Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৫০ (২)

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৫০ (২)

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৫০ (২)
ইসরাত জাহান দ্যুতি

যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আহত ডাকাতটা জ্ঞান হারিয়েছে৷ ইয়াসিফ নিজের পাশাপাশি মারিহামের জন্যও চিন্তাকুল হচ্ছে গাছে বসে৷ এদেরকে জব্দ করতে পিস্তলই একমাত্র ভরসা। ওসব ছোরা দিয়ে বখাটে, মস্তানকে কুপোকাত করা গেলেও হত্যাযজ্ঞ চালানো এরকম ডাকাতদের আক্রমণ করা সম্ভব নয়। কেন যে নিতে গেল সে পিস্তলটা? কিছু একটা খুব তাড়াতাড়িই করতে হবে৷
ভাবনার মাঝেই পাতা মড়মড়ের আওয়াজ পেলো পুনরায়। ইয়াসিফ এক মুহূর্তের জন্য ভেবেই নিয়েছিল জীবিত থাকা দুজন ডাকাতের একজন আশেপাশেই হাঁটছে৷ একবার নজরে বাধলেই দেবে চালিয়ে গুলি। কিন্তু তারপরই হঠাৎ করে শিস বাজিয়ে উঠল একজন নিচ থেকে। এটা কেন বাজাল? আশেপাশে আরও ক’জন নেই তো? যাদের শিস বাজিয়ে ডাকছে? এমনটা হলে আজ আর বেঁচে ফিরতে হবে না ওদের দুজনকে। নির্ভীক, চঞ্চল ইয়াসিফেরও বুক কাঁপতে আরম্ভ করল এমন বিপদের আশঙ্কায়।

মারিহামকে খুঁজতে তার চারপাশে ঘুরে ঘুরে রামদা হাওয়াতে উড়ানো ডাকাতটাও শিস শুনে আচমকা থমকে গেছে। বাতাসে রামদা উড়িয়ে লসও হয়নি পুরোপুরি। মারিহামের কাঁধের কাছে থাকা চুলের ওপর দিয়ে গেছে সেটা একবার। গলার সে পাশটাতে হালকাভাবে চামড়া কেঁটেও গেছে অনেকখানি৷ হালকা স্পর্শ হওয়ার জন্যই টের পায়নি ডাকাতটা তার উপস্থিতি। সঙ্গীর আহ্বান ধ্বনি শুনে সে থেমে গিয়ে সেই শব্দ অনুসরণ করে এগিয়ে চলল। এবার মারিহাম চাইলে অন্য গাছের উঁচু ডালে চড়তে পারত আত্মরক্ষার জন্য। কিন্তু সেটা কোনো সশস্ত্র বাহিনির সদস্যের ব্যক্তিত্ব নয়৷ লড়াই-ই একমাত্র সমাধান৷ নয়তো ভোর হওয়া অবধি আদতেও বেঁচে থাকতে পারবে কি না এখানে, তারই বা নিশ্চয়তা কী? তাছাড়া ঝোপের ওপাশে মাভিশা গাড়িতে একা৷ এমন বিপদ তো পুর্নবার তাকে আলিঙ্গন করতেও পারে।

খুব বেশি দূর ডাকাতটা এগোয়নি৷ কান খাঁড়া করে শত্রুর উপস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে আর সামনে এগিয়ে চলছে৷ সে বুঝে গেছে এখন তারাও দুজন, শত্রু সংখ্যাও দুটো। তাই দুজন আলাদা আলাদা হয়ে শত্রু দুজনকে বাগে আনতে পারবে না৷ এক হয়ে প্রথমে একটাকেই খতম করতে হবে। শপথ করেছে তারা দুজনই, হয় প্রাণ নেবে নয়তো প্রাণ দেবে। তবু পালিয়ে যাবে না। তাদের প্রথম সর্দার এভাবেই তাদেরকে তৈরি করেছে। আজ অবধি কোথাও থেকে ভয়ে পালিয়ে আসেনি তারা৷ বরং যুগ যুগ ধরে তারাই ভয়ের আরেক নাম বলে পরিচিতি পেয়ে এসেছে। এই দুই শত্রুর চোখে মৃত্যু ভয় দেখবে, নৃশংস মৃত্যু দেবে ওদের, তারপরই ক্ষান্ত হবে তারা!
তখনই তার পেছন থেকে দৌড়ে চলে গেল মারিহাম ডানদিকে। বাতাস ছুঁয়ে গেল ডাকাতটার শরীর। প্রস্তুত ছিলই সে রামদা’টা শক্ত করে ধরে। মারিহাম তাকে অতর্কিত আক্রমণটা পেছন থেকে করতে গিয়েও পারেনি দ্বিতীয়জনেরও অবয়ব অকস্মাৎ সামনেই টের পেয়ে।

ডাকাত দুটো এক অপরের মুখোমুখি এখন দাড়িয়ে৷ একজন আরেকজনের কানেকানে কিছু বলে ছুটে গেল দুজন দু’দিকে। কিন্তু মারিহাম খুব বেশি দূরে ছিল না তাদের থেকে৷ ভাগ্য যে তার সহায় সেটা প্রমাণ পেলো সে, যখন একটা ডাকাত তারই সামনে দিয়ে দৌড়ে গিয়ে লুকোলো সম্মুখের গাছটার পাশেই। এবং যেটা সে বুঝতে পারল। দ্বিতীয় ডাকাতটাও অন্য দিক থেকে ঘুরে গিয়ে ওই একই গাছের অন্য পাশেতে এসে দাড়াল প্রথমে। তারপর যতটা সম্ভব নিঃশব্দে উঠতে থাকল গাছ চড়ে।
দুজন তখন একই সময়ে দৌড় দেওয়ায় ওদের পদধ্বনি একত্রে মিশে মনে হচ্ছিল একজনই গাছটার নিচে এসে দাড়িয়েছে৷ আর ভুলটা এখানেই করল মারিহাম, তা ধরতে না পেরে।

ইয়াসিফ তখন এক ডাল থেকে আরেক ডালে চড়তে গিয়ে খেয়াল করল না সেও, যে ওকে শিকার করতেই ফাঁদ পাতা হয়েছে। ওর পাশের গাছ বেঁয়েই জানোয়ার একটা এগিয়ে আসছে নিজের মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই। ইয়াসিফ আন্দাজের বশে পিস্তল চালালেও ভাগ্য সহায় হলে সে মরবে না। আর দুর্ভাগ্য হলে মৃত্যুকেই বরণ করে নেবে সে।
আচমকা বাগানটা কাঁপিয়ে আহত বাঘের মতো গর্জে উঠল তখনই নিচে থাকা ডাকাতটা। কারণ, মারিহামও প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই ঝাপিয়ে পড়েছে তার ওপর। তার গলার মাঝখানে ছোরাটা বিঁধিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর পদধ্বনিতেই ডাকাতটা সতর্ক হয়ে পড়ায় সরে পড়েছিল চকিতেই। তবু আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি সে। দু’হাতে ধারাল ছোরা ছিল মারিহামের। একটা নিজের, আরেকটা মাভিশার৷ গাড়ি থেকে নামার মুহূর্তেই তা কোমরে গুজে নিয়েছিল। এক সঙ্গে দু’হাত চালিয়েছে সে ডাকাতটার ওপর। যার জন্য ডান হাতের ছোরার লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও বাঁ হাতে থাকা ছোরাটা গিয়ে গেঁথে যায় ডাকাতটার পাঁজরের নিচে। সেজন্যই আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে সে। আহত হয়েই রামদা’টা নিয়ে ছুটে গেল মারিহামের দিকে। তখন মারিহামও আরেকবার আঘাত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওদের সংগ্রামের আওয়াজটা পেয়ে ইয়াসিফ নিজের আত্মরক্ষার কথা ভুলে নিচে লাফিয়ে পড়ল তখনই। মারিহাম বিপদের মুখে তা টের পেয়েছে সে। ওদের কাছাকাছি আসতেই বিশাল দেহী ডাকাতকে ও চিহ্নিত করতে পারল ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে মারিহামের শরীরকে লক্ষ করে রামদা’টা চালিয়ে দিয়েছে সে৷
ইয়াসিফ এক মুহূর্তের জন্যও ভাবেনি মারিহাম এই আক্রমণকেও পাশ কাটিয়ে যেতে পারে। মাটিতে পড়ে গেছে মারিহাম রামদায়ের নিচ থেকে রক্ষা পেতে গিয়ে।

এমন ঘুটঘুটে অন্ধকার বলেই হয়তো ওরা দুজন বারবার বুদ্ধি আর কৌশলের দ্বারা বেঁচে যাচ্ছে। কিন্তু সব সময়ই তা সম্ভব নাও হতে পারে৷ আর দেরি না করে ইয়াসিফ গাছের আড়াল থেকেই গুলিটা চালিয়ে দিলো বড়ো অবয়বটাকে লক্ষ করে। কিন্তু ডাকাতটা নিচে পড়ে থাকা মারিহামের কাছে এসে পড়েছে। ইয়াসিফ গুলিটা ছুঁড়লে তখন দুজনই কেমন থমকে গেল। ভয় পেয়ে গেল ইয়াসিফ! গুলিটা মিস করে মারিহামের শরীরে লাগল না তো? তা ভাবতে ভাবতেই দানব শরীরের ডাকাতটা নিচে পড়ে গেল গোড়া থেকে কেটে ফেলে গাছের গুঁড়ির মতোই। মাথার পেছনে গুলি লেগেছে তার।
-‘ইয়াসিফ?’ ব্যাকুল স্বরে ডেকে উঠল মারিহাম।
ইয়াসিফ জবাব না নিয়েই ওর দিকে ছুটে এলো৷ হাত বাড়িয়ে দিলে মারিহাম এক পল ব্যয় না করে উঠে পড়ল। বলল, ‘আরও একজন আছে কিন্তু।’
-‘হঁ, আর সে ওঁৎ পেতেই আছে আশেপাশে কোথাও। ওদের কাছে রাইফেল বা পিস্তল থাকলে লড়াই করারই সুযোগ পেতাম না। তুমি ফোনের ফ্লাশ অন করো৷’
-‘কেন? ওটাকে মেরে যাব না?’

-‘ওকে মারার জন্য অপেক্ষা করব না কি এখানে? বেরিয়ে পড়ব এখান থেকে। আক্রমণ করলে পেছন থেকেই করবে। তার জন্যই আলো জ্বালাতে বলছি।’
মারিহাম কথাটা মান্য করল। দুজন পথের দিকে চলতে চলতেই আশপাশ থেকে কারও পদধ্বনি শোনা যায় কি না তাই কান খাঁড়া করে রইল৷ বিপদের ভীতি দুজনের মনেরই পূর্ণ মনোযোগ টেনে নিয়েছে বলে সামনে থাকা বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা আম গাছের শেকড় খেয়াল করল না ওরা। ফলাফল পা বেজে মারিহাম পড়ে গেল নিচে৷ একটা নখ ভেঙে প্রচণ্ড ব্যথা পেল সে৷ ফোনের আলোতে দেখতে পেলো রক্ত পড়ছে খুব। এদিকে গলার পাশের কাটা জায়গা থেকেও রক্ত পড়ে সারা কাঁধ ভিজে গেছে।
-‘খেয়াল করবে তো সামনে!’ বলতে বলতে মারিহামকে টেনে তুলল ইয়াসিফ। জিজ্ঞেস করল, ‘হাঁটতে পারবে তো?’

-‘পারব পারব। সামনে এগোও।’
ইয়াসিফ প্রথমে চোখ ছোটো ছোটো করে চাইল ওর দিকে৷ এমন অসহনীয় আঘাতকেও পরোয়া করতে চাইছে না কি তাকে এটা দেখানোর জন্য, যে মেয়ে হয়েও তার থেকে অনেক শক্ত সে? ঠোঁট বাঁকাল ইয়াসিফ তা ভেবেই৷ যা খুশি ভাবুক নিজেকে! সাহায্য করতে চেয়েছিল সে সরল মনে। অথচ দেখো কী পালোয়ানই না ভাবে মেয়ে নিজেকে!
তবে সত্যিই হাঁটতে গিয়ে আঙুলটাই ভর পড়ে কাতরে উঠছে মারিহাম ঠোঁট চেপে ধরে৷ কিন্তু মোটেও ব্যথাটা বোঝাতে চায় না সে ইয়াসিফকে। একটু আগে এই ছেলেকে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বাঁচিয়ে এনেছে সে। তাই ঋণী থাকলে ইয়াসিফই থাকবে ওর কাছে। সে নয়।
এ মুহূর্তটার কিছুক্ষণের মাঝেই চূড়ান্ত বিপদটা ঘটে গেল। আচমকা পেছন থেকে আসা রামদায়ের কোপটা মারিহামের পিঠে পড়তে গিয়েও পড়ল না। ওকে টেনে সরাতে গিয়েই কোপটা ইয়াসিফের ডান কোমরে পড়ল খুবই ভয়ানকভাবে৷ ‘ও মাআআ!’ বলে আর্তনাদ করেই লুটিয়ে পড়ল সে নিচে।

ব্যথার চোটে তৃতীয় ডাকাতের কথা সটকে পড়েছিল মারিহামের মন থেকে। তাই তো নিকটস্থ বিপদের আচ অনুভব করেনি৷ ইয়াসিফ নিজেও মারিহামের বেগতিক পায়ের দিকে বারবার লক্ষ করছিল বলে তৃতীয়জনের কাছে আসার আভাস বুঝতে খুব দেরি করে ফেলে সে৷ ওদের নিজেদের মাঝে ব্যস্ত থাকার মধ্যেই ওই জানোয়ারটা খুব কাছে চলে এসেছিল। কিন্তু তা ওরা অসাবধানতার জন্য বুঝতে পারেনি। আবার যখন চলতে আরম্ভ করে, তখনই রামদা উচুঁ করে ডাকাতটা ছুটে আসে। মারিহাম ইয়াসিফের থেকে সামান্য পেছনে ছিল৷ সে ব্যথার মাঝে ডুবে ছিল বিধায় শুকনো পাতার ওপরে পড়া পদধ্বনি শুনতে পায়নি৷ ইয়াসিফ যখন শুনল তখন পিছু ফিরে তাকাতেই ডাকাতটাকে একদম কাছে দেখে অবিলম্বেই মারিহামকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়৷ আর অমনিই কোপটা কোমরে পড়ে তার। হাতে ধরা পিস্তলটা উঁচু করার সময়ও পায়নি সে৷ মারিহাম কয়েক পলের জন্য স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটা ঘটে গেল।
ডাকাতটা আরেক কোপ বসাবে ইয়াসিফের গলাতে। নিচে পড়ে থাকা মারিহাম তখনই ‘এইইই!’ বলে ক্ষিপ্ত স্বরে উচ্চ আওয়াজে চেঁচিয়ে উঠল। ওর দিকে নজর পড়ল সে সময়। রামদা’টা নিয়েই এগিয়ে গেল ওর দিকে। এক্ষুনি মারিহামের সম্ভ্রমকে লুটে নেওয়ার বাসনায়৷ তারপর তার ঘাঁটিতে তুলে নিয়ে গিয়ে সবাই মিলে আরও অসহনীয় অত্যাচার করে তবেই মারবে ওকে।

ইয়াসিফকে ধরাশায়ী করে ফেলেছে ভেবে যখন ওকে ছেড়ে দিয়ে মারিহামের সামনে এসে দাঁড়াল সে। মারিহাম তখন মাটিতে বসে ডান হাতের ছোরাটা শক্ত করে মুঠোর মাঝে ধরে বসে। অকল্পনীয়ভাবে ঠিক তখনই রক্তে ভেজা মাটিতে পড়ে কাতরাতে থাকা ইয়াসিফ গুলি করতে পারল ডাকাতটার পিঠে। মরণাঘাত পেলেও হাতের পিস্তলটা একইভাবেই ধরা ছিল তার হাতে৷ গুলি করার পরও সেভাবেই ধরে রইল সে। ডাকাতটা চিৎকার করে ঠিক তারই পাশে ধপ করে পড়ল, ছটফট করতে করতে এক সময় নির্জীব হয়ে গেল। তা স্তিমিত চোখেই দেখতে থাকল ইয়াসিফ। মারিহাম দেখার অপেক্ষা করল না৷ উঠে এসে ইয়াসিফকে তোলার চেষ্টা করছে সে৷ কিন্তু এত ভারী দেহের মানুষটা নিজে থেকে উঠতে সাহায্য না করলে অসম্ভবই হবে তাকে টেনে তুলে গাড়ির কাছে নিয়ে যাওয়া।
-‘ইয়াসিফ, য়্যু আর সো স্ট্রং পুলিশ অফিসার৷ য়্যু কান্ট স্লিপ লাইক দিস রবার। গেট আপ ম্যান।’ প্রবল উৎকণ্ঠ গলায় সাহস যোগাতে চাইল মারিহাম।
সেটা কাজেও দিলো। যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতেই দাড়াল সে। তখনই মাভিশাকে ছুটে আসতে দেখা গেল ফোনের আলোয়। মারিহামের চেঁচানোর আওয়াজ পেয়ে মেয়েটা আর থাকতে পারেনি। মারিহামের কিছু হয়ে গেলে অপরাধবোধ নিয়ে বাঁচাটা সম্ভব নয় তার জন্য৷ তাই তো শেষ মুহূর্তে হলেও প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই পিস্তল হাতে ছুটে আসলো৷

ইয়াসিফকে রক্তে মাখা দেহ দেখে মারিহামের দিকে ঝটপট তাকাল। ওর কিছু হয়নি তো? এই ভেবেই। কিন্তু ওকে ঠিকঠাক দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ল আপনা-আপনিই৷
মারিহাম সহসা চেঁচিয়ে উঠল মাভিশার ওপর তখনই, ‘দাঁড়িয়ে কী দেখছ? ইয়াসিফকে এসে ধরো। সিরিয়াস ইনজুরড সে৷ ওকে বাঁচাতে হবেই। ওকে সেন্সলেস হতে দেওয়া যাবে না।’
মাভিশা এগিয়ে এসে ইয়াসিফের বাঁ হাতটা নিজের ঘাড়ের ওপর নিয়ে পিঠ আঁকড়ে ধরল। মারিহামও একইভাবে ধরে এগিয়ে এলো গাড়ির কাছে৷ গাড়ির দরজাটা খুলে সিটের ওপর ওকে শুয়িয়ে দিয়েই মারিহাম চড়া গলায় আদেশ দিলো মাভিশাকে, ‘ওর রক্ত বন্ধের ব্যবস্থা করো এখনই।’

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৫০

-‘সেলাই দিতে হবে দ্রুত। তার জন্য অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োজন৷ নয়ত ও সহ্য করতে পারবে না। আমাদের কাছে অ্যানেসথেসিয়া নেই, সেটা তুমি জানো।’ ইয়াসিফের ক্ষতটা গভীর। তা পর্যবেক্ষণ করতে করতে বলল মাভিশা।
-‘এই মুহূর্তে তাহলে কী উপায়?’ ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ল মারিহাম।

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৫১