নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবা এই ভরা সন্ধ্যায় শুয়ে আছে,,বিকালের ওই কাহিনির পর থেকে তার কিছুই ভালো লাগছে না,,এভাবে মানুষ টাকে বয়স নিয়ে অপমান করে,,, বিবাহিত বলে চরিত্রহীন বলা নিজের কাছেই খুবি খারাপ লাগেছে নুবার তবে যাতে দূরে সরে যায় তাই তো এই ব্যবস্থা,,,
কেটেছে দুটো দিন,,তবে এর ভিতরে আরহামের সাথে নুবার একবারো দেখা হয়নি,,,হবে কি করে সে রুম থেকেই বেড় হয়নি,,আর না আরহাম ইনিয়ে বিনিয়ে এসেছে,,,আয়রাকে পরি,,আমিনা বেগম নিয়ে আসে আবার ফিড করিয়ে নিয়ে যায়,,সেই দিনের পর থেকে আয়ারকে তার নুবার কাছে বেশি সময় রাখা হয় না বললেই চলে,,,নুবা বুঝে কেনো রাখা হয় না,,তবে সে অভিযোগ করে না,, নিজেকে বুঝিয়ে নিয়েছে,,,
সকাল সকাল আয়রার কান্নায় আরহামের ঘুম ভেঙ্গে গেলো,, আরহাম ঘুমঘুম চোখে উঠে বসলো,,আয়ারকে কোলে নিয়ে বিরবির করে বললো
_ কি হয়েছে আমার মার,,,এতো কান্না কাটি,,,
আয়ার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে,,, আরহাম উঠে বসে নগ্ন গায়ে মেয়েকে নিয়ে নিচে আসে,,,পরপর গলা ছেড়ে ডাকে সে
_ পরি,,পরি,,,
পরি আমিনা বেগমের সাথে রান্না ঘড়ে বসে রান্না দেখছিলো তবে আরহামের ডাক শুনে পরির মনটা আনচান করে উঠলো,,পরি জ্বলজ্বল দৃষ্টিতে আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনার ছেলে কি আমাকে ডাকছে,,,
_ হ্যাঁ,,তাই তো শুনলাম,,,
পরি একটু হেসে এক প্রকার ছুটে আরহামের সামনে গেলো,,,পরপর ঠোঁটে হাঁসি টেনে বললো
_ ডাকছিলেন,,,
আরহাম আয়ারকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ হুম,,ওকে একটু ফিড করিয়ে নিয়ে আসো,,,
পরি এক গাল হেসে আয়ারকে কোলে নিয়ে চুমু খেলো,, আরহাম যেতে যেতে আবার ফিরে এসে বললো
_বসে থেকে খাওয়া শেষ হলে নিয়ে আসবে,,আমি চাই না কেউ আমার মেয়ের দাঁড়া বিরক্ত হোক,
পরি মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা,,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে চলে গেলো,,পরি আয়ারকে আর একটা চুমু খেএ বললো
_ সকাল সকাল ঘুমন্ত পাপাকে কান্না করে জাগিয়ে ফেললেন দুষ্টু মেয়ে,,
আয়রা পরির বুকের সাথে লেগে কান্না করে,,পরি আস্তে আস্তে নুবার রুমের দিকে এগিয়ে গেলো,,,
নুবা তখন শুয়ে আছে,,এছাড়া আর কি করবে সে,,, মোবাইল টাও অফ করে ড্রয়ারে ফেলে রেখেছে,,,নুবার মোবাইল ঠিক করতে দেওয়া হয়েছে,,৩/৪ দিনের ভিতরে ঠিক হয়ে যাবে বলেছে হাজেরা,,,
পরি আয়ারকে নিয়ে রুমে প্রবেশ করে বললো
_ ওকে একটু খাওইয়ে দেও তো নুবা,,
নুবা টিপটিপ করে তাকালো,, ঝাপসা চোখে আয়রাকে দেখে ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,আগের মতো গল্প করা হয় না আয়রার সাথে,,সে ছেড়ে দিয়েছে সব কিছু,,,
নুবা হাতের ইশারায় আয়রাকে চাইলো,,পরপর তাকে বুকে আগলে নিয়ে ফিড করাতে লাগলো,,,খাবার পেয়ে আয়রা চকচক শব্দ তুললো নুবা চোখ বন্ধ করে নিলো,,পরি সামনে বসে রইলো,,টানা আধ ঘন্টা খানিক পর আয়রা নুবাকে ছেড়ে দিলো,,,আয়রা নুবাকে ছাড়তেই পরি কোলে তুলে নিতে চাইলো,,নুবা চম্কে উঠে বললো
_ থাক না,,,একটু পরে নিয়ে যেয়েন,,
পরি শান্ত কন্ঠে বললো
_ ওর আব্বু বলেছে খাওয়া শেষ হলে আমাকে নিয়ে যেতে,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ ও,,,
পরি আর কথা বাড়ালো না,, আয়ারকে নিয়ে চলে গেলো ,,নুবা ওভাবেই শুয়ে রইলো,,পরপর বালিশে মুখ গুজলো,,চোখ দুটো ভিজে উঠলো তার,,,কেনো সে জানে না,,,নুবা কিছু সময় পর বালিশ থেকে মুখ সরিয়ে উঠে বসলো,,,বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো তার,,
সকালের নাস্তার টেবিলে সবাই বসে আছে,,,নুবাও আছে,,আজকে এসেছে সে তবে গত দুই দিন আসেনি,,,
সে যার মতো নাস্তা করছে,হারুন মির্জা সহ বাড়ির সবাই উপস্থিত আছে,,,তবে কারো মুখে কোনো কথা নেই,,,
নুবা খেতে খেতে একবার আড় চোখে আরহামের দিকে তাকালো তবে সে খাওয়ায় ব্যস্ত,,, এদিকে হাজেরা কেন জানি চিন্তিত গত দুই দিন ধরে আরহাম তার মেয়েকে পাত্তাও দিচ্ছে না,,এতে অবশ্য সে খুশি তবে তার কোথাও একটা সন্দেহ হচ্ছে,,,তাও সে বড্ড আনন্দে আছে,,,
খাওয়ার ভিতরে হঠাৎ আরহামের প্লেটে চামচ ঘুরিয়ে বললো
_ আমি চাচ্ছিলাম পরি যাতে আয়ারকে ফিড করায়,,এতে পরির মতামত জেনে নেওয়ার ছিলো আমার,,,
আরহমের কথায় সবাই তার দিকে তাকালো,,,নুবা রুটি ছিরছিলো তবে তার হাত থেমে গেলো,,, কেমন অদ্ভুত লাগলো,পরপর শুকনো ঢোক গিলে রুটি ছিরে মুখে পুড়লো,,,
আমিনা বেগম আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কিন্তু সেইদিন তো বলললি নুবা,,,,
আরহাম তার মাকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ বলেছিলাম তবে আমার মনে হচ্ছে ফিডিং এর কারনে পরি আর আয়রার বোর্ডিং ভালো হবে,,,আর এমনিতেও এতে নুবার সমস্যা হচ্ছে,,তখন উপায় ছিলো না তাই ওকে বাধ্য করা হয়েছিলো তবে ওর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী আমি,,,আমি চাই না আর এই ঝামেলা বাড়ুক,,,আয়রার কারনে ওর সমস্যা হতে পারে,, সেদিন তো ওর মা বললো কয়দিন পর ভার্সিটিতে উঠে যাবে তার পর বাড়িতে থাকবে কিনা,,এই জন্য আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি,,,,
পরপর আরহাম পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ তোমার কি মতামত পরি,,,
পরি মাথা নিচু করে মলিন কন্ঠে বললো
_ আপনি যা বলেন,, আমার সমস্যা নেই,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ তাহলে আর কিছু বলার নেই,,,আর নুবা,,(বলেই নুবার দিকে তাকালো,)এবার থেকে মেডিসিন নেওয়ার দরকার নেই,,, তুমি যা সাহায্য করেছো তা আমি কখনোই সুধাতে পারবো না,,, Thank you so much,,তবে তুমি এর বদলে যদি কিছু চাও তাও দেওয়া হবে,,যেকনো সময় তুমি এর বিনিময়ে কিছু চাইতে পারো আমি দেওয়ার চেষ্টা করলো,,
নুবা চুপচাপ কথা গুলো শুনে হাসলো,,,,মনে মনে ভাবলো
_ ব্যবহার করা শেষ তবে,,,যাক গ্গে ভালোই হয়েছে,,,
অতঃপর মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমার কিছুর প্রয়োজন নেই,,,
বলেই প্লাট নিয়ে উঠে গেলো নুবা,,,বেসিন থেকে হাত ধুয়ে রান্না ঘরে চলে গেলো,,,
আমিনা বেগম পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ তাহলে কি আজকে হসপিটালে নিয়ে যাবো ওকে আরহাম,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ হুম,,,
নুবা রুমে যেএ মেডিসিনের box টা খুলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সব পাতা থেকে প্রয়জন মতো খেএ নিলো,,
হাজেরা রুমে এসে মেয়েকে মেডিসিন নিতে দেখে বিরক্ত নিয়ে বললো
_ তোকে না ওষুধ খেতে বারন করলো,,
নুবা ওষুধ গিলে পানি মুখে দিয়ে আর ভালো মতো গিলে নিলো,,পরপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ যতদিন পরিমেমর বুকে দুধ না আসে ততদিন তো খাওয়াতে হবে,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,নুবা বারান্দায় যেএ বসলো,,বুকটা ভারি হয়ে আছে তার,,, হয়তোবা আয়রার সাথে তার পথোযাত্রা তবে শেষ হবে,,নুবার বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,আবেগে চোখ দিয়ে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো,,এতো মায়া হচ্ছে,,,সে কি আসলেই আয়ারকে ভালোবাসেনি,, সেদিন মুখের উপর তো বলে দিলো তবে আসলেই কি এমন,,??
কিছু সময় পেড়িয়ে গেলো,,পরপর আরহামের গলার শব্দ শুনা গেলো,,নুবা ভুরু কুঁচকে বারান্দা থেকে ভিতরে আসলো,,পরপর নজরে পড়লো আরহাম তার মায়ের সাথে আলাপ করছে,,
হাজেরা ক্ষুন্ন কন্ঠে বললো
_ দেখো বাবা কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই আমার বা নুবার,,,
আরহাম টাকা গুলো বিছানায় রেখে বললো
_ আমি চাইছি না আমার মেয়ের উপর কেউ দয়া করুক বা ভিক্ষে হিসাবে তার ক্ষুধা নিবারণ করুক,,আমি জানি এই ঋণ শোধ করা অসম্ভব তবু আমি এটা উপহার হিসাবে দিলাম,,এতো মাস নুবা আমার মেয়ের জন্য অনেক সাফার করেছে,, আমার মেয়ের জন্য ওর শারীরিক ভাবে অনেক ক্ষতি হয়েছে,,তবে আমি চাই অন্ততপক্ষে এক অংশ হলেও আপনাদের দেওয়া সহানুভূতি একটু শোধ হোক,,,
হাজেরা শান্ত কন্ঠে বললো
_ দ্বিতীয় বারের মতো এই কাজটা করলে তুমি,,, তোমার কি মনে হয় আমারা এগুলো গ্ৰহন করবো,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ কেনো করবেন না,,,আমি তো বল্লাম আমার মেয়ের প্রতি কেউ দয়া দেখার বা সহানুভূতি দেখার,,অথবা এতিম ভেবে আগলে নিক আমি চাই না,,,আমি শুধু এটা আয়রার তরফ থেকে দিচ্ছি,,আশা রাখছি ফিরিয়ে দিবেন না,,,,আর যদি দেন,,,,,
থামলো আরহাম,,, হাজেরার পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা নুবার দিকে এক পলক তাকিয়ে আবার হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো
_ যদি ফিরিয়ে দেন তবে মনে করবো আপনারা আমার মেয়েকে উটকো ঝামেলা ব্যতিত কিছু মনে করেননি,,,না হলে অসহায় তার প্রতি আফসোসের সুর টেনে দয়া দেখিয়েছেন,,,যা আমি ভাবতেও চাই না,,,আশা করি নিজের প্রাপ্ত টুকু বুঝে নিবেন,,কারো দয়া বা সহানুভূতি আমি চাই না,,,,
হাজেরা বেগম কিছু বলতেই যাবে তার আগেই নুবা বলে উঠলো
_ যা দিচ্ছে নিয়ে নেও মা,,, কারণ সে তো বারবার বলছে,,এই ভিক্ষা,,দয়া সহানুভূতি সে চায় না,,,তবে নিজের প্রাপ্ত টা বুঝে নিতে আমার আর কি,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে সুধালো,,,
_ যদি আরো দরকার হয় নিতে পারো,,তবে আপাতত আমার কাছে ক্যাশ এতো টুকুই আছে,,,
নুবা তাছ্যিলো করে বললো
_ প্রয়োজন পড়লে নিবো চিন্তা করবেন না,,
_ অবশ্যই,,,
বলেই আরহাম চলে গেলো,,হাজেরা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এটা কি নুবাইরা,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এতো করে দিচ্ছে,,না করার মানে আছে,,এতো দিন আমার শরীরের রক্ত চুষে খেয়েছে তার বদলে আমারো কিছু প্রাপ্ত,,তাই না
হাজেরা মেয়ের কথায় হতভম্ব হয়ে গেলো,,,নুবা টাকা গুলো নিয়ে ড্রয়ারে রেখে বললো
_ প্রয়জন হলে নিয়ে খরচ করেব,,,(বলেই আবারো বারান্দায় চলে গেলো,,,মুখে বিদ্যমান রইলো অদ্ভুত হাসি,,কতটা কষ্ট কতটা বেদনা তা তার নিজেরি ধরনা নেই,,সময় ফুরিয়ে এসেছে,,এই সব ভাবলেও নিজেকে বলদ মনে হবে)
আরহাম কপালে হাত দিয়ে বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে এমন সময় পরি এসে দরজায় কড়া নাড়লো,,, আরহাম চাঁপা কন্ঠে বললো
_ ভিতরে আসো,,
পরেই দরজা ঠেলে ভিতরে ডুকে ঘুমন্ত আয়রাকে বিছানায় পাইল করে শুইয়ে দিলো,,, আরহাম এক পলক পরির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,পরি আয়রাকে রেখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললো
_ আপনার আম্মু জিজ্ঞেস করতে বলেছে,,যে কিছু লাগবে আপনার,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ না,,
_ আচ্ছা,,
পরি চলে যেতে নিলো,, আরহাম শান্ত কন্ঠে তাকে ডেকে বললো
_ কিছু কথা ছিলো,,,
পরি চোখ তুলে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_বলুন,,
আরহাম উঠে বসলো,,, অতঃপর কিছু সময় নিয়ে বললো
_ আমি বিবাহিত,, আমার এক বাচ্চা আছে,,,এমনকি বয়সও বেশি,,তার পড়েও কেন বিয়েতে রাজি হলে,,
পরি মৃদু হেসে বললো
_ দুটো কারণ আছে তবে আপনাকে একটাই বলবো,,তা হলো আয়ারকে আমার প্রচন্ড ভালো লেগেছে,,ফ্রি ফ্রি একটা husband এর সাথে বেবি পেলে মন্দ হয় না,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ তোমার সমস্যা হবে না এই সব বিষয়ে,,,
_ না তো,,,
আরহাম কিছু সময় নিরব থেকে বললো
_ আমি অন্য কাউকে ছুয়েছি পরি,,আয়রা অন্য কারো গর্ভে ছিলো,,,এতে কি তোমার সমস্যা হওয়ায় কথা না,,, না মানে husband হবো তোমার,,,তোমাক ছুঁলে কি শরীর ঘৃন ঘৃন করে উঠবে না,, কারণ এর আগে তো আমি আমার প্রথম স্ত্রী কে স্পর্শ করেছি,, আমার সাথে ফিজিক্যাল রিলেশনে যাওয়ার সময় তোমার খারাপ লাগবে না,,,
পরি আরহামের সোজাসুজি কথায় একটু বিব্রত হলো তাও শান্ত কন্ঠে বললো
_ না,, আমার কেন সমস্যা হবে,,এটা natural বিয়ে করলে ঘনিষ্ঠ হবে এটাই তো স্বাভাবিক,,,তাই না,,এটা নিয়ম এতে নিন্দা করার কি আছে,, অবশ্য সবার মতামত এক না তবু,, আমার সমস্যা হবে না,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ used মাল আমি,, ব্যবহার করা জিনিস,,,বয়সো বেশি,,,তবু সমস্যা হচ্ছে না,,,why,,,
পরি ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি আজব আজব কথা বলছেন আপনি,,,আমি সব জেনেই তো রাজি হয়েছি,,আর দুনিয়াতে প্রতিদিন মানুষ ২/৩ টা করে বিয়ে করতে তাতে কি,,আর বয়স কোনো মেটার করে না,,তার উপর আপনি তো মাত্র আমার থেকে ৪/৫ বছরের বড়,,কি আর সমস্যা হবে,,
আরহাম শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ যদি ১৩/১৪ বছরের গেপ হতো তবে কি একি কথা বলতে,,,
পরি একটু হেসে বললো
_ অবশ্যই,,, আমার বাবাও আমার আম্মুর থেকে ১১ বছরের বড়,,আমি যতটুকু জানি আপনার আম্মুও আপনার বাবার থেকে ৯ বছরেল ছোটো,,so what,,,তবে অবশ্য সবার একটা আশা থাকে যে তার life পার্টনার তার থেকে কত বছরের বড় হবে,,এটাই আসল কথা,,,যার যার ইচ্ছা আরকি,,,
আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ও,,,ক্যাস তোমার মনভাব আর সবার মনভাব এক হতো,,,
আরামের বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,,
পরি মৃদু কন্ঠে বললো
_ আর কিছু বলবেন,,,
_ না যাও,,বিকালে তো আবার তোমাকে নিয়ে হসপিটালে যেতে হবে,,
পরি এক গাল হেসে বললো
_ আচ্ছা,,,
সে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,, আরহাম চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো,,নিজের উপর বিরক্ত সে,,,,মেয়েটার ভিতরে এমন কিছু নেই যে তার এভাবে মনের ভিতরে আঁকড়ে রাখতে হবে তবু কেন এমন হচ্ছে,,পরি ওই মেয়ের থেকে,,রুপে গুনে,,পড়ালেখায়,, এমন কি মনভাবেও হাজার গুণ বেটার,,তাহলে কেন পরিতে মন লাগতে পারছে না,,,
দুপুরের খাওয়া দাওয়া করে সবাই রেডি হচ্ছে হসপিটালে যাওয়ার জন্য,,,পরি রেডি হয়ে আয়রাকে নিয়ে নুবার কাছে গেলো,,,একটু খাওইয়ে নিলে ভালো হবে,,,
পরি রুমে এসে নুবাকে খুঁজলো,,নুবা ক্লান্ত মুখে বসে আছে পরি এগিয়ে যেএ বললো
_ ওকে একটু খাওইয়ে দিতে যদি,,,
নুবা ক্লান্ত চোখে পরির দিকে তাকালো ,,, বিছানায় হেলান দিয়ে বসে দুই হাত বাড়িয়ে দিলো সে,,,
পরি আয়রাকে এগিয়ে দিলো,,,,নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ হসপিটালে যাচ্ছেন,,,
পরি একটু হেসে বললো
_ হ্যাঁ,,,
নুবা পরির দিকে চাইলো,,কি সুন্দর মিষ্টি হাসি,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো আসলেই পরি খুবি ভালো একটা মেয়ে,,,
পরি নুবার পাশে বসলো,,নুবা ক্লান্ত হাতে আয়রার শরীরে ছুঁয়ে দিলো,,তার ছোট্ট ছোট্ট হাত দুটো নিয়ে চুমু খেলো,,বুক ভেঙ্গে আসলো তার,,,এতোটা বেদনা দায়ক কষ্ট হচ্ছে,,
নুবা কিছু সময় আয়রার ছোট্ট হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরে রাখলো ,,,পরি নুবার দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বললো,,
_ তোমার খারাপ লাগছে বুঝি,,,
নুবা পরির কথা শুনে মৃদু কন্ঠে বললো
_ হয়তোবা,, একটু আকটু লাগছে,,,
বলতে বলতে নুবার চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,পরি মলিন দৃষ্টিতে তাকালো কিছু সময় র বললো
_ তোমার কি অনেক কষ্ট হয়েছিলো,,
নুবা ঘাড় ঘুরিয়ে পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ মানে,,,
_ ওই যে,,, কৃত্রিম ভাবে দুধের কথা বলছি,,,
পির কথায় নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ জানি না, আমার হয়েছিলো তবে আপনার নাও হতে পারে ,,তাই না,,,সবার শরীর তো এক না,,,তবে প্রথম দিকে বুকে একটু আকটু ব্যাথা হতে পারে, স্বাভাবিক,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,
নুবা আয়রার দিকে তাকিয়ে দেখলো সে খাচ্ছে আর তাকিয়ে আছে,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আন্টি কে তো ভুলেই যাবেন,, এখন তো আম্মু চলে আসছে,, আমার আর দরকার নেই,,তাও আমাকে একটু আকটু মনে রাখলে খুশি হতাম আর কি,,,
আয়রা খেতে খেতে নুবাকে কথা বলতে দেখে হাসলো,,,নুবার কন্ঠ নালি কেঁপে উঠলো,,আয়রাকে বুকের সাছে জরিয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ পঁচা মেয়ে শুধু হাসে,,,
পরি নুবার কান্না দেখে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আয়রাকে খুব ভালোবাসো তাই না,,,
নুবা আয়রার শরীয়ে হাত বুলিয়ে নাচোক করে বললো
_ না,, ভালোবাসার একটা যোগ্যতা থাকতে হয় তা আমার নেই,,, বাচ্চা মানুষ ভালো লাগে,, বাচ্চা কার না ভালো লাগে,,,
পরি ঠোঁট চেপে বললো
_ তা তো তোমার কান্না দেখেই বোঝা যাচ্ছে,,, আমার কোনো ইচ্ছা নেই কাউকে কষ্ট দিয়ে বাচ্চাটাকে নিয়ে নেওয়ার তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া তো আমাদের কর্তব্য,,,আজ হোক বা কাল হোক আয়রাকে তো আমার কাছে দিতেই হতো,,,পরে আরো কষ্ট হতো এখনি ভালো তাই না,,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,, উপরন্তু আয়রার খাওয়া শেষ হতেই পরি নিয়ে চলে গেলো,,,নুবা চুপচাপ অসহায়ের মতো বসে থেকে চিন্তিত হলো,,,এবার তার মনে হলো আরহামকে ফিরিয়ে দেওয়া কি উচিত হয়েছে তার,,,সে চাইলেই তো আয়রা তার হতো,,,নুবার ধরে গেলো,, কন্ঠ কেঁপে উঠলো,,,নাক টানলো সে,,,এতোটা খারাপ লাগছে কেন,,
আরহাম বিরক্তিকর কন্ঠে বললো
_ দুপুরে বেড় হবো বলতে বলতে বিকাল হয়ে যাচ্ছে,,,
পরি আরহামের বিরক্ত মাখা কন্ঠ শুনে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আম্মু আসছে,,, একটু অপেক্ষা করতে বলেছে,,,
আরহাম সোফায় শরীর হেলিয়ে বসলো,,,নুবা হাজেরার থেকে অনুমতি নিতে রেডি হয়ে বাইরে বেড় হলো,,সে একটু বাইরে যাচ্ছে,,তবে বাইরে বেড় হয়ে এখনো তারা হসপিটালে যায়নি দেখে নুবার ভুরু কুঁচকে গেলো,,পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনারা এখনো যাননি,,,
পরি শান্ত কন্ঠে বললো
_ আম্মুর একটু দেরি হচ্ছে,,উনি বেড় হলেই যাবো,,
_ ও,,,
নুবা হাতের পার্স চেপে ধরে বাইরে চলে যেতে লাগলো,,, আরহাম ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকালো,,পরপর চোখ সরিয়ে নিলো,,
নুবা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রিকশার জন্য,,হাত ঘড়িতে সময় দেখছে সে,,,প্রায় চারটা বাজে,, এমন সময় মির্জা বাড়ি থেকে একটা গাড়ি বেড় হয়ে আসলো,,,নুবার সামনে ছুটে চলে গেলো,,তবে আবারো ফিরে আসলো গাড়িটি,,
নুবা ভুরু কুঁচকে সেদিকে তাকালো,,,গাড়ির পিছনের দরজা খুলে আমিনা বেগম নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ কোথায় যাচ্ছিস,,,
নুবা এক পলক আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_এলিট সিটি রোডে যাচ্ছি,,,, আম্মু মোবাইল ঠিক করতে দিয়েছিলো সেটাই আনতে যাচ্ছি,,,
_ আমরাও হসপিটালে যাচ্ছি,,,তোকে ছেড়ে দিবোনে,,,এলিট সিটি রোড পাড় করেই তো যাবো,,
নুবা একটু ভেবে বললো
_ না থাক তোমরা যাও আমি চলে যাবো,,
_ আরে আয়,,এখন এই রাস্তায় গাড়ি পাবি না,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না,, তোমার যাও,, আমি চলে যাবো,,
আমিনা বেগম গেট খুলে বললেন
_ ঢং না করে আয়,,,কত সময় দাঁড়িয়ে থাকবি
নুবা গাড়িতে বসে আছে,,মাথা নিচু করে হাত খুঁটছে,,,পড়নে হালকা পিত্তি রংএর সুতির থ্রিপিস,,মাথায় কালো হিজাব,,হাতে ঘড়ি,,,আর পার্স,, পায়ে নরমাল ডিজাইনের স্লিপার জুতা,,, একদম নরমাল কোনো জাঁকজমক নেই,,,
পরি আয়ারকে নিয়ে সামনে বসে আছে,, আরহাম গাড়ি ড্রাইভ করছে,,,নুবা আর আমিনা পিছনে বসা,, আরহামের চোখ দুটো পিছনে তাকাতেই চাইছে তবে সে নিজেকে আটকে রেখেছে,,চাইবে না সে,,কক্ষনোই না,,,
এদিকে পরি বিরবির করে আয়রার সাথে কথা বলছে আর আয়রা খিলখিল করে হাসছে,,নুবা চুপচাপ শুনছে,,, ঠিক তার মতোই,,আয়রার কাছে নুবা কোনো বিষয়ে মানুষ নয় কারণ আয়রা সবার সাথেই comfortable ,,নুবা না থাকলেই কি,,
৫/৬ মিনিট খানিটের ভিতরে তারা এলিট সিটি রোডে পৌঁছে গেলো,,, কারণ রাস্তায় তেমন জ্যাম ছিলো না,,গাড়ি থামতেই নুবা নেমে গেলো,,,নুবা নামতেই আরহাম গাড়ি started দিয়ে চলে গেলো,,নুবা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিলো,,এতো সময় যেনো নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছিলো ,,
নুবা দোকানে ঢুকে এগিয়ে যেএ একজন ছেলেকে বললো
_ ভাইয়া ২/৩ দিন আগে আমার আম্মু,,হাজেরা উনি একটা মোবাইল ঠিক করতে দিয়ে গেছিলেন,,ওটা কি ঠিক হয়েছে,,,
ছেলেটা নামের লিস্ট চেক করে বললো,,
_ না আপু এখনো ঠিক হয়নি,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ৩ দিন হয়ে যাচ্ছে ভাইয়া,,
ছেলেটা একটু হেসে বললো
_ আসলে আপু কাজের অনেক চাপ,,, আপনাদের আগে অনেকেই অনেক কিছু ঠিক করতে দিয়ে গেছে,,তার ভিতরে আমাদের ২ জন মিস্ত্রী ছুটিতে তাই লেট হচ্ছে,,,
_ ও,,কবে পর্যন্ত পাবো,,
ছেলেটা লিস্ট চেক করে বললো
_ দাঁড়ান আপু দেখছি,,,
অতঃপর কিছু ঘাঁটাঘাঁটি করে সুধালো,,
_ আর ২/৩ দিন পর আসিয়েন আপু,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা,,,
নুবা কথা শেষ করে দোকান থেকে বেড় হওয়ার জন্য পিছনে ঘুরতেই চমকে উঠলো সে,,,পরপর মুখে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বললো
_ তৌসিফ ভাই,,,
তৌসিফ হেসে বললো
_ তুমি এখানে কি করছো,,
নুবা বিরবরি করে বললো
_ মোবাইল ভেঙ্গে গেছে তাই ঠিক করতে এসেছি,,
তৌসিফ ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ সেম,,, আম্মুর মোবাইল ভেঙ্গে গেছে,,ওটাই নিয়ে আসছি,,
নুবা মিষ্টি হেসে বললো
_ তালহে ভালোই তো দেখা হয়ে গেলো,,,
_ সেটাই তো,,নসিব,, wait আগে আমি এটা দিয়ে নি না হলে আম্মু আমাকে লাথি দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করবে,, তুমি যেএ বরং বসো,,আর যাবে না কিন্তু,,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,
তৌসিফ যেএ মোবাইল টা রেখে বললো
_ ডিসপ্লে ফেটে গেছে কত লাগবে,,
ছেলেটা মোবাইল দেখে বললো
_ দেখুন ভাই আসল ডিসপ্লে আর মুজুরি সহ ৩০০০ হাজার খানিক পড়বে
তৌসিফ মুখ বাঁকিয়ে বললো
_ ডপ মারো আমার সাথে,,,আমি কিন্তু নতুন না অনেক আগে থেকেই এখানে আসি,,, তোমার মালিকের সাথে কিন্তু আমার উঠা বসা সঠিক কথা বলো ভাই,,,
ছেলেটা একটু হেসে বললো
_ এক দুশো কমিয়ে রাখতে পারি ভাই,,বুঝেনি তো ইদানিং সব কিছুর দাম বেড়েছে,,
তৌসিফ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে পকেট থেকে টাকা বেয করে বললো
_ আচ্ছা,,,১০০০ হাজার এডভান্স বাকিটা কাজ শেষ হওয়ার পর,,তা কবে পর্যন্ত দিতে পারবা,,
_ আগে ডিসপ্লে আনতে হবে ভাই,,,সব মিলিয়ে ৪/৫ দিনের সময় দিলে ভালো হয়
_ আচ্ছা,,,আমি সামনের সপ্তায় এসে নিয়ে যাবো,,,
_ আপনার নামটা বলুন ভাই
_ তৌসিফ ,,
দুপুরের রোদের সোনালী আলো কিছুটা কমে এসেছে,,,আশে পাশে মৃদু বাতাস বইছে যেনো বৃষ্টি আসবে,,, কেমন চাঁপা গড়মও পড়েছে,,
নুবা আর তৌসিফ রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটছে ,, খোশগল্প করছে তারা,, এমন সময় তৌসিফ বলে উঠলো
_ কিছু খাবে,,,
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ কেউ খাওয়ালে আমি না করি না,,কারন তার টাকার বাঁশ যাচ্ছে আমার কি,, আমার তো মজাই,,
_ বড্ড ইতর তুমি,,
নুবা হাসলো,,, তৌসিফ নুবাকে নিয়ে ভালো একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলো,, দুই জন সামনাসামনি বসলো,,,টেবিলে থাকা মেনু কার্ড নুবার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ যা খেতে চাও অর্ডার করে দেও,,
নুবা মেনু কার্ড ভালো মতো দেখে নিলো,,পরপর ওয়েটার আসলে নুবা মেনুকার্ড দেখে বললো
_ ২ টা আইসড চকলেট কফি,,ডাবল চিজ বার্গার ২ টা,,২ চিকেন চিজ রোল ,,মাঝারি সাইজের পেপেরোনি পিজা (অথবা ভেজ/চিকেন পিজা) ,,,
ওয়েটার মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বলে চলে গেলো,,, তৌসিফ বিরবির করে বললো
_ এতো কম,,আর কয়টা অর্ডার করতে,,
নুবা একটু হেসে বললো
_ পেট ভরা না হলে আরো বেশি অর্ডার করতাম,,
দুইজনে খাচ্ছে আর গল্প করছে,,, এমন সময় তৌসিফ বলে উঠলো
_ নুবা তুমি যদি চাও তবে আজকে ঘুরতে যেতে পারি যাবে
নুবা খেতে খেতে বললো
_ সন্ধার আগে ফিরতে হবে,,,
_ হ্যাঁ তা দিয়ে আসবো
_ না কেউ দেখলে খারাপ ভাববে,,,
তৌসিফ একটু হাসলো,,,
খাওয়া শেষে করে হেলামি করতে করতে ঘন্টা খানিক পার হয়ে গেলো তাদের,,
পরি চুপচাপ শুয়ে আছে কিছু টেস্ট করা হচ্ছে তার,,, আরহাম নীরব হয়ে বসে আছে,,, টেস্ট করা শেষ হলে সব ঠিকঠাক আছে দেখে doctor নাইম ইনজেকশন নিয়ে আসলো,,,সেই আগের মতো প্রক্রিয়া,,,
আরহাম সেদিকে একবার তাকালো,,,মাথা নিচু করে নিলো,,, তবে পরিকে ইনজেকশন দেওয়ার আগেই আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ থাক,,,
হঠাৎ আরহামের মুখের শব্দে সবাই ফিরে তাকালো,,,আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি হলো,,
আরহাম বিচলিত হয়ে বললো
_ বাসায় চলো,, আজকে,, আজকে এই সব বাদ দেও,,,
পরি মৃদু কন্ঠে বললো
_ কি হলো,,
আরহাম অস্থির হয়ে মেয়েকে নিয়ে কেবিন থেকে বেড় হয়ে গেলো,,আমিনা বেগম doctor এর দিকে তাকিয়ে বললো
_ ২ মিনিট একটু দাঁড়ান,,আমি আসছি,,
আমিনা বেগম ছেলের পিছন পিছন গেলো,,,যেএ দেখলো ছেলে তার করিডোর দিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে,,,
আমিনা বেগম ছুটে গেলো,,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে,,চলে আসলি কেন,,,
এদিকে পরিও পিছন পিছন আসলো,,
আরহামের মা থেকে গেলো,,পরপর পাশে রাখা বেঞ্চ এ ধপ করে বসে পড়লো সে,,,ছেলেকে এরকম ভেঙ্গে পড়তে দেখে আমিনা বেগম অস্থির হয়ে বললেন
_ কি হয়েছে,,
আরহাম এক হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বললো
_ আমি অনেক চেষ্টা করেছি মা,, কিন্তু আমার দাঁড়া হচ্ছে না,,আমি নিজেকে মানাতেই পারছি না,,ওর বলা কথা গুলো,,,,
আরহাম আর ভাবতে পারলো না,,,বুকটা কাঁপছে তার,,,পরি ছুটে এসে বললো
_ কি হয়েছে,,,
আমিনা বেগম মৃদু কন্ঠে বললো
_ তেমন কিছু না,,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে সুধালো
_ বাসায় চলো,,,আমি আর একটু ভেবে নি,,,
পরি পাশ থেকে বলে উঠলো
_ এতে ভাবার কি আছে,,
আমিনা বেগম জোরপূর্বক হেঁসে বললেন
_ তোমার কষ্ট হবে তো তাই আরহাম একটু ভাবছে তুমি চিন্তা করো না
পরি মুচকি হেসে সুধালো,,
_ আমার কোনো সমস্যা নেই তো,,হোক একটু কষ্ট তাই কি হয়েছে,,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো পরপর উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ আজ না আমার ভালো লাগছে না,,,
আমিনা বেগম ছেলের মাথায় হাত রেখে বললো
_ তাহলে তুই বাড়িতে চলে যা,আমি তো আছি,,সব সামলে নিবো
আরহাম একটু রেগে উঠে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৫
_ বলেছি না,,না,,মানে না,,,বাসায় চলো,,I can’t explain to you how restless I feel.
ছেলের ব্যবহারে আমিনা বেগম আর কিছু বলার সাহস পেলো না,,
পরির মনটা খারাপ এই পর্যন্ত যেএ তারা ফিরে আসলো তবে কেন,, আরহাম নিজের মতো গাড়ি চালাচ্ছে,, সন্ধ্যা নেমে এসেছে প্রায় ,,আযান শোনা যাচ্ছে সন্ধার,,
