Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৬

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৬

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৬
রুপা

পুষ্পকে কলেজে ড্রাইভ করে দিয়ে আর্য অফিসে চলে যায়। পুষ্প সারা’র সাথে কলেজে ঢুকে যায়। রোজকার মতো সারা’র সাথে গল্প করে ক্লাস শেষ করে তারা। কলেজ ছুটি হওয়ার পরে সারা আর পুষ্প কলেজ গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে—ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে আসলে চলে যাবে, এই আশায়।
হঠাৎ সেখানে স্নিগ্ধ এসে সারাকে ডাকে। সারা যেতে না চাইলেও স্নিগ্ধ সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। এতে পুষ্প সারাকে যেতে বলে; হয়তো জরুরি কিছু বলবে। সারা পুষ্পর জোরাজুরিতে স্নিগ্ধর সাথে যায়, তবে যাওয়ার আগে বারবার বলে যায় যেন সে ফিরে না আসা পর্যন্ত পুষ্প না যায়। পুষ্পও মাথা নেড়ে সায় জানায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎ সেখানে একটা ছেলে এসে পুষ্পর সামনে দাঁড়ায়। এতে পুষ্প দুই কদম পিছিয়ে যায়; এদিক-ওদিক তাকায়—সারা এখনো আসছে না কেন?

– “সমস্যা কী আপনার? আমাকে কেন ডেকেছেন?”
সারা’র রাগী কণ্ঠে স্নিগ্ধর মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। সে গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
– “আমাকে ব্লক করেছ কেন?”
– “আমাকে কল করেছেন তাই!”
একদম সোজাসুজি উত্তর দিল সারা।
– “কল দিলে ব্লক করতে হবে কেন? তোমার সাথে কথা বলার জন্যই তো কল দিয়েছি!”
– “আপনার সাথে কথা বলার কোনো ইচ্ছে আমার নেই, তাই ব্লক করেছি!”
– “তোমার না থাকলেও আমার আছে। আমার কথা শুনবে!”
– “আপনার কথা শোনার প্রয়োজন মনে করছি না!”
– “এই মেয়ে, তুমি এত ত্যাড়া কেন? তোমাকে নিয়ে সারা জীবন কাটাব কী করে? আমার একটা কথাও শোনো না!”

– “আমি বলিনি আমার সাথে সারা জীবন কাটাতে। আর আপনি ভাবলেন কী করে আমি আপনার সাথে সারা জীবন কাটাব? আমার থেকে দূরে থাকুন।”
– “বউ, তুমি আমার! বউয়ের থেকে কোন স্বামী দূরে থাকে?”
– “ফালতু বকা বন্ধ করুন! কোনো বউ-টউ নই আমি আপনার!”
– “তুমি বললেই হবে না, আইনত তুমি আমার স্ত্রী!”
– “আমার তো মনে পড়ছে না আমাদের কখনো বিয়ে হয়েছে। দেখুন, আবোলতাবোল বকা বন্ধ করুন। আপনি আমার কলেজের শিক্ষক, শিক্ষক হিসেবেই থাকুন। পার্সোনাল সম্পর্ক করার চেষ্টা করবেন না।”
– “আজব! চেষ্টা করব কেন? তোমার সাথে তো পার্সোনাল সম্পর্ক আছেই আমার।”
– “এসব বলার জন্য ডেকেছেন আমাকে এখানে?”
স্নিগ্ধ এবার নরম গলায় বলল—
– “নাহ। আচ্ছা, সবকিছুর জন্য সরি। এবার আমাকে ব্লক থেকে খুলে দাও।”
– “জীবনেও খুলব না।”
স্নিগ্ধ কী করবে বুঝতে পারছে না। বউটা তার এতো ত্যাড়া, একে তো তার থেকে দশ বছরের ছোট, তার ওপর তার সাথে এমন তেজ দেখাচ্ছে! এখানে অন্য কেউ হলে চড় মেরে সোজা করে দিত, কিন্তু বউ তো! বউকে কি আর মারা যায়? বউটা তার আদরের। সে বউ না জানুক, কিন্তু স্নিগ্ধ তো জানে সে তার বর! স্নিগ্ধকে চুপ থাকতে দেখে সারা চলে যেতে উদ্যত হলেই স্নিগ্ধ তার হাত টেনে ধরে।

পুষ্প এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে, এই বুঝি সারা চলে আসবে। ছেলেটা একটা ফুলের তোড়া এগিয়ে দিয়ে বলল—
– “আমাকে একটু হেল্প করতে পারবে? এই ফুলটা একটু রাখতে পারবে?”
পুষ্প দুই কদম পিছিয়ে গেল। সেটা দেখে ছেলেটা বলে উঠল—
– “আরে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই! শুধু ফুলটা একটু রাখবে, আমি আমার গার্লফ্রেন্ডের জন্য এনেছি। সে আসলেই আমি তোমার থেকে নিয়ে নেব।”
পুষ্প তবুও নিল না। সে পরিচিত মানুষদের থেকেও কিছু নেয় না, সেখানে অপরিচিত ছেলের থেকে কিছু নেওয়া তো অসম্ভব! কিন্তু এতে ছেলেটা দমে গেল না। সে আবারো বলল—

– “আরে, একটু রাখো না। আমি এই একটু যাব আর আসব। আমি এই কলেজেরই সিনিয়র।”
‘সিনিয়র’ শব্দটা শুনে পুষ্প দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেল। কলেজের শিক্ষকরা শিখিয়েছেন, সিনিয়র-জুনিয়র সবাইকে একে অপরের সাহায্য করা উচিত। পুষ্প দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে ফুলগুলো নিতে যেই না হাত বাড়াতে যাবে, অমনি চিলের মতো থাবা মেরে হাত ধরে ফেলল এক শক্ত পুরুষালী হাত। পুষ্প হকচকিয়ে গেল! যেই না চোখ তুলে হাতের মালিককে দেখল, পুষ্প ভয়ে আঁতকে উঠল—স্বয়ং আব্রাহাম আর্য সরকার! যে এখন চিলের মতো তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে আছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার দিকে। হাতে শক্ত করে ধরে আছে পুষ্পর হাত, যেন হাড় ভেঙে ফেলবে—এমনভাবে চেপে ধরে রেখেছে! পুষ্প ব্যথায় চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলল।
আর্য গম্ভীর কণ্ঠে বলল—

– “ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট ওয়ার্নিং! নেক্সট টাইম আমার ফ্লাওয়ারের আশেপাশে ভ্রমর হয়ে ঘুরবে তো নৃশংসভাবে মরবে। একটু ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল—আমি মারব। সো বি কেয়ারফুল!”
কথাটা বলে আর্য ইশারায় ছেলেটাকে চলে যেতে বলল। ছেলেটা আর্যর ভয়ংকর হুমকি শুনে রীতিমতো ভয়ে পালিয়ে গেল। তাকে তো একটা মেয়ে টাকা দিয়ে বলেছিল এই মেয়েকে যেকোনোভাবে রাজি করিয়ে তার হাত থেকে ফুলগুলো নিতে এবং হুট করে মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু ফুলগুলো নেওয়ার আগেই তো সব ভেস্তে গেল! জড়িয়ে ধরা তো অনেক দূরের কথা।
আর্য ছেলেটা যেতেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল পুষ্পর দিকে। সেই দৃষ্টি দেখেই পুষ্প ভয় পেয়ে গেল। আর্য সেটা খেয়াল করে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল; তার এই মুহূর্তে রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে—এই মেয়ে আরেকটা ছেলের হাত থেকে ফুল নিচ্ছিল? হোয়াই? তবে নিজের রাগ সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করল সে। এই মুহূর্তে রেগে যদি পুষ্পর সাথে রুড বিহেভ করে, তাহলে এই মেয়ে যেটুকু কথা বলছে, ভয়ের চোটে সেটুকুই বলবে না। তখন আবার তার থেকে দূরে দূরে থাকবে, আর তার সব শান্তি অশান্তির রূপ নেবে।
সে বড় বড় শ্বাস নিয়ে পুষ্পর হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকল নিজের গাড়ির দিকে। পুষ্প যেতে যেতে ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল—

– “সরকার সাহেব, দাঁড়ান!”
আর্য সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গেল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল পুষ্পর দিকে। পুষ্প সেই দৃষ্টিতে তাকিয়ে মিনমিন করে বলল—
– “সারা না আসা পর্যন্ত দাঁড়াতে বলেছিল আমাকে।”
পুষ্পর কথা শুনে আর্যর ভ্রু কুঁচকে গেল। সেভাবেই জিজ্ঞেস করল—
– “কে সারা?”
– “আমার বান্ধবী!”
– “কোথায় গেছে?”
– “স্নিগ্ধ স্যারের সাথে গেছে!”
– “তো গেছে তো গেছে! তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে কেন?”
– “সারা যাওয়ার আগে বলেছে সে না আসা পর্যন্ত না যেতে। এখন চলে গেলে সারা দুশ্চিন্তা করবে।”

পুষ্পর কথা শুনে আর্যর বিরক্তি ও রাগ যেন থরথরিয়ে বাড়ছে। সারার ওপরেও যেন ক্ষোভ চেপে বসল—ওই মেয়ে তার ‘ফ্লাওয়ার’-কে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছে, বিধায় একটা ছেলে তার ফ্লাওয়ারকে ফুল দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে! আর্যর অফিসে মিটিং না থাকায় ড্রাইভারের বদলে সে নিজে এসেছিল পুষ্পকে নিয়ে যেতে, কিন্তু অর্ধেক আসার পরেই একটা আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ আসে, যেখানে লেখা ছিল—‘তোমার বউ অন্য ছেলের সাথে জড়িয়ে ধরে আছে।’ মেসেজটা পড়ার দশ মিনিটের মাথায় সে চলে আসে। এসে দেখে পুষ্প জড়োসড়ো হয়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে, আর ছেলেটা বারবার ফুলগুলো পুষ্পর দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। কিছুক্ষণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পুষ্প যেই না হাত বাড়াবে, অমনি আর্য এগিয়ে যায়। সবকিছু মিলিয়ে এখন আর্যর রাগ গিয়ে পড়ছে সারার ওপর—ওই মেয়ের জন্য তার ফ্লাওয়ার রোদে দাঁড়িয়ে আছে!
আর্য এবার গম্ভীর গলায় বলল—

– “কোনো প্রয়োজন নেই! আজকে থেকে তুমি কলেজের গেট থেকে বের হয়ে সোজা গাড়িতে বসবে, কারো সাথে দাঁড়াবে না।”
আর্যর কথা শুনে পুষ্প মুখ কালো করে ফেলল। আর্য ইনডাইরেক্টলি সারা’র সাথে না দাঁড়াতে বলছে, পুষ্পর বুঝতে বেগ পেতে হলো না। কিন্তু সে চুপ করে থাকল না, মিনমিন করে বলল—
– “কিন্তু ও আমার বন্ধু, ওর সাথে দাঁড়ালে কী সমস্যা?”
আর্য অবাক হয়! এই মেয়ে তো তার মুখের ওপর কথা বলে না, তার কথার জবাব পর্যন্ত দেয় না; সেখানে একটা বাইরের মেয়ের জন্য তার কাছে জবাবদিহি চাইছে! তার মানে ওই সারা নামের মেয়েটা এই মেয়ের কাছে ইম্পর্ট্যান্ট? এই কারণে তাকে ভয় পাওয়ার সত্ত্বেও তার মুখের ওপর জবাব দিচ্ছে? কিন্তু এটা আর্য মানতে পারল না। এই মেয়ে তার একটা সাধারণ কথার জবাব দেয় না, আরেকটা বাইরের মেয়ের জন্য তার কাছে জবাবদিহি চাইছে কেন? তার থেকেও ওই মেয়ে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট? তার মাথায় আবার আগুন জ্বলে উঠল! সে এবার গম্ভীর কণ্ঠে বলল—

– “ওই মেয়ে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট নাকি আমি ইম্পর্ট্যান্ট?”
হঠাৎ আর্যর এমন প্রশ্নে ভড়কে গেল পুষ্প। কী বলছেন সরকার সাহেব এসব! এতে ইম্পর্ট্যান্টের কি আছে? সারা তার বান্ধবী, খুব ভালো বান্ধবী। কলেজে আসার পর থেকে তার সবকিছুতে পাশে থাকে, তার সাথে গল্প করে, সে সারা’র সাথে হাসতে পারে, মন খুলে কথা বলতে পারে। কিন্তু সরকার সাহেব তার বর, তিনিও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভয় পেলেও, ধমক দিলেও, রাগ করলেও বর তো বরই—বর সবার আগে। কিন্তু তার বান্ধবীও গুরুত্বপূর্ণ। সে চুপ করে রইল, কোনো উত্তর দিল না।
এতে যেন আর্যর রাগ আরো বাড়তে লাগল। আর্য এবার গম্ভীর কণ্ঠে দাঁতে দাঁত চেপে বলল—

– “আমি ব্যতীত তোমার লাইফে কিছুই ইম্পর্ট্যান্ট থাকবে না। আমি থাকতে দেব না। তোমার লাইফে ফার্স্ট অ্যান্ড লাস্ট সবকিছু আমি থাকব। তোমার প্রায়োরিটি লিস্টে সবসময় সবার ওপরে থাকবে এই আব্রাহাম আর্য সরকার। আমার চেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট তোমার লাইফে কিছুই থাকবে না, আমি রাখব না!”
কথাগুলো বলে পুষ্প কে নিয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল আর্য। সামনের সিটে পুষ্পকে বসিয়ে দিয়ে নিজে ড্রাইভিং সিটে বসল। সিট বেল্ট বেঁধে দিল। গাড়ি স্টার্ট দিল সরকার বাড়ির উদ্দেশ্যে। এদিকে পুষ্প মন খারাপ করে কলেজ গেটের দিকে তাকিয়ে আছে সারা এসে তাকে না দেখলে কি মন খারাপ করবে না?
এদিকে আর্য আর পুষ্প চলে যেতেই কিছুটা দূরে একটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা নিশি বেরিয়ে এল। সে রীতিমতো রাগে-দুঃখে কাঁপছে। তার প্ল্যানমাফিক কিছুই হয়নি! আর্য এত তাড়াতাড়ি কীভাবে চলে এল? সে অফিসে থাকলে তার মেসেজ পেয়ে আসতে আসতে তো আধা ঘণ্টার চেয়ে বেশি লাগার কথা; ততক্ষণে ছেলেটা পুষ্পকে জড়িয়ে ধরতে পারত। কিন্তু সব ভেস্তে দিল আর্য! নাহ, সে দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। আর্যকে সে নিজের করেই ছাড়বে, যেভাবেই হোক না কেন! আর্য তার নিজের জিনিসে অন্য কারো স্পর্শ পর্যন্ত সহ্য করে না, সেখানে বউকে আরেকটা ছেলে জড়িয়ে ধরেছে—সেটা দেখলে আর্য কী করতে পারে, তার কিছুটা ধারণা আছে নিশির। সে এবার পুষ্পকে এমনভাবে ফাঁসাবে যে, চাইলেও আর্য কিছুই করতে পারবে না। নিশির কুটিল চিন্তা পুষ্পর জীবনকে কোন নরকে ঠেলে দেবে, কে জানে!

আর্য পুষ্পকে নিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে এল। দুপুরের সময় হওয়ায় ড্রয়িং রুমে কেউ ছিল না; হয়তো যে যার রুমে অথবা ছেলেরা নিজেদের কর্মস্থলে। আর্য পুষ্পকে নিয়ে রুমে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিল। সারা রাস্তা আর্য একটা টু শব্দ করেনি, দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে রেগে আছে, পুষ্প এখনো প্রচুর ভয় পাচ্ছে। আর্য তাকে খাটে বসিয়ে দিল, ব্যাগটা একপাশে রেখে দিল। পুষ্পর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল—
– “ওই ছেলেটার হাত থেকে ফুল নিতে চাচ্ছিলে কেন?”
পুষ্প চোখ নামিয়ে নিল। জড়োসড়ো হয়ে মিনমিন করে বলল—
– “ওই ভাইয়াটা নাকি আমাদের সিনিয়র। আর শিক্ষকরা বলেছেন, সিনিয়র-জুনিয়র সবাইকে সাহায্য করা উচিত!”
পুষ্পর কথা শুনে আর্যর ভ্রু কুঁচকে গেল। এখানে ফুল নেওয়ার কথা হচ্ছে, সাহায্যের কথা কোত্থেকে এল? সে এবার গম্ভীর কণ্ঠে বলল—

– “আমি তোমাকে ফুল কেন নিচ্ছিলে সেটা জিজ্ঞেস করেছি, এখানে সাহায্যের বিষয় কোত্থেকে এল?”
– “ভাইয়াটা বলেছিল ফুলগুলো নিয়ে সাহায্য করতে। ভাইয়া নাকি গার্লফ্রেন্ডের জন্য এনেছে; গার্লফ্রেন্ড আসেনি, সে আমাকে ফুলগুলো রাখতে দিয়ে গার্লফ্রেন্ডকে আনতে যাবে!”
পুষ্পর কথা শুনে আর্য চোখ বন্ধ করে তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কী বলবে বুঝতে পারছে না, এই মেয়ে এত বোকা কেন? এত সরল হলে এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায় টিকবে কী করে? ওই ছেলে ফুলগুলো নিয়ে নিজেই নিজের গার্লফ্রেন্ডকে আনতে যেতে পারত। ছেলেটা ইচ্ছে করে এসেছিল এই মেয়ের কাছে, কিন্তু সেটা বুঝতে পারছে না পুষ্প। আর তাকে মেসেজটা কে পাঠাল? যে জানে এই মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক কী—কে হতে পারে সে?
সে সব ভাবনা ঝেড়ে ফেলে পুষ্পর দিকে তাকাল। দেখল পুষ্প মাথা নত করে বসে আছে। সে এবার কণ্ঠটা কিছুটা নামিয়ে, যথাসম্ভব নরম করার চেষ্টা করে বলল—

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৫

– “এরকম ফুল হলে চলবে না, ফ্লাওয়ার। তোমাকে আরেকটু ম্যাচিওর হতে হবে। কে কেন তোমার কাছে আসছে, কী উদ্দেশ্যে তোমার সাথে কথা বলছে—সব তোমাকে বুঝতে হবে! এখন যাও, ফ্রেশ হয়ে নাও।”
পুষ্প যদিও আর্যর কথার সঠিক মানে বুঝতে পারল না, শুধু এইটুকু বুঝল তাকে আরও ‘বুঝদার’ হতে বলছে আর্য। কিন্তু তাকে তো ফুফুমণি বলেছে সে বেশ বুঝদার মেয়ে! তাহলে সরকার সাহেব বুঝদার হওয়ার কথা কেন বলছেন? তবুও সে কিছু জিজ্ঞেস করল না। ব্যাগ থেকে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
পুষ্প ওয়াশরুমে ঢুকতেই আর্য কাউকে কল করল। রিসিভ করতেই আর্য বলে উঠল—
– “একটা নাম্বার সেন্ড করছি, ডিটেইলস বের করো!”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ২৬ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here