Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১৮

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১৮

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১৮
আশফিয়া হিয়া

সকাল থেকেই আকাশটা আজ বেশ মেঘলা মেঘলা। ধরনীতে ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঘড়ির কাটায় ভোর ছয়টা বাজচ্ছে।ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ির কেউ আর ঘুমায়নি কিছুক্ষণ পরেই তারা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওনা দিবেন।সকলেই তৈরী হয়ে ড্রয়িং রুমে বসে আছে। রুমা বেগম সবার জন্য চা নিয়ে এল। চা খেয়েই তারা বেরিয়ে পড়বে। সকালের নাস্তা বাইরেই সেড়ে নিবে। আরু সোফায় বসে বসে ঝিমুচ্ছে। তার মনটাও খারাপ হয়ে আছে। রুদ্ধ তো যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেনি তার মানে নিমপাতাটা তাদের সাথে যাচ্ছে না। হঠাৎ সিঁড়ি দিয়ে কারোর পায়ের শব্দ হতেই সকলেই সেদিকে তাকাল। আরুও শব্দ শুনে সেদিকে তাকিছে। রুদ্ধকে ফিটফাট হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখে তার মুখটা হা হয়ে গেল। বাকিরাও অবাক হলো বেশ।রুমা বেগম রুদ্ধর দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করলেন,

– ” বাবা তুই এভাবে রেডি হয়ে কোথায় যাচ্ছিস?”
– ” তোমাদের সাথেই যাচ্ছি।”
আসলাম শেখ বললেন,
– ” আমাদের সাথে যাচ্ছো মানে? তুমি না আগের দিন যাবে না বললে।”
– ” তখন ইচ্ছে করেনি। এখন ইচ্ছে করছে তাই যাচ্ছি।”
তার এই সিদ্ধান্তে মিতা বেগম খুব খুশি হলেন। রুদ্ধর মাথা পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করে দিলেন। আরুর মুখটা এখনও হা হয়ে আছে। রুদ্ধ সরাসরি গিয়ে তার পাশে বসে পড়ল। এরপর দু আঙুলের সাহায্য তার মুখের হা টুকু বন্ধ করে দিল। সামনের দিকে তাকিয়ে বলল,
– ” আমার জন্য এক কাপ কফি নিয়ে আয়।”
আরু তার জন্য কফি নিয়ে এল। এরপর ফিসফিস করে বলল,

– ” আপনি হঠাৎ যেতে রাজি হলেন কি করে রুদ্ধ ভাই?”
– ” ইচ্ছে হয়েছে তাই।”
– ” হঠাৎ করে যাওয়ার ইচ্ছে কি করে হতে পারে!”
– ” আমি যাওয়াতে তোর খুব অসুবিধে হচ্ছে তাই না?”
– ” একদমই না।”
রুদ্ধ দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
– ” তোর ছেলেদের সাথে নাচার শখ মেটাতে যাচ্ছি। শুনেছিস?”
আরু আর কিছু বলল না মুখ ঘুরিয়ে মিটিমিটি হাসতে লাগল। সে তো এটা আগেই বুঝেছিল।

সকলে বের হবার প্রস্তুতি নিতেই রুমা বেগমের বোনের মেয়ে নিধি এসে হাজির। সেও সকলের সাথে একসাথে যাবে। তাকে দেখে সকলে খুশি হলেও আরু মুখটা লটকে রাখল। নিধি তার সাথে মিশুক তার নিধিকে খুব একটা পছন্দ নয়। রুদ্ধর আশে পাশে তার কাউকেই সয্য হয় না। রুদ্ধ ও নিধিকে দেখে খুশি হলো। নিধিকে সে নিজের বোনের মতোই দেখে।
নিধি এসে আরুকে জড়িয়ে ধরে বলল,
– ” কেমন আছো আরু।”
আরু কোনোরকম একটু হেসে বলল,
– ” ভালো।”

নিধির সকলের সাথে কুশল বিনিময় করা শেষ হতেই সকলে বাড়ি থেকে বের হলো। ঝামেলা হলো বসা নিয়ে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য বাড়ির দুটে গাড়ি যাবে। একটায় বড়রা বসবে অন্যটায় ছোটরা যাবে। গাড়ি ড্রাইভার ড্রাইভ করবে। সামনের দিকে আহি ইয়াজ ও রুহানি বসেছে। পেছনের সিটে রুদ্ধ জানালার ধারে বসেছে আর পাশে এসে নিধি বসে পড়ল। আরু গাড়ির দরজা ধরে দাঁড়িয়ে রইল। রাগে তার চোখের কোনে পানি জমে গেল। সে সামনের গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতেই রুদ্ধর ডাক শুনে থেমে গেল। তবে তার দিকে ফিরে চাইল না।
– ” আহি তুই পেছনে এসে বস নিধিকে রুহানির পাশে বসতে দে। ”
– ” সমস্যা নেই ভাইয়া আমি এখানেই বসছি।”
নিধির গলার স্বর শুনে আরু গায়ের ওড়না মুঠো করে চেপে ধরল।
– ” তুমি রুহানির সাথে বসো তাহলে বোর হবে না।”
রুহানিও তাকে সামনে আসতে বলল নিধি উপায় না পেয়ে সামনে গিয়ে বসল। রুদ্ধ আরুকে জানালার পাশে বসার জায়গা দিল। আরু গটগট করে গিয়ে বসে পড়ল। গাল দুটো ফুলিয়ে রেখেছে। রুদ্ধ মাঝে বসেছে তার একপাশে আহি অপর পাশে আরু বসেছে। আহি গাড়ি ছাড়ার সাথে সাথেই কানে হেড ফোণ গুজে চোখ বন্ধ করে নিয়েছে।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরুত্ব প্রায় ৬ – ৮ ঘন্টা। আরু গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই ঘুমে ঢলে পড়ে। রুদ্ধ তার কাঁধ জড়িয়ে মাথাটা বুকে আগলে নিয়ে জড়িয়ে ধরে আছে। দু- ঘন্টা পার হতেই গাড়িগুলো রেসন্টুরেন্টের সামনে এসে থামল। এখানেই তারা সকালের নাস্তা করবে। গাড়ি থামতেই একে একে সবাই নেমে পড়ল। রুদ্ধ আরুর জন্য পানি কিনে এনে তার হাতে দিয়ে হাত – মুখ ধুয়ে নিতে বলল। সকালের নাস্তায় সকলের জন্য পরোটা ডাল ভাজি ও কলিজা ভুনা অর্ডার করা হলো। খাবারটা বেশ মজায় ছিল। সকলেই বেশ তৃপ্তি সহকারেই খেল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১৭

রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতেই রুদ্ধ বেশ কিছু চিপস চকোলেট কোল্ড ড্রিংক্স কিনে গাড়ির ব্যাক সিটে রেখে দিল। ভোর বেলা উঠার কারণে আরুর ঘুমে ঢুলঢুল অবস্থা গাড়িতে বসা মাএই তার চোখে ঘুম নেমে এল। সে এবার নিজে থেকেই রুদ্ধর কাঁধে মাথা এলিয়ে দিল। রুদ্ধ তাকে দু হাতে আগলে নিল। একসময় তার চোখেও ঘুম নেমে এল আরুর মাথার সাথে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। গাড়িতে সবাই ঘুমে মগ্ন ইয়াজ বাদে। সে আহিকে দেখতে পেছনে ঘুরতে রুদ্ধ ও আরুর এই সুন্দর মুহুর্ত দেখতেই সেটা ক্যামেরায় বন্দি করে ফেলল।

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ১৮ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here