লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ১৩
নুসাইবা আরা নুরি
-আমি কথা দিচ্ছি বাবু ফিরে চল আমি তোর আব্বু সব ঠিক করে দিবো।আমার কথা টা শোন।
মেহেরাজ মাথা নিচু করে থাকে।মুখে কোনো কথা নেই।মেহেরাজকে চুপ থাকতে দেখে নাহিদা খাতুন আবারো বলে উঠে,
-তুই কি চাস তোর শোকে আমার মৃত্যু হোক।যদি তাই চাস তাহলে আর যাওয়া লাগবে না বাবু বাড়িতে।আমার উপর আর ভরসা করা লাগবে না।তুই না গেলে এমনিতেই বাড়িতে যাওয়ার আগে আমি শেষ নিঃশ্বাস ছেড়ে দিবো।
মায়ের কথায় মেহেরাজ রেগে নাহিদা খাতুনের মুখে হাত দিয়ে বলে,
-এগুলো কোন ধরনের কথা আম্মু??
নাহিদা খাতুন মেহেরাজের হাত নিজের মুখের থেকে সরিয়ে অভিমানী কন্ঠে বলে,
-তাহলে বল আমার সাথে যাবি।
মেহেরাজ আর উপাই পায় না।কোনো সন্তান কি তার মায়ের মুখে মৃত্যুর কথা শুনে স্থির থাকতে পারে।সব রাগ ভুলে সেদিন ই নাহিদা খাতুনের সাথে ফিরে আসে মির্জা বাড়িতে।সবার সাথে কথা বল্লেও একটা শব্দ ও উচ্চারণ করেনি নিলয় মির্জার সাথে।এমনকি নিলয় মির্জা নিজ থেকে কিছু বলতে এলেও সেসবে পাত্তা দেই নি মেহেরাজ।নিজের মতো থেকেছে বাড়িতে।
পুর্ব আকাশে সুর্য উঠেছে।পাখিরা কিচির মিচির করে গান গাইছে এই ডাল থেকে ওই ডাল।সুর্যের তাপ ধরে পড়ছে সর্বত্র।আজ সকাল থেকেই মির্জা বাড়িতে বেশ আয়োজন করে রান্না হচ্ছে।বাড়িতে আজ বিচার সভা বসবে।তাই সকাল থেকে এতো আয়োজন।মাঝ খানে কেটেছে দশদিন।এই দশদিন মেহেরাজ বাড়ি থেকে তেমন বের হয়নি।সব সময় নাহিদা খাতুনের আশে পাশে ছিলো।
মেহেরাজের কথা মতো ফাহিম কাগজ তৈরি করলেও মেহেরাজ তা আবার ছিড়ে ফেলেছে।ফাহিম শ্রেয়সীর নাম্বার দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেছে মেহেরাজকে তবে সফল হয়নি।মেহেরাজের নিজের সাথে কথা বলতে না দেখে আদরের বড় ছেলের রাগ ভাঙাতে নিলয় মির্জা সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিজের মান সম্মান যায় যাক সকল সত্যিটা প্রকাশ করে দিতে।
অন্তত মানষিক ভাবে অশান্তি টা তো দূর হবে।যেই ভাবা সেই কাজ।হাসান সাহেবের পরামর্শে আলতাফ শেখ কে খবর পাঠিয়েছিলো একান্ত কথা বলার জন্য। তবে আলতাফ শেখ রাজি হয়নি।তাই নিলয় মির্জা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিচার সভার মাধ্যমে আবারো ছেলে মেয়ে দুটোকে এক করে দিবে।কারন তাদের তো আর সত্যি সত্যি ডিভোর্স হয়নি।সেজন্য আলতাফ শেখ কে আজ বাড়িতে ডেকেছেন।
সকাল দশটা বাজতেই মির্জা বাড়িতে এসে উপস্থিত হয় আলতাফ শেখ, সিয়াম, এলাকার সাবেক মেম্বার, আর পাতি নেতা।নিলয় মির্জা তাদের সোফায় বসতে বলে।তারপর মেহেরাজকেও ডেকে নিয়ে আসে।নাহিদা খাতুন এখোনো সম্পুর্ন সুস্থ হয়নি।তাই তিনি ঘরে ছিলেন এতক্ষন।লোকজন আসা দেখে বাইরে এসে দাড়িয়েছে।হাসান সাহেব মেহেরাজকে সব বলার কারনে মেহেরাজ কোনো বাক্য ছাড়াই সবার মাঝে এসে বসেছে।
কালো রঙের ট্রাওজার এর সাথে হাফ হাতা টি শার্ট। চুল গুলো উশকো খুশকো।এলোমেলো থাকলেও বেশ মানিয়েছে মেহেরাজের মাথায়।চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ম।হাতে নেভিদের ঘড়ি।মেহেরাজ সবাইকে সালাম দিয়ে তাই বসে।আলতাফ শেখ একবার চোখ তুলে তাকায় মেহেরাজের দিকে।চাপ দাড়ির মাঝে গম্ভীর মুখ টা স্পষ্ট। আলতাফ শেখ চোখ নামিয়ে নেয়।
বাড়ির কাজের মহিলা এসে সবাইকে নাস্তা দিয়ে যায়।আলতাফ শেখ খাই না।বেশ কিছুক্ষন সময় কাটার পর ফাহিম আসে।কাধে ঝুলানো স্কুল ব্যাগ।এসে নিলয় মির্জার দিকে ব্যাগের চেন খুলে একটা ফাইল এগিয়ে দিয়ে বলে,
-আঙ্কেল ফাইল।
নিলয় মির্জা ফাহিমের দিকে তাকিয়ে বলে,
-এতো লেট হলো কেনো তোমার??
-রাস্তায় অনেক জ্যাম আঙ্কল।
-ওহ আচ্ছা।
নিলয় মির্জার হাতের দিকে তাকিয়ে আলতাফ শেখ তীক্ষ্ণ চোখে পর্যবেক্ষন করতে থাকে।তা চোখ এড়াই না নিলয় মির্জার।তাই নিজ থেকেই গলা ঝাড়া ফিয়ে আলতাফ শেখ এর উদ্দেশ্যে বলে,
-এখানে সবাইকে কেন ডাকা হয়েছে।আশা করি সবাই অবগত।নতুন করে কাওকে কিছু বিশ্লেষণ করতে হবে না??
-কি বিশ্লেষণ করবেন একটু খুলে বলেন আঙ্কেল।
সিয়ামের কথায় নিলয় মির্জা একবার মেহেরাজের দিকে তাকায়।মেহেরাজ নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।তারপর আবারো সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলে,
-মেহেরাজ আর শ্রেয়সী মায়ের ডিভোর্স এর ব্যাপারে।
-হুম সেটা তো এখান থেকে আট মাস আগেই ক্লোজ। এখন কিজন্য ডেকেছেন??
আলতাফ শেখ সিয়ামের পায়ের দাবনায় হাত রেখে চুপ করতে বলে।তবে রক্ত গরম সিয়াম চুপ হয় না।আরো কিছু বলতে যাবে তার আগে নিলয় মির্জা বলে,
-আজকেও সেই ডিভোর্স এর ব্যাপারে কথা বলার জন্যই ডেকেছি।সব কিছু খোলাসা করার জন্য।
নিলয় মির্জার কথায় সিয়াম রেগে বলে,
-কি খোলাসা করবেন আঙ্কেল আপনি।মেহেরাজ নতুন করে আমার বোনের পিছনে পড়েছে এটা নিয়ে নতুন নাটক শুরু করবেন।দেখুন এমন কিছু করতে চাইলে কিন্তু ভালো হবে না।আপনাকে এবং আপনার ছেলেকে আমার চেনা হয়ে গেছে।
-সিয়াম চুপ করো।
আলতাফ শেখ এর জোরালো ধমকে সিয়াম চুপ করে যায়।আলতাফ শেখ এবার নিলয় মির্জার দিকে তাকিয়ে বলে,
-তুই আমার ছোট বেলার বন্ধু।কখোনো তোর সাথে ঝামেলা হয়নি।আর এটা নিয়ে যে ঝামেলা বাধলো এটা শেষ হবার নয়।তাই বলছি ঝামেলা না করে যেটুকু বলবি সেটা সোজা সাপটা বলে দে।আমার দোকান খুলতে হবে সব বন্ধ আজ।
আলতাফ শেখ এর কথায় নিলয় মির্জা একটা দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে বলে,
-মেহেরাজ আর শ্রেয়সীর কোনোদিন ডিভোর্স হয়নি এটা নিয়ে বলার জন্যই তোদের ডেকেছি আমি।
নিলয় মির্জা কথাটা বলার সাথে সাথেই সিয়াম বলে উঠে,
-হা হা আবার নতুন নাটক শুরু করলেন আঙ্কেল??
সিয়ামের কথার পিঠে আলতাফ শেখ বলে,
-সিয়াম তুমি চুপ করো।আমি কথা বলছি না আমাকে বলতে দাও।
কথাটা বলে নিলয় মির্জার দিকে তাকিয়ে বলে,
-মানে কি বলছিস মাথা ঠিক আছে??
নিলয় মির্জা হাতে থাকা ফাইল টা আলতাফ শেখ এর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
-আসলে সব দোষ আমার।সব কিছুর জন্য আমি দায়ি।আমি নিজের সম্মানের কথা চিন্তা করে ছেলের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করিনি।ওর সম্মানের কথা চিন্তা করিনি।মেহেরাজ যেদিন চলে গেলো সেদিন তো তোরা শ্রেয়সী কে নিয়ে গেলি আর সব সম্পর্ক ইতি টেনে দিলি।এমনকি ডিভোর্স এর জন্য হুমকি ও দিলি।তাই নিজের মান সম্মান রক্ষার্থে মেহেরাজের সিগনেচার নকল করে কম্পিউটার দিয়ে নকল ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছিলাম তোদের।এটা মেহেরাজ জানতো না।বাড়িতে এসে শোনার পর থেকেই ঝামেলা করছে।আর তোর মেয়ের পিছনে ঘুরার এইটাই কারন যদিও মেহেরাজ তোর মেয়ের সাথে একবার কথা বলেছে কখোনো পিছু নেই নি।
নিলয় মির্জা কথা টা বলে থামে।বুকের উপর চেপে থাকা পাথরের একাংশ কমে গেছে।আলতাফ শেখ ফাইল টা হাতে নিয়ে খুলে দেখলো। সেখানে স্পষ্ট বোজা যাচ্ছে মেহেরাজের সাইন নকল।কারন সিগনেচার এর নিচে ছোট্ট করে লেখা তারিখ টা ছিলো তাদের ডিভোর্স হওয়ার আরো সাত মাস আগের।আর একজন অফিসার সেতো এমন ভুল করবে না।এমনকি কিভাবে নকল করা হয়েছে সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে পরের কাগজে।
আলতাফ শেখ এর হাত থেকে ফাইল টা নিয়ে সিয়াম দেখতে থাকলো।এতক্ষন রেগে থাকা সিয়ামের মুখটা কেমন যেনো হয়ে গেলো।মাথা নিচু করে বসে থাকা মেহেরাজের দিকে একবার তাকিয়ে আলতাফ শেখ এর দিকে ফাইল টা এগিয়ে দিলো।নিলয় মির্জা এবার হাসান সাহেবের দিকে তাকাতেই তিনি ভরসায় ভরা ইশারা করলেন তখন নিলয় মির্জা আলতাফ শেখ এর উদ্দেশ্যে বলল,
-তুই সহজ করে শুনতে চাইছিলি।তাই সহজ ভাবেই বললাম।মেহেতাজ আর শ্রেয়সীর নাম মাত্র ডিভোর্স হয়েছিলো।আসলে মেহেরাজ জানতোই না ওর ডিভোর্স হয়েছে।সেহেতু শ্রেয়সী এখোনো মেহেতাজের বিয়ে করা বৈধ বউ।
নিলয় মির্জার কথা শেষ হতে না হতেই আলতাফ শেখ ছিহ ছিহ করে ঘৃনায় ভরা কন্ঠে বলল,
-তোর একবারো বাধে নি এমন একটা কাজ করতে।আমি তোর বন্ধু ছিলাম।শত্রু না।বলতিস সব খুলে।হ্যা আমি রেগে চলে গিয়েছিলাম তাই বলে তুই এমন একটা জঘন্য কাজ করতে পারলি।আমার মেয়েটা এতদিন ধরে ডিভোর্স এর কলঙ্ক বয়ে বেড়িয়েছে।আর তোর ছেলে সে তো এসব জানতোই না।কিভাবে পারলি বাপ হয়ে এমন একটা সম্পর্ক নষ্ট করতে।
আলতাফ শেখ এর কথায় নিলয় মির্জার৷ মাথা নত হয়ে যায়।মেহেরাজ মুখ তুলে তাকায় একবার তার বাবার দিকে তবে কিছুই বলে না।হাসান সাহেব আলতাফ শেখ এর দিকে তাকিয়ে বলে,
-তাজলে এখন কি করবা বলে ভাবছো আলতাফ।আমি চাচ্ছি।সব ভুল বোঝাবুঝির এখানে ইতি টানা হোক।আবার আগের সম্পর্ক টা ফিরিয়ে আনা হোক।আমরা আমাদের নাত বউকে বাড়িতে নিয়ে আস্তে চাই।
-এটা বললেই হয় না দাদু।আমার বোন এই সম্পর্ক মানবে না।আর যদি মানেও সেটা আগে বুজাতে হবে।আমরা তো আগে থেকে কথা দিতে পারছি না।এখানে সম্পুর্ন দোষ আপনাদের তাই।আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই।আর যদি সম্পর্ক ঠিক করতেই হয় তাহলে আমরা ফোন করে জানাবো।নয়তো ডিভোর্স এবার সত্যি কারের টাই হবে।
কথাটা বলেই উঠে দাঁড়ায় সিয়াম।আলতাফ শেখ কিছু বলতে যাচ্ছিলেন তবে সিয়ামের চোখের ইশারা বুজতে পেরে তিনি আর বলেন না উঠে দাড়ান।চোখ এড়ায় না মেহেরাজের।বাজ পাখির চোখ এড়ানো কি এত সহজ।আলতাফ শেখ হাসান সাহেব আর নিলয় মির্জার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে আসে বাড়ি থেকে।ওরে চলে আসতেই মেহেরাজ ও কোনো কথা না বলে ফাহিম বলে সেও উপরে চলে আসে নিজের ঘরে।
দুপুরের খাওয়ার পরেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছে ফাহিম আর মেহেরাজ।মেহেরাজের কিছুই ঠিক লাগছে না তার চতুর মন বার কোনো খারাপ কিছুর আভাস দিচ্ছে।তবে মেহেরাজ বুজতে পারছে না কি হচ্ছে।ফাহিমের কথাতেই আজ তার সাথে বেরিয়েছে শ্রেয়সীর সামনা সামনি হতে।মেহেরাজ জানে না কি হবে।তবে সব পরিস্থিতি সে সামলে নিবে।
দুপুর তিনটা বাজতেই শ্রেয়সী বাড়ি থেকে বের হলো ইরুকে নিয়ে কোচিং এর উদ্দেশ্য। সকালে আলতাফ শেখ আর সিয়াম। মির্জা বাড়িতে গেছিলো সেটা শ্রেয়সী ল জানে তবে এসে কিছু বলেনি।তাকে ঘরে পাঠিয়ে খাদিজা খাতুন কে সব বলেছে।পরে শ্রেয়সী ওর মাকে জিজ্ঞাসা করতেই খাদিজা খাতুন বলেছেন রাতে সব বলবেন।শ্রেয়সী আর কিছু ভাবে নি এই ভিষয়ে কিছু।
কি আর ভাব্বে।কিছু সম্পর্ক তৈরি হয় কষ্ট পাওয়ার জন্য তাই হয়তো মেহেরাজের সাথে শ্রেয়সীর বিয়ে হয়েছিলো।শ্রেয়সী এই কয়েকদিনে নিজেকে সাভাবিক করে নিয়েছে।মেহেরাজের প্রতি যেটুকু ভালোবাসা ছিলো সেটা এখন পুরোপুরি ঘৃনায় রুপান্তর হয়ে গেছে।এখন মেহেরাজের নাম শুনলেও কেমন রাগ হয় শ্রেয়সীর।
ফুটপাত দিয়ে হাটতে হাটতে নিজের এই ছোট জীবনের কষ্টের অধ্যায় গুলোর স্বৃতিচারন করছিলো শ্রেয়সী।সেই সময় পাশ থেকে কোনো এক পুরুষালি গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসে,
-সামনে ড্রেন।দেখে চলুন মিস।
হটাৎ পুরুষালি কন্ঠে শ্রেয়সী ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসে।এতক্ষনে ইরুর শত শত বকবকানি একটাও কানে যায়নি শ্রেয়সীর।ইরু তাড়াতাড়ি শ্রেয়সীর হাত টেনে ড্রেন এ পড়া থেকে বাচাই।শ্রেয়সী নিজের বুকে হাত দিয়ে হাফ ছেড়ে বাচে।তারপর জোরে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে ইরুর উদ্দেশ্য কিছু বলতে যাবে বলে মাথা উচু করতেই মেহেরাজের চোখে চোখ পড়ে শ্রেয়সীর।
হটাৎ অনাকাঙ্খিত মানুষকে সামনে দেখে অবাক হয়ে যায় মুহুর্তেই।বুকের ভিতর অজানা অনুভূতি ছেয়ে যায় আবারো।কেপে উঠে সর্বাঙ্গ।শ্রেয়সীকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেহেরাজ তুড়ি মেরে শ্রেয়সীর ধ্যান ভাঙিয়ে বলে,
-চোখ খোলা রেখে হাটবেন পরের বার থেকে সব সময় কিন্তু এই মেহেরাজ মির্জা সতর্ক করবে না আর সরকার ও কিন্তু আপনার জন্য ড্রেন এর ঢাকনা বন্ধ রাখবে না।
মেহেরাজের কথায় ফাহিম হেসে ফেলে।সে অনেকক্ষন ধরেই খেয়াল করছিলো ইরু একা একা বক বক করছে আর শ্রেয়সী কিছু একটা ভাবছে মন দিয়ে।সামনে ড্রেন তবে ইরু আর শ্রেয়সী খেয়াল করে নি।তাই ফাহিম তাড়াতাড়ি কিছু বলে সতর্ক করার আগেই মেহেরাজ শ্রেয়সী কে সতর্ক করে দেয় ফলে ইরু সঠিক সময়ে শ্রেয়সী হাত ফহরে টান দিয়ে ছোট খাটো একটা দুর্ঘটনা থেকে বাচায়।ফাহিমের দিকে ইরু চোখ তুলে তাকাতে পারে না এমনিতেই আজ আবার শ্রেয়সী আর মেহেরাজ ও আছে।ইরুর ভীষন লজ্জা লাগছে।লজ্জায় মাথা নুইয়ে গেছে গাল গুলো ব্লাশ করছে ইরুর।তা ফাহিমের চোখ এড়ায় না।
লেফটেন্যান্ট মেহেরাজ মির্জা পর্ব ১২
শ্রেয়সী ইরুর চাপা হাসি আর লজ্জা পাওয়া দেখে রেগে যায়।মনে মনে ভেবে নেয় মেহেরাজের কারনেই ইরু হাসছে।শ্রেয়সী মেহেরাজের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বলে,
