নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবা বারবার না করলো,,,তার এক হাতে আয়রা সে কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না,,,,
এদিকে হল থেকে টেনে হিচরে আনায় পুরো মাঠে,, এমন কি কোলিডডোরে সব student পরিক্ষা রেখে এসে ভিড় করলো,,,,
নুবা বারবার চিৎকার করছে,,তার হাত পা কাঁপছে,,আয়ারাকে যে ধরে রাখবে সেই শক্তি টুকু নেই,,,নুবা বারবার আরহামকে থামানোর চেষ্টা করছে,,,
এদিকে আশে পাশে ভিড় হয়ে গেছে কিন্তু হানিফের মার দেখে কেউ ভয়ে এগোতে পারছে না,, principal পর্যন্ত চলে এসেছে,তবে তিনিও আটকাতে পারছে না
হানিফকে মেরে রক্তাক্ত করে ফেলে আরহাম,,,এক হাত ভেঙ্গে ফেলেছে,,হানিফ আর্তনাদ করছে সাহায্য চাইছে তবে কেউ সাহায্য করছে না,,,
আরহাম হানিফের ডান হাত ভেঙ্গে বাম হাত পিছন দিকে মুচরে ধরলো এটাও ভাংবে সে,,,পরপর হানিফের পিঠে পা দিয়ে চেপে ধরে হাত টেনে ধরলো হুংকার ছেড়ে বললো,,
_তোর সাহস কি করে হয় ওকে গালমন্দ করার,,, সেদিন তুই অনুমান করতে পারিসনি আমি কোন ধাঁচের মানুষ,,,এই শুয়ো***** বাচ্চা,,,,
পরপর হুংকার ছেড়ে বললো
_ এই হত এই হাত দিয়ে touch করেছিস,,,
বলতে বরতে খট করে একটা শব্দ হলো,,হানিফ আর্তনাদ করে উঠে বললো,,,,
_ আমারে মাফ করে দেও,, আল্লাহ,,,,
আরহাম রাগে হানফিকে কাঁধে তুলে মারলো একটা আছার,,,সাথে সাথে হানিফের মাথা ফেটে গেলো,,পরপর কাপড় ধোয়ার মতো তাকে ইচ্ছা মতো বারি মারলো,,,
এদিকে principal তাড়াতাড়ি হারুন মির্জাকে কল দিলো,,৪/৫ বার রিং হতেই হারুন মির্জা কল রিসিভ করলো,,,পরপর সালাম দিয়ে বললো
_ আসসালামুয়ালাইকুম,,,জ্বী কে বলছেন,,
Principal কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আপনার বড় ছেলে কলেজে ঝামেলা করছে,,,,সেদিন যেই teacher কে থাপ্পর মেরেছিলো আজ তাকে আছরাতে আছরাতে মেরেই ফেলবে আপনি তাড়াতাড়ি আসুন,,
হারুন মির্জা হতভম্ব হয়ে গেলো,,এই ছেলে কি তাকে শান্তি দিবে না,,
নুবা এক হাত দিয়ে আরহামের হাত টেনে ধরে হাউমাউ করে কান্না করে বললো
_ ছাড়ুন,, ছাড়ুন,,মরে যাবে,, আল্লাহর দোহায় লাগে,,
তবে নুবা আরহামকি ছেড়ে দিবে কখনোই না,, আরহাম ইচ্ছা মতো মারতে লাগলো হানিফকে,,আর বারবার গর্জে উঠলো,,,
নুবা কি করবে বুঝতে পারলো না,,,এক হাতে আয়ারকে ধরে অন্য হাতে আরহামের শার্ট টেনে ধরে চিৎকার করে বললো
_ থামুন,,,আমি বলছি এবার থামুন,,,, বন্ধ করুন এই সব,,,
আরহাম থামার নাম নিলো না,,, মিনিট খানিকের মধ্যে হারুন মির্জা এসে কলেজে পৌঁছালো,,যেনো উড়ে উড়ে এসেছে সে,, ভাগ্যিস রাস্তায় জ্যাম ছিলো না,,তার উপর অফিস এখান থেকে কিছুটা কাছেই,,,
হারুন মির্জা এসে দেখলেন পরিস্থিতি এখনো ঠান্ডা হয়নি,,তবে সে কি করে এগিয়ে যাবে ছেলে তাকেই উল্টো আছার মারবে,,,
হারুন মির্জা এসেছে দেখে principal নিজের প্রান ফিরে পেলো এক প্রকার ছুটে হারুন মির্জাও কাছে এসে বললো
_ আপনার ছেলেকে থামান না হলে আমি পুলিশ ডাকতে বাধ্য হবো,,
হারুন মির্জা শুকনো ঢোক গিলে পিছন থেকে চেঁচিয়ে উঠলো
_ আরহাম,,,কি হচ্ছে কি এবার থামো,,কি হয়েছে এখানে,,কি করেছে এই লোক,,
বলেই এগিয়ে গেলো,, আরহাম বাবার কন্ঠ শুনে পিছনে তাকিয়ে গর্জে উঠে বললো
_ এই জানোয়ারটা আমার নুবার গায়ে হাত দিয়েছে dad,,“হ্যারেজমেন্ট করেছে ওকে,,,ওকে শত বাপের জন্ম বলেছে dad,, তুমিই বলো আমি ওকে ছেড়ে দিবো,,,
(বলেই হানফিকে দিলো এক লাথি)
হারুন মির্জা এগিয়ে আসলেন দুই হাত উঁচু করে বললেন
_ এর জন্য কিছু আইন কানুন আছে আরহাম,,থামো,,,
তবে না সে থামবে না,,,
_ no way,, আজকে ওকে আমি মেরেই ফেলবো,,,
হারুন মির্জা এক পলক নুবার দিকে তাকালো,,,ঝগড়া ঝাটির ভিতরে কেউ খেয়াল করলো না ” আমার নুবা” বলেছে আরহাম,,,
পরিস্থিতি হারুন মির্জাও সামাল দিতে পারছিলেন না,,,হরুন মির্জারো সাহস হচ্ছিলো না ছেলেকে আটকানোর,,এই বয়সে এসে সেদিনের মতো ছেলের এক ধাক্কা খেএ মরতে চায় না সে,,
নুবা কি করবে বুঝে না পেয়ে আয়ারকে হারুন মির্জার কাছে দিয়ে অনেকটা সাহস দিয়ে এগিয়ে গেলো পরপর দুই হাত দিয়ে আরহামকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরলো,,,
আরহাম ঝাড়া মরবে এমন অবস্থা তবে নুবা শক্ত করে চেপে ধরে বললেন
_ ছেড়ে দিন,, অনেক হয়েছে please,,, দেখুন আপনার বাবা এসছে,,,তার কথা না শুনলে অসম্মান হবে,,, please ,, আরহাম ভাই ছেড়ে দিন,,,
বেচারা আরহাম একটু শান্ত হয়েছিলো তবে ভাই শুনে তার রাগ কোমা থেকে বেড়ে গেলো,,,নুবা ছটফট করে বললো
_ না না,,ঝাড়া মারবেন না,,,,আমি আপনার এক ধাক্কা খেলে মেরেই যাবো,, please এবার বন্ধ করুন এই সব,,
নুবা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে,,,হানিফকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে,,, principal আর হারুন মির্জা সামনাসামনি বসে আছেন,,, সিসিটিভি ফুটেজ চেক করছেন তারা,,নুবার কথায় কতটা সত্যতা আছে তাই যাচাই করছে,,,তবে যদি এমন কিছু না হয় তাহলে আজ আরহাম আর নুবাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে,,,
এদিকে আরহাম নুবার পাশে দাঁড়িয়ে আছে,,,নুবা বিরবরি করে বললে উঠলো
_ বলেছিলাম ঝামেলা করতে না,,
আরহাম কিছু বললো না,,চুপ রইলো,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ এখন তো সব ক্লিয়ার তবে আমি সত্যিই দুঃখিত আমার ছেলের এই কান্ডের জন্য,,,আইন কানুন তার হাতে তুলে নেওয়া উচিত হয়নি,,,
Principal মৃদু কন্ঠে বললেন
_ তবে যা করেছে ঠিক করেছে,,,এদের জন্য teacher দের উপর আঙ্গুল তোলার সুযোগ পায় মানুষ,,,
_ তবে আমি চাই উনাকে তাকে যাতে আর কোথাও teacher এর চাকরি না দেওয়া হয় আশা করি আমার কথাটা রাখবেন,,,,,
_ অবশ্যই আমি এই ব্যপারে যথার্থ একশন নিবো তবে দয়া করে আপনার ছেলেকে একটু সাবধান করবেন,, next time এরকম কিছু করলে আমি পুলিশে দিতে বাধ্য হবো,,,
আরহাম পিছন থেকে বলে উঠলো
_ পুলিশে কে যায় সেটা না হয় পড়েই দেখা যাবে,,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আরহাম বেয়াদবের মতো কথা বলবে না,,, তুমি নুবাকে নিয়ে বাসায় যাও বাকাটা আমি দেখে নিবো,,
নুবা মাথা নিচু করে গাড়িতে বসে আছে আরহাম পাশে বসে ড্রাইভ করছে এমন সময় নুবা বলে উঠলো
_ আপনি তো এক অমানুষকে শায়েস্তা করে আসলেন,,,এখন আপনি নিজেকে কি শাস্তি দিবেন,,,আপিও তো ওদের কাতারেই পড়েন,,
আরহাম কিছু সময় চুপ করে থেকে বললো
_ আমি তো ছোট্ট একটা mistake করেছিলাম নিজের অজান্তেই,,যা শুধরে নিয়েছি,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ সুধরে নিয়েছেন মানে,,,
আরহাম উত্তর দিলো না,,নুবা উত্তরের আশায় তাকিয়ে রইলো,,, আরহাম কথা ঘুরিয়ে বললো
_ তোমার যদি মনে হয় আমার শাস্তি পাওয়া দরকার তাহলে তুমি যেভাবে চাইবে সেভাবেই দিতে পারো আমি উফ্ পর্যন্ত করবো না,,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আপনি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন এটাই অনেক আর আজকে যা করলেন তাতেই আমি সন্তুষ্ট,,,
অতঃপর কিছু সময় নীরবতা কাটলো,,,নুবা এক পলক আয়রার দিকে তাকিয়ে বাম হাত দিয়ে ডান হতের নক খুঁটে বলল
_ আমার মোবাইল টা ঠিক করে দিবেন,,, আম্মুকে বলছিলাম আম্মু দিবে না,,আপনি যেহেতু ভাংছেন আপনিই দিবেন,,,,
আরহাম গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে বললো
_ রেজাল্ট ভালো করলে যেই মোবাইল চাইবে সেটাই দেওয়া হবে,,
কথাটা শুনে নুবা মুখ কালো করে বললো ,,
_ তাহলে সেই গুড়ে বালি,,,আর আমার নতুন মোবাইল লাগবে না,,, ঠিক করে দিলেই হবে,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ কেনো ওই মোবাইলি কেনো লাগবে,,,কি আছে ওটার ভিতরে,,,
নুবা বিরবরি করে বললো
_ অনেক কিছু,,
_ অনেক কিছু কি,,,
_ আপনাকে কেন বলতে যাবো আজব,,
পরপর নুবা থেমে বললো
_ মোবাইল না থাকায় আমি বাসায় এসে প্রশ্নের answer মিলাতে পারছি না,,, আপনার কারনে কতটা সাফার করছি আমি তা আপনার ধারনাও নেই,,,
_ কথা না শুনলে এমনি হবে,,,আর answer মিলাও মানে,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আজকের পরিক্ষা অনেক খারাপ হয়েছে,,,সব answer ঠিক থাকলেও একটা নিয়ে আমি খুবি ডিস্টার্ব যে উত্তর টা হয়েছে কিনা,,না হলে আমি ফেল,,,এখন মোবাইল থাকলে আমি Google থেকে মিলিয়ে নিতাম ঠিক লিখেছি কিনা,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোমার আম্মু মোবাইল নেই নাকি,,নিজের ফোন দিয়ে করতে হবে এমন তো কোনো কথা না,,,
নুবা মুখ ভেংচি কেটে বললো
_ হ্যাঁ আছে তো কচু,,,বাটম ফোন,,ওটা দিয়ে Google এ সার্চ দিবো ঠিক আছে না,,,,আপনি আমার মোবাইল ঠিক করে দিবেন এটাই শেষ কথা,,,
আরহাম কিছু সময় চুপ থেকে পেন্টের পকেট থেকে নিজের ফোন বেড় করে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ answer টা মিলিয়ে নেও দেখো হয়েছে কিনা,,,না হলে ফেল করলে মন ইজ্জত থাকবে না,,,
নুবা মুখ কালো করে বললো
_ আপনার জন্যই তো সব হয়েছে ওই দিন থাপ্পর মারার দরকার ছিলো,,,
আরহাম এবার একটু রেগে বললো
_ just shut up,, মোবাইল লাগলে নেও,,না লাগলে ___
বলেই পেকেটে পুরে রাখতে নিলো,,নুবা হাত বাড়িয়ে দিলো,,,
_ দেন,,,না নিয়ে উপায় আছে,,,
নুবা মোবাইল হাতে নিয়ে মুখ বাকালো,,Samsung Galaxy S26 Ultra ফোন,, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাক্ষ,,,আর নুবার কাছে ১১/১২ হাজারের ভাঙ্গা মোবাইল,,,তাই নুবার একটু হিংসা হলো,,,একে তো কম দামি মোবাইল তার উপর ভেঙ্গেও ফেলেছে,,
বাড়ির সবাই আরশি থেকে শুরু করে হারুন মির্জা পর্যন্ত নতুন বেড় হওয়া iPhone 17 Pro Max ব্যবহার করে তাহলে এই লোক আলাদা কেন,,,ভেবেই নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো, অতঃপর দেখলো মোবাইল লক করা,,নুবা ফোন আরহামের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ লক,,,
আরহাম মোবাইল নিয়ে লক খুলে দিলো এটাও ভদ্র না সে যে নুবাকে মোবাইলের লক বলে দিবে,,,
নুবা পাশ থেকে ফাইল নিয়ে প্রশ্ন বেড় করে Google এ যেএ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেখে নিতে লাগলো,,,ফুল মার্ক আসবে নাকি,,না আসলে সে ফেল,,
এর ভিতরে আয়রা কোলের ভিতরে নড়েচড়ে উঠলো নুবা বিরবির করে বললো
_ আরে বাল একটু স্থির হয়ে বস,,,ফেল করলে যদি বাড়ি ছেড়ে চলে যাই তোকে দুধ দিবে কে একটু ধৈর্য ধর,, আমাকে দেখতে দে,,
বলেই নুবা অনেক মিলিয়ে ঝিলিয়ে দেখলো না সব ঠিকি আছে,,,একটু মনটা শান্ত হলো তার,,,পরপর প্রশ্ন দেখতে দেখতে Google clear all এ যেএ মুছার সময় নজরে পড়লো পাশে গ্যালারি ,,,নুবার ভুরু কুঁচকে আসলো আর চোখে এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে গাড়ি চালাতে মনোযোগী,,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজালো লোকের মোবাইল ঘাটতে ভালোই লাগে,,,নুবা মোবাইল কাত করে গ্যালারিতে ডুকে গেলো যাতে আরহাম না দেখতে পায়,,,
নুবা গ্যালারিতে ডুকে বিশেষ কিছু পেলো না,,সব আয়রার ছবি দিয়ে ভরা,,মাঝের মধ্যে কয়েকটা আরহামের ছবি তাও হয়তোবা দেশের না,,,বিদেশে থাকা কালিন ছবি,,
নুবা ভালো মতো না দেখায় খেলায় করলো না তার ১/২ টা ছবি আছে আয়রার সাথে,,,নুবা একটু নিচে যেতেই চোখে পড়লো এক চোখ ধাঁধানো বিদেশি সুন্দরী নারীকে,,নুবা আর একটু নিচে গেলে আরহামের সাথে ওই নারীর অনেক গুলো হাস্যোজ্জ্বল ছবি,,,নুবার এক সেকেন্ড লাগলো বুঝতে এটা কে,,অবুঝ নুবা এই নারীকে জানার আগ্রহে কিছু না বুঝেই আরহামের দিকে ফোন ধরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বললো
_ ভাইয়া এটা কি আমার wife,,,এত্তো সুন্দর,,,
আরহাম এক পলক সেদিকে তাকিয়ে অন্যমনষ্ক হয়ে বললো
_ হ্যাঁ,,তবে তুমি,,,,,
যখনি আরহাম টের পেলো নুবা গ্যালারিতে ডুকে গেছে আরহাম চম্কে উঠলো,,,ফট করে নুবার দিকে তাকালো,,যে কিনা কোলের ভিতরে মোবাইল নিয়ে ছবি খুঁটে খুঁটে দেখতে ব্যস্ত,,,,
আরহাম এক হাত বাড়িয়ে রাগি কন্ঠে বললো
_ মোবাইল দেও,,
নুবা মোবাইল অন্য পাশে ধরে বললো
_ আরে একটু দেখি না দেখলে কি আপনার বউ এর সৌন্দর্য কম হয়ে যাবে,,এতো পরি মেমের থেকেও সুন্দর,,,ahhh কত cute,,,
বলতে বলতে নুবা এক টানে গ্যালারি অনেকটা নিচ দিকে চলে গেলো,,আরহামের কলিজা মুখে চলে আসলো,,নিচের দিকে খুবি পার্সোনাল কিছু ছবি আছে যা ইলোরা আর তার,,,
ভাগ্যে খারাপ থাকায় নুবার চোখে সেই ছবি গুলো পড়ে গেলো,,,
আরহাম রাগি কন্ঠে বললো
_ idiot ,,, মোবাইল দেও,,,
নুবা ছবি গুলো দেখে স্তব হয়ে গেলো,, অনেকটা গভীর,,এই সময়ের ছবি কে তুলে ভাই,,,কে এরকম ছবি তুলে,, kiss করার সময়,,, ঘনিষ্ঠ হওয়ার সময়,, নগ্ন ইলোরাকে বুকে নিয়ে,,,নুবার মুখ দিয়ে আপনা-আপনি বেড় হয়ে আসলো
“আস্তাগফিরুল্লাহ,,তওবা তওবা”
আরহাম তাড়াতাড়ি গাড়ি সাইড করে থামালো,,, ঝুঁকে এসে নুবার থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়া আগেই নুবা নিজেই মোবাইল কম্পিত হাতে এগিয়ে দিয়ে বিরবির করে বললো
_ s,, sorry,,,
আরহাম মোবাইলটা ছো মেরে নুবার হাত থেকে নিয়ে নিলো,,,তবে আশ্চর্য হলো সে নুবা গ্যালারিতে কি করে ডুকলো সব app এ লক মারা,,,তালহে কি সকালে গাড়িতে বলে আয়রার ছবি তুলে দেখার সময় clear all থেকে ডিলেট করতে ভুলে গেছিলো,,ভেবেই আরহামের মাথা ঘুরে উঠলো,,,
আরহাম মোবাইল পকেটে ভরে রাগি কন্ঠে বললো
_ idiot,,,কারো পার্সোনাল জিনিস হাতাহাতি করো,,কোনো common sense আছে হ্যাঁ,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে দুই হাত কচলে বললো
_ sorry,,, sorry ভাইয়া,,,
আরহাম রেগে গাড়ি started দিলো,,নুবা মাথা নিচু করে আয়রার দিকে তাকিয়ে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো
_ ছিছি,,,,কেন যে পাকামি করলাম,,,চোখ দুটো যেনো নষ্ট হয়ে গেলো,,,
আরহাম কেকিয়ে উঠে বললো
_ থাপ্পর মেরে ৩২ টা দাঁত ছুটিয়ে ফেলতে ইচ্ছা করছে,,, লজ্জা করে না কারো মোবাইল ঘেটাঘেটি করতে,,,
নুবা আর চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ আমি তো জানতাম না মানুষ মোবাইলের ভিতরে এতোটা পার্সোনাল জিনিস রেখে দেয়,,আসলে আমি কখনো রাখিনি তো তাই আমার ধারান নেই,,
বলেই নুবা জোরপূর্বক হাসলো,,কান,,গাল গড়ম হয়ে গেছে তার,,,জাওরামির একটা লিমিট থাকা দরকার,, হ্যাঁ সবকিছুর স্মৃতি রাখা ভালো তবে এতোটা গভীর স্মৃতি,,,হা হা হা,, লজ্জাজনক,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,, এগুলো ডিলেট করা হয়নি,, কারণ সে ওগুলো মনেই রাখেনি,,তাই মুছে ফেলা হয়ে উঠেনি,,,আর এগুলো আরহাম তুলেনি সব কিছু ইলোরা করেছে,,,তার মাতে সবকিছুর একটা চিহ্ন থাকা ভালো,,আরহামের কাছেও এটা বিব্রত লাগেনি কারণ সেও ফ্রি টাইমে ছবি গুলো দেখে enjoy করতো বিশেষ করে ইলোরা যখন তার থেকে দূরে থাকতো,,তার কথা মনে পড়তেই ছবি গুলো চেক দিতো এস,,তবে ইলোরা চলে যাওয়ার পর কখনোই এমন হয়নি,,আর হবেও না,,,পারলে মোবাইল টা নষ্ট করে ফেলে আরহাম তবে এই মোবাইলে অনেক important জিনিস আছে,,
পুরটা রাস্তা নুবা হাসফাস করলো যত সময় বাড়িতে না পৌঁছাবে তার শান্তি হবে না কি দেখলো সে,,,এটা ভেবেই কুল পাচ্ছে না নুবা,,,
বাড়ির মেইন গেট দিয়ে গাড়ি ডুকতেই নুবা শান্তি পেলো,, কিছু দূর যেএ গাড়ি থামালো আরহাম,,, শান্ত কন্ঠে বললো
_ নামো,,গাড়ি গ্যারেজে রেখে আসি,,,
নুবা তাড়াতাড়ি করে নুবাকে নিয়ে নিলে দিলো এক দৌড়,,কাজটা তার একদমি ঠিক হয়নি,, আরহাম পিছন থেকে চেয়ে থেকে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে গাড়ি started দিলো,,
বাড়িতে এসে নুবা পুরো বিষয়টা তার মায়ের কাছে খুলে বললো,,এতে হাজেরা আরহামের প্রতি একটু সদয় হলো,,মানে তার মনে হলো “না ছেলেটা ভালোই আছে”
নুবার বিরক্তে মাথা ফেটে যাচ্ছে,,পরি তাকে পড়াচ্ছে কিন্তু তার পড়ায় মন নেই,,,সে কি ভাবছে সে নিজেও জানে না ,,এতোটা অস্থির লাগছে তাকে,,,তার উপর পরির আজগুবি প্রশ্ন শুনে আরো মাথা গড়ম হয়ে যাচ্ছে নুবার,,,
পরি পড়াতে পড়াতে জিগ্গেস করলো
_ তোমার কি জানা আছে আয়রার আব্বু কি পছন্দ করে,,,
নুবা আর চোখে পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমি কি করে জানবো মেম,,
_ না মানে,,কি খাওয়া দাওয়া,,তার আয়রা,,,,,,,
_আমি উনার ব্যপারে কিছুই জানি না আপনি বরং উনার আম্মুকে জিগ্গেস করিয়েন,,
পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আচ্ছা,,,,
সময় চলমান, কারো জন্য কখনো থেমে থাকে না।
জীবনের পথে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সবকিছুকে পেছনে ফেলে সময় এগিয়ে চলে।যে মুহূর্ত চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না।তাই প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিতে হয়, কারণ সময়ই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।মানুষ বদলে যায়, পরিস্থিতি বদলে যায়, কিন্তু সময় নিজের গতিতে চলতেই থাকে,,
আজ নুবার শেষ পরিক্ষা,,হিসাব টানলে দেখা যাবে প্রায় এক/দের মাস ধরে পরিক্ষা হয়েছে,,আজ নুবা স্বাধীন,,,আর পড়তে হবে না ভেবেই তার নাচতে ইচ্ছা করলো,,
যেই আয়রা মাত ১/২ সপ্তাহ বয়সে এই বাড়িতে পা রেখেছিলো আজ প্রায় তার ৪ মাস,,বড় হয়ে গেছে আমাদের আয়রা,,ভালোও অবাক লাগে এই ৪/৫ মাসে ঘটে গেছে অগুনিতক কাহিনি,,,যা মনে রখার মতো,,,
ওইদেন ঘটনার কর কলেজে পরিক্ষা দিতে এসে নুবার কোনো সমস্যা হয়নি,,, হারুন মির্জা সব ঠিক করে রেখে গেছেন,,,বেচারির নুবরা ফোন এখনো দুই টুকরো হয়ে ড্রয়ারে পড়ে আছে,, আরহাম ঠিক করে দেয়নি,,,না তার মা,,,
নুবা পরিক্ষা শেষ করে কলেজের মেইন গেট পেড়িয়ে বাইরে আসলো,,আজ সবাই খুশি,,তবে যাদের পরিক্ষা ভালো হয়নি তারা একটু upsad ,,তবে নুবার পরিক্ষা বরাবরের মতো মোটামুটি হয়েছে,,
নুবা বাইরে বেড় হয়ে দেখলো আজ তাকে কেউ নিতে আসেনি,,না গাড়ি পাঠিয়েছে,,না আরহাম এসেছে,,,নুবা সবসময় যেই স্থানে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে সেখানে খোঁজ নিলো তবে না নেই,,বুঝতে পারলো কেউ আসেনি
এদিকে নুবা টাকাও আনেনি যে রিকশা দিয়ে যাবে,,,নুবা যেএ কিছু সময় সেই ভেলপুরির দোকানের সমানে বসে রইলো,,,একটা আশায় আজ যদি তৌসিফ আসে তার টাকা দিয়ে ভেলপুরি আর রিকশা ভাড়া দিবে,,,,
তবে আফসোস ৩০ মিনিট বসে থাকার পড়েও কেউ আসলো না,,নুবা ভেবেছিলো শেষ পরিক্ষা একটু মন ভরে ভেলপুরি খেয়ে দেয় যাবে তবে আরহাম না আসায় সব ভেস্তে গেলো,,,
নুবা আরো মিনিট খানিক বসে রইলো তবে কারো দেখা মিললো না,,এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে উঠে হাঁটা শুরু করলো তখন প্রায় সবাই খেএ দেয়ে চলে গেছে কাস্টমার নেই,,,নুবা উঠতেই ভেলপুরি মামা বলে উঠলো,,
_ আজকে কিছু খাইলা না যে মনা,,
নুবা পিছন ফিরে বললো
_ টাকা নেই মামা,,
ভেলপুরি মামা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কারো লাইগা অপেক্ষা করতেছিলা,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ হ্যাঁ,,,
_ ওই সেদিন যার লোগে তুমি ভেলপুরি খাইলা না,,সে ৩/৪ দিন আইয়া তোমার কথা জিগাইছিলো বুঝলা,,,
নুবা এগিয়ে এসে ভুরু কুঁচকে বললো
_ কে,,,??
ভেলপুরি মামা মাথায় চাপ দিয়ে বললো
_ আরে ওই যে প্রথম দিন ভেলপুরি খাইলা যে,,,এর পর তো আর খাও নাই,,, তোমার খাওনের টাকা যেই বেডা দিলো,,,
নুবা কিছু সময় ভেবে বললো
_ও,,,ওই ভাইয়ার কথা বলছিলেন,,, হ্যাঁ মনে পড়ছে,,,
_ হো,,হেই কয় একদিন আইছিলো,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,আসছিলো কিন্তু আজ আসলো না,,,পরপর নুবা একটু হেসে বললো
_ আমাকে মনে রাখছেন মামা,,আমি তো আপনার দোকানে একদিনি ভেলপুরি খেয়েছিলাম,,
মামা হেসে বললো
_ মনে থাকবো না মনা,,হেইদিন ওই পোলা আমারে ২০০ টাকার নোট দিছিলো,,১০০ টাকা টিপস তাই মনে আছে,,,আর তোমরা অনেক খন বইসা গল্প করলা না তাই মনে আছে,,,
নুবা একটু হাসলো আর বললো
_ ও,,, আচ্ছা উনি যদি আবার আসে বলবেন আমার মোবাইল,,,ও আমার নাম নুবা,, বলবেন নুবার মোবাইল ভেঙ্গে গেছে তাই যোগাযোগ করতে পারছে না আচ্ছা,,,
_ আইচ্ছা আইলে কমুনে,,,
_ আচ্ছা ভালো থাকবেন যাই তাহলে,,
ভেলপুরি মামা বলে উঠলো,,
_ তাইলে এক প্লেট খাওন খাইয়া যাও,,,নাকি মন করে না,,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ আসলে আজ আমি সাথে করে টাকা আনিনি,, আমার কাছে গাড়ি ভারা পর্যন্ত নেই,,,
ভেলপুরি ওয়ালা মামা অবাক হয়ে বললেন
_ হাই হাই কি কও,,মাঝে মাঝে দেখি তুমি বড় গাড়ি দিয়ে আসো আর টাকা নাই,,
নুবা দাঁত কেলিয়ে হেসে বললো
_ বড় গাড়ি থেকে নামলে কেউ বড়লোক হয়ে যায় না মামা,,বলে না {(যো দিকতাহে ও হোতা নেহি,,যো হতোহে ও দিকতা নেহি)( যা দেখা যায় তা হয় না,,যা না দেখা যায় তাই হয়)}
ভেলপুরি মামা হেঁসে বললো
_ তাইলে বহো,,খাইয়া যাও,,
_ আরে না না আমার কাছে টাকা নাই,,
_ আরে না থাকলে কি হইছে টাহা কি সবকিছু নাকি তুমি তো আমার মাইয়ার মতো আর হেইদিন ওই পোলা ১০০ টাকা বেশি দিছে হোন থেকে না হয় ২০ টাকারি খাওয়াইয়া দেই,,,আমি আবার ওতো দয়ালু না বুঝলা,,,
নুবা হেসে বললো
_ না থাক,,,
_ আরে বহো তো,,দেখা গেলো খাইতে খাইতে যার লাইগা অপেক্ষা করছো সে আইয়া পড়লো বহো মনা,,,
অতঃপর ভেলপুরি ওয়ালা মামার থেকে নুবা ফ্রি ফ্রি ভেলপুরি খেলো,,খাওয়া শেষে উঠার সময় সেই মামা নুবার হাতে ৫০ টাকা দিয়ে বললো
_ গাড়ি ভাড়া দিয়ে যাইয়ো,,,এটা কিন্তু হাওলাদ দিলাম পরে ফিরোত দিবা,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো আর বললো
_ আরে না না লাগবে না আমি হেঁটে চলে যাবো,
_ আরে রাখো তো মান,,,আমি কি এমনি এমনি দিতাছি পরে কোনো এক সময় এই দিকে আসলে দিয়া দিও,,,
নুবা অনেকটা আবেগি হয়ে পড়লো আর মাথা নিচু করে বললো
_ অনেক ধন্যবাদ মামা,,এখান থেকে বাসা অনেক দূর তাই এখানে বসে ছিলাম,, আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিবো,,,
মাম হেসে বললেন
_ ধন্যবাদ দিতে হবো না টাকা ফিরোত দিয়া যাইয়ো,,
নুবা এক গাল হেসে বললো
_ আচ্ছা,,, ইনশাআল্লাহ আবার আসবো,,
বলে না যার রিজিকে যা আছে তা যেকনো ভাবে আসবেই,, এমনি,,,আজো পৃথিবীতে ভালো মানুষ বেঁচে আছে,,,
নুবা এখান থেকে রিকশা নিয়ে বাসায় আসলো,,ভাড়া ঠিক ৫০ টাকায় রাখলো,,
বাড়িতে এসে নুবা একটু অবাক হলো কারণ পুরো বাড়ি খা খাঁ করছে,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে রুমে যেএ দেখলো তার মা মাত্র গোসল করে বেড় হয়েছে,,
নুবা পরিক্ষার ফাইল বিছানায় রেখে বললো
_ আজ লিভিং রুমে কেউ নেই যে,,সবাই কি রুমে নাকি,,সব খাঁ খাঁ করছে,,,
হাজেরা মাথা থেকে গামছা খুলে চুল ঝেড়ে বললো
_ কেউ বাড়িতে নেই,,,আমি আরি তানিয়া ব্যতিত,,
নুবা কলেজ ড্রেসের উপরের ,হিজাব,,,কেচি বেল ,,বেল্ট খুলতে খুলতে বললো
_ কেন,,সবাই কোথায় গেছে,,
আমিনা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ মেয়ে দেখতে গেছে,,,
নুবা আয়নার দিকে তাকিয়ে ঠোট বাঁকিয়ে বললো
_মেয়ে দেখতে গেছে মানে,,
হাজেরা বারান্দায় যেএ গামজা আর বাকি কাপড় নাড়তে নাড়তে বললো
_ ওই যে তোর মেম পরিকে দেখতে গেছে,, আমাকেও যেতে বলেছি তোর চাচি আমি যাইনি বাপ,,আমি যেএ আর কি করবো,,
বলতে বলতে হাজেরা এসে বিছানা ঝেড়ে বললো
_ গোসল করে আয় খাবার নিয়ে আসি,,,
নুবার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,,পরি মেমকে দেখতে গেছে,,,তার মানে সত্যি সত্যি এবার আয়রার নতুন মা ঘড়ে আসবে,,,ভাবতেই নুবার বুকটা চিনচিন করে উঠলো,,,
হাজেরা বেগম খাবার নিয়ে এসে বললো
_ তাড়াতাড়ি গোসলে যা শরীরে ঘাম শুকিয়ে যাবে,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে মায়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আয়রা,,,আয়ারকে নিয়ে গেছে,,,
হাজেরা বিরক্তি নিয়ে বললো
_ তা নিবে না বাবা,,,কোথায় রেখে যাবে,,সবাই গেছে,,,কেন তোর আবার কি হলো,,
বলেই মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখলো মেয়ের মুখ তার শুকিয়ে একটু খানি হয়ে গেছে,,যেনো মুখে কাল বৈশাখীর ঝড় নেমেছে,,,
হাজেরা এগিয়ে এসে নুবার এক গালে হাত রেখে বললো
_ কি হয়েছে,, এমন দেখাচ্ছে কেন,,,
নুবা কিছু একটা ভেবে তার মাকে জরিয়ে ধরে বুকে মাথা রাখলো,, হাজেরা অবাক হয়ে গেলো,, কিছু একটা বুঝতে মেরে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ কি হয়েছে,,, তুই কি আরামের প্রতি ___
নুবা মাকে থামিয়ে দিয়ে হাজেরাকে জরিয়ে ধরে বুকে মুখ গুজে ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ এ,,এবার আয়ারকে আমার থেকে আলাদা করে দিবে মা,,, আমার তো আর কোনো দায়িত্ব থাকবে না,,ওর মা চলে আসবে তাই না মা,,,
হাজেরা বুঝতে পারলো আয়রার জন্য নুবার খারাপ লাগছে,,,মেয়ের কান্না দেখে হাজেরার চোখে পানি চলে আসলো,,মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বিরবির করে বললো,,
_ ধূর পাগলী,, জীবন কত জিনিস দেয় আবার কেড়ে নেয়,,এভাবে কাঁদতে হয়,,আয়রাতো কখনোই তোর ছিলো না,, হ্যাঁ গত কত মাস ধরে তোর কাছে ছিলো তাই হয়তোবা খারাপ লাগছে তবে সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে,,,
মেয়েকে বুকের থেকে সরিয়ে দুই গালে হাত রেখে কপালে চুমু খেলো হাজেরা মুচকি হেসে বললো
_ কত্ত বড়ো হয়ে গেছে আমার নুবাইরা,,,একটা বাচ্চার জন্য কান্না করছে,,, কাঁদে না মা,, তুই জানিস তো ওই বাচ্চা তোর কিছুই ছিলো না,,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কান্না আটকে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ মা জানো তো সবাই স্বার্থপর,,প্রয়জনে এতো মিষ্টি ব্যবহার করে,, পরবর্তীতে সেই লোক গুলোই পিঠে ছুরি ঠুকে দেয়,,,তখন এতো কষ্ট হয়,যা বোঝানোর মতো না,,
হাজেরা মেয়ের চোখের পানি মুছে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৩
_ সবাই স্বার্থপর হয় না নুবাইরা,,সবাই নির্ধারিত সময়ে জন্য এসে আবার সঠিক সময়ে চলে যায় এটা নিয়তি,, যেমন দেখ তোর বাবা,,এসেছিলো আবার তোকে দিয়ে চলে গেছে,,,আর সবাই স্বার্থপর আসলেই স্বার্থপর,, যেমন আমার মেয়েকে নিয়ে আমি স্বার্থপর তার জন্য তাকে রেখে যেতে পারিনি,,না হলে বয়সটা এতোই বেশি ছিলো না _
