Home সুইটহার্ট সুইটহার্ট পর্ব ১১

সুইটহার্ট পর্ব ১১

সুইটহার্ট পর্ব ১১
মোনালিসা মেহরোজ

ফেরার সময় মেহরিন পুরোটা পথই নিশ্চুপ রইলো। রিকশার এক কোণায় গুটিসুটি মেরে বসে আছে সে। বাতাসে ওড়নাটা বারবার উড়ছে, অথচ আজ সেটাও ঠিক করারও শক্তি নেই তার। কানে এখনো বাজছে আদ্রিয়ানের সেই কথাগুলো—ইউ আর সো ইনোসেন্ট, সুইটহার্ট…’
কথাখানা ভাবতেই গালদুটো আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠলো রমনীর। পেলবখানা ধারণ করলো টকটকে লাল বর্ণ। সঙ্গে সঙ্গেই মাথা ঝাঁকিয়ে নিজেকেই ধমক দিলো সে।

—ধুর! কি সব ভাবছিস মেহরিন? লোকটা একদম জাউড়া… এক নম্বরের জাউড়া!
কিন্তু মুখে কথাটা বললেও বুকের ভেতরের অদ্ভুত কাঁপুনি কিছুতেই থামলো না তার। পুরো শিরা-উপশিরায় তখন অদ্ভুত কাম্পন খেলা করছে। স্বপ্নের মতো লাগছে সবকিছু। সাথে বেশ দ্বিধায় আছে সে। আদ্রিয়ান নামক রহস্যময় মানবটিকে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। সে আসলে কি চাইছে তা নিয়ে সন্দিহান মেহরিন।
রিকশা থামতেই ভাড়া মিটিয়ে ধীর পায়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো সে। শিফা-শাওন তার ফোন পেয়ে আগেই ফিরেছে। অভ্র’ই তাকে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলো বলেই শাওনকে ফোন করে ফিরতে বলেছে মেহরিন। তবে মাঝখানে কি হলো কে জানে! তখন আদ্রিয়ানের অদ্ভুত ব্যাবহারের পর মেহরিনকে পৌঁছে দিতে চেয়েও দিতে পারেনি অভ্র। তার না-কি জরুরি কাজ পরেছে তাই যেতে হবে। উপায়ন্তর না পেয়ে মেহরিন নিজেই রিকশাতে আসবে বলে জানিয়েছে। অভ্র তাকে রিকশায় তুলে রওয়ানা দিয়েছে নিজের গন্তব্যে৷
মেহরিন ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই সুফিয়া বেগম ডাকলেন—

—মেহু!
মেহরিন ক্লান্ত গলায় উত্তর দিলো—
—বলো, মা।
—কোথায় গিয়েছিলি?
—শিফাদের সঙ্গে…
সুফিয়া বেগম আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। বরং মৃদু হেসে বললেন—
—যা, ফ্রেশ হয়ে আয়। তারপর নিচে আসিস। তোর বাবা তোকে খুঁজছিল।
মেহরিন শুধু মাথা নেড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল। রুমে ঢুকেই দরজাটা লাগিয়ে দিলো।
তারপর ধীরে ধীরে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। নিজের প্রতিবিম্বের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো নিঃশব্দে। বারকয়েক পলক ঝাপটে হঠাৎ করেই কানের পাশে হাত ছুঁইয়ে দিল নিজের। ঠিক এই জায়গাটাতেই তো কারো স্পর্শ পেয়েছিলো সে৷ আদ্রিয়ান তার চুল সরিয়ে দিয়েছিল নরম হাতে, ঠিক এই জায়গাটায়। দৃশ্যখানা মস্তকে চাড়া দিয়ে উঠতেই মুহূর্তেই যেন শরীরের ভেতর আবারও কাঁপুনি বয়ে গেল রমণীর। শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নামলো। তীব্র শিহরণে কেঁপে উঠল সর্বাঙ্গ। বুকের ভেতরটাতে তখন অন্য স্বপ্নের জাল তৈরি হতে লাগলো। আদ্রিয়ান নামক পুরুষটির নিখুঁত মুখাবয়ব, তার প্রতিটি আচরণ, স্পর্শ সবকিছু মিলিয়ে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো রমণীর।

—নাহ্…।
ফিসফিস করে উঠলো মেহরিন। দুই হাত দিয়ে নিজের গাল চাপড়ে চোখজোড়া ডলতে লাগলো।
—তুই পাগল হয়ে যাচ্ছিস মেহরিন! কি ভাবছিস এসব? কেনো ভাবছিস?
বিছানায় ধপ করে বসে পড়লো সে। কথাগুলো, সেই দৃশ্যগুলো সে ভুলতে চায়। কিন্তু যতই ভুলতে চাইছে, ততই যেন আদ্রিয়ানের গভীর কণ্ঠস্বর কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। মেহরিনের কানে বাজছে আদ্রিয়ান নামক পুরুষটির মাতাল করা প্রতিটি কথা। তার চোখের সামনে ভাসছে আদ্রিয়ানের গাঢ় দৃষ্টি, তার শরীরের ঘ্রান যেনো নাকের ডগা ছুঁইয়ে যাচ্ছে মেহরিনের। আর সেই ঘ্রানেই বোধহয় পাগল পাগল লাগছে নিজেকে। ছন্নছাড়া অনুভূত হচ্ছে।
মুখের ওপর বালিশ চেপে ধরে গড়াগড়ি খেতে লাগলো মেহরিন। বিছানায় এলিয়ে দিলো নিজেকে। ঠোঁট কামড়ে বিড়বিড় করে আওড়ালো—

—লোকটা কি মানুষ নাকি শয়তান! কিভাবে নিজের ছাপ ফেলে গেলো আমার মস্তিষ্কে!
অন্যদিকে…
রাত প্রায় আটটা ছুঁই ছুঁই। চৌধুরী ভিলার বিশাল গেট পেরিয়ে ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলো আদ্রিয়ান চৌধুরীর কালো মার্সিডিজটা। গাড়ি থেকে নেমেই টাইটা আলগা করলো আদ্রিয়ান। আজ সারাদিনের ক্লান্তির চেয়েও তার মাথায় বেশি ঘুরছে অন্য কিছু। মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য স্বরণ হতেই ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠলো যুবকের।নিজেই নিজের কপালে চাপড় মারলো সে।
—ফোকাস, আদ্রিয়ান।
ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই নজরে পরলো বাবাকে। যিনি সোফায় বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন।পাশেই বসে ফল কাটছিলেন মিসেস চৌধুরী। ছেলেকে দেখেই ভদ্রমহিলা হেসে বললেন—
—এতো দেরিতে এলি! আয়, বস।
আদ্রিয়ান সোফায় বসে কপাল ম্যাসাজ করতে করতে বললো—
—খুব জরুরি কিছু? ফোন করছিলে যে!
আশিক চৌধুরী খবরের কাগজটা ভাঁজ করে রাখলেন।

—হ্যাঁ।
—বলো
—আজ অভ্রর বাবা ফোন করেছিলেন।
এক মুহূর্তেই আদ্রিয়ানের আঙুল থেমে গেল।
মুখে অবশ্য কোনো পরিবর্তন এলো না।
শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো—
—তারপর?
—অভ্রর বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে।
আদ্রিয়ানের চোখের পাতা মৃদু কেঁপে উঠলো।
—ও।
মিসেস চৌধুরী উচ্ছ্বসিত গলায় বলে উঠলেন—
—আগামী মাস গেলে পরের মাসের তিন তারিখ।
—বাহ্, ভালো তো।
একদম স্বাভাবিক স্বরেই বললো আদ্রিয়ান।
আশিক চৌধুরী এবার যোগ করলেন—

—আমাদের পুরো পরিবারকে ইনভাইট করেছে ওরা। বিয়ের সব অনুষ্ঠানেই থাকতে হবে, তাও জানিয়েছে।
আশিক চৌধুরীর কপালে ভাজ ছিলো। অভ্রের পরিবারের সাথে তাদের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। বহু বছর আগের ঘটা এক অনাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আশিক চৌধুরী নিজেই বোনের সাথে সকল সম্পর্কে ত্যাগ করেছিলেন। তবে সময়ের ব্যাবধানে তাদের মাঝে টুকটাক কথা হতো। যদিও আশিক চৌধুরী এখনো পর্যন্ত বোনের সাথে স্বাভাবিক হতে পারেননি। তারওপর এতোদিন বাদে এবাড়িতে এভাবে বিয়ের দাওয়াত দেওয়ায় তিনি বেশ অবাক’ই হয়েছিলেন। ফোনের পাশাপাশি আশিক চৌধুরীর বোন নাজমা তালুকদার কাল নিজে এসে ভাইয়ের পরিবারকে বিয়ের জন্য ইনভাইট করে যাবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু আশিক চৌধুরী বোনের এতোটা ভালোমানুষি ঠিক হজম করতে পারেননি। তবুও বোন তো!
আদ্রিয়ান বাবার চিন্তিত মুখশ্রীর পানে তাকিয়ে ধীর গলায় বলে উঠলো—

—হুম। তারপর?
—অভ্র তোকে বিশেষভাবে বলেছে যেন আগে থেকেই সময় ফাঁকা রাখিস।
আদ্রিয়ান হালকা হাসলো। আশিক চৌধুরী ছেলের কাঁধে হাত রেখে আওড়ালেন—-
—কষ্ট পাস না। তোর জন্য বেস্ট লাইফ পার্টনার আমি খুঁজে আনবো। বাবা প্রমিস করছে তোকে।
আদ্রিয়ান কথা বললো না। আড়ালে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো মাত্র। এই পর্যায়ে সাহেলা চৌধুরীর মুখখানাও মলিন হয়ে এলো। এতোদিন বাদে ছেলে তার বিয়ের জন্য হ্যাঁ করেছিলো। নিজেই পাত্রীও পছন্দ করেছিলো। অথচ সবটা এলোমেলো হয়ে গেলো মাঝখান থেকে।
আদ্রিয়ান বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে উঠতেই যাবে। তখনি আশিক চৌধুরী ফের বলে উঠলেন—-
—আর শুন…
আশিক চৌধুরী চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললেন—
—কাল একটু অফিসে আসিস তো!
—দেখা যাবে।

উঠে দাঁড়িয়ে টাইটা খুলতে খুলতে সিঁড়ির দিকে হাঁটতে লাগলো আদ্রিয়ান। বলিষ্ঠ দেহে সাদা রঙা শার্টখানা ঘেমে লেপ্টে গেছে। কোট হাতে ধরা। আশিক চৌধুরী শান্ত দৃষ্টিতে দেখলেন ছেলের চলে যাওয়া।
রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করতেই চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কোটটা খুলে বিছানায় ছুঁড়ে ফেললো আদ্রিয়ান। তারপর ধীরে ধীরে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। দূরের অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো অনেকক্ষণ। খানিকবাদে ফোন বের করে স্ক্রিনে তাকালো, আর তাকিয়েই পুরো মনোযোগ সেখানেই স্থির হলো যুবকের। মন্রমুগ্ধের ন্যায় অপলক দৃষ্টিতে সেদিকেই তাকিয়ে রইলো অনেক্ক্ষণ। চোখের দৃষ্টি ধীরে ধীরে গাঢ় আর নেশালো হতে শুরু করলো৷ তর্জনী তুলে ছুঁয়ে দিলো স্ক্রিনে জ্বলজ্বলকৃত রমণীর মেইলি ঠোঁট। অতঃপর চোখবুঁজে নিলো পুরুষটি। ফিসফিস করে আওড়ালো—-

—ভেবেছিলাম জীবনে অন্তত তোমাকে পেতে হলে খেলতে হবে না। কসরত করতে হবে না, লড়াই করতে হবে না বিপরীতমুখীর সাথে। অপরপাশে কেউ থাকবে না, শুধু তুমি আমি ছাড়া। বাট ভাগ্যকে পায়ে ফেলে মাঝখানে একটা কাওয়ার্ড চলে এলো। তাও কার সাথে খেলতে? আদ্রিয়ান চৌধুরীর সাথে। যার সাথে খেলে এ যাবৎ পর্যন্ত হার ছাড়া জিত অর্জন করতে পারেনি সে। পাঁচ বছর বাদে ফিরে এসে নিজেকে বড্ড বড় খেলোয়ার ভেবে ফেলেছে কাওয়ার্ডটা। বাট নো প্রবলেম, খেলতে চেয়েছিলাম না। তবে খেলবো, খেলা আবার আমার বড্ড পছন্দ কি-না! কেউ ইচ্ছে করে মা*র খেতে এলে তাকে ফিরিয়ে দিতে নেই,আমি আবার বড্ড দয়ালু মানুষ। হাহ….।
তাচ্ছিল্য হেঁসে ফোনটা পকেটে পুরে গটগট পায়ে ওয়াশরূমের দিকে পা বাড়ালো যুবক। পিছনে ফেলে গেলো এক আকাশ তাচ্ছিল্যকে।

তালুকদার বাড়ির বসার ঘরের মাঝখানের বিশাল আকৃতির সোফায় আয়েশি ভঙ্গিতে পায়ের উপর পা তুলে বসে আসে অভ্র তালুকদার। চোখমুখে সুস্পষ্ট তীব্র দাম্ভিকতার ছোঁয়া। সামনের সোফায় আয়েশি ভঙ্গিতে বসে আছে তার মা নাজমা তালুকদার। বাবা আশরাফ তালুকদার দাঁড়িয়ে সিঁড়ির পানে। মা-ছেলের দিকে তিনি তাকিয়ে আছেন অদ্ভুত দৃষ্টিতে। কপালে তার ভাজ, বুঝে উঠতে পারছেন না আসলে কি করতে চাইছে তার পরিবার৷
অভ্র বাড়িতে ফিরেই বায়না ধরে অদ্ভুত এক বিষয় নিয়ে। বিয়েটা এগিয়ে দিতে বলার ঝোঁক ধরে মায়ের কাছে৷ মা নাজমা তালুকদার সেই অনুযায়ী মনোয়ার শেখকে ফোন করে বিয়ের ডেট এগিয়ে আনার কথা বলেন। তবে মনোয়ার শেখ তা মানতে নারাজ। একমাত্র মেয়ে তার, বিয়ে দিতে চাইছেন বলেই কি তারাহুরো করবেন? তার মতে দেখেশুনে সময় নিয়ে মেয়েকে তিনি শশুড়বাড়ি পাঠাবেন। এসময় বিয়ে এগিয়ে দেওয়ার কোন মানেই হয়না। হাতে তো মাত্র একটা মাস’ই, সেটাও বেশি?

এ কথার পাছে নাজমা তালুকদার আর কথা বলতে পারেননি। মনোয়ার শেখ তার সিদ্ধান্তে অটল, তাকে বেশি নাড়াচাড়া করার মানেই হয়না। অন্তত নাজমা তালুকদারের মতো তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পুর্ন মহিলা তা’ই মনে করেন।
বসার ঘরের টানটান নিরবতার মাঝে ধপ করে বসা হতে উঠে দাঁড়ায় অভ্র। মায়ের থেকে মনোয়ার শেখের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে শুনছিলো সে। পুরোটা সময় চুপ থেকেছে, কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বিষয়টা নিয়ে। এতে আশরাফ তালুকদার বেশ অবাক। অভ্রের মতো বদমেজাজি, অসভ্য ছেলে যে এখনো চুপ আছে বিষয়টা তিনি ঠিক হজম করতে পারছেন না ঠিক। সাথে এটাও বুঝতে পারছেন না মাঝখানে কি এমন হয়ে গেলো যে অভ্র বিয়েটা তারাতাড়ি সারতে চাইছে! সে তো এমন ছেলে না!
আশরাফ তালুকদার এসব কিছু বুঝতে না পারলেও একটা ব্যাপার বেশ বুঝতে পেরেছেন যে—বিয়েটা কোন সম্পর্কের শুরু নয়, নয় কোন দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত। এটা শুধুমাত্র অভ্রের জেদ, একটা চাল। হয়তো কোন প্রতিযোগিতা? যেটাতে অভ্র জিততে চায়। এতে অন্যের ক্ষতি হলেও অভ্র তার পরোয়া করবে না নিশ্চিত। মেহরিনের ক্ষতি হলেও নয়।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন আশরাফ তালুকদার। অভ্রকে হুট করে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে মা নাজমা তালুকদারও দাঁড়িয়ে পরলেন। অভ্র পকেটে হাত গুঁজে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে বাঁকা হাসলো। অতঃপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আওড়ালো—-

—ওকে ফাইন। হবু শশুড়মশাই যেহেতু রাজি নয় তাহলে জোড় করে লাভ নেই। সময় দাও, যখন বিয়েটা ঠিক হয়েছে তখনি হবে। আমার কোন আপত্তি নেই।
নাজমা তালুকদার কপাল কুঁচকে নিলেন।
—আর ইউ সিউর?
—ইয়েস মম। জোড় করে কোনক্রমেই কিছু হাসিল করবো না আমি। সময়’ই সবকিছু আমার পায়ের কাছে এনে ফেলবে।
নাজমা তালুকদার বাঁকা হেঁসে ছেলের কাঁধ চাপড়ে দিলেন। আশরাফ তালুকদার চুপ করে দেখতে লাগলেন স্ত্রী-সন্তানের একের পর এক দেওয়া চাল।
—তাহলে তা’ই হোক।
অভ্র হাঁসে মায়ের কথায়। ঠোঁট বাঁকিয়ে আওড়ায়—-
—তাহলে খেলা শুরু হোক?
—অবশ্যই।

নাজমা তালুকদার ছেলের সাথে হেঁসে উঠলেন অদ্ভুত ভঙ্গিতে। অভ্র মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিজের ঘরের দিকে ছুটলো। বাবাকে দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে গেলো। নাজমা তালুকদার ফের এসে বসলেন সোফায়। এই পর্যায়ে আর চুপ করে রইলেন না আশরাফ তালুকদার। এগিয়ে এসে বসলেন স্ত্রীর অভিমুখে। কপালে ভাজ ফেলে জিজ্ঞেস করলেন—-
—কি করতে চাইছো তোমরা? কিসের খেলার কথা হচ্ছে?
নাজমা তালুকদার বিরক্ত হন ভিষন। আপেলে কামড় বসিয়ে বলেন—-
—তোমার না জানলেও চলবে।
—সে আমি জানতেও চাই না। তবে তোমাদের এই খেলার মধ্যে মেহরিন নামক নিষ্পাপ মেয়েটাকে টানা বন্ধ করো৷ খোদা সইবে না।
কথাখানা বলে বসা হতে উঠে গটগট পায়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন আশরাফ তালুকদার। নাজমা তালুকদার স্বামীর কথায় তাচ্ছিল্য হাসলেন মাত্র। অতঃপর সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বিড়বিড় করে আওড়ালেন—-

সুইটহার্ট পর্ব ১০

—খেলাটা তো চলমান থাকবেই। আশিক চৌধুরী আর আদ্রিয়ান চৌধুরীকে উচিত শিক্ষা দিয়েই ছাড়বো এবার। আর ছাড় পাবে না কেউ, পাবে না। হয় মেহরিন আমার ছেলের হবে, শিক্ষা পাবে ওই পরিবার—আর নয় সম্পত্তি আমার হবে। আর মেহরিন……….।
কথাটা মাঝপথে থামিয়ে উচ্চস্বরে হেঁসে উঠলেন নাজমা তালুকদার। তার হাসির তীব্র ঝংকার বারি খেতে লাগলো ড্রয়িংরুমের চারি দেয়ালে।

সুইটহার্ট পর্ব ১২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here