নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন
পরির মনটা খারাপ এই পর্যন্ত যেএ তারা ফিরে আসলো তবে কেন,, আরহাম নিজের মতো গাড়ি চালাচ্ছে,, সন্ধ্যা নেমে এসেছে প্রায় ,,আযান শোনা যাচ্ছে সন্ধার,,তিন রাস্তার মোড়ে বেড় জ্যাম লেগেছে,, আরহাম বিরক্ত হয়ে বসে আছে,,, যতসময় বাসায় না পৌঁছাবে ততসময় তার মনটা শান্তি পাবে না,, আরহাম অস্থির হয়ে হর্ন বাজালো,,
সামনের মানুষ চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ এরকম হর্ন বাজালে হবে কোই দিয়ে গাড়ি ডুকাবো,,
তৌসিফ এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ তোমাকে বাসায় দিয়ে আমি একটা কাজে যাবো
নুবা চিন্তিত কন্ঠে বললো,,
_ সন্ধ্যার আযান দিচ্ছে,, আজকে বাড়িতে গেলে মা আমার পিঠে চলা কাঠ ভাংবে,, আল্লাহ জানে কত টেনশন করছে,,
_ আরে চিন্তা করো না,, তুমি কি ছোটো বাচ্চা না,,,চিল করো
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ হ্যাঁ চিল পিঠের উপর পড়বে,,
তৌসিফ আরো পাশ চেপে বসলো,,,একি রিকশায় তারা তবে দুই জনি সতর্ক,,, তৌসিফ একটু বেশিই,,নুবার দিকটা ভালো মতো বুঝেছে এটা নিয়ে নুবা অনেকটাই খুশি,,,যে তৌসিফ অন্যদের মতো না,,,
আরহাম এসি বন্ধ করে গাড়ির জানালা খুলে দিলো,,,ভাবসা গড়ম পড়েছে,,তবে জানালা খুলতেই গাড়ির সামনের লাগানো ছোট্ট mirror এ নুবার হাস্যোজ্জ্বল মুখ ভেসে উঠলো,,আরহামের ভুরু কুঁচকে গেলো,,মাথা টা খারাপ হয়েছে তার সব জায়গায় ওই মেয়েকেই দেখছে,,
আরহাম মাথায় একটা বারি দিলো তবে আশ্চর্য নুবার প্রতিচ্ছবি সরে গেলো না,, আরহাম কিছু সময় সেদিকে তাকিয়ে থেকে কোনো মতে ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকালো,,পরপর তার সন্দেহ দুর হলো এটা নুবাই,,,
আরহাম চেয়ে রইলো তবে আর একটু হতভম্ব হলো সে সাথে একটা ছেলেকে দেখে,,,আরহমের বুকটা কেমন ছ্যাত করে উঠলো,,,এই ছেলে কে,??
নিরব হয়ে তাকিয়ে থেকে মনে পড়লো এই ছেলেটাকে সে চিনে,,,নামটা মনে পড়লো তার তৌসিফ,,,সাথে সাথে আরহাম চোখ সরিয়ে নিলো,,পরপর ত্যাচ্ছিল্যো করে হাসলো,,,
মিনিট খানিকের ভিতরে জ্যাম একটু ছাড়লো,,,ছোটো ছোটো গাড়ি গুলো এগিয়ে যেতে লাগলো,,রিকশা,,,বাইক,,,তবে আরহামের গাড়ি এগোলো না,,
নুবা আরহামদের গাড়ি ছাড়িয়ে কিছুটা সামনে যেএ আটকে পড়লো,,,আবারো জ্যাম পড়লো ১০ মিনিটের ভিতরে পুলিশ এসে সব জ্যাম ছাড়িয়ে দিলো,,
নুবাদের রিকশা চলতে শুরু করলো,,আরহামেরও,,,
তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে নুবার পিছনের গাড়ি বারবার তাদের রিকশায় ধাক্কা দিতে লাগলো,,, তৌসিফ আর নুবা বিরক্ত হলো,,তবে মুখ খুললো না,,,
নুবাদের রিকশা চলতে শুরু করলে পিছনের গাড়ি এক ধাক্কা মেরে তাদের পাশ কাটিয়ে গেলো,,রিকশা ওয়ালা মামা বিচ্ছিরি গালি দিলো,,,, ধাক্কা ধাক্কি ব্যতিত এরা রাস্তায় চলতে পারে না
এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কায় নুবা পড়তে নিলে তৌসিফ নুবার বাহু ধরে ফেললো,,,নুবা পড়তে পড়তে বেঁচে গেলো,, বিশেষ করে রিকশার কিনারে চেপে বসায় এমন হয়েছে,,,
তৌসিফ নুবাকে ধরে বললো
_ are you ok নুবু,,
তৌসিফের কথায় নুবা থমকে গেলো,,বাক্যটা শুনেছে কোথাও,,,তবে কন্ঠ আলাদা,,নুবা ফট করে তৌসিফের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি,, কিছু বললে,,,
তৌসিফ চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ বল্লাম তুমি ঠিক আছে,,
নুবা তৌসিফের হাত ছাড়িয়ে বললো
_ এর,,এর আগে কি বললে
তৌসিফ একটু ভেবে বললো
_ are you ok,,,তো বললাম,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না না,,,তার পর,,পুরোটা বলো,,
তৌসিফ ভুরু কুঁচকে বললো
_ are you ok নুবু,,,এটা হয়তবা ,,কেনো কোনো সমস্যা,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে মাথা নিচু করে বললো
_ তোমার মুখে মানাচ্ছে না,,,(পরপর নিজের নাম নিজে উচ্চারণ করলো নুবা,,তবে এতোটা ভালো লাগলো না,,,যতটা মানানসই আরহামের ডাকে লাগে)
তৌসিফ বিচলিত কন্ঠে বললো
_ তোমাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে,,ভুল কিছু বলে ফেলেছি নাকি,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না বললো,,, চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বিরবির করে সুধালো,,
_ নুবু,,,এই নামটা আপনার মুখে মানায় না তৌসিফ ভাই,,নুবা পর্যন্ত ঠিক আছে,,,সবার মুখে সব কিছু মানায় না,,
তৌসিফ একটু লজ্জা বোধ করে হেসে বললো
_ একটা নামি তো,,,তাই এমন কি হয়েছে,,আর নুবু নামটাও বেশ সুন্দর,,,
নুবা অশান্ত কন্ঠে বললো
_ না থাক,, আমার নাম যা তাই ডাকুন,, কিছু কিছু শব্দ মানুষকে বিব্রত করে,,তার ভিতরে আমার জন্য দুটো শব্দ হলো (নুবু,, ম্যাডাম) এই দুটো নাম না ডাকলেই নয়,,,
তৌসিফ কিছু একটা বুঝতে পেরে বললো
_ ওকে ভাই,,আর ডাকবো না তুমি তো serious হয়ে যাচ্ছো,,,
নুবা সামনের দিকে তাকিয়ে চুপ রইলো,,,
আরহাম গাড়ি থামিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ নামো গাড়ি পার্ক করে আসি,,,
আমিনা বেগম আর পরি আয়ারকে নিয়ে নেমে গেলো,,, আরহাম গাড়ি গ্যারেজে রেখে আসলো,,,তবে সে বাড়ির দিকে না যেএ মেইন গেটের বাইরের দিকে গেলো,,
অনেক টা সময় পর রিকশা এসে রাস্তায় থামলো,,,নুবা নেমে গেলো,, তৌসিফের দিকে তাকিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বললো
_ তোমার রিকশা ভাড়া দেওয়ার ইচ্ছা তবে পূর্ন হলো,,,
তৌসিফ হেসে বললো
_ ভালো মতো যেও,, মোবাইল ঠিক হলে নক দিও,,
নুবা হেসে হাত নাড়িয়ে বিদায় দিলো,,,আর বললো
_ তুমিও ভালো মতো যেও,,আশা করছি ভাগ্যে থাকলে এরকম হুটহাট দেখা হবে,,
তৌসিফ শয়তানি হাসি দিয়ে বললো
_ ইচ্ছা থাকলে ভাগ্য হবে,,তবে আন্টি কেলানি দিলে কিছু মনে করিও না, সহ্য করে নিও,, আচ্ছা আসি,,,
তৌসিফের জাওরামি কথা শুনে নুবা একটু হাসলো,,কেলানি তো সে খাবেই তবে কিভাবে তার জানা নেই,,
নুবা একটু এগিয়ে এসে রাস্তা পাড় করে মির্জা বাড়ির মেইন গেট দিকে এগিয়ে আসলো,, দারোয়ান নুবাকে দেখে গেট খুলে দিলো,,, এদিকে নুবার পিছনে পিছনে আরহামো ডুকলো,,, রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিড়ি ফুকছিলো সে আর নুবার অপেক্ষা করছিলো,,,
নুবা হালকা আলোকিত পাকা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যেতেই হঠাত হাতে টান অনুভব করলো,,, অনেকটা ভয় পেয়ে গেলো নুবা,, আঁতকে উঠে পিছনে তাকালো,,,তবে অনাকাঙ্ক্ষিত মুখটা দেখে তার ভয় কিছুটা কমে আসলো,,,
নুবা এক হাত বুকে চেপে ধরে নিঃশ্বাস ফেলে অস্থির কন্ঠে বললো
_ আপনি,,,আর আমি কি না ভাবলাম,,,
আরহাম নুবার হাত ছেড়ে দিলো,,খুবি শান্ত কন্ঠে সুধালো,,
_ কোথায় ছিলে,,,??
আরহামের প্রশ্নে নুবা অপ্রস্তুত হলো,,,তবে নিজেকে যথাসাধ্য নিয়ন্ত্রনে রেখে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বললো
_বাইরে ,, মোবাইল ঠিক করতে গিয়েছিলাম,,,জানেনি তো,,,
আরহামের হাত মুঠো বদ্ধ হলো,,,রাগি কন্ঠে বললো
_ ৩/৪ ঘন্টা মোবাইল ঠিক করতে লাগলো তা দেখি মোবাইল কোথায়,,
নুবা একটু ইতস্তত বোধ করে বললো
_ ২/৩ দিন পর দিবে বলেছে
আরহাম কড়া কন্ঠে বললো
_ তাহলে এতো সময় কোথায় ছিলে,,,
নুবা উত্তর দিতে চাইলো না তাই অনেকটা সাহস নিয়ে বললো
_ আপনাকে বলতে আমি বাধ্য না,,, আপনার এই প্রশ্ন করার কোনো right নেই,,,
আরহাম কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে নুবার বাম বাহু চেপে ধরে বললো
_ right আছে,, অবশ্যই আছে,,এই বাড়ির মেয়ে তুমি,, হয়তোবা এই বাড়ির নও তবে থাকো তো এই বাড়িতে,,,তাই আমার right আছে জিগ্গেস করার,,,
নুবা একবার নিজের বাহুর দিকে তাকিয়ে শান্ত চোখে আরামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ছাড়ুন,,,
আরহাম ছাড়লো না,,,নুবা হাতটা ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিয়ে বললো
_ Don’t exceed your limits.,,,
বলেই নুবা বাড়ির দিকে হাঁটা দিলো,, আরহাম রাগি কন্ঠে সুধালো,,
_এই বাড়ির মেয়ে হয়ে তুমি বাইরে যেএ নষ্টামি করতে পারবে না,,,
নুবার পা থমকে গেলো,,, বিচ্ছিরি শব্দ টা শুনে,,,আবার উচিত জবাব দিতে ঘুরে আসলো সে,,,আরহামের দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললো
_ আর আপনি করলে দোষ নেই তাই তো,,,আর আমি নষ্টামি করেছি না কি করেছি আপনি তো যেএ দেখে এসেছেন তাই না,,,না দেখে উল্টা পাল্টা মন্তব্য করবেন না,,, এমনিতেই আপনাকে আমার সহ্য হয় না উল্টা পাল্টা কথা বলে ঘৃনা করতে বাধ্য করবেন না,,,
নুবা কথা গুলো বলে চলে যেতে চায় তবে আরহাম খেকিয়ে উঠে বলে
_ তৌসিফের সাথে ছিলে তুমি,, এমন কি ও তোমাকে এখানে নামিয়ে দিয়ে গেছে,,আর কিছু জানতে চাও ,,
নুবার পা থেমে গেলো,,,জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে শুকনো ঢোক গিললো নুবা,,আবারো পিছন ফিরে তুতলে বললো
_ তা,,তাতে কি,, আমার ইচ্ছা,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ আমার না হয় অধিকার নেই তবে তোমার মা”র তো আছে,,, আমার সামনে আমার বাড়িতে থেকে অশৈল্ল কাজ করবে তবে আমি কিছু বলতে পারবো না কিন্তু তোমার মা তো পারবে,,,
নুবা চোখ বড় বড় করে তাকালো আরহামের দিকে,,হাজেরা নুবাকে লাত্থি মারবে তাও কমড়ে,,হাজেরা মোটেও এই সব পছন্দ করে না,,আর বন্ধু টন্ধ্যু বুঝবে না,,তার উপর ছেলে বন্ধু আরো মানবে না,,হাজেরা কিছু বুঝবেও না,,আগের ধাঁচের মানুষ হাজেরা এই সব তার কাছে পাত্তা পাবে না,,
আরহাম সামনের দিকে এগিয়ে গেলো,,আরহামের সামনে দাঁড়িয়ে বললো
_ আপনি আমাকে কি ঠেট দিচ্ছেন,,
_ সামনে থেকে সরো,,,
নুবা ইনিয়ে বিনিয়ে বললো
_ এই সব মিথ্যা,,আমি কেন তৌসিফের সাথে ঘুরবো,, আর আপনার কাছে কি প্রমাণ আছে,,,
আরহাম পকেটে হাত গুজে বললো
_ প্রমান আছে আমার কাছে দেখবে,, তোমার চেহারা আমার মোবাইলে জ্বলজ্বল করছে,,
আরহাম নুবাকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে লাগলো,,নুবা অনেকটা ভয় পেয়ে আরহামের শার্ট টেনে ধরে হাঁসফাঁস করে বললো
_ আপনি আপনি তো বড্ড খারাপ,,, আপনার আর আমার কথার ভিতরে মা”কে টানছেন কেনো,,,আমি কিন্তু এই সব সহ্য করবো না,,,
আরহাম ফিরে তাকালো,,,বুকে হাত গুজে নুবাকে ভালো মতো দেখে সুধালো
_ তোমার এই গোপন কথা, গোপন রাখার জন্য আমার কি লাভ হবে,,,কি পাবো আমি এর বদলে,,
নুবা হাত কচলে বললো
_ কি,,কি দিবো আপনাকে,,আমার কাছে কিছু নেই,,,
আরহাম কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ ১০০ বার কান ধরে উঠবোস করো,,,তবে আমি চুপ থাকবো,,,
নুবা শক্ত চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,বিরবির করে বললো
_ আপনার কাথাও আমি বলে দিবো,,,
_যাও বলো,,আমি কি না করেছি,,
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আপনি,,আপনি,, অসহ্য,, কয়বার উঠবোস করবো,,
_ ১০০ বার,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,এক হাতে পার্স চেপে অতঃপর দুই হাত দিয়ে হিজাবের উপর দিয়ে কান চেপে ধরলো,,,পরপর কান ধরে উঠবোস করতে লাগলো,,,৭/৮ বার করতেই নুবার পা লেগে আসলো তবে আরহাম কিছু বললো না,,
২৫ বার উঠবোস করতে করতে নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,,,২৬ বারে আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ বাকি ৭৪ বার পরে আস্তে আস্তে পূর্ণ করবে,,, প্রতিদিন ২৫/২৬ বার করে,,,
বলেই আরহাম হাঁটা দিলো,,,নুবা রাগি কন্ঠে পিছন থেকে হাঁপিয়ে যাওয়া কন্ঠে চেঁচিয়ে করে বললো
_ অসভ্য,,, সেদিন অপমান করেছি সেই শোধ তুললেন,, আমি কিছু বুঝি না নাকি,,,
বেচারা আরহাম চলে যাচ্ছিলো তবে নুবার কথার উত্তর না দিয়ে গেলে বহুত বেয়াদবি হবে,,, আরহাম ফিরে আসলো,নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,ভাবেনি ফিরে আসবে,,,
আরহাম কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ এখানে অসভ্যটা কে,,,
নুবা চোখের পলক ফেলে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আ,, আপনি,,,আপনি ছাড়া কে আছে এখানে,,
আরহাম যা না করতে চেয়েছিলো তাই করলো,,,ঠাস করে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিলো নুবার গালে,,,নুবা অবাক হলো না কারণ আরহামের মনভাব আর মুখের অবস্থা দেখেই সে বুঝতে পারছিলো সে মার খাবে,,,
নুবা গালে হাত দিয়ে আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
_ এই থাপ্পর টা তোর জন্যই বরাদ্দ ছিলো,,, নিজেকে ভদ্র ভাবলে তুই ভুল করবি,,, কারণ তুই নিজেই একটা অসভ্য,,, তোকে দেখলেও আমার শরীর জ্বলে যায়,,,নিজে ১০০ একটা মানুষের সাথে ঠাপিয়ে (ঘুরাঘুরি) বেড়াস আবার অন্যের উপর আঙ্গুল তুলিস,, তোর চান্দের কপাল যে তোর মতো মেয়েকে আমি, এই আরহাম পছন্দ করেছিলো,,,তবে তুই তার যোগ্য না,,,মাটিতে খাওয়া মানুষ কি করে পিতলের প্লেটের মর্ম বুঝবে,,,,
পরপর আরহাম একটু থেমে বললো
_ তুই ভাবতে পারিস আমি অহংকার করছি,, হ্যাঁ করছি কারণ আমার সেই যোগ্যতা আছে তবে তোর নেই,,ওই দিনের পর থেকে তুই আমার মন থেকেই উঠে গেছিস,,,তোর মতো নুবাকে এই আরহাম,,,,,
বলেই আরহাম এক গাঁদা থুথু মাটিতে ফেললো পরপর পা দিয়ে তা মুছতে মুছতে বললো
_ এখানে রাখি তোকে,,, এখানে,,,, তুই নিজেই ভেবে দেখ তুই কোথায় আর আমি কোথায়,,, অসভ্য আমি না তুই,,, পরপুরুষের সাথে দিন রাত মেলামেশা করিস আবার মুখের জবানে থাকে ঠাসঠাস কথা তাই না,,,আগে নিজের চরিত্র ঠিক কর তুই,,তার পর অন্যের চরিত্রে আঙ্গুল তুলিস,,,
নুবার অপমানে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,, ঠিক এমন টাই লেগেছিলো সেদিন আরহামের,,,যখন তার বয়স,,তার ব্যক্তিত্ব,,তার সন্তান তার চরিত্র নিয়ে কথা তুলেছিলো নুবা,,,জীবনে দুটো মেয়েকে ছুঁয়েছে সে প্রথম ইলোরা তবে বৈধতা দিয়েছে তাকে দ্বিতীয় নুবা তাকেও বৈধতা দিয়েছে,,তবে পার্থক্য অনেক,,, আরহাম নুবাকে সম্মান করেছে তার মতামতের জন্য নিজেকে পরিবর্তন করেছে তবে ইলোরার প্রতি সে ছিলো পুরাই উল্টো,,, কিন্তু নুবা তার মর্ম বুঝেনি আর বুঝবেও না,,,
আরহাম গটগট শব্দ তুলে চলে গেলো,,, মস্তিষ্ক out হয়েছে তার নুবাকে তৌসিফের সাথে দেখে,,,তবে সে প্রথমে শান্ত থাকতেই চেষ্টা করেছে,,সে ফিল করতে চেয়েছিলো তার কিছু যায় আসে না,,তবে কিছু না বললে নয়,,সেদিনের রাগ যেনো আজ উঠিয়ে গেলো,,,,সে এমন কিছুই বলতে চায়নি তবে তাকে রিজেক্ট করে অন্য ছেলেদের সাথে ঘুরে রং ঢং করে মুখ দিয়ে পরপুরুষ,,বৈধ, অবৈধ,,এই সব উচ্চারণ করে যা আরহামের প্রচন্ড লেগছে তাই সে নিজের মনের বিরুদ্ধে যেএ কথা শুনিয়েছে,,জানা নেই পরে অনুতপ্ত হবে কিনা তবে সে এই সব কিছু থেকে দূরে সরে যেতে চায়,,,
হাজেরা নুবাকে এই যে বকা শুরু করেছে তবে নুবার মুখে কথা নেই,,, চুপচাপ ওয়াশরুমে ডুকে পানির তলে বসে আছে,, আরহামের এভাবে অপমান যেনো সে মেনে নিতে পারছে না,, সেদিন ছাদে তার চোখে নম্রতা ছিলো,,, আকাঙ্ক্ষা ছিলো,,আশা ছিলো তবে আজ শুধু রাগ ক্ষোপ ছিলো,,,এতোটা রাগ সেদিন অপমান করার ফল নাকি তৌসিফের সাথে ঘুরার ফল,,,আজ নুবা অনুভব করলো চরিত্র নিয়ে কথা বললে কতটা খারাপ লাগে,,তবে সে তো চরিত্রহীনতা করেনি তবে কেন বলবে,,,
রাতের আকাশে তাঁরা জ্বলজ্বল করছে,, আরহাম রেলিং এ হেলান দিয়ে পকেটে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে,,আরহাম ছাদে চোখ বুলাচ্ছে,,,সেদিনের কথা মনে পড়ছে তার,,, সত্যি কথা বলতে আরহামের জানা নেই মনে জমা অনুভূতি গুলো কি করে প্রকাশ করে,,,তবু সে প্রকাশ করেছে যেভাবেই হোক,, কিন্তু তাকে খুব জঘন্য ভাবে রিজেক্ট করা হয়েছে,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,, এমন কিছু নুবার অপছন্দ হতো যা সে পরিবর্তন করতে পরাতো,, কিন্তু নুবার এমন জিনিস গুলো অপছন্দ যা সে কখনোই পরিবর্তন করতে পারবে না,,,
আরহামের চোখ বন্ধ করে নিলো,,, সন্ধায় এভাবে মেয়েটা কষ্ট দেওয়া ঠিক হয়নি,তার ইচ্ছা সে তার জীবনে কাকে আনবে না আনবে,,তাহলে আরহাম কেনো কথা শুনালো,,এটা ভেবেই আরহামের মুখ ফুটে বেড় হয়ে আসলো
_ sorry,,,
আরহাম চোখ মুখ খিচে নিলো,,,বুকটা কাঁপছে,,তখন রাগের মাথায় যা মুখে আসলো তাই বললো তবে কেন,,,তার কি অধিকার আছে,, মেয়েটাকে হার্ড করলো,, আরহাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে Regret করতে লাগলো
এমন সময় পিছন থেকে কেউ বলে উঠলো,,
_ রাত করে ছাদে যে,,
বলেই পরি আরহামের পাশে এসে দাঁড়ালো,,,
আরহাম উত্তর দিলো না,,,পরি মৃদু কন্ঠে সুধালো,,,
_ শাড়ি পড়েছি,,,
আরহাম চাইলো না,,,
পরি কাতর কন্ঠে বললো
_ সেদিন শাড়ি পড়েছিলাম ভালো মন্দ কিছুই বললেন না,, আজো কি বলবেন না,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ অবশ্য ভালোই লাগবে খারাপ লাগার কথা তো না,,
_ আম্মুর দেওয়া শাড়ি পড়েছি হয়তোবা ৯০ দশকের,, আম্মু আলমারি গুছাচ্ছিলো তখন চোখে পড়লো,,,আমি জিজ্ঞেস করলাম উনি পড়তে বললো,,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ ভালো করেছো,,,
আরহাম পিছন ঘুরে চলে যেতে লাগলো,,তখনি হঠাৎ পরি তাকে পিছন থেকে জরিয়ে ধরলো,, আরহাম এমনিতেই খুবি বিরক্ত ছিলো নুবার বিষয় নিয়ে তার উপর এরকম জরিয়ে ধরা তার সহ্য হলো না,,,পরিকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে পিছনে ঘুরে ঠাস করে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিলো,,,
পরি হতভম্ব হয়ে গেলো,,,পরি ভেবেছিলো আরহাম হয়তোবা আস্তে আস্তে সব মেনে নিচ্ছে তাই সাহস করে এটা করেছিলো তবে সে ভাবেইনি থাপ্পর মেরে দিবে,,,
পরি গালে হাত দিয়ে আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম খেকিয়ে উঠৈ বললো
_ How dare you? ,,,দুই দিন ভালো ব্যবহার করেছি তাই বলে এই না যে তুমি এরকম অসভ্যতামি করবে,,, সাহস কি করে হলো স্পর্শ করার,,,,
পরি কম্পিত কন্ঠে বললো
_ s,,,, sorry,,,
_ নিজের লিমিট ক্রস করো না পরি,,,না হলে আমি দু একটা বসিয়ে দিতে একবারো ভাববো না,,, থাপ্পরের কথা মনে থাকলে next time থেকে ভুলেও এই সব মাথায় আনবে না,,,বিয়ে এখনো হয়নি তাই ভদ্র মেয়ের মতো থাকো,,,, আমার এতো কাছে আসার দরকার নেই আর ফারদার যদি আসার চেষ্টা করো তবে,,
আরহাম একটু থেমে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো
_ তবে জানে মেরে ফেলবো,, তুমি আমাকে চিনতে ভুল করেছো,,,
বলেই আরহাম গটগট করে চলে গেলো,,পরি আঁচলে মুখ গুজে ফুঁপিয়ে উঠলো,,, প্রচন্ড কষ্ট পেলো সে,,, এতটুকু অধিকার কি তার নেই,,,
আরো কিছুটা সময় পার হলো,,,,তবে সবাই সবার মতো বাঁচতে শুরু করলো,,,আমিনা বেগম বাসায় এসে বলেছেন কয়দিন পর তারা হসপিটালে যাবে,,তাই আপাতত নুবাকেই ফিড করাতে,,,নুবা নাচোক করেনি,,,
বিকালের সময় পরির লাম্বা চুলে তেল ডলে দিচ্ছে আমিনা বেগম,,একটু আগে ইশিতা আর আরশিকে দিয়েছে এখন পরির পালা,,,নুবা সচারোচার আগের মতো সবার সাথে এসে বসে না কেউ কিছু বলেও না,,,
আমিনা বেগম আশে পাশে তাকিয়ে আরশিকে বললো
_ আরশি যা তো নুবাকে ডেকে আন,,মেয়েটা এক ঘড়ো হয়ে গেছে একটু বাইরে বেড় হয়ে দেখে না,, সবসময় ঘড়ের কোনায়,,
আরশি মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ ইদানিং কেমন জানি হয়ে গেছে কারো সাথে আলপো করে না,,
আমিনা বেগম মনে মনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন বুঝতে পারেন যে নুবা কেনো এতো এক ঘড়ো হয়ে গেছে,,
_ ভালো লাগছে না আপু,,
_ সারাদিন শুধু শুয়ে থেকে হাতি হয়ে যাচ্ছিস,,আয় ভাই,,একটু বাইর হয়,, মানুষ একটু এখানে ওখানে ঘুরে,,, অন্ততপক্ষে সবার সাথে একটু বসে আর তুই,, একটা অসল হয়েছিস,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ভালো লাগে না কি করবো
_ সবার সাথে বসলেই ভালো লাগবে চল তো,, আম্মু ডাকছে,,আয় না,,দেখ ভাই বাসার সব কয়টাকে মাথায় তেল দিয়ে ভূত বানিয়েছে এখন শুধু তুই বাকি তুইও চল,,না হলে আন্দোলন করবো,,, তুই ভাবতে পারছিস তোর ভাই যদি আমার চম্পু চেহারা দেখে তবে কি করবে নিশ্চয় অজ্ঞান হয়ে যাবে,,একটু চেয়ে দেখ ভাই আমাকে কেমন বেয়াক্কেল আর মগা দেখা যাচ্ছে,,
নুবা আর চোখে আরশির দিকে তাকালো,,দেখলো মাথা থেকে বেল বেয়ে বেয়ে পড়ছে,,চুল বেনি করা,,তা দেখে নুবা ফিক করে হেসে দিলো আর বললো
_ আমি এরকম চম্পুক হতে চাই না যাও তো,,
_ আরে বাল আয় তো,,,
আমিনা বেগম পরির মাথায় তেল দিয়ে দিলো,,নুবা চুপচাপ বসে আছে,,সবাই খোশগল্প করছে,,,আমিনা বেগম পরির মাথায় তের দিয়ে বললো
_ বসে বসে তোমার চুল গুলো ছাড়াও,,এতো বড় চুলের জট আমার দাঁড়া ছাড়াবো সম্ভব না বাবা তুমি বরং ছাড়াও,,দেখা গেলো ছাড়াতে যেএ ব্যাথা পেলে,,,
পরি হেসে বললো
_ হ্যাঁ তাই দেন,,,অন্য কেউ ছাড়িয়ে দিলে আমি ব্যথা পাই,,
পরি উঠতেই আমিনা বেগম নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ এদিকে আয়,,
নুবা এসে ফ্লোরে আসাম করে বসলো,,,নুবার চুলের অবস্থা দেখে আমিনা বেগম নুবার মাথায় থাপ্পর মেরে বললো
_ কয়দিন ধরে মাথা আচরাছ না,, এমন হিন্দুদের মতো জট পড়ে গেছে কেন,,ওরা তো উপস করে রাখে তুই কেন রেখেছিস,,
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ আলসামি লাগে,,,
আমিনা বেগম হাতে তেল নিয়ে বললেন
_ কি বড় অসল রে বাবা,,,
বলেই নুবার মাথায় আস্তে আস্তে তেল ডলে দিতে দিলো,,, এমন একটা মূহুর্তে আরহাম মেয়েকে নিয়ে নিচে নামলো,,সবার দিকে এক পলক তকালো আরহাম,,,
পরপর যেএ পরির পাশে বসলো,,,পরি শুকনো ঢোক গিললো,,এক থাপ্পর খাওয়ার পর পরি আর ভুলেও আরহামের কাছে যায়নি,,নুবা মুখ বাকালো কত গুলো মহিলার ভিতরে এসে বসলো,,,
এদিকে আমিনা বেগম নুবার মাথার থেকে উকুন এনে বললো
_ ছি রে মাইয়া কি উকুন,,,এতো উকুন মাথায় কি করে বাধালি,,,এবার তো দেখছি তোকে বান্দরের কাছে বসাতে হবে,,
নুবা একটু লজ্জা পেলো,,,কারো মাথায় উকুন নেই তার মাথায় উকুন,, ইস্ কি লজ্জা
এদিকে পরি মাথার জট আস্তে আস্তে ছাড়ালেও হালকা ব্যথা পেলো সে,,এতো বড় চুল ছাড়াতে তার দম বেড় হয়ে যাচ্ছে,, সামনে এনে জট ছাড়িয়ে পিছনে দিলে আবারো জট লেগে যাচ্ছে,,,
আরহাম বিষয়টা খেয়াল করলো,,,পরপর আয়রাকে আরশির কাছে দিয়ে এগিয়ে এসে মৃদু কন্ঠে বললো
_ দেও আঁচরে দি,,,
পরি চোখ গোল গোল করে আরহামের দিকে তাকালো,, এমন কি আমিনা বেগম,,ইশিতা, নুবা আরশি,সবাই তাকালো,,,পরি বিরবির করে বললো
_ আমাকে বললেন
আরহাম পরির হাত থেকে চিরোনি নিয়ে বললো
_ হুম,, নিচে নেমে বসো,,,
পরি একটু কাঁপতে লাগলো,,, আস্তে আস্তে পরি নিচে নেমে বসলো,, আরহাম সোফায় বসলো,,, কম্পিত হাতে পরিরর রেসমি আর লম্বা চুল গুলো হাতে তুলে নিলো,,পরম আবেশে কাঠের চিরোনি দিয়ে জট ছাড়াতে লাগলো,,,
আরশি ভাইয়ের দিকে চেয়ে একটু শব্দ করেই বললো
_ বিয়ে করবো না আমি,,বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি,,কে জানি বলেছিলো,,,??
আরহাম তাকালোও না,,,আমিনা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে চোখ গড়ম দিয়ে চুপ থাকতে বললেন,,যা করছে ওরটা ওকে করতে দে,,তোর কি?? হয়তোবা এমন বুঝালেন,,,
তবে ইশিতা বিরবির করে আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ বিয়ে হলো এতো মাস আজ পর্যন্ত এখনো তোমার ভাই আমার মাথা আচরানো তো দূরে থাক মাথায় হাতো দিলো না,,আরো মাথা টিপে দিতে বললে বলে ” তোমার চুলে গন্ধ কয়,,হাহাহা,,,আর এদিকে বিয়ের আগেই কি সুন্দর care নিশ্চিত পরি খুবি ভাগ্যবান,,আর হবেই না কেন সুন্দর যে,,
বলেই মুখ বাঁকালো ইশিতা,,,
আমিনা বেগম ইশিতার দিকে তাকিয়ে বললো
_ হিংসে হচ্ছে বুঝি,,
_ হবেই তো মা,,আপনিই তো খারাপ,,দুই ছেলেকে এক রকম করে বুঝাতে পরেরনি বউ কে কিভাবে সেবা করতে হয়,, এক ছেলে বিয়ের আগে করে আর এক ছেলে তো বিয়ের পড়েও নাক সিঁটকায়,,,
পরি মুচকি হাসলো,,,নুবা মুখ গুমড়ো করে বললো
_ আগে একটা বিয়ে করেছে তাই বউ এর সেবা কি করে করতে হয় সব জানা তবে তোমার টা তো নতুন ভাবি তাই জানে না,,, তবে চিন্তা করো না আস্তে আস্তে শিখে যাবে,,,
আরহাম নুবার দিকে তাকালো,,,পরির চুল শক্ত করে ধরলো,,,পরি ব্যথায় ককিয়ে উঠলো,, আরহাম চুল ছেড়ে দিয়ে বললো
_ কিছু মানুষের আবার পরপুরুষের সাথে ঘুরে ঘুরে অভ্যাস থাকে তবে ভাগ্য ক্রমে আমার হবু বউ তো তাই হয়তোবা সমস্যা হবে না,,,
নুবা ফট করে আরহামের দিকে তাকালো,,চোখ গুলো লাল হয়ে আসলো তার,,,নুবা কোনো সতর্ক বার্তা ব্যতিত উঠে দাঁড়ালো,,তেলের বোতল নিয়ে পড়ে সাথে সাথে তেল দিয়ে ফ্লোর মেকে গেলো,,নুবা আরহামের দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললো
_ যার নিজের মন স্থির নেই সে আবার ভাব দেখায়,,কয়দিন একে,, কয়দিন ওকে,, সবাইকে ভালো লাগে তার,, লাগবেই বা না কেন চরিত্রের ঠিক আছে নাকি,,, আবার অন্যের চরিত্র নিয়ে কথা বলে,,,
বলেই নুবা রুমে যাওয়ার জন্য দুই কদম এগিয়ে গেলো তবে হয়তোবা তার ভাগ্যে খারাপ ছিলো তাই ফ্লোরে পড়ে থাকা তেলে স্লিপ কেটে সোজা হয়ে পড়ে গেলো,,মাথায় যেএ এক বারি খেলো ,,সবাই যতখনে বুঝতে চাইছিলো যে কে কাকে খোঁচা মারছে বা এখানে কেন তারা ঝগড়া করছে কি হচ্ছে ততখনে নুবা ঠাস করে পড়ে গেলো,,,
এভাবে চিৎ হয়ে পড়ায় নুবার কমড়ে আর মাথায় বেশ ব্যথা পেলো,,আমিনা বেগম এসে কপাল চাপড়ে বললো
_ আল্লাহর একটা বান্দী,, দেখে চলতে পারে না,,,
নুবার চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,, কষ্ট তো লাগছিলো তার উপর এরকম হঠাৎ ব্যথায় রমনীর চোখ মুখ লাল হয়ে গেলো,,,
আরহাম পিলে চমেক উঠলো পরিকে উল্টে পার করে ছুটে আসলো নুবার কাছে তাও সাবধানে কারন তেল পড়ে আছে,,,
আমিনা বেগম নুবার মতো নাদুসনুদুস মেয়েকে টেনে তুলতে সক্ষম হলো না,,ইশিতা এগিয়ে আসলো তবে আরশি না কারণ আয়রা তার কোলে,,,
আরহাম এগিয়ে এসে নুবাকে টেনে তুললো,,,নুবা চোখ মুখ খিছে ছিলো তবে এবার টিপটিপ করে তাকালো,,
আরহাম নুবাকে এক হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে বললো
_ are you ok নুবু,,,
বাক্যটা শুনে নুবার এতো রাগ হলো,,বরাবরের মতো বিড়ালের মতো পাঞ্জা মেরে আরহামকে সরিয়ে দিয়ে বললো
_ মরে যাই আমি ,,তাও কেউ ধরবি না আমাকে,,,
রাগে শরীর কাঁপছে নুবার,,মনে হচ্ছে সে পড়েছে আরহামের জন্য,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৬
নুবা সবাইকে ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,তবে ভাগ্য বরাবরই তার তেলা,,তাই হাঁটতে যেএ কমড়ের ব্যাথা আর পা স্লিপ কেটে একদম বসে থাকা মা ছেলের উপর পড়লো,,,
আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে চিৎকার করে উঠলো
_ আল্লাহ গো,,,
কোনো মতে ঠেলে নুবাকে সরালো আমিনা বেগম,,,নুবার নাদুসনুদুস দেহটা আরহামের পেটের উপর পড়ে রইলো,,, আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,,এই মেয়ে কবে যে একটু সোজা হয়ে
