Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৬ (২)

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৬ (২)

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৬ (২)
রুপা

মেহমানদের জন্য গেস্ট রুম সুন্দর করে গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওনারা নাকি দিন কয়েকের জন্য এখানে থাকবেন। নিশি এতদিন বিদেশে তার মামার বাড়িতে ছিল, বাংলাদেশে এসেছে মাত্র কিছুদিন হলো। মূলত তার আর শিফার বায়নাতেই ওনারা এই সরকার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। নিশি অবশ্য আর্যকে পছন্দ করে আরও বেশ কয়েক বছর আগে থেকে—যখন আর্যও পড়াশোনা আর কাজের সূত্রে প্যারিসে ছিল।
দুই বছর আগে আর্য যখন হঠাৎ সব ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসে, তখন নিশি নিজেও আর্যর সাথে চলে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি তখন অন্যরকম ছিল; নিশির হাতে একটা বড় প্রজেক্ট থাকায় সে তখন আসতে পারেনি। আর এখন সে এসেছে সরাসরি আর্যকে নিজের মনের কথা জানিয়ে তাকে বিয়ে করার সুপ্ত ইচ্ছে নিয়ে। কিন্তু মেয়েটা এখনও জানেই না যে আর্যর বিয়ে আজ থেকে আরও তিন মাস আগেই হয়ে গেছে—নিষ্পাপ পুষ্পর সাথে!

ড্রয়িং রুমে বসে এখন বড় ভাই মেজো ভাই আর ছোট বোনের জমজমাট গল্প চলছে। আমজাদ সরকার আর আহমেদ সরকার তাদের একমাত্র ছোট বোন রেশমাকে এতদিন পর নিজের বাড়িতে দেখে বেজায় খুশি। ওনাদের সাথে গল্পে যোগ দিয়েছেন রেশমার শাশুড়ি আর শেহনাজ সরকার। এর মধ্যেই জেনিফার সরকার সবার জন্য গরম গরম নাস্তা বানিয়ে নিয়ে এলেন এবং নিজেও গল্পে শামিল হলেন। সবাই নাস্তা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছেন, এমন সময় সিঁড়ি দিয়ে গুটি গুটি পায়ে নেমে এল পুষ্প।
পুষ্পকে দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সে এইমাত্র ঘুম থেকে উঠে এসেছে। পরনে তার অলিভ গ্রিন কালারের একটা সাধারণ থ্রি-পিস, ওড়নাটা মাথায় গোল করে জড়ানো। ঘুম জড়ানো চোখের কারণে চোখ দুটো কিছুটা ফোলা ফোলা লাগছে; তার ওই গোলগাল মুখটা যেন আরও মায়াবী ও কিউট দেখাচ্ছে। দুপুরে কলেজ থেকে আসার পর সে সবার সাথে নিচে বসতে চেয়েছিল, কিন্তু শেহনাজ সরকারই তাকে জোর করে দুপুরের খাবার খাইয়ে রুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেছিলেন। কারণ তিনি জানতেন, পুষ্প নিচে থাকলে রেশমার শাশুড়ি হয়তো এটা-ওটা নিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলবেন—যা পুষ্প কিংবা ওনার নিজের, কারওরই ভালো লাগবে না। রেশমার শাশুড়ির বয়স হলেও মুখটা বড্ড আলগা, যখন-তখন বেফাঁস কথা বলে বসেন।
পুষ্পকে নিচে নামতে দেখে শেহনাজ সরকার স্নেহের সুরে তাকে নিজের পাশে ডেকে বসালেন। তারপর রেশমা আর তার শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে গর্বিত কণ্ঠে বললেন—

– “রেশমা, তোকে ফোনে বলছিলাম না আর্যর বিয়ে দিয়েছি! এই হচ্ছে আর্যর বউ, আমার ঘরের লক্ষ্মী, আমার মেয়ে পুষ্প, শুভ্রতা নূর পুষ্প।”
শেহনাজ সরকারের কণ্ঠে এক বুক গর্ব! পুষ্পকে নিজের ছেলের বউ হিসেবে পেয়ে ওনার যেন ভাগ্য খুলে গেছে—ওনার কণ্ঠস্বরে ঠিক এই ভাবটাই প্রকাশ পেল। ভাবীর কথা শুনে রেশমা মনে মনে ভীষণ খুশি হলেও, তার শাশুড়ির মুখটা মুহূর্তেই পাংশুটে হয়ে গেল। ওনার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল ওনার নিজের বাড়ির কোনো মেয়ের সাথে এই নামকরা সরকার বাড়ির বড় ছেলের বিয়ে দেবেন। নিশি যে আর্যকে মনে মনে পছন্দ করে, সেটাও তিনি নিশির মুখ থেকেই জানতে পেরেছেন। ওনার ধারণা ছিল—তাদের নিশিই সব দিক থেকে আর্যর জন্য একমাত্র যোগ্য মেয়ে; সেখানে শেহনাজ সরকার কোথা থেকে এক অনাথ মেয়েকে ধরে এনে নিজেদের ছেলের বউ বানিয়েছেন! মনে মনে চরম ক্ষোভ জমলেও, তিনি পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে মুখ ফুটে তখন কিছু বললেন না।

রেশমা হাসিমুখে পুষ্পকে নিজের কাছে ডাকলেন। পুষ্পও বাধ্য মেয়ের মতো ধীরপায়ে ওনার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। রেশমা পরম মায়ায় পুষ্পর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদর করলেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে নিশি, শিফা আর সিমরানও এসে বাকিদের সাথে যোগ দিল।
সবাই যখন ড্রয়িং রুমে বসে জমিয়ে গল্প করছে, ঠিক তখনই দীর্ঘক্ষণ পর ক্লান্ত শরীরে অফিস থেকে বাড়ি ফিরল আর্য। সে সদর দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে মেহমানদের দেখলেও তার চেহারায় কোনো রকম ভাবান্তর দেখা গেল না। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেহমানদের ভিড় ঠেলে সরাসরি গিয়ে আটকালো শেহনাজ সরকার আর রেশমার মাঝখানে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা পুষ্পর ওপর।
তখনও আর্যর আসার বিষয়টি বাকিদের কেউ খেয়াল করেনি; কিন্তু নিশি আর্যকে দেখা মাত্রই বসা থেকে প্রায় ছিটকে উঠে তীব্র গতিতে দৌড়ে গিয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল! নিশির এই আকস্মিক আচরণে আর্য সম্পূর্ণ হকচকিয়ে গেল।

এদিকে নিশিকে এভাবে হঠাৎ সোফা ছেড়ে উঠতে দেখে বাকি সবাই যখন নিজেদের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকাল, তখন তারা দেখতে পেল নিশি আর্যকে বুক ভাঙা আবেশে জড়িয়ে ধরে আছে। এই দৃশ্য চোখের সামনে দেখামাত্রই পুষ্পর বুকের ভেতরটা অজানা এক ব্যথায় মুচড়ে উঠল। আপনা-আপনিই তার অক্ষিযুগল নোনা জলে ভিজে টলমল করে উঠল। অন্যদিকে, শেহনাজ সরকারের মুখাবয়ব ইতিমধ্যে রাগে ও অপমানে শক্ত হয়ে গেছে।
আর আর্য—সে তো ঘটনাটা এত হুট করে ঘটে যাওয়ায় প্রথম কয়েক সেকেন্ড বুঝতেই পারেনি আসলে কী হচ্ছে! তবে বুঝতে পেরেই শরীর রাগে রি রি করে উঠলো। একটা মেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেছে মাথায় আসতেই পুরুষালী রাগটা দপ করে জ্বলে উঠল। সে এক ঝটকায় প্রচণ্ড শক্তিতে ধাক্কা দিয়ে নিশিকে নিজের শরীর থেকে দূরে সরিয়ে দিল। আর্যর সেই তীব্র ধাক্কার বেগ সামলাতে না পেরে ছিটকে গিয়ে শক্ত মার্বেলের মেঝেতে আছাড় খেয়ে পড়ে গেল নিশি।
মেঝেতে পড়ে গিয়ে যন্ত্রণায় ‘আহ্!’ করে উঠল নিশি। কিন্তু আর্যর সেদিকে বিন্দুমাত্র কোনো খেয়াল নেই। সে নিজের গায়ের স্যুট আর শার্টটা দু হাত দিয়ে ঝেড়ে, অত্যন্ত ক্রুদ্ধ চোখে একপলক নিশির দিকে তাকিয়ে আবার পুষ্পর দিকে তাকাল। সে দেখল—পুষ্পর চোখ দুটো কান্নায় টলমল করছে এবং অশ্রু গড়িয়ে পড়ার অপেক্ষায় আছে। পুষ্পর চোখের এই পানি দেখামাত্রই আর্যর মাথার রগ দপ করে চড়ে গেল, তার বুকের ভেতর এক তীব্র অশান্তির আগুন জ্বলে উঠল। সে নিজের মনের ভেতর দাঁত কিড়মিড় করে বিড়বিড় করে বলল—

– “যার চোখের পানি না দেখার জন্য আমার নিজের মনের সাথে এত এত আয়োজন, তার চোখের পানি ঝরাতে এখন এই বাড়িতে আরেক উটকো ঝামেলা এসে হাজির হয়েছে!”
আর্য এবার তার রক্তচক্ষু ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে মেঝেতে পড়ে থাকা নিশির দিকে তাকাল। সিংহের মতো গর্জে উঠে রাগি ও গম্ভীর গলায় বলল—
– “একদম আমার আসেপাশেও আসার চেষ্টা করবি না! আরেকবার যদি ভুলেও আমার বডিতে টাচ করার সাহস দেখাস, তোর পুরো বডিতে আমি এসিড ঢেলে দেবো। মাইন্ড ইট!”
উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে এই শেষ রক্তহিম করা হুঙ্কারটা ছেড়ে, আর্য আরও একবার পুষ্পর দিকে তার জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকাল। তারপর গটগট করে জুতো মচমচিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।

এদিকে আর্য চলে যেতেই শিফা এসে নিশিকে ধরে তুলল। নিশির মুখ ইতিমধ্যে অপমানে থমথমে হয়ে গেছে, রাগে চোখের কোণে জল জমেছে। সে নিজের হাতের মুঠো শক্ত করে ধরে রেখেছে। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে মনে মনে বিড়বিড় করে বলল—
– “একটুও বদলায়নি! আগে যেমন ছিল, এখনও ঠিক তেমনই আছে।”
এদিকে আদরের নাতনির এমন অবস্থা দেখে রেশমার শাশুড়ি মিনারা বেগম হাই হাই করে উঠলেন—
– “এ কেমন ছেলে আমজাদ? আমার নাতনি খুশি হয়ে একটু জড়িয়ে নাহয় ধরেছে, তাই বলে এইভাবে ধাক্কা দেবে? আবার মুখে বলে কিনা এসিড ঢেলে দেবে!”

কথাগুলো বলতে বলতে তিনি এগিয়ে এসে নিশিকে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন। আমজাদ সরকার কী বলবেন প্রথমে বুঝতে পারলেন না। বোনের শাশুড়িকে কীভাবে বোঝাবেন? ওনার ছেলে যে আদতে কেমন, সেটা তো বাড়ির সবাই জানে। সে মেয়েদের সবসময় এড়িয়ে চলে। সেখানে নিশি বিদেশে বড় হওয়ায় বিষয়টাকে স্বাভাবিক ভাবলেও, এই দেশে তো এসব নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব আসবেই; তার ওপর আর্য হচ্ছে চরম একগুঁয়ে আর গ্যাঁড়তড়া ছেলে! আমজাদ সরকার একবার পুষ্পর দিকে তাকিয়ে আবার শেহনাজ সরকারের দিকে তাকালেন। শেহনাজ সরকার নিজেও আমজাদ সরকারের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আমজাদ সরকার ভালো করেই জানেন, বউয়ের এই দৃষ্টির মানে কী! এখন যদি ওনার উকিল বউ বলতে শুরু করেন, তবে ওনার কড়া লজিকের সামনে মিনারা বেগমের কোনো কথাই টিকবে না; তখন বোনের শাশুড়ি উল্টো আরও বেশি অপমানিত বোধ করবেন।
তাই তিনি তড়িঘড়ি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বললেন—

– “আসলে খালা, আর্য চিরকালই একটু রগচটা স্বভাবের। তার ওপর নিশি ওভাবে হুট করে জড়িয়ে ধরেছে! তাই ও রেগে গেছে। আর রেগে গেলে আর্যর নিজের মাথার ঠিক থাকে না।”
আমজাদ সরকার এবার জেনিফার সরকারকে তাড়া দিলেন রাতের খাবারের ব্যবস্থা করতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবাই এবার টুকটাক অন্য কথা বলতে লাগল। শুধু মুখ শক্ত করে বসে রইল নিশি আর মিনারা বেগম।
কিছুক্ষণ পর সবাই খাবার টেবিলে এসে বসল। জেনিফার সরকার আর শেহনাজ সরকার কাজের লোকের সাহায্যে টেবিলে খাবার পরিবেশন করছেন। টুকটাক কথা বলতে বলতে সবাই খাবার খাচ্ছে, শুধু আর্য এখনও আসেনি। সেই যে সে রাগে গরগর করতে করতে রুমে গেছে, আর নিচে নামেনি। শেহনাজ সরকার পাশে বসা পুষ্পর দিকে তাকিয়ে মায়াবী গলায় বললেন—

– “পুষ্প মা, যা তো, আর্যকে একটু ডেকে নিয়ে আয়।”
পুষ্প বসা থেকে উঠতে যাবে, তার আগেই নিশি টেবিল থেকে চট করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল—
– “আন্টি, আমি ডেকে নিয়ে আসছি ওকে!”
এই বলে নিশি তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতে গেলেই শেহনাজ সরকার অত্যন্ত গম্ভীর ও কড়া কণ্ঠে বলে উঠলেন—
– “কোনো প্রয়োজন নেই! তুমি চুপচাপ খেতে বসো। তা ছাড়া আর্য একটু আগেই তোমাকে তার থেকে দূরে থাকতে বলেছে; আমি আশা করি তুমি তার নির্দেশ মেনে দূরেই থাকবে।”
কথাটা শেষ করে তিনি পুষ্পর দিকে তাকিয়ে নরম গলায় আবার বললেন—
– “যা, আর্যকে ডেকে নিয়ে আয়।”

পুষ্প বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নিচু করে টেবিল ছেড়ে উপরে চলে গেল। পুষ্পর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মনে মনে রাগে ফুঁসতে লাগল নিশি। সে এ বাড়িতে আসার পর থেকেই একটা বিষয় খুব ভালো করে খেয়াল করেছে—এই সাধারণ মেয়েটার প্রতি শেহনাজ সরকারের এক অন্য রকমের টান আছে, যা যে কারও চোখে লাগার মতো! সবার সাথে যিনি এমন গম্ভীর মুখে কথা বলেন, ওই মেয়ের সাথে কথা বলার সময় ওনার গলার স্বর কেমন মোমের মতো নরম হয়ে যায়! দুপুরে নিজের হাতে মেয়েটাকে খাইয়েও দিয়েছেন। নিশি মনে মনে কুটিল চোখে ভাবতে লাগল— কে এই মেয়ে? ছোট মা (রেশমা)-র মুখে তো কখনো এই মেয়ের ব্যাপারে কোনো কথা শুনিনি!

পুষ্প রুমে এসে দেখল আর্য রুমে নেই। চারদিকে চোখ বুলিয়েও কোথাও তাকে দেখতে পেল না সে। এবার ধীরপায়ে বারান্দায় গিয়ে দেখল সেখানেও সে নেই; শুধু দেখল তার সাধের খরগোশ দুটো মনের আনন্দে খেলছে। পুষ্প তাদের সামনে কিছু গাজর আর কচি ঘাস রেখে দিয়ে আবারও রুমে ফিরে এল। ঠিক তখনই দেখল আর্য ওয়াশরুমের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসছে। পরনে তার কালো রঙের টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার; ফর্সা গায়ের রঙের ওপর কালো রঙটা যেন আরও বেশি ফুটে উঠেছে। এইমাত্র গোসল করার কারণে আর্যর গায়ের ফর্সা ভাবটা যেন আরও কয়েক গুণ বেশি উজ্জ্বল লাগছে। পুষ্প চট করে নিজের চোখ নামিয়ে নিল।

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৬

আর্য পুষ্পর দিকে তাকিয়ে তোয়ালে দিয়ে ভেজা মাথাটা মুছতে মুছতে তার একদম নিকটে এসে দাঁড়াল। সে দেখল পুষ্প নিজের দৃষ্টি মেঝের দিকে নামিয়ে একদম স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে; সেটা দেখে আর্য কিছু একটা ভেবে নিজের মাথাটা একটু ঝাঁকুনি দিল। সাথে সাথে তার চুলের আগায় লেগে থাকা দু-তিন ফোঁটা শীতল পানিবিন্দু ছিটকে গিয়ে পড়ল পুষ্পর মায়াবী মুখে। পানির শীতল স্পর্শ লাগতেই কেঁপে উঠল নরম রমণীর কায়া, তবুও সে দৃষ্টি তুলে তাকাল না; কেবল মৃদু কেঁপে কেঁপে উঠতে লাগল তার চোখের ঘন পাপড়ি। পুষ্পকে তবুও চোখ তুলতে না দেখে আর্য নিজের কণ্ঠস্বর কিছুটা গম্ভীর করে বলল—
– “সাদা মার্বেলের মেঝে কি আমার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর? যে ওখান থেকে তোমার চোখই সরছে না? নাকি আমার চেহারাটা এতটাই বাজে যে তাকানোই যাচ্ছে না?”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৬ (৩)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here