Home প্রেমসন্ধিক্ষন প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৭৫

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৭৫

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৭৫
সাইদা মুন

—আপনি তো কিছুই করছেন না। শুধু শুধু আমাকে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন কেন?
সে একইভাবে বলল,
—চার্জ দিচ্ছি।
তাহিয়া হতভম্ব হয়ে তাকাল,
—কী?
ফারিস নিজের চোখের দিকে আঙুল দেখিয়ে মুচকি হেসে বলল,
—আমার চোখ।
তাহিয়া আরও ভ্রু কুঁচকে ফেলল প্রশ্ন করল,
—মানে?
প্রশ্নটা শুনেই যেন ফারিস নিজের হুঁশে ফিরল। কি বলছিল বুঝতেই কাশির ভান করে তাড়াতাড়ি দৃষ্টি সরিয়ে চারপাশে তাকাল। নিজেকে স্বাভাবিক করতে মুখে একগাল গাম্ভীর্য এনে বলল,

—মানে… চাঁদের আলোয় চোখ চার্জ দিচ্ছি আর কী।
তাহিয়া বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। মাথায় বেশ কিছুক্ষন প্রেশার দিল কথাটার অর্থ বুঝতে। তবে কিছুই বুঝতে না পেরে আবার জিজ্ঞেস করল,
—চাঁদের আলোয় আবার চোখ চার্জ হয় নাকি?
ফারিস আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাল,
—ইয়েস। অবশ্যই হয়।
তাহিয়া অবাক কন্ঠে বলল,
—জীবনে এই প্রথম শুনলাম।
—শুনবে কী করে? তোমার বয়সই-বা কত। একদম পুচকি মেয়ে। এখনও পৃথিবীর এক ভাগও দেখোনি। এসব জানতে হলে অভিজ্ঞতা লাগে। আর সে অভিজ্ঞতা আছে শুধু আমার মতো বিজ্ঞ লোকদের।
কথা শেষ করে নিজেই বেশ ভাব নিয়ে দাঁড়াল সে। তাহিয়ার মুখটা লটকে গেল। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। তা দেখে মুহূর্তেই ফারিসের সেই ভাব গায়েব হয়ে গেল। সোজা হয়ে জিজ্ঞেস করল,

—এই কী হলো? মুখটা এমন লটকালে কেন?
তাহিয়া ধীরে মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকাল। ঠোঁট ফুলিয়ে অভিমানী স্বরে বলল,
—আপনি আমার সঙ্গে সুন্দর করে কথাই বলেন না। উল্টো কথায় কথায় আমাকে অপমান করেন।
কথা বলতে বলতেই ঠোঁটটা আরও একটু উল্টে ফেলল সে। ফারিস তাড়াতাড়ি পকেট থেকে হাত বের করে আলতো করে তাহিয়ার থুতনি ছুঁয়ে মুখটা নিজের দিকে ফেরাল। অবাক দৃষ্টি তার৷ নরম গলায় জিজ্ঞেস করল,
—রাগ করেছ আমার ওপর?
তাহিয়া আর কিছু বলল না। চুপচাপ চোখ নামিয়ে ফেলল। তাকে এভাবে দেখে ফারিস একটু নিচু হয়ে তার চোখের সমান উচ্চতায় মুখ এনে তাকাল চোখে। আবার প্রশ্ন করল,
—রাগ করেছ?
তাহিয়া এবার চোখ তুলে ওপরের দিকে তাকাল। ফারিসও সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আবারও তার চোখে চোখ রাখল। তাহিয়া সঙ্গে সঙ্গে বা দিকে ফেরতেই ফারিস ও বা দিকেই মাথাটা নিয়ে চোখে চোখ রাখল। তার এসব কান্ডে তাহিয়া চরম বিরক্ত। ঝারি মেরে উঠল,

—এই, সমস্যা কী আপনার?
ফারিস স্বাভাবিক স্বরেই বলল,
—তুমি।
তাহিয়া ভ্রু কুঁচকে ফেলল,
—আমি সমস্যা?
—হ্যাঁ। এতক্ষণ ধরে একটা প্রশ্ন করছি, উত্তর দিচ্ছ না কেন? রাগ করেছ?
ফের একই প্রশ্ন শুনে তাহিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে কাঠ কাঠ গলায় বলল,
—না, করিনি।
—তাহলে আমার সঙ্গে ওইভাবে কথা বললে কেন?
—কীভাবে?
—কেমন যেন অভিমানী অভিমানী লাগছিল।
তাহিয়া কিছুটা আটকে গেল। অপ্রস্তুত হয়ে মাথা নেড়ে বলল,
—আপনার ভুল ধারণা। আমি সেভাবে বলিনি।
ফারিস মুচকি হেসে মাথা দোলাল,
—না না, বলেছ। ব্যাপারটা কী বলো তো? আজকাল দেখি আমার ওপর বেশ অধিকার দেখাতে শুরু করেছ।
কথাটা শুনে তাহিয়া থতমত খেয়ে গেল। তাড়াহুড়ো করে বলল,

—ক…কী আজেবাজে বলছেন। আমি আবার কবে আপনার ওপর অধিকার দেখালাম?
—হ্যা দেখিয়েছ। এই যে অভিযোগ করলে। এটাও তো এক প্রকার অধিকার।
তাহিয়া দ্রুত ফারিসের হাতটা নিজের থুতনি থেকে সরিয়ে দিল। দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে গাল ফুলিয়ে বলল,
—আমি কোনো অভিযোগ করিনি। যা সত্যি, সেটাই বলেছি। আপনি সবার সঙ্গে কত সুন্দর করে কথা বলেন, শুধু আমার সঙ্গেই বলেন না।
ফারিস অবাক হওয়ার ভান করল,
—আমি সুন্দর করে কথা বলি না?
—না।
—একদমই না?
তাহিয়া এবারও গম্ভীর মুখে মাথা নেড়ে বলল,
—একদমই না। আপনার মুখে মিষ্টি কথা শুনেছি বলে তো মনে পড়ে না। সব সময় খালি তিতা তিতা কথা। যেন মানুষ না, করলার জুস।
ফারিসের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা মৃদু হাসি ফুটে উঠল,
—তুমি মিষ্টি কথা শুনতে চাচ্ছো?
তাহিয়া কোনো কিছু না ভেবেই সঙ্গে সঙ্গে বলে ফেলল,
—হ্যাঁ…
শব্দটা মুখ থেকে বের হতেই সে ঠাহর করতে পারল কি বলছিল এতক্ষন। থমকে গেল। নিজেরই কথায় যেন নিজেই লজ্জা পেয়ে বসল। দ্রুত মাথাটা নিচু করে আঙুলে আঙুল জড়াতে জড়াতে আমতা আমতা করে পরপর বলতে লাগল,

—না মানে, ভালো কথা বলতে বললাম। ভালো কথা।
তার সেই অপ্রস্তুত মুখটা দেখে ফারিস শব্দ করে হেসে উঠল। রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দুষ্টুমিভরা চোখে বলল,
—তাহলে আজ থেকে তুমি আমার সাহেবা।
‘সাহেবা’ শব্দটা কানে আসতেই তাহিয়া ফট করে চোখ তুলে চাইল। বিস্ময়ে ফ্যালফ্যাল করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। চোখেমুখে স্পষ্ট প্রশ্ন। সাহেবা বলল তাকে? এই প্রশ্ন। ফারিস দু’হাত বুকের ওপর গুটিয়ে মুঁচকি হেসে খালি গলায় আচমকাই গেয়ে উঠল,
“Mere Sahiba, dil na kiraye ka, thoda toh sambhaalo na..
Naazuk hai ye, toot jaata hai, Sahiba neendein-veendein aaye na,
raatein kaati jaaye na Tera hi khayaal din-rain aata hai…”
তারপর গান থামিয়ে কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকাল তাহিয়ার গোলগাল মুখটার দিকে। তখনই তাহিয়া মুগ্ধ কণ্ঠে বলে উঠল,

—ওয়াও… আপনার গানের গলা অনেক সুন্দর।
ফারিস হালকা হেসে বলল,
—সুন্দরিদের সামনে গলাটাও বোধহয় সুন্দর হয়ে যায়।
তাহিয়া ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
—মানে?
ফারিস কাঁধ ঝাঁকিয়ে হাসল বলল,
—মানে কিছু না। যাও, নিচে নেমে যাও। রাত হয়ে যাচ্ছে।
কথাটা বলেই সে এক লাফে নিজের ছাদের দিকে চলে গেল। তা দেখে তাহিয়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই ফারিস আবারও যেতে বলল। তারপর নিজে যেতে লাগল। যাওয়ার আগে আরেকবার হাত তুলে নিচে নামতে ইশারা করতেই তাহিয়াও ধীর পায়ে সিঁড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল। তবে তার মাথার ভেতর তখনও ঘুরপাক খাচ্ছে ফারিসের কথাগুলো। “সুন্দরিদের সামনে গলার আওয়াজ সুন্দর হয়ে যায়” কিন্তু এখানে সুন্দরি আবার কে? ছাদে তো সে ছাড়া আর কেউ ছিল না।
প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই ছাদের চারিদিকে চোখ বুলাল। মুহুর্তে গা ছমছম করে উঠল। তবে কি ফারিস তানাদের সুন্দরি বলেছে? একমুহূর্তে গা ঝাড়া দিয়ে উঠল্ম দ্রুত দরজা পেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল সে। ছাদের দরজাটা তাড়াহুড়ো করে বন্ধ করে প্রায় দৌড়েই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল।

—এই বেয়াদব, কোথায় ছিলি তুই? পুরো বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজলাম তোকে!
মেহরীনের ডাক শুনে তাহিয়া থামল। ভাবনা ভাঙল তার। প্রশ্ন করল,
—হ… হুঁ? কী বললি?
মেহরীন একবার তাহিয়ার দিকে, তো আরেকবার ছাদের দিকে সন্দেহভরা চোখে তাকাচ্ছে। তারপর কোনো কথা ছাড়াই তার হাত চেপে ধরল। ঘরের দিকে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। ঘরে ঢুকেই দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল। তাহিয়া ঢুক গিলছে তার কাজকর্মে। চুপচাপ চেয়ারে বসে আছে সে। আর তার সামনে দু’হাত কোমরে রেখে গোয়েন্দাদের মতো দাঁড়িয়ে আছে মেহরীন।

—সত্যি করে বল, কার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলি? ফারিস ভাইয়ার সঙ্গে?
তাহিয়া নিচু গলায় বিড়বিড় করে বলল,
—জানিসই যখন, তখন আবার জিজ্ঞেস করছিস কেন?
মেহরীনের চোখ বিস্ময়ে গোল হয়ে গেল,
—কিইই! তোরা ডেট করছিস ?
তাহিয়া হুড়মুড়িয়ে উঠে মেহরীনের মুখ চেপে ধরল,
—ছি! কীসব বলছিস। এমনি উনি ডেকেছিলেন, তাই গিয়েছিলাম।
—তাই বলে এত রাতে ডাকল? ব্যাপারটা কিন্তু সুবিধার ঠেকছে না। আমার কাছ থেকে কী লুকাচ্ছিস?
—আরে ভাই, কিছুই না। সত্যি বলছি। উনি একটু কথা বলে চলে গেছেন।
মেহরীন বিছানায় বসল। গম্ভীর মুখে বলল,
—এদিকে আয়।
তাহিয়া ধীরে ধীরে তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তা দেখে মেহরীন পাশে ইশারা করে বলল,

—বস।
বাধ্য মেয়ের মতো তাহিয়া বসে পড়ল। অতঃপর মেহরীন বলল,
—এবার এ টু জেড সব বল। একটা কথাও বাদ না যায়।
তাহিয়া আমতাআমতা করতে লাগল। তা দেখে মেহরীন আরও চেপে ধরতেই অগত্যা তাহিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব খুলে বলল। শেষ কথাটা বলেই মেহরীনের দিকে তাকাল। সে দু’হাত দিয়ে মুখ চেপে বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে আছে। তা দেখে তাহিয়া ভীতু ভীতু কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
—এই এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
মেহরীন তড়াক করে তার হাত ধরে ফেলল। তাহিয়া তো ভয়ে প্রায় লাফিয়ে উঠল। সে ভেবে নিয়েছে মেহরীন মারবে তাকে। তবে সেরকম কিছুই হলোনা। বরং মেহরীন তাকে আরও চেপে ধরল। বিস্মিতস্বরে জিজ্ঞেস করল,

—তুই সত্যি বলছিস? উনি তোকে ওই গান শুনিয়েছেন, তারপর শেষে ওই কথাটাও বলেছেন?
—হ্যাঁ। কিন্তু এতে এত অবাক হওয়ার কী আছে?
—অবাক হওয়ার কী আছে মানে? অবাক না হওয়ার কী আছে, সেটা জিজ্ঞেস কর।
তাহিয়া আরও বিভ্রান্ত হয়ে গেল,
—আজব! তুই এমন রিয়্যাক্ট করছিস কেন? উনি তো শুধু একটা গান গেয়েছেন।
—শালি, গানটা কার জন্য গেয়েছে, সেটাই বুঝিসনি?
তাহিয়া ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে প্রশ্ন করল,

— কার জন্য আবার?
মেহরীন তার মাথায় গাট্টা মেরে বলল,
—তোর জন্য, বলদ। গানের লিরিক্সের বাংলা জানিস?
তাহিয়া মাথা ঘেঁষতে ঘেঁষতে বলল,
—হ্যাঁ, জানি তো।
—তাহলে বুঝিসনি কেন?
তাহিয়া আরও বিভ্রান্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
—কী বুঝিনি।
তার এই অবুঝপানা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল মেহরীন। মেয়েটা আসলেই গাধা। তাই সোজাসাপটা বলে বসল,
—আরব তোকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রপোজ করেছে ফারিস ভাই।

কথাটা শুনতেই তাহিয়া যেন পাথর হয়ে গেল। বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইল মেহরীনের দিকে। দৃষ্টিতে প্রশ্ন, সে ঠিক কি বলছে? তা বুঝে মেহরীন মুচকি হেসে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল, সে ঠিকই বলছে। ব্যস! মুহূর্তের মধ্যেই তাহিয়ার মুখের রং পাল্টাতে শুরু করল। টুকটুকে লাল হয়ে উঠল দুই গাল। লজ্জায় কান দুটোও থেকে গরম ফাপ বের হতে লাগল, রাঙা হয়ে গেছে কান। এমনকি নাকের ডগাটায় ও লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ছে। এমন লাল টমেটো হতে দেখে মেহরীন দুষ্টু হাসি হেসে তার মুখটা এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে লাগল।
—এই দেখি দেখি, তুই তো ব্লাশ করছিস রে তাহু। হুম হুম…
লজ্জায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠল তাহিয়া। তাকে একটা ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল। তড়িঘড়ি করে বলল,
—তুই আজেবাজে আন্দাজ করছিস। এমন কিছুই না।
বলেই প্রায় দৌড়ে বাথরুমের দিকে পালাল। ওদিকে মেহরীন হেসে গড়িয়ে পড়ার উপক্রম। গলা উঁচিয়ে নিজের মতো করে গেয়ে উঠল,
—আরে সুন্দরী সাহিবা, অ্যায়সে মাত যাও না। থোড়া অউর ঠেহরো না। নাজুক হ্য ইয়ে টুট যাতা হ্য…
তার সুরটা শেষ হওয়ার আগেই বাথরুমের ভেতর থেকে ভেসে এল তাহিয়ার লজ্জা-রাগ মেশানো চিৎকার,
—মেহরীনের বাচ্চাআআ, তোকে আমি দেখে নেব।

সবে গোসল সেরে বেরিয়েছে তাহসান। সারাদিন অফিসের কাজের চাপে এক মুহূর্তও দম ফেলার সুযোগ পায়নি। একটু আগেই বাসায় ফিরেছে। ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে রান্নাঘরের দিকে গেল। চুলায় পানি বসিয়ে তাতে দু’চামচ গুঁড়া দুধ আর দু’চামচ কফি নিয়ে ধীরে ধীরে মিশিয়ে নিল। ঠিক তখনই বিকট শব্দে বেজে উঠল মোবাইলটা। তাহসান বিরক্ত হয়ে চোখ বন্ধ করল, তারপর আবার নিজের কাজে মন দিল। এখন কোনো কল ধরার ইচ্ছে নেই। মগটা ধুয়ে তাতে ধোঁয়া উঠা কফি ঢালছিল, এমন সময় আবারও বেজে উঠল ফোন।
এবার বিরক্তিটা আরও বেড়ে গেল। চুলার আগুন নিভিয়ে কফির মগটা হাতে নিয়ে ধীর পায়ে নিজের ঘরে ঢুকল। বিছানার ওপর পড়ে থাকা মোবাইলটা তুলে স্ক্রিনে চোখ রাখতেই কপাল কুঁচকে গেল। আননোন নাম্বার থেকে কল। কয়েক সেকেন্ড স্ক্রিনটার দিকে তাকিয়ে রইল। কফিতে এক চুমুক দিয়ে ভাবল, ধরবে কি না। ঠিক তখনই কলটা কেটে গেল। কিন্তু পরের মুহূর্তেই আবারও একই নম্বর থেকে নতুন করে কল এল। এত কল দিচ্ছে পরিচিত কেউও হতে পারে, এই ভেবে শেষমেশ রিসিভ করল সে।
মোবাইলটা কানে তুলতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল চঞ্চল এক মেয়েলি কণ্ঠ,

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৭৪

—আজব! একটা কল ধরতে এতক্ষণ লাগে? রিংটোন শুনে আবার নাচছিলেন না তো?
কথাটা শুনতেউ তাহসানের কপালে ভাঁজ পড়ল। কণ্ঠ মুহূর্তেই কঠিন হয়ে গেল,
—এক্সকিউজ মি… কে বলছেন?
ওপাশ থেকে মেয়েটা চঞ্চল কন্টজেই বলে উঠল,
—আরে বেয়াই আমি আমি…

প্রেমসন্ধিক্ষন পর্ব ৭৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here