,,,
আরহামের চোখ দিয়ে টুপ টাপ পানি গড়িয়ে পড়লো,,এই জীবনের প্রথম সে কারো সামনে মাথা নত করলো হাত জোর করলো তাও মেয়ের জন্য,,,
হাজেরার কন্ঠ কেঁপে উঠলো,,তবু শান্ত কন্ঠে বললো
_ আমি কখনোই তোমার সন্তানকে অভিশাপ দেয়নি আর না দিবো,, তবে চোখের পানিকে যদি আল্লাহ অভিশাপ করে দেয় তবে এবার থেকে মেয়ের জন্য আর কাঁদবো না,,,তাও এভাবে পায়ে পড়বে না,, আল্লাহ ব্যতিত কারো সামনে মাথা নত করার হুমুক নেই,,,

কিছু সময় পর দেখা গেলো নুবা দেওয়াল ধরে ধরে আসছে,,শিশু ওয়ার্ড খুঁজতে তার সময় লেগে গেছে,,,সে খুঁজে এই পর্যন্ত আসতে পারতো না,,পথেই হারুন মির্জার সাথে দেখা হয়েছে,,তাই আসতে পেরেছে,,,
হারুন মির্জা এসেই নাতনির অবস্থা জিগ্গেস করতে doctor এর কাছে চলে গেলেন,,,নুবা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দেওয়াল ধরে হেঁটে আসলো,,,হাজেরা বেগম ছুটে যেএ মেয়েকে সামলে নিয়ে বললো
_তুই আসতে গেলি কেন,,,
নুবার বিরবির করে সুধালো
_ আয়রা কোথায়,,,
_ভিতরে ,,তবে ভিতরে যেতে দিবে না,,,
_ একটু দেখে আসি সরো,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ওখানে যেএ বস,, doctor,বলেছে একটু পরে আসবে,,
আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকালো,,,শরীরে হসপিটালের ড্রেস,,এক হাত ব্যান্ডেজ করা,,, কপালে কাটা দাগ,,,মুখেও কিছু দাগ,,গলা কেমন কালচে হয়ে আছে,,,কানের পিছনে ব্যান্ডেজ,,বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বুঝাই যাচ্ছে হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে,,, আরহাম চোখ সরিয়ে নিলো,,,হাজেরা নুবাকে ধরে সামনের বেঞ্চে বসালো,,,

সবাই চুপচাপ,,,কারো মুখে কোনো কথা নেই,, ঘন্টা খানিক এভাবেই পার হলো ,,এর ভিতরে একজন নার্স এসে বললো,,
_২০৩ নাম্বার ব্যান্ড,, বাচ্চার নাম আয়রা ,,বাবার নাম আরহাম শাহারিয়ার মির্জা,,, এখানে আছেন,,,
আরহাম নিজের হাতের ব্যান্ড এর দিকে তাকালো,আইসিইউ তে অনেক বাচ্চা তাই বাচ্চার হাতের সাথে মিল রেখে পিতা মাতার হাতে ব্যান্ড দেওয়া হয়,,এটা হারিয়ে গেলে বাচ্চা ফিরে পাওয়া মুশকিল,,,
আরহাম উঠে এগিয়ে গেলো,,, নার্স শান্ত কন্ঠে বললো
_ বাচ্চা ক্ষুধায় কান্না করছে,, বাচ্চার মাকে ভিতরে আসতে বলুন,,,
আরহামের বুক ফেটে নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,, বাচ্চার মা কোথায় পাবে,, আরহাম কিছু বলার আগেই নুবা কিছুটা উচ্চ স্বরে বলে উঠলো,,

_ আসছি,,
আরহাম ফিরে তাকালো,,,আমিনা আর আরশি চুপ করে রইলো,,হাজেরা মেয়ের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
_নুবা__
নুবার মায়ের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
_এখানে আয়রার কোনো দোষ নেই মা,, please,,
নুবা উঠতে চায় তবে পড়ে যেতে নেয় ,,, শরীর চলে তো,চলে না,,, হারুন মির্জা পাশেই ছিলেন,,নুবাকে দাঁড়াতে সাহায্য করলেন,,,আমিনা বেগম নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে আছে,,মেয়েটা এই অবস্থায় আয়রার কথা ভাববে তার জানা ছিলো না,,,
নার্স নুবার সুচনীয় অবস্থা দেখে বললো
_ উনার সাথে ভিতরে কেউ আসুন,,
আমিনা বেগম উঠে দাঁড়ালো,,,তবে না আরাহাম যাবে মেয়েকে দেখবে সে ,,,তাই কাতর কন্ঠে বললো
_ mom,,আ,,আমি যাই,,,
আমিনা ছেলের দিকে তাকালো,,পরপর নিজের স্বামীর দিকে,, স্ত্রীর চোখের ইশারা হারুন মির্জা বুঝতে পারলো তাই নার্সের কাছে এগিয়ে যেএ বললো__
_ তিন জনকেই ভিতরে যেতে দেও আমি doctor এর সাথে কথা বলে নিবো
নার্স মুখটা মলিন করে বললো

_ Sir,,ভিতরে একজনের বেশি যেতে দেওয়া হয় না তবু বাচ্চার মা অসুস্থ দেখে,,,আপনি ___
বাকি কথা বলার আগেই আরহাম বলে উঠলো
_ জানো কার সাথে কথা বলছো তুমি,,,এই প্রাইভেট হসপিটালের অর্ধেক মালিকের সাথে,,Don’t you know that? ,,
হারুন মির্জা ছেলের কথায় দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ তুমি চুপ করো কথা বলছি তো,,,সব জায়গায় টাকা আর গায়ের জোর দেখাবে না আরহাম,,,
আরহাম বিরক্ত হলো,,ভিতরে যাওয়ার জন্য তার জান বেড় হয়ে যাচ্ছে,,,
এর ভিতরে doctor নাইম আসলো,,,উনি অন্য অর্ডারের doctor ,,তবে কানে খবর গিয়েছে মির্জা বাড়ির সকলে হসপিটালে,,, ভাগ্যিস পারিবারিক বিষয় নিয়ে হারুন মির্জা মিডিয়ার সামনে কথা বলতে সোজাসুজি না করে দেন,,না হলে এতোখনে ২/৩ টা খবর ছেপে যেতো,,,কিছুটা এমন,,(হারুন মির্জাও বড় ছেলে আরহাম মির্জা একজন নার্সের বিনা কারনে থাপ্পর মেরেছে,,, হসপিটালে doctor না থাকায় ক্ষেপে গেছে উনার বড় ছেলে)
Doctor নাইম এসে দুঃখ প্রকাশ করে বললো
_ উনাদের ভিতরে যেতে দেও,, next time থেকে কারো সাথে তর্ক করার আগে বুঝে শুনে নিবে,,,
নার্স মাথা নিচু করে বিরবির করে উঠলো

” টাকার গড়ম দেখায়,, এঁদের কাছে আমাদের মতো মানুষদের দামি নেই”
তিন জনকেই ভিতরে যাওয়ার আগে স্বচ্ছ হসপিটালে একটা পাতলা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হলো,,,এটা নিয়ম ভিতরে যাওয়া আগে এটা পড়তে হবে,,,
আমিনা বেগম নুবাকে নিজের সাথে ঠেস দিয়ে ভিতরে নিয়ে যেতে লাগলো,,,,
আরহামের তৃষ্ণার্ত চোখ দুটো তার মেয়েকে খুঁজতে লাগলো,,কত বাচ্চা এখানে,,,সব দেখতে প্রায় একি,,,তবে আয়রা আলাদা,,,তার মুখে বিদেশি ভাব আছে কেউ দেখলেই চিনে যাবে,,,
নার্স সবাইকে কান্নারত আয়ারর কাছে নিয়ে গেলো,, আরহাম মেয়েকে কাঁদতে দেখে যেনো শান্তি পেলো,,কত সময় পর মেয়ের গলার শব্দ শুনেছে,,,
আরহাম এগিয়ে যেএ মেয়েকে কোলে তুলে নিলো,,তবে আয়ার অবস্থা কিছুটা বিচলিত,, ক্যানুলা দিয়ে বাচ্চাটার হাত পা সব জায়গায় ঝাঁঝড়া করে দেওয়া হয়েছে,, কান্নার ফলে ক্যানুলার ভিতরে রক্ত উঠছে আবার নামছে,,,
নার্স আয়ার অবস্থা দেখে নিজেও বেশ ঘাবড়ে গেলো,,,তবে আরহাম কোনো মতে ছোট্ট দেহটাকে কোলে নিয়ে চুমু খেএ বললো

_ সব ঠিক হয়ে যাবে আম্মু,,পাপা আছে তো,,
আয়রা বাবার দিকে টিপটিপ করে তাকায় আবার কাঁদে,,,আরহামের মেয়ের অবস্থা দেখে বুক ভারি হয়ে আসে,,,আমিনা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এবার একটু নুবার কাছে দে,, বাচ্চাটা খাওয়ার জন্য মনে হয় কাঁদছে,,,
নুবা চুপচাপ দাঁড়িয়ে অস্থির আরহাম আর তার কলিজাকে দেখছিলো,,,আয়ারার অবস্থা দেখে তার বুকটা কেমন ভারি হয়ে আসছে,,জানে না কিভাবে কি হলো তবে সে যতটুকু পারে ততটুকু বাচ্চাটার পাশে থাকবে,,,
নুবা আয়ারাকে নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসলো,,, স্বচ্ছ কাঁচের বক্স থেকে ছাড়া পেয়ে আয়রা যেনো কিছুটা শান্ত হলো,,,

নুবা পাশে বসার স্থানে বসে আছে তবে আয়ারাকে কোলে নিতে পারছে না কারণ ওর শরীর জুরে বিভিন্ন জিনিস যেমন ক্যানুলা,,, হাতে ব্যান্ডেজ,,এই সব দিয়ে ভরা,,,ওকে কোলে নিতে গেলে সব তারের মতো পেঁচিয়ে যাচ্ছে,,যা দেখে নুবা বেশ আত্মাকে আছে,,,তার উপর নুবার এক হাত ব্যান্ডেজ করা,,
নুবা বিরবির করে বললো
_,,নি,,নিতে পারছি না তো,,,
নার্স এগিয়ে আসলো,,,সব জট ছাড়িয়ে সুন্দর করে নুবার কোলে বাবুকে দিয়ে সুধালো
_ শিখতে হবে আপু,, যতদিন আপনার মেয়ে এখানে আছে আপনারি সমালা দিতে হবে,, সবসময় আমারা থাকবো না,,,
নুবা শুধু ছোট্ট করে মাথা ঝুকালো,,, আরহাম পাশে সরে দাঁড়ালো,আমিনা বেগম নুবাকে ফিড করাতে সাহায্য করলো,,,এক হাত দিয়ে নুবা নিজকে আয়ারকে সামলে উঠতে পারছে না,,,
শেষ পর্যন্ত নুবার নরম বক্ষ স্থল পেয়ে আয়ারা শান্ত হলো,,,তার ছোট্ট হাত দিয়ে নুবাকে আঁকড়ে ধরে চকচক শব্দ তুললো,, কান্না থেমে আসলো তার,,

এতো দিন পর আয়ারাকে আবার বুকে আগলে নিয়ে নুবার প্রান যেনো জুরিয়ে গেলো,,এই কয়দিন তার মনে হচ্ছিলো কিছু একটা নেই,,কিছু একটা নেই,,,
ছোট্ট আয়ারকে কোলে নিয়ে বুকে জড়াতেই নুবার বুকজুড়ে এক অদ্ভুত উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল।মনে হলো, দীর্ঘদিনের সব ক্লান্তি আর কষ্ট যেন মুহূর্তেই হালকা হয়ে গেছে।আয়রা নিষ্পাপ চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল, আর নুবা মুগ্ধ হয়ে সেই মুখখানি দেখল।ছোট্ট হাতটা নুবার আঙুল শক্ত করে ধরে রাখতে চাইলো যা দেখে নুবার ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে সে চোখ বন্ধ করল, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটাকে আগলে রেখেছে।সেই মুহূর্তে হাসপাতালের সব শব্দ মিলিয়ে গেল, রয়ে গেল শুধু সম্পর্কহীন এক নারী আর ছোট আয়ার নিঃশব্দ ভালোবাসা।নুবার হৃদয় ভরে উঠল এক গভীর শান্তিতে,,

হাত পুড়ে যাওয়া,,,জ্বর,, হঠাৎ করে বুকের দুধ ছাড়িয়ে আবারো ফিডার ধরানো,,সব মিলিয়ে আয়ারার ছোট্ট দেহ সামাল দিতে পারেনি,,,তাই নেতিয়ে পড়েছে তার শরীর,,,না খেএ যেনো আরো শুকিয়ে গেছে,,,
প্রায় ৩০ /৪০ মিনিট খানিক,,,আয়ারা এখনো বুক টানছে,,তবে আফসোস তার পেট ভরার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ দুধ পাচ্ছে না,, কারণ একে তো নুবা দুর্বল,,তার উপর ওষুধ খাওয়া হয়নি,, খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করেনি,,যার ফলে আয়রা খেএ তৃপ্তি পাচ্ছে না,,তবে ছাড়তেও চাইছে না,,,
এবার নুবার পিঠ লেগে আসলো বসে থাকতে থাকতে,, মাজায় চিনচিন ব্যথা শুরু হলো,,নুবার মুখে অসহনীয় ভাঁজ দেখে আমিনা বেগম এগিয়ে আসলেন,,নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন

_ কি হয়েছে,,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_আর পারছি না,,শুতে ইচ্ছা করছে,,
আমিনা বুঝতে পারলো নুবা এই দুর্বল শরীর নিয়ে আর বসে থাকতে পারছে না,,তবে এখন কি করবে এদিকে আয়ারো এতো দিন পর নুবাকে কাছে পেয়ে ছাড়ার নাম নিচ্ছে না,,,
আরহাম অনুভব করলো সমস্যাটা,, এগিয়ে গেলো সে,,আমিনা যখন বুঝতে পারলেন না কি করবে তখনি আরহাম এসে নুবার পিঠ ঘেষে দাড়িয়ে বললো
_ হেলান দেও,,,কিছুটা স্বস্তি পাবে,,,
নুবা বুঝতে পারলো না কি করবে,,এই জাত শত্রুর গায়ে হেলান দিবে কখনোই না,,,নুবা বিরবির করে আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ সরে যেতো বলো প্রয়জন নেই,,
নুবার কন্ঠে আরহামের প্রতি এক রাশ রাগ আর ক্ষোপ প্রকাশ পেলো,, আমিনা বেগম বুঝতে পেরে বললো
_ তুই সর আমি দাড়াচ্ছি,,

আরহাম কিছু একটা ভেবে সরে গেলো,,আমিনা বেড় যেএ নুবার পিছনে দাঁড়াতে নুবা শরীর হেলিয়ে দিলো,,এখন যেনো একটু শান্তি লাগছে,,,
আরো ২০ মিনিট খানিক পার হলো,,, এদিকে আমিনা বেগমের দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ধরে গেছে,, একটু বসতে পারলে ভালো হয়,,যতোই হোক তারো বয়স হয়েছে,,,
অন্যদিকে নুবা প্রায় ঘুমিয়ে গেছে,,,আয়রা মাঝে মাঝে ফিড করছে আবার কেঁদে উঠছে,, হয়তোবা ক্ষুদা মিটছে না দেখে,,,
আরহাম মায়ের মুখে কান্তি দেখে এগিয়ে গেলো,,, শান্ত কন্ঠে বললো
_ তুমি সরো আমি দাঁড়াচ্ছি,,,
আমিনা বেগম “না” বলতে যেয়েও সরে গেলো কারণ নুবা ঘুমিয়েছে মনে হয়,,,আর তার দাঁড়া আর দাঁড়িয়ে থেকে নুবার ভর সহ্য করা যাচ্ছে না,,,
আমিনা বেগম সরতে আরহাম দাঁড়ালো,,এবার যেনো নুবা আরো স্বস্তি পেলো,,,নরমের জায়গায় দেওয়ালের মতো ঠেকলো তার কাছে,,,তাই আর একটু ভর ছেড়ে দিয়ে নড়েচড়ে উঠলো,,

হাজেরা চুপচাপ বসে আছে,,তবে মনে মনে চিন্তিত সে,,,তার মেয়েটার আবার না কোন ক্ষতি করে বসে তবে আয়রার জন্য সে চুপ আছে,, বাচ্চাটাকে দেখলে নুবার ছোটো বেলার কথা মনে পড়ে তার,,কি করে বাচ্চাটাকে কষ্ট পেতে দিবে,, নির্ঘাত না খেএ এই অবস্থা হয়েছে,,,
আমিনা নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,ভিতরে ভিতরে তার প্রচন্ড ভয় লাগছে,,,আবারো নুবাকে আয়রার কাছে এনে সে ভুল করলো না তো,, আরহাম ভালো না,,,যদি এবার উল্টা পাল্টা কিছু করে হাজেরার কাছে কি জবাব দিবে সে,,,

আয়রা নুবার পড়েন হালকা নীল রং এর কাপড় ধরে গলা ফাটিয়ে কাঁদে,, কারণ নুবা তাকে শুইয়ে দিচ্ছে,,,,,সে কোল থেকে নামবে না,,নুবার বুক কেঁপে উঠে আয়রার কান্না দেখে তবে এখানে বসে থাকা কি সম্ভব,,সে নিজেও অসুস্থ,,,
নুবা কি করবে বুঝতে পারে না,, আরহাম এসে মেয়েকে কোলে নিয়ে শান্ত করে,,,একটু পেট ভরায় আর সুস্থ ফিল করায় চোখে পানি নিয়ে আয়ারা বাবার দিকে তাকিয়ে হাসে,,আবার মাথা উল্টে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নুবার দিকে তাকায়,,,
আমিনা বেগম এই সব দেখে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ হয়েছে বাবা,,এবার ওকে শুইয়ে দে,,,তোর বাবা doctor এর সাথে কথা বলেছে,,,এখানে বেশি সময় রাখতে হবে না,,,কাল পরশু আয়ারকে কেবিনে শিফট করে দিবে,,,
তবে আরামের মন মানে না,,মেয়েকে একা এখানে রেখে যেতে,, অবশ্য নার্স আছে যারা ২৪ ঘন্টা দেখা শুনা করছে তবে কারো উপর বিশ্বাস নেই তার,,,তবু আরহামের মেয়েকে রাখতে হয়,,
একটা নার্স এগিয়ে সেএ বলে

_ আপনারা যান আমি ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি,,,
আয়রা বাবার কোল থেকে নামবে না,,, ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে বাবার শার্ট আঁকড়ে ধরে,, হয়তোবা মেয়েটার এখানে কষ্ট হচ্ছে,,, তবু কিছু করার নেই,,,
নুবা এগিয়ে যেএ আয়ার কপালে চুমু খেএ বলে
_ আমরা আবার আবসো আম্মু,, আন্টি আসবে,, তোমার আব্বু আসবে,,দাদু আসবে,, কান্না করে না মা,,,
নুবার বুক ফেটে আসে,, বাচ্চাটার প্রতি আলাদা একটা মায়া কাজ করে তার,,,নুবা শুধু ভাবে মেহেরিমা কতটা পাষান হলে এই নিষ্পাপ বাচ্চার হাত পুড়ায় তাও জেদে পরে,,
আয়ার কান্না দেখে নুবাও কেঁদে ফেলে,,,সে জানে না কেন এতো খারাপ লাগছে হয়তোবা মায়া ,, গভীর ভাবে মায়ায় জরিয়ে গেছে,,,
শেষ পর্যন্ত আয়ারাকে নার্সের কাছে দিয়ে আসতে হলো,,তবে মেয়েকে রেখে আসার সময় আরহাম নার্সের দিকে তাকালো,, নার্সও তাকাতেই চোখে চোখ পড়ে গেলো,,,
আরহাম নার্সকে চোখ দিয়ে শাসালো,,, চোখের ইশারায় বুঝিয়ে দিয়ে গেলো,, “আমার মেয়ের কিছু হলে তোর খবর আছে”
নার্স শুকনো ঢোক গিললো,,,পরপর আরহাম ঠোঁট নামিয়ে বললো

_ ওর কাছেই থাকবি,, কান্না করলে তোর ___
বলেই আঙ্গুল দিয়ে শাশিয়ে আসলো,,, নার্স চুপ রইলো,, কিছু বলার নেই বড় মানুষ,, কিছু বলা যাবে না,,সবি টাকার খেলা,,,
আইসিইউ থেকে বেড় হওয়ার সময় নুবার তলপেটে চিনচিন করে উঠলো,,, অনেক দিন পর এতোটা হাঁটার ফল পাচ্ছে সে,,,নুবা পাশে থাকা দেওয়াল ধরে কিছুটা বাঁকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো,,,,এতো সময় বসে থাকা,,,সাথে হঠাৎ করেই এতোটা হাঁটা তার জন্য ক্ষতি স্বরুপ দাঁড়িয়েছে,,
নুবাকে এভাবে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে আমিনা বেগম এগিয়ে আসলো,,, মৃদু কন্ঠে বললো
_কি,,হয়েছে,,,

নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কিছু সময় থেকে,, ঠোঁট প্রসারিত করে বড় একটা নিঃশ্বাস ফেলে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_কিছু,,না,,, আমাকে একটু ধরো,,, হাঁটতে পারছি না,,,
আমিনা বেগম যেএ নুবার এক বাহু ধরলো,,নুবা ব্যান্ডেজ করা হাতটা আমিনা বেগমের কাঁধের উপর রাখতেই হাতে টান পড়ায় কুকিয়ে উঠলো,, তাড়াতাড়ি করে কাঁধের থেকে হাত নামিয়ে ফেললো সে,,
আমিনা বেগম বুঝতে পারলো না কি হলো,,,এর ভিতরে একজন নার্স এগিয়ে এসে বললো
_ any problem mam ,,,
নুবা নার্সের দিকে তাকিয়ে বললো

_না,,না তেমন কিছু না,,,
নার্স ঠোঁট হেলিয়ে হেসে চলে গেলো,,,আমিনা বিচলিত কন্ঠে বললো
_আমার উপর ভর দিয়ে হাট,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না না তুমি এই পাশে আসো,,এই হাত উপরে তুললেই ব্যাথা লাগে,,,
আমিনা বেগম মাথা ঝুঁকিয়ে অন্য পাশে গেলো,,,এর ভিতরে নার্সকে শাসিয়ে রেখে মেয়েকে আর একটু আদর করে আরহামো চলে আসলো,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৫

এভাবে অর্ধ রাস্তায় দুই জনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_কি হয়েছে,,
আমিনা বেগম গম্ভীর কন্ঠে বললো
_কিছু না,, তুই যা,,,
তবে আরহাম গেলো না

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here